ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমি তরুলতা

৩৭তম পর্ব

লেখক: সোফিয়া সাফা

#আমি_তরুলতা (৩৭)

#সোফিয়া_সাফা

পরেরদিন সকাল বেলা,

নীলাভ অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলো। তরু নীলাভের জন্য একটা শার্ট বের করে তার হাতে দিয়ে বললো।

“আজকে ৭ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে আসবে।”

নীলাভ শার্টটা গায়ে জড়িয়ে নিলো তারপর তরুর দিকে না তাকিয়েই বললো।

“আমি যেতে পারবোনা। আর তুই ও যাবিনা।”

“আমার ভাইয়ের বিয়ে আর আমি যাবোনা? এটা ভাবলে কি করে? তুমি গেলে যাবে নইলে আমি একাই যেতে পারবো।”

নীলাভ একবার তরুর দিকে তাকিয়ে ঘুরে গিয়ে খাটের উপর থেকে নিজের ওয়ালেট তুলে পকেটে নিতে নিতে বললো।

“আমি তোকে একা যেতে দিচ্ছিনা।”

“আমিও তো তোমার সাথেই যেতে চাইছি। তবে তুমি না গেলে আমাকে একাই যেতে হবে।”

নীলাভ একটা শ্বাস ফেলে অফিসে চলে গেলো। ড্রইংরুমে জারা সাবিনার সাথে বসে কথা বলছিলো। সাবিনা বললেন,

“যদিও আমার যাওয়ার মত নেই। তবুও নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে আমি আর তোমার শ্বশুর শুধু মাত্র বৌভাতের দিনই যাবো। তোমরা কালকেই চলে যেও।”

জারা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো। সেদিনের পর থেকে জারা সাবিনার সাথেও খুব একটা কথা বলেনা। কেনো জানিনা তার নিজের কাছেই খারাপ লাগে।

রাতের বেলা।

তরু নীলাভের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিলো। নীলাভ একহাতে ফোন স্ক্রোল করছে। তরু আনমনেই বলে ওঠে,

“জানো মা ছাড়া বড় হওয়া অনেক কষ্টের।”

নীলাভ তরুর কথা শুনে ফোনটা সাইডে রেখে বলে।

“হু?”

“বলেছি মা ছাড়া বড় হওয়া একজন সন্তানের জন্য অনেক বেশিই চ্যালেঞ্জিং। আমাকে ছাড়া খরগোশের বাচ্চা দুটোকে বড় করতে পারবে তো?”

নীলাভ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলো।

“তোর মতো মা থাকার চাইতে না থাকাই ভালো। যে কিনা প্রতি মূহুর্তে বাচ্চা দুটোকে মে'রে ফেলতে চায়। বরং তুই থাকলেই বাচ্চাদের জন্য বড় হওয়া চ্যালেঞ্জিং হতো। তুই তো আর অন্যসব মায়েদের মতো না।”

কথাটা শুনে তরু থমকে গেলো। আর কোনো কথা বলতে পারলোনা। কিছুক্ষণ পর তরু কথা ঘোরানোর জন্য বলে উঠলো, “ছুটি এনেছো?”

“হুম, তোকে একা যেতে দেওয়াটা বাচ্চাদের জন্য রিস্কি হয়ে যাবে। আমি ওদের নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে চাইনা। আর তুই বললিনা বাচ্চাদের মা ছাড়া বড় করতে পারবো কিনা। তাহলে শোন, ওদের ভাগ্যই হয়তো এমন যে ওরা মায়ের ভালোবাসা পাবেনা। কিন্তু আমি পৃথিবীর বেস্ট বাবা হয়ে দেখাবো। মায়ের অভাব হয়তো পূরণ করতে পারবোনা কিন্তু বাবাকে নিয়ে ওরা কখনোই অভিযোগ করতে পারবেনা।”

কথাটা শুনে তরু হাল্কা হাসলো।

“নিঃসন্দেহে তুমি ওয়াল্ডের বেস্ট বাবা হবে।”

নীলাভ একটা চাপা শ্বাস ফেলে বলল, “হুম ঘুমা এখন।”

সকাল বেলা।

সবাই একসাথে বসে ব্রেকফাস্ট করে নিলো। আজকে তাজিমের সঙ্গীত আর মেহেন্দি অনুষ্ঠান। সেই জন্যই নাহিদ, জারা, তরু আর নীলাভ আজকেই যাবে। সকাল ১০ টার দিকেই তারা চারজন রোজ ভিলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নীলাভ ড্রাইভ করছে, তরু ফ্রন্ট সিটে বসেছে আর জারা, নাহিদ ব্যাক সিটে বসেছে। ১ ঘন্টা পর তারা সবাই এহসান মঞ্জিলের সামনে এসে হাজির হয়। তারা বাড়ির ভেতর ঢুকতেই দেখে বাড়ি ভর্তি মানুষজন, তাদেরকে প্রবেশ করতে দেখে সাফোয়ান এহসান আর জহুরা এগিয়ে এলেন।

সাফোয়ান বললেন, “তোমরা এসে গেছো। আমি তোমাদেরকে দেখে কতোটা যে খুশি হয়েছি বলে বোঝাতে পারবোনা।”

নীলাভ আর তরু কিছু না বলেই দাঁড়িয়ে আছে। নাহিদ সাফোয়ান আর জহুরাকে সালাম করলো৷ জহুরা তো মেয়েকে দেখে অনেক বেশিই খুশি হয়েছেন। কিন্তু তরুকে দেখে তার ভালো লাগেনি। সে জারা আর নাহিদকে নিয়ে জারার রুমে চলে গেলো। সাফোয়ান তরুকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তরু নিজের রুমের দিকে চলে যেতে লাগলো। নীলাভ ভ্রু কুচকে তরুর যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে রইলো। সাফোয়ান পরিস্থিতি সামলাতে নীলাভের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,

“কেমন আছো বাবা?”

নীলাভ কথা বলতে না চাইলেও ভদ্রতার খাতিরে বলল,

“আসসালামু আলাইকুম আংকেল। আমি ভালোই আছি আপনি কেমন আছেন?”

সাফোয়ান হাসিমুখে বললেন।

“ওয়ালাইকুম আসসালাম, আমিও ভালোই আছি। আমি জানি তোমরা তরুর সম্পর্কে সবকিছু জেনেও গেছো। লুকিয়ে রাখার মতো কিছুই আর বাকি নেই। সবকিছু জানার পরেও যে তুমি তরুকে নিয়ে এই বাড়িতে এসেছো সেই জন্য আমি অনেক বেশিই কৃতজ্ঞ।”

নীলাভ গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠল, “আপনার মেয়েকে ছাড় দিয়েছি কিন্তু ছেড়ে দেইনি। ওর অন্যায়ের শাস্তি ওকে পেতেই হবে।”

কথাটা বলেই নীলাভ তরুকে অনুসরণ করে তার পিছু পিছু চলে গেলো। সাফোয়ান নীলাভের কথা শুনে ঘাবড়ে গেলেন। তার ভাবনার মাঝেই তাজিম এসে হাজির হলো।

“ওরা নাকি এসেছে? কই ওরা?”

সাফোয়ানের চোখে পানি দেখে তাজিম অবাক হয়ে গেলো।

“কি হয়েছে বাবা? তোমার চোখে পানি কেনো?”

“তরু কেনো এখনো ওখানে আছে? ওরা ওকে মে'রে ফেলবে। আমার মেয়েটা ওখানে একদমই সেইফ নেই।”

তাজিম সাফোয়ানকে আশ্বাস দিয়ে বলল, “তুমি চিন্তা কোরোনা। তরু নিজের ক্ষতি কিছুতেই হতে দেবেনা। ওরা তরুর কিছুই করতে পারবেনা। তরু খুব ভালো করেই জানে যে ও কি করছে। তরু যথেষ্ট ম্যাচিউর আর স্ট্রং নিজের খেয়াল নিজে রাখতে জানে।”

এদিকে নীলাভ তরুর রুমে প্রবেশ করতেই থমকে গেলো তরুর রুমের চারপাশের দেয়াল জুড়ে তার ছবির ছড়াছড়ি। তরু নীলাভের চাহনি দেখা আশেপাশে তাকালো, সে নিজেও ভুলে গিয়েছিলো এসবের কথা। নীলাভ ভ্রু কুচকে তরুর দিকে তাকিয়ে দাতে দাত চেপে বললো।

“এসব কি?”

তরু না জানার ভান করে বলল, “কোনসব?”

নীলাভ তরুর দিকে দুপা এগিয়ে গিয়ে বলতে লাগলো, “আমি কি কোনো সেলিব্রিটি নাকি? আমার ছবি দিয়ে দেয়াল ঢেকে রেখে দিয়েছিস কেনো?”

তরু বুকে হাত বেধে বলল, “নো, তুমি কোনো সেলিব্রিটি নও।”

তরু এবার নীলাভের সামনাসামনি দাড়িয়ে আলতো হাতে নীলাভের শার্টের কলার চেপে ধরে বললো।

“ইউ আর মাই হার্টবিট, অক্সিজেন এন্ড এভব অল ইউ আর মাই লাভ। মাই এভরিথিং,”

নীলাভ তরুর হাত ছাড়িয়ে দিয়ে শীতল কন্ঠে বললো।

“এসব সিনেমার ডায়লগ একদমই দিবিনা। আমাকে সত্যি সত্যিই ভালোবাসলে আমার বোনকে মা'রতে পারতিনা।”

কথাটা শুনে তরু ২ পা পিছিয়ে গিয়ে বলল,

“আমি তোর বোনকে মা'রিনি। তুই ভুল দেখেছিলি।”

নীলাভ প্রচন্ড রেগে গেলো সে তরুর দিকে এগিয়ে গিয়ে শক্ত কন্ঠে বলল, “আমি ভুল দেখিনি তবে আমার বোঝার ভুল ছিলো। তুই আমাকে কখনো ভালোই বাসিস নি। ইউ আর আ লায়ার। ইউ আর আ সাইকো।”

কথাটা শুনে তরুর হাত পা কাপতে শুরু করলো। মূহুর্তেই তার চেহারার রঙ পাল্টে গিয়ে রক্তবর্ণ ধারণ করতে লাগলো। নাক দিয়ে র*ক্ত পড়তে শুরু করলো। তরুর এরকম অবস্থা দেখে নীলাভের হুশ ফিরে এলো। সে তরুর দিকে এগিয়ে গেলে তরু পিছিয়ে যায়। তরুর চারপাশ অন্ধকার হয়ে যেতে লাগলো। তরু পড়ে যাওয়ার আগেই নীলাভ তরুকে ধরে ফেলে।

“ওহ শিট, নীলাভ ইউ ফা*কড আপ। তরু আ'ম স্যরি, আই ডিডেন্ট মিন ইট। আই নো ইউ লাভ মি।”

নীলাভ তরুকে খাটে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিলো। তরুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। তরু দেড় মাস যাবত সাইকোথেরাপি নিয়েছিলো। তারপর থেকে আর তরুর প্যানিক এটাক হয়নি। কিন্তু আজকে নীলাভের কথাগুলো শুনে তার প্যানিক এটাক হয়েছে। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। নীলাভ কি করবে বুঝতে পারছেনা। তার মাথাই কাজ করছেনা, সে তরুর হাত পা ডলতে শুরু করলো। কিন্তু তবুও তরুর কষ্ট কমছেনা।

“তরুহ প্লিজ শান্ত হও। আমি কথাগুলো ওভাবে বলতে চাইনি। প্লিজ”

তরু নীলাভের শার্ট খামচে ধরে নীলাভকে তার দিকে টেনে নিলো। নীলাভ আর তরুর মাঝের দূরত্ব খুবই সামান্য, তরুর ঠোঁট দুটো কাপছে। নীলাভ আচমকাই তরুর ঠোঁটজোড়া নিজের দখলে নিয়ে নিলো। তরু নীলাভের শার্ট টেনে ধরে কিস টাকে আরও ডিপ করলো।

৭মিনিট পর

নীলাভ অন্যদিকে ফিরে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। তরু চুপচাপ শুয়ে আছে। এখন তরু স্বাভাবিক ভাবেই নিশ্বাস নিতে পারছে। কিছুক্ষণ আগের কথা মনে পড়তেই নীলাভের রাগ উঠে যায়। সে কি করে এরকম টা করলো? এর আগে সে যা কিছু করেছিলো সেগুলো সে সজ্ঞানে করেনি কিন্তু আজ যেটা করলো সেটা তো সে সজ্ঞানেই করেছে। নীলাভ উঠে চলে যেতে নিলে তরু তার হাত ধরে ফেলে। নীলাভ তরুর দিকে তাকায়,

“থ্যাঙ্কিউ ফর সেভিং মি।”

নীলাভ তরুর হাত ছাড়িয়ে চলে যেতে নিলে তরু বলে ওঠে।

“আই লাইক ইট। এটা পাওয়ার জন্য হলেও আমি চাই আমার প্রত্যেক ঘন্টায় শ্বাসকষ্ট হোক। প্রত্যেক সেকেন্ডে হলেও আমি অভিযোগ করবোনা।”

নীলাভ কিছু না বলেই ওয়াশরুমে চলে গেলো। তখনই তাজিম তরুর রুমে আসলো। “কিরে কেমন আছিস?”

তরু তাজিমকে দেখে উঠে বসল, “ভালো আছি ভাইয়া, তুমি কেমন আছো?”

“আমিও ভালো আছি। তুই এসেছিস দেখে আরও ভালো আছি। আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম যে নীলাভ তোকে আসতে দেবেনা।”

“ও আসতে না দিলেই যে আমি আসবোনা। এটা ভাবাটাও বোকামি। আমি ওর কথা শুনতে বাধ্য নই। ওই উল্টো আমার কথা শুনতে বাধ্য। আর আমার একমাত্র ভাইয়ের বিয়ে আমি আসবোনা সেটা ভাবলেই বা কি করে?”

তাজিম তরুর মাথায় হাত রেখে বললো।

“কি দরকার ছিলো সবাইকে নিজের পরিচয় দেয়ার? ত্রানা হিসেবেই তো থাকতে পারতি নিজের ভালোবাসার সাথে।”

“আমি তরুলতা এহসান ভাইয়া। এটাই আমার আসল পরিচয়। আমি সারাজীবন তো আর অন্যের পরিচয়ে বাচতে পারবোনা। আর তাছাড়া ত্রানার পরিচয়ে আমি কখনোই নীলাভের ভালোবাসা পেতাম না। ও তরুকে ভালোবাসে, যদিও ওর জীবনে ভালোবাসার স্থান সবার নিচে তবুও তো ও আমাকেই ভালোবাসে তাইনা। হোক সেটা স্বল্পমেয়াদী, হোক সেটা শুধুমাত্র প্রয়োজন। সারাজীবন ভালোবাসা বিহীন অন্যের পরিচয় নিয়ে ওর সাথে থাকার চেয়ে কয়েকটা দিন নিজের পরিচয়ে ভালোবাসা পেয়ে ওর সাথে কাটানো টাই শ্রেয়। আর আমি তো আগে থেকেই ভেবে নিয়েছিলাম ও নিজের ভালোবাসা স্বীকার করলেই আমি নিজের পরিচয় দিয়ে দেবো।”

ওদের কথার মাঝেই নীলাভ ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো। তাজিম নীলাভকে দেখে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলো।

“কেমন আছেন ভাই?”

কথাটা শুনে নীলাভ আড়চোখে তাজিমের দিকে তাকালো,

“আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আর আমাকে আপনি করে বলতে হবেনা, আমি আপনার চেয়ে ছোটো।”

“হুম। শুনে ভালো লাগলো যে তুমি আমাদের মাঝেকার সম্পর্ক মেনে নিচ্ছো।”

নীলাভ হাতে থাকা তোয়ালেটা খাটের উপর রেখে বললো।

“সম্পর্ক না মানলেই শেষ হয়ে যায়না। সেই হিসেবে মেনে নিয়ে সম্পর্কটার মাঝেকার আবর্জনা পরিষ্কার করে ফেলাই উত্তম।”

তাজিম কথাটার মানে বুঝতে পারলোনা, তবে তরু খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে। তাজিম ভ্রু কুচকে তাকালো,

“মানে?”

“মানেটা হলো,,,

নীলাভ কথাটা শেষ করার আগেই তরু বলে উঠলো, “উফস আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে, ভাইয়া তুমি নিচে গিয়ে আমার জন্য খাবার রেডি করতে বলোতো।”

বলেই তরু তাজিমের হাত ধরে তাকে দাড় করালো।

“যাওনা ভাইয়া।”

“আরে দাড়া আগে নীলাভের কথাটা শুনে নেই।”

“নাহ ভাইয়া তুমি এক্ষুনি যাও প্লিজ,”

বলেই তরু একপ্রকার জোর করেই তাজিমকে নিজের রুম থেকে বের করে দিলো। তাজিম চলে যেতেই তরু নীলাভের সামনে গিয়ে দাড়ালো। তারপর বুকের উপর হাত বেধে বললো।

“ভাইয়াকে কি বলতে যাচ্ছিলে এবার আমাকে বলো।”

নীলাভ লাগেজ থেকে একটা শার্ট বের করে শার্ট চেইঞ্জ করতে করতে বললো।

“বলতাম যে। সম্পর্ক একবার হয়েই গেলে সেটাকে মেনে নিয়ে সংশোধন করে নেওয়া উচিৎ। যেমন আমাদের সমস্যা তো শুধু তুই। সেখানে তোর ভাইবোন আর বাবাকে মেনে না নেওয়ার তো কোনো কারণ নেই তাইনা? তোকে তো শুধুমাত্র বাচ্চাদের জন্য বাচিয়ে রেখেছি। বাচ্চারা জন্ম নেওয়া মাত্রই তোকে মে'রে ফেলবো। তখন তো আমাদের আর এহসান ফ্যামিলির মাঝে কোনো শত্রুতা থাকবেনা তাইনা? তুই-ই হলি গিয়ে আমাদের মাঝেকার সম্পর্কের আবর্জনা।”

নীলাভের কথা শুনে তরু পা*গলের মতো হেসে উঠলো।

“কি হলো হাসছিস কেনো?”

“হাসবোনা? তুমি জোক্সস বললে যে। নাইস জোক্সস,”

তরু নীলাভের ডান হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

“তুমি আমাকে কখনোই মা'রতে পারবেনা।”

নীলাভ ভ্রু কুচকে তরুর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“একটু বেশিই বিশ্বাস করছিস না?”

তরু বলতে লাগলো, “ভালোবাসার ভিত্তিই হলো বিশ্বাস, ভরসা আর মায়া। এগুলোর উপরেই ভালোবাসা টিকে থাকে। যার এই ভিত্তি ৩টা যতোবেশি মজবুত তার ভালোবাসাও ততোবেশি শক্তিশালী। সো বিশ্বাস আপনা-আপনিই চলে আসে। তবে তুমি তো আমার চেয়ে নিজের চোখদুটোকে বেশি বিশ্বাস করো। এতে অবশ্য তোমার দোষ নেই। দোষ টা আমার ভাগ্যের, যাই হোক বাদ দেও। আমার সত্যিই ক্ষুধা লেগেছে। আমি খেতে খেলাম।”

বলেই তরু রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। নীলাভ তরুর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। তরুর কথাগুলো শুনে প্রথম বারের মতো নীলাভের নিজের চোখের উপরেই সন্দেহ হলো। তবে সে সন্দেহ টাকে প্রশয় দিলোনা। তরু ড্রইংরুমে বসে খাবার খাচ্ছে তখনই একজন তরুর সামনে এসে বললো।

“তোমাকে তো চিনতে পারলাম না, কে তুমি?”

তরু কিছু বললোনা তবে জহুরা সেখানে এসে বলে উঠলেন,

“আপু ও হচ্ছে জারার জা,”

মহিলাটা তরুর দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলো তরুর পরণে ছোট ছোট স্ট্রবেরি আর্ট করা পিংক কালারের শার্ট আর পিংক কালারের প্লাজো। মহিলাটা সুক্ষ্ম দৃষ্টি বুলিয়ে বলে উঠলেন।

“ওর ও কি বাচ্চা হবে নাকি?”

জহুরা বললেন, “হুম,”

মহিলাটা মুখ বাকিয়ে বলতে লাগলেন, “যাই হোক বিয়ে বাড়িতে কেউ এসব ড্রেস পড়ে ঘুরে বেড়ায়? এই মেয়ে তোমার কাছে থ্রী পিস বা শাড়ি নেই? আর এভাবে কারো কাছে কিছু জিজ্ঞেস না করেই খেতে বসে পড়েছো। কয়দিনের অনাহারী তুমি?”

তরু কিছু না বলে খাবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। যার ফলস্বরূপ মহিলাটা রেগে গেলেন,

“এই মেয়ে? কিছু বলেছি আমি। শুনতে পাওনি? গিলেই যাচ্ছো গিলেই যাচ্ছো। কানে কি কুলুপ এঁটে রেখেছো নাকি?”

তরু কিছু না বললেও নীলাভ পেছন থেকে বলে ওঠে। “আপনার কিছু বলার থাকলে আমাকে বলতে পারেন আমি ওর হাজব্যান্ড। সেই সাথে সি আইডি ও আপনার প্রত্যেক টা প্রশ্নের উত্তর আমি দিয়ে দেবো।”

কথাটা শুনে মহিলা টা নীলাভের দিকে তাকালো। সম্পর্কে মহিলা টা জারার বড় খালা হন। নীলাভের দিকে তাকিয়ে সে কিছুটা থতমত খেয়ে যায়। নীলাভ রাগী চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তার দিকে এগিয়ে এসে বললো।

“কি জানো বলছিলেন আপনি? এবার বলুন,”

মহিলাটা আমতা আমতা করে বলে উঠলেন,

“আ,,,আমি তো ওর ভালোর জন্যই বলছিলাম, এই অবস্থায় এভাবে খেলে লোকের নজর লাগবে। সেই জন্যই বলেছিলাম,,,

“ওহ আই সি, আপনি ওসব সো কল্ড জনদরদী খালাম্মা তাইনা যারা অন্যদের ব্যাপারে নাক গলিয়ে বেড়ায়। তো খালাম্মা আমি বলিকি নাক টা একটু কম গলান নয়তো কয়দিন পর শ্বাস নেওয়ার জন্য নাক টাই থাকবেনা।”

জহুরা নীলাভের কথা শুনে রেগে গেলেন। তবুও জারার কথা ভেবে সে ঠান্ডা কন্ঠেই বললেন, “তুমি এভাবে কথা বলছো কেনো বাবা? উনি আমার বোন হয়। উনি কথাটা তোমার বউয়ের ভালোর জন্যই বলেছে।”

নীলাভ কপাল কুচকে বলল, “আমার বউ, আমার মাথাব্যথা। আপনাদের এত না ভাবলেও চলবে। আমি কিন্তু এই ভাবনার জন্য আপনাদের পারিশ্রমিক দিতে পারবোনা। আর রইলো নজর লাগার কথা, সেটা অবশ্য খালাম্মা ঠিকই বলেছে। ওনার যেই শকুনি নজর নির্ঘাত আমার বউয়ের বদহজম হবে।”

বলেই নীলাভ তরুর হাত থেকে লেগ পিছটা নিয়ে টেবিলের উপর রেখে দিলো। তরু তো অবাক চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

“আমরা এক্ষুনি বাড়িতে ফিরে যাবো, চল।”

তরু নীলাভের ব্যবহারে হতবাক হয়ে গেল। নীলাভ তরুর হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাজিম সেখানে এসে বললো,

“কি হয়েছে? ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?”

নীলাভ জহুরার দিকে ইশারা করে বলল, “আপনি ওনাকেই বরং জিজ্ঞেস করুন। আর এভাবে অপমান করার কোনো মানেই হয়না। আমি চাইলেই এই মুহূর্তে আমার বউকে পুরো রেস্টুরেন্ট কিনে দিতে পারি। আর উনি কি-না আমার বউয়ের খাওয়া নিয়ে আজেবাজে কথা বলছে।”

নীলাভের কথাগুলো শুনে তাজিম ব্যাপারটা বুঝতে পারলো। তরু তো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। এই মহিলাকে সে আগে থেকেই চেনে, এসব ফালতু মহিলার সাথে তর্ক করে সে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চায়নি। শুধু মাত্র সেই জন্যই সে চুপ করে ছিলো। তাজিম জহুরার দিকে তাকাতেই জহুরা সেখান থেকে চলে গেলেন। তাজিম এবার মহিলাটার দিকে তাকিয়ে বললো,

“শুনুন আন্টি ও বাইরের কোনো মেয়ে নয়,,,

তাজিম আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই তরু তাকে বাধা দিয়ে বলে।

“ভাইয়া প্লিজ, আমি কোনো সিনক্রিয়েট করতে চাইছিনা। তুমি ওনাকে কিছু বলোনা। আর আমি ওনার কথায় কিছুই মনে করিনি। আমি এসব শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।”

কথাটা বলেই তরু নিজের রুমে চলে যায়। মহিলাটাও মুখ ঝামটা মে'রে জহুরার কাছে চলে যায়। নীলাভকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাজিম তার কাধে হাত রেখে বললো।

“তরু হয়তো চায়না সবার সামনে নিজের আসল পরিচয় দিতে। এতে সবাই ওকে নিয়ে আরও আজেবাজে কথা বলবে সেই জন্যই ও চুপ করে ছিলো।”

নীলাভ রুমে এসে দেখে তরু ওয়াশরুমে গেছে হাত ধুতে। তরু বের হতেই নীলাভ তরুর বাহু ধরে বলল,

“কিরে তুই ওনাকে নিজের পরিচয় টা দিলিনা কেনো?”

তরু নিজেকে ছাড়িয়ে বলল, “কি বলতাম ওনাকে? যে আমি তরুলতা এহসান যে কিনা ১২ বছর বয়সে একটা খু'নের দায়ে ফা'সির আসামি ছিলাম। ভাগ্যগুণে বেচে গিয়েছিলাম। আবারও ম'রতে এসেছি?”

নীলাভ দুপা পিছিয়ে গেলো। তরু ভুল কিছু বলেনি। নীলাভ দরজা পর্যন্ত গিয়ে পেছনে ঘুরে বলল,

“তুই এখানেই বোস আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি।”

চলবে,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন