ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার মায়াবতী

২৭তম পর্ব

লেখক: ঈশা ইসলাম

#সে_আমার_মায়াবতী

#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম

#পর্ব_২৭

সেই কখন থেকে বেডে পা তুলে বসে আছি। মিঃ চৌধুরী সোফায় বসে আমার দিকে তাকিয়ে মিটমিটিয়ে হাসছে। এবার আরও রাগ লাগছে। সবাই আমাকে বকে গিয়েছে, কেন আমি ভর সন্ধায় সাওয়ার নিয়েছি? কিন্তু কেউ তো জানে না এই ভদ্র লোকের জন্যই এসব হয়েছে।

--- ঈশা আম্মু খেয়ে নে। আর বকবো না। দেখ তোর জন্যই তো বকলাম। আম্মু খেয়ে নে। ( চাচিমা)

--- তুমি ইভেন তোমরা সবাই আমাকে শুধু শুধু বকেছো। এখন খাবো না। আমার আরও ঘুম পাচ্ছে। ( মুখ ফুলিয়ে) ( আমি)

আমার কথায় এবার মিঃ চৌধুরী আমার দিকে তেড়ে এসে বলে-

--- চাচি আম্মু তুমি আমার কাছে দাও। আমি খায়িয়ে দিচ্ছি। মেয়েটা বড্য জ্বালায়। ( মিঃ চৌধুরী)

ওনার কথায় চাচিমা হেসে ওনার হাতে খাবার দিয়ে চলে গেলেন। আমি দ্রুত কম্বল দিয়ে মুখ ঢেকে নিলাম। উনি খাবার রেখে আমার কম্বল টান দিয়ে সরিয়ে দিলেন। আমি আরও জোরে চেপে ধরলে, এবার গম্ভির কন্ঠে বলে-

--- ঈশা আমি তোমাকে খেতে ডাকছি। তুমি কি আসবে নাকি আমি নিজে টেনে আনবো। আমি কিছু করলে তুমি ব্যথা ছাড়া কিছুই পাবে না। ( মিঃ চৌধুরী)

এই প্রথম উনি আমাকে রুডলি ভাবে ডেকেছে তাও ঈশা আমার নাম নিয়ে। ভালোবেসে ডাকে নি। হুট করেই মনটা অভিমানে ছেয়ে গেলো।

--- এই মেয়ে তোমাকে ডাকছি আমি। খাওয়া নিয়ে তুমি এত ইরেন্সপসেবল কেন? ( ধমকে) ( মিঃ চৌধুরী)

এবার খুব অভিমান হলো। মিঃ চৌধুরী কি আগের মতো আমাকে ভালোবাসে না?এইভাবে তো আমার সাথে কথা বলে না উনি। অভিমানের অনূভতি গুলো এক জোট হয়ে মিঃ চৌধুরীর কাছে ভিরে গেলো। তাই আর কিছু না বলে নিজেই কম্বল সরিয়ে উঠে গেলাম। মুখ কালো করেও বুঝতে দিলাম না। ওনার হাত থেকে বাটি কেড়ে নিজেই মুখে পুরে নিলাম কনফ্লেক্স। উনি ঘার কাত করে আমার দিকে তাকিয়ে ফোন নিয়ে উঠে গেলেন। এবার মনে হচ্ছে কষ্টরাও আর চেপে থাকতে চাইছে না। একটি বার আমার দিকে ফিরেও তাকালো না- আমি হয়তো ওনাকে খুব জ্বালিয়েছি। নাহ আর পারলাম না এবার ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলাম। এক হাত দিয়ে চোখ মুছছি আর এক হাতে খাচ্ছি। হাতের বাটিতে টান পরায় নিজের খেয়াল ফিরে পাই।

--- কি হয়েছে আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে কাদঁছো কেন? একদম আমার সামনে ন্যকা কান্না করবে না। নাহলে আমার থেকে কেউ আর খারাপ হবে না। ( ধমক দিয়ে)(মিঃ চৌধুরি)

এবার সব সিমানা পেরিয়ে গেলো। ভালোবাসার মানুষ গুলোর এতটুকু অবহেলা আমাদের সহ্য হয় না। আর সেখানে উনি আমাকে বকছে। রীতিমত মারবে বলছে। তাই আর না পেরে এবার জোরে কেঁদে উঠলাম। কাদঁতে কাদঁতে বেড থেকে নেমে গেলাম। ওয়াশ রুমে পা বাড়ানোর আগেই উনি কোলে তুলে নিলেন। নিজের কোলে বসিয়ে ওনার দিকে ফিরিয়ে নিলেন। চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন-

--- আহারে আমার পরি রে। জান তুমি এতটা বাচ্চা কিভাবে হও। পাখি তুমি কি জানো তুমি আমার জান।বোঝো তুমি এই আরাভ এর জিবনে কতটুকু জায়গা জুড়ে আছো, যার পরিমাপ করা যাবে না। ( মিঃ চৌধুরী)

আমার কপালে চুমু দিয়ে কথাগুলো বললেও আমি কান্না থামাই নি। ওনার বুক থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও এক চুল নড়তে পারি নি। বুকের মাঝে আরও চেপে ধরলেন। এবার আমি ফুপিয়ে কেঁদে বলে উঠলাম -

--- আমি জা জানি আপনি আ আমাকে আর ভালোবাসেন না। আমি কাল আপনাকে খুব জ্বালিয়েছি তাই না? আপনার গায়ে বমি ক করেছি, তা তাই এভাবে বকলেন তো? আচ্ছা আর আমি আপ! (আমি)

--- হুস জান একদম না। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি পাখি। আর আমি তো আমার ঈশু পাখিকে একটু কাঁদাতে চেয়েছি। দেখতে চেয়েছি যে আমার অভিমানিটা কিভাবে রেগে যায়। সরি জান। ( মিঃ চৌধুরী)

--- ক কথা বলবো না আপনার সাথে, আমার নাম ঈশা কোন পাখি বা জান না। আপ আপনি এসব নামে আর ডাকবেন না। আর আপনি আমাকে মারবেন ও বলেছেন। এ্য এ্য এ্য (আমি)

কথা শেষ করেই কেঁদে দিলাম। উনি আরেকটু গভির ভাবে জড়িয়ে নিলেন৷ গালে নাক ঘষে বললেন-

--- এতটুকু সামান্য বকাতেই এই অবস্থা আর যদি অন্যকিছু বলতে যেতাম তাহলে তো আজ এখানে সাগড় বয়ে যেতো। সরি পাখি আমি রেগে যাওয়ার অভিনয় করেছি মাত্র। কিভাবে আমার জানকে আমি সজ্ঞানে কষ্ট দিবো। (মিঃ চৌধুরী)

--- তা তাহলে এভাবে আমাকে ডাকলেন কেন? ( আমি)

--- ওহহহ এবার বুঝেছি এজন্যই মহারানির মুড অফ হয়েছে। জান তোমাকে ভালোবাসি। এভাবে আর বলবো না। সরি বেবি। (মিঃ চৌধুরি)

উনি কানে হাত দিয়ে ইনোসেন্ট ফেস করে সরি বলাতে আমি খিলখিল করে হেসে দেই। উনি কামিজের ভেতর হাত ঢুকিয়ে আরেকটু কাছে টেনে নেন। আমার টোলে চুমু খেলেন। আমি স্থির হয়ে বসে আছি। ওনার স্পর্শে। এবার আমার ঠোঁটের কাছে এসে চুষে নিতে লাগলেন।প্রথমে বাধা দিলেও, পরে রেসপন্স করতে লাগলাম। প্রায় পাঁচ মিনিট পর ছেড়ে আমার ঠোঁট মুছিয়ে দিলেন। দু-জনেই হাপাচ্ছি।

কিছু বলার জন্য মুখ খুলবো তার আগেই চিৎকার শুনে আশেপাশে তাকিয়ে দেখি রাইসা আর এনা আপু দড়জার কাছে মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে ব্যপার টা মাথায় না এলেও পরে মাথায় আসে। তারাহুরো করে

ওনার কোল থেকে উঠে গেলাম। উনি ফোন কানে নিয়ে বেলকনিতে চলে গেলেন। রাইসা এবার আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেলো। এনা আপুর দিকে তাকাতেই দেখলাম কিছু বলার জন্য এদিক সেদিক তাকাচ্ছে তাই জিজ্ঞাস করলাম-

--- এনা আপু কিছু বলবে? এসো ঘরে এসো। ( আমি)

--- আব না মানে ঈশা আসলে- ( এনা)

বুঝতে পেরেছি আপুর মনের কিছুর ঝড় চলছে তাই আমি মুচকি হেসে আপুর হাত ধরে বললাম-

--- কিছু বললে তুমি নিরধিধায় বলতে পারো।(আমি)

--- আসলে ঈশা আমাকে ক্ষমা করে দিও আমি শুরু থেকেই তোমাকে জ্বালিয়ে আসছি তোমার ক্ষতি করার চিন্তায় আছি। আ আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দাও। আমি তোমার লাইফ থেকে চলে যাবো।( এনা)

--- আপু তুমি এজন্য মন খারাপ করে আছো। আমি জানতাম তুমি ভুল বুঝতে পারবে তাই বিশ্বাস ছিলো, আর দেখো আজ তুমি বুঝতে পেরেছো। আপু আমি মিঃ চৌধুরীকে ভালোবাসি কিনা জানি না কিন্তু ওনাকে ছাড়া যে এক মুহুর্ত চলতে পারি না সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। উনি যে আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ( আমি)

--- চিন্তা করো না আমি আর তোমাদের মাঝে আসবো না। চলে যাবো। আরাভ যে তোমাকে খুব ভালোবাসে তার প্রমান আমি প্রতি পদে পেয়েছি। তাই আমি খুব করে সরি। ( এনা) ( মন খারাপ করে)

--- আপু প্লিজ আমাদের ছেড়ে চলে যেও না। তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছো। প্লিজ আপু যেও না। একটা ভালো পাত্র দেখে তোমার বিয়ে দিয়ে দিবো। ( মুচকি হেসে)( আমি)

--- তুমি সত্যি অনেক ভালো। আমি তোমাকে চিনতে পারি নি। তুমি খুব ভালো থেকো অনেক সুখে থেকো ঈশা। (এনা)

আমি আপুকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। আপু চমকালেও পরে বুঝতে পেরে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন।

--- আপু কথা দাও যাবে না। আমি খুব মিস করবো তোমায়। আমরা আজ থেকে বন্ধু আগে তো শত্রু ছিলাম। (হেসে দিয়ে)( আমি)

--- এবার বুঝলাম আরাভের ঈশা পরি কেন এত পাগল করেছে তাকে। আমি থাকবো আর তোমাদের জ্বালাবোও। (এনা) ( হেসে দিয়ে)

এনা আপুর কথা শেষ হলে মিঃ চৌধুরী বেরিয়ে আসে। আপু আমাকে চোখ টিপ দিয়ে চলে যায়। মিঃ চৌধুরী আমাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে কপালে চুমু খেয়ে নিলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন -

--- ভালোবাসি পরি৷ তুমি এতটা নিস্পাপ যে খারাপ মানুষ গুলো তোমার সংস্পর্শে

এলে ভালো হয়ে যায়। ভালোবাসি জান। ( মিঃ চৌধুরী)

--- মিঃ চৌধুরী একটা কথা বলি- ( আমি)

--- বলো জান। পারমিশন নিচ্ছো কেন? বরটা তো তোমারই। ( মিঃ চৌধুরী)

--- আ আমাকে ফুচকা খেতে নিয়ে যাবেন প্লিজ। ( চোখ বন্ধ করে)(আমি)

--- ওয়াট? ( মিঃ চৌধুরী)

হায় আল্লাহ এই লোকটা কি এখন বকবেন আমায়? মায়া তো বলেছিলো উনি বাহিরের এসব এলাও করে না। তাহলে কি এবার বকবেন?

--- নিয়ে যাবো জান। আজ সারাটাদিন তোমার জন্য। তুমি যা চাইবে তাই পাবে। ( মুচকি হেসে)

আমি ওনার বুকে মুখ বুজে বললাম -

--- আপনি আমার লাইফের একজন ফেরেস্তা মিঃ চৌধুরী। আমি চাই খুব করে চাই এই ভালোবাসার কাঙাল হয়ে থাকতে। ( আমি)

--- পাবে জান। এই জিবনে ভালোবাসা গুলো তোমার জন্য বরাদ্ধ। সময় মতো সব পাবে। এবার আদর করি আমি। ( বাকা হেসে) ( মিঃ চৌধুরী)

--- চৌধুরী সাহেব। ( চিল্লিয়ে) ( আমি)

#চলবে____________

আজ গল্প দেয়ার ইচ্ছে ছিলো না। ঠান্ডায় হাত চলে না৷ আপনাদের কথা রাখার জন্য লিখেছি। কাল দুপুরে কেউ ওয়েট করবেন না প্লিজ। কাল রাত ৯ টায় গল্প পাবেন। সবাই ভালো থাকুন। ধন্যবাদ🌺🌺

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন