*উপন্যাস : তোমার নামে সন্ধ্যা*
*লেখিকা : মরিয়ম আক্তার সুকন্যা*
*পর্ব : ৩৪
_বিকাল ৪টা। বসুন্ধরা সিটি।_
পুরা মল লাইটে ঝলমল করতেছে।
_ফারহান:_ ফারিয়ার হাত ধরে বললো, "আজকে আমার বউকে সবচেয়ে সুন্দর লাগবে।"
শাড়ির শোরুমে _ফারহান_ একটা টুকটুকে লাল বেনারসি বের করলো। জরি + স্টোন।
_ফারহান:_ ফারিয়াকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে বললো,
"এই লাল শাড়ি পরেই তুমি আমার হবে বউ। সেদিন আমি পাগল হয়ে যাবো।"
_ফারিয়া:_ লজ্জায় মাথা নিচু। "অনেক দাম।"
_ফারহান:_ কপালে কিস দিয়ে বললো, "আমার কাছে তুমিই সবচেয়ে দামি।"
পাশ থেকে লাল-সাদা চুড়ি আর নূপুর কিনে নিজে হাতে পরিয়ে দিলো।
_ফারহান:_ ফিসফিস করে, "বিয়ের পর এই নূপুর শব্দে ঘুমাবো
_বিয়ের আগের দিন সন্ধ্যা। ছাদ।_
পুরা ছাদ হলুদ লাইট আর গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানো। সবাই হলুদ শাড়ি পরেছে।
_ফারিয়া:_ হলুদ শাড়ি, খোঁপায় গাঁদা ফুল। লজ্জায় মাথা নিচু।
_ফারহান:_ পাঞ্জাবি পরে এসে সবার সামনে ফারিয়ার গালে হলুদ ছোঁয়ালো।
সবাই "উ" করে উঠলো।
_ফারহান:_ ফিসফিস করে বললো, "এই হলুদ আমার। আর তুমিও আমার।
আজকের পর কেউ তোমাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।"
_ফারিয়া:_ হলুদ মাখা হাত দিয়ে ফারহানের বুকে আলতো করে দিলো।
_ফারহান:_ "উফ বউ। মারলা নাকি আদর করলা বুঝলাম না।"
রাতে মেহেদী। _ফারহান_ ফারিয়ার হাতে নিজের নাম লিখে দিলো।
ফারহান
_পরের দিন। বিয়ে বাড়ি। লাল লাইট। ফুল।_
_ফারিয়া:_ লাল বেনারসি, ভারী গয়না। পালকির মতো লাগতেছে।
_ফারহান:_ শেরওয়ানি। চোখ সরাতে পারতেছে না।
কাজী সাহেব: "কবুল বলো মা।"
_ফারিয়া:_ কাঁপা গলায় "কবুল"।
_ফারহান:_ জোরে "কবুল। কবুল। কবুল।"
সাথে সাথে _ফারহান_ ফারিয়ার হাত ধরে বললো,
"আজ থেকে তুমি অফিসিয়ালি মিসেস ফারহান।"
_আনোয়ার সাহেব:_ দোয়া করে বললো, "সুখী হও বাবা।"
_রাত ১২টা। ফুল দিয়ে সাজানো রুম। গোলাপের গন্ধ।_
_ফারহান:_ দরজা লাগিয়ে ফারিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো।
"আজকে থেকে আর কোনো লুকোচুরি না বউ।"
_ফারিয়া:_ লজ্জায় কাঁদতেছে।
_ফারহান:_ চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো,
"কাঁদো কেন? আমি তো আছি। তোমার ফারহান।"
ফারিয়ার কপালে লম্বা কিস দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলো।
"তোমার নামে আমার সন্ধ্যা। তোমার নামে আমার সকাল।
আই লাভ ইউ বউ।"
বাইরে চাঁদের আলো। জানালার পর্দা উড়তেছে।