সানফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া।
ভরা বর্ষার বিষণ্ণ রাত। খানিক বাদেই শেষ প্রহর আসন্ন, রাস্তার ধারের নাইটক্লাব সম্বলিত বারগুলো ব্যতীত আশেপাশের সবকিছুই থমকে আছে ভয়াবহ নিস্তব্ধতায়। বৃহদাকার পিচ ঢালা রাস্তাখানি একাকিত্বের হাত ধরে নিঃসঙ্গ বদনে অদূরে গিয়ে মিশেছে কোথাও।
ঘুমন্ত শহরের সেই নিঃসঙ্গ রাস্তার বুক ভেদ করে উর্ধ্বশ্বাসে এগিয়ে যাচ্ছে একটা কুচকুচে কালো মার্সিডিজ বেঞ্জ। গাড়ির গতিবিধি অনিয়ন্ত্রিত, ট্রাফিক পুলিশের খপ্পরে পড়লে জরিমানা আবশ্যক। তবে গাড়ির অভ্যন্তরের ব্যক্তিটি আদৌও সেই জরিমানার ধার ধারবে কিনা বলা মুশকিল। সে তো শাঁই শাঁই আওয়াজ করে এগিয়ে চলেছে। রীতিমতো বেপরোয়া, বিদ্যুৎ গতিতে। গন্তব্য প্রত্যয়ের সানফ্রান্সিসকো রেসিডেন্স।
প্রত্যয়ের ফ্ল্যাটটা বেশ বড়। ছোট্টখোটো এক ফুটবল মাঠ বলা চলে, তার ওপর ডুপ্লেক্স, নান্দনিক চারিপাশ। অনুর ডেলিভারি ডেট আসন্ন, এইতো কয়েক মাস পরেই। তাইতো মাস খানিক হলো এই ফ্ল্যাটে শিফট করেছে প্রত্যয়। অনাগত বাচ্চার জন্য যাবতীয় সুবিধা সরঞ্জাম এখন থেকেই সাজিয়ে রাখছে একটু একটু করে। এসব দেখলে ভালো লাগবে অনুর, মাতৃত্বের চরম মুহূর্তের পূর্বে কিছুটা ইতিবাচক মনোবল তৈরি হবে। কিংবা সারপ্রাইজও বলা যেতে পারে। কারণ, আজ সন্ধ্যার ফ্লাইটেই ইউএসএ ফিরেছে অনু।
অন্তঃসত্ত্বা আপার আগমনের সুসংবাদে অরুর খুশি যেন আকাশ ছুঁলো একলাফে। তার ওপর ডোরাকে নিয়ে এসেছে আপা। সহসা কোনো রূপ বাচবিচার না করেই, নিজের ছয় সপ্তাহের প্রেগন্যান্সি সিকনেসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একাই ছুটে গিয়েছিল এয়ারপোর্টে। আর তার পরপরই ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত অঘটন। এয়ারপোর্ট থেকে ফেরার পথে মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেচের ফলে রাস্তার মাঝে অকস্মাৎ চেতনা হারায় অরু। যদিও পরপরই ডাক্তারের ক্লিনিকে নেওয়া হয় ওকে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে নেদারল্যান্ডসে ক্রীতিকের করা কোনো এক অজ্ঞাত ভুলের পরিপ্রেক্ষিতে ওর পেলভিস এখনো বেশ ইঞ্জিউরড। ডাক্তার বলেছে শরীরে আয়রনের ঘাটতি প্রচুর, এছাড়া ফার্স্ট ট্রাইমেস্টারের হরমোনাল ইমব্যালেন্স তো রয়েছেই। ফলস্বরূপ একগাদা প্রেসক্রিপশন আর একবস্তা জরুরি নির্দেশনা কাঁধে নিয়ে নার্সিংহোম থেকে অবশেষে বাসায় ফেরে অরুরা।
শহরতলীর বাড়িটা ফাঁকা পড়ে আছে। অরু বাড়িতেই ফিরতে চেয়েছিল, তবে ক্রীতিক আপাতত শহরের বাইরে থাকার দরুন অনেকটা জোর খাটিয়ে ওকে বগলদাবা করে নিজের বাসায় ফিরলো অনু। সন্ধ্যা বেলায় ঘটে যাওয়া সুদীর্ঘ এই অঘটনের ইতি টেনে ওরা বাসায় তো পৌঁছেছিল ঠিকই, তবে প্রত্যয় ভয় পেয়েছিল খুব। অরুর অসুস্থতার কারণে নয়। ক্রীতিকের ক্রোধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গে জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবার ভয়।
ঘড়ির কাটা তখন রাত তিনটে ছুঁই ছুঁই। প্রত্যয়ের রেসিডেন্সে পৌঁছে লিফট পেল না ক্রীতিক। ইতিমধ্যে সাত তলা ক্রস করে আট তলার অভিমুখে এগিয়েছে যন্ত্রটি। ফলস্বরূপ এলিভেটরের প্রতীক্ষা না করেই এবার সবেগে বিপরীত প্রান্তে ছুটলো ক্রীতিক। জোর কদমে এগুলো সিঁড়ি ডিঙিয়ে। অবশেষে, ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গিয়ে কড়া নাড়লো সপ্তম তলার 7(A) এর দরজায়। জোরে জোরে হাত চালালো কলিং বেলের সেন্সরবোর্ডে। মুহূর্তেই খুলে গেলো শক্ত ধাতুর ভারিক্কি আস্তরণখানি।
ওপাশ থেকে দরজা খুলতে মোটেও বিলম্ব করলো না প্রত্যয়, যেন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বহুবার ঘটিয়েছে জায়ান ক্রীতিক, সেভাবেই অতি সাবলীল ভঙ্গিমায় দরজা খুলে প্রশ্ন ছুড়লো সে,
'লাস ভেগাসের সাত তারা হোটেলের উষ্ণ কামরায় শুয়ে ঘুমানোর কথা ছিল আপনার। অথচ আপনি এই মাঝ রাত্তিরে আমার ফ্ল্যাটে! আশ্চর্য!'
'ফ্ল্যাটের মধ্যে আমার প্রাণ ভোমরা আঁটকে রেখেছো। আবার জিজ্ঞেস করছো, কেন?'
দরজার নব ঘুরিয়ে প্রত্যয়কে পাশ কাটিয়ে নির্দ্বিধায় ভেতরে প্রবেশ করলো ক্রীতিক। পেছন ঘুরে প্রত্যয় জিজ্ঞেস করলো,
'ফিরলেন কী করে এতো রাতে?'
ঘরের চারিপাশে সচকিত দৃষ্টি বুলি জবাব দিলো সে,
'এমারজেন্সি ফ্লাইট ধরেছি।'
'আর টপনোচ ক্লায়েন্ট?'
'গোল্লায় যাক।'
'আপনার মাদার ইন ল জানে তো? শত হোক তার ভিআইপি ক্লায়েন্ট।'
'ফার্স্ট অফ অল মাদার ইন ল আমার নয় তোমার আগে। আর সেকেন্ডলি, হু কেয়ার'স এবাউট দ্যাট?'
পেছনে না ঘুরেই প্রত্যয়ের মুখের ওপর ভীষণ রুষ্ট আওয়াজ খানা ছুড়ে মারলো ক্রীতিক। অতঃপর এগোলো গেস্ট রুমের অভিমুখে। ভেজানো দরজা খানা সরালো আলতো হাতে, নিরেট পদচারণে এগিয়ে গেলো কিং সাইজ বেডটার কাছে। ঘরের মাঝে ডিম লাইটের নরম আলোর উপস্থিতি। সেই আলোতে দৃশ্যগত হলো এক ঘুমন্ত রমণীর সুশ্রী অবয়ব। মন্থর বেগুনি আভায় রক্তহীন ফ্যাকাসে লাগছে মুখটা, যেন ক্লান্তিরা সব ঠায় জমিয়েছে সেথায়। ক্রীতিকের রাগ হচ্ছে ভীষণ, পাশাপাশি মায়াও। অদৃশ্য এক যাতনায় নিশপিশ করছে অন্তরটা, যার দরুন খানিকক্ষণ মোহাবিষ্টের ন্যায় তাকিয়ে দেখলো সে, পরপরই বুক ভেদিয়ে ভারী এক দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে অগ্রসর হলো রমণীর নিকট।
কাছে, খুব কাছে, পৃথিবীর সবটুকু দূরত্ব খুঁচিয়ে হাঁটু ভেঙে বসলো ঘুমন্ত প্রেয়সীর শিয়রে। অতঃপর শোনা গেলো চিরচেনা সেই হাস্কি কণ্ঠস্বর।
'আমার ঘুম পরী, উঠে পরো। আমাদের ফিরতে হবে।'
কণ্ঠে আজ মাদকতা অনুপস্থিত, চূড়ান্ত কাতরতায় আচ্ছাদিত ভেজা কণ্ঠস্বর। অরু ঘুমিয়েছিল ঠিকই তবে অবচেতন নয়। ক্রীতিকের আওয়াজটুকু সংবেদনশীল ত্বকের শিহরণ ছাপিয়ে কর্ণকুহর ছুঁতেই ধরফরিয়ে ওঠে অরু, তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখদুটো মেলে সচকিত দৃষ্টি বোলায় এদিক-ওদিক। অরুকে বিচলিত হতে দেখে, ফের হিসহিসালো ক্রীতিক,
'রিল্যাক্স বেইবি। আমি এসেছি আমি, ডোন্ট প্যানিক, ওকে?'
ক্রীতিকের আশ্বস্ততায় শান্ত হলো অরু, তবে নিশ্চিন্ত হয়। যে মানুষটার লাস ভেগাসে থাকার কথা, সে এতো রাতে অনুদের ফ্ল্যাটে কী করছে? উত্তর জানা নেই। সহসা উদ্বিগ্ন গলায় প্রশ্ন করলো,
'আপনি এখানে!'
প্রত্যুত্তর করার প্রয়োজন বোধ করলো না ক্রীতিক, হীমশীতল আওয়াজে
আওড়ালো,
'একা একা বাড়ির বাইরে যাওয়ার স্বাদ মিটেছে এবার?'
অরু বুঝলো ক্রীতিকের অভিব্যক্তি। নিশ্চয়ই ওর অসুস্থতার কথা শুনে এভাবে ছুটে এসে মানুষটা, অথচ তার নিটোল অক্ষিযুগল রাগের তাড়নায় রক্তিম হয়ে উঠছে ক্রমাগত। এই মানুষটা নিজের অনুভূতি প্রকাশের বেলায় এতোটা কঞ্জুস কেন সবসময়? ভেবে পায় না অরু।
বেশ কিছু সময় ধরে নৈঃশব্দ্য বহমান। অগত্যা অরুর স্তম্ভিত মুখের পানে চেয়ে চোয়াল শক্ত করলো ক্রীতিক, গ্রীবাদেশ বাড়িয়ে ওর কানের লতিকায় অধর স্পর্শ করে ভীষণ রূঢ় স্বরে বললো,
'বাড়িতে চল, তোর খবর আছে আজ।'
গুটিয়ে গেলো অরু। চোরা চোখে বিছানার অপরপ্রান্তে দৃষ্টিপাত করে দম ফেললো একটুখানি, পরপরই গলার স্বর খাদে নামিয়ে উদ্বেগে বলে উঠলো,
'আমি কি করেছি? আশ্চর্য!'
'চুপ! একটা কথা বলবি তো জানে মে'রে ফেলবো।'
'আপনি রেগে আছেন...'
'চুপ্প!'
'আপন....'
বাক্য আর সম্পন্ন করার ফুরসত মিললো না অরুর, তার আগেই সিগারেট পোড়া রুক্ষ ওষ্ঠাধর জোড়া এসে হামলে পড়লো তার নরম ঠোঁটের ভাজে। ঠোঁট জোড়া উম্মাদ, চাতকের ন্যায় তৃষ্ণার্থ, তুলতুলে অধরখানির সবটুকু মিষ্টতা যেন এক নিমেষে শুষে নিতে মরিয়া সে। ব্যগ্রতায় খেই হারাবে ক্রীতিক, তার আগেই জোর হস্তে ওকে দূরে সরালো অরু। চোখমুখে রাজ্যের বিরক্তি ফুটিয়ে বললো,
'উমম, সিগারেটের গন্ধ। বমি করে দিবো তো, ভুলে গেলেন আমি প্রেগন্যান্ট? ডাক্তার বলেছে "বি কেয়ারফুল।'
'হোক বমি, তুই নিজে ভুলে যেতে পারলে, আমার এত মনে রাখার দায় কিসের? আমি তো তোর চেয়েও পাষণ্ড? নিজের অংশকে কষ্ট দিতে মোটেও অপারগ নই আমি।'
'রাগ করে আছেন?'
'কি মনে হয়?'
'কতোটা রাগ?'
'তোকে কষ্ট দিয়ে রক্তা'ক্ত করে ফেলার মতো।'
গমগমে ক্রুদ্ধস্বর ক্রীতিকের। বারংবার স্বামীর তরফ থেকে রেড এলার্ট আসায় মাথাটা ভনভন করছে অরুর। সে স্তব্ধ নির্বিকার। নিজের কর্মকাণ্ডে নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করলো এবার। অসহায় কণ্ঠে শুধালো,
'সন্ধ্যার ঘটনার জন্য রাগ করেছেন তাই না? আসলে তখন মাথায়....'
আবারও মাঝপথে রোধ হলো বাক্য। শক্ত হাতের থাবা এসে হামলে পড়লো চিবুকে, কানে এলো বেগবান ক্রুদ্ধস্বর,
'আমার বাচ্চার কিছু হলে তোর খবর আছে অরু, আই রিপিট মে'রে ফেলবো তোকে।'
'আপনি টক্সিক, পরিস্থিতি বুঝতে চান না। আমি কি....'
'এই চুপ্প, কথা বাড়াবি না একদম। নেদারল্যান্ড বসে ডাক্তার বেড রেস্ট দিয়েছিল তোকে, এত সহজে ভুললি কি করে? ইভেন তোর অসুস্থতার কারণে গত সপ্তাহে প্রাইভেট জেটে করে ইউএসএ ফিরেছি আমরা। তারপরেও এই শরীর নিয়ে একা একা বাইরে বের হওয়ার স্পর্ধা দেখালি কোন সাহসে? নিজের শরীরের প্রতি আদৌও বিন্দুমাত্র কেয়ার আছে তোর?'
সারাদিনের ধকল শেষে অসুস্থ শরীর আর ক্লান্ত মস্তিষ্কটা এত বকাঝকা নিতে পারলে না অরুর। নিষ্প্রাণ চোখের কোটর দুটো সিক্ত হলো নোনাজলে। বোধহয় খুব শীঘ্রই বাঁধভাঙা তীব্রতায় গড়িয়ে পড়বে সেগুলো। ক্রন্দনরত অরুকে দেখে ফের জ্বলে উঠলো ক্রীতিক,
'ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদবি না একদম। তোর অন্যায়ের শাস্তি আমি চাইলেও দিতে পারবো না এখন।'
ক্রীতিকের কথা শেষ হতে না হতেই তিরিক্ষি আওয়াজে প্রত্যুত্তর করলো অরু,
'কাঁদবো, একশো বার কাঁদবো কি করবেন? আমার এই অবস্থার পেছনে আপনি দায়ী। আপনার অতিরিক্ত ভালোবাসার ফল এসব। আপনি নিজের রাগ, মেজাজ, অস্থিরতা এসব সংযত করলে আজ এই অবস্থা হত না আমার।'
বরাবরই এই একটা ভুলের গ্লানিতে ডুবে মরে ক্রীতিক, গতিহীন হয়ে পড়ে কথার বহর। চাইলেও নিজের ক্রোধান্বিত সত্তাটাকে আস্কারা দেওয়ার সুযোগ হয় না আর, ফলস্বরূপ উঠে দাঁড়ায় ক্রীতিক। আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দু'হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নেয় বিড়ালছানার ন্যায় নাজুক বউটাকে। কণ্ঠনালি ভেদ করে ধ্বণিত হয় শান্ত নির্লিপ্ত আওয়াজ,
'কাঁদেনা জান। চল বাড়িতে ফিরে যাই, তোর রেস্টের প্রয়োজন।
নির্বিকারে স্বামীর চওড়া কাঁধের আস্তরণ ছাপিয়ে তার পুরুষালি গ্রীবাদেশ বাহুবন্ধী করে নেয় অরু, অথচ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে হেঁচকি তুলে অভিমানী স্বরে বলে,
'এখানেই ঠিক আছি, যাবো না কোথাও।'
অরুর সরু ঘাড়টাকে হাতের সাহায্যে চেপে ধরে নিজের দিকে ঘোরায় ক্রীতিক, নেত্রদ্বয়ের মিলন ঘটিয়ে কঠোর স্বরে বলে ওঠে,
'আমি বলেছি যেহেতু ফিরবো, তার মানে ফিরবোই।'
ক্রীতিকের চোখে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, সে দিকে একপল চেয়ে ভড়কালো অরু, কণ্ঠতালুর শুষ্কতায় অচিরেই বললো,
'পানি খাবো।'
'বাসায় গিয়ে।'
'আর ডোরাকে....'
'প্রত্যয়কে বলবো দিয়ে আসতেবাড়ি ফিরতে ফিরতে ঘড়ির কাটা চারটায় গিয়ে ঠেকেছে। আরেকটু পড়েই পুব আকাশে উঁকি দিবে নব্য ঊষার আদুরে আলো।
মুখ ভার করে কাউচে বসে আছে অরু। একটু বাদেই কিচেন থেকে ওয়াটার পট নিয়ে লিভিংয়ে হাজির হলো ক্রীতিক। অরুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
'পানি।'
'তৃষ্ণা মিটে গেছে।'
ছদ্ম অভিমান নিয়ে অন্যদিকে ঘুরলো অরু। বউ রাগ করেছে, ব্যাপারটা বোধগম্য হতেই অধৈর্য ক্রীতিক বসে গেলো ধৈর্য পরীক্ষা দিতে। অরুর মুখোমুখি হাঁটু ভেঙে বসে নরম স্বরে বললো,
'মুড সুইং হচ্ছে? চকলেট খাবি? ডার্ক চকলেট?'
অরু মাথা নাড়ায়। তেজ দেখিয়ে বলে,
'আপনি এমন কেন?'
'কেমন?'
'বাইরে সবার সামনে এক, ভেতরে আমার সামনে আরেক। আজ রাতটা আপার বাসায় থাকলে কি এমন ক্ষতি হতো?'
তপ্তশ্বাস ছেড়ে চোখ তোলে ক্রীতিক। স্পষ্ট মসৃণ কণ্ঠে বলে,
'আমার অনুপস্থিতিতে ঘর থেকে কেন বেড় হলি? এখন যদি আমি তোকে মারি?'
'সত্যিই মারবেন?'
'উত্তর না দিলে সত্যিই মারবো।'
অকপটে জবাব দিলো ক্রীতিক।
'আমার আপা এসেছে।'
'সো হোয়াট!'
গর্জে উঠলো ক্রুদ্ধপ্রাণ। একমূহুতে অভিব্যক্তি পাল্টালো সে। তার তীক্ষ্ণ চাওনিতে চুপসে গেলো অরু। মুখ কাঁচুমাচু করে বললো,
'আপনি এখনো আগের মতোই আছেন, অসভ্য, উগ্র, বেপরোয়া জায়ান ক্রীতিক।'
'এখন আর ভালো লাগেনা আমাকে?'
'লাগে তো, কিন্তু আপনি বড্ড বেপরোয়া, বেলাগাম।'
'শুয়ে পর।'
ক্রীতিকের অকস্মাৎ বাক্যে হকচকালো অরু। এদিক-ওদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে
শুধালো,
'এখানে?'