#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|১৫| {বিবাহ সমাচারে গণবিবাহের সমাহার}
৬০.
মঞ্জিল চৌধুরীর সবেই চোখ দুটো লেগে এসেছিল। সেই মূহুর্তে কথা চৌধুরী কিছু চিন্তা করতে করতে অন্য মনস্ক হয়ে মঞ্জিল চৌধুরীর মাথার ওপর এসে বসলো। কিসের ঘুম?সাথে সাথে হকচকিয়ে ধাক্কা দিয়ে লাফিয়ে উঠে বসলেন। হাত দিয়ে চোখ ডলতে ডলতে ভালো ভাবে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলেন কেউ নেই। তবে কি স্বপ্ন দেখেছেন এতোক্ষণ? না হতেই পারেনা। কিছু একটা মনে হতেই ফ্লোরের উঁকি মারলেন।
কথা চৌধুরী টান হয়ে ফ্লোরে শুয়ে আছে। এবার আসল কাহিনি বুঝলেন। চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে উঠে গিয়ে স্ত্রীকে কয়েকবার ডাকলেন। কিন্তু না কোনো রেসপন্স নেই। মনেহয় দাঁত লেগে গেছে। ধাক্কা কি একটু বেশিই জোরে হয়ে গেছে? কিন্তু এখানে তার কি দোষ!! দোষ না থাকলেও এখন তারই দোষ। দৌড়ে গিয়ে এক গ্লাস পানি এনে চোখ মুখে ছিটিয়ে দিতেই চোখ মেলে চাইল। টেনে তুলতেই উঠে বসে বলল,
"আমি এখানে কেনো?"
মঞ্জিল চৌধুরী এতো সময় মনে মনে দোয়া দরুদ পড়ছিলেন। এই কথা শুনে থেমে গেল। যাক মনে নেই তবে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জোরপূর্বক হেসে বললেন,
" মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল।"
কথা চৌধুরী কিছু সময় চুপ থেকে বললেন,
"আপনার জন্যই তো মাথা ঘুরে আমার। নিজে কোনো কাজ ঠিক মতো দেখে না সব কাজ আমাকেই করতে হয়। থাকব না আর আমি এবাড়িতে এক্ষুনি চলে যাব।"
আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলেন হঠাৎ সাইডের দাঁতে ব্যথা অনুভূতি হলো। হাত দিয়ে দাঁতটা ধরতেই খুলে এলো।
কথা এতে অবাক হলেন না। দাঁতটা বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নড়বড়ে হয়ে রয়েছিল। হাত ধরে উঠাতে চাইলেও পারলেন না বেচারি অনেক জোরেই কোমরে ব্যথা পেয়েছে। কোলে তুলে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে হাত মুখ ধুইয়ে নিয়ে আসলেন। বিছানা বসাতেই কথা চৌধুরীর আসিফের কথা মনে পড়ল। ব্যথা ট্যথা ভুলে বললেন,
"এইযে শুনুন! "
"শুনছি।"
মিনিট দুয়েক থেমে বললেন,
"আসিফ আর তোমার মেয়ের মধ্যে মনেহয় কিছু একটা আছে।"
মঞ্জিল চৌধুরী ছোট ছোট করে তাকিয়ে বললেন,
"এমন মনে হওয়ার কারণ?"
"সারাক্ষণ একে অপরের আশেপাশে থাকে আমার সন্দেহ হয়।"
"স্বাভাবিক।"
"তোমার কি মনেহয়?"
স্ত্রীর কথায় তিনি হাসলেন। মনে মনে তিনি আগে থেকেই আসিফকে পছন্দ করেন। বললেন,
"আসিফ তো আর খারাপ না একবার ভেবে দেখতে পারো। যদিও ছেলেটা একটু গম্ভীর তবে যথেষ্ট দায়িত্ববান এবং ভদ্র।"
"ছেলে তো বেকার?"
"তোমার ছেলেও তো বেকার।"
"পড়াশোনা তো শেষের দিকে চাকরি তো করবে।"
"সেম উত্তর।"
একটু থেমে,,
"শোনো আরবীর বাবা মা কিন্তু ভালো ছেলে পেয়ে হাত ছাড়া করেনি। তুমি কি ভেবেছ তারা তোমার কথায় রাজি হয়েছে? একদমই না আগে সব খোঁজ খবর নিয়েছে তবেই রাজি হয়েছে।"
কথা চৌধুরী চিন্তিত হলেন। কথা মিথ্যা নয়। অতঃপর বললেন,
"তবে এখন কি করতে বলছ?"
"আসিফের বাড়ির লোকদের খবর দাও।"
"কিন্তু!!
" কি??"
" সন্দেহ তো ভুলও হতে পারে। যদি তাদের মধ্যে কিছু না
থাকে তবে?"
মৃদু সুরে কথাখানা বলে থামলেন। সব সময় হাসি তামাশা আর ঝগড়ার মুডে থাকা স্ত্রীকে তিনি শুধু সন্তানদের বিষয় নিয়েই ঠান্ডা মাথায় কথা বলতে দেখেন নয়তো অন্য সময়!! যদিও সব কিছু ইচ্ছাকৃত। অসুস্থতার কারণে অফিস যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বছর কয়েক হয়েই এলো। অসুখ বিসুখের চিন্তা যাতে মাথায় না তাকে তাই দিন-রাত এমন পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া চালান। কথাগুলো মনে হতেই মুচকি হাসলেন। কখন কি হয়ে যায় ঠিক আছে? তার কিছু হয়ে গেলে কথা চৌধুরী যে ভীষণ ভেঙে পরবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। মেয়েটা প্রচন্ড ভালোবাসে তাকে। তাই এই সুযোগে তিনি আসিফের কথাও বলতে চাচ্ছিলেন কিন্তু স্ত্রীর রিয়্যাকশন ভেবে এতোদিন কিছু বলেননি। আজ যখন কথা উঠলো বলেই ফেললেন।
অফিসের কাজ এখন ম্যানেজারই সব দেখা শোনা করবে। সংগ্রামের চাকরি বাকরি না হলে ভবিষ্যতে সেই বসবে। আরবীর হাত দেওয়ার এটাও একটা কারণ। ভদ্রলোকের সাথে তার কথা হয়েছে। সারাক্ষণ কিপ্টামি করলেও সন্তানদের বিষয়ে সবাই সিরিয়াস। আপাতত সে সব কথা বাদ দিয়ে স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে এক গাল হেসে বললেন,
"কিছু না থাকলে বিয়ের পরে হবে।"
৬১.
"আজ কন্যার গায়ে হলুদ কাল যে তার বিয়ে,
টোপর মাথায় আসবে যে বর যাবে তাকে নিয়ে।"
হলুদ অনুষ্ঠান....
এক সারিতে এতোগুলো বর দেখে সবার চোখ কপালে। মেয়ের বাড়ির লোক এসেছে হলুদ দিতে। তাদের হলুদ দেওয়া শেষ হলে বরের বাড়ির লোকজনও যাবে।
বরদের গায়ে কি হলুদ ছোঁয়াবে? হলুদের বাটিখানা হাতে পেতেই তারা একে অপরের মুখে দিতে শুরু করল। আশেপাশের লোকজন সবাই হা করে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে সবাই হেসে ফেললো।
আসিফের গায়ে হলুদও এখানেই হয়েছে। যেহেতু সে আগে থেকেই পছন্দ করতো। তাই হুট করে বাবার দেওয়া বিয়ের প্রস্তাব হলেও রাজি হয়ে গেছে। তবে মনের ভাব এখনো প্রকাশ করেনি। এমন মুখ করে আছে যেন বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।
আর্শ্চয জনক ব্যাপার হলো মেহজাবিন কিছুই বলেনি। হঠাৎ বিয়ের কথা শুনে শোকের মধ্যে আছে। তার খুশি হওয়া উচিত না দুঃখী? বুঝতে না পেরে আপাতত অনুভব শূন্য হয়ে রইল।
আসিফের সম্পর্কে সবাই সব কিছুই জানে। তাই স্বাধীন সংগ্রাম কেউ বাবা মায়ের ওপরে কথা বলেনি। তবে বোন রাজি কিনা জিজ্ঞেস করতেও ভুলেনি। উত্তরে সে বলেছে,
"বাবা মার কথাই আমার কথা।"
৬৩.
এবাড়ির হলুদ শেষ হতেই ও বাড়ি যাওয়ার পালা। কিন্তু বিপদ বাঁধল অন্য জায়গায়। সংগ্রাম আর স্বাধীনের বন্ধুগণ মেয়ের বাড়ি যাবে হলুদ দিতে। কিন্তু বিষয়টা মেনে নিচ্ছে না কিছু ময়মুরুব্বি লোকজন। কে শুনে কার কথা? শেষমেষ লুকিয়ে চুপিয়ে তারাও এসেছে। আসেনি শুধু স্বাধীন।
পাত্রীরা সবুজ পাড়ের হলুদ শাড়ি পরেছে। ভীষণ মিষ্টি লাগছে সবাইকে। সবার আগে হলুদ দিতে গেলেন জয়নাল হাসান। মজার বিষয় হলুদ নিয়ে গিয়ে আগে নিজের স্ত্রীর গালেই হলুদ ছোঁয়ালেন।
সাথে সাথে সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। জয়নাল হাসান সেসবে পাত্তা না দিয়ে স্ত্রীর কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন,
"আমার হলুদিয়া বউ।"
তিথির এমননি লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। আবার এমন কথায় মনে হলো দৌড়ে পালিয়ে যাক। না সবার হাসির শব্দে আর সত্যি টিকতে পারলেন না। এক প্রকার দৌড়েই স্থান ত্যাগ করলেন। পিছু পিছু জয়নাল হাসানও গেলেন। সবাই আরেক দফা হাসলো।
এক এক করে সবাই হলুদ দিয়ে যাচ্ছে আর আসছে। আরবীর পিঠ পাঁজর লেগে এসেছে। আর বসে থাকতে পারল না। চুপিচুপি উঠে রুমে চলে যেতে চাইল বাড়ির মধ্যে ঢুকবে এমন সময় কেউ পেছন থেকে ডাক দিলো। আরবী পিছু ফিরতেই চোখ কপালে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ আছে কিনা। নাহ এদিকে কেউ নেই সবাই স্টেজের দিকে। হতভম্বী কণ্ঠে বলল,
"আপনি এখানে কি করছেন?"
"আপনার থেকে হলুদ নিতে এসেছি।"
আরবী ভ্রঁ কুঁচকায় থতমত খাওয়া কণ্ঠে বলে,
" আমি তো শুনেছি বর বউকে হলুদ দিতে লুকিয়ে আসে আর আপনি নিতে এসেছেন মানে?"
"মানুষ যা করবে আমাকেও তাই করতে হবে নাকি?"
"ওহ! আপনি তো আর মানুষ না!"
"হ্যাঁ আমি ভূত আপনি পেত্নী এখন তাড়াতাড়ি হলুদটা দিয়ে দিন তো।"
বলেই লুকিয়ে আনা বাটিটা বের করল। আরবী সেদিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচি দিয়ে চলে যেতে যেতে বলল,
"পারব না।"
সংগ্রামের মাথায় কুবুদ্ধি এলো। চেঁচিয়ে বলল,
"আমাকে যদি হলুদ না লাগান তবে আপনার বাসার মধ্যে চলে যাব আর কেউ যদি জিজ্ঞেস করে আমি এখানে কেনো? ;বলব আপনি আসতে বলেছেন।"
আরবীর পা থেমে গেল। কপাল চাপড়ে ফিরে এলো। মনে মনে শখানেক গালি দিলো। কি শয়তানের শয়তান ভাবা যায়? কপট রাগ দেখিয়ে বাটি খানা নিয়ে মাথায় ঢেলে দিলো। সংগ্রাম বিব্রতবোধ করল বলল,
"এইযে পেত্নী হলুদ মুখে দেয়, চুলে নয়।"
আরবী আর দাঁড়াল না। মুখ ভেঙচি দিয়ে দৌড়ে চলে গেল। সৌরভ সৌভিক এমন সুযোগ পেলো না। লিসা আর আফরিন সবার মধ্যে এর মধ্যে ঢোকা অসম্ভব। হতাশ হয়ে ফিরে গেল।
৬৪.
ইভা গাল ফুলিয়ে খাটের ওপর বসে আছে। সংগ্রামদের চলে যাওয়ার সময় সে দেখেছে। মনে মনে প্রচন্ড দুঃখ পেয়েছে। সবার জামাই এলো। তারটা তো এলো না। রাগে দুঃখে কান্না পেলো। দরজায় টুকা পরতেই গিয়ে খুলে দিলো। আফরিন ফোন দিয়ে চলে গেল।
ইভা ফোন নিয়ে গিয়ে মেসেজ টেসেজ না দিয়ে সোজা কল দিলো। স্বাধীন সবেই গোসল টোসল সেরে ফোন হাতে নিয়েছিল। আননোন নাম্বার দেখেও ধরল। মন বলছিল এটা ইভা। ধরেই সালাম দিয়ে বলল,
"কিছু বলবা?"
ইভা ছোট ছোট কর বলল,'বলব।"
"বলো?"
"আপনি আসেননি কেনো?"
"কোথায়?"
"আমাদের বাড়ি।"
"সে তো কাল যাব।"
"আপনার ভাইরা আজও এসেছিল।"
"কিহ? আমি জানিনা তো আর জানলেও যেতাম না।"
"তা কেনো আসবেন! সারাদিন তো কাজ আর কাজ তাছাড়া আর আপনার লাইফে কিছু আছে?"
স্বাধীন অবাক হলো। তার জড়ানো কণ্ঠ শুনে বুঝলো এই বুঝি কান্না করে ফেলবে। তাই সুন্দর করে বলল,
"আমি বাড়ির বড় ছেলে আমাকে কি ওদের মতো বাচ্চামি মানায়?"
ইভা সে কথা শুনে বলল,
"আমার দাদুভাই বংশের বড় সে সবার সামনে দাদিমাকে হলুদ পড়ালো।"
স্বাধীন ভেবাচ্যাকা খেয়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল,
"তিনি আগেকার যুগের মানুষ।"
ইভার রাগ হলো। মাথা আউলে গেল। মুখে যা এলো দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলল,
" বড় বা বুড়ো এটা কোনো বিষয়ই না বিষয় হচ্ছে আপনি একটা আনরোমান্টিক লোক। আপনাকে আমি অ'ভিশাপ দিলাম আপনার একশো একটা বাচ্চা কাচ্চা হোক।"
স্বাধীন কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে দিলো। মেয়েটা কি বলল সে নিজে জানে তো?ফোনের দিকে তাকিয়ে বেচারা অসহায় কণ্ঠে বিড়বিড়িয়ে বলল,
" এতো দেখি বংশগত পা'গল। বিয়ের পরে তুমি পা'গল হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও স্বাধীন বাবা।"
#চলবে!
#নোট: গল্পটি কাল্পনিক বিনোদনের জন্য লেখা তাই কেউ বাস্তবতার সাথে মিলাবেন না। সবার বিয়ের দাওয়াত রইল।|
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972