ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডার্ক মাফিয়া

২৩তম পর্ব

লেখক: মরিয়ম আক্তার সুকন্যা

সূর্যের আলো।

_রুদ্র:_ মায়াকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। কাল রাতের পর দুইজনেই ক্লান্ত।

_মায়া:_ রুদ্রের বুকে মাথা রেখে শান্তিতে ঘুম।

দরজায় ঠক ঠক।

_রাফি:_ "বস... উঠেন।"

_রুদ্র:_ চোখ না খুলেই, *"কি হইছে?"*

_রাফি:_ __"ভার্সিটির ২০ কোটি টাকার হিসাব লাগবে বস।

অডিট টিম আসতেছে।"__

_রুদ্র:_ চোখ খুললো। উঠে বসলো। মায়ার গায়ে কম্বল ঠিক করে দিলো।

বাইরে গেলো।

*

_রাফি:_ টেনশনে ঘামতেছে।

__"বস, ২০ কোটি টাকা নাই।

একাউন্ট চেক করে দেখলাম ২ মাস আগেই তুলে নেওয়া হইছে।

আপনার চাচা... আজমল চৌধুরী।"__

_রুদ্র:_ একটা চেয়ারে বসলো। মুখে কোনো এক্সপ্রেশন নাই।

সিগারেট ধরালো।

*"হুম।"*

_রাফি:_ অবাক, *"আপনি জানতেন বস?"*

_রুদ্র:_ ধোঁয়া ছাড়লো। চোখ ঠান্ডা।

__"আগে থেকেই জানতাম।

ওই বুড়ো ২ মাস আগে রাতের বেলা টাকা সরাইছে।

আমি সিসিটিভি ফুটেজও দেখছি।"__

_রাফি:_ *"তাহলে এতদিন চুপ ছিলেন কেন?"*

_রুদ্র:_ বাঁকা হাসি।

__"কারণ ও ভাবুক আমি বোকা।

আর আমি প্রমাণ জোগাড় করি।

এখন সময় হইছে হিসাব নেওয়ার।"__

*

_রুদ্র:_ উঠে দাঁড়ালো। শার্টের বোতাম লাগালো।

__"২০ কোটি না রাফি।

ওর কাছ থেকে ৫০ কোটি বের করবো।

সাথে ওর সব প্রপার্টি আমার নামে।

আর আজকের মধ্যে ওরে এই শহর ছাড়া করবো।"__

_রাফি:_ *"জি বস। গাড়ি বের করবো?"*

_রুদ্র:_ দরজার দিকে তাকালো। ভেতরে মায়া।

গলা নরম হয়ে গেলো।

__"না। আগে মায়া উঠুক। ওর সাথে নাস্তা করবো।

ও জানলে টেনশন করবে।

ও ঘুম থেকে উঠার পর যাবো।"__

১০ মিনিট পর _মায়া:_ ঘুম থেকে উঠে রুদ্রকে না দেখে ভয় পেলো।

বের হয়ে দেখলো রুদ্র বারান্দায় দাঁড়িয়ে।

_মায়া:_ পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো, _"কই গেছিলেন?"_

_রুদ্র:_ ঘুরে মায়াকে কোলে তুলে নিলো।

__"কোথাও না। তোমার জন্যই ওয়েট করতেছিলাম।

চলো নাস্তা করবে।"__

মনে মনে, __"দুনিয়ার সব ঝামেলা আমি সামলাবো।

তুমি শুধু আমার থেকো

বড় কাঁচের অফিস। ১০ জন বডিগার্ড।

দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে গেলো।

_রুদ্র:_ কালো শার্ট। হাতা গোটানো। চোখে সানগ্লাস। পেছনে রাফি + ৪ জন।

পুরা রুম নিস্তব্ধ।

_আজমল:_ চেয়ারে বসে কাঁপতেছে, _"ভাতিজা... তুমি হঠাৎ?"_

_রুদ্র:_ সানগ্লাস খুললো। চেয়ার টেনে আজমলের সামনে বসলো।

টেবিলের উপর পা তুলে দিলো।

*"চাচা। ২০ কোটি।"*

_আজমল:_ ঢোক গিলে, _"কি... কিসের ২০ কোটি?"_

_রুদ্র:_ হেসে ফাইল ছুড়ে মারলো আজমলের মুখের উপর।

সিসিটিভি ফুটেজ, ব্যাংক ট্রান্সফার সব।

__"নাটক করিস না। ২ মাস আগে রাত ২টায় ভার্সিটির একাউন্ট খালি করছিস।

আমার লোক সব দেখছে।"__

_আজমল:_ ঘামতেছে, _"আমি... আমি ধার নিছিলাম। ফেরত দিয়ে দিবো।"_

_রুদ্র:_ উঠে দাঁড়ালো। টেবিলে দুই হাত দিয়ে ঝুঁকলো।

চোখে বরফ।

__"ধার? সুদ সহ ৫০ কোটি।

আর তোর সব প্রপার্টি আমার নামে।

২৪ ঘন্টা টাইম দিলাম।"__

_আজমল:_ কাঁপা গলায়, _"এত টাকা কই পাবো?"_

_রুদ্র:_ আজমলের কলার চেপে ধরলো। ফিসফিস করে বললো,

__"পাবি। কারণ যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে টাকা না আসে...

তাহলে পরেরবার আমি একা আসবো না।

আর এই শহরে তোর নামে কেউ এক গ্লাস পানিও দিবে না।

বুঝছিস?"__

*

_রুদ্র:_ আজমলকে ছেড়ে দিলো। পকেট থেকে ছবি বের করলো।

মায়ার ছবি।

টেবিলে রেখে বললো,

__"আর একটা কথা কানে ঢুকিয়ে নে।

আমার বউয়ের দিকে যদি একবারও চোখ তুলে তাকাস...

বা ওর নামে একটা বাজে কথা শুনি...

তাহলে ৫০ কোটি না।

তোর জানাজা আমি নিজে পড়াবো।"__

রুমে পিন পতন নীরবতা।

_রুদ্র:_ সানগ্লাস পরে নিলো। ঘুরে হাঁটা দিলো।

দরজার কাছে গিয়ে থেমে বললো,

*"২৪ ঘন্টা। টাইম স্টার্ট নাউ।"*

বের হয়ে গেলো।

_রাফি:_ "বস, ও দিবে তো?"

_রুদ্র:_ সিগারেট ধরালো।

__"দিবে। কারণ ও জানে...

রুদ্র চৌধুরী একবার যা বলে তা করে।"__

ফোন বের করে মায়াকে কল দিলো।

__"হ্যালো জান? নাস্তা করছো?

আমি ৩০ মিনিটে বাসায় আসতেছি।

তোমার জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসবো?"__

গলার টোন একদম নরম।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন