#আমি_তরুলতা (০৪)
#সোফিয়া_সাফা
ওয়েটার চলে যেতে নিলেই তরু বলে উঠে—
"আমি আমার কাজের জন্য মোটেও অনুতপ্ত নই বুঝলেন, আপনি ভুল করেছিলেন আমাকে জ্ঞান দিতে এসে তাই ক্ষমা আপনার চাওয়া উচিৎ ছিলো। যদিও আমার কাছে আপনি ক্ষমা চাননি তবুও আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিচ্ছি, কারণ আমার লাভ আমাকে অর্ডার করেছে। আসলে কি বলুন তো আমার লাভবার্ডটা সবসময় আমার দোষটাই দেখে, আমি কেনো সেই দোষটা করলাম সেটা কখনোই খোঁজেনা। By the way I am sorry. আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।"
কথাগুলো একনিশ্বাসে বলে তরু থামলো। এইদিকে তরুর এরকম কথার আগা গোড়া কিছুই বুঝতে না পেরে ওয়েটার তরুর দিকে তাকাতেই তরু ওয়েটারের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকায়। তরুর লাল লাল চোখদুটো দেখে ওয়েটার একটা ছোট্ট ঢোক গিলে সেখান থেকে কেটে পড়ে।
অন্যদিকে তরু পরপর দুইবার "লাভ" বলে সম্মোধন করাতে নীলাভ ভ্রু কুঁচকে তরুর দিকে তাকায়, কেউ তাকে "লাভ" বলে ডাকুক এটা তার পছন্দ না। এককথায় "লাভ" শব্দটি তার কাছে বরাবরই খুব অপ্রিয়, এমনকি আয়ুকেও সে কখনো তাকে "লাভ" বলে ডাকতে দেয় না। সেখানে এই অপরিচিত মেয়েটির মুখ থেকে এই অপ্রিয় শব্দটি শুনে তার রাগ যেন সপ্তম আকাশে। তরু পিছনে তাকাতেই দেখে নীলাভ তার দিকে রাগি লুকে তাকিয়ে আছে, যেটা দেখে তরু নীলাভকে একটা চোখ টিপ মারে।
এবার নীলাভ আর সহ্য করতে না পেরে দাঁতে দাঁত চেপে নিম্নস্বরে বলতে থাকে—
"আপনার মতো বেয়াদব মেয়ে আমি এই প্রথম দেখলাম। আপনার এই চেহারাটা আমি আমার মেমোরিতে নোট করে রাখলাম। পরেরবার আপনাকে কোথাও দেখলে সোজা জেলে নিয়ে যাবো, তারপর এমন শাস্তি দেবো যে আপনার এই বেহায়াপনা, পাগলামি আর অসভ্যতামি সব বের হয়ে যাবে। আমাকে আপনি না চিনে ভুল করেছেন— একজন অন ডিউটিতে থাকা পুলিশ অফিসারের সাথে এরকম আচরণ করার কারণে আমি চাইলেই আপনাকে লক আপে ঢোকাতে পারি। তবে আমি এখানে একটি জরুরি কাজে আসাতে আপনি এই যাত্রা বেঁচে গেলেন। ভবিষ্যতে কখনো এই ASP নীলাভ জাহির খানের মুখোমুখি হওয়ার মতো ভুল করবেন না। পাগল কোথাকার।"
কথাটা বলেই নীলাভ নিজের শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে নিজের সিটে গিয়ে বসে পড়ে।
"শুধু পাগল নই, তার চেয়েও অনেক বড় কিছু, লাভ। বন্দি তো অনেক আগে থেকেই হয়ে আছি, নতুন করে আর কিইবা বন্দি করবে আমায়?"
কথাগুলো মনে মনে বলেই তরু নিজের ফোন বের করে নীলাভের ছবি তুলতে শুরু করে।
"এতটা সুন্দর না হলেও তো পারতে, লাভ! এমনিতেই তো ঘায়েল হয়ে গিয়েছিলাম অনেক আগেই। এবার কি মে'রেই শান্ত হবে?"
তরু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলাভের দিকে, চোখের আড়াল হবার ভয়ে চোখের পলকও ফেলছে না সে। এই মুহূর্তে দুনিয়ার কোনো কথাই তার মনে নেই। নীলাভ এইসব কিছুই লক্ষ্য করছিল, তবে সে ব্যাপারটা এখন এড়িয়ে যাবে বলেই ঠিক করেছে। নীলাভের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তরুর মনে পড়ে যায় কিছুক্ষণ আগে বলা তার কথাগুলো।
"আমি এখানে একটা জরুরি কাজে এসেছি, তাই এই যাত্রায় আপনি বেঁচে গেলেন।"
কথাটা মনে হতেই তরুর বুকটা ধক করে ওঠে। সে তড়িঘড়ি করে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে কারো নম্বর খুঁজতে থাকে কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তার ফোনে কারো কোনো নম্বরই নেই। হঠাৎই তার মনে পড়ে, সে তো তাজিমের সাথে কথা বলার পর ফোন থেকে সিমকার্ডটা বের করে তখনই ভেঙে ফেলেছিল।
"ওহ নো... এখন কি হবে? শিট......"
তরু নিজের হুডিটা ভালোভাবে টেনে একটা মাস্ক পরে নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে কিছু অদ্ভুত পোশাক পরিহিত মুখোশধারী লোক এসে উপস্থিত হয়। সবার হাতেই বড় বড় অ'স্ত্র। এরই মাঝে নীলাভ চোখ দিয়ে তার টিমের সবাইকে রেডি হওয়ার জন্য ইশারা করে। হয়তো মুখোশধারী লোকগুলো জানত, আজকে এখানে তাদের পুলিশের সাথে লড়াই করে নিজেদের কাজ হাসিল করতে হবে— তাই ভালোভাবেই প্রস্তুত হয়েই এসেছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে বিরাট লড়াই শুরু হয়ে যায়।
মা'রামা'রির একপর্যায়ে নীলাভ একটু লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে অপরপক্ষের একজন লোক নীলাভকে টার্গেট করে গু'লি ছোঁড়ে। গু'লিটা নীলাভের গায়ে লাগবে ঠিক সেই সময়েই তরু নীলাভের সামনে চলে আসে এবং গু'লিটা সরাসরি তার বুকে গিয়ে লাগে। নীলাভ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তরু নীলাভের হাত থেকে রিভলভারটা নিয়ে সেই লোকটার দিকে তাক করে গু'লি ছোড়ে, যে লোকটা গু'লিটা ছুড়েছিল। লোকটা সঙ্গে সঙ্গেই মা'রা যায়— কারণ তরুর গুলিটা সরাসরি তার মাথায় লেগেছিল।
"আমার লাভকে মা*রা তো দূরের কথা, টাচ করতে আসলেও আমাকে টপকে তারপর যেতে হবে— যেটা কারো দ্বারা সম্ভব নয়। স্বয়ং আমার দ্বারাও নয়।"
মনে মনে কথাটা বলেই তরু অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর অপরপক্ষের লোকেরা হার মেনে পালিয়ে গেলে জায়গাটা কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বেশ কিছু পুলিশ অফিসারও আহত হয় এই আক্রমণে, কিন্তু নীলাভ আর মিস্টার সাফেদ শাহরিয়ার পুরোপুরি সুস্থ ছিল। নীলাভ তরুর পালসরেট চেক করে দেখে— তরু এখনো বেঁচে আছে। তাই নীলাভ আর সময় নষ্ট না করে নিজে ড্রাইভ করে তরুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
লোকেশন- সাভার সেন্ট্রাল হসপিটাল,
"রোগীর অবস্থা তো বেশ ক্রিটিকাল বলে মনে হচ্ছে, ওনাকে এক্ষুনি ইমার্জেন্সিতে নিতে হবে। রোগীর বাড়ির লোক কে আছেন?
নীলাভ বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,
"হ্যাঁ ডাক্তার, আমি আছি।"
ডাক্তার নীলাভের দিকে কিছু কাগজ এগিয়ে দিয়ে বলে,
"আপনাকে কিছু বন্ড ব্যাপারে সই করতে হবে..."
"কিসের বন্ড পেপার?"
"রোগীর অবস্থা বেশ খারাপ, বুঝতেই পারছেন, যখন তখন যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে।"
"ওহ আচ্ছা দিন, আমি সাইন করে দিচ্ছি।
"আচ্ছা রোগীর নাম কি?"
"রোগীর নাম তো… আরে, ওনার নাম কি আমি কি করে জানবো?"
ডাক্তার চমকে তাকিয়ে বললো,
"মানে আপনি না বললেন আপনি ওনার বাড়ির লোক?"
নীলাভ হাতে লেগে থাকা র'ক্ত গুলোর দিকে তাকিয়ে বললো,
"আরে, তেমন কিছুই নয় ডাক্তার। মেয়েটি আমাকে বাঁচাতে গিয়ে injured হয়েছে, তাই আমাকেই মেয়েটিকে হসপিটালে নিয়ে আসতে হলো। আমি তো মেয়েটিকে চিনিও না।"
ডাক্তার ভীত কন্ঠে বললো,
"কি বলছেন! তাহলে তো এটা পুলিশ কেস।"
নীলাভ ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো,
"তো তাতে কি? আমি ASP নীলাভ জাহির খান বলছি।"
নীলাভ নিজের কার্ডটি ডাক্তারকে দেখাতেই ডাক্তার একটা ঢোক গিলে বললো,
"আ'ম এক্সট্রিমলি স্যরি, স্যার। আপনি এখানে সাইন করে দিন, আমি পেসেন্টের সার্জারীর ব্যবস্থা করছি।"
নীলাভ পেপারে সাইন করে দিতেই ডাক্তার চলে যেতে নেয়, তখনই নীলাভ পেছন থেকে বলে ওঠে,
"ডাক্তার শুনুন, রোগীর বাড়ির লোক এখানে নেই বলে যাতে ওনার ট্রিটমেন্টের কোনো ঘাটতি না হয়। আমি যেকোনো উপায়ে মেয়েটাকে সুস্থ দেখতে চাই। আপনারা আপনাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন। আর ওনার কন্ডিশন আমাকে টাইম টু টাইম ইনফর্ম করবেন। আমি যাওয়ার সময় রিসেপশনে আমার নম্বর দিয়ে যাবো।"
"আপনি কোনো চিন্তা করবেন না, মিস্টার নীলাভ। রোগীকে বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা আমাদের কর্তব্য। তবে রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ।"
বলেই ডাক্তার সেখান থেকে অপারেশন করতে ওটিতে চলে গেলো। নীলাভ বাইরেই বসে ছিলো,
"না না, এভাবে মেয়েটাকে এই অবস্থায় এখানে একা রেখে যাওয়াটা ঠিক হবেনা। মেয়েটা যেমনই হোক, আমাকে বাঁচাতে গিয়েই তো ওনার আজকে এই অবস্থা।"
নীলাভ একটা ছোটো শ্বাস ফেলে ভাবতে লাগলো, মেয়েটার বাড়িতে কি করে খবরটা পৌঁছানো যায়।
"এক মিনিট, মেয়েটার সাথে তো নিশ্চয়ই ফোন ছিলো। সেটা থেকে কোনো ইনফরমেশন পাওয়া গেলেও তো যেতে পারে।"
ভাবতেই নীলাভ উঠে একটা নার্সকে ডাক দিলো।
"হ্যাঁ স্যার, বলুন। আপনার কি কিছু লাগবে?"
"হুম, এই কেবিনে যেই মেয়েটার অপারেশন হচ্ছে, ওনার কাছে একটা ফোন ছিলো। ওটা আমার লাগবে। আপনি যেভাবে পারেন, এনে দিন।"
"ওকে স্যার, আমি দেখছি।"
বেশ কিছুক্ষণ পরেই নার্সটি একটা ফোন নিয়ে এসে নীলাভের হাতে দিলো।
"এই নিন স্যার, প্যাশেন্টের কাছে এই ফোনটাই ছিলো।"
"থ্যাংকস, আপনি যেতে পারেন।"
নার্স চলে যেতেই নীলাভ ফোনটা হাতে নিয়ে চেয়ারে বসে ফোনটা উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগলো। অন্য সময় হলে নীলাভ কখনোই ফোনটা খোলার চেষ্টা করতো না। তবে এখন এটা করতেই হবে। যদি মেয়েটার কিছু হয়ে যায়, কে বলতে পারে, তখন তো ওর বাড়ির লোককে নীলাভকেই খুঁজে বের করতে হবে। নীলাভ কিছুক্ষণ ভাবনা-চিন্তা করে ফোনটা ওপেন করতেই ওর চোখ কপালে উঠে যায়। উঠবে না ই বা কেন? ফোনের লক স্ক্রিনের ওয়ালপেপারে যে ওর নিজের ছবি। নীলাভ ভুল দেখছে ভেবে ফোনটা আবার লক করে ওপেন করলো। কিন্তু না, সে ভুল দেখছে না। ফোনের ওয়ালপেপারে ওরই ছবি। তাও আবার হাসি মুখের ছবি। নীলাভ কবে এভাবে হেসেছে, সেটা ওর নিজেরই মনে নেই। তার মানে কি মেয়েটা ওকে আগে থেকেই চেনে? যদি চিনেও থাকে তাহলে কিভাবে চেনে? আর চিনলেই কি কেউ কারো ছবি নিজের ওয়ালপেপার বানায়? তাহলে কেনো বানায়? নীলাভ আর ভাবতে পারলো না। কি হচ্ছে এসব ওর সাথে, আর কেনই বা হচ্ছে? মেয়েটাকে দেখার পর থেকে ঝামেলা হয়েই যাচ্ছে।
ফোনটাতে লক থাকাতে নীলাভ আর কিছুই দেখতে পারলোনা। কারো পাসওয়ার্ড কি হতে পারে তা অনুমান করার কারো কি সাধ্য আছে? তাও আবার যদি কোনো অপরিচিত ব্যাক্তির হয়ে থাকে সেটাতো অসম্ভব তাইনা। নীলাভ ফোনটা চেক করে দেখলো ফোনে কোনো সিমকার্ড ও নেই, এবার পুরো মেজাজটাই বিগড়ে গেছে ওর। হঠাৎ ওর নিজের ফোনটা বেজে উঠল। নীলাভ কলটা রিসিভ করলো,
"হ্যালো মিনার বলো সবাই ওখানে ঠিক আছে তো? আর ওদের কাউকে ধরতে পেরেছো?"
"হ্যাঁ স্যার সবাই এখানে ঠিক আছে, আপনি কি ঠিক আছেন স্যার একবার আসতে পারবেন এখানে?"
নীলাভ যাবেনা বলতে গিয়েও বললোনা,
"আচ্ছা আমি ৩০ মিনিটের মধ্যে আসছি।"
নীলাভ কলটা কেটে দিয়ে তরুর ফোনটা হাতে নিয়ে নাড়তে নাড়তে রিসেপশনে এসে নিজের ফোন নম্বরটা দিয়ে গাড়ি করে ব্যুরোতে চলে আসলো।
রাত ১১ টা★
"স্যার আমরা সুস্থ কাউকে তো এরেস্ট করতে পারিনি সবাই আহত অবস্থাতেই পালিয়ে গিয়েছিলো, তবে ওই গ্যাংয়ের একজন মাথায় গু'লি লাগার কারণে ঘটনাস্থলেই মা'রা গিয়েছে আর একজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।"
নীলাভ কিছু একটা ভেবে বলে ওঠে,
"তোমরা একটা কাজ করো ওর জন্য গার্ডস পাঠাও কারণ ওর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে।"
"কিন্তু স্যার ওর আবার কিভাবে জীবনের ঝুঁকি আছে?"
"আরে মিনার বুঝতে পারছো ও এখন আমাদেরকে আসল অপরা'ধীর কাছে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা, ও এখন নিজেই নিজেদের গ্যাংয়ের শ'ত্রু হয়ে গেছে তাই ওর মাধ্যমে যাতে আমরা ওদের কাছে পৌছাতে না পারি সেইজন্য ওর গ্যাংয়ের লোকেরাই ওকে মে'রে ফেলার চেষ্টা করবে আমি সিওর।"
"বাহ স্যার আমি তো এটা ভেবেই দেখিনি।"
"আমি যা বললাম তাই করো আমি বাসায় যাচ্ছি,"
"আচ্ছা স্যার।"
নীলাভ বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ডিনার করে শুয়ে পড়লো, অনেক ক্লান্ত থাকাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েও পড়লো।
সকাল বেলা★
সবাই ব্রেকফাস্ট করতে টেবিলে বসেছিলো, নীলাভ ও ছিলো সেখানে। খাবার সার্ভ করতে করতে সাবিনা খাতুন বলে উঠলেন,
"জারা, ত্রানা কাউকে কিছু না বলে কালকে ওভাবে চলে গেলো কেনো? ও না বলেছিলো থাকবে?"
খাবার খাওয়ার সময় কথা বলা নীলাভ পছন্দ করে না তাছাড়া ও কেসটা নিয়ে একটু চিন্তাতেও আছে তাই মায়ের মুখে অপরিচিত কারো নাম শুনেও সে ততটা গুরুত্ব দিলো না কিন্তু নাহিদ বলে উঠলো,
"ত্রানা আবার কে মা?"
"আরে জারা বলেনি তোকে? ত্রানা হচ্ছে জারার দূরসম্পর্কের বন্ধু। কি জারা বলো ও কেনো চলে গেলো কালকে?"
নাহিদকে তাড়াতাড়ি অফিসে যেতে হবে সেইজন্য সেও মায়ের কথায় ততটা গুরুত্ব দিলোনা।
"আসলে মা আপুর একটা জরুরি কাজ পরে গিয়েছিলো তাই তাড়াহুড়ো করে চলে গিয়েছিলো আপনাকে বলে যাওয়ার সময় পায়নি, আমাকে বলতে বলেছিলো কিন্তু আমার আর পরে মনে ছিলোনা।"
"মেয়েটার সাথে ভালো করে কথাও হলো না, একটু বিদেশিনী ধাচের। অদ্ভুত পোষাক আশাক আর গম্ভীর টাইপের হলেও মেয়েটা কিন্তু ভারী মিষ্টি দেখতে, আবার ওকে আসতে বলোতো জারা কয়েকদিন এসে থেকে যাবেনি না হয়।"
"আচ্ছা মা বলবো।"
নাহিদের চোখ নীলাভের দিকে পড়তেই সে জিজ্ঞেস করে
"কিরে নীলাভ খাবার খাওয়ার সময় আজকে আবার এতো কি ভাবছিস?"
"কিছুনা ভাইয়া আসলে একটা নতুন কেস এসেছে সেটা নিয়েই ভাবছি।"
"কিহ একটা কেস তোকে এতো ভাবাচ্ছে? কি বলিস তাহলে নিশ্চয়ই কেসটা বেশ জটিল।"
"হুম ভাইয়া তার ওপর কালকে যা হলো, আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা সবটা কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।"
"কি... কি হয়েছে রে কালকে?"
নীলাভ ক্লাবের গন্ডগোল থেকে তরু ওকে বাচানো পর্যন্ত সবটাই বললো শুধু তরুর ফোনের বিষয়ে কিছুই বললোনা কারণ ব্যাপার টা সে এখনো পুরোপুরি ভাবে বুঝে উঠতে পারেনি।
"কি বলিস মেয়েটা তো তাহলে তোকে কালকে বাচি'য়েছে তাইনা?"
সাবিনা খাতুনের কথা শুনে নীলাভ ছোট্ট করে বলে,
"হ্যাঁ মা সেরকমই কিছু একটা।"
"এভাবে বলছিস কেনো নীলাভ?"
নীলাভ হাত ধুয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
"আমি যাচ্ছি মা আমার কিছু কাজ আছে।"
"খাবার টা তো শেষ করে যা"
সাবিনার কথা না শুনে নীলাভ সোজা উপরে নিজের রুমে চলে গেলো।
চলবে,,,