ফন্ট সাইজ:
থিম:
ফের বসন্ত

১৯তম পর্ব

লেখক: ঐশী রহমান

#বসন্তের_ফিনল্যান্ড

#সূচনা_জাফরিন

#পর্ব -১৯

ওয়াহিদ এর কাছে একটি পরিচিত নম্বর থেকে কল এলো। ঐ কল পাওয়ার পর থেকেই মেজাজ তুঙ্গে উঠেছে তার

,মিসেস শিলা এসে বললেন কী ব্যাপার এখনো তৈরি হওনি তুমি? মেয়ের বাড়ি যেতে হবেনা? রাত ৮ টা বেজে গেছে তুমি ছাড়া দেখি সবাই তৈরি হয়ে রয়েছে।

ছোট বোন চামিলি বলল"যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই।

মিসেস শিলা বলল"কিছু কি হয়েছে বাবা?"

না মা আপনি সবাইকে নিয়ে সেখানে চলে যান, আমিও আসছি।

:

:

আফশীনের মাথাটা বেশ খারাপ নিজের কোনো বোন নেই শুধু আছে আওসাফ তাই সব কাজিনরা এসেছে এংগেইজমেন্ট এর অনুষ্ঠানে। একটু আগে মা এসে শাড়ি, চুড়ির ডালা দিয়ে গেছে, ছেলে পক্ষ কতো কিছুই না পাঠিয়েছে।আফশীন ফিরেও তাকায়নি ওসবের কিছুতে।

সন্ধ্যা থেকে ছোট -বড় কাজিন বোন গুলো এসে বিরক্ত করছে তাকে তৈরি করে দিতে।

একটি কিশোরী মেয়ে এসে খবর জানালো "মামী বলেছে বর পক্ষ এসে গেছে তাই আপু কে নিয়ে বসার ঘরে যেতে।

:

:

আফশীন দের ঘরে বেস মেহমান, আগামীকাল কাবিন হবে তাই দূরের নিকট আত্মীয়রা আজই চলে এসেছে ।

আফশীন ভাবছে আজ সকালের কথা। ভোরে ফজরের নামাজ টা পড়ে, তিনতলার ছাদে হাটছিল সে, সুন্দর প্রকৃতি দেখে মনে আওড়ালো

"নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।সূরা আল-মুলক : ১২"

হঠাৎ মোবাইলে টুং করে ম্যাসেজ এর শব্দ এলো, আওসাফ ম্যাসেজ করেছে গেইটে গাড়ি অপেক্ষা করছে নিচে আয়।

আফশীন রেলিং এ দাঁড়িয়ে নিচে দেখার চেষ্টা করলো।একটি কালো গাড়ি এসে থেমেছে, তবে কাউকে দেখতে পেলোনা। তারপর আস্তে আস্তে গিয়ে গাড়ির দরজার পাশে দাঁড়ালো, আওসাফ কালো কাঁচ নামিয়ে বলল "ভেতরে আয়।

গাড়িতে বসে বলল"ভাইয়া এতো ভোরে আমরা কই যাচ্ছি, কোনো কিছু কি খারাপ ঘটেছে?

"গেলেই দেখতে পাবি।

চট্টগ্রামের ওয়ার সেমেট্রির (পার্ক)সামনে গাড়ি থামলো। হঠাৎ এতো সকালে এই জায়গায় কেন, আফশীন কিছুটা অবাক হলো তবে মুখে প্রকাশ করলো না।

গাড়ি থেকে নেমে গেইটে ঢুকে দু পাশে সবুজে ঘেরা মাঝে পিচ ঢালা রাস্তায় হাটতে লাগলো, এই পার্কে আছে ব্রিটিশ আমলের ততকালীন সৈনিকদের নামে স্বরণক্ষেত্র ।অন্যপাশে একটি বড় ক্রসিং টম্ব যা খ্রিষ্টীয় ধর্মের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত।

সুন্দর বিদেশী ধাচের পরিবেশ। বিভিন্ন দেশীয় ফুলের গাছ, কাঠ গোলাপ, কৃষ্ণচূড়া, স্পাইডার লিলি, বেলি, নয়নতারা ইত্যাদি। এসব দেখতে দেখতে কেউ পেছন থেকে ডাকলো "মিস আফশীন "

আফশীন পেছনে ফিরে চমকে উঠলো মুহূর্তেই।

অনেকটা তোতলে বলল, স্যার আপনি?

আফশীনের পড়নে পেয়াজি রঙা নামাজের বড় হিজাব।কোনো প্রসাধনী বিহীন একটি পবিত্র মুখ।

জেরিমি তাকে দেখে বলল "অনেকদিন পর কাউকে এমন দেখলাম। "

আফশীন দেখলো কিছুটা দূরে সরে দাঁড়িয়েছে আওসাফ।অন্যপাশে মুখ ফিরিয়ে অর্থাৎ এটা কোনো স্বপ্ন নয়, এখন সে সত্যিই জেরিমিকে দেখতে পাচ্ছে।

তারপরও বিশ্বাস হচ্ছেনা "স্যার আপনি কি সত্যিই এখানে, নাকি আমিই ভুল দেখছি।

জেরিমি ধমকের সুরে বলল"তুমি আমাকে বলোনি কেন? "

আফশীন ধমক শুনে চমকে উঠলো "কি বলিনি?"

"নিজ দেশে চলে এলে ওভাবে না জানিয়ে?"

"স্যার আপনি তো ব্যস্ত ছিলেন তাই,,

জেরিমি আবার ধমক দিলো "তুমি! ব্যস্ত ছিলাম তাই বলে কি?

ভ্রু জোড়া কুচকে দৃষ্টি আরও সরু করে "তাই বলে কি?"

জেরিমি পরপর ঢোক গিলে অস্থির গলায় বলল"ব্যস্ত বলে কি, আমার কোনো ফিলিংস নেই? "

আফশীনের ও শ্বাসের গতি দ্রুত হতে লাগলো।

খুব ধীর গতিতে বলল"ফিলিংস?"

জেরিমি একইভাবেই অস্থির, কপাল বেয়ে ঘাম নামছে। শার্টের বোতাম খুলে কিছুটা পেছনে ঠেলে দিলো, হঠাৎ করেই যেন খুব গরম লাগছে তার।

"আমি জানি, আমাকে কেউ পছন্দ করেনা, আমি হয়তো ভালোবাসতেও জানিনা আর আগলে রাখা সে তো,,,,,

আফশীন কথার মাঝে বলল "কে বলেছে? "

জেরিমি বলল "কি? "

"আপনাকে কেউ পছন্দ করেনা?"

জেরিমি কিছু বলার জন্য মুখ খুললো কিন্তু বলতে না পেরে আশেপাশে চোখ বুলালো, কন্ঠে কান্নারা দলা পাকিয়েছে।

আফশীন চোখে চোখ রাখতে চাইলে নিজের মাথাকে এপাশ ওপাশ সরিয়ে নিলো, জেরিমি যেন খুব লুকোতে চাইলো।আফশীন বলল "বলুন না কি?"

কিছুটা ধাতস্থ করে বলল"আমি, আমি খুবই অন্তর্মুখী মানুষ, নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করিনা সহজে।

আফশীন বুঝতে পারলো এই মানুষটি আজ নিজেকে প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

জেরিমির গলায় আবার কান্নার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

"আমি একজনকে ভালোবেসেছিলাম খুব।বলতে পারো প্রথম ভালো লাগা, তার নিকট অকপটে স্বীকার করেছিলাম নিজের অনুভূতি।

আফশীন শুধু চেয়ে রইলো "স্যার অন্য একজনকে ভালোবাসে!"

জেরিমি আবার বলল"বিশ্বাস করো তার সব কিছুতে আমি এতোটায় মুগ্ধ ছিলাম যে, নিজের জীবনকে তার মতো করে সাজাতে শুরু করলাম, তার ধর্ম, কর্ম সবকিছুর প্রতি আকৃষ্ট হলাম। এমন কি মুগ্ধ হয়ে ওসবেই রিসার্চ শুরু করে দিলাম আর নিজের আত্মায় পরিবর্তন আনতে লাগলাম হঠাৎ একদিন সব ধ্যান জ্ঞান আমাকে জানান দেয়, যাকে নিয়ে আমি ভবিষ্যৎ সাজাচ্ছি কল্পনায়, তার কোনো কিছুতেই আমার অস্তিত্বের ছিটে ফোটা নেই।

হৃদয় ভেঙে গেছে বুঝি সেদিন চিরতরে।

পরক্ষণেই গুটিয়ে নিয়েছি নিজেকে কারণ আমি ভালোবাসাকে ভালো রাখার শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছি, কষ্ট দিতে পারবো না কাউকে কিন্তু একটা সময় পর মনে হলো অনেক দেরি হয়ে গেছে, সে আমার সমস্ত অনুভূতিকে গ্রাস করেছে, কোনোভাবেই তাকে ভোলা সম্ভব হচ্ছে না, তাকে খুশি দেখতে ভালো লাগে খুব কিন্তু ভেতরে নিজের হৃদয়টাও যে অনেকখানি জ্বলে।

সিদ্ধান্ত নিলাম সুইডেন থেকে পালিয়ে যাওয়ার, এতেই হয়তো আবেগি যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো, আমি জানতাম অনেক মেয়েরাই আমাকে পছন্দ করতো ক্লাসে পরোক্ষভাবে তাদের মনের চাওয়া ব্যক্ত করতো কিন্তু আমার আর ইচ্ছে হয়নি এসব ভাবতে।

হঠাৎ তোমার আগমন হলো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা দিয়ে, যেমন টা তার সাথেও হয়েছিল, ধীরে ধীরে অনেক কিছুই কেমন যেন মিলে যাচ্ছিল। আমার মনে হতে লাগলো জীবন কি পুনরায় কিছু ইঙ্গিত করছে আমাকে।

আফশীন চুপসে গলায় বলে উঠলো "মানে আমি তার মতো বলেই আপনার আমাকে,,,,"

আফশীনের কথা অসম্পূর্ণ বলে জেরিমি বলল"কে বলেছে তুমি তার মতো? "

"এয়্য্, আপনিই তো বলেলন!"

জেরিমি আফশীনের অভিব্যাক্তি দেখে কিছুটা হাসতে চাইলেও আবার নিজেকে দমিয়ে কম্পিত কন্ঠে বলল"মোটেও না, সেটা আমার সাময়িক ধারণা ছিল, তোমাকে যখন কাছ থেকে জানতে লাগলাম তখন বুঝলাম তুমি একটুও তার মতো না।

"আচ্ছা কেমন আমি?"

"সে ভীতু ছিল, তুমি সাহসী সে আত্মনির্ভরশীল ছিলনা, তোমার মতো নিজ সিদ্ধান্তে চলতো না। তুমি অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভয় এবং কঠিন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন,সুতরাং তুমি আমার জন্য কেবল আফশীন আর আমি শুধুই আফশীন কে,,,,,

জেরিমি থেমে গেল অজানা ভয়ে আবার কন্ঠ কাঁপতে লাগলো কিন্তু আফশীনের কানে যে আর তর সইছে না।

অধীর আগ্রহ নিয়ে জেরিমির দিকে তাকিয়ে রইল।

জেরিমি আবার থেমে থেমে বলল"আমি, আমি, আমি আসলে।"

একপর্যায়ে আফশীন ধমক দিয়েই বলে ফেলল "কি সমস্যা? এতো কঠিন কঠিন কথা বলতে পারেন এতো কঠিন কঠিন সূত্র মনে রাখতে পারেন আর এইটুকু বলতে পারছেন না? "

জেরিমি যেন ভয় ই পেয়ে গেল, উলটো পথে হাটা দিতে গিয়ে বলল"জানি তুমি হয়তো অন্য কাউকে,,,, রিজেক্ট হওয়ার অনুভূতি হয়তো আমি আর নিতে পারবো না তারপরেও শেষ চেষ্টা আমি করতে এসেছি। ঠিকাছে আমি যাই। "

এবার তো বেশ মেজাজ বিগড়ে গেছে মেয়েটির চিৎকার করে বাংলায় বলল "ঐ জেরিমি ভালোবাসলে অন্তত বলে যাও, এভাবে চলে যাচ্ছো কেন? "

জেরিমি দাঁড়িয়ে গেল, কী বুঝেছে কী জানি ফের আফশীনের দিকে ফিরে বলল"তোমাকে অনেক ভালোবাসি। "

জেরিমির মুখে বাংলা স্বীকারোক্তি শুনে আফশীন আর আওসাফ দুজনেই হা হয়ে গেল।

:

:

:

ওয়াহিদ ও চলে এসেছে আফশীনদের তিনতলা বাড়িতে। বন্ধু অনিক জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে তোকে এমন রাগি রাগি মনে হচ্ছে বাইক এ করে বের হলি, গাড়ি বের না করে, পুরো রাস্তায় ও কিছু বললিনা "কোনো সমস্যা? "

মিসেস রেনু বেশ খাতির যত্ন করে নাস্তার আয়োজন শেষ করালো।ওয়াহিদ কিছুই খেলো না।নিজের মা কে ইশারা করলো।

মিসেস শিলা বলল এবার আফশীন কে নিয়ে আসুন জোড়ার অনুষ্ঠান শুরু করা যাক।

মিসেস রেনু রুমে গিয়ে বলল"আফশীন কই।

মেয়েরা একে অপরের মুখ চেয়ে বলল "বসার ঘরেই গেছে এখন। ওহ আচ্ছা আমি হয়তো খেয়াল করিনি।

মিসেস রেনু পাক ঘরের কাজ দেখাশুনা করে আসতেই কিছু একটার শব্দ পায়,দ্রুত সামনের ঘরে গিয়ে দেখে ফ্লোরে এক বোল ফিরনি পড়ে সর্বনাশ হয়েছে, চারিদিকে চূর্ণ বিচূর্ণ কাঁচের টুকরো।

"হে আল্লাহ কীভাবে পড়েছে এসব?"

"মা ভুলে আমার গায়ের সাথে ধাক্কা লেগেছে।"

"আচ্ছা থাক কিছু হবেনা! এক্ষুণি , কথাটা বলে উপরে তাকাতে দেখলো আফশীন ঘরের জামা পড়েই দাঁড়িয়ে আছে আর মেহমানরা ও সবাই দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে তাদের দিকে চেয়ে আছে।

মিসেস রেনু ঢোক গিলে মেয়ের কাছে গিয়ে হাত চেপে ধরলো, ফিসফিসিয়ে বলল"এসব কী, তুই তৈরি হওস নি কেন?

"মা আমি তো বলিনি আজ আমার এংগেইজমেন্ট! "

বিস্ফোরিত চোখে মিসেস রেনু তাকালো মেয়ের দিকে।

"এতো গুলো মানুষের সামনে, আমাদের অপমান করবি? "

"না, শুধু বুঝিয়ে বলবো। মিসেস রেনুকে অবাক করে দিয়ে আফশীন আরেকটু সামনে গিয়ে অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলল "আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ আমাদের ঘরে বেড়াতে এসেছেন বলে। সবাই খুব খাবেন, মজা করবেন আর আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।

কথাটি বলে চলে যাচ্ছিল সে অমন সময় কেউ হাত ধরে ফেললো।মেয়েটি ফিরে তাকিয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই ওয়াহিদ তার হাত টেনে সবার মাঝে নিয়ে দাঁড় করালো। তারপর রিং বক্স থেকে সুন্দর একটি আংটি বের করে, আফশীনের অনামিকা চেপে পড়িয়ে দিলো। আরো একটি আংটি নিয়ে নিজের আঙ্গুলে পড়ে নিলো।

এরপর তার বন্ধুদের তালি দিতে দেখে অন্যরাও উৎসাহ পেলো।

হাসিমুখে বলল"আমাদের বাগদান সম্পন্ন হলো এবার আপনারা উপভোগ করুন, আমি আর আমার হবু বউ একটু আলাপচারীতা করবো, ধন্যবাদ সবাইকে।

আফশীনের হাত আগের মতোই চেপে ধরে দোতলা থেকে ছাদে নিয়ে এলো ওয়াহিদ। নিজের হাত ছাড়িয়ে আফশীন বলল"কেমন অসভ্যতা এটা?"

ওয়াহিদ রাগি তবে ধীর গলায় বলল"আপনার ব্যাপারে আমি যথেষ্ট ধৈর্যশীল, আশা করি আর কোনো প্রমাণ দিতে হবেনা আমার। তিন বছর পার হয়ে গেছে, আমি নিজেকে দূরে রেখেছি লন্ডনে ছিলাম এতোদিন নিজের ব্যারিস্টারী পড়া শেষ করতে নয়! আপনাকে সময় দিতে। দেশে আমি ছিলাম না তবে আপনার দিকে কেউ তাকাবে ওটা আমি হতে দেইনি।এই যে আপনার মনে হতো কেউ আপনাকে দেখছে? সব আমারই লোক।

আফশীন উত্তেজিত হয়ে বলল"আগেই বলেছি আমি আপনাকে বিয়ে করব না।"

"ঐ বিদেশী ছেলের জন্য? "

আফশীন চমকে তাকালো। ওয়াহিদ রাগে থরথর করে বললো, আগেই বলেছি আপনার ব্যাপারে আমি যত্নশীল।

আফশীন ঢোক গিলে বলল"আমি তাকে ভালোবাসি, শুধুই তাকে। "

ওয়াহিদ আবার গিয়ে আফশীনের হাত ধরে বলল"আমার চাইতে বেশি ভালো বাসেন? আপনি জানেন কীভাবে ভালোবাসে?

আফশীন নিজের হাত ছাড়াতে চাইলে ওয়াহিদ বলল "পারবেন না, আমি না চাইলে পারবেন না সরাতে। আর আমি যেতে দেওয়া ভালোবাসায় বিশ্বাসী না,কাউকে ধরে না রাখতে পারলে কীভাবে দেখবে, কীভাবে বুঝবে মনের কথা?দেখুন আমি আপনাকে অসম্ভব ভালোবাসি।

"কিন্তু আপনি তো জেনেই গেছেন, আমি অন্য কাউকে পছন্দ করি, সেও আমাকে পছন্দ করে। "

"আপনি পাশে থাকলেই হবে আমার, আমি একাই যথেষ্ট আমাদের সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য।হয়তো কোনো একদিন আপনিও গ্রহন করবেন আমাকে আর ওসব বিদেশীরা ভালোবাসার কি জানে? "

আফশীন হাত ছাড়িয়ে বললো "একেবারেই না, স্বার্থপর আপনি। আমি ঘৃণা করি স্বার্থপর দের।আমার মা আর আপনি দুজনই স্বার্থপর। "

"আমি আপনাকে হারাতে পারবনা, প্লিজ বুঝুন। "

আফশীন কেঁদে কেঁদে বলল"ভাগ্যিস জেরিমি আপনার মতো না, সে সত্যিই আলাদা, পৃথিবীর কল্যাণের জন্য কাজ করে, মানুষের কথা ভাবে,আপন দের ভালোবাসে, কারো উপর জোর খাটায়না, কাউকে বাধ্য করেনা।আমার আপনাকে চাইনা বুঝলেন, কোনো স্বার্থপর আমার জীবনে থাকতে পারবেনা।

জুলুম করতে গিয়ে ভুলে যাবেন না :

"তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।সূরা আল-মুলক : ১৫

চলবে,,,,

(কী একটা অবস্থা গল্প শেষই হয়নারে, চলতেই আছে চলতেই আছে🤨)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন