ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাই হাসবেন্ড

১৭তম পর্ব

লেখক: সামহা সামি

#My_husband

#লেখনীতে_সামহা_সামি

⭕❌(১৮+ এলার্ট 🔞❌) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অতিরিক্ত রোমান্টিক গল্প পড়তে না চাইলে স্কিপ করতে পারেন।

পর্ব ১৭

প্রহেল তখন রুম থেকে বেরিয়ে সোজা অফিসে চলে যায়, এই মুহূর্তে আনেয়ার সামনে গেলে রাগের বসে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে কিছু করে ফেলবে , অতিরিক্ত রাগের কারণে কপালের শিরা ফুলে উঠেছে মনে হচ্ছে এখনি ছিঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম, টেবিলে থাকা ফাইল কিউব বল এঁকে এঁকে যা ছিল সব নিয়ে টেবিল উল্টে ফেলে। পুড়ো কেবিন কাঁচের টুকর নাজেহাল অবস্থা, তবুও রাগটা সংযত হচ্ছে না চেয়ারে লাথি মেরে বলে।

___" তোকে এতো ভালোবাসার পরেও বলছ আমি নষ্ট পুরুষ শালি নিমু'খারাম আমি অন্য নারীর শরীরের ঘ্রাণ নিয়ে থাকি না, বাস্টার্ড তোকে ভালবাসি বলে ছেঁড়ে দিলাম না হলে গলার রগ ছিঁড়ে নিতাম।

অতিরিক্ত রাগের বরশে কি বলছে না বলছে নিজেও যানে না মুল কথা হচ্ছে প্রহেল এই মুহূর্তে নিজের মাঝে নেই, অফিসে দাড়োয়ান, প্রহেলের রেগে অফিসে আসার কথা বলতে সাগর, পর্ণে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পড়েই খালি গাঁয়ে, দৌড়ে যেতে যেতে রিহান কে বলে?

" ' রিহু বেবি গো ফাস্ট বসের ফুল কারেন্ট ছলে তুমি আমি পুড়ে মুডে চলে যাবো।

ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় রিহান ঘুম ঘুম কন্ঠে বিরক্ত মুখে বলে।

____________

___' মুরগীর বাপ তুই যা শালা বাই***চ?

রিহানের কথায় সাগর কমরে হাত রেখে কিছু একটা ভেবে পাশে রাখা জগ থেকে পানি ঢেলে দেয়।

" - কুত্তার বাচ্চা পিছনে না লাগলে ভালো হবি না, তোর কি এখন ডেলিভারি হওয়ার টাইপ আসছে যে এমন করে ব্যাথায় চিল্লাস ।

রিহানের রাগে রি রি করে কথা বলতে দেখে সাগর শুখনো ঢুক গিলে বলে।

___ রিহু বেবি বস অফিসে ভাঙচুর করছে সেটার অভিনন্দন আপনাকে জানাতে আসছি।

সাগরের কথা শেষ করার আগে রিহান রুম থেকে দৌড়ে যেতে যেতে বলে।

___মুরগীর বাপ আরো আগে বলবি না?

সাগর রিহান দুই জনি দৌড়ে গাড়িতে গিয়ে বসে, গাড়ি চলতে শুরু করে অফিসে উদ্দেশ্যে।

"___ তা মিস ফ্রান্সিকা আপনার কাজ কতো দূর।

সাত সকালে এমন কথায় বিরক্তিকর ভঙ্গিতে বলে ফান্সিকা।

___" ও হ্যালো মিস্টার ইয়াং এন্ড রনি আমার চিন্তা না করে আপনাদের চিন্তা করেন,

ফ্রান্সিকার কথায় মুহূর্তেই তেতে উঠলেন ইয়াং, তার আসল কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই , পরে আপদ নামের বিরক্তিকর মেয়েটা কে শরিয়ে দিবে। রনি একটু চিন্তা গলায় সুধায়।

আমরা এখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারবো না আমাদের অন্য কোথাও যেতে হবে প্রহেল যে কোন টাইমে চলে আসবে।

___" ইয়াং ও ফ্রান্সকি তীক্ষ্ণ চাহনিতে পর্যবেক্ষণ করে বলে।

আপনি ভয় পাচ্ছেন লাইক সিরিয়াসলি মিস্টার রনি আপনি ভয় পান।

___"জাস্ট শাট আপ ফ্রান্সিকা অহেতুক মজা আমার পছন্দ না।

রনিকে রাগতে দেখে ফ্রান্সিকা চুপ হয়ে যায়, বাসা থেকে বেরিয়ে আনেয়া ভাবছে এখন কোথায় যাবে এই সহর তাঁর চেনা না অপরিচিত এক সহর, আজ নিজেকে প্রথিবীর অসহায় একজন মানুষ মনে হচ্ছে, হাঁটছে নাম না যানা এক রাস্তা, পথ দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর গাড়ি শাই শাই করে যাচ্ছে নিজেদের গন্তব্যে, আনেয়া এক পলক চারো'দিক পর্যবেক্ষণ করে , চোখ দিয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পরছে, আজ তাঁর খুব করে একটা গান মনে পরছে, হাঁটতে হাঁটতে খোলা আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে গেয়ে উঠে।

*********************

___" বলো কিভাবে।

___"রবো এভাবে...!

"___ আমায় গোছাবে?

" কে দু'হাতে?

__" ফিরে আসো না ?

___" আর তও পারি না?

__" বাঁচি চলো না?

"__ আবার এক সাথে।

গান শেষ হতেই আনেয়ার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরে, ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলে।

"__ আমি কি ভাবে থাকবো আপনাকে ছাড়া বিশ্বাস করেন আমার কষ্ট হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে, আপনাকে অন্য কারো বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেখার আগে আমার মৃত্যু আমাকে আবদ্ধ করুক?

আনেয়া মুখে হাত চেপে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।সে চেয়েও নিজের মন কে শক্ত করতে পারচ্ছে না। রিহান সাগর প্রহেলের কেবিনের সামনে এসে হাঁপাতে শুরু করে, লিফ্ট বন্ধ থাকায় সিরি দিয়ে উপরে আসছে, সাগর পুড়ো কেবিনে চোখ বুলাতে চোখ বড়ো বড়ো করে বলে উঠে?

__" রিহু বেবি বস মনে হয় মনের সুখে মাথার স্কুটি লুজ হয়ে গেছে।

রিহান বিরক্ত হয় এই সময় এমন আজাইরা কথায় মজা করার একটা লিমিট আছে, তেতে কিছু বলবে তাঁর আগে আবার মুখ খুলে সাগর একটু ফিসফিসিয়ে বলে।

__" রিহু বেবি আমার একটা গান মনে পরছে বলি কেমন,

রিহান কিছু বলবে তাঁর আগে সাগর হাত দিয়ে মুখ চেপে গেয়ে উঠে।

" জীবনে ধইরা গেছে জং ।

" মেম চু*dলিং পং,

" মনে লাইগা গেছে রং।

" বস চু*dলিং পং।

" বসের আছে যতো ঢং।

" সব চু*dলিং পং।

" বসের ঝগড়ার পৃষ্ঠা কত নং ।

, ৪২০।

" মেম চু*dলিং পং।

রিহান সাগরের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে রেগে বলে।

"" মুরগীর বাপ যেখানে শেখানে, এই সব, বস কে বলবো, এই অখাদ্য গান কোথায় পাস তুই।

না ভাই না তুই তো আমার সোনা মনা উম, উম, ভাই।

রিহান ভেবে পাচ্ছে না এই উম উম আবার কি এক দিকে প্রহেলের চিন্তা অন্য দিকে এই মুরগীর বাপের জালা, সোপাতে পড়ে থাকা ফোনটি বেজে ওঠে প্রহেল রাগ খুব নিয়ে ফোন হাতে নিয়ে কর্কশ কন্ঠে বলে।

" বাস্টার্ড ডোন্ট ডিস্টার্ব।

ওপাশের লোকটি তাড়াহুড়ো করে বলে উঠে।

" সরি স্যার বাট খুব জরুরি ভিত্তিতে কল দিছি।

এমনেতেই প্রহেলের রাগ সপ্তম আকাশে তাঁর উপর আবার এমন হেলিপনা, বিরক্ত মুখে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলে।

" এতো নমুনা না করে বলো কি হয়েছে

" স্যার, রনি ও ইয়াং নামে এক লোক মিলে লন্ডনের ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগিয়েছে।

প্রহেল মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত বাঘের মত গর্জন করে উঠে।

" ওই রনির বাচ্চা, কে সাথে ওই ইয়াং কেও ধরে নিয়ে আয় আমার আস্তানায় ওঁদের মান চিত্র না বানানো পর্যন্ত আমি ঠিক থাকবো না।

বলেই ফোন কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা হয়েও কি-না নিজের কাছের বন্ধু তাঁর সাথে এই জঘন্য কাজ টা করতে পারলো অবশ্য পারবে না কেনো সে কি কখনো তাঁকে বন্ধু ভেবেছে, প্রহেল একটু চেঁচিয়ে উঠে।

" আমি একবার ছাড় দিবো বার-বার না তোর কলিজা আমি বের করে দেখবো, কোন কলিজা নিয়ে আমার জিনিসের দিকে হাত বাড়াছ, ।

আবার একি শব্দ করে ফোন বেজে ওঠে প্রহেল হাতে নিয়ে দেখে বাড়ির মেড কল দিয়েছে, সাথে সাথে প্রহেলের মুখের আদল পাল্টে যায়, তারাতাড়ি করে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভয়ে ভয়ে তুতলিয়ে বলে।

" স্যার মেম বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় যেনো চলে গেছে আমরা আটকাতে আসলে, আমাদের ভয় দেখিয়ে বেরিয়েকুত্তার বাচ্চারা তুদের আমি দেখে নিবো সামান্য কাউকে দেখে রাকতে পাড়ো না আমার রিভলবারের প্রথম গুলিটা তোদের মাথায় উঠবে হারামি'বাচ্চারা,

প্রহেলের গর্জে উঠা কন্ঠ শুনে আর কিছু বলার সাহস পায়না মেড ভয়ে কাঁপতে থাকে প্রহেল যা বলে তাই করে, আনেয়া আশেপাশে চোখ বুলায় অনেকক্ষণ হাঁটার কারনে ক্লান্ত লাগছে দূর্বল শরীরে এতো দূর হেঁটে আসা কারো পক্ষে সম্ভব নয়, এক পা এগোতে মাথাটা কেমন ঘুরছে চার'পাশ গোলা গোলা হয়ে আসছে , আনেয়া মাথা ধরে জিম মেরে দাঁড়িয়ে আছে সামনে তাকাতেই ভয়ে আত্মা বেরিয়ে আসার উপক্রম , আনেয়ার দিকে একটি কালো গাড়ি তীব্র গতিতে রিতিমত ছুটে আসছে, আনেয়া যেনো নড়ার শক্তি অবশিষ্ট নেই, চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে আসছে গাড়িটির তীব্র ধাক্কায় রাস্তা এক পাশে ছিটকে পড়ে আনেয়া, গাড়িতে থাকা লোকটা হয় তো ভয় পেয়ে পিছনে না ফিরে শাই শাই করে ধুলাবালি উরিয়ে চলে গেল, আশে'পাশের মানুষ সব চিৎকার চেঁচামেচি করে এক জায়গায় জড়ো হয়ে গেছে আনেয়ার নিস্থল দেহ টা রক্তে মাখামাখি হয়ে পরে রইলো?

(চলবে)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন