#সে_আমার_মায়াবতী
#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম
#পর্ব_১
আজ আমার ছোট বোন রাইসা কে দেখতে এসেছে , আমি রান্না ঘরে কাজ করছি আর আমার মা সে বসে বসে নিজের ছোট মেয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ,
রান্নাঘরের দড়জায় দাড়িয়ে দেখছি আজ রাইসা কে কি সুন্দর লাগছে, আচ্ছা আমি শ্যামলা বলেই কি মা আমাকে দেখতে পারে না, আমাকে একটু ভালোবাসলে কি এমন হতো মা, চোখ দিয়ে অনবরত পানি গরিয়ে পরছে হটাৎ আমার গালে কেউ ঠাস করে চড় বসিয়ে দিয়েছে, ঘুরে দাড়াতেই
হতভাগি তুই এখানে কি করিস, তোর কি লাজ লজ্জা বলতে কিছুই নেই, যেই দেখেছিস আজকে আমার নাতনিকে দেখতে এসেছে ওমনি এসে পরেছিস তাই না, আজ হয় তুই থাকবি নয় তো আমি শরিফ কে বলে এই বাড়ি থেকে চলে যাবো, কিরে ঘরে কি কাজ নেই এইখানে তুই কেন এসেছিস আজ আমি নিপা কে বলবো...
কথা গুলো শুধু শুনে গেলাম চোখ থেকে টপটপ করে পানি পরছে, আমি জানি বড় আব্বু আমাকে কিছুই বলবে না, নিজের ভাগ্য নিয়ে তাচ্ছিলের হাসি দিয়ে কাজে লেগে গেলাম,
ও আপনাদের বলা হয় নি আমি ঈশা, এবার অনার্স ফাস্ট ইয়ার , বাবা ফারুখ শেখ, মা নাবিলা শেখ আর যে আমাকে কথা শুনিয়ে গেল সে হলো আমার দাদি, আর আমার চাচ্চু আর চাচিমা হলো নিপা বেগম, আর শরিফ শেখ,
আমার পৃথিবিতে এই দুই জন মানুষ যারা আমাকে নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসে,
আমার বাবা নেই কিন্তু মা আমাকে কেন ভালোবাসে না আমি জানি না, দাদি রাইসা আমাকে যে দেখতে পারে না সেটা আমি বুঝি, মা ও আমাকে আদর করে না
হটাৎ চাচিমার কথায় ধ্যেন ভাংলো,
কিরে ইশা কোথায় তুই বল তো মা, সেই কখন থেকে ডাকছি শুনতে পাস নি
হ্য হ্য বলো, আসলে চাচিমা
এই তোর গালে কি হয়েছে আম্মু, এমন লাল হয়ে আছে কেন তুই কি বেগুনি খেয়েছিস,
না না আসলে
ওকে দাদি মেরেছে মা,
হটাৎ করেই সামিয়া আপুর কথায় হকচকিয়ে গেলাম,
সামিয়া আপু কিভাবে দেখলো,
কি রে ভাবছিলি আমি কিভাবে জানলাম, আমি দেখেছি ইশা সবটাই দেখেছি, তুই কেন চুপ থাকিস আমাকে বল,
হেসে বললাম, আপু যেখানে মা নিজেই ভালোবাসে না সেখানে অন্যকেউ হলেই বা কি করবো বলো।
আমি চাই খুব করে চাই তুই ও কারো জিবনের অস্তিত্ব হবি, কেউ তোকে চোখে হারাবে, তার একান্ত তুই হবি, তুই হবি তার মায়াবতি দেখিস
আমার ভাগ্যে তা নেই আপু, একি চাচিমা তুমি কান্না করছো কেন, দেখ আমি
কই কাদছি যা সর অনেক কাজ আছে আর রাইসাকে নাকি তাদের পছন্দ হয়েছে এখন ছেলের বলার অপেক্ষায় আছে,
সত্যি তাহলে তো ভালোই যাই আমি কাজ গুলো সেরে নেই কাল ভার্সিটি আছে,
এই শোন তুবা ফোন করেছিল, কাল তারাতাড়ি যেতে বলেছে, আর ফোন টা বারান্দা দিয়ে ফেলে দিতে বলেছে,
চাচিমার কথায় হেসে দিলাম, মেয়েটা সত্যি পাগল, কাছে গেলেও হাসাবে আর দূরে গেলেও খেয়াল রাখবে, তুবা হলো আমার স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড না বেস্ট ফ্রেন্ড,
কথা বলতে বলতে কাজ শেষ করে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম আর ভাবছিলাম, সত্যি কি আমি কারো জিবনের এমন ভাবে মায়াবতি হতে পারবো,
চৌধুরি ভিলা--
সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে হাতে কলম ঘুরাতে ঘুরাতে ব্লুটুথের মাধ্যেমে কথা বলছে আয়ান আরাভ
চৌধুরী..
সাহেল ইউ নো না কাল আমার মিটিং আছে আর সামনের সপ্তাহে আমার ইলেকশন তাই এর মধ্যে কোন পগ্রামে যাওয়া আমার পক্ষে ইমপসেবল,
স্যার ওনারা অনেক রিকোয়েস্ট করেছে, আর আপনি তো ওই কলেজের ভিপি তাই আপনাকেই প্রধান অতিথি হিসাবে ডেকেছে, প্লিজ স্যার
ওকে আই উইল ট্রাই সাহেল
ওকে স্যার
কি হয়েছে আরাভ তুমি কি নিয়ে চিন্তিত,
নো মম , পরশু প্রগ্রাম আছে তাই যেতে হবে আর এমনিতেও এই সপ্তাহে ইলেকশন আছে,
আমি জানি আমার ছেলে এবার ও নেতার পথটাই পাবে, তোমাকে কে না চেনে আর তোমাকে কে না ভালোবাসে
হ্য আম্মু তাই তো রাস্তায় আমার ভাবির ওভাব হয় না, কিন্তু ঘরে আমার ভাই একা আর তাছাড়াও কাল তো ভার্সিটি তে আমার নতুন দিন তাই দেখব ভাবি পাই কিনা, অবশ্য তোমার কারনে আমি কাউকে নিজের পরিচয় বলতেও ভয় পাই.. দেখা যাবে তোমাকে না পেয়ে মেয়ের ভাই আমাকে তুলে নিয়ে যাবে
তুই কি খুব বেশি পেকেছিস তাই না, আছা আজ সায়ান আসুক তোর ব্যবস্থা করতে বলব,
মা ভাইয়াকে বল ভালো হবে না ছোট ভাইয়া আমাকে বেশি ভালোবাসে
আচ্ছা সেটা দেখা যাবে,
এতক্ষন যাদের কথা শুনলেন তারা হলো হানিফ চৌধুরীর বড় ছেলে, আয়ান আরাভ চৌধুরী, ছোট ছেলে সায়ান চৌধুরী, মেয়ে আয়ুশি চৌধুরী
সায়ান আপাদত লন্ডনে নিজেদের বিসনেস দেখছে, আয়ুশি নতুন ভার্সিটি ভর্তি হয়েছে আর আরাভ দেশের টপ আইকন আর মিনিস্টার নেতা সাহেব, তার খ্যেতি ছড়িয়ে আছে পুরা শহরে, মেয়েরা আরাভ বলতে পাগল, কিন্তু সে এগুলো মোটেও পছন্দ করে না,
সাহেদ রাতে রেডি থাকবে , মিশন টা কমপ্লিট করতে হবে,
জি স্যার, শুধু সময়ের অপেক্ষায় আছি
আমিও ( বাকা হেসে)
আসসালামু ওয়ালাইকুম পাঠক পাঠিকারা কেমন আছেন সবাই, আমার নতুন লেখা একটা থিম, কেমন হয়েছে জানাবেন আশা করছি পরের পর্ব গুলো পেতে ফলো দিয়ে রাখবেন)