ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমি তরুলতা

৬৩তম পর্ব

লেখক: সোফিয়া সাফা

#আমি_তরুলতা (৬৩/অন্তিম পর্ব)

#সোফিয়া_সাফা

“বাকি গিফট গুলো দেখাও,”

তরু ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাড়াল। নীলাভ একটা হাসি দিয়ে আরেকটা গিফট খুলে দেখায়, সেটা একটা ব্রেসলেট,

“এটা খুব সুন্দর, পরিয়ে দেও,”

তরু নিজের হাত নীলাভের দিকে এগিয়ে দিল, নীলাভ তরুর ডান হাতের চুড়ি সরিয়ে সেখানে গোল্ডের ব্রেসলেট টা পরিয়ে দিল,

“You can kiss there if you want.”

নীলাভ একটা বড় শ্বাস টেনে তরুর হাতে নিজের ঠোঁট ছোয়াল। তারপর লাস্ট গিফট বক্সটা হাতে নিল,

“কি আছে ওটায়,”

নীলাভ সেটা খুললে তরু একটা রিং দেখতে পায়, নীলাভ তরুর দিকে তাকিয়ে আছে। তরু তো ব্লাশ করতে করতে ক্লান্ত, নীলাভ সত্যি সত্যিই পাগল হয়ে গেছে,

“তুমি কয় বছরের গিফট একসাথে এনেছো?”

“এই বছরের টাই, সামনের বছর কি দেবো সেসব ভাবার জন্য যথেষ্ট টাইম আছে। সেসব ভেবে আপাতত টাইম ওয়েস্ট করতে চাইছি না।”

তরু নীলাভের দিকে বাম হাতটা এগিয়ে দিল, নীলাভ তরুর সামনে হাটুমুড়ে বসে তরুর হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল,

“I Love you my beautiful wife.”

তরু হাসতে হাসতেই বলল,

“ভেবে চিন্তে বলছো?”

নীলাভ ভ্রু কুচকে তাকাল,

“আমি কিন্তু চ্যালেঞ্জে জিতে যাবো। ভেবে চিন্তে বলো,”

নীলাভের মনে পড়লো তরু একদিন বলেছিল,

“আমি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম যে আপনি একদিন নিজে থেকেই আমাকে ভালোবাসা নিবেদন করবেন, পাগলের মতো ভালোবাসবেন।”

নীলাভ হাসল,

“আমি এই প্রথম হেরে গিয়েও খুশি হয়েছি, হুম আমি তোকে পাগলের মতো ভালোবাসি। আমি স্বীকার করে নিলাম, আমি তোকে ভালোবাসি। আমি তোকে ভালো রাখতে চাই, তোর জন্য সব করতে পারবো, আর তোকে কখনো কষ্ট পেতে দেবোনা।”

“ওকে আমি তোমার ভালোবাসা গ্রহণ করলাম,”

নীলাভ তরুর হাতে আংটি পরিয়ে দিল, তারপর সময় নিয়ে কিস করল। নীলাভ ছেড়ে দিতেই তরু আয়নার সামনে গিয়ে দাড়াল, এতো এতো জিনিস পড়ে তাকে সত্যিই ভালো দেখাচ্ছে। তাকে দেখে কেউ বুঝতেই পারবেনা যে সে একজন গ্যাংস্টার। তার উপর গ্যাংয়ের লিডার,

“ওভাবে তাকিয়ে থাকিস না,”

তরু চোখ সরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপরে তাকালো সেখানে এয়ারিং গুলো পড়ে আছে যেগুলো মূলত নেকলেসের সাথেই ছিল। তরু সেগুলো নিয়ে নীলাভের দিকে ইশারা করে বলল,

“এগুলো?”

“নিজে থেকেই পড়ে নে, আমি আবার কন্ট্রোল হারাতে চাইছিনা। আমার সেল্ফ কন্ট্রোল রুলস দেখা উচিৎ,”

বলেই নীলাভ ফোনটা হাতে নিল। এদিকে তরুর তো ব্লাশ করতে করতে গাল দুটোই ব্যাথা হয়ে গেছে, তরু হাসতে হাসতেই এয়ারিং জোড়া পড়ে নিল। তরু নেকলেসটা ভালো করে দেখার জন্য শার্টের কলার সরাতেই সেখানে কতোগুলো বাইট মার্ক দেখতে পেল। যেগুলো কিছুক্ষণ আগেই নীলাভ করেছে, মার্কগুলো দেখেই তরুর মুখে হাসি ফুটে উঠে। নীলাভ আয়নাতে তরুকে হাসতে দেখে তরুর সামনে এসে দাঁড়ায়,

“ইউ লাইক ইট?”

তরু দ্রুত হাতে নিজের শার্টের কলার ঠিক করে নিল।

“ভ্যাম্পায়ার কোথাকার,”

“ইয়েস আ'ম ইওর পার্সোনাল ভ্যাম্পায়ার, জাস্ট ফ'র ইউ।”

তরু বাচ্চাদের মশারী ঠিক করে দিয়ে লাইট অফ করে দিয়ে এসে শুয়ে পড়ল, নীলাভ হঠাৎ করেই বলে উঠল,

“তুই এতো কিপ্টে কেনো?”

তরু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে নীলাভের দিকে তাকায়, ল্যাম্পের আলোয় নীলাভের মুখটা আবছা দেখা যাচ্ছে।

“আমি আবার কখন কার্পণ্য করলাম?”

“এইযে এতো গুলো গিফট দিলাম একটা ধন্যবাদও দিলিনা, দ্যাটস নট ফেয়ার।”

“ওকে ধন্যবাদ,”

তরুর কথা শুনে নীলাভ বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে রাখল,

“এভাবে ধন্যবাদ দেয়?”

তরু নিজের হাসি আটকে রেখে বলল,

“কিভাবে দেয় তাহলে?”

“এবার অন্তত একটা কিস পাওয়ার যোগ্য হয়েছি আমি।”

“একটু আগে কি করলে মনে নেই? আবার কিস লাগবে কেনো?”

“যা করার আমি করেছি তুই তো করিসনি।”

তরু নীলাভের দিকে এগিয়ে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

“কোথায় কিস লাগবে দেখি,”

নীলাভ নিজের লিপস পাউট করে বলল,

“এখানে,”

তরু কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নীলাভের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট দ্বারা আলতো ভাবে স্পর্শ করল। নীলাভ সময় নষ্ট না করে তরুর ঘাড় চেপে ধরে কিসটাকে আরো ডিপ করল। নীলাভ তরুর শার্টের নিচে হাত দিতে গেলেই তরু নীলাভকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

“হাত পা কন্ট্রোল করে শুয়ে থাকো, গুড নাইট।”

বলেই তরু খাটের অন্যদিকে ফিরে শুয়ে পড়ে, নীলাভ তরুকে নিজের দিকে টেনে নিতে চাইলে তরু একটা বালিশ নীলাভের দিকে ঠেলে দেয়।

“এরকম করলে আমি অন্যরুমে গিয়ে শোবো।”

নীলাভ একটা শ্বাস ফেলে বালিশ টা জড়িয়ে ধরেই চোখ বুজলো।

কেটে যায় ৫ দিন আজকে বিভান আর মোমোর বিয়ের দিন।

তরু আর নীলাভ সকাল হতেই রেডি হওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। তাদের সাথে বাড়ির বাকিরাও যাবে। বিয়ের জন্য বরাদ্দকৃত কমিউনিটি সেন্টারে খান পরিবারের সবাই এসে পৌছালো। খুব ধুমধামের সাথেই মোমো আর বিভানের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের শেষে রাতের বেলা নীলাভ আর তরু স্টেজের সামনেই বসে ছিল, তখনই নীলাভ তরুকে জিজ্ঞেস করে,

“বিভান শিকদার তোর বন্ধু হয় তাইনা?”

“হুম,”

“তুই-ই সেদিন আমার আর মোমোর বিয়ে ভাঙ্গার জন্য ওনাকে পাঠিয়েছিলি?”

তরু নীলাভের দিকে তাকাল, নীলাভ খুবই সিরিয়াস,

“পাঠিয়েছিলাম।”

“তাহলে ব্যাপারটা বিয়ে পর্যন্ত পৌছালো কি করে? আমি সিওর হয়ে বলতে পারি একটা ছেলে কখনোই বন্ধুর স্বার্থে কাউকে বিয়ে করবে না।”

“আমার স্বার্থে বিয়ে করবে কেনো? ও নিজের স্বার্থে বিয়ে করেছে। ও প্রথমে অভিনয় করলেও পরবর্তীতে মোমোকে ভালোবেসে ফেলে।”

“বাহঃ ইন্টারেস্টিং,”

তরু নীলাভের দিকে শান্ত চোখে তাকাল।

“আচ্ছা তুমি আমাকে কবে থেকে ভালোবাসো?”

নীলাভ একটা শ্বাস ফেলে বলল,

“সঠিক ভাবে বলতে পারবোনা, তুই ছোটবেলা থেকেই ঘর থেকে বের হতি না, শুধু স্কুল থেকে বাড়ি পর্যন্তই তোর যাতায়াত ছিল। তাই আমি তোকে কখনোই খেয়াল করতাম না, একদিন মা আমার হাতে একটা পিঠাভর্তি থালা দিয়ে বলল তোদের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসতে, ভাইয়া আর আপু তখন বাড়িতে ছিলোনা। তাই বাধ্য হয়েই আমি তোদের বাড়িতে গিয়েছিলাম, আমি জানি তোর মনে আছে। আমি দরজা দিয়ে ঢোকা মাত্রই আমার পা তোর হাতের উপরে পড়ে, কারণ তুই নিচু হয়ে ফ্লোর পরিষ্কার করছিলি।”

অতীত,

নীলাভ নিচে তাকিয়ে দেখল একটা মেয়ে নিচু হয়ে ফ্লোরে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করছে, নীলাভ মেয়েটির দিকে তাকাতেই মেয়েটির সাথে তার চোখাচোখি হয়ে যায়। তখন নীলাভের বয়স ১৪ বছর আর তরুর বয়স ৯ বছর ছিল।

“স্যরি আমি তোকে দেখিনি,”

অপরিচিত একটা ছেলের মুখ থেকে তুই সম্মোধন শুনে তরু খানিকটা বিরক্ত হল, এমনি সৎ মায়ের অত্যাচারে তার জীবন অতিষ্ঠ। সে ছেলেটিকে ধমক দিতে চাইলে ব্যর্থ হয় কারণ ছেলেটিকে তার অদ্ভুত রকমের সুন্দর লাগছে। তরু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

“তুমি কে? আর আমাদের বাড়িতে কি করছো?”

“আমি সামনের বাড়িতে থাকি, আমার নাম নীলাভ। তুই তরু তাইনা?”

তরু মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল,

“জারা কোথায়?”

“স্কুলে গেছে,”

নীলাভ পিঠাভর্তি থালাটা তরুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“মা দিয়েছে, তোর মা কোথায়?”

তরু নীলাভের কথা শুনে কেদে দিল। তরুর কান্না দেখে থতমত খেয়ে গেল নীলাভ,

“কি হলো কাদছিস কেনো?”

“আমার মা নেই, আমি আমার মাকে কোনোদিনও দেখিনি।”

তরুর কথাটা শুনে নীলাভ চমকে গেল, সে জানতোনা যে তরু জারার আপন বোন নয়, কারণ জারা তাদের বাড়িতে প্রায়ই যায়। সে কখনো এসব বলেনি তাকে,

“জারার মা-ই তো তোর মা।”

তরু নিজের চোখজোড়া মুছে নীলাভের দিকে তাকাল, নীলাভ দেখতে পেলো তরুর বাম গালে চড়ের দাগ পড়ে আছে। জায়গাটা লাল হয়ে আছে,

“তোর গালে কি হয়েছে,”

তরু কিছু বলার আগেই জহুরা চলে আসেন,

“আরে নীলাভ তুমি, কেমন আছো?”

“জি আন্টি ভালো আছি।”

“এসো ভেতরে এসে বসো।”

“না আন্টি আমি মাত্রই স্কুল থেকে ফিরেছি, মা এগুলো দিয়ে পাঠালো।”

“এসে বসোনা, তুমি আমাদের বাড়িতে এই প্রথমবার এলে।”

“না আন্টি অন্য সময় আসবো। এখন আমি যাই,”

তারপর নীলাভ থালাটা জহুরাের হাতে দিয়ে চলে গেল। কিন্তু যাওয়ার আগে তরুর মুখটা বেশ ভালো করে একবার দেখে নিল। সেদিনের পর থেকেই তরু আর নীলাভের মাঝের বন্ডিং ভালো হতে শুরু করে,

বর্তমান,

“সেদিনের পর থেকে আমার শুধু তোকেই দেখতে ইচ্ছা করতো। মনে হতো তোকে একবার দেখলেই আমার চোখদুটো শান্তি পায়,”

তরু চুপ করে রইলো তবে সে নীলাভের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছে,

“তুই আমাকে কবে থেকে ভালোবাসিস?”

“যেদিন তুমি ভালোবাসার মানে বললে, যেদিন আমি ভালোবাসার মানে বুঝতে পেরেছি আমি সেদিন থেকেই তোমাকে ভালোবাসি। তোমার থেকে দূরে থাকতে থাকতে এই ভালোবাসা একটা সময় পর obsession এ পরিনত হয়ে গিয়েছিল। আমার বারবার ইচ্ছা হতো তোমাকে বন্দি করে রাখতে, কিন্তু তোমার কষ্ট হবে ভেবে আমি সেসব করতে পারিনি।”

নীলাভ হাসল,

“আমি এখন বন্দি হতে চাই তরু, প্লিজ তুই আমাকে বন্দি করে রাখ।”

“অল্রেডি তুমি বন্দি হয়েই আছো।”

খান পরিবারের সবাই রাতেই বাড়িতে ফিরে আসে। তরু কাপড় চেঞ্জ করে নীড় আর নৌশিকে ঘুম পাড়াচ্ছে, এমন সময়েই নীলাভ রুমে প্রবেশ করে,

“ওরা ঘুমিয়ে গেছে?”

তরু নীড় আর নৌশিকে তাদের দোলনায় শুইয়ে দিলো তারপর মশারী টেনে দিয়ে বলল,

“হুম,”

বলতেই নীলাভ তরুর হাত ধরে তরুকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরল,

“কি করছো? যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।”

নীলাভ মুখে কিছু না বলে তরুর ঘাড়ে মুখ গুজে দিল,

“অন্তত দরজা টা তো লক করবে,”

নীলাভ মুখ উঠিয়ে তরুর দিকে তাকাল, তারপর তরুকে ছেড়ে দিয়ে দরজা লাগাতে আসলো। তরু চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, তার কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগছে। নীলাভ দরজা লাগিয়ে দ্রুতপায়ে তরুর দিকে এগিয়ে এলো, তরু সরে যেতে চাইলেও নড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। নীলাভ এসে তরুকে জড়িয়ে ধরতেই তরু শরীরের সমস্ত ভার নীলাভের উপর ছেড়ে দেয়, নীলাভ একহাতে তরুকে ধরে অন্যহাতে লাইট নিভিয়ে দিলো তারপর তরুকে কোলে তুলে নিল। তরু তো নীলাভের শার্ট খামছে ধরে আছে, নীলাভ তরুকে খাটে বসিয়ে দিয়ে তরুর কানে কানে বলল,

“প্রাণপাখি, তুই চাইলে এখনি আমাকে আটকাতে পারিস,”

তরু কিছুই বললোনা, নীলাভ হাসলো তারপর কিছু একটা ভেবে ফিসফিসিয়ে বলল,

“তুই যদি চুপ করে থাকিস তাহলে আমি এখানেই থেমে যাবো। তুই কি চাস বল,”

তরু তবুও চুপ করে রইল, নীলাভ একটা শ্বাস ফেলে টেবিল ল্যাম্প অন করতে গেলে তরু নীলাভের হাত ধরে ফেলে, তারপর নিজে থেকেই নীলাভকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে, তরু নীলাভের পুরো মুখে কিস করল, কিন্তু নীলাভ কিছুই বললোনা,

“তুই কি চাস মুখে বল,”

তরুর শ্বাস প্রশ্বাস ঘন হয়ে এলো, কম্পিত কন্ঠে বলল।

“I want you to claim me.”

নীলাভের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল,

“আমার গ্যাংস্টার ওয়াইফকে তার স্টাইলেই ক্লেইম করি কি বলিস?”

তরু কথাটার মানে বুঝে ওঠার আগেই নীলাভ তরুর হাতদুটো মাথার উপরে নিয়ে তাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে দেয়,

“এসব কোরোনা।”

“হোয়াই, মাই গ্যাংস্টার ওয়াইফ ইউ উইল লাইট ইট ফর সিওর।”

নীলাভ তরুর ঘাড়ে কিস করতে যাবে তার আগেই তার মনে পড়ে,

“আই থিংক আজকে রাতের জন্য নীড় আর নৌশিকে এনিমিনির রুমে দিয়ে আসা উচিৎ,”

“নোহ, ওরা রাতে উঠে কান্না করবে।”

“করলে আবার আনবো।”

বলেই নীলাভ এনিমিনিকে কল দেয়, এনিমিনি দরজায় নক করতেই নীলাভ নীড় আর নৌশির দোলনা সহ এনিমিনির দিকে এগিয়ে দিল,

“আমরা একটু পর বাইরে ঘুরতে যাবো, তাই ওদেরকে নিজেদের রুমে রাখো। আর হ্যাঁ কান্না করলে আমাকে কল দিও,”

এনি ঘুমঘুম কন্ঠে বলে,

“জ্বি স্যার,”

এনিমিনি চলে যেতেই নীলাভ দরজা লাগিয়ে দিয়ে লাইট অন করে,

“লাইট অফ করো।”

নীলাভ নিজের শার্টের বাটন আনলক করতে করতে বলে,

“তরু তোর যখন স্মৃতি ছিলোনা তখন তুই লাইট অফ করলে চিৎকার দিয়ে উঠতি,”

“কিন্তু এখন আমি পুরোপুরি সুস্থ আছি,”

“আই নো, বাট আই ওয়ান্ট টু সি ইউ,”

“নোহ,”

“টাইম শেষ এখন আর আমাকে আটকানোর সুযোগ নেই।”

নীলাভ নিজের শার্ট খুলে তরুকে নিজের দিকে টেনে নেয়, তরু চোখজোড়া বন্ধ করে ফেলে,

“ওপেন ইওর আইস সুইটহার্ট,”

তরু চোখ মেললো না,

“আজব এতো লজ্জা পাচ্ছিস কেনো?”

“জানিনা,”

“এরকম করছিস কেনো? কাম অন তরু আমাদের টুইন বেবি আছে।”

“তুমি জেনে বুঝেই এসব বলছো। ইউ আর আ ব্যাড পারসন,”

নীলাভ হাসল,

“কেনো ভুল কি বললাম?”

“সেইদিন গুলোতে তুমি স্বাভাবিক ছিলেনা। আর প্রতিদিনই লাইট অফ ছিলো।”

“আই নো সুইটহার্ট তো তুই বলতে চাইছিস এটাই আমাদের ফার্স্ট নাইট?”

“চুপ থাকো,”

“ওকে”

তরু চোখ মেলে তাকাতেই নীলাভ তরুর শার্টের বাটনগুলো একটানে ছিড়ে ফেলে, তরু পুনরায় চোখ বন্ধ করে নেয়। তরু উল্টো দিকে ঘুরে যেতে চাইলে নীলাভ বাধা দিয়ে বলে,

“তুই প্রথম থেকেই যেটা লুকাতে চাইছিস সেটা আমি বহু আগেই দেখে নিয়েছি।”

নীলাভের কথা শুনে তরু চমকে তাকাল,

“তুই আমার নাম লেখাটাই তো লুকাতে চাইছিস তাইনা?”

বিস্ময়ে তরুর চোখ বড়বড় হয়ে যায়,

“তুমি কিভাবে জানো?”

নীলাভ হাসলো,

“তুই যেদিন শাওয়ারের নিচে বসে থেকে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলি, সেদিন আমিই তোর পোশাক চেইঞ্জ করে দিয়েছিলাম।”

কথাটা শুনে তরু হাত বাধা থাকা অবস্থাতেই নীলাভকে ধাক্কা দিল। নীলাভ হাসতে হাসতে উল্টো তরুকে বিছানার সাথে চেপে ধরল,

“শুনবিনা?”

তরু নিজের হাত দিয়ে চেহারা ঢেকে ফেলল,

“আমি মজা করছি, আমি সেদিন শুধু আমার নাম লেখাটা ছাড়া আর কিছুই দেখিনি।”

তরু তবুও হাত সরালোনা,

“ওহহো, আমি তো ভেবেছিলাম তুই স্মৃতি ভুলে তখন ওমন করেছিলি, এখন তো দেখছি তুই ওরকমই। গ্যাংস্টারদের এতো লজ্জা পাওয়া মানায় না।”

বলেই নীলাভ তরুর হাতদুটো মাথার উপরে চেপে ধরে তরুকে কিস করতে লাগল, নীলাভের স্পর্শে তরু কেপে উঠছিলো বারংবার, নীলাভ যেনো তরুর শরীরের কম্পন গুলোই ভীষণভাবে উপভোগ করছে,

রাত পেরিয়ে ভোর ৬ টার দিকেই তরুর ঘুম ভেঙ্গে গেল, তরু ডান পাশে ফিরতেই নীলাভের চেহারা দেখে অজান্তেই হেসে ফেলল, তরু আলতো হাতে নীলাভকে সরিয়ে উঠে শাওয়ার নিতে ওয়াশরুমে চলে গেল।

সাড়ে সাতটার দিকে নীলাভের ঘুম ভাঙে, সে ঘড়িতে টাইম দেখে দ্রুত উঠে পড়ে, তাকে অফিসে যেতে হবে। নীলাভ পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে তরুকে খুজলো, কিন্তু পেলোনা। ইদানীং তরু চোখের আড়াল হলেই নীলাভ তরুকে মিস করে।

“কোথায় গেলো আমার প্রাণপাখিটা?”

নীলাভ মন খারাপ করে শাওয়ার নিতে চলে গেল। তারপর বেরিয়ে এসে একদম রেডি হয়েই নিচে নেমে এলো। নীলাভ দেখলো তরু আর জারা টেবিলে খাবার সার্ভ করে দিচ্ছে,

“ও এতো পার্ফেক্ট কেনো? কে বলেছে এতো পার্ফেক্ট হতে? আমি বারবার ওর প্রেমেই পড়ে যাচ্ছি,”

নীলাভ টেবিলে গিয়ে বসলো, জারা নাহিদর ডাক শুনে উপরে চলে গেল। তরু নীলাভকে ব্রেকফাস্ট দিয়ে অন্যদিকে যেতে নিলে নীলাভ তরুর হাত ধরে ফেলে,

“আমি জিলাপি টেস্ট করতে চাইছি বউ,”

নীলাভের কথাশুনে তরু চোখ বড়বড় করে নীলাভের দিকে তাকালো তারপর বলে উঠল,

“যেদিন অফার করেছিলাম সেদিন তো বেশ লজ্জায় লাল নীল হয়ে চলে গিয়েছিলে, তো এখন সেই লজ্জা কই গেলো? তোমার কি মনে হচ্ছেনা তুমি অনেক বেশিই নির্লজ্জ হয়ে গেছো?”

নীলাভ হাসিমুখে বলল,

“বউয়ের সামনে লজ্জা পেতে নেই, আর তাছাড়া তুই যেমনটা লাইক করিস আমি তেমনটাই হতে চাইছি।”

“এইযে হ্যালো তোমাকে কে বলেছে যে আমি এসব লাইক করি?”

“কেনো বিয়ের দিন রাতের কথা মনে নেই? তুই আমাকে কিভাবে টিজ করেছিলি? আমাকে প্রমাণ দিতে হবেনা যে আমি শারীরিক ভাবে একদম ফিট আছি।”

“ছি ডাইনিং রুমে বসে এসব কি বলছো,”

“তো চল বেডরুমে যাই, আমার প্রবলেম নেই।”

“তোমার সাথে কথা বলাই বেকার, যাই হোক তাড়াতাড়ি আসবে আজকেও বিয়ের দাওয়াত আছে।”

“আবার কার বিয়ে?”

“আমার ফ্রেন্ড লিজা আর আভিকের বিয়ে,”

“এই তোরা না বন্ধু?”

“হুম আমরা বন্ধু, কিন্তু ওরা বন্ধু থেকে লাইফ পার্টনার হতে চাইছে।”

“বাহ বেশ ভালো এক বন্ধুর বিয়ে দেখে ওদেরও বিয়ে করতে ইচ্ছা হলো।”

“হুম আসলে ওরা বিয়ে করার কমপিটিশন করেছিলো কিন্তু বিভানই জিতে গেলো।”

নীলাভ ভ্রু কুচকে তাকাল,

“এতে কমপিটিশন করার কি আছে?”

“ওদেরকে বলেছি ওদের মধ্যে কারো মেয়ে হলে আমাদের ছেলের বউ করে আনতেও পারি।”

তরুর কথা শুনে নীলাভের গলায় খাবার আটকে যায়, তরু পানি এগিয়ে দিয়ে বলে,

“কি হলো?”

নীলাভ পানি খেয়ে বলল,

“সিরিয়াসলি? তুই ছেলের বিয়ে নিয়েও ভেবে ফেলেছিস?”

“হুম না ভাবার কি আছে, ফিউচার প্ল্যানিং করবোনা?”

“তাই বলে এতো তাড়াতাড়ি? ওদের এখনো দাঁত ওঠেনি তরু,”

“ওঠেনি তো কি হয়েছে উঠে যাবে।”

নীলাভ চুপ হয়ে গেলো, তার ভীষণ হাসি পাচ্ছে।

“নৌশির বিয়ে নিয়ে কি ভাবলি?”

“আমাদের মেয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করবে।”

নীলাভ অবাক চোখে তাকাল,

“তাহলে নীড়কে পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করতে দিবিনা?”

তরু আড়চোখে নীলাভের দিকে তাকায়,

“নীড় যেই জেদি ওর ধারে কাছে মেয়েরা ঘেষবে বলে মনে হয়না। সেই জন্যই এখন থেকেই পুত্রবধূ খুঁজে রাখছি।”

নীলাভ নিজের হাসি ধরে রাখতে পারলোনা। নীলাভকে হাসতে দেখে তরু একটা রুটির পুরোটা নীলাভের মুখে ঢুকিয়ে দিলো।

“নেও সিরিয়াস কথায় হাসার রুটি ভোগ করো। এবার মনখুলে হা হা করো।”

বলেই তরু ধপাধপ পা ফেলে নিজেদের রুমে চলে যায়। নীলাভ বহু কষ্টে রুটিটা গিলে আবারও হেসে ওঠে,

“পাগল বউটা আমার,”

রাত ১০ টায় আভিক আর লিজার বিয়ে হয়ে যায়। যদিও তারা বিশেষ আয়োজন করেনি। কারণ লিজা বা আভিক কারোরই আত্মীয় নেই। আভিকের বাবা আর তাদের বন্ধুদের নিয়েই বিয়েটা হয়ে যায়। নীলাভ বাড়িতে ফোন দিয়ে এনিকে বলে,

“বাচ্চারা কি করছে?”

“বাচ্চারা ঘুমিয়ে গেছে স্যার,”

“না খেয়েই?”

“কুইন ওদের খাবার রেখেই গিয়েছিলো।”

“ওহ আচ্ছা, ওরা যেহেতু ঘুমিয়েই গেছে আমরা তাহলে একটু দেরি করেই ফিরবো। ওদেরকে দেখে রেখো।”

“আচ্ছা স্যার আপনি চিন্তা করবেন না।”

নীলাভ কল কেটে দিয়ে তরুর দিকে তাকালো, তরু তার দিকেই আসছে, তরু কাছে আসতেই নীলাভ বলে ওঠে।

“চল আজকে তোকে নিয়ে ঘুরতে যাবো।”

“এই রাতের বেলা?”

“হুম,”

“বাড়িতে নীড় নৌশি আছে,”

“আমি খোঁজ নিয়েছি, ওরা ঘুমিয়ে গেছে। চিন্তা করিসনা।”

তরু রাজি হতেই নীলাভ তরুর হাত ধরে তাকে গাড়িতে ওঠালো। তারপর তরুকে নিয়ে একটা পার্কে গেলো, আজকে পার্কে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে মেলা বসেছে। নীলাভ একটা গোলাপ ফুল নিয়ে তরুকে প্রপোজও করল,

“আই লাভ ইউ মাই বিউটিফুল ওয়াইফ,”

তরু ফুলটা হাতে নিয়ে বলল,

“আই লাভ ইউ টু মাই লাভ।”

নীলাভ তরুর হাতে কিস করে উঠে দাড়াল, তরু পেছনে ঘুরে বলল,

“এই ফুলটা আমার খোপায় গুজে দেও,”

নীলাভ হাসিমুখে তরুর কথা মতো তরুর খোপায় ফুলটা গুজে দিল। তারপর তরুকে নিয়ে হাটতে হাটতে একটা বেঞ্চিতে এসে বসল, তখনই আকাশে অনেক গুলো fire works এর খেলা দেখানো হয়, তরু তো খুশিতে চিৎকার দিয়ে ওঠে, তরু তো ফায়ার ওয়ার্কস দেখতে ব্যস্ত কিন্তু নীলাভ ব্যস্ত নিজের প্রাণপাখিকে দেখতে, তরু নীলাভকের হাত জড়িয়ে ধরে নীলাভের কাধে মাথা রাখল।

“তোমার মনে আছে তাইনা যে আমি ফায়ার ওয়ার্কস পছন্দ করতাম।”

“হুম আর আমি জানি এখনো করিস,”

তরু নীলাভের কথা শুনে নীলাভের দিকে তাকাল। নীলাভ তো তার দিকেই তাকিয়ে আছে, তরু মুচকি হেসে নীলাভের গালে ঠোঁট ছোয়াল। নীলাভ শান্তকন্ঠে বলল,

“আমি তোকে খুব ভালোবাসবো তরু। তোকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার কাছে ফিরে আসার জন্য, সারাজীবন আমার হয়ে থাকার জন্য আর আমাকে এতোটা ভালোবাসার জন্য,,, তরু আমি তোকে শুধু এটুকুই বলতে চাই যে,,, I will love you more than yesterday but less than tomorrow.”

তরু বলল, “me too”

নীলাভ তরুর কপালের সাথে কপাল ঠেকালো। চারপাশে ফায়ার ওয়ার্কসের শব্দ মূহুর্তটাকে আরো মধুর করে তুলল, এখানেই তাদের প্রেমের গল্পের ইতি হলো। তবে তাদের প্রেম আমৃত্যু থেকে যাবে, হয়তো সেই প্রেম প্রতি মূহুর্তে গভীর থেকে গভীরতম হয়েই যাবে। এই প্রেম যে শেষ হওয়ার নয়, পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে তাদের এই প্রেম এভাবেই চলতে থাকবে,

-----------------সমাপ্ত

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন