ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামে সন্ধ্যা

৩য় পর্ব

লেখক: মরিয়ম আক্তার সুকন্যা

*উপন্যাস : তোমার নামে সন্ধ্যা*

*লেখিকা : মরিয়ম আক্তার সুকন্যা*

*তৃতীয় পাঠ : ভার্সিটির প্রথম ক্লাস*

সকাল ১০টা।

ঢাকা নর্থ ইউনিভার্সিটি। ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট। রুম নং ৪০২।

ফারহান ক্লাসে ঢুকলো।

কালো শার্ট-প্যান্ট। হাতে বই। মুখে কোনো হাসি নাই। চোখে ঠান্ডা গাম্ভীর্য।

একদম প্রফেসরের মতো।

৪০ জন স্টুডেন্ট দাঁড়ায় গেল। "Good morning sir"

"সিট ডাউন।"

ফারহান লেকচার টেবিলে বই রাখলো। পুরো ক্লাসে একবার চোখ বুলালো।

কারো দিকে তাকালো না। কারো নামও জানতে চাইলো না।

*সামনের বেঞ্চে একটা মেয়ে বসা।*

কালো কার্গো, সাদা শার্ট, চুল বেনী। চোখে সানগ্লাস।

ফারহান ওর দিকে একবার তাকালো... তারপর চোখ সরায় নিলো।

অপরিচিত। একদম অপরিচিত।

"আমি ফারহান চৌধুরী। তোমাদের ইংলিশ লেকচারার। আজকে Hamlet পড়াবো।"

বলেই বোর্ডে লিখা শুরু করলো। গলার স্বর শক্ত। কোনো ইমোশন নাই।

ক্লাসের সবাই চুপ। কারণ স্যারের মুখ দেখেই ভয় লাগতেছে।

সামনের বেঞ্চের মেয়েটা... ফারিয়া।

ও সানগ্লাসের আড়ালে ফারহানকে দেখতেছে।

বুকের ভেতর মোচড় দিচ্ছে। কিন্তু মুখে কোনো এক্সপ্রেশন নাই। গম্ভীর।

যেন ফারহান ওর কেউ না।

ফারহান লেকচার দিচ্ছে। একবারও ফারিয়ার দিকে তাকাচ্ছে না।

নাম ডাকতেছে না। প্রশ্নও করতেছে না।

জাস্ট লেকচার দিয়ে যাচ্ছে।

৪৫ মিনিট পর।

"Class dismissed." বলে ফারহান বই নিয়ে বের হয়ে গেল।

ফারিয়া চেয়ারে বসে রইলো।

সবাই বের হয়ে গেল। ও শেষে উঠলো।

দরজার কাছে ফারহান দাঁড়ায় ফাইল দেখতেছে।

ফারিয়া পাশ দিয়ে হেঁটে গেল। একবারও তাকালো না।

ফারহানও তাকালো না।

দুইটা অপরিচিত মানুষ।

একই ব্লাড। ১৪ বছরের হিস্টরি।

কিন্তু ভার্সিটিতে... *কেউ কাউকে চিনে না।*

ফারিয়া বের হয়ে বিড়বিড় করলো,

*"ভালোই হইছে। চিনিস নাই।

ক্লাস শেষ।

ফারিয়া একা ভার্সিটির মাঠে। গাছের নিচের বেঞ্চে বসে আছে।

হাতে বই, চোখে সানগ্লাস। সামনে ফাঁকা মাঠ।

৫ মিনিট পর হাঁপাতে হাঁপাতে নূর দৌড়ে আসলো।

"ফারিয়া! এই ফারিয়া!"

ফারিয়া মুখ তুলে তাকালো।

নূর বেঞ্চে ধপ করে বসে পড়লো। "উফ বাবা জ্যাম!

আজকে আমি ক্লাসে অ্যাটেন্ড করতে পারিনি। রাস্তায় ১ ঘন্টা আটকে ছিলাম।

তাই এত দেরি হলো।"

তারপর ফারিয়ার দিকে তাকালো। "আচ্ছা শোন, নতুন স্যার আসছে না?

কি পড়ালো? কেমন ছিল ক্লাস?"

ফারিয়া কফির কাপটা শক্ত করে ধরলো। চুপ।

নূর ভ্রু কুঁচকালো। "এই কি হইছে? কথা বলতেছিস না কেন?"

ফারিয়া অনেকক্ষণ পর আস্তে বললো,

*"নূর... নতুন স্যারের নাম ফারহান চৌধুরী।"*

নূর থেমে গেল। "ফারহান? কোন ফারহান?"

ফারিয়ার চোখ দিয়ে পানি পড়লো। সানগ্লাস ভিজে গেল।

*"আমার কাজিন নূর। ১৪ বছর পর ফিরে আসছে।"*

নূরের মুখ হা হয়ে গেল। "কি??? ওই ফারহান ভাইয়া???"

তারপর রেগে গেল। "তারপর? ক্লাসে কি হইছে?"

ফারিয়া মাথা নাড়লো।

"কিছু না। ও লেকচার দিয়ে চলে গেছে। আমার দিকে তাকায়ও নাই।

আমিও তাকাই নাই। আমরা অপরিচিত।"

নূর ফারিয়ার হাত ধরলো।

"চিন্তা করিস না। আমি আছি। যা হবে দেখা যাবে।"

মাঠে বাতাস বইতেছে।

দুইটা মেয়ে বেঞ্চে বসা।

একজনের কাছে ১৪ বছরের গল্প, আরেকজনের কাছে শুধু প্রশ্ন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন