ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আশিকি

১৩তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া রাফা

পর্ব - ১৩

- ইন্সটাগ্রাম আছে?

আছেতো।

প্রিসিলার উত্তর শুনে পুলকিত হলো নিভান। ভীষণ প্রফুল্ল দে-খালো তাকে। জলদি মোবাইল হাতরে সোশ্যাল একাউন্ট থেকে ফলো করলো প্রিসিলাকে। তারপর মেয়েটার দিকে মৌহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললল,

- সি ইউ এগেইন।

বিপরীতে কোনোকিছু বলার ফুরসত পেলোনা প্রিসিলা, তার আগেই বাজখাঁই আওয়াজে হর্ন বাজালো ইয়াশ। হর্নের আও-য়াজে ওরা ঘুরে তাকালে আবারও পাথুরে গলায় বাক্য ছুড়লো সে,

তোকে কিছু বলেছি আমি প্রিসি। কথা কানে যায়নি?

আর সময় নষ্ট করলো না প্রিসিলা। নিভান কে বিদায় জানিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে গেলো গাড়ির দিকে। নিভান প্রস্তরীভূত হয়ে চেয়ে দেখলো সেই রুশরমণীর ছুটে চলা। তারপর হঠাৎই ইয়া-শের দিকে দৃষ্টিপাত করে বিড়বিড়ালো,

- ছেলেটা একটু বেশিই অহংকারী।

রাতের শহরে আকাশ ভাঙা বৃষ্টি। পিচ ঢালা রুপোরঙা পথঘাট ডুবে আছে বর্ষায়। দৃশ্যপট ঝাপসা হওয়ায় গাড়ির গ্লাস ওয়াইপা-রটা ক্রমাগত এদিক দোল খাচ্ছে। যতদূর চোখ যায় কেবল ধূসর প্রান্তর।

সেই ক্রন্দিত আকাশের সঙ্গ দিতে দিতেই গন্তব্যে পৌঁছালো ওরা। গাড়ি এসে থামলো একটা সাদা রঙের ডুপ্লেক্স বাড়ির গ্যাড়েজে। বৃষ্টির কারণে বাইরেটা ঠিকঠাক দেখা না গেলেও ভেতরে যে আলো জ্বলছে তা স্পষ্ট দৃশ্যমান। ইয়াশ আর অপেক্ষা করলো না ব্যাগটাকে মাথায় নিয়ে দৌড়ে চলে গেলো বাড়ির ভেতর। প্রিসি-লাও চললো ওর পিছুপিছু।

ভেতরে গিয়ে দরজা নক করতে হলো না, তার আগেই ভেতর থেকে কেউ একজন এসে অভূতপূর্ব ভাবে জাপটে ধরলো ইয়া-শকে। লোকটার সান্নিধ্য পেয়ে ইয়াশও যেন খুশিতে আত্মহারা। ইয়াশ খুব একটা হাসে না, তবে যখন হাসে তখন ওকে চমৎকার দেখায়। আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়। ওর মনে যে জিলাপির মতো প্যাচ চেহারা দেখে তা কিচ্ছুটি বোঝার উপায় নেই। মানুষ-টাকে জড়িয়ে ধরে গা কাঁপিয়ে হাসছে ইয়াশ। লোকটাও আদুরে ভঙ্গিতে পিঠ চাপড়ালো ইয়াশের। প্রশ্রয়ের স্বরে বললো,

- কি ব্যাপার ইয়ং ম্যান? তুমি তো দেখি আমার চেয়েও লম্বা হয়ে গেছো!

-হতেই হবে, ইয়াশ ইউভান অলওয়েজ বেটস ইউ্য আঙ্কেল।

কন্ঠে একটা মেকি দাপট নিয়ে প্রত্যুত্তর করলো ইয়াশ। বিপরীতে কপাল গোছালো লোকটা। ভাবুক স্বরে বললো,

-ড্যাডের মতো শুরু করেছো দেখছি?

এ্যাবসুলেটলি।

কথাটা বলে আবারও হো হো আওয়াজ করে হেসে উঠলো ইয়াশ। ওর হাসির আওয়াজটা প্রিসিলার কানে তরঙ্গের মতো প্র-তিধ্বনিত হচ্ছে। একটা ঘোরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সে। ঠিক তখনই হাসি থামিয়ে ইয়াশ বললো,

-- তুমি তো দেখছি বুড়ো হয়ে গেছো মাহিন আঙ্কেল।

ইয়াশের কথা শুনে চোখে একটা রিমলেস গ্লাস চড়ালো মাহিন। বয়জেষ্ঠদের মতো করেই বললো,

- তাতো একটু হয়ছিই, ছেলে বড় হয়েছে না?

কথাটা শুনে লোকটার আপাদমস্তক পরখ করলো প্রিসিলা। মনে-মনে ঘোর প্রতিবাদ জানিয়ে বললো,

মোটেইনা, ওনাকে তো টু মাচ হ্যান্ডসাম লাগছে। ওয়েল মেইন-টেইন ফিগার, মাথাভর্তি ঘনচুল, চেহারায় টানটান ভাব। কোথাও তো বয়সের ছাপ নেই। ওনাকে আর্লি থার্টি এইজের বললে ভুল হবে না। কিংবা তার চেয়েও কম।

হাসতে হাসতেই একপর্যায়ে মাহিনের চোখ গিয়ে আটকালো সা-মনে দাঁড়িয়ে থাকা সোনালী চুলের বিদেশিনীর দিকে। ঠিক বিদে-শিনী নয়, মেয়েটার ত্বকে সাদা ফ্যাটফেটে রঙের অভাব রয়েছে, তার বদলে শরীরে গেড়ে বসেছে গোলাপি আভাযুক্ত একটা উজ্জ্বল ফর্সা রং। তাকালেই কেমন গলে গলে যায় অন্তর। প্রথম দর্শনেই ইয়াশের দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো মাহিন। জহুরি গলায় বললো,

গার্ল ফ্রেন্ড?

মাহিনের দেখাদেখি ইয়াশ ও এবার ঘুরে দৃষ্টিপাত করলো প্রিসি-লার উপর। আধভেজা হয়ে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে মে-য়েটা। ফর্সা চেহারা ঠান্ডায় জমে নীলবর্ণ ধারণ করেছে তার, অথচ একবারের জন্যও ওর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনি ইয়াশ। প্রিসি-লার এই হাল দেখে তুষারের উপর ক্ষিপ্ত হলো অন্তর। মনেমনে ভাবলো,

পাপা সত্যিই ভুল করেছে এবার। আমার মতো ছন্নছাড়া, ভব-ঘুরে মানুষের সঙ্গে মেয়েটার জীবনটা না জুড়লেও পারতো।

তুমি তো দেখছি মেয়েটার উপর একেবারে ফিদা। একধ্যানে তাকিয়েই আছে তখন থেকে।

মাহিনের কথায় ভ্রম কাটলো ইয়াশ। সংবিৎ ফিরে পেতেই স্পষ্ট গলায় বললো,

না, ও আমার গার্ল ফ্রেন্ড নয়।

তাহলে?

ও হলো প্রিসিলা জাওয়াদ। পাপা আর মাম্মার মেয়ে।

ওহ তাই বলো, কাজিন তোমার।

ও আমার কাজিন ও নয়।

প্রিসিলার দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করে উত্তরটা দিলো ইয়াশ।

তখনই প্রিসিলাকে কাঁপতে দেখে ওপাশ থেকে অস্থির গলায় বা-ক্য ছুড়লো মাহিন,

আরে, আরেহ, তুমি তো কাঁপছো। তাড়াতাড়ি রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে এসো।

ঘুরে দাঁড়িয়ে ইয়াশকে উদ্দেশ্য করে বললো,

স্টাফরা ব্যাগপত্র সব নিয়ে গেছে, তোমরা রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। ডিনারের টেবিলে জমিয়ে আড্ডা হবে।

বৃষ্টি ভেজা রাতে

আমি তোমায় নিয়ে যাবো,

যতগুলো কথা হয়নি বলা

তোমাকেই বলে দেবো....

অক্টোবরের প্রথম বৃষ্টি আজ। রাস্তার পাশের টং দোকানে বৃষ্টি থা-মার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আনমনেই গুনগুন করছে হৃদমিলা। তার কাঁধে মস্ত বড় গীটারের ব্যাগ। সচরাচর খুব একটা গীটার নিয়ে বের না হলেও বৃষ্টির দিনে কেমন যেন উদাসীন হয়ে যায় মেয়েটা। বাইরে বৃষ্টির ছাট আর মেঘ ভেজা হাওয়া বরাবরই তার মনটাকে স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলে। শত ব্যস্ততার মাঝেও সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে নীড় হারা পাখির মতো ছুটে চলে সে উদ্দেশ্যহীন। এখানে সেখানে গানের আসর বসায়, ইচ্ছেমতো বৃষ্টিতে ভেজে, টং দোকানে দাঁড়ি-য়ে মাটির ভাড়ে চা খায় তারপর আবারও ফিরে যায় নিজের চির-চেনা একঘেয়ে জীবনে।

আজকেও হৃদমিলার জীবনে তেমনই এক স্বঘোষিত ছুটির দিন। তবে গানের আসর বসালেও আজ আর বৃষ্টিতে ভেজা হলো না তার। প্রতিবার বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর হয় আর বাবা দুশ্চিন্তা করে করে ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে ফেলে। সবসময় নিজের ইচ্ছেকে প্রা-ধান্য দিলেও আজ বাবার কথা ভেবে খুব কষ্ট করে অক্টোবরের প্রথম বৃষ্টিকে বিদায় জানালো সে। ভেজার লোভটাকে সামাল দিলো হৃদমিলা।

বস্তুত জীবনে সে খুব একা, একমাত্র বাবা ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ নেই। বিয়ে, ভালোবাসা এসবের বয়স তার হয়েছে অবশ্য। তবে হৃদের মনে হয় সঠিক মানুষটাই এখনো আসেনি তার জী-বনে। আপাত দৃষ্টিতে হৃদমিলা সুন্দরী। অন্তত মানুষ তো তাই বলে। নয়তো পড়াশোনা, চাকরির এই লম্বা জার্নিতে কম মানুষ তো আর ওকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেনি। কাছাকাছির আসার প্রচেষ্টায় কত সমবয়সীই না কতশত পাগলামি করেছে। কিন্তু হৃদ-মিলার জীবনের এই অধ্যায়টা সত্যিই বড় জটিল। এখনো তেমন কেউ আসলোই না যাকে প্রথম দেখেই বুকের ভেতর ডঙ্কা বেজে উঠবে। অদ্ভুত এক শিহরণে বিদ্যুৎ বয়ে যাবে সর্বাঙ্গে। মানুষটার আগমনে মন তাকে নিজে থেকেই সংকেত পাঠাবে। কিন্তু আফ-সোস এতোগুলো বছর পরেও সেরকম কেউ এলোনা জীবনে। হৃ-দমিলারও আর প্রেমে পড়া হলো না। বাবা অবশ্য কখনো জোড়া-জুড়ি করে না এসব নিয়ে। সে চায় হৃদমিলা সবসময় নিজের মনের কথা শুনুক, যেভাবে জীবন কাটাতে ইচ্ছে হয় সেভাবেই কাটাক। অন্তত আফসোস যেন না থাকে কোনো।

মনেমনে নানান সমীকরণ মেলাতে মেলাতেই অনেকটা সময় পে-ড়িয়ে গেলো। বৃষ্টিও কমে এলো খানিক। এখন যেটুকু আছে, তাতে হেটে যাওয়া যায়। রাস্তা পেরোলেই বাস স্ট্যান্ড, তাই হৃদমি-লাও আর সময় নষ্ট করলো না। গীটারের ব্যাগটাকে সামলে দ্রুত বেড়িয়ে গেলো টং দোকানের ছাউনি থেকে। অন্ধকার হাতরে কোনোমতে ফুটপাত ধরে সড়কে পা রাখতে না রাখতেই সারাদি-নের সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনাটা ঘটে গেলো তখনই।

রাস্তার মাঝ বরাবর পা রাখতেই কোথা থেকে যেন দ্রুত বেগে একটা গাড়ি ছুটে এলো হৃদের দিকে।

ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে উঠলো সে। সহসা ছুটে যাও-য়ার আর শক্তি পেলোনা। সিদ্ধান্তহীনতায় পাদু'টো থমকে গেলো সেখানেই। পেছন থেকে গা কাঁপিয়ে হর্ন বাজালো ড্রাইভার। দিগ্বি-দিক শূন্য হয়ে সেদিকে তাকাতেই গাড়ির হেডলাইটের তীক্ষ্ণ আলোয় চোখমুখ কুঁচকে গেলো হৃদমিলার। কয়েকমূহুর্তের জন্য নিঃশ্বাস থমকে গেলো যেন। মনে হলো এটাই বুঝি শেষ। কিন্তু না, অভূতপূর্বভাবেই একেবারে শরীরের সংস্পর্শে এসে ব্রেক কষলে গাড়িটা। নিঃসন্দেহে ভেতরে যে বসে আছে সে দক্ষ ড্রাইভার। নয়তো এতো কাছ থেকেও ব্রেকটানা সম্ভব নয়। ওদিকে প্রবল অস্থিরতায় হাত থেকে গীটার পরে গেলো হৃদমিলার। সে নিজেও হাত পা ছড়িয়ে নিস্তেজ হয়ে বসে পড়লো জলেভেজা চিকচিকে সড়কে। তিরতিরিয়ে ঠোঁট কাঁপছে তার। কাপছে চোখের পাতাও। তক্ষুনি গাড়ির দরজা খুলে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো একজন। জলে ভরে ওঠা ঝাপসা দৃষ্টিতে হৃদমিলা শুধু দেখলো কালো স্যুট

পরিহিত একটা সুঠামদেহী লম্বামতো লোক তার দিকেই ছুটে

আসছে।

তারপরের কয়েকমূহুর্ত একটা ঝিমঝিম ঘোরের মধ্যে দিয়ে গেলো, হঠাৎই হৃদের কর্ণকুহরে পৌঁছালো রাশভারি এক পুরু-ষালী কন্ঠস্বর,

-আর ইউ্য ওকে মিস?

মস্তিষ্কের ধোয়াশাচ্ছন্ন ভাবটা কাটলো খানিক। ঘুরে তাকালো হৃ-দমিলা। কালো স্যুট, কালো এয়ারবাডস, কালো রোদ চশমা পরি-হিত গোয়েন্দার মতো দেখতে লোকটা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে অস্থির হয়ে। কয়েকমূহুর্ত কেটে যাওয়ার পরেও হৃদমিলাকে একই ভাবে গুম হয়ে বসে থাকতে দেখে আবারও ডেকে উঠলো সে,

আর ইউ ওকে?

নির্বাক চেয়ে এদিক ওদিক মাথা নাড়ালো হৃদমিলা। দুই চোখে তার কিশোরীর মতো আড়ষ্টতা।

- আপনি ঠিক নেই? কোথায় লেগেছে বলুন?

ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসে থাকা হৃদের আপাদমস্তক পরখ করতে করতেই উদ্বেলিত হয়ে প্রশ্ন করলো লোকটা। তার অস্থিরতা দেখে এতোক্ষণে মুখ খুললো হৃদমিলা। গলা খাদে নামিয়ে মৌন স্বরে বললো,

-আমি ঠিক আছি। কিন্তু আমার গীটাররর...

বলেই ঘুরে তাকালো সে। দেখলো, মস্ত গীটারের একাংশ ইতিম-ধ্যে গাড়ির নিচে চাপা পড়েছে। দৃশ্যটা দেখা মাত্রই চোখের কোটর জলে ভরে উঠলো মেয়েটার। হু হু করে কেঁদে উঠলো সে । জড়ানো গলায় বললো,

- আ... আমার গীটার।

হঠাৎ করেই হৃদমিলাকে এভাবে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে থেকে হকচকিয়ে উঠলো রোহান। গাড়ির সামনে বসে পরেও যে মেয়ে টু শব্দটি করেনি, সে গীটারের জন্য কাঁদছে। খুব দূর্লভ ঘটনা। তবে নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হলো রোহানের। কোন অলক্ষুণে যে বাংলাদের রাস্তায় একটু মনের সুখে রাইড করতে বেড়িয়েছিল কে জানে? এখন ঝামেলা সব নিজের ঘাড়ে। এজন্যই বলে যা-দের মন মস্তিষ্ক সবসময় কাজের মধ্যে নিবিষ্ট থাকে, তাদের অকাজ করতে নেই। গেলোতো ভ্যাকেইশনের আনন্দটা মাটি হয়ে! মনেমনে নিজেকে নানা ভাবে ভর্ৎসনা করছিল রোহান। ঠিক তখন আবারও ফুঁপিয়ে উঠলো মেয়েটা। হৃদমিলাকে এভাবে নিঃ-শব্দে চোখের জল ফেলতে দেখে নমনীয় হলো রোহানের অন্তর। নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ইমোশন জড়িয়ে আছে গীটারের সঙ্গে । সেই ভেবে তাড়াহুড়ো করে গাড়ির নিচে হাত ঢুকিয়ে দিলো সে। রোহানের আকস্মিক পদক্ষেপে কান্নাকাটি থামিয়ে হইরই করে উঠলো মেয়েটা,

--- আরে, আরেহ কি করছেন?

চলছে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন