ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আশিকি

৩৩তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া রাফা

পর্ব-৩৩

শিষের সুর অনুসরণ করে প্রিসিলা চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো দোতলার করিডোরের রেলিংয়ে ঠেস দিয়ে ওর দিকেই মোহাবিষ্ট চোখে তাকিয়ে আছে ইয়াশ। দক্ষিণের জানালা দিয়ে হু হু করে ছুটে আসা একগুচ্ছ রেশমি হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে উড়ছে তার ঘনকালো সিল্কি চুল। দৃষ্টির বিনিময় হতেই প্রিসিলাকে উদ্দে-শ্য করে একটা চোখ ব্লিঙ্ক করলো ইয়াশ। সঙ্গে সঙ্গে হার্টবিট মিস হয়ে গেলো প্রিসিলার, পরমূহুর্তেই হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো দিগুণ তালে। অতর্কিত লাজে চোখ নামিয়ে নিলো সে।

দৃষ্টি গিয়ে ঠেকলো পায়ের পাতায়। তখনই ধাপ ধাপ করে পা ফেলে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে এলো ইয়াশ। নতমুখী প্রিসিলাকে গভীর চোখে পরখ করে স্তিমিত স্বরে প্রশ্ন করলো,

- গীটার বাজানো কেন শিখেছিস?

চোখ তুললো প্রিসিলা। আস্তেধীরে নিজের নীলাক্ষি দু'টো স্থাপন করলো ইয়াশের ধূসর বাদামি চোখে। তারপর ঠোঁট নাড়িয়ে অস্ফুট স্বরে জবাব দিলো,

-তুমি ভালোবাসো বলে।

-আর বাংলা গান কে শিখিয়েছে?

হৃদমিলা।

বিপরীতে প্রত্যুত্তর না করেই তপ্তশ্বাস ছাড়লো ইয়াশ। খানিকক্ষণ চারিদিকে দৃষ্টি বুলিয়ে ভ্রু কুঞ্চিত করে প্রশ্ন করলো,

আজ রুম থেকে সোজা নিচে চলে এলাম, তবুও পরিবেশ এতো শান্ত কি করে বলতো? তোর তো এতোক্ষণে পাপা, মাম্মার ভয়ে গর্তে লুকিয়ে যাওয়ার কথা।

ইয়াশের কথার বিপরীতে প্রিসিলা মুখ ভার করে বললো,

পাপা মাম্মা বাড়িতে নেই। ওরা বিজনেস মিটিংয়ের জন্য আজকেই দুবাই যাচ্ছে। এতোক্ষণে হয়তো এয়ারপোর্ট পৌঁছে গিয়েছে।

প্রিসিলার কথা শুনে গম্ভীর চেহারাটা হুট করেই ঝলমল করে উঠলো ইয়াশের। কোনো এক অজানা আকাঙ্খায় বুকের ভেত-রটা উদ্ভাসিত হলো। তৎক্ষনাৎ কাউচের উপর গা ছড়িয়ে বসলো সে। সামনের কফি টেবিলের উপর রাখা ফলের বাস্কেটটাকে দে-খিয়ে প্রিসিলাকে উদ্দেশ্য করে বললো,

একটা আপেল দে তো। ক্ষিদে পেয়েছে খুব।

প্রিসিলা হাত বাড়িয়ে আপেল এগিয়ে দিতে গেলে, হাত সমেত পুরো মানুষটাকেই কোলের উপর এনে ফেললো ইয়াশ। চকিতে ধড়ফড়িয়ে উঠলো প্রিসিলা। ওর গায়ে বার্বিডল ডল থীমের একটা ওভারসাইজড টিশার্ট ছিল শুধু। ইয়াশ আচমকা কোলে নিতেই সেটা হাঁটু ছাড়িয়ে উরুর অনেকটা উপরে উঠে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে ইয়াশের চোখের সামনে ভেসে উঠলো মোমের মতো ফর্সা দু'টো পা। দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে গেলো তার। বুকের ভেতর মা-থাচাড়া দিয়ে ওঠা এক অদম্য বাসনার তরে বশিভূত হয়ে হাত রা-খলো প্রিসিলার উন্মুক্ত উরুতে। তৎক্ষনাৎ শীর্ণ দু'হাতে ওর চোখ দু'টো ঢেকে দিলো প্রিসিলা। তবুও ঘোর কাটলো না ইয়াশের। মে-য়েটাকে বাহুবন্ধ করে হাতদুটো সরিয়ে দিলো চোখ থেকে। আচ্ছন্ন গলায় বলে উঠলো,

-এভাবে লুকিয়ে কতদিন রাখবি? আমারই তো সবকিছু।

তক্ষুনি স্রোতের বিপরীতে গিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টালো প্রিসিলা। জহুরি গলায় বলে উঠলো,

তুমি জ্যাকভকে মেরে ফেলেছো তাইনা?

- ভয় পাচ্ছিস আমাকে?

- আমাকে দেখে কি মনে হচ্ছে?

- ইউ্য আর এফরেইড অফ জাস্ট ওয়ান মুভ অফ মাইন।

ইউ্য আর রং মিস্টার হাসবেন্ড!

প্রিসিলার কথায় নিজের একটা ভ্রু চোকা ভাবে উঁচিয়ে ফেললো ইয়াশ। ঠোঁট বাকিয়ে উপহাসের স্বরে বললো,

রিয়েলি?

এবার ইয়াশের কোলের উপরই সোজা হয়ে বসলো প্রিসিলা। দু'পা রেখে দিলো তার কোমরের দু'দিকে। চোখে চোখ রেখে ধা-রালো গলায় বললো,

আমার প্রিন্স চার্মিংয়ের দরকার নেই। আই ওয়ান্ট টু বি দ্যা উইকনেস অফ আ ভিলেইন। হু উড ডেসট্রয় দ্যা ওয়ার্ল্ড জাস্ট টু হ্যাভ মি।

প্রিসিলার বাক্য সম্পন্ন হওয়া মাত্রই ওকে সেই অবস্থাতেই কোলে তুলে সটান দাঁড়িয়ে পড়লো ইয়াশ। গ্রীবা নামিয়ে ঠোঁটের কাছে ঠোঁট নিয়ে হিসহিসালো,

এ্যান্ড আ'ম দ্যাট ভিলেইন। সহ্য করতে পারবি তো আমায়?

প্রিসিলা মূলত ইয়াশের মনোযোগ বিচ্যুত করার জন্যই নানাভাবে প্রসঙ্গ বদলাতে চেয়েছিল। কিন্তু একরোখা ইয়াশ যেন প্রতীজ্ঞাব-দ্ধ হয়ে এসেছে। প্রিসিলাকে এলোমেলো করেই ছাড়বে ও আজ। সহসা ছেলেটার এক কথায় বেলুনের মতো চুপসে গেলো প্রিসি-লার মুখ। তা দেখে ঠোঁট বাঁকালো ইয়াশ। গভীর শীতল গলায় আওড়ালো,

-ইউ্য কান্ট ম্যানিউপুলেট দ্যা ম্যানিউপুলেটর বেবস!

শুষ্ক একটা ঢোক গিললো প্রিসিলা। কুণ্ঠিত স্বরে প্রশ্ন করলো,

এবার তুমি কি করবে ইয়াশ?

যেটা আরও আগে করার কথা ছিল সেটাই।

কথাটা বলেই প্রিসিলা সমেত সোজা উপরে চলে গেলো সে। আজ বহুদিন বাদে প্রবেশ করলো নিজের ঘরে। ভেতরে ঢোকা মাত্রই স্বয়ংক্রিয় সেই যান্ত্রিক রমণী মিষ্টি গলায় অভিবাদন জা-নালো তাকে,

হোলা ইয়ং মাস্টার।

হোলাআআ!

আজকেই বোধ হয় জীবনে প্রথমবার রোবটটিকে বকাঝকা না করে, তার সঙ্গে শান্তভাবে বাক্যবিনিময় করেছে ইয়াশ। তার এই কাণ্ডে অবাক হলো প্রিসিলাও। চরম বিস্মিত হয়ে মুখ ফুটে বলতে যাবে কিছু সেই সুযোগটাও দিলো না ইয়াশ। তার আগেই ওকে ছু-ড়ে ফেললো শুভ্র চাদরে ঢাকা নরম বিছানার উপর। অতঃপর আলতো হাতে শার্টের বোতাম গুলো খুলতে খুলতে নিজেও এগি-য়ে গেলো সেদিকে। যেতে যেতেই গভীর স্বরে আওড়ালো,

- দ্যা মোর আই হাইড মাই ফিলিং, দ্যা মোর দে শো।

দ্যা মোর আই ডেনি মাই লাভ, দ্যা মোর দে গ্রো। আর এখন সব-কিছু আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তোকে ছাড়া আর এক মূহুর্তও সম্ভব নয় প্রিসিলা। নট আ সিঙ্গেল মোমেন্ট।

কথাগুলো বলতে বলতে প্রিসিলার দিকে ঝুঁকে আসতেই তাড়াহু-ড়ো করে উঠতে চাইলো মেয়েটা। সঙ্গে সঙ্গে ইয়াশ ওর হাত দু'টো মাথার উপরে তুলে কঠোর গলায় প্রশ্ন করলো,

কোথায় যাচ্ছিস?

- ইয়ে... না..মানে..

প্রিসিলা কাচুমাচু করছে অযথাই। তা দেখে দৃষ্টি শিথিল হয়ে গেলো ইয়াশের। নির্বিকারে ঝুঁকে এলো সে প্রিসিলার দিকে। প্র-থমে নীলাভ চোখে চোখ রাখলো। রেশমের মতো লম্বা চুলের ভাঁজে হাত বুলালো। অতঃপর ঠান্ডা শীতল গলায় বললো,

দেখতে পাচ্ছিস না কষ্ট হচ্ছে? আ'ম জাস্ট ক্রেডিং ফর ইউ্য!

কিন্তু পাপা তো তোমার উপর রেগে আছে। এই অবস্থায় আমরা এভাবে....

বাক্য সম্পন্ন করতে পারলো না প্রিসিলা। তার আগেই ওর রক্ত-কমল ওষ্ঠাধরে নিজের রুক্ষ ঠোঁটের নোঙ্গর ফেলে থামিয়ে দিলো ইয়াশ। সেভাবেই হিসহিসিয়ে বললো,

পাপা জানবে না।

ছোট্ট শব্দে প্রত্যুত্তর করে, মেয়েটার মোমের মতো পা দু'টো নিজ হাতের উপর তুলে নিলো সে। অন্যহাতে পকেট থেকে কিছু একটা বের করে আনলো। আলোআঁধারির মাঝেই প্রিসিলা খেয়াল করলো ওটা একটা ঝিনুকের পায়েল। কোনো বাক্যবিনিময় ছা-ড়াই সেটিকে প্রিসিলার কোমল পায়ে পড়িয়ে দিলো ইয়াশ। মুখ ফুটে বললো,

- অনেক আগেই পড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সুযোগ হয়নি।

অতঃপর মেয়েটাকে বুদ্ধিভ্রষ্ট বানিয়ে দিয়ে আচানক করে ফে-ললো অপ্রত্যাশিত একটা কাজ। হুট করেই পায়েল জড়ানো রিম-ঝিমে পা টিকে কাছে টেনে এনে ঠোঁট ছোঁয়ালো তার পাতায়। ইয়াশের অদ্ভুত কাণ্ডে অকস্মাৎ জমে গেলো প্রিসিলা। শুষ্ক একটা গিলে কম্পমান স্বরে আওড়ালো,

তোমাকে আমি এই ভাবে দেখতে অভ্যস্ত নই ইয়াশ।

অভ্যেস হয়ে যাবে।

ছেলেটার নির্বিকার প্রত্যুত্তর। পরপরই ওর জামায় হাত রাখলো সে। উদ্যত হলো টেনে তোলার প্রয়াসে। তখনই ফের ওর হাত-টাকে শক্ত করে চেপে ধরলো প্রিসিলা। এদিকওদিক মাথা নাড়ি-যে কাঁদোকাঁদো হয়ে বললো,

- আমার খুব ভয় করছে ইয়াশ। ইউ্য আর টু মাচ ডমিন্যান্ট।

তপ্তশ্বাস ছাড়লো ইয়াশ। শরীরের ভার ছেড়ে মেয়েটার দিকে আরেকটু ঝুকলো সে। অতঃপর গলার কাছে মুখ নামিয়ে অধৈর্য গলায় বললো,

কাম অন বেবস। অনেক গুলো দিন হয়ে গেছে। আই'হ্যাভ গি-ভেন ইউ্য মোর দ্যান এনাফ টাইম। এবার প্লিজ জামাটা খুলতে দে।

ইয়াশের এমন বালকসুলভ কাতরতায় দ্রবীভূত হতে লাগলো প্রি-সিলার মন। দ্বিধাগ্রস্ততা ভুলে শিথিল হলো কিছুট। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে অস্ফুট স্বরে জবাব দিলো,

ঠিক আছে। কিন্তু...

কোনো কিন্তু নেই!

প্রিসিলার বলতে বাকি একটানে ওর শরীর থেকে জামাটা খুলে ফেলতে দেরি হলোনা ইয়াশের। মেয়েটার নিরাবরণ মোমঢালা শরীরে জোৎলা রাতের তারকারাজির মতোই জ্বলজ্বল করছে একটা ব্ল্যাক লঞ্জেরি নাইটওয়্যার। যা দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গেলো ইয়াশের। নিজেকে যেন এক নিমেষে হারিয়ে ফেললো সে। নেশা-গ্রস্তের মতো জড়ানো গলায় প্রশ্ন করলো,

- কি পরেছিস এটা?

- ঘু.. ঘুমানোর জন্য পরেছি।

-ঘুমানোর জন্য এটা পরলে, আজ থেকে প্রতিরাতে তোর জন্য ঘুম হারাম হয়ে যাবে প্রিসি।

আচ্ছন্ন স্বরে কথাটা বলেই প্রিসিলার গলার ভাঁজে মুখ ডোবালো ইয়াশ। সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র শরীর জুড়ে আচানক এক তড়িৎ বয়ে গেলো প্রিসিলার। অলৌকিক এক সুখের যাতনায় চোখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে ফেললো সে। শক্ত হাতে খামচে ধরলো ছেলেটার পুরু-ষালি পৃষ্ঠদেশ। সরু নখের আঁচড়ে রক্তাক্ত করে ফেললো সেথায়। বারবার আকুতি করলো নমনীয়তার।

ইয়াশ শুনলো না সেসব। অবিন্যস্ততায় ব্যাস্ত তার দু'টো হাত। আজ সে পশুর মতোই বন্য। নিয়ন্ত্রণহীন, বেপরোয়া, বেলাগাম। তবুও প্রিসিলার মৃদু আর্তনাদে এক মূহুর্তের জন্য মুখ তুললো সে। হিসহিসিয়ে প্রশ্ন করলো,

- আমার ঠোঁটের পিয়ার্সড গুলো কি তোকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে? খুলে ফেলবো এগুলো? প্রিসিলা কোনো উত্তর দিতে পারলো না। চোখ দু'টো ভিজে আছে তার। কণ্ঠতালু শুকিয়ে কাঠ। নিবিড় ঘোলাটে চোখে শুধু তাকিয়ে রইলো ওই ধূসর বাদামি চোখের গভীরে। যেন মৌন প্রশ্রয়ে আন্দোলিত করে তুললো ইয়াশকে। সেই প্রশ্রয়ের সবটুকু প্রতিফল উশুল করার জন্যই বুঝি উন্মাদের ন্যায় চড়াও হয়ে উঠলো ইয়াশ। এক মূহুর্তের জন্য আর বিশ্রাম দিলোনা মেয়েটাকে। ফুরসত দিলোনা কথা বলার। বরং তার শরীরের সবটা জুড়ে নিজের সর্বগ্রাসী অস্তিত্ব লেপে দিতে দিতে অদ্ভুত মোহগ্রস্ত স্বরে আওড়ালো,

ইউ্য আর মাইন প্রিসি। সে ইট, টেল মি ইউ্য আর মাইন।

কষ্টের মতো অলৌকিক এক সুখের অত্যাচারে থরথর কাঁপছে তখন প্রিসিলা। চোখের কোণে অশ্রুজোয়ার। এলেমেলো মেয়েটা সেভাবেই নিজের সর্বস্ব সমর্পণ করলো অপ্রিয় অথচ সবচেয়ে কাছের মানুষটির নিকট। রুদ্ধশ্বাসে জানান দিলো,

---ইউওরস! আ'ম ইউওরস! অল ইউওরস!

প্রিসিই! এ্যাইই প্রিসি! প্রিসিইইলা!

অস্পষ্ট নারীকণ্ঠের প্রভাবে মাথাটা ঝিমঝিম করছে প্রিসিলার। মনে হচ্ছে কেউ একজন ওর নাম ধরে ডেকে যাচ্ছে ক্রমাগত। অথচ চোখের পাতা ভীষণ ভার। আঠার মতো লেগে আছে অক্ষি-পুট। মস্তিষ্কের সিগন্যাল এখনো ঠিকঠাক ভাবে পৌঁছায়নি শরীরে। তখনই ফের কর্ণকুহরে ঝঙ্কার তুললো আগন্তুক,

--- প্রিসিইলায়ায়া! এই প্রিসিলায়ায়া!

চলছে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন