পর্ব-এক
মিলানোর আকাশে এখনো সূর্যদয় হয়নি। চারিদিকে জমাট বাঁধা অন্ধকার। শহর থেকে কয়েকক্রোশ দূরের এই নিরবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে প্রায়শই ঝিঁঝিপোকার ডাক শোনা যায়, তবে এই মূহুর্তে শশ্মানের মতোই নিস্তব্ধ চারিপাশ। রাত্তিরের শেষ প্রহরের ভেজা হিমেল হা-ওয়া গায়ে মেখে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে প্রকৃতি। ক্লান্ত রজ-নীকে বিদায় জানিয়ে গোটা শহর যখন প্রত্যুষের তরল আলোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই লতাগুল্ম আর ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত শিশিরভেজা লনের মাঝখান দিয়ে নিঃশব্দ কদম ফেলে স্নোফ্লেক্স ম্যানরের সামনে এসে দাঁড়ালো এক কালো পোশাকধারী অবয়ব। হোয়াইট স্নিকার্স, ওভার সাইজড ডেনিম আর হুডি পড়িহিত আগন্তকের উচ্চতা চোখে পরার মতোই অত্যাধিক। ছ'ফুট কিংবা তার চেয়েও খানিকটা বেশি। পাতলা হুডির উপর দিয়ে স্পষ্ট দৃ-শ্যমান তার চওড়া, সৌষ্ঠব পুরুষালি কাঁধ। নিয়ম করে যে শরীর-চর্চা করা হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
অশরীরী পদচারণায় ধীরে ধীরে দরজার কাছে এগিয়ে গিয়ে সে-ন্সরে আঙুল চেপে নিশাচরের মতো ক্লান্ত চোখে দরজা খুললো সে মানব। আধুনিক আগলখানি সিস্টেমাটিক খুলে যেতেই বিপ বিপ একটা আওয়াজ হলো সমগ্র ঘর জুড়ে। প্রহেলিকায় মো-ড়ানো শুনশান নীরব হলরুমে দামামার মতোই ঝঙ্কার তুললো সেই ক্ষীণ আওয়াজ। বাড়ির লোকজন তখনও ঘুমে কাদা।
যদিওবা এহেন শব্দে কোনোরূপ ভাবান্তর দেখা গেলো না আগ-ন্তুকে মাঝে। উল্টো সপ্রতিভ নজরে একবার চোখ বোলালো চা-রিদিকে। দামী কার্পেট বিছানো বিশাল বড় হলরুম, তারউপর সা-জানো রয়েছে তিন চার সেট বিলাসবহুল বসার গদি। সমগ্র সি-লিং জুড়ে ঝুলছে অত্যাধুনিক সব ঝাড়বাতির বহর। হলের এক-পাশে লাগোয়া কিচেন আর বড়সড় একটা ডাইনিং। ঠিক তার অন্যপাশ দিয়ে উঠে গেছে দোতলায় ওঠার তকতকে সিঁড়ি। খালি চোখে দেখল মনে হয় কাচ দিয়ে মোড়ানো অত্যাশ্চর্য কোনো বস্তু ওটা, কিন্তু আদতে তা নয়। কাউচের মুখোমুখি সামনের দেও-য়ালে রয়েছে সুবিশাল এক অগ্নিচুল্লি। যদিও বা অগ্নিচুল্লি জ্বা-লাতে কাঠের প্রয়োজন পড়ে না, ইলেকট্রনিক সুইচ চাপলেই অটোমেটিক জ্বলে ওঠে এটি। এছাড়াও গোটা হলরুমের চার-পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শ-খানিক ইন্টেরিয়র মানিপ্ল্যান্ট। সাজানো গোছানো পরিপাটি ঘরটা দেখলেই বোঝা যায় বাড়ির মালকিন নিঃসন্দেহে উন্নত রুচির দাবিদার।
তবে এই হলরুমের সবচেয়ে নজরকাড়া যে বস্তুটি তা হলো দেও-য়ালে টাঙানো মোনালিসার চমৎকার রহস্যময়ী হাসি। ছবিটা আসল নাকি নকল অন্ধকারের মাঝে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।
বোঝার জন্য কেউ বসেও নেই অবশ্য। মোনালিসার রহস্যময়ী হা-সিতে চমৎকৃত হলোনা মানব। বাড়ির বাতাসে ভেসে বেড়ানো একটা স্নিগ্ধ ওয়াইল্ড জেসমিনের ভুরভুরে সুবাস নাকে এসে লা-গতেই মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে গেলো তার। সহসা এদিক ওদিক না তা-কিয়ে তড়িৎ পা ফেলে গটগটিয়ে চলে গেলো দোতলায়।
ভোরের আলো ফোটার আগ-মুহুর্তেও আকাশের বুকে সদর্পে দা-পিয়ে বেড়াচ্ছে শুক্লপক্ষের একাদশী চাঁদ। দোতলার কর্ণারের রু-মটা সবচেয়ে বড়, অনটাইম পাসওয়ার্ড চেপে সেটাতেই প্রবেশ করলো হুডিধারী যুবক। ভেতরে ঢুকতেই কোনো এক সুরেলা কণ্ঠের যান্ত্রিক রমণী চমৎকার গলায় সম্ভাবন জানালো তাকে,
হোলা, ইয়ং মাস্টার!
ইট'স ইয়াশ!
গমগমে আওয়াজে যান্ত্রিক রমণীর ভুল শুধরে দিলো মানব। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যুত্তর এলো,
গ্রাসিয়াস, ইয়ং মাস্টার!
স্টুপিড ডিভাইস!
বিপরীতে দাঁত কটমট করে রমণীকে ভর্ৎসনা জানালো ইয়াশ।
অতঃপর ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে থাকা সেই রূপোলী চাঁদের দিকে ত্যাড়া চোখে চাইলো একপল। পরক্ষনেই ঠাস করে লাগিয়ে দিলো জানালা টা। ঘরের সঙ্গে লাগোয়া ট্রান্সপারেন্ট কাচের দে-ওয়ালের বিশাল পর্দা টেনে বিছানার দিকে দৃষ্টিপাত করতেই চোখ গেলো পাশের কফি টেবিলের দিকে। মাঝারী সাইজের টে-বিলটা ভর্তি হয়ে আছে ঢেকে রাখা সব সুস্বাদু খাবারে। আগন্তুক ছুঁয়েও দেখলো না সেসব, উল্টো রুমের সমস্ত আলো নিভিয়ে, শরীর থেকে হুডিটা খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে মারলো সে। তারপর সোজা গিয়ে উপর হয়ে ক্লান্ত শরীরটা এলিয়ে দিলো নরম, গা দা-বানো শ্বেতশুভ্র বিছানায়।
ঘুমটা গাঢ় হওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তেই চার্লি পুথের গানের চরণ গুলো শ্রবেনেন্দ্রিয় ছাপিয়ে মস্তিষ্কে গিয়ে হাতুড়ি পেটা শুরু করলো ইয়াশের। কানে বালিশ গুঁজে বিছানার এপাশ করেও ধরে রাখা গেলোনা তন্দ্রাভাবটুকু। সহসা কয়েকমূহুর্ত নিস্তব্ধ থেকে গম্ভীর মুখে উঠে বসলো ইয়াশ। বাইরে তখন ঝলমল করছে প্রত্যুষের সোনা রোদ। বাড়ির পেছনের গভীর অভয়ন্যের মাঝে জানা অজানা সহস্র পাখির কলতান। চলছে আলোছায়ার নিদারুণ খেলা। যা দেখে চোখমুখ অস্বাভাবিক ভাবে কুঁচকে ফে-ললো ইয়াশ। দু'হাতে চুল টেনে ভারী বিরক্ত ভঙ্গিমায় মাথা ঠে-কালো হেডবোর্ডের উপর। সারারাত জেগে ইন্টারনেট ক্যাফেতে বসে গেমিং করে ভোর রাতে এসে দুনিয়ার সকল ক্লান্তি নিয়ে একটু শুয়েছিল সে। আর এখন বেজেছে সকাল আটটা সবে। এটুকু সময়ের মাঝেই বড় আকাঙ্ক্ষিত ঘুম নস্যাৎ হওয়ায় তেঁতো একটা ভাব ছড়িয়ে পড়লো সমগ্র মুখজুড়ে। মস্তিষ্কটা ঝাঁ ঝাঁ করছে তার। অতর্কিত ক্রোধে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে ধারালো চোয়াল । গানের দ্বিতীয় চরণ গুলো ফের কানে এসে বাজতেই বিছানা ছাড়লো ইয়াশ। শরীরে পাতলা ডেমিন শার্ট চড়িয়ে ক্লজেট হাতরি-য়ে বের করে আনলো ধবধবে সাদা একটা হকিস্টিক। তারপর আর কোনো কথা নয়, হকিস্টিকটাকে মুঠোবন্দি করে হনহনিয়ে বেড়িয়ে গেলো ঘর থেকে। যাওয়ার সময় আরেকদফা অভিবাদন জানালো সেই রোবোটিক রম নী,
গুড মর্নিং ইয়ং মাস্টার, হ্যাভ আ নাইস ডে!
করিডোরের অন্যপ্রান্তে ইয়াশের ঠিক বিপরীত পাশের ঘর থেকেই ভেসে আসছে উপর্যস্তু সেই বিদেশি গানের সুর। ভেতরে গিয়ে হকিস্টিক সমেত চওড়া ডিভানের উপর গা ছড়িয়ে বসে পড়লো ইয়াশ। তখনও দেওয়াল জোরা মনিটর স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে জুম্বা ড্যান্সের তালে তালে ঘাস ফড়িং এর মতো তিড়িংবিড়িং করে লাফাচ্ছে উনিশের ঘরে পদার্পিত এক সদ্য যুবতী রমণী। জানালার কার্নিশে ঝিকোতে থাকা সকালের কমলা রোদের ক্ষীণ আলো ঠিকরে পড়ছে তার নরম কুয়াশার মতো গায়ে। স্বচ্ছ, মসৃণ রবিকীরণে ঝলমল করছে চুড়ো করে বাঁধা সর্পিল সোনালী চুল। সামনের দিকের ব্যাংকস কাট চুলগুলো অতি সন্তোর্পনে কপালে লুটিয়ে আছে তার। মোমের পুতুলের মতো ফর্সা, নিখুঁত চেহারার মাঝে এঁটে বসানো একজোড়া পেন্সিলে আঁকা পুরন্ত ঠোঁট। তার চেয়েও আকর্ষনীয় ওই টানাটানা হরিণীর মতো গাঢ় নীলাভদু'নয়ন। ঠিক যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত পুতুল।
গত কয়েক মিনিট যাবৎ ঠায় বসে নিঃশব্দে মেয়েটাকে পরখ কর-ছিল ইয়াশ। তারপরেও রমণীর এহেম অকৃত্রিম রূপের ঝলকে চোখের তারায় সামান্যতম উৎকণ্ঠা প্রকাশ পেলো না যুবকের। উল্টো একটা অকারণ বিরক্তি পদ্মাসন হয়ে গেড়ে বসলো তার ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে। সেই ঝলসে ওঠা বিরক্তি নিয়েই ইয়াশ উঠে গিয়ে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো ওর সম্মুখে।
হলুদ ল্যাম্পশেডের কোমল আলোয় ঘরের ভেতরটা অপার্থিব লাগছে। কোনো রূপনগরের রাজকুমারীর ঘর বললে ভুল হবেনা বৈকি। চারপাশে অফ হোয়াইট আর বেবি পিংক কম্বিনেশনের নেটের পর্দা টাঙানো এই ঘরের মাঝখানটা বার্বি হাউজের মতোই সুসজ্জিত। একপাশে গেমিং জোন আর ডান্স ফ্লোর। ঠিক তার অন্যপাশে স্টাডি টেবিলের সঙ্গে লাগোয়া পাখির পালকের মতো আরামদায়ক বিছানা। পায়ের নিচে নরম তুলতুলে হ্যালো কিটির পাপোষ, বিছানার একপাশে অফ হোয়াইট থীমের রাজকীয় ডি-ভান। ডিভানের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রঙবেরঙের হরেক স্টাইলের কুশন আর নামি-দামি সব টেডিবিয়ার। এই ঘরের প্র-তিটি জিনিসই ভীষণ চোখ ধাঁধানো আর চমৎকার। অথচ ওই নৃ-ত্যরত মেয়েটার অবর্ণনীয় রূপের কাছে ঘরের সকল সৌন্দর্যই যেন ফিকে আর ধূলোমলিন।
ইয়াশ সামনে এসে দাঁড়াতেই থমকে গেলো রমণী। অকস্মাৎ গতি-জড়তায় নিয়ন্ত্রণহীন কপাল গিয়ে ঠেকলো মানবের সুঠাম পুরু-ষালি প্রশস্ত বুকে। বিব্রতকর একটা পরিস্থিতিতে তটস্থ হয়ে দ্রুত সরে দাঁড়ালো মেয়েটা।
ইয়াশ কোনো উচ্চবাচ্য করলো না, চুপচাপ হাত বাড়িয়ে সুইচবো-র্ড চেপে নেটওয়ার্ক কানেকশন বন্ধ করে দিলো। গানের আওয়াজ, মিউজিক, টিভিস্ক্রিন একযোগে থেমে গেলো সব। নি-মেষেই নিশ্ছিদ্র নীরবতায় ছেয়ে গেলো ঘর। ওদিকে ব্যাকরাউন্ড মিউজিক অফ হতেই বিভ্রম কেটে গেলো রমণীর। চোখের তারায় দুনিয়া জোড়া বিস্ময় নিয়ে তৎক্ষনাৎ ঝাঁঝিয়ে উঠলো সে,
- তুমি এখানে কি করছো?
তোর নাচার শখ ঘোচাতে এসেছি।
ইয়াশের প্রত্যুত্তর সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ ফলার মতোই রুক্ষ আর দাম্ভিক। নিষ্প্রাণ শীতল চোখ দু'টো যেন গিলে খেতে চাইছে ওকে।
বিপরীতে পেছনে ঘুরে কিছু বলার আগেই আচানক হাতের কব্জিতে দৃঢ় এক চাপ অনুভব করলো রমণী। অতর্কিত সংঘর্ষে চমকে উঠে পেছনে ফিরতেই বেঁধে রাখা চুলগুলো কোমর ছাপি-য়ে ঝরনার মতো গড়িয়ে পড়লো হাঁটুতে। এমতাবস্থায় দৃষ্টি গিয়ে আটকালো ইয়াশের দাবানলের মতো জ্বলন্ত চোখে। ক্ষণিকের বি-হ্বলতা কেটে যেতেই মোমনরম হাতটাকে শক্ত করে চেপে ধরে ঝটিকা প্রবাহের মতো মেয়েটাকে ধাক্কা মেরে সামনে থেকে সরি-য়ে দিলো ইয়াশ। একটুও মায়া দেখালো না। পরে গিয়ে ব্যথা পে-য়েছে কিনা সেসবও তার মনোযোগের বাইরে।
হাউ ডেয়ার ইউ্য ইয়াশ!
রমণীর কণ্ঠে উপচে পড়া তেজ। ইয়াশ সে কথার জবাব তো দি-লোইনা, উল্টো কোনো প্রকার পূর্বাভাস ছাড়াই বারি হাঁকালো সু-ন্দর সাজানো পিসি সেটটার উপর। একের পর এক হকিস্টিকের জোড়ালো আঘাতে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করতে লাগলো সাউন্ডবক্স, পিসি সহ ঘরে থাকা সবকটা ইলেকট্রনিক ডিভাইস। সবশেষে যখন ড্যান্সিং ফ্লোরটা ভাঙতে যাবে, তখনই ওপাশ থেকে দৌড়ে ছুটে এলো রমণী। ইয়াশকে রুখতে তেজস্বী কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বড্ড অনুনয় করে বললো,
জোড়ালো আঘাতে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করতে লাগলো সাউন্ডবক্স, পিসি সহ ঘরে থাকা সবকটা লেকট্রনিক ডিভাইস। সবশেষে যখন ড্যান্সিং ফ্লোরটা ভাঙতে যাবে, তখনই ওপাশ থেকে দৌড়ে ছুটে এলো রমণী। ইয়াশকে রুখতে তেজস্বী কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বড্ড অনুনয় করে বললো,
প্লিজ ইয়াশ, এটা ভেঙোনা। এটা আমার খুব শখের। পাপা আমার লাস্ট বার্থডেটে এটা গিফট করেছে। এটা ভেঙোনা। প্লিইইইজ!
মেয়েটার আকুতি ভরা চোখে তাকিয়ে একমূহুর্ত থমকালো ইয়াশ, পরক্ষণেই রুক্ষ অনুভূতিহীন গলায় জবাব দিলো,
তোর শখের তাতে আমার কি যায় আসে?
ব্যস আর কোনো কথা নয়। চোখের পলকে ঠাস ঠাস করে ভেঙে কয়েকখণ্ড করে ফেললো জায়গাটা। একঝার দীঘল সোনালী চু-লের অধিকারীনি নিষ্ফল নয়নে কেবল তাকিয়ে দেখলো তার শখের জিনিসের ধ্বংসযজ্ঞ। প্রত্যেকটা পার্স, ডকুমেন্টস, পেন-ড্রাইভ সব ছিন্নভিন্ন হয়ে পরে আছে পায়ের কাছে। এতোকিছুর পরেও মুখ ফুটে টু শব্দটি করলো না সে রমণী। যেন এহেন পরি-স্থিতির সঙ্গে সচরাচর অভ্যস্ত সে, তেমন করেই দাঁড়িয়ে দেখলো সব। বিরস চোখে ইয়াশের কর্মকান্ড দেখতে দেখতেই হঠাৎ দৃষ্টি মিলিত হলো দু'জনার। মেয়েটার দায়সারা দৃষ্টিতে ক্রোধান্বিত হয়ে ইয়াশ দাঁত খিঁচে আরও কিছু বলতে নিলেই চোখের পাতায় কাঁপন উঠলো রমণীর। সেই কম্পিত দৃষ্টি ভেদ করে বুকের ভেতর অনুভূত হলো অহেতুক এক রক্তচ্ছাস। সহসা জবান সংবরণ করলো সে, কোনোরূপ বাক্যবিনিময় না করেই হকিস্টিকটাকে এক ঝটকায় মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে ঝড়ের মতো বেড়িয়ে গেলো ঘর থেকে।
ইয়াশ বেড়িয়ে যেতেই করিডোরের অন্যপাশ থেকে ট্রে আর ভ্যা-কিউম সমেত ছুটে এলো দু'জন মধ্য বয়সী মাদাম। দু'জনেই সু-ড়সুড় করে ভেতরে ঢুকে চুপচাপ লেগে পড়লো ঘর পরিস্কারের কাজে। তাদের কর্মকান্ডে বিস্ময়াভিভূত প্রিসিলা। সবকিছু দে-খেও কেমন না দেখার ভান করে বসে আছে তারা। নিশ্চয়ই এটা ওই বজ্জাত ইয়াশের ষড়যন্ত্র। ঘর বাড়ি ভেঙে চুরমার করে ফে-লেছে আবার সঙ্গে করে পরিস্কারের লোকও নিয়ে এসেছে। আদিখ্যেতা!
চলছে.........