রুমের ভেতর মুখ ফুলিয়ে খাটের এক কোণে বসে আছে জোহা। গায়ে জড়ানো সেই গোলাপি রঙের জর্জেট শাড়িটা, আর মাথায় তীব্র বিরক্তি। বয়সটা সবেমাত্র আঠারো। এইমাত্র সে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে উঠতে না উঠতেই পরিবার থেকে বিয়ের আয়োজন—বিষয়টা কিছুতেই মাথা ঘামাতে পারছে না সে।
আজ ছিল তার কলেজের প্রথম দিন। সকালে কী দারুণ উৎসাহ নিয়ে কলেজে গিয়েছিল সে! সেখানে গিয়ে পরিচহয় ইশিকার সাথে। মেয়েটা অসম্ভব মিষ্টি এবং জোহার মেন্টালিটির সাথে একদম হুবহু মিলে গেছে। প্রথম দিনেই দুজনের বেশ ভালো একটা বন্ডিং তৈরি হয়েছিল। কলেজ শেষে রিকশায় চড়ে মহাআনন্দে বাড়ি ফেরে জোহা।
কিন্তু রিকশাওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে যেই না সে লিভিং রুমে পা রেখেছে, অমনি আয়েশা বেগম এসে সোজা তার সামনে হাজির।
"জোহা, যা তোর রুমে একটা শাড়ি আছে, চটপট পরে আম্মুর হুকুম।
"কেন আম্মু?" কিছু একটা বলতে যাওয়ার আগেই জোহাকে আর সুযোগ না দিয়ে ঠেলে তার নিজের রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মেধাবী ছাত্রী হিসেবে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আসা জোহা পুতুলের মতো দেখতে হলেও বাইরের দুনিয়ার কূট-কাচালি বা বিয়ের বাজার সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। বাধ্য হয়ে সে দ্রুত ওযু করে নামাজ আদায় করে নেয় এবং আম্মুর দেওয়া গোলাপি শাড়িটা পরে আয়নার সামনে দাঁড়াফর্সা গায়ে শাড়িটা তাকে বেশ মানিয়েছিল। নিচে ডাকার পর সে বুঝতে পারে, তাকে দেখতে কিছু মানুষ এসেছে।
অতিথিরা চলে যাওয়ার পর থেকেই জোহা সোজা নিজের রুমে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। আর খোলার নামগন্ধও নেই।
বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন জোহার আম্মু আয়েশা বেগম, যিনি একজন সাধারণ গৃহিণী। আর সাথে তার আব্বু জসিম আহমেদ—যিনি একটা সরকাস্কুলের শিক্ষক। মানুষ হিসেবে বেশ রাগী ও কড়া মেজাজের হলেও একমাত্র মেয়ের ওপর তাঁর অগাধ দুর্বলতা। মেয়ে যা চায়, এক কথায় তাই এনে দেন তিনি। কিন্তু এবার মেয়েকে না জানিয়ে পাত্রপক্ষ ডেকে আনার পরিণতি যে এমন হতে পারে, তা তাঁরাও বোঝেননি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: দরজার ওপাশের আকুতি
দরজায় পরপর দুবার ধাক্কা লাগার শব্দ হলোজোহা, মা দরজাটা খোলো তো!" বাইরে থেকে জসিম আহমেদের গলার আওয়াজ ভেসে এল। একটু রাগী গলায় ডাকলেও বোঝা যাচ্ছিল ভেতরে ভেতরে তিনি বেশ টেনশনে আছেন।
কিন্তু ভেতরে জোহা অনড়। সে বিছানায় বসে গুমরে গুমরে ভাবছে, "আমার এখন কেন বিয়ে করতে হবে? সবেমাত্র তো আমি ইন্টারে পড়ি! এটা কি আমার লাইফ এনজয় করার বয়স, নাকি সব বিসর্জন দিয়ে সংসার করার বয়স?" সে দরজা খোলার কোনো লক্ষণই দেখা।
বাইরে দাঁড়িয়ে জসিম আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি ভালো করেই জানেন, তাঁর মেয়েটা কেমন জেদি আর মেধাবী। পুতুলের মতো দেখতে হলেও জেদের দিক দিয়ে সে একশো শতাংশ জসিম আহমেদের মেয়ে।
মেয়ের এই রাগ ভাঙানোর জন্য তিনি নিজেই এগিয়ে এলেন। ঘরের ভেতর থেকে মেয়ের অভিমানী গলার আওয়াজ আসছে—সে কিছুতেএই বয়সে বিয়ে বসবে না। ঘরের পরিবেশ তখন বেশ থমথমে
জোহাকে জারা দেখে গেছিল তাদের জোহাকে পছন্দ হয়েছে,,,,,,,,,,,,,,,,,