#১৫_বছর_বয়সী_মা (০১)
#সোফিয়া_সাফা
“আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ, আমার সাথে এমনটা করবেন না! আমাকে যেতে দিন, আমি মায়ের কাছে যাব।”
মেয়েটির কান্না শুনে আলভী মেয়েটির কোমর চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে আনল। মেয়েটি আলভীর লাল লাল চোখদুটো দেখে কান্নার বেগ বাড়িয়ে দিল।
“আপনি... আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আমার খুব ভয় করছে।”
মেয়েটির চোখে পানি দেখে আলভী স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল। সে মেয়েটিকে ছেড়ে দুপা পিছিয়ে গেল। আলভী কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু গলা পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ায় কথা বের হচ্ছে না। আলভী অনেক কষ্ট করে বলে ওঠে, “অ... অলি, তুমি এখানে কী করছো? তুমি এখন যাও প্লিজ, আমি সঠিক কন্ডিশনে নেই। প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো, তুমি যাও।”
অলি উপায়ান্তর না পেয়ে মেঝেতে বসেই চিৎকার দিয়ে উঠল, “কীভাবে যাব? দরজা যে বন্ধ!”
আলভী নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে অলিকে টেনে কোলে তুলে নেয়।
“আপনি কেন এমনটা করছেন? প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন!”
অলি আলভীকে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে কিল-ঘুষি দিতে লাগল। কিন্তু আলভীর মতো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষালি শক্তির সামনে তার শিশু-শক্তি নিতান্তই তুচ্ছ বলে গণ্য হলো। আলভী এবার বিরক্ত হয়ে অলিকে খাটের ওপর ছুড়ে মারল। তারপর নিজেও অলির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে নিজের শার্টের বোতাম খুলতে লাগল।
“আমার সাথে এমন করবেন না, পায়ে পড়ি! আমি বাঁচতে পারব না।”
কাঁদতে কাঁদতে অলির অবস্থা খুবই খারাপ, মেয়েটা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। কিন্তু অলির কান্নার আওয়াজ এখন আর আলভী শুনতে পাচ্ছে না। সে তো তাকিয়ে আছে অলির গোলাপি ঠোঁটজোড়ার দিকে, যেগুলো এই মুহূর্তে তাকে পাগল করার জন্য যথেষ্ট ছিল। আলভী নিজের গায়ের শার্টটা খুলে ফেলে দিয়ে অলির পা ধরে নিজের দিকে টেনে আনল। অলি আর কিছু বলার আগেই আলভী অলির ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে নিল। প্রচণ্ড ঘৃণায় অলি আলভীর ঠোঁটে কামড় দিয়ে বসল। আলভী ভীষণ রেগে গেল। সে অলিকে ছেড়ে দিয়ে নিজের ঠোঁটে লেগে থাকা রক্তটুকু তর্জনী আঙুলে নিয়ে চোখ কটমট করে অলির দিকে তাকায়। অলি কিছু বলতে চাইলে আলভী অলিকে খাটের সাথে চেপে ধরে রাগান্বিত স্বরে বলল, “ইউ লিটল হানি-বি! তোমার কী মনে হয়, তুমি আমার সাথে পারবে?”
“আমাকে ছেড়ে দিন, হাত জোড় করছি।”
“নট টুডে। চলো হানি-বি, কম্পিটিশন করি যে কে কাকে কত বেশি বাইট করতে পারে!”
বলেই একটা শয়তানি হাসি দিয়ে আলভী অলির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আলভীর এলোমেলো স্পর্শে ছোট্ট অলি ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার দিয়ে উঠছিল। কিন্তু বাইরের সাউন্ডবক্সের শব্দে অলির সেই চিৎকারগুলো পুরোপুরিভাবে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছিল। এভাবে চিৎকার করতে করতে একপর্যায়ে অলি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সেই সুযোগে আলভী বিনাবাধায় পুরোপুরিভাবে অলির মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
রাত আড়াইটা বাজে। তিন তলা বিশিষ্ট বিশাল বাড়িটার চারপাশে করা লাইটিংগুলোই জানান দিচ্ছে আজ এই বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান। বাড়ির ভেতরের আবহাওয়া বেশ গরম। কিছুক্ষণ আগেই এই বাড়ির বড় মেয়ে তিশার মেহেন্দি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটেছে। বাড়িতে থাকা প্রত্যেকটা রুম মহিলাদের দখলে হওয়ার ফলস্বরূপ ছেলেদের ড্রয়িংরুমের মেঝেতেই বিছানা পেতে শুতে হয়েছে। ড্রয়িংরুমে সবাই বেঘোরে ঘুমোচ্ছে।
কারও নাক ডাকার শব্দ কানে পৌঁছাতেই অলি চোখ মেলে তাকায়। আশেপাশে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করে যে সে এখন কোথায় আছে। অলি ডান পাশে ঘুরতেই আলভীর চেহারা দেখে চিৎকার দিতে যাবে, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নেয়।
‘এই লোকটার ঘুম ভেঙে গেলে আবারও আমার সাথে খারাপ কাজ করবে!’ ভাবতেই অলি কেঁদে ওঠে। সে নিজের ওপর থেকে আলভীর হাত-পা সরিয়ে উঠে বসতেই কমফোর্টারটা সরে যায়।
অলি কান্নাভরা চোখে আশেপাশে তাকিয়ে নিজের জামাকাপড় খুঁজতে লাগল। সে দেখল সেগুলো নিচেই পড়ে আছে। অলি নিজের চোখজোড়া মুছে একটা শ্বাস টেনে খাটের বাইরে পা রাখতেই সমস্ত শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। সেসব সাইডে রেখে সে নিজের কাপড়গুলো তুলে নিল। দ্রুত হাতে কাপড়গুলো পরে আলভীর দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। সে দরজায় হাত দেওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে দরজাটা আপনা-আপনিই খুলে গেল। দরজার অন্য পাশে থাকা ব্যক্তিটিকে দেখে অলি প্রচণ্ড পরিমাণে ভয় পেয়ে যায়। সামনে থাকা ব্যক্তিটি অলিকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে টানতে টানতে কোথাও নিয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে আসমা বানুর ঘুম ভাঙতেই সে নিজের মেয়েকে খুঁজতে লাগল। অন্য পাশে থাকা নিজের স্বামীর দিকে তাকিয়ে দেখল সে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে।
‘আমার মেয়েটা কোথায় গেল? এখনো আসল না কেন? গানবাজনা শেষ হয়েছে তো অনেকক্ষণ হয়ে গেল।’ মনে মনে কথাগুলো বলতে বলতেই আসমা বানু খোলা দরজাটার দিকে তাকায়। কিছুক্ষণ ভাবনা-চিন্তা করে দরজা দিয়ে বের হতেই অলি এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। অলির এহেন কর্মকাণ্ডে আসমা বানু ঘাবড়ে যান।
“কী হয়েছে মা? কোথায় ছিলি এতক্ষণ?”
অলি সবকিছু বলতে চাইলেও বলে উঠতে পারে না। উল্টো কান্না করতে লাগে। আসমা বানু অলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, “কী হয়েছে অলি, কাঁদছিস কেন? কোথায় ছিলি তুই?”
অলি মাকে ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে নিজের চোখ মুছে হাসার চেষ্টা করে বলে, “মা, আমি ড্রয়িংরুমের সোফাতেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। আর তুমি তো জানোই আমি একা ঘুমাতে পারি না। তাই ঘুম ভাঙতেই আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
আসমা বানু অলির বাচ্চামো কথায় মুখে হাসি টেনে বলে ওঠেন, “তখন থাকতে চেয়েছিলি কেন বলতো? আমি তো জানি তুই বেশি রাত অবধি জেগে থাকতে পারবি না।”
“সরি মা, আমার ভুল হয়ে গিয়েছিল। আমি আর কক্ষনো তোমাকে ছাড়া কোথাও থাকব না।”
চারপাশে অন্ধকারের মাঝে দু-একটা ডিম লাইট জ্বলছে। সেই আলোতে আসমা বানু অলির চোখের পানি দেখতে পাচ্ছিলেন না। মেয়েটা বিনাশব্দে কান্না করছে। আসমা বানু অলির হাত ধরে রুমের ভেতরে নিয়ে গেলেন। তারপর অলিকে নিজের অন্যপাশে শুইয়ে দিয়ে বললেন, “আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি, তুই ঘুমা।”
অলি হাতের উল্টো পিঠে নিজের চোখের জলগুলো মুছতে মুছতে মনে মনেই বলল, ‘আমি আর ঘুমাতে পারব না মা, আমার ভীষণ ভয় করছে। আমি তোমাকে কিছু বলতেও পারলাম না মা, আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও।’
সকাল সাড়ে আট’টার দিকে আলভীর ঘুম ভাঙল। সে ফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখে নিল। তারপর আড়মোড়া ভেঙে খাট থেকে নামতেই নিজেকে কাপড়বিহীন আবিষ্কার করে বড়সড় ধাক্কা খেল। সে এতটাই চমকে গেছে যে রিঅ্যাকশন দিতেই ভুলে গেছে। এরই মাঝে তার রাতের কিছু কিছু কথা মনে পড়তে লাগল। আলভী দ্রুতগতিতে ফ্লোর থেকে নিজের কাপড়গুলো তুলে গায়ে পরে নিল। তারপর ধপ করে খাটের ওপর বসে পড়ল।
“এসব কী করে হলো?”
আলভী মাথা চেপে ধরে বসে রইল। তার প্রচণ্ড পরিমাণে মাথাব্যথা করছে।
“রাতে কী হয়েছিল আমার সাথে?”
আলভী আশেপাশে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে লাগল। খাটের ওপর থেকে কমফোর্টারটা সরাতেই আলভীর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। বিছানার মাঝে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ, তার পাশেই একটা নূপুর পড়ে আছে। আলভী নিজের চুল টেনে ধরে বিড়বিড় করল, “এটা আবার কার নূপুর? এখানেই বা আসল কেমন করে?”
সে নিজের হাত-পা চেক করে দেখতে লাগল, কিন্তু তার হাত-পা ঠিকঠাকই আছে।
“আমার তো কোথাও কেটে যায়নি! তাহলে... তাহলে এত রক্তই বা কোত্থেকে আসল?”
আলভী রেগেমেগে কমফোর্টারটা ছুড়ে ফেলে দিল।
“রাতে আমার সাথে একটা মেয়ে ছিল সেই ব্যাপারে আমি সিওর। কিন্তু কে ছিল? আর রাতে আমারই বা কী হয়েছিল? আমি কী করেছি মেয়েটার সাথে? আর কেনই বা করেছি? শিট! আমার কিছু কেন মনে পড়ছে না?”
আলভী বিরক্ত হয়ে খাটের ওপর বসতেই তার মা শাহনাজ বেগম আলভীর রুমে প্রবেশ করেন। তাকে দেখে আলভী তড়িঘড়ি করে রক্তের দাগগুলোর ওপরেই বসে পড়ে। এদিকে শাহনাজ বেগম এসে আলভীকে জাগ্রত অবস্থায় দেখে বেশ অবাক হলেন।
“কী ব্যাপার! আজকে সূর্য কোন দিক দিয়ে উঠল শুনি? আমার লাটসাহেব ছেলেটা সাত সকালে কারো সহায়তা ছাড়াই জাগ্রত হলো কীভাবে?”
আলভী একটা শ্বাস ফেলে মায়ের দিকে তাকাল। শাহনাজ ছেলের চেহারা দেখে থতমত খেয়ে গেলেন। মায়ের এরকম চাহনি দেখে আলভীও ঘাবড়ে গেল। শাহনাজ বেগম কিছু বলার আগেই ঊর্মিলা দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল।
ঊর্মিলা কারও দিকে না তাকিয়েই বলতে লাগল, “মা তুমি এখানে? আর আমি তোমাকে সারাবাড়ি খুঁজছি। তারপর ভাবলাম তুমি তো আবার তোমার ছেলে বলতে অজ্ঞান, তাই ঘুরে ফিরে এখানেই চলে এলাম। মা, আমি আমার লাল রঙের জামাটা পাচ্ছি না, তুমি একটু খুঁজে দেবে প্লিজ?”
শাহনাজ বেগম এখনো আলভীর দিকেই তাকিয়ে আছেন। ঊর্মিলা মায়ের দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজের ভাইয়ের দিকে তাকাতেই খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। আলভী ঊর্মিলাকে হাসতে দেখে ভীষণ রেগে যায়।
“সকাল সকাল দাঁত দেখাচ্ছিস কেন? তুই যে পেত্নী, তা দাঁত না দেখালেও বুঝতে পারে সবাই।” আলভীর কথা শুনে ঊর্মিলার হাসি থেমে গেল।
“মা দেখলে? দেখলে তোমার লাটসাহেব ছেলে আমাকে কীভাবে বলল! শোন ভাইয়া, তুই নিজের চেহারাটা আয়নায় গিয়ে দেখ, আমাকে পেত্নী বলা! তোকে একদম কানকাটা বানরের মতো দেখাচ্ছে। ছ্যাহ ছ্যাহ ছ্যাহ! তোর মেহেন্দি দিতে ইচ্ছা করেছে তুই আমাকে বলতে পারতি, আমি তোকে দিয়ে দিতাম। আমি যদিওবা মেহেন্দি দিতে পারি না, কিন্তু এর থেকে তো ঢের ভালো পারতাম!”
“আমি মেহেন্দি দেবো কেন? ছেলেরা মেহেন্দি দেয় না বুঝলি? তোর মতো পেত্নীগুলোই দেয়।”
ঊর্মিলা আবারও হেসে উঠল। আলভী শুধু পারছে না বসা থেকে উঠে গিয়ে ঊর্মিলার গালে ঠাটিয়ে চড় মেরে দিতে। তাকে নিয়ে হাসা, তাই না!
“বের হ এই রুম থেকে, নইলে তোর দাঁত আমি ভেঙে ফেলব।”
“তুই চাইছিস তোর চেহারার এই অবস্থা দেখেও আমি চুপ করে থাকব? নো ভাইয়া! আচ্ছা ওয়েট ১ মিনিট, তোর লজ্জা করল না এভাবে সারামুখে মেহেন্দি মেখে বসে থাকতে? তোর মেহেন্দি এত পছন্দ আমি সত্যিই জানতাম না রে, নইলে তিশা আপুকে বাদ দিয়ে আগে তোকে মেহেন্দি পড়ানোর ব্যবস্থা করতাম।”
আলভী ঊর্মিলার কথা শুনে তব্দা খেয়ে গেল। কিন্তু সে বসা থেকেও উঠতে পারছে না।
“মা, তোমার মেয়েকে নিয়ে যাও তো, নইলে আমি কিন্তু ওর মাথার সব চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলব। আমার সাথে মশকরা করা!”
চলবে,,,