#১৫_বছর_বয়সী_মা (০৬)
#সোফিয়া_সাফা
“আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না, আপনার চেহারা দেখলেও আমার বমি আসে।” অলির কথা শুনে আলভী অলিকে রেলিংয়ের সাথে চেপে ধরল।
“আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে না বুঝলে? তুমি যদি ভেবে থাকো তুমি যা ইচ্ছা তাই বলবে আর আমি তোমাকে কিছুই বলব না, তাহলে তুমি ঠিকই ভেবেছ।”
আলভীর কথা শুনে অলি থতমত খেয়ে গেল। বলে কী এই লোকটা!
“চুপচাপ দাঁড়াও প্লিজ, আমি একটু পর চলে যাব। তার আগে আমি তোমাকে কিছু কথা বলে যেতে চাই।”
অলি এবার স্থির হয়ে দাঁড়াল, তবে আলভীর দিকে তাকাল না। লোকটার চেহারার দিকে তাকানোর সাহস তার হয়ে উঠছে না; আলভীকে এই মুহূর্তে খুবই ভয়ংকর দেখতে লাগছে।
অলি স্থির হয়ে দাঁড়াতেই আলভী কয়েকটা শ্বাস ফেলে নিজেকে ধাতস্থ করে অলির দিকে শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। অলির পরনে ব্ল্যাক কালারের লেহেঙ্গা, যেটা মূলত বিয়ে উপলক্ষে অলির বাবা কিনে দিয়েছিলেন। কানে ম্যাচিং ইয়ারিং আর হাতে চুড়ি ছাড়া আর কোনো অর্নামেন্টস নেই।
অলির লম্বা কালো চুলগুলো এক সাইডে বেণী করে সামনে এনে রাখা। অলি গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ। আলভী বেশ অনেকক্ষণ অলির দিকে তাকিয়ে রইল।
“আপনার তাকিয়ে থাকা হয়ে গেলে আমাকে যেতে দিন।”
আলভী একটা শ্বাস ফেলে অন্যদিকে তাকিয়ে নিজের চুলে হাত চালাতে লাগল; তার ভীষণ খারাপ লাগছে। মেয়েটা তাকে বুঝতে পারছে না, একদমই বুঝতে পারছে না যে ২৮ বছর বয়সী আলভী তাসনীম মির্জার জীবন-ম'রণ এখন মেয়েটির হাতেই। আলভী কীভাবে বোঝাবে তার মনের অবস্থা?
অলি আড়চোখে একবার আলভীর দিকে তাকাল—লোকটার চুলগুলো এলোমেলো, ফর্সা চেহারা রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। লোকটার উচ্চতা ৬ ফুটের নিচে হবে না। গায়ে ব্ল্যাক কালারের স্যুট পরা, হাতে ব্র্যান্ডের ঘড়ি। আলভী অন্যদিকে তাকিয়ে আছে আর অলি রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে; তারা পাশাপাশিই দাঁড়িয়ে আছে। বেশ কিছুক্ষণ পর আলভী নিজের পকেট থেকে একটা কাগজের টুকরো বের করে অলির হাতে গুঁজে দিলে অলি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আলভীর দিকে তাকায়।
“এটা আমার ফোন নম্বর, রেখে দাও।” আলভী বলার সাথে সাথে অলি কাগজটা ফেলে দিল।
আলভী বিরক্তি নিয়ে কাগজটা কুড়িয়ে নিল। তারপর অসহায় কণ্ঠে বলে উঠল, “প্লিজ, এটা নিজের কাছে রাখো। যদি কোনোদিনও নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করো বা যদি কখনো আমাকে প্রয়োজনবোধ করো, তাহলে আমাকে একবার কল দিও। আমি সব রকম পরিস্থিতিতে তোমার পাশে থাকব।”
আলভী অলির হাতে পুনরায় কাগজটা গুঁজে দিল। অলি আবারও কাগজটা ফেলে দিতে গেলে আলভী গম্ভীর কণ্ঠে বলে ওঠে, “কাগজটা ফেলেই দেখো, আমি এক্ষুনি গিয়ে সবাইকে বলে দেব যে আমি তোমাকে ধ/র্ষ/ণ করেছি। আর আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।”
আলভীর কথা শুনে অলি কাগজটা ফেলতে পারল না। আলভী কিছু একটা ভেবে বলে ওঠে, “আমাকে প্রমিস করো কাগজটা তুমি যত্ন করে নিজের কাছেই রাখবে, কখনোই ফেলে দেবে না।”
অলি তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, “আমি প্রমিস করব কেন? আপনি চলে গেলেই আমি এটা ফেলে দেব।”
“তুমি এক্ষুনি প্রমিস করবে, আর নইলে আমি সবাইকে গিয়ে বলে দেব।”
অলি চমকে তাকাল। লোকটা তো ভারী ডেঞ্জারাস! ঠিকই তার দুর্বলতাটা বুঝে ফেলেছে।
“আপনি কী ভাবছেন এসব বললে আপনার সম্মান বেড়ে যাবে?”
“আমার তো সম্মানের প্রয়োজন নেই, সম্মানের প্রয়োজন তোমার আছে। আমার শুধু তোমাকেই প্রয়োজন। তুমি প্রমিস করবে কি না বলো?”
অলি আলভীর কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করল কিন্তু বুঝতে পারল না। কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করল, “আমাকে আপনার কেন প্রয়োজন?”
আলভী বলতে গিয়েও বলতে পারল না। এসব বলেও কোনো লাভ নেই কারণ অলি তাকে ঘৃণা করে।
“জাস্ট প্রমিস করো।”
অলি কপাল কুঁচকে আলভীর দিকে তাকিয়ে রইল। আলভী প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে বলল, “ইউ হ্যাভ অনলি ৫ সেকেন্ডস, প্রমিস করো!”
অলি উপায়ান্তর না পেয়ে প্রমিস করেই ফেলল।
“আচ্ছা, প্রমিস করলাম কাগজটা আমি রেখে দেব। এখন যেতে দিন আমাকে।”
আলভী রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতেই অলি দরজা পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় আলভীর দিকে তাকাল। আলভী একদৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
অলি দৃষ্টি ফিরিয়ে পা ফেলে নিচে নেমে গেল। পেছনে রেখে গেল আলভীকে। আলভী রেলিংয়ে পিঠ ঠেকিয়ে প্যান্টের পকেট থেকে অলির নূপুরটা বের করল। যদিও সে এটা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এনেছিল, কিন্তু সে দিতে পারল না। এটা দিয়ে দিলে তার কাছে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
আলভী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নিচে নেমে এল, তারপর নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিল। আলভীর বাবা উসমান মির্জা আজকে সকালেই এসেছেন। ঊর্মিলা সারাটি ক্ষণ বাবার সাথে সাথেই থেকেছে আর মায়ের নামে নালিশ করেছে।
দিহান সবার অগোচরে ঊর্মিলাকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করে গেলেও কাজের কাজ কিচ্ছুটি হচ্ছে না।
বিকেলের দিকেই মির্জা পরিবারের সবাই নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আলভী অবশ্য আসার সময় অলিকে একবার দেখে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু মেয়েটা তার সামনেও পড়েনি।
এদিকে আসমা বানু বোনের অবস্থা খারাপ দেখে আরও দুদিন থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অলির অবশ্য এখন আর থাকতে অসুবিধা নেই; আলভী নামের শয়'তান ছেলেটা চলে গেছে।
অন্যদিকে উসমান মির্জা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না যে তারা আজকেই কেন চলে এল। তারা তো পূর্বে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তিশার বৌভাত অ্যাটেন্ড করেই তারা বাড়িতে ফিরবে। আলভী কার ড্রাইভ করছে, পাশের সিটে দিহান আর পেছনের সিটে ঊর্মিলা, উসমান মির্জা আর শাহনাজ বেগম বসেছেন।
“আমি বুঝতে পারছি না যে হঠাৎ তুমি চলে এলে কেন?” উসমান মির্জার কথার প্রেক্ষিতে শাহনাজ বেগম কিছু মুহূর্ত চুপ থেকে বলে উঠলেন, “সবকিছুর কারণ খুঁজতে নেই। আমি গতকালকেই চলে আসতাম, শুধুমাত্র বিয়েটা সামনে রেখে আসতে পারিনি।”
ঊর্মিলা চুপচাপ বসে আছে। সেও জানে কোনো না কোনো গন্ডগোল হয়েছে, সেই জন্যই তার মায়ের মুড ঠিক নেই। আলভী তো বিনাবাক্যে গাড়ি চালাচ্ছে। তার অলিকে রেখে আসতে মন চাইছিল না কিন্তু এছাড়া কিছুই করার নেই। অলির কাছাকাছি থাকলে তার প্রতি আলভীর ফিলিংসগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যেগুলো পরবর্তীতে সে নিজেই কন্ট্রোল করতে পারবে না। তার চেয়ে অলিকে অলির মতো থাকতে দেওয়া বেটার অপশন ছিল। আলভীও এই সুযোগে মেয়েটাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে।
তিশার বৌভাত শেষে অলিও নিজের ফ্যামিলির সাথে নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসে। অলি আজ বাড়িতে একাই আছে। তার মা আসমা বানু একটা পেস্ট্রি শপে কাজ করেন আর বাবা লিয়াকত হোসাইন ব্যাংকে কাজ করেন। অলিও এই সময়টাতে স্কুলেই থাকে, তবে এখন শীতকালীন ছুটি চলছে। আগামীকালকেই এই ছুটি শেষ হয়ে যাবে। তারপর থেকে আবারও অলি স্কুল অ্যাটেন্ড করবে আর ভালো করে পড়াশোনা করে সামনের বছরের এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশন নেবে। সে আস্তে আস্তে সেই রাতের কথা ভুলে যেতে চাইছে কিন্তু পারছে না। সে পারছে না সেসব ভুলে যেতে। সে সেদিন রাতেই ঠিক করে নিয়েছিল যে সে সবাইকে আলভীর ব্যাপারে সত্যিটা বলে দেবে। বলে দেবে যে আলভীকে উপরে উপরে ভালো মানুষের মতো দেখালেও সে একজন রে/পি/স্ট। কিন্তু অলি সেসব বলতে পারেনি। এমনকি নিজের মায়ের সাথেও শেয়ার করতে পারেনি। কেন পারেনি? কারণ আলভীর মা—সেই রাতে আলভীর মা-ই দরজা খুলেছিলেন। অলি নিজের রুমে বসে ভাবতে লাগল যে সেই রাতে কীভাবে শাহনাজ বেগম তাকে উল্টোপাল্টা কথা শুনিয়েছিলেন।
অতীত...
সেদিন হঠাৎ করেই আড়াইটার দিকে শাহনাজ বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি পানি খাওয়ার জন্য উঠে দেখলেন জগে পানি নেই। তার পাশেই ঊর্মিলা গভীর ঘুমে মগ্ন। শাহনাজ বেগম কিচেনে এসে পানি খেয়ে নিজের রুমে ফিরে আসার সময় ভাবলেন আলভীকে একবার দেখে যাবেন। ঊর্মিলা বলেছিল আলভীর শরীর ভালো নেই বলে সে নাকি মেহেন্দি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই রুমে চলে গিয়েছিল। এসব ভেবেই আলভীর রুমের দরজার সামনে আসতেই তিনি চমকে যান, কারণ আলভীর রুমের দরজা বাইরে থেকেই লক করা ছিল। শাহনাজ বেগম কৌতূহলবশত দরজা খুলতেই অলিকে আলভীর রুমে দেখে বড়সড় একটা ধাক্কা খেলেন। তিনি যতদূর জানেন তার ছেলে এরকম নয়। তাহলে নিশ্চয়ই এই মিডল ক্লাস ফ্যামিলির মেয়েটাই তার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এসব ভেবেই শাহনাজ বেগম প্রথমে অলিকে বিশ্রী ভাষায় কতগুলো গালি দিলেন, তারপর অলির হাত ধরে টেনে অলিকে রুম থেকে বের করে সাইডে নিয়ে গিয়ে রাগীস্বরে জিজ্ঞেস করলেন, “এই মেয়ে, তুমি আমার ছেলের সাথে কী করেছ?”
অলি কাঁদতে লাগল।
“আমি কিচ্ছুটি করিনি আন্টি, আপনার ছেলেই আমার সাথে জোরাজুরি করেছে।”
কথাটা শুনে শাহনাজ বেগম অলিকে থাপ্পড় দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাত উঠিয়েও নিজেকে সংযত করে নেন। অলির ওপর হাত তোলার অধিকার তাঁর নেই। অলি তো চোখ-মুখ খিঁচিয়ে থাপ্পড় খাওয়ার অপেক্ষা করছিল, কিন্তু তেমন কিছু না হওয়ায় সে চোখ মেলে তাকায়। অলি সাহস জুগিয়ে বলে ওঠে, “আপনার ছেলে একটা জানো’য়ার, আমার সাথে যা কিছু করেছে তার ফল ওনাকে ভোগ করতেই হবে!”
ছেলেকে এভাবে বলাতে শাহনাজ বেগম চটে গেলেন।
“যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা? কী করবে তুমি আমার ছেলের, হ্যাঁ? চরিত্রহীনা কোথাকার! এই শোনো, তোমার মতো মেয়েদেরকে আমার চেনা আছে; যেই বড়লোকের ছেলে দেখেছ অমনি গলায় ঝুলে যেতে চাইছ, তাই না? দুধের দাঁত পড়ার আগেই ছেলেদেরকে ফাঁদে ফেলা শিখে গেছ দেখছি!”
“ছিঃ আন্টি! আপনার বিবেকে বাধছে না নিজে একজন মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়েকে এভাবে বলতে পারলেন?”
“হ্যাঁ পেরেছি, আমি আরও অনেক কিছুই করতে পারি। এই মেয়ে শুনে রাখো, আজকের এই ঘটনা এখানেই শেষ। যদি এটা নিয়ে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করেছ, তাহলে তার ফল ভালো হবে না।”
“তাই? তাহলে তো আপনার ভয় পাওয়ার দরকারই নেই। আমি এক্ষুনি গিয়ে সবাইকে আপনার ছেলের কুকর্মের কথা বলে দেব। তারপর আপনার ক্ষমতা দিয়ে সবকিছু সামলে নিয়েন।”
শাহনাজ বেগম চোখ কটমট করে অলির দিকে তাকালেন। মেয়েটা কিসের তৈরি সেটাই তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে এই মেয়েকে যেভাবেই হোক আটকাতেই হবে, নইলে তাদের মান-সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে।
“তুমি এসব কথা সবাইকে বললে তোমার বাপ-মায়ের কী হবে ভেবে দেখেছ? নাকি তোমার বাপ-মাও তোমার সাথে এই প্ল্যানে যুক্ত আছে? তারাই কি তোমাকে এসব করা শিখিয়েছে নাকি? অবশ্য তারা প্ল্যানে যুক্ত থাকলে তাদের কিছু হবারও কথা না।”
অলি দুপা পিছিয়ে গেল। শাহনাজ বেগম আবারও বলে উঠলেন, “শুনে রাখো মেয়ে, তোমার বাবা-মা যদি ভেবে থাকে মেয়েকে দিয়ে এই সমস্ত করিয়ে আমার ছেলের গলায় তোমাকে ঝুলিয়ে দিতে পারবে, তাহলে তারা ভুল ভেবেছে। আমার ছেলের পেছনে মেয়েদের লাইন লেগে থাকে বুঝলে? তোমার মতো দু-টাকার মেয়ের পেছনে সময় নষ্ট করার মতো সময় ওর নেই।”
অলি শব্দ করে কেঁদে উঠল।
“দয়া করে আমার বাবা-মাকে এসবের ভেতরে আনবেন না। ওনারা এসব শুনলে আমাকে মে'রে ফেলে নিজেরাও ম'রে যাবেন।”
শাহনাজ বেগম হেসে উঠলেন।
“ভেবেই দেখো এই সমস্ত কথা জানাজানি করে নিজেদের ক'বর খুঁড়বে নাকি এই নাটক এখানেই শেষ করবে—ডিসিশন তোমার হাতে। যেটাই করো না কেন, আমার ছেলের কিচ্ছু করতে পারবে না।”
বলেই শাহনাজ বেগম নিজের রুমে চলে গেলেন। অলি সেখানে বসেই কাঁদতে লাগল। মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল আজ। ছেলেদের জন্য এসব কোনো ব্যাপারই না, দুদিন বাদেই সবাই ভুলে যাবে; কিন্তু জানাজানি হয়ে গেলে তাকে এর বোঝা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। সেই সাথে নিজের বাবা-মাকে সে মে'রে ফেলতে পারবে না।
বর্তমান...
দুপুরের দিকে অলির মা লাঞ্চ করতে এলে অলি তার মায়ের সাথে খাবার খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অলি সেই রাতের পর থেকে ভালোভাবে ঘুমাতেও পারে না। ঘুমাতে গেলেই তার আজেবাজে স্বপ্ন আসে। অলি একটা শ্বাস ফেলে বই নিয়ে পড়তে বসে।
কেটে যায় দেড় মাস...
সুবিশাল আলিশান বাংলোর মতো দেখতে তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটি হচ্ছে মির্জা ভিলা। আলভী দোতলার নিজের রুমের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্মোক করছে। সে তো এখনো দেড় মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাতেই আটকে আছে। না! সে পারছে না অলি নামের সেই বাচ্চা মেয়েটাকে ভুলতে—সেই চোখ, সেই ঠোঁট, সেই ঝাঁঝালো কণ্ঠের অধিকারী মেয়েটিকে ভুলতে।
আলভীর ভাবনার মাঝেই কেউ একজন দরজায় নক করে। আলভী বিরক্তি নিয়ে সিগারেটের অবশিষ্ট অংশটা ফেলে দেয়। রুমে এসে দরজা খুলে দিতেই একজন সুন্দরী নারী নতজানু অবস্থায় তার দিকে একটা কফির মগ এগিয়ে দেয়। আলভী ভ্রু কুঁচকে মেয়েটির দিকে তাকায়। মেয়েটি হচ্ছে আলভীর একমাত্র ফুপুর একমাত্র মেয়ে। মেয়েটির নাম রূপসা। আলভী মেয়েটির দিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে কফির মগটা হাতে নিয়ে মুখের উপরেই দরজা লাগিয়ে দিল। আলভীর এহেন ব্যবহারে মেয়েটির মন খারাপ হয়ে গেল, তবে এটা নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিদিনই সে সেজেগুজে আলভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে কিন্তু কোনোদিনও সফল হয়নি।
ঊর্মিলা হলরুম পেরিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল, রূপসাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার দিকে এগিয়ে যায়।
“রুপাপু, তুমি এখানে কী করছো?”
রূপসা হঠাৎ ঊর্মিলার কণ্ঠ শুনে প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেও পরমুহূর্তেই মুখে হাসি টেনে বলে, “আমি এভি ভাইয়ার জন্য কফি নিয়ে এসেছিলাম। মামনিই দিয়ে পাঠিয়েছিল।”
ঊর্মিলা ভ্রু কুঁচকে রূপসার দিকে তাকায়। রূপসার সাজগোজ দেখে সে অবাক হয় না, কারণ এটা নতুন কিছুই নয়। রূপসা তার ভাইকে পছন্দ করে—এই ব্যাপারে ঊর্মিলা সিওর। একজন মেয়ে হওয়ার সুবাদে সে রূপসার চালচলন দেখে বহু আগেই ব্যাপারটা ধরে ফেলেছে। ছয় মাস ধরে রূপসা তার মা রুনা খাতুনের সাথে এই বাড়িতেই আছে।
মূলত তাদের এখানে থাকার পেছনে কারণ আছে। ঊর্মিলার দাদুমনি ছয় মাস আগে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছাতেই রুনা খাতুন মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেছিলেন। তারপর আর দাদুমনি তাঁদেরকে যেতে দেয়নি। এমনিতে রূপসার বাবা বেশ ক্ষমতাশালী লোক, বছরের বেশিরভাগ সময়টাই তিনি ব্যবসার কাজে দেশের বাইরেই কাটান।
“তোমার আসতে এত দেরি হলো কেন ঊর্মি?”
ঊর্মিলা হালকা হেসে বলল, “কলেজ শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতেই লেট হয়ে গেছে।”
চলবে,,,