ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আশিকি

২২তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া রাফা

পর্ব - ২২

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে আবারও কেঁদে উঠলো প্রিসিলা। দু'হাতে চুল আঁকড়ে ধরে পা'গ'লের মতো কাঁদছে সে। এবার নি-শ্চয়ই অসুস্থ হয়ে ইয়াশকে নতুন কোনো ঝামেলায় ফেলে তবেই ক্ষান্ত হবে মেয়েটা। ইয়াশের তো মাঝেমধ্যে মনে হয় এই মেয়ের জন্মই হয়েছে তাকে বিরক্ত করার জন্য। আগেপরের সব ঘটনা ভাবতে ভাবতেই চোয়ালের পেশী শক্ত হয়ে গেলো তার। মেয়েটার দিকে র'ক্তিম চোখে তাকিয়ে রুক্ষস্বরে বাক্য ছুড়লো তৎক্ষণাৎ,

জাস্ট স্টপ দ্যা ফাকিং ক্রায়িং প্রিসি!

- আমি কাঁদলে তোমার সমস্যা কোথায়?

সমান তালে চেচিয়ে উঠলো প্রিসিলা। ইয়াশ এগিয়ে এসে ওর না-জুক চোয়ালখানি শক্ত হাতে চেপে ধরে বললো,

বিকজ আই হেইট ইট।

এক ঝটকায় ইয়াশকে দূরে সরানোর চেষ্টা করলো প্রিসিলা। কিন্তু পারলো না, বিপরীতে আরও দৃঢ় হলো হাতের বাঁধন। অসহনীয় ব্যথায় চোখের কোটর টলমল করে উঠলো মেয়েটার। ব্যথাক্লিষ্ট গলায় আওড়ালো,

এতোটা হেইট না করলেও তো পারো।

যখনই মনে পরলো এই মেয়েটাকে আজ নিভান স্পর্শ করেছে সঙ্গে সঙ্গে শান্ত দৃষ্টি অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতোই জ্বলে উঠলো ইয়া-শের। প্রিসিলার টলমলে ব্যথাতুর দৃষ্টি দেখেও দেখলো না সে। ফিরে গেলো নিজের কঠিন সত্তায়। দাঁতে দাঁত পিষে বললো,

তোকে আমি এতোটা অপছন্দ কেন করি জানিস? বিকজ অফ ইউওর ডিজগাস্টিং ব্লু আইস।

কথাটা বলেই মেয়েটাকে এক ঝটকায় দূরে সরিয়ে দিলো সে। প্রিসিলা আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ উঠে দাঁড়িয়ে উত্তাল সমু-দ্রের অভিমুখে হেঁটে যেতে যেতে বিড়বিড়ালো,

এটাই তোমার আমার ভবিতব্য ইয়াশ। It's destined to have a sad ending.

বিপরীতে দাপুটে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে স্বগোতক্তি করলো ইয়াশ,

-A sad ending is actually not an end. It an Infinite love war.

বিভ্রমে ডুবে কথাগুলো বলতে বলতে আচানক সংবিৎ ফিরতেই সামনে তাকালো ইয়াশ। যতদূর চোখ যায় কেবল উত্তাল জল-রাশি। দৃষ্টি সীমানার কোথাও প্রিসিলা নেই। সহসা গা ঝেড়ে তৎ-ক্ষনাৎ উঠে দাঁড়ালো সে। ঝড়ো হাওয়ার বেগে সমুদ্রের দিকে ছুটে যেতে যেতে আনমনেই বলে উঠলো,

-but this time, i will definetly change the destiny!

দিবালোকের অন্তিম লগ্ন আসন্ন। বালুচরে ঘেরা একচ্ছত্র দ্বীপটা ধীরে ধীরে আধারে মুড়িয়ে যাচ্ছে। চারিদিকের বনবনানীর গায়ে তখনও শরতের হিমেল হাওয়া লেগে আছে। আকাশ জুড়ে ডানা ঝাপটাচ্ছে নীড়ে ফেরা ক্লান্ত চিল। আগুনরাঙা সূর্যের শেষ প্রলে-পটুকু লাল, হলুদ বেগুনী হয়ে মিলিয়ে গেছে দিগন্তে। সন্ধ্যার সেই ফিকে বাদামী আলোয়, হঠাৎ করেই সাগরের ঢেউয়ের দোলায় শূন্যে ভেসে উঠলো দু'টো অবয়ব। দেখলে মনে হয়, লম্বা চওড়া প্রশস্ত দেহের অধিকারী এক যুবক অতি সন্তর্পনে বুকে জড়িয়ে রেখেছে তার একমাত্র প্রেয়সীকে। কিন্তু আদৌও কি মেয়েটা তার প্রেয়সী?

পরবর্তী ঢেউটা একেবারে তীরে ভাসিয়ে আনলো ওদের। ইয়াশের বাহুমাঝে পাখির পালকের মতোই লেপ্টে আছে প্রিসিলার জলে ভেজা নারীদেহখানি। চেতনাহীন বিমর্ষ মুখটা যেন জ্বলজ্বল করছে সন্ধ্যার ক্ষীণ আলোয়। সেদিকে তাকাতেই চাপা একটা উদ্বেগ খেলে গেলো ইয়াশের চোখের তারায়। জলরাশি কেটে কেটে তীরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ডাকলো ও প্রিসিলাকে,

প্রিসি! আর ইউ্য ওকে?

সারা দিলোনা প্রিসিলা। রমণীর চেতনাহীন নিস্তব্ধতায় বুকের ভেতর প্রস্তরাঘাতের ন্যায় অদ্ভুত এক চাপ অনুভব করলো ইয়াশ। হাত বাড়িয়ে ওর চিবুকে আলতো ঝাঁকি দিয়ে ডেকে উঠলো আবারও,

এ্যাই প্রিসি! প্রিসি শুনছিস! প্রিসিলা! তুই তো সাঁতার জানিস না, তাহলে কেন ঝাপ দিলি এভাবে? কি হতো যদি আমি তোকে খুঁজে না পেতাম। এতো সাহস কেন তোর বল আমায়?

নাহ, সারা নেই। বুকের ভেতরে ছাইচাপা উদ্বেগটা এতোক্ষণে সর্ব-ত্র ছড়িয়েছে। ফলস্বরূপ ব্যতিগ্রস্ত হয়ে উঠলো ইয়াশ। কোল থেকে নামালো না মেয়েটাকে, উল্টো বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে অস্থির হয়ে বলতে লাগলো,

-তুই সাঁতার জানিস না, তাহলে ঝাঁপ কেন দিলি এভাবে? ইজ ইট ফান টু ইউ্য? কি হতো যদি আমি তোকে খুঁজে না পেতাম? এতো সাহস কেন তোর বল আমায়?

নাহ, এতো রাগ ঢাকের পরেও সাড়া মিললো না প্রিসিলার। মেয়ে-টার এহেন নির্লিপ্ততায় দিশেহারা হয়ে পরলো ইয়াশ। জীবনে প্রথম বারের মতো তার মুখ থেকে নিঃসৃত হলো গভীর এক বাক্য,

-আমি কি তোর সাথে একটু বেশিই খারাপ করি? এ্যাম আই রি-য়েলি দ্যাট রুড টু ইউ্য।

অতঃপর নৈঃশব্দ্য....

বিষন্ন সন্ধ্যায় ভর করে আসা এই শ্বাসরুদ্ধকর নৈঃশব্দ্যটুকু ক্রমশ অসহনীয় ঠেকলো ইয়াশের নিকট। সহসা দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে মুখ বাড়িয়ে দিলো সে সিপিআর দেওয়ার উদ্দেশ্যে। প্রিসি-লার মুখের অনেকটা কাছে নেমে আসলো তার মুখ। ঠোঁট কাঁ-পছে, সাথে বুক ও। হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দন গতি হারালো যেন। এই ঠোঁটে আগেও চুমু দিয়েছে ইয়াশ, শুধু চুমু নয় এক প্রকার ছি-ড়ে খেয়েছে বলা চলে। কই তখন তো হয়নি এমন। তাহলে আজ-কের এই অতি সাধারণ একটা ব্যাপারেও কিসের এতো শিহরণ? কেনইবা এতো দ্বিধাগ্রস্ততা?

মস্তিষ্ক জুড়ে শতসহস্র প্রশ্নের সমাগম। তবুও ব্যাপারটাকে অতি সাধারণ একটি প্রাথমিক চিকিৎসা ভেবে প্রশ্নগুলোকে নিদারুন উপেক্ষা করে গেলো ইয়াশ। দূরত্বের শেষ সীমানাটুকু ঘুচিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট রাখতেই যাবে, ঠিক সেই মূহুর্তে ইয়াশকে হতবাক করে দিয়ে প্রত্যুষের সোনারঙা সূর্যের মতোই খিলখিল করে হেসে উঠলো প্রিসিলা। রমণীর স্বতঃস্ফূর্ত হাসির আওয়াজ যেন শুন-শান দ্বীপের মাঝে এক সুখের কাঁপন তুলে দিলো। চোখ দু'টো তখনও বুঁজে আছে ওর। এমন উদ্বিগ্নতার মাঝে মেয়েটাকে হঠাৎ হাসতে দেখে কয়েক মূহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো ইয়াশ। ভারি বিপন্ন দেখালো তাকে। নিজেকে মনে হলো বোকা এক প্রাণী। প্রিসিলা তখন জিতে যাওয়ার অনাবিল আনন্দে হেসে কুটিকুটি। হাসতে হাসতেই নিজস্ব কায়দায় বাক্য ছুড়লো দস্যি মেয়েটা,

তুমিতো দেখছি আমাকে নিয়ে খুব সিরিয়াস? একেবারে পাগ-লপারা হয়ে যাচ্ছিলে। মরে গেলে কি করতে, হুম?

প্রিসিলার ওই কৌতুক হাসির আওয়াজে কান দু'টো ঝাঁঝা করে উঠলো ইয়াশের। ধীরে ধীরে চেহারা থেকে উদ্বেগটুকু সরে যেতেই চোখমুখ রাগে লাল হয়ে গেলো তার। থমথমে আগুন দৃষ্টি দিয়ে তাকালো প্রিসিলার দিকে, একটু অপ্রতিভ হয়ে পরলো প্রিসিলা। ইয়াশের দিকে চেয়ে হাসি থামিয়ে তৎক্ষনাৎ শুষ্ক ঢোক গিললো সে। ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলবে তার সময়টুকু আর দিলো না ইয়াশ। মেয়েটাকে বাহু থেকে নামিয়ে তুচ্ছ কোনো জিনিসের মতোই সজোরে ছুঁড়ে ফেললো বালির বুকে। হঠাৎ করে পরে যা-ওয়ায় হাতে পায়ে প্রচন্ড ব্যথা পেলো প্রিসিলা। মুখ থেকে ছিটকে বেড়িয়ে এলো চাপা আর্তনাদ,

আহ মাম্মাহ!

তারপর আর ইয়াশের কোনো সাড়া শব্দ নেই। টু শব্দটিও করলো না সে। আর না তো কোনো পূর্বাভাস দিলো প্রিসিলাকে। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে তখনই চলে গেলো দ্বীপ ছেড়ে।

ওদিকে কোনোমতে নিজেকে সামলে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে পে-ছনে ঘুরতেই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো প্রিসিলার। ও বোধ হয় স্ব-প্নেও ভাবেনি ইয়াশ কখনো ওকে এভাবে একাকি দ্বীপের মাঝে ফেলে সত্যি সত্যি চলে যাবে, আদতে সেটাই করলো ইয়াশ। রা-গের মাথায় সে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা আবারও প্রমান দিলো প্রিসিলাকে।

বোটটা তখন মাঝ সমুদ্রে। প্রস্তরীভূত হয়ে সেদিকেই তাকিয়ে রইলো প্রিসিলা। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে থাকতে জ্বলছে তার দু'টো চোখ। তবুও ঘুরে তাকালো না ইয়াশ। নীলাভ হতাহত চাহনী ক্রমশ টলমল করে উঠলো। বুকের মাঝে তীব্র অভিমান নিয়ে কাতর গলায় আওড়ালো মেয়েটা,

- আমি কি খুব বেশি অন্যায় করে ফেলেছি?

ততক্ষণে দৃষ্টি সীমানার আড়াল হয়ে গেছে ছোট্ট সাদা যানটি। এবারে পুরোপুরি বাকরুদ্ধ প্রিসিলা। এলোমেলো চিন্তারা সব ভয়ংকর দানবের মতোই গিলে খাচ্ছে ওর মস্তিষ্ক। কান্নার একটা শক্ত ডেলা গলার কাছে আঁটকে আছে পাথরের মতোই। আর কোনো কথা বলতে পারলো না মেয়েটা। বজ্রাহতের ন্যায় দাঁড়িয়ে কেবল দেখলো ওই হৃদয়হীন পাষণ্ড ছেলেটার চলে যাওয়া।

সন্ধ্যা উতরে গেছে। ফিকে গোধূলির বুকে ধূসর আধার মেখে গড়িয়েছে মাঝরাত। রাতটা একটু গাঢ় হতেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে শহরের বুকে।

দাপুটে বাতাসের সঙ্গে দস্যি বালিকার মতো ঝাপিয়ে পড়া বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যাচ্ছে ঘরদোড়। শ্বেত পাথরের তকতকে মেঝেতে জল জমতে শুরু করেছে। নিঝুম জলদি পায়ে এগিয়ে গিয়ে জা-নালার কপাট লাগালো। তাড়াহুড়ো করে দক্ষিণ দিকের ট্রান্সপা-রেন্ট জানালাটা লাগাতে গিয়ে তার অবচেতন চোখ দু'টো হঠাৎ আঁটকে গেলো বৃষ্টিস্নাত ওই লনের শেষ মাথায়। সোডিয়ামের নি-য়ন আলোয় সেখানে এক নারী অবয়ব স্পষ্ট দৃশ্যমান। কিন্তু কে এভাবে ঝুম বর্ষায় লনের মাঝে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিবিলাশ করছে? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই আরেকটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলো নিঝুম। মে-রুন রঙের দামি ভেলভেট কাপড়ের ফ্রকটা আগেও দেখেছে কো-থাও, সাথে আবার ব্ল্যাক স্টিলেটোর নামি-দামি হাইহিল।

একটু ভাবতেই গোছানো কপাল ধীরে ধীরে সোজা হয়ে গেলো নিঝুমের। মনে পরলো, আজ সকালেই তো নিভানের সঙ্গে দুপু-রের দাওয়াতে এসেছিল এই রাশান মেয়েটি। সঙ্গে ইয়াশও তো ছিল।

প্রিসিলাকে চেনার পর আর একমূর্ছতও অপেক্ষা করলো না নি-ঝুম। জলদি পায়ে ছুটে গেলো নিচের দিকে।

নিভান এখনো বাড়িতে ফেরেনি, বৃষ্টির মাঝে রেস্টুরেন্টে আটকা পরেছে বোধ হয়। সহসা ছাতা ধরে একাই বাইরে নেমে এলো নি-ঝুম। লন পেরিয়ে কিছুটা এগোতেই মুখোমুখি হলো প্রিসিলার। ঠান্ডায় কাবু হয়ে রীতিমতো কাপছে মেয়েটা। পেলব ফর্সা ত্বক ধারণ করেছে নীলবর্ণ। দু'হাত আড়াআড়ি করে বুকের উপর রেখে কোনোমতে নিজেকে সামনে রেখেছে সে। প্রিসিলার এহেন নাজেহাল অবস্থা দেখে হতচকিত হলো নিঝুম। তৎক্ষনাৎ ধ্বনিত হলো তার বিচলিত কণ্ঠস্বর,

প্রিসিলা! বাচ্চা আমার! কি হয়েছে? এখানে বৃষ্টির মাঝে একা একা দাঁড়িয়ে আছো যে?

প্রিসিলা জবাব দেয়না। কাতর দৃষ্টে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে শুধু নিঝুমের পানে। লোকারণ্যহীন অচেনা ওই দ্বীপ ছেড়ে কিভাবে যে এতদূর এসেছে সে এক বিস্ময়। যেই বিস্ময়ের ঘোর থেকে স্বয়ং প্রিসিলাও বের হতে পারেনি এতোক্ষণে।

মেয়েটাকে অমন বোবার মতো চেয়ে থাকতে দেখে আবারও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো নিঝুম। কানে পৌঁছালো তার চিন্তিত কন্ঠস্বর,

ভিজে একেবারে চুপচুপে হয়ে আছো। ঠকঠক করে কাঁপছো, এভাবে কেউ ভেজে? ঠান্ডা লেগে গেলে তখন কি হবে?

নিঝুমের এই মমতা মাখা বাক্যে প্রিসিলার হৃদয় দ্রবীভূত হয়। পৃ-থিবীর বিপরীত গোলার্ধে অন্য এক মহাদেশে থাকা মায়ের জন্য মন কেমন করে তার। আপনজনের শূন্যতায় হুহু করে ওঠে অন্তর। চারিদিকে আলোড়ন তোলা ঝুম বৃষ্টির মাঝেও ওর চোখ বেয়ে গড়িয়ে যায় একফোঁটা তপ্ত নোনাজল।

চলছে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন