#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_৩১ ( ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ)
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
" আপনি কেন এত চিন্তা করছেন বলুন তো? যা হওয়ার হয়ে গেছে! অন্তত রামিসার তো কোনো ক্ষতি হয়নি! ভাগ্যিস হিমেল ঠিক সময়মতো পৌঁছেছে! এই যে,,,,,শুনচ্ছেন!"
আয়ান চোখ তুলে তাকালো। সেই তখন থেকে আদ্রিকা আয়ান কে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আয়ান এখনো খুব রেগে আছে। তখন থেকেই বিছানায় কাঠ হয়ে বসে রয়েছে। আদ্রিকা বকবক করেই যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রথমবার আয়ান তাকে পাত্তা দিলোনা! আদ্রিকা এই প্রথম তার নি'র্ল'জ্জ স্বামীকে এতো রেগে যেতে দেখলো!
আদ্রিকা আবারো বলে উঠলো,
"আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আমার কথা?"
" হুম, পাচ্ছি।"
" কিছু বলছেন না কেন?"
আয়ান আদ্রিকার সামনে হাঁটু মুড়ে বসলো। আদ্রিকার চোখে চোখ রেখে বলল,
" আদ্রিকা তুমি বুঝতে পারছ কি করতে গিয়েছিল ও! কী হতো যদি..... যাই হোক ও যেটা করেছে সেটা ক্ষমার অযোগ্য। মা-বাবা জানতে পারলে ওকে এই মুহূর্তে বিয়ে দিয়ে দেবে! অথবা মে'রে পদ্মায় ভাসিয়ে দেবে! আরে আমি তো কখনো কল্পনাও করতে পারিনি!"
আদ্রিকা মুখ বেঁকিয়ে বলল,
"আমি কি কল্পনা করতে পেরেছি নাকি? আপনার কি মনে হয়? আর ওর বয়স কত বলুন তো? ছোট মানুষ! ভুল করে ফেলেছে! আপনার এখন এভাবে ওর উপর রাগ করে না থেকে হিমেলকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। আর ওই ব'জ্জা'ত'টাকে খুঁজে বের করা উচিত।"
আয়ান ভ্রু কুচকে বলল,
"কাকে খুঁজে বের করব? রাজিবকে? "
আদ্রিকা মাথা নেড়ে বললো," হ্যাঁ ।"
আয়ান বাঁকা হেসে বলল,
"ওর ব্যবস্থা হিমেল ইতিমধ্যে করে ফেলেছে বউ ! বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি !"
আদ্রিকা অবাক হয়ে বলল, "অ্যাঁ?"
আয়ান মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝালো।
আদ্রিকা লাফিয়ে বলে উঠলো,
" উফ্ তাহলে চিন্তা করছেন কেন? চলুন তো ঘুমিয়ে পড়ি! কাল সকাল বেলা ঠান্ডা মাথায় কথা বলব ওর সাথে। আর আপনি মেয়েটাকে আর কোন বকাবকি করবেন না। ভয় পেয়ে গেছে অনেক!"
আয়ান কিছু বলল না।
__________________________
আজকের সকালটা খুব একটা ভালো ছিলো না,ছিল থমথমে, যেনো প্রকৃতিও সবার মনের ভারাক্রান্ত অবস্থা বুঝে গেছে। মৃদু বাতাসে গাছের পাতা নড়ছিল, কিন্তু তাতে কোনো সুর বাজছিল না, যেন প্রতিটি শ্বাসে বেদনার সুর লুকিয়ে ছিল। আকাশে মেঘের স্তুপ, সূর্যের আলো ঠিকমতো আসতে পারছিল না, যেনো সকালটা একদমই হাসি মাখেনি।
রামিসা কালকে সারারাত ঘুমোতে পারিনি। এখন সে তার হাতে ফোন নিয়ে হিমেলের নাম্বার ডায়াল করে পাইচারি করছে আর বিড়বিড় করে বলছে,
"করবো নাকি করবো না? না করা উচিত! আচ্ছা করি! আচ্ছা উনি যদি রাগ করে? না তাও করি! কি করব হায় আল্লাহ!"
সেই সকাল থেকেই হীনমন্যতায় ভুগছে সে। কারণ রামিসা খুব করে চাচ্ছে হিমেলের সাথে দেখা করে তার কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ধন্যবাদ জানাতে!
______________________
হিমেল সকালে নিজের ঘরে বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। তার চেহারায় এক ধরনের শান্তি ছিল, কিন্তু মনের ভেতর চাপা রাগের স্রোত বইছিল। এমন সময় তার ফোনের রিংটোন বেজে উঠল।
ধীরে ধীরে ঘুমের ঘোর কাটিয়ে, হিমেল চোখ মেলে দেখল, ফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছে
"পটলের নানী is calling!"
আনমনেই ঘুমের ঘোরে সে হেসে ফেলল। কিন্ত গত রাতের কথা মনে পড়তেই আবারো মুখ ঝুলিয়ে দিলো! তার রাগের তীব্রতা মনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু চেহারায় অভিমানী এক ঝলক স্পষ্ট হয়ে উঠল। ঘুমের মধ্যেই কলটা ধরলো সে! ধরার পর, হিমেল বলে উঠলো,
" কী চাই?"
হিমেলের ঘুমন্ত কন্ঠস্বরে একটু চমকে উঠলো রামিসা! কী মায়াময়ী লাগচ্ছে তার কন্ঠ টা! পরক্ষণে একটু ঢোক গিলে বলল,
"ইয়ে মানে আসলে! একটা কথা ......!"
হিমেল চোখ বন্ধ রেখেই বলল,
" তোমার বা*লে*র ঢং সাইডে রেখে কী বলবে বলো!"
রামিসা নাক কুচকে ভাবলো,
"ছিঃ! লোকটা কী আজে বাজে কথা বলচ্ছে! মুখের ভাষা দেখো! কী জ'ঘ'ন্য! এখনো আমাকে রাগ দেখাচ্ছে! ফা'ল'তু লোক!"
কিন্তু মুখে বলল,
"আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবেন প্লিজ।"
তার গলায় অনুরোধের স্পষ্ট ছাপ ছিল।
হিমেল কিছুক্ষণ নীরব রইল, যেন ভেবে পাচ্ছে না কী বলবে। তবে রামিসার কথায় কেনো যেন তার রাগের আঁচ কিছুটা কমে গেল। তবে সে কণ্ঠে কঠোরতার চিহ্ন রেখে বলল,
" কেনো? তোমার সাথে দেখা করার মতো কিছু নেই।"
রামিসা যেন হতাশা মেশানো স্বরে বলল,
"প্লিজ, একবার শুধু, আমার কিছু বলার আছে। আর কখনো দেখা করতে বলব না। আজ শুধু!"
হিমেলের মনোভাব কিছুটা নরম হয়ে এল, কিন্তু সে সেটা প্রকাশ করল না। আসলে কাল তো হিমেলও তার সাথে খারাপ আচরণ করেছিলো। এই কারণে হিমেলেরও একটু অনুতাপ হচ্ছে!
কিছুক্ষণ পরে গভীর নিশ্বাস ফেলে বলল,
"ঠিক আছে, যুবমৈত্রী পার্কে আসছি।" বলেই ধপ করে কেটে দিলো ফোনটা!
( পার্কের নামটা কাল্পনিক)
ফোনটা রেখে হিমেল কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল, যেন নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করছে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে প্রস্তুতি নিতে শুরু করল রামিসার সাথে দেখা করার জন্য।
________________________
রামিসাকে কিছু বলতে না দিয়ে ফট করে কলটা কেটে দেওয়ায় তার একটু খারাপ লেগেছে। কিন্তু এখন রাগ প্রকাশ করার সময় নেই! হিমেলের সাথে তার দেখা করাটা খুবই জরুরী। তাই কোনো কিছু না ভাবে সে তৈরি হয়ে ঘর থেকে নিচে নামছে। ড্রয়িং রুমে এসে দেখল আয়ান সোফাতে বসে ল্যাপটপে কিছু করচ্ছে! সাথে সাথে রামিসার মুখটা অন্ধকার হয়ে গেল। সে এখন তার ভাইয়ের সামনে থেকে কিভাবে যাবে? এতকিছুর পর আয়ান কি তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেবে! তবুও সে মিন মিন করে সদর দরজার দিকে পা বাড়ালে পেছন থেকে আয়ান আদুরে কন্ঠে ঢেকে ওঠে , "রামিসা!"
রামিসা ফট করে পেছনে তাকায়। দেখে আয়ান তার দিকে নরম চোখে তাকিয়ে রয়েছে। রামিসা মাথা নিচু করে থাকে, তারপর বলে,
" কিছু বলবে ভাইয়া? আসলে একটু বাইরে যেতে চাচ্ছিলাম।"
আয়ান হাতের ইশারায় তাকে কাছে ডাকে। রামিসা এগিয়ে গিয়ে আয়ানের পাশে সোফায় বসে। আয়ান তার এক হাত ছোট বোনের মাথায় রাখে, তারপর আদুরে কন্ঠে বলে ওঠে,
" মেরেছি বলে রাগ করেছিস বোন আমার?"
রামিসা টলমল চোখে তাকায় আয়ানের দিকে। সে তো একটুও রাগ করেনি, বরং সে চিন্তায় ছিল তার নিজের ভাইয়ের রাগের কারণে! আয়ানের আদুরে কন্ঠ পেয়ে সে আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে আয়ান কে। আর বলে,
" একটুও রাগ করিনি ভাইয়া! আমি তো ভুল করেছি!"
আয়ানও তার বোনকে জড়িয়ে ধরে, আর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। আসলে কাল রাতে সে একটু রাগ করলেও পরবর্তীতে আদ্রিকার কথা শুনে তার খুব খারাপ লেগেছিল! আসলেই তো! তার একটা মাত্র বোন! কখনোই সে তার গায়ে হাত তোলেনি। কিন্তু ওই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে থাপ্পড় দিয়ে বসলো!
কিছুক্ষণ পর আয়ান বলে,
"এমন কিছু করিস না রামিসা যেটাতে তোর নিজের ক্ষতি হয়! তোকে তো আমরা সবাই অনেক ভালোবাসি ।তোর কিছু হলে কিভাবে সহ্য করব বল! আমার কলিজাটা ছিঁ'ড়ে যাচ্ছিল যখন হিমেল আমাকে ফোন করে এসব বলেছিল! আর এমন করিস না! কেমন? অন্তত নিজের জন্য না হলেও আমার জন্য ভাবিস! "
রামিসা আয়ানের বুকে থেকেই মাথা দোলালো!
________________________
দুজনেই একসাথে থাকলেও, যেনো মাইলের ব্যবধান তাদের মধ্যে। হিমেলের চোখে রাগের ছাপ স্পষ্ট। অন্যদিকে, রামিসা মাথা নিচু করে, নিজের ভুলের জন্য মনের গভীরে অনুতাপ বোধ করছে। তাদের নীরবতা যেনো এক অদৃশ্য ভারী পর্দা, যার ওপাশে পৌঁছানো যাচ্ছে না। রামিসার মুখে মৃদু কান্নার ছাপ, কিন্তু সে হিমেলের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না। এই নীরবতা ছিল কথার চেয়েও প্রখর, যা প্রতিটি মুহূর্তে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করছিল।
একটু আগেই রামিসা যুবমৈত্রী পার্কে এসে পৌঁছেছে। আয়ান তাকে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সে এসে দেখে, হিমেল আগেই পৌঁছে গেছে। রামিসা হিমেলের কাছে এসে তার সামনে দাঁড়ালে,হিমেল এমন ভান করে থাকে যেন সে রামিসা কে চেনেই না! আজব! এভাবে ইগনোর করার কী আছে! রামিসা ধন্যবাদ দেয়ার আগে ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো!
রামিসা ধীরে ধীরে হিমেলের দিকে এগিয়ে যায়, যেনো প্রতিটি পা ফেলতে তার বুক কাঁপছে। তার চোখে অনুশোচনার ছায়া, গলার স্বর নরম, তবুও কাঁপা কাঁপা।
"আমি আসলে অনুতপ্ত! আপনাকে ভুল বুঝেছিলাম।আপনার কথা অগ্রাহ্য করে অনেক বড় ভুল করেছি। আমি ক্ষমা চাই আপনার কাছে!"
রামিসা ধীর কণ্ঠে বলে, মাথা নিচু করে। তার কণ্ঠে বোঝা যায় কতোটা কষ্ট পেয়েছে সে। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু যেনো কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না।
হিমেল কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে, চোখ সরিয়ে নেয়। কিন্তু রামিসার এই ভঙ্গিমা তার হৃদয়কে নাড়া দেয়। হয়তো তার রাগ এতটা গাঢ় ছিল না যে, রামিসার এই অনুশোচনা মুছে দিতে পারে।
রামিসা আবারও বলে,
"আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি আসলে বুঝতে পারিনি!"
হিমেল এইবার চেঁতে গিয়ে বলে,
" কী বোঝো নি তুমি? কী বোঝো নি তুমি আমাকে বলতো!! মানে একটা ছেলে তোমাকে এত রাতে শহরে বাইরে নিয়ে যেতে চাইলো, আর তুমি তিড়তিড় করে তার সাথে চলে গেলে! একবারও ভাবলে না যে ওর ভাবনাটা কি হতে পারে! তুমি এগুলো বুঝোনি! বোঝোনি তুমি! রাজিব কেমন?ওর চাউনী কেমন? ওর ব্যবহার, ওর আচরণ, ওর চরিত্র বোঝোনি তুমি???"
রামিসা একটু বিরক্ত হলো। এইসব কথা তো সে কালকে রাতেও বলেছে! আজ আবার বলার মানে কী? তাই সে একটু শক্ত হয়ে বলল,
" এমন করছেন কেন আপনি? কি সমস্যা আপনার?"
হিমেল এবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বলেই ফেলল ,
"আমার সমস্যা কী ! আমার সমস্যা জানতে চাস? শোন তাহলে,আমার সমস্যাটা হলো তুই! তুই আমার একমাত্র সমস্যা! জ্বা'লি'য়ে পু'ড়ি'য়ে ছারখার করে দিচ্ছিস আমাকে! রাতে ঘুমাতে পারিনা আমি জানিস! খেতে গেলে তোর কথা মনে পড়ে, বসতে গেলে তোর কথা মনে পড়ে, দাঁড়াতে গেলে তোর কথা মনে পড়ে, শুতে গেলে তোর কথা মনে পড়ে, ঘুমোতে গেলে তো কথা মনে পড়ে, অফিসে কাজ করতে গেলে তোর কথা মনে পড়ে!!! আরে ভাই!! বাথরুমটাতে গেলে পর্যন্ত তোর কথা মনে পড়ে!! কেন!!! কেন মনে পড়বে তোর কথা আমার???তুই কেন আমার ভাবনাতে আসিস?? কেন চোখ বন্ধ করলে আমি তোকে দেখতে পাই?? বল তুই আমাকে! এইগুলোই আমার সমস্যা! বুঝতে পেরেছিস!"
রামিসা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে! স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সে! সে অতটাও অবুঝ নয় যে একটা ছেলের এসব কথাবার্তার মানে বুঝবে না! তবে সে এটুকু বুঝলো হিমেল মুখ ফসকে এত কিছু বলে ফেলেছে!!
হিমেল আবারো ক্ষীপ্ত কন্ঠে বলল,
" কেনো ? কেনো এগুলো হয় আমার সাথে? আমার ভাবনাতে তুই কেনো এতো আসিস? তুই বল আমাকে! কেনো এগুলো হয়!! বল!!"
রামিসা নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সেভাবেই রোবটের মতো শুধু ঠোঁট নেড়ে বলে দেয়,
" কারণ আপনি আমাকে ভা....... !!"
তাকে থামিয়ে দিয়ে হিমেল মাথা নেড়ে বলল,
" এক্সেক্টলি !! ঠিক ধরেছিস! আমি তোকে ভালবাসি! হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ! অনেক আগে থেকে ভালোবাসি! তবে বুঝেছি কয়েকদিন আগে! অবশ্য তোর মত গাধা এই জন্মে আর বুঝবে না!"
"ভালোবাসা" শব্দটা রামিসার কানে বারবার বাজতে থাকল! ভালোবাসা! হিমেল তাকে ভালোবাসে? এও সম্ভব!
রামিসা যখন অবাক হয়ে হিমেলে দিকে তাকিয়ে রয়েছে।তখন হিমেল আবার বলে উঠে,
" আমি জানিনা! আমি জানিনা, কিভাবে, কখন, কোথায়, কেন, তোকে ভালোবেসে ফেললাম? কীভাবে হলো আমি কিচ্ছু জানিনা! কিন্তু ভালোবেসে ফেলেছি! খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছি! পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি। তুই আমায় পাগল বানিয়ে ছাড়বি! এরপরে পাবনা মে'ন্টা'ল হসপিটালে রেখে আসতে হবে আমাকে! আর এর জন্য দায়ী থাকবি তুই!"
অতিরিক্ত চমকে গেলে মানুষ মাঝে মাঝে প্যানিক অ্যাটার্ক করে! হয়তো বা রামিসারও একই হাল হলো!;এত বড় শক নিতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে গেল!! হিমেলের বুকে ঢলে পড়ল! হিমেল চমকে গেল! সঙ্গে সঙ্গে আগলে নিলো রামিসাকে! অস্থির হয়ে বলতে থাকলো,
" সীট্ ! এই ! এই মেয়ে! কী হলো তোমার? ভয় পেয়েছো? চোখ খোলো!"
____________________________
এদিকে আয়ান সেই তখন থেকে আদ্রিকার পিছু পিছু ঘুরছে। উদ্দেশ্য আদ্রিকার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা! আসলে কাল রাতেরবেলা আদ্রিকাকে পাত্তা না দেওয়ার জন্য আয়ান আজ ভুক্তভোগী! এমনকি বউয়ের রাগ ভাঙানোর জন্য আয়ান আজ অফিসেও যায়নি। আসলে এখন বাড়ি একদম ফাঁকা! এটাই তো মোক্ষম সুযোগ একটু রো'মা'ন্স করার! কিন্তু তার বউ তো সেটা বুঝচ্ছে না! আদ্রিকার মতে গতকাল আয়ান তাকে পাত্তা দেয়নি, এই জন্য সে আয়ানের সাথে আর কথা বলবে না! রামিসার মন টা খারাপ! এই জন্য এখনো এই বাড়িতে আছে! নাহলে আজকেই সে বাপের বাড়ি চলে যেত! হুহ্!!!
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
বি:দ্র: আজ কিন্তু অনেক বড় পর্ব দিয়েছি। গল্পটা প্রায় শেষের পথে 💚