#কয়েকটি_নক্ষত্র_নিঃশেষে
-তেজস্মিতা মুর্তজা
৬.
আরবী মাসের পাঁচ তারিখ রাত। তলোয়ারের মতো চাঁদটা আকাশজুড়ে সৌন্দর্য্যের অধিপতি হয়ে সিংহাসনে আসীন। প্রতিনিধি হিসেবে এক-ডালা নক্ষত্র অধিপতিকে ঘিরে জ্বলজ্বল করে চেয়ে আছে সেতুর দিকে। সেতু মুচকি হাসল। সে একজন হিংসুক দর্শনার্থী। জ্বলজ্বলে নক্ষত্রদের খসে পড়া দেখতেই আকাশের দিকে তার রোজকার চেয়ে থাকা। তা বোধহয় তারারাও জানে। তাই তারা ফিসফিস করে ডেকে মেঘের কানে কানে কীসব বলল। মেঘেরা এসে আলগোছে অধিপতি চন্দ্র মহোদয়কেসহ তারাদেরকে আড়াল করে ফেলল এক হিংসুক মেয়ের নজর থেকে। সেতু আবারও হাসল। এতে মেঘেরা গোমরা মুখে একটু অবাক হলো কিনা বলা যাচ্ছে না। কারণ তারা হয়ত জানে না আঁধার রাতের বৃষ্টিও হিংসুক মেয়ের অধিক পছন্দের! নক্ষত্রদের সাথে সেতুর মন কষাকষি থাকলেও মেঘেদের সাথে নেই।
বাশার গাড়িতে উঁকি মেরে দেখল প্রিন্স জনাব টিংকু মিয়াকে আদর করছে। জনাব টিংকু মিয়া হলো প্রিন্সের পোষা কুকুর। যাকে বাশার প্রিন্সের চেয়েও বেশি ঘৃণা করে। একটা কুকুরকে কোলে-পিঠে ঠুসে রাখা–কী অরুচিকর ব্যাপার। প্রিন্সও চেয়ে দেখল না বাশারের নাটক। ভাই ভাই করে ডাকছে, ছেলেটা অভিনেতা হতে পারতো ভালো। বাশার নাটক ছেড়ে নাক কুঁচকে এগিয়ে গেল সেতুর দিকে। প্রিন্স তা ক্রোধান্বিত চোখে দেখে জনাব টিংকু মিয়াকে সিটে বসিয়ে একটা বিপদ্তাড়িনী চুমু খেয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে বাশারকে অনুসরণ করল।
এমন একটা মেয়ের সামনে যাচ্ছে তারা এখন, যার নাম শুনলেই প্রিন্সের মনে ভয়াবহ সমস্ত আকাঙ্ক্ষা ও চিন্তা আসে। এই মেয়েটা তার ছোট ভাইয়ের বউ হয়ে বাড়িতে আসবে ভাবলে প্রিন্স নিজের একটা নিশ্চিত ভবিষ্যত-পাপ দেখতে পায়–ভাসুর হিসেবে সে হবে খুনী। সেতুর দম্ভ প্রিন্সের সামনে পড়লে মেয়েলোকটাকে কুপিয়ে চারখণ্ড করে ফেলতে কতক্ষণ! মেয়ে মানুষ হবে নম্র, ভীতু, পুরুষের কাছে নত। কিন্তু সেতু হলো বেজন্মা মেয়েলোক।
ঘন্টাদুয়েক আগের ঘটনা। প্রিন্স 'প্রিন্স ক্যাসেলেʼর হলরুমে বসে আখরোট চিবোচ্ছিল। এটা তাদের নতুন বাড়ি। আগের একতলা গাজী ভিলা ছেড়ে এই বাড়িতে ওঠা বছরখানেক হচ্ছে। বাড়িটা প্রিন্স নিজের মতমতো নিজ তদারকিতে তৈরি করেছে। শুধু টাকাটা গুনেছেন ফারুক গাজী। নামটাও প্রিন্সের নামে ইংলিশ কায়দায় দেয়া হয়েছে।
ফারুক গাজী পাশেই বসে রাত ন'টার খবর শুনছিলেন। আজ ৪ মে, ২০১৬। গত একটা মাস খবরের চ্যানেল খুললেই সেই একই খবর 'সোহাগী জামান তনুর হত্যাকান্ড, ধর্ষণʼ এই সব। সেসব কানে আসাতে প্রিন্স মনে মনে বকে উঠল। প্রথমে প্রমাণ হলো তনুকে খুন বা ধর্ষণ করা হয়নি। হবে তা-ই। মেয়ে মানুষের লাশ খুন হলেই ধর্ষিত হয়েছে এটা ছোটলোক বাঙালির মুখস্ত কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন। আর হলেই বা কী! সেটা নিয়ে রোজ রোজ একই গীত গাইবার ফায়দাটাই বা কী? আজ কয়দিন হলো হুট করে আবার ধর্ষণের প্রমাণ উড়ে এলো। সে বাবার কাছ থেকে রিমোট কেড়ে নিয়ে ফট করে টিভিটা বন্ধ করে দিলো। গাজী সাহেব ধমকে বললেন, “রিমোট দে, প্রিন্স।ʼʼ
প্রিন্স বলল, “শব্দদূষণ হচ্ছে, বাবা। এখানে আমি বসে আছি। তুমি নিজের রুমে গিয়ে খবর দেখো। হলরুমে কী?ʼʼ
এরপর চুনুকে ডেকে বলল, “চুলগুলো টেনে দে, চুনু। মাথা ধরেছে।ʼʼ
সেই সময় একদম পরিপাটি তৈরি হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো বাশার। প্রিন্স ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “বাবা, ও কোথায় যাচ্ছে?ʼʼ
এমপি সাহেব নিজেও জানেন না। বাশার জানাল, “ট্যুরে যাচ্ছি বাবা। ফিরতে ক'দিন দেরি হবে। অদ্র ভাইয়ের সাথে যাচ্ছি।ʼʼ
ধপ করে আগুন জ্বলে উঠল প্রিন্সের মাথায়। সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “না, যাচ্ছিস না।ʼʼ
বাশার বলল, “তোর কথামতো? বাবা হাজার বিশেক টাকা লাগবে। কার্ড দেবে না নগদ জলদি করো। বাসের সময় হয়ে যাচ্ছে।ʼʼ
প্রিন্স নিজেকে সামলে দাঁত চেপে বলল, “বাবা, এই ট্যুরে যাবে না ও। অদ্রিজ ট্যুরে ফকির খাওয়াতে যাচ্ছে বাবা। এখানে সমস্যা আছে। আমি বললাম ও যাবে না।ʼʼ
বাশার একরোখার মতো বলল, “তুই বলার কে?ʼʼ
প্রিন্স মুহুর্তের মাঝে তেড়ে গিয়ে গলা চিপে ধরল বাশারের, চিবিয়ে বলল, “আমি তোর...ʼʼ
“কে? তুই আমার বাপ তাই বলতে চাচ্ছিলি তো?ʼʼ
গলা ছাড়িয়ে ঝারা মারল বাশার, “ছাড়! ওই দেখ আমার বাপ বসে আছে। তোকে চিনি না আমি। তুই কে? সর, হাওয়া পাতলা কর।ʼʼ
প্রিন্স এ পর্যায়ে বাশারের গাল চিপে ধরতেই গাজী সাহেব উঠে এসে প্রিন্সকে ছাড়িয়ে দিয়ে চাপড় মারলেন পিঠে, “ছাড় শুয়োরের বাচ্চা। কুত্তা-বিলাই পালতেছি দুইটা, সারাদিন রাস্তার কুত্তার মতোন খেউখেউ খেউখেউ।
প্রিন্স বাবার থেকে নিজেকে ছাড়াতে দাপাদাপি শুরু করল। গাজী সাহেব থাপ্পর তুলে বললেন, “প্রিন্স, আমার হাত উঠাইস না। তোরা দুইভাই আমার ভবিষ্যত। কিন্তু তোদের নিজেদের মাঝেই দুই পার্টির শত্রুতা। আমি তোদের কাছে কী আশা রাখব?ʼʼ
প্রিন্স বলল, “ওর কাছে কী আশা রাখবা জানি না, কিন্তু আমার ওপরে নিশ্চিত আশা রাখতে পারো ওকে খুন করে আমি ওর মরার সাতদিনের খয়রাতে দেশবাসীর পেটপূঁজো করাবো। সমাজসেবা মহৎ গুণ বাবা। ওর মরার খয়রাত খাইয়ে শুরু করব।ʼʼ
চটাং করে থাপ্পর মারলেন গাজী সাহেব প্রিন্সের গালে, “চুপ কর, জানোয়ার।ʼʼ
প্রিন্স খেঁকিয়ে উঠল, “তুমি চুপ করো, বাবা। ও হঠাৎ-ই এই সিদ্ধান্ত নিলো কেন? দুপুরেও চুনু জিজ্ঞেস করলে ও বলল, যাবে না অদ্রর ট্যুরে। জিজ্ঞেস করো হঠাৎ যাবার সিদ্ধান্ত কেন?ʼʼ
প্রিন্স এমন বজ্রকণ্ঠে গর্জে উঠল, মিসেস গাজীসহ বাড়ির সকলে এসে হলরুমে জমায়েত হলেন।
বাশার এই সুযোগে প্রিন্সকে সর্বোচ্চ ক্রোধ দিতে বলল, “সেতু যাচ্ছে, সেতু সেতু। ও যেখানে আমিও সেখানে। তুই শুনেছিস? সেতুর জন্য যাচ্ছি আমি, সেতুর জন্য। আর শোন, আজ যেমন ওর জন্য আর ওর সাথে ট্যুরে যাব তুই ঠেকাতে পারবি না, একদিন এভাবে সেতুকে বিয়ে করে এই বাড়িতে এনেও তুলব, তুই আমার কিচ্ছু ছিঁড়তে পারবি না।ʼʼ
প্রিন্স উন্মাদপ্রায় হাতে বাবার মাথার ওপর দিয়ে ভারী চিনামাটির বিশাল ফ্লাওয়ার ভাসটা তুলে ছুঁড়ে মারল বাশারের দিকে। লাগলে বাশার মাথা ভেঙে খণ্ড হয়ে যেত সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু লাগল না। সেটা গিয়ে সিঁড়ির ওপর পড়ে বিকট শব্দে খানখান হয়ে গেল। বাড়িতে দুই ভাইয়ের এ ধরণের হুলুস্থুল কাণ্ড রোজকার। এ বাড়ির কাচের আসবাবগুলো রোজ পরিবর্তন হয় এই সুবাদে।
প্রিন্স বলল, “শালা পাগল জন্মে ছেড়ে দিয়েছে আমার বাপ।ওই ডাইনী তোরে বাল দিয়েও লাড়ে না হে। বিয়ে করবা ওরে? চেনো? তোমার পিছনে বাঁশ ভরে খাঁড়া করে রাখবে। বিয়ে করবে তোমাকে? কুত্তার মতো জিভ বাইর করে তুই ঘুরিস, ওর পায়ের তলায়ও তুই নাই। আন না বিয়ে করে, দুইটাকে গরম পানিতে সিদ্ধ করে এক কফিনে ঢুকিয়ে গেঁড়ে রাখব শালা।ʼʼ
মিসেস গাজী প্রিন্সের গা নেড়ে মেজাজ ঠান্ডা করার চেষ্টা করে বাশারকে বললেন, “থাপড়ে গাল ফাটিয়ে দেব বেয়াদব ছেলে। বড়ভাইয়ের সাথে আচরণ জানিস না? আর বাপটা আরেক গোলাম, দাঁড়িয়ে দেখছে এই তামাশা।ʼʼ
বাশার হেসে উঠল, “বড়ভাই? বড়ভাই না? ঘেন্না করি আমি এই বড়ভাইকে। তোমার ছেলে বড়ভাইয়ের মর্ম বোঝে? দেখলেই শুয়োরের মতো খ্যাঁকখ্যাঁক করে তেড়ে আসে সে বড়ভাই? কোনো একদিন দেখবা সত্যিই আমাকে খুন করে লাশ ফেলবে তোমার সামনে সেইদিন বড়ভাই বুঝবা। তাতেই বা কী? আদরের বড় ছেলে আম্মা, আদর চালিয়ে যাও। আমি যাই।ʼʼ
গাজী সাহেব কপাল চাপড়ালেন। দুটো সাধাক্ষণ ইঁদুর-বিড়ালের মতো লেগে আছে এর ওর পিছনে। প্রিন্সের দাবী বাশার তাকে মান্য করে চলবে, বাশারের কথা প্রিন্স ভাইয়ের মধ্যে পড়ে না।
বাশার ক্রোধ-অভিমান মুখে করে গটগট করে বেরিয়ে গেল। মিসেস গাজী প্রিন্সকে বললেন, যা ওর পেছনে যা, রেগে বেরিয়ে গেছে। ছোট ভাই ও তোর। নিজে গিয়ে বাসে তুলে দিয়ে আসবি। সুইটের বাবা টাকা দাও। তুই নিজে টাকাগুলো ওর হাতে দিয়ে আসবি। তোকে বেশি আদর দিয়ে বাদর করে ফেলেছি। দূর হ জাহিল।
প্রিন্স ফুঁসে উঠল, “আম্মা...ʼʼ
“চুপ! হয় যাবি নয়ত মা বলে ডাকিস না আমাকে। কী বলে গেল শুনলি না? ছোট হিসেবে ও যেসব না করে তুই দামড়া ছেলে সেইসব কাণ্ড করিস। যা, ওকে ধর।ʼʼ
প্রিন্স কী করল গাড়ির চাবিটা নিয়ে রুমে গেল। হাত-মুখ ধুয়ে পোশাক পরিবর্তন করে টাকা নিয়ে তবে নেমে এলো। চাবি না পেয়ে দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রইল বাশার সুইট। ট্যুর থেকে ফিরে যদি সে নিজের গাড়ি না কিনে নিতে না পারে, তাহলে বাড়ি ছাড়বে। দরকার পড়লে সেতুর বাপের সাথেকার টেন্ডারবাজির চুক্তির টাকা মেরে হলেও নিজের গাড়ি কিনবে। এরপর বাশারকে গাড়িতে করে ছাড়তে এলো প্রিন্স।
বাশারের ডাক শুনে সেতু নিঃশব্দে হাসল। তার আন্দাজ মিথ্যে হয় না। সে একরকম অপেক্ষা করছিল বাশার হাঁপাতে হাঁপাতে এসে হাজিরা হাঁকবে তার পিছে।
সেতু বাশারের সঙ্গে আলফাজকে দেখতে পেল। নীল শার্ট, সাদা জিন্স। জিন্সটা হাঁটুর কাছে ফাঁটা। এই ফাঁটা প্যান্ট নিয়ে ঋতুর চমৎকার একটা ধারণা আছে—এই প্যান্টগুলো মূলত চোরবাজার থেকে পঞ্চাশ টাকা পিসে কেনা। ঋতুর কল্পনায় প্রিন্সের প্যান্ট কেনার সম্ভাব্য দৃশ্যটা এমন: দোকানদার হাঁক ছাড়ছে, 'এ লেলো পঞ্চাশ, খালি পঞ্চাশ, দেইখা লন, বাইছা লন খালি পঞ্চাশ। এইটা বোমা পড়া প্যান্ট, এইটা ঝড়ে পড়া, আর এইডা লন সিধা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মাইষের পরনে থেকে টান মাইরা খুলে আনা প্যান্ট, খোলার সময় হাঁটু ফেটে গেছে খালি পঞ্চাশ, পঞ্চাশ, পঞ্চাশ।ʼ
আলফাজের পায়ে ব্রাউন লেদার সুজ। কিন্তু গায়ের রঙে ধরা খেয়ে গেছে প্রিন্স। তার বাবা-মা কেউ কালো না। বাশারও কালো না। কিন্তু তাকে কালো বললেই ঠিক লাগে। শ্যামলার চাইতেও একটু আঁধার ত্বকের রঙ। চোখের মণি আরও কালো। এশিয়ানদের চোখের মণি হয় ব্রাউনিশ। তবু সেটাকে কালো বলে চালিয়ে দেয়া হয় কারণ আপাতদৃষ্টিতে দূর থেকে দেখতে কালোই লাগে তাই। কিন্তু প্রিন্সের চোখের মণি খাঁটি কালো, গভীর। ডান ভ্রু'তে পিন করে সিলভার পিন লাগানো। বাঁ কানে স্টাড এয়ারিং–ছোট্ট একটা বর্গাকৃতির কালো মেটাল।
'আলফাজ গাজী প্রিন্সʼ নাম মনে এলে সেতুর চমৎকার একটা ছড়া খেয়ালে আসে,
'তার ছিঁড়া, ফাঁটা জিন্স,
নাম রাখছে পাজী প্রিন্স।ʼ
অপর পক্ষের রায়ও কিছু এমনই। সেতু ছোটবেলায় গাজী বাড়িতে গেলে প্রিন্স সেতুকে ক্ষ্যাপাতো,
'চেহারা নাই ঢক,
নাম রাখছে মুতু হক।ʼ
সেতুকে প্রিন্স ডাকে মুতু বলে। বিশ্রী এই নাম ধরে ডাকা নিয়ে ছোটবেলায় প্রিন্সের সাথে সেতুর যে মারাত্মক রেষারেষি হয়ে গেছে, তা এখনও চলমান।
প্রিন্সের পড়ালেখার হিসেব গোলমেলে। সে পড়তে গেছে বড় বয়সে। কারণ তাকে গাছের সাথে বেঁধে পিটিয়েও স্কুলে নেয়া যেত না, সে যেত টাকা বাজি ধরা মার্বেল-গুলি খেলতে। এই ছোট বয়সের জুয়া বড় হবার সাথে সাথে গাঢ় হয়ে প্রিন্স এখন নামকরা জুয়াড়ি। বিশেষত পোকার খেলায় এক কড়া খিলাড়ি। তা বড় বয়সে পড়তে গিয়ে ক্লাস ফোর না পড়ে ফাইভ এরপর সেভেন না পড়ে এইট পড়েছে। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট দুইবার ফেইল। তৃতীয়বার ফারুক গাজী সাফ জানিয়ে দিলেন, 'এইবার যদি তুই ফেইল মারিস, প্রিন্স, তোকে সুইপারের কাজে লাগিয়ে দেব। মাইনষের বাড়ির গু আর রাস্তার ড্রেন সাফ করে খাবি।ʼ
প্রিন্স এই ভয়ে সেবার ইন্টার পাশ করল। এরপর ভার্সিটিতে রাজনীতি আর অবৈধ ধান্দাবাজি চালাতে গিয়ে ফেইল মারতে মারতে এক পর্যায়ে কোনো ডিগ্রি না নিয়েই পড়ালেখা থেকে ইস্তফা নিয়েছে। তার বয়সের ক্ষেত্রে মিসেস গাজী বলেন উনত্রিশ চলে, সালের হিসেবে বত্রিশ পার, কিন্তু মনের রসের দিক থেকে সে সবে বাইশ। মূলত কেউ জানে না প্রিন্সের আসল বয়স কত। ঘটনা চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও জয়া আহসানের মতো।
প্রিন্স তখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে তখন অবসর ঘুরছে।সেতু পড়ে ক্লাস ফোরে, এ সময়ই সেতুর চঞ্চলতা ফুরিয়ে একটা অসুস্থ গম্ভীরতা ভর করেছিল ওর মধ্যে। একদিন বিকেলে কোচিংয়ে যাবার সময় রাস্তার মোড়ে দেখা গেল একদল কিশোর রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে। কেউ কেউ সাইকেলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, আর তাদের কাধে হাত মেলে আরেক হাতে প্রিন্স সিগারেট ধরাচ্ছে। সেতুকে দেখে প্রিন্স সিগারেটটা হাতে সামলে আবার ঠোঁটে রাখল। সেতুর পিঠে চেইন ছেঁড়া ব্যাগ। গায়ে সুতি কাপড়ের ফ্রক, পায়ে রবারের পন্স বার্মিজ। ঘাঁড়ের ওপর অগোছালো চুল। সেতু কাধের ব্যাগটাকে লজ্জায় বারবার পিঠপিছে আড়াল করতে চাইছে। মুখে-চোখে নিদারুণ অসহায়ত্ব। এতগুলো সদ্য দাড়ি-গোফ গজাতে শুরু করা কিশোরদের নজরের সামনে বালিকা সেতু নাস্তানাবুদ হয়ে উঠল। ব্যাগের চেইন ছেঁড়া, সুতো ওঠা। বই-খাতা সব দেখা যাচ্ছে। প্রিন্স হো হো করে হাসতে লাগল। সেতুকে যাবার জায়গা না দিয়ে বরং পথ আঁটকে দাঁড়াল।
সেতুর চিকন হাতের কব্জি ধরে টান মেরে সামনে দাঁড় করিয়ে ব্যাগের ছেঁড়া চেইনে আঙুল নেড়ে ঠাট্টা করতে করতে বলল, “কী রে! ভিত্রের মালপত্র যে সব দেখা যাইতেছে। তোর আব্বার কি ঘাড়ে ঝোলা উঠছে নাকি রে? ঠিকাদারী চলে না? ঠিকাদারি চলে না, চলে না, চলে না রে ও ঠিকাদারী চলে না...আমার বাপের কাছে যাইতে বলিস, কিছু পয়সা পেলে তাও নাহয় তোরে একটা স্কুলব্যাগ কিনে দেবে।ʼʼ
এই বলে জলন্ত সিগারেটের আগুন ছুঁইয়ে ব্যাগ ছেঁড়া উল-জাতীয় সুতোগুলো পোড়াতে লাগল প্রিন্স। সেতুর চোখে পানি এসে গেল। সে থুতনিটা বুকের সাথে ঠেকিয়ে মৃদু কাঁপতে লাগল। প্রিন্সের বন্ধুরা অসম্ভব মজা পেয়ে হাসতে হাসতে বলল, “এটা কে রে প্রিন্স?ʼʼ
প্রিন্স জানাল, “এটা? এটা হলো আমাদের মুতু ম্যাডাম। মিস মুতু হক।ʼʼ
হু হা করে হেসে ঢলে পড়ল সব, “মুতু? ও কি সারাদিন মুতু করে? ছিঃ, গন্ধ। ছেড়ে দে ভাই এই মেয়েকে। মুতু করা মেয়েকে ধরে রাখিস না। নাকে গন্ধ আসছে।ʼʼ
সেতু কেঁদে ফেলল। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে মুখের ওপর হাত চেপে ধরল। তার কান্না এতই করুণ দেখাল যে বাকি কিশোরেরা থেমে গেল। সজল হলো ওদের চোখ, অপরাধবোধ ফুটে উঠল। ওইটুকু মেয়ের কান্নায় যে এত গভীর আবেগ আর কষ্ট ফুটে উঠতে পারে তা দেখে অবাক হলো। কিন্তু প্রিন্সের মুখে তখন তৃপ্তির হাসি। মেয়েদের কাঁদতে দেখলে তার ভাল্লাগে। তাও আবার যদি হয় কালাম হকের বাড়ির মেয়ে। কালাম হকের সাথে প্রিন্সের বাবা রাজনীতি করে। এই মনের দ্বন্ধ তো আর মেটে না। প্রিন্স কোনদিনই কালাম হককে সহ্য করতে পারে না আর না তার কোনো লোককে।
সেদিন বাড়ি ফিরে সেতু পাগলের মতো কাঁদল। বুকে কেমন ব্যথা। তখনও তার ভ্যা ভ্যা করে কাঁদার সময়, গভীর বেদনা অনুভবের বয়স হয়নি। কিন্তু সেতু কাঁদল ফুঁপিয়ে, নিঃশব্দে। তবে এই বিশ্রী ঘটনা কাউকে বলল না। চোখ বুজলেই তার গা ভার হয়ে আসছিল। সে ছোট হলেও একটা মেয়ে, তাকে নিয়ে রাস্তাঘাটে সবার সামনে এমন ঠাট্টা খুব নিচু ঘটনা, এটুকু সেতু ভালোমতোই বোঝে। কাঁদতে কাঁদতে সেতুর বিরক্ত লাগা শুরু করল। কেঁদে সে আরও অতৃপ্ত হতে লাগল। কাঁদাটা জগতের নোংরা প্রতিক্রিয়াগুলোর একটা, এটা সেতুর মনে সেভ হয়ে গেল। টিট ফর ট্যাট...
ফারুক গাজীর বাড়িতে তাদের বাড়ির যাতায়াত ভালোই। সেতু পরদিন বিকেলে গিয়ে বাগানের পার্কিংয়ে প্রিন্সের সেই সাইকেলের ব্রেক কেবলের কুণ্ডলিত অংশটা আলগা করে রেখে এলো, এই কাজ সে এর আগে নিজের ভাই সন্টুর ক্ষেত্রেও করেছে, হাত পাকা। সে জানে এভাবে ব্রেক ফেইল হয়। প্রিন্স নিজের ফিনিক্স সাইকেলটাকে চালায় ঘোড়ার বেগে। সেই সাইকেল দিয়ে ভরা মেইন রোডে রেস দেয়। পরদিন সেইমতো সাইকেলের গতি তুলে প্রিন্স টের পেল ব্রেক ফেইল। ভাগ্যক্রমে সাইকেলটা দুম করে বাড়ি খেল এক জাপানি মটরসাইকেল ইয়ামাহার সাথে। তার হাঁটুর মাংস খাবলা ধরে উঠে গেল। হাঁটুর নিচে ফিমারে ফ্রাকচার- একমাস বেডরেস্ট। কপাল কাটল, হাতের চামড়া ছিলে গেল, কানে বাড়ি খেয়ে সাময়িক কালা হয়ে গেল। কানে কথা ঢোকে না।
সেতুর মা ফারুক গাজীর ছেলেকে দেখতে গেলেন। সঙ্গে গেল সেতু। গিয়ে প্রিন্সকে যে হালে পেল পটি মারা, জোড়াতালি দেয়া শরীর নিয়ে শুয়ে আছে, সেতু এতটাও আশা করেনি। তার ভালো লাগল। সুযোগ বুঝে সে প্রিন্সকে বলল, “কাউরে অপমান করলে সেও এমনে ল্যাংড়া-পঙ্গু হয়ে যায়। এবার বোঝ ল্যাংড়া আমের কত সাধ।ʼʼ
সেতুর কথা শুনে বিস্ময়ের রাগে-ক্ষোভে পাগলপ্রায় হয়ে প্রিন্স পশুর মতো করে বলল, “একটাবার খালি উঠে দাড়াই। খুদার কসম মুতু তোর আমি মুতু বাইর করে ছাড়ব। শুয়োর মাগী, তোকে যদি ছিঁড়ে দুইভাগ না করি আমি, আমি আলফাজ গাজী না। মনে রাখিস ফকিন্নির বাচ্চা।ʼʼ
নয় বছর বয়সী সেতু দমল না সেদিন, কাঁদল না, ভয় পেল না। বরং বয়সের সাথে সামঞ্জস্য উপায়ে জিহ্বা বের করে ভেঙচি কেটে বলল, “আবে যা যা, পারলে আমার বালগুলো ছিঁড়ে বোঝা বেঁধে হাঁটে বিক্কিরি করিস। আগে উঠে তো দেখা। আমি যদি মুতু হই, তো তুই পাজী কালাপাঠা।ʼʼ
এই বয়সে কোনো মেয়ের আচরণ ও ভাষা অস্বাভাবিক প্রতিশোধপরায়ণ ও ইগোয়েস্টিক হিসেবে সেতু পেল পাগলের খেতাব। এদিকে তাকে নিত্য অশ্রাব্য গালি ও হিংস্রতা শেখানোর জন্য বাড়িতেই চমৎকার এক শিক্ষক মওজুত ছিল সবসময়–কালাম হক। ওই ঘটনার জন্য সেতুকে লিপি বেগম স্টিলের স্কেল দিয়ে এমন মার মেরেছিলেন, শরীরে স্থায়ীভাবে কেটেকেটে দাম পড়ে গেছিল, সাথে কালাম হকের গালিগালাজ ও চড়-থাপ্পর ফ্রি।
সেই মেয়েকে প্রিন্স আজ অবধিও বাঁচিয়ে রেখেছে, সে নেহাত ভালো মানুষ বলে। কিন্তু বাশারকে যে জাদু করেছে সেই জাদু ছুটানোর জন্য কবিরাজ ধরা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
আজ সেতুর পরনে অভিজাত্যপূর্ণ পোশাক। সালোয়ারটা লাল, ছায়ার মতো ঘেরবিশিষ্ট। কামিজটা কালো। ঝলমলে লাল-কালোর রংমিশ্রণের জর্জিয়াট ওড়নাতে সূতো ও স্টোনের কাজ। পায়ে বাদামি ও সোনালীর মাঝামাঝি চমকপ্রদ রঙের ক্লাসি পেন্সিল-হিল। গা থেকে চ্যানেল নং ফাইভ ভ্যাটিভার পারফিউমের মেয়েলি সুঘ্রাণ ভেসে আসছে। প্রিন্সের গা শিউরে উঠল। এ পর্যায়ে তার খেয়াল হলো এই বজ্জাত মেয়েলোকটাকে কিছুক্ষণ যাবৎ খুঁটিয়ে দেখছে সে। সঙ্গে সঙ্গে অশ্রাব্য এক গালি দিয়ে স্থানত্যাগ করল। সে যে এসে দাঁড়াল, মিনিট কয়েক দাঁড়িয়েই রইল। অথচ সেতু তাকাল না, না কোনো সৌজন্যবোধ আর না হেলদোল। সে কখনও কারও সামনে এভাবে অগ্রাহ্য হতে অভ্যস্ত নয়। লোকে তাকে সামনে দেখতেই ব্যতিবস্ত হয়–হয় ভয়ে নয়ত সম্মানে।
আলফাজ চলে গেলে বাশার সুর করে সেতুকে বলল, “সেতু...তোকে হেব্বি লাগছে, তোকে হেব্বি লাগছে রে তোকে হেব্বি লাগছে।ʼʼ
সেতু এমনভাবে তাকিয়ে রইল যেন কেউ বলেছে সূর্য পূর্বদিকে ওঠে। এত স্বাভাবিক বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেবার কিছু নেই।
—
অদ্রিজের একটা বাস ভরে গেল বিনে পয়সার জনগণে। সিধু অবাক চোখে দেখল পঙ্গপাল ফড়িংয়ের মতো ঝাঁক বেঁধে বেরিয়ে আসছে সব, যেন এখানে ভরা শস্যক্ষেত উদিত হয়েছে। সব প্রস্তুতই ছিল যে ডাক পড়লেই ঝাঁপিয়ে পড়া হবে। নিশ্চিতভাবে কয়েক লাখ টাকার খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতির সাথে যাত্রার দায়িত্ব ঘাঁড়ে তুলে অদ্রিজ চেয়ার পেতে বসে সবাইকে কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে। সিধুর গা জ্বলতে লাগল রুয়াদের কথা মনে পড়ে। রুয়াদ দূরে নিজের থেমে থাকা বাসে তদারকি করছে। এবং প্রথম বাসটায় অদ্রিজের পরিবার ও চাঁদা দেয়া লোকজন।
নয়নতারা দেখল কেউ-ই তেমন জমকালো পোশাকে আসেনি। রাতের সফরে এটাই স্বাভাবিক। অ্যানির কথায় শাড়ি পরে এসে ঠকা হলো তার। তার দুঃখ হলে খিদে পায়। সে নাফিকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে একবক্স কোণ আইস্ক্রিম কিনে এনে খেতে লাগল। নাফির সাথে খুব কষ্টে ভাব জমানো গেছে। কিন্তু এর বদলে ভাগে দুটো আইসক্রিম নাফিকে বেশি দিতে হয়েছে।
ঋতু গাড়িতে উঠেই প্রফুল্ল স্বরে বলে উঠল, “নয়ন! তোকে যা দেখতে লাগছে না মেয়ে! হেরোইন লাগছে হিরোইন।ʼʼ
বন্দের বলল, “হেরোইন(ড্রাগ) না হিরোইন সেটা ক্লিয়ার করো।ʼʼ
ঋতু বলল, “দুটো কাছাকাছিই রে! নয়নকে দুটোর মিলিয়ে পুরা নেশা লাগছে, নেশা।ʼʼ
বলেই দৌড়ে নয়নের কাছে গিয়ে ব্যাগ থেকে কাজল বের করে কপালের কোণায় ছোট্ট এক ফোঁটা দিয়ে সারল, “নজর না লাগুক। থু থু!ʼʼ
নয়নতারা কপাল চাপড়ে ঠোঁটে লজ্জার হাসি চেপে বলল, “পাগল হলে ফুপি, বসো তো এখানে।ʼʼ
ঋতু ঝুঁকে নয়নতারার কপালের ওপর মাথার সিঁথিতে একটা চুমু খেয়ে বলল, “উহু! স্বজনপ্রীতিতে এখানে বসলে তো হবে না। তালিকা ধরে সিট নিয়ে বসতে হবে নয়ত গোলমাল হবে।ʼʼ
মাঝের দিকে একটা সিট পাওয়া গেল। কিন্তু বন্দের বলল, “খালা ওইটা মাইনষের সিট। তুমি এইখানে আসো আমার পাশে। তোমার জন্য বন্দেরের জান কোরবান।ʼʼ
ঋতু মুখ ভেঙচে বলল, “না প্রিয় ভাগ্নে, জান কোরবানী দেবার আগে তুমি সকালে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যেস করো, তারপর ভাববো তোমার জানের কোরবানী গ্রহণ করব কিনা।
এতবড় অপমানে বন্দেরের মরে যেতে ইচ্ছে করল না বলে তার মনে হলো সে বোধহয় এখনও জর্দার নেশায় আছে। নয়ত এখন তার উচিত দৌড়ে গিয়ে পুকুরে ঝাপ দিয়ে মরা।
ঋতু সিটের মাঝে দাঁড়িয়ে রইল গম্ভীর মুখে। সে সময় বাসে উঠলেন এক লম্বা পুরুষ। উঠতে গিয়ে বাসের দরজায় একটু মাথা নত করতে হলো তাঁকে। কিন্তু নয়নতারার এর চেয়ে লম্বা পুরুষ চেনা আছে—তার ছোটচাচা। রুয়াদ হলো আস্ত সুপারি গাছ। তবে নয়নতারার নারীচক্ষু আজ দ্বিধায় পড়ল চাচ্চু তো চাচ্চুই, তা এই পুরুষ ও চাচ্চুর মাঝে কে বেশি আকর্ষণীয় ও সুদর্শন? সে কি আগে কোনো পুরুষকে এরূপ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে?
নয়নতারা ও অ্যানি তখন গল্প করছিল। দুজনের দৃষ্টি একসঙ্গে থামল পুরুষটির ওপর। নয়নতারার নজর স্থির হয়ে ভ্রু কুঁচকে গেল, সে দেখল এক সম্ভাব্য চেনা পুরুষকে। যাকে দেখেই নয়নতারার মনে হলো কিছু সময় পূর্বেই সাক্ষাৎ ঘটেছিল। আর অ্যানি দেখল চুল-দাড়িতে খুর পড়া বয়স ত্রিশে বিচরণকারী অদ্রিজ প্রধানকে।
নীরবতা ভেঙে নয়নতারা চটপটে গলায় বলে উঠল, “এই যে আপনি তখনকার সেই বমি করা লোকটা না?ʼʼ
লোকটা তাকালেন। নয়নতারার বুক খামচে ধরল সেই দৃষ্টি। পলক না পড়া নির্জীব মৃতর মতো চাহনি। দুপুরে দেখার সময় চেহারা ভালোমতো বোঝা যায়নি। এখন ফর্সামতো একটি পুরুষচেহারা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। যিনি বয়সে নয়নতারার চেয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বড়। ফর্সা চেহারায় কালসিটে পড়া দাবা চোখজোড়া ল্যাবরেটরিতে রাখা মৃতদেহের চোখের মতো। সেই চোখের লেন্স দুটো সমুদ্র-মাফিক গভীর আর রঙিন জ্বলজ্বলে। কোনো জীবন্মৃত পিশাচ যদি রক্তের তৃষ্ণায় কোনো মানুষকে দেখে, হতে পারে তাঁর চাহনি এমনই হবে। খুরের মতো ধারাল চোখের দৃষ্টি। অস্বাভাবিক একটি চেহারা একধ্যানে শুধু তাকিয়েই থাকল নয়নতারার দিকে। নয়নতারার অস্বস্তি হতে লাগল। সে নিজের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হতে চাইল কোথাও কোনো গড়বড় হয়েছে কিনা। না, সব ঠিকঠাক। তাহলে লোকটা ভাবে চোখে গেলার মতো তাকে দেখছে কেন?
অ্যানি ফিসফিস করে বলল, “তারা, তুমি চেনো তাকে?ʼʼ
নয়নতারা বেখেয়ালী কণ্ঠে বলল, “চিনি বলতে আজই দুপুরে সাক্ষাৎ হয়েছিল। অসুস্থ ছিলেন উনি। উনাকে এখন এখানে দেখব ভাবিনি...ʼʼ
নয়নতারা থেমে গেল। কেন ভাবেনি সে? অপরিচিত অসুস্থর বলে যাওয়া শেষ বাক্যটি সে ভুলে বসেছিল—'তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে, তুমিই মিলিয়ে নিও।ʼ
নয়নতারা বিস্মিত হয়ে তাকাল। তখনও লোকটা একই দৃষ্টিতে তাকেই দেখছেন। নয়নতারা সেদিকে দৃষ্টি রেখেই নিচু স্বরে শুধাল, “কে লোকটা?ʼʼ
অ্যানি রসিক স্বরে জানায়, “কালপুরুষ।ʼʼ
নয়নতারা কপাল জড়ায়, “হু? কালপুরুষ?ʼʼ
নয়নতারার ঠোঁটে স্মিত হাসি ফুটল। নামটা বোধহয় পছন্দ হলো তার। সে একবার আওড়াল, “কালপুরুষ!ʼʼ এ তো এক নক্ষত্রমণ্ডলের নাম।
এ সময় ঋতু তার শান দেয়া গলায় চেঁচিয়ে উঠল, “আরে অদ্রিজ প্রধান না?ʼʼ
নয়নতারার চঞ্চল ও চতুর মস্তিষ্কে সক্রিয় চিন্তা খেলে গেল, “অদ্রিজ প্রধান মানে? মাসুরা ফুপির ছেলে? চাচ্চুর বন্ধু...ʼʼ
অদ্রিজ প্রধান বাসের মধ্যে উঠে এসে সকলের সম্মুখে নয়নতারা সিটের পাশে দণ্ডায়মান হলেন। নয়নতারা চুপ করে গেল। অদ্রিজ প্রধানের হাতে একটি ধাতব মুদ্রা-কয়েন দেখা গেল। যেটা তিনি আঙুলের মাঝে নিয়ে খেলছেন। অদ্রিজ প্রধান ঋতুকে বললেন, “তুই ওখানে কেন?ʼʼ
ঋতু নাক শিউরে জানাল, “তোমার ব্যবস্থাপনা খুবই খারাপ।ʼʼ
অদ্রিজ প্রধান প্রতিবাদ না করে হাসলেন, “তাই নাকি?ʼʼ
“অবশ্যই তাই। আমি এখনও সিট পাইনি।ʼʼ
“পাশেই সিট খালি দেখছি, বসে পড়।ʼʼ
“ওটা আমার না।ʼʼ
“কে বলেছে? সিট বলেছে তাই? আরেকবার বলতে বল তো। শুনি।ʼʼ
ঋতু কটমট করে তাকিয়ে কিছু বলতে চেয়েও না বলে বসে পড়ল সিটে। তখন নিচ থেকে এক লোক এসে ডাকল অদ্রিজকে, “প্রিন্স ভাই ডাকছেন আপনাকে।ʼʼ
অদ্রিজ প্রধান নেমে গেলেন। তার পরপরই বাসে এক ছেলে উঠে ঋতুর সিট অবধি গিয়ে ঋতুর ভয়ানক মুখ দেখে আর বলার সাহস পেল না 'ওটা তার সিটʼ। সে নয়নতারার পাশের খালি সিটটায় এসে বসে পড়ল। নয়নতারার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসল। তার হাসি বলল সে অত্যন্ত খুশি ও পরিতৃপ্ত এখানে বসতে পেরে, বিজয় বিজয় ভাব হাসিতে, মেঘ না চাইতেই বন্যার ঢল পাওয়া হাসি। হাত বাড়িয়ে দিলো নয়নতারার দিকে, “হাই, আমি মামুন। আপনার পরিচয়টা জানতে পারি, মিস?ʼʼ
নয়নতারার বয়সী মেয়ের ক্ষেত্রে এ হলো পরিচিত বাক্য। নয়নতারার দম আঁটকে গেল। সে ওভাবেই একটু হেসে বলল, “জি নিশ্চয়ই, তার আগে উঠুন তো আপনি একটু!ʼʼ
ছেলেটা বুঝতে না পেরে উঠে দাঁড়াতেই নয়নতারা নিজের ব্যাগ ও ক্যানভাসটা বুকের সাথে আগলে নিয়ে শাড়ির কুচি গুটিয়ে পিলপিল পায়ে বাসের দরজা অবধি এগিয়ে গেল। ঠিক দরজার মুখে তখন অদ্রিজ উঠে আসছিলেন। এবং আগ্রাসী ভঙ্গিতে উঠে আসলেনও, পিছিয়ে বরং বাসে ফিরতে হলো নয়নতারাকে। আবারও সে অদ্রিজের সেইরকম চাহনির তোপে পড়ল। নয়নতারা এ পর্যায়ে একটু চিন্তিতও হয়ে পড়ল—তার আরেকটু লম্বা হওয়া দরকার। দাদু বলে ষোলো বছর অবধি মানুষ লম্বা হয়। সেই হিসেবে সে এমন লম্বা মানুষদের তুলনায় খাটো রয়ে গেছে। লোকটার মুখ দেখতে নয়নতারাকে মাথা উচু করতে হচ্ছে।
অদ্রিজ শান্ত-ঠান্ডা প্রশ্ন করল, “কোথায় যাচ্ছ?ʼʼ
নয়নতারা আস্তে কোরে বলল, “নেমে যাচ্ছি।ʼʼ
অদ্রিজ প্রশ্ন করলেন না 'কেনʼ। তিনি নয়নতারার সিটের দিকে তাকালেন সেখানে বসে এক যুবা-কিশোর অবুঝের মতো তাকিয়ে আছে ওদেরই দিকে। অদ্রিজ ঘাড় নেড়ে ইশারা করলেন ছেলেটাকে, “সিট থেকে বের হয়ে আয়।ʼʼ
ছেলেটা বের হয়ে এলো। অদ্রিজ নয়নতারাকে ইশারা করলেন, “যাও!ʼʼ
নয়নতারা একবার পেছন ফিরে সিট দেখে নিয়ে ফের অদ্রিজের দিকে তাকিয়ে একগাছা চুল কানের পেছনে গুঁজল। অদ্রিজ প্রধানের কী হলো বলা যায় না, তবে তিনি সামান্য ঠোঁট ফাঁক করে একটা শ্বাস ফেলে ঢোক গিললেন। তাঁর গলার স্বরযন্ত্রের অ্যাপলটার উঠানামা নয়নতারার নজর এড়াল না। নয়নতারা দ্বিধান্বিত পায়ে ফের গিয়ে বসল সিটে। অদ্রিজ ঋতুকে বললেন, “তুই বেরিয়ে আয়।ʼʼ
ছেলেটাকে ওখানে বসিয়ে ঋতুকে বলল, “তুই তিন নম্বর বাসে চলে যা।ʼʼ
“নয়ন এখানে, ওকে ফেলে আমি যেতে পারি না।ʼʼ
অদ্রিজ বললেন, “ও ঠিক থাকবে এখানে। তুই নিশ্চিন্তে যা।ʼʼ
অদ্রিজের চোখের দিকে তাকালে তর্ক করা যায় না। এক রাজ্য শীতল-অধিপত্য খেলা করে সেখানে। ঋতু অগত্যা বলল, “ওখানে গিয়ে কী বলব?ʼʼ
“কিচ্ছু বলতে হবে না। সোজা গিয়ে বসে পড়।ʼʼ
এরপর তিনি সামনে দণ্ডায়মান হয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললেন, “তো! ব্যবস্থাপনার কাজে নির্দিষ্ট সময় থেকে একটু দেরি হবার জন্য দুঃখিত। এই বাস এখনই ছাড়বে। সবাই প্রস্তুত?ʼʼ
সবাই উৎফুল্ল হয়ে সমস্বরে বলল, “প্রস্তুত।ʼʼ
এরপর নয়নতারার পাশের খালি সিটটা দেখে নিয়ে অদ্রিজ বন্দেরকে ডেকে বললেন, “বন্দের তুই সামনে এখানে এসে দাঁড়া। ব্যবস্থাপক সিটে বসে থাকবে না।ʼʼ
বন্দের উঠে এসে দাঁড়াল পাশে। নয়নতারা বুঝল তার জন্যই বন্দেরকে সিটটাতে বসতে বলা হলো না। বন্দের ভাই লোকটি দাঁড়িয়ে যাবে সারারাত এভাবে! সে'সময় বাসে উঠে এসে আরও তিনজন লোক দাঁড়াল। বোঝা গেল বাসের তদারকির জন্য এদেরকে সাথে দিচ্ছেন অদ্রিজ। এরপর আর বিলম্ব না করে ড্রাইভারকে বাস ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে অদ্রিজ নেমে গেলেন বাস থেকে। এবং তিনি দরজার কাছে পা রাখতেই নয়নতারা বলে উঠল, “আরে উনি নেমে যাচ্ছেন কেন? যাবেন না?ʼʼ
বন্দের বলল, “অদ্র ভাই প্রাইভেট গাড়িতে যাবে, নয়ন।ʼʼ
নয়নতারা অনিয়ন্ত্রিতভাবেই বলে ফেলল যেন, “আমিও যাব!
অদ্রিজ সেই মুহূর্তে ফিরে তাকালেন। নয়নতারার সুশ্রী মুখটা তখন দেখার মতো। চোখে আবদার, ঠোঁট ও থুতনিতে দ্বিধা, এবং নিষ্পাপ সৌন্দর্য পুরো মুখটাতে সুবাসের মতো ছড়িয়ে আছে। অ্যানি পিছনের সিট থেকে মুখ বাড়িয়ে বলল, “কী হয়েছে, তারা?ʼʼ
নয়নতারা রিনরিনে কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল, “অ্যানি ভাবী, এখানে এত লোকের মধ্যে এভাবে যেতে না আমার অস্বস্তি হচ্ছে। বাসে কখনও চড়িনি আমি।ʼʼ
অ্যানি না চাইতেও মিষ্টি মেয়েটির মুখপানে চেয়ে মুচকি হাসল, এসময় তার সুশ্রী মুখটা মৃদু দ্বিধান্বিত দেখাল, “তুমি উনার সাথে যাবে?ʼʼ
নয়নতারাও দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে উঠল এই প্রশ্নে, “আব...উনি পার্সোনাল কারে যাবেন না?ʼʼ
অ্যানি বলল, “হ্যাঁ, তারা।ʼʼ
নয়নতারা জবাব দিতে পারে না। সে বরং কীসের এক প্রত্যাশা-ভরা দু'চোখ মেলে পুরুষটির দিকে তাকায়। এতে চোখাচোখি হয়ে যায়। অদ্রিজ তার দিকেই তাকিয়ে আছেন একদৃষ্টে। নয়নতারা চঞ্চল ঢোক গিলে ঠোঁটে ঠোঁট গোজে, দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগে মেয়েটার মুখভঙ্গি ও চোখের দ্বিধা।
বিনিময়ে অদ্রিজ প্রধান পরিমাপকৃত দুটো শব্দ উচ্চারণ করলেন কেবল, “নেমে এসো।ʼʼ
নয়নতারা পরীর মতো শাড়ির আঁচলের ডানায় ভর করে উঠে গেল। তার উচ্ছ্বাস জানাতে পায়ের নুপুর ঝনঝন করে বেজে উঠল। অপটু হাতে শাড়ি সামলাতে গিয়ে সে আচলখানি ভাঁজ করে কাঁধে তুলে বাসের দরজায় গিয়ে পৌঁছাল। কিন্তু এখানে তার ব্যাগ, শাড়ির কুচি, প্রিয়তম ক্যানভাস তাকে সংকটে ফেলল। এই সংকট দূর করতে অদ্রিজ প্রধান এগিয়ে এলেন। এবং আকস্মিকভাবে প্রথমেই তিনি নয়নতারার শাড়ির আঁচল টান মেরে নামিয়ে দিলেন। নয়নতারা চমকে গেল, আন্দাজ করে লজ্জা পেল আঁচল কাধে তোলার ফলে তার বোধহয় পেট অনাবৃত হয়ে গিয়েছিল। অদ্রিজ এরপর একে একে ব্যাগ, ক্যানভাস হাতে নিয়ে অপরহাতে নয়নতারার নরম হাতখানা চেপে ধরে নিজ শরীরের অবলম্বন দিয়ে নামিয়ে নিলেন নয়নতারাকে। সকলেনিঃশব্দ দেখল ঘটনাটুকু।
রাত বারোটা সাত মিনিটে এই বাসটা ময়মনসিংহ ছাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পড়ল। নয়নতারা দাঁড়িয়ে দেখল বাসের প্রস্থান। অদ্রিজ তখন তার ক্যানভাস ও ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন তার পাশে। নয়নতারাকে দেখতে বেজায় প্রফুল্ল লাগল। সে এক বিজয়নীর মতো শ্বাস টানল। অতলোকের মাঝে বসে সফর করার পরিবেশ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে আনার বিজয়ে সে আজ বিজিতা। মুখে-চোখে মুক্তির সুখ ও বাঁধনছাড়া চঞ্চলতা। আজ সে যাবে প্রকৃতির খোঁজে, বাতাসে ভেসে।
দুটো বাস ছেড়ে দিলো। ছাড়ল না রুয়াদেরটা। বাসে সে থাকায় বাসটাও তারই মতো নিয়মিত ও সময়জ্ঞানী হয়ে উঠেছে। তার বাসটা স্পট থেকে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়ানো। ঋতু গটগট করে গিয়ে উঠল সেখানে। লম্বা একটি পুরুষ কাপড়ের ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নেড়ে নেড়ে তদারকি করছে সেখানে। এবং সেই পুরুষটিকে ঋতু অপ্রত্যাশিতভাবে রুয়াদ ঠাহর করে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। অস্ফূট স্বরে উচ্চারণ করল, 'রুয়াদ ভাইয়া!ʼ
রুয়াদ তখন একটি মেয়েকে জিজ্ঞেস করছে, “তোমার নাম কী?ʼʼ
মেয়েটি বলল, “আমার নাম রিয়া।ʼʼ
রুয়াদ তালিকায় দেখল রিয়া নাম আছে। সে ডাকল, “ঠিক আছে ম্যালেরিয়া তুমি এদিকে এসো।ʼʼ
রিয়া সরু গলায় চেঁচিয়ে উঠল, “কীহ্! ম্যালেরিয়া?ʼʼ
“ও আচ্ছা ম্যালেরিয়া না? ঠিকাছে ডায়রিয়া তুমি এখানে এসে বসো তুমি।ʼʼ
ঋতু দম আঁটকে একবার পিছু ফিরে সেতুকে দেখল। চিকন হাইহিল পায়ে অধিপত্যের রাণীর মতো শীতল পা ফেলে সেতু এগিয়ে এসে বাসের থেকে একটু দূরে দাঁড়াল।
আলফাজ গাড়ি নিয়ে এসে শব্দ করে ব্রেক কষে থামল। বাবা টাকা দিয়েছে সতেরো হাজার, বলেছে, “আর নেই। এই ঢের।ʼʼ
আলফাজ মানিব্যাগ বের করে তিনটে হাজার টাকার নোট বের করে সতেরো হাজারে মিলিয়ে আরেকবার একটানে গুণে নিলো। এরপর রাবার মেরে বিশ হাজারের বান্ডের করে গাড়ি থেকে বেরোলো। তাকে বেরোতে দেখে সেতু ধীরে ধীরে হেঁটে বেশ কিছুদূর গিয়ে দাঁড়াল।
আলফাজ বাশারের সামনে গিয়ে বলল, “ব্লেজার এনেছিস কোন দুঃখে? এটা কি ইউরোপ পেয়েছিস যে বারোমাস ব্লেজার ব্যবহার করা যাবে? দে ওটা!ʼʼ
বাশার কথা বলল না। আলফাজ ধমকে বলল, “টাই কোথায়? টাই পকেটে রাখার জিনিস?ʼʼ
বাশার চুপচাপ টাইটা বের করে আলফাজের হাতে দিলো। আলফাজ টাইটা বাশার গলায় রেখে চট করে ফাঁস মারল, দাঁত খিঁচে বলল, “আমার কথা না শোনার জন্য একদিন এভাবে দম করে মেরে ফেলব তোকে।ʼʼ
বাশার ঘেন্নাভরে চেয়ে থাকল ভাইয়ের দিকে। কথা বলল না। প্রিন্স শার্টের ওপর টাই বেঁধে দিয়ে টাকাটা হাতে দিলো বাশারের। বাশার টাকা গুণে খুশি হয়ে নিজে নিজেই বলল, “বাবা বিশ হাজারই দিয়েছে! ভেবেছিলাম না বিশ হাজার দেবে।ʼʼ
আলফাজ কথা না বলে চুপচাপ গিয়ে গাড়িতে বসল। তার শরীর চিড়বিড় করে জ্বলতে লাগল সেতুর সঙ্গে বাশারের এই যাত্রা দেখে। প্রিন্স এক মুহুর্তের মাঝে পরিকল্পনা এঁটে ফেলল এই সিলেট সফরই হবে সেতুর জীবনের শেষ সফর। ওকে ওই সিলেটেই পুঁতে ফেলে বাশারের জীবন থেকে ছুটি দেবে খুব শীঘ্রই। এবং এমনভাবে মারবে মেয়েলোকটাকে, লোকে লাশ দেখতে চোখ মেলতে পারবে না। পৈশাচিক এক হাসি জ্বলজ্বল করে উঠল প্রিন্সের ঠোঁট ও কালো কুচকুচে চোখের মণিতে।
সেতু সদর্পে এগিয়ে গেল বাসে ওঠার উদ্দেশ্যে। ঋতু তখনও থমকে দাড়িয়ে বাসের দরজায়।
চলবে...
[রোজকার মতোই দুঃখিত এত দেরি করবার জন্য। আসলে লেখার পরে পর্ব আমার মনমতো না হলে দিতে পারি না, তবু সচরাচর আপনাদের জন্য দিয়ে দিই যা-তা। এছাড়া মূলকথা হলো একেকটা পর্ব নির্দিষ্ট কিছু দৃশ্যপট অনুসারে সাজানো হয়। সেগুলোর সবটা রেখা সম্পন্ন না হলে পর্ব অসম্পন্ন রেখে আপলোড দেয়া যায় না।
টাইপিং মিসটেক থাকতে পারে। এ সহ সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন। ভালোবাসা❤️]