ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীলচে আকাশ

১ম পর্ব

লেখক: Sohana Akter

নীলচে আকাশ আছে আকাশটা অনেক সুন্দর। আজকে থেকে বৃষ্টি হয়েছে দুপুর পর্যন্ত। কিন্তু এখনো আবারও মেঘ জমেছে। বিকেলের হালকা রোদ। সে সাথে আকাশে মেঘ পরিবেশটা ঠান্ডা ঠান্ডা। ঠিক তেমনি সায়েবার মনেও মেঘ জমেছে। কিন্তু সেই মেঘ আজ বা কাল থেকে নয় *দীর্ঘ চার বছর ধরে*। বাইরে থেকে আকাশের *মেঘ* দেখলেও মনের মেঘ তো সবাই দেখে না সবাই মনে করে সায়েরা হয়তো শান্তসৃষ্ট কিন্তু না মনের ভেতরের কষ্ট তো আর কাউকে দেখানো যায় না।

সায়েবা _বেলকনিতে_ বসে বসে এইসব কথা ভাবতে হঠাৎ ফোনের শব্দে ভাবনার জগত থেকে বের হয়ে আসে। পাশ থেকে রিং ফোনটা। হাতে নিয়ে দেখে _সায়েবার পিয়ে

রোহান কল করেছে। রোহান এর কলটা রিসিভ করার সাথে রোহান বলে উঠি।

*রোহান:* আসসালামু আলাইকুম ম্যাম। আজকে কি আসবেন?

*সায়েবা:* ওয়ালাইকুম আসসালাম। কোনো আজকে কি কোনো জরুরি কাজ ছিল নাকি?

*রোহান:* জ্বি ম্যাম। আজকে তো _সন্ধ্যা ছয়টায়_ award 2024 best clothing brand `/` DHL-Daily Star Bangladesh Business Award_ এওয়ার্ড নেওয়ার কথা ম্যাম।

*সায়েবা:* ও হে ভুলেই গেছিলাম। আচ্ছা এখন থেকে _Radisson Blu Water Garden Hotel, Dhaka* যেতে কতক্ষণ সময় লাগবে?

*রোহান:* ওই তো প্রায় 30 মিনিট*সায়েবা:* আচ্ছা তাহলে তুমি পাঁচটায় এখানে চলে আসবা।

*রোহান:* আচ্ছা ম্যাম।

*সায়েবা:* আর আজকে যেনো কোনো *ঝামেলা* না হয় সেদিকে খেয়াল রেখো আর সময় মতো চলে আসবা।

*রোহান:* জ্বি ম্যাম আল্লাহ হাফেজ।

*সায়েবা:* আল্লাহ হাফেজ।

কলটা কেটে যেনো সায়েবা দেখলো যখন বিকাল চারটা বাজে। সায়েবা আর বসে না থেকে দ্রুত উঠে রুমে আসে তারপর ফোনটা চার্জ দিয়ে নিচে চলে যায়। সায়েবার ডুপ্লেক্স বাড়ি। এই বাড়িতে সায়েবার বাবা মা (সাখাওয়াত চৌধুরি আর সালেহা খাতুন) সায়েবার বোন *সায়লা* চৌধুরি। সায়েবার থেকে চার বছর এর ছোট। *(সাফওয়ান চৌধুরি আর আকলিমা চৌধুরি)* সায়েবার চাচা চাচী, আর সায়েবার চাচাতো ভাই *সাগর* চৌধুরি। সায়েরা থেকে *সাত বছর* এর বড়। কিন্তু এই বাড়িতে চাচা চাচী আর সাগর চৌধুরি থাকে না। এখন শুধু এই বাসায়েবা আর তার ফ্যামিলির সবাই থাকে, সায়েবা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় দেখে সোফার মধ্যে সালেহা খাতুন আর তার *পায়ের* মধ্যে সায়লা মাথা রেখে টিভি দেখছে। আর সালেহা খাতুন সায়লার সাথে *হাত* *বুলিয়ে দিচ্ছে*। সায়েবার ইচ্ছা করছে মায়ের কাছে দৌড়ে যেতে মায়ের *পায়ে* মাথা রেখে *ছোট বোনের সাথে* গল্প করতে, কিন্তু না *যেতে পারবে না*, কারন যাওয়ার রাস্তাটা সায়েবা নিজের হাতে বন্ধ করেছে। সায়েবা যদি মা বলে ডাক দেয় তাহলে সালেহা চৌধুরি নিজেই সায়েবার কাছে চলে আসবে, কিন্তু না যে ডাকবে না। সিঁড়ি দিয়ে নামছে আর সায়েবা এইসব কথা ভাবছে। সায়লা হঠাৎ করে সায়েবাকে দেখে মায়ের পাশে থেকে উঠে, সায়েবার কাছে এসে বলে উঠে:

*সায়লা:* *আরে আপু* কেমন আছো তুমি?

সায়েবা কোনো কথা বললো না। সায়লা আবারও বলে উঠে:

*সায়লা:* আপু তোমার ড্রেসটা তো অনেক সুন্দর এটা কি তোমার ডিজাইন?

*সায়েবা ছোট করে উত্তর দিলো।*

*সায়েঅতঃপর সালেহা খাতুন এসে সায়েবার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে উঠে,

*সালেহা:* সায়েবা মা তোমার লাগবে কিছু খাবে? তোমার পছন্দের বিফ কাচ্চি রান্না করি।

*সায়েবা:* আপনাকে কতবার বলেছি আমার প্রতি কোনো আবেগ সিমপ্যাথি দেখাতে না। আমার এই সব পছন্দ না।

*সালেহা:* এভাবে কোনো কথা বলোনা। তোমাকে মা বলে ডাকবো না কতদিন ধরে তোমার মুখে মা ডাক শুনি না। আমার কলিজাটা ফেটে যায় তোমার মুখে মা ডাক শোনার জন্য।

*সায়েবা:* ওটা তো কখনো সম্ভব না। আপনাকে আর আপনার স্বামীকে কখনো মাফ করতে পারবো না, এই জীবন থাকতে তো না।

সায়েবা কথা গুলো বলে আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়িয়ে *কিচেনে* চলে যায়। সায়েবার এই কথা সালেহা *ডুকরে কেঁদে উঠে*। *সায়েবা কিচেনে এসে পাশে থাকা স্লেফ থেকে প্রয়োজনীয়বা:* হুমড়িতে সময় লাগবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন