*উপন্যাস : তোমার নামে সন্ধ্যা*
*লেখিকা : মরিয়ম আক্তার সুকন্যা
পর্ব: ১১
*নিলিমা:* ফারিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে ছাদে নিয়ে গেল।
"চল একটু বাতাস খাই। মন ভালো লাগবে।"
ছাদের দরজা খুলতেই ওরা থমকে গেল।
*ফারহান:* রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে ফোন নাই, কিছু নাই। শুধু দূরের আকাশ দেখতেছে।
*নিলিমা:* একটু নার্ভাস হয়ে সামনে গেল।
"ফারহান ভাইয়া, তুমি এখানে কি করো?"
*ফারহান:* ধীরে ঘুরলো।
প্রথমে নিলিমার দিকে তাকালো, তারপর চোখ গেল *ফারিয়া*র দিকে।
ফারিয়া একদম গম্ভীর। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
*ফারহান:* ৩ সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে শুধু বললো,
"কিছু না।"
ব্যস।
আর কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো।
পায়ের শব্দটা ছাদে গমগম করলো। একবারও পেছনে ফিরে তাকালো না।
*নিলিমা:* ফারহানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করলো,
"উফ, কি রাগী।"
তারপর ফারিয়ার দিকে তাকালো।
"তুই কিছু বললি না যে?"
*ফারিয়া:* তখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে।
ফারহান যেদিক দিয়ে গেল সেদিকে তাকিয়ে ছিল।
*ফারিয়া:* ধীরে বললো, "উনি সবসময় এমনই।"
গলার স্বর ঠান্ডা, কোনো অভিযোগ নাই।
*নিলিমা:* দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
"আমার সাথে কথা বলে না, তোর সাথেও না।
ওনার কি হইছে কে জানে।"
বাতাসে ফারিয়ার ওড়না উড়তেছে। ও কিছু বললো না।
শুধু রেলিংটা শক্ত করে ধরলো।
*নিলিমা:* "থাক বাদ দে। চল নিচে যাই। আম্মা ডাকতেছে।"
*ফারিয়া:* মাথা নাড়লো।
নিলিমার পেছন পেছন নিচে নামতে লাগলো।
সিঁড়িতে নামার সময় একবার উপরে তাকালো।
ছাদ ফাঁকা। ফারহান নাই।
কিন্তু বুকের ভিতরটা কেমন যেন ভার হয়ে আছে।
মুখে কোনো চিহ্ন নাই। শুধু আরও গম্ভীর
ওরা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলো।
*নিলিমা:* ড্রয়িং রুমে চলে গেল।
*ফারিয়া:* নিজের রুমের দিকে যাচ্ছে।
হঠাৎ পেছন থেকে কারো শক্ত হাত ওর কব্জি টান দিয়ে ধরলো।
*ফারহান:* ফারিয়াকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।
দেয়ালের সাথে একদম কাছে।
*ফারিয়া:* চোখ বড় বড় করে তাকালো। নিঃশ্বাস আটকে গেল।
*ফারহান:* রাগী চোখে তাকিয়ে আছে।
"নিলিমা আপু তোকে কি বলছে ছাদে?"
*ফারিয়া:* কাঁপা গলায় বললো, "কিছু না।"
*ফারহান:* আরও কাছে আসলো।
"মিথ্যা বলবি না। আমি সব বুঝি।"
একটু থেমে ফিসফিস করে বললো,
"ও যদি তোকে কষ্ট দেয়... My Heart..."
বলেই নিজেই থেমে গেল।
*ফারিয়া:* ফারহানের চোখের দিকে তাকালো।
ফারহানের চোখে রাগ নাই। কষ্ট আছে।
*ফারহান:* দ্রুত হাত ছেড়ে দিলো।
"কিছু না। যা।"
বলে পাশ কাটিয়ে চলে গেল।
*ফারিয়া:* দেওয়াল ধরে দাঁড়িয়ে রইলো।
হাতের কব্জিতে এখনো ফারহানের হাতের ছোঁয়া।
আর কানে বাজতেছে *"My Heart..."*