(🚫রোমান্টিক গল্প যাদের পছন্দ নয় তাঁরা স্কিপ করবেন)
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব ১৬
❌ কপি করা নিষিদ্ধ ❌
*
*
রাতভর রিশানের ভালোবাসার অত্যাচার সহ্য করে ভোরে ভোরে ঘুমিয়েছে জাইরা । রিশান ও তাকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফুলিয়ে ঘুমাচ্ছে । সকাল ৮ টায় ঘুম ভাঙে তার । সামনে নিজের ব্যক্তিগত নারীর অপরুপ সুন্দর মুখখানা দেখে তার বুকে প্রশান্তির স্রোত বয়ে যায় । মুগ্ধ হয়ে দেখে সেই নারীকে ।
পিটপিট করে চোখ খুললো জাইরা । ঘুম ঘুম চোখে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি উপহার দিলো । রিশান জাইরার ঠোঁটে শব্দ করে চুমু খেলো । কপালের কাছের চুল গুলো কানে গুজে দিয়ে বললো ,
—“ Good morning Arapakhi ! ”
—“ good morning ! ”
দুজনেই আড়মোড়া ভেঙে উঠে পড়লো ।
*
*
*
চোখ খুলতেই জিসান ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো । এটা কে ? তার রুমে একটা মেয়ে কি করে ? তার বাবা না বিয়ে ঠিক করেছিল , এখন লোকে তার ঘরে মেয়ে দেখলে তো বিয়ে ভেঙে যাবে । হায় হায় ! এইসব ভাবতেই তার মাথা ভনভন করে উঠলো চোখ বুজে দিলো এক চিৎকার ! হঠাৎ চিৎকার শুনে আলিজা লাফ দিয়ে উঠলো । স্বামীকে চিল্লাতে দেখে আগে পিছে কিছু না ভেবে সেও একই গতিতে চিৎকার দিলো । অন্যকারো চিৎকার কানে আসতেই জিসান মাথা তুলে তাকালো তারপর এক চিৎকার দিয়ে লুটিয়ে পড়লো আলিজার উপর । আলিজা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো । এতক্ষণে তার চিৎকার থেমেছে ।
জিসানকে এভাবে লুটিয়ে পড়তে দেখে তাকে আঙুল দিয়ে খোঁচা দিয়ে বললো ,
—“ এই আপনি ঠিক আছেন? ”
জবাব এলো না । অজ্ঞান মানুষ কিভাবে জবাব দিবে ? ইতোমধ্যে তাদের রুমের বাইরে থেকে আওয়াজ ভেসে আসছে । সবাই জড়ো হয়ে গেছে ।
সেতু বেগম দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে বললেন ,
—“ এই জিসান ঠিক আছিস তোরা ? এভাবে চিৎকার করছিলি কেন? ”
আলিজা কোনমতে জিসানকে বিছানায় শুইয়ে এসে দরজা খুলল । সে দরজা খুলতেই সবাই হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকে পড়ল । আলিজা অবাক চোখে তাকিয়ে রইল তাদের দিকে । সেতু বেগম জিসানকে নাড়াতে নাড়াতে বললেন ,
—“ এই জিসান আবার কি হয়েছে তোর ? বাবা ওঠ ! ”
রিশান এগিয়ে এসে ভাইয়ের মুখ দেখে বললো ,
—“ আবার অজ্ঞান হয়ে গেছে ! পানি ছিটাও ওর মুখে । ”
তারেক রহমান আলিজা'কে জিজ্ঞেস করলেন ,
—“ চিৎকার করছিলে কেন? ”
আলিজা সরল মনে সব খুলে বললো । শুনেই ধমক দিলো সেতু বেগম !
—“ এক গাধা আরেক গাধারে বিয়ে করছে । ও চিল্লাইছে কেন সেটা জিজ্ঞেস না করে নিজেও চিল্লান শুরু করছে । কত্ত বড় গাধা ! ”
শাশুড়ি রুপি খালার ধমক খেয়ে ভোঁতা মুখে কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রইল । জিসানের জ্ঞান ফিরতেই ধরফিয়ে উঠে বসলো ।
—“ আমার বিয়ে...আমার বিয়ে..! ”
—“ কিসের বিয়ে তোর না কালকে বিয়ে হলো আবার কি ? ”
গম্ভীর মুখে শুধালো রিশান ।
—“ এ্যাঁ? ”
হতবিহল হয়ে গেল সে । পরক্ষনেই সব মনে পড়তে বোকা বনে গেলো । সবাই তার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।
সে মুচকি হাসি দিয়ে বলল ,
—“ হে হে ভুলে গিয়েছিলাম যে আমার হয়েছে । ”
সেতু বেগম সাথে সাথে একটা গাট্টা মারলেন ছেলেকে । কতো চিন্তা হচ্ছিল তার ! জিজ্ঞেস করলেন ,
—“ চিৎকার দিছিলি কেন? ”
—“ আমার পাশে একটা মেয়ে শোয়া ছিলো তো তাই । জীবনে প্রথম বার বিয়ে করেছি তো তাই ঘুম থেকে উঠে মনে ছিল না । ”
সেতু বেগম হা-হুতাশ করে বললো ,
—“ আল্লাহ এদের নিয়ে আমি কোথায় যাবো ! ”
জিসানের ভ্রু কুঁচকে গেল । সে তড়িঘড়ি জিজ্ঞেস করল ,
—“ কেন? আব্বু কি দ্বিতীয় বিয়ে করেছে ? আর সেই মহিলা আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাচ্ছে ? নাহলে আমাদের নিয়ে তুমি যাবে কেন? আব্বু সত্যি করে বলোতো রাতের বেলা কী তুমি দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলছো নাকি ? ”
শেষের কথাটা তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে বললো । তিনি কিছু বললেন না । শুধু মাঝে মাঝে ভাবেন , এমন জাউড়া তার ঘরে জন্ম নিলো কিভাবে ? তার বংশের মধ্যে এই লেভেলের জাউড়া আর আছে বলে তো তার মনে হয় না ।
সেতু বেগম বললেন ,
—“ ধূর থাক তোরা ! আমি গেলাম । ”
—“ আব্বু আম্মুকে ডিভোর্স দিয়ে দাও , আমরা এর থেকে সুন্দর একটা বউ এনে দেব । দেখছো না সে থাকতে চাচ্ছে না । ”
রিশান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে বললো । সবাই কোন মতে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে । সেতু বেগম যেতে গিয়েও ফিরে এলেন । দুম করে কিল বসালেন ছেলের পিঠে । রিশান চোখ মুখ কুঁচকে নিলো ।
—“ দেখছিস জিসান কেমন দর্জাল ! নিজে থাকতে চায় না আবার নতুন মা আনার কথা বললেও মারে । ”
সেতু বেগম চোখ রাঙালেন । সে বেড়িয়ে যেতে যেতে স্বামীকে ধমক দিয়ে বললেন ,
—“ তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন ? বিয়ে করার সখ জেগেছে বুঝি , ছেলেদের কথায় নাচছো ! নিচে আসো । ”
তারেক রহমান মুখ ভোঁতা করে স্ত্রীর পিছন পিছন পা চালালেন । শুধু শুধু তাকে এতো কিছু শুনালো সে কখন ছেলেদের কথায় নাচলো ?
তার যেতেই ঘরে হাসির রোল পড়ে গেল । সবাই হো হো করে হেসে উঠলো । হঠাৎ জিসানের চোখ গেল দূরে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকা আলিজার দিকে । সে হাসছে না ভোঁতা মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে ।
—“ তোমরা সবাই যাও বউয়ের সাথে পার্সোনাল কথা আছে । ”
সবাইকে জোর জবরদস্তি করেই বের করলো । যদিও রিশান নিজ থেকেই বেড়িয়ে গেছে । কিন্তু জাইরা যেতে চাচ্ছিল না । একটু জাঁ এর সাথে গল্প করবে । নাহ জিসান তা হতে দিলো না , ঠেলে ঠুলে বের করে দিলো তাকে ।
দরজা আটকে আলিজার কাছে এসে চিন্তিত কন্ঠে বললো ,
—“ কি হয়েছে? এভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেন? ”
—“ কিছু না । মাথাটা চক্কর দিচ্ছে । কালকে রাতের কিছুই মনে করতে পারছি না । আপনি কখন এসেছিলেন? ”
কালকে রাতের ঘটনা ভেবেই জিসান হেঁসে কুটিকুটি হলো । আলিজা তার দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললো ,
—“ কি হয়েছে হাসছেন কেন? ”
—“ আসো চাসমিস তোমাকে বসে সব ডিটেইলসে বলি । ”
সব শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল সে । বিয়ের প্রথম রাতেই সে কি করেছে এইসব । ভাবতেই আঁতকে উঠলো সে । লজ্জায় মিইয়ে গেল । আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকে গেল সে । লম্বা একটা শাওয়ার নিলো । শরীর থেকে যে বিশ্রী গন্ধ আসছিল । কিন্তু জিসান মদ খায় ? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই নাক মুখ কুঁচকে ফেললো । সে তো ভেবেছিলো হয়তো এমনি কোন ড্রিংকস ! জীবনে কখনো ওয়াইন না দেখায় ভুলটা হয়েছে । মনে মনে ভাবলো লোকটাকে ঠিক করতে হবে । যাই হোক , কোনো মদখোরের সাথে সে সংসার করবে না ।
গোসল শেষে চেঞ্জ করার জন্য ড্রেস নিতে হাত বাড়াতেই দেখলো ড্রেস নেই । সে তো ড্রেস আনতে ভুলেই গিয়েছিলো । জিহ্ব কাটলো সে । জিসানকে বলবে কি বলবে না ভাবনায় পড়ে গেল । শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে ইতস্তত হয়ে ডাকলো ,
—“ শুনছেন আপনি কি রুমে আছেন? ”
সাড়া এলো না কোনো । আরো কয়েকবার ডাকলো কিন্তু সাড়া নেই । সে ভাবলো লোকটা বোধহয় নিচে গিয়েছে । তাই সে ওয়াশ রুমের দরজা খুলে চোরা চোখে চারদিক পরখ করলো না জিসান নেই । তাই সে নিজেই ভেজা অবস্থায় বের হলো ।
লাগেজ থেকে ড্রেস নিয়ে সামনে ফিরতেই চমকে উঠলো । এক প্রকার লাফিয়ে উঠলো বলা চলে । অসাবধানতায় ড্রেস হাত থেকে পড়ে গেল । সামনে থাকা মানুষটিকে দেখে জমে গেল সে ।
জিসান বারান্দায় গিয়েছিল । এসেই আলিজা'কে এই অবস্থায় দেখে নিজেও অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো সে । কিন্তু পরক্ষণেই তা মুগ্ধতায় রূপ নিলো । খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল আলিজা'কে । শরীরে শাড়ি নেই । ভেজা সায়া ব্লাউজ শরীরে লেপ্টে আছে । ব্লাউজের উপর দিয়েই বক্ষভাজ স্পষ্ট হয়ে আছে ।
সে ঠোঁট কামড়ে এগিয়ে এলো । এমন ঘটনায় যে শরীরে ওড়না জড়াতে হবে সেটাও ভুলে বসেছে আলিজা । জিসান আলিজা'র উন্মুক্ত কোমরে হাত রাখলো । কাছে টানলো তাকে । আলিজা'র তুলতুলে শরীর খানা দুলে উঠলো । এতোক্ষণে হুস ফিরল তার । লজ্জায় হাঁসফাঁস করে উঠল । পালাবার পথ খুঁজতে লাগল সে । জিসান তাকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে নিলো ।
তারপর ফিসফিসিয়ে বললো ,
—“ একটা ভুল করে ফেলি? পরে নাহয় প্রায়শ্চিত্ত করবো , কি বলো চাশমিস ? ”
চলবে.......
(একটু রেসপন্স কইরো নয়তো লেখায় মন বসে না । গত দুই পর্বে রেসপন্স একেবারে কম করেছো তোমরা । এই পর্বে একটু রেসপন্স কইরো পাখিরা ।🥹)
#for_you #dark_romantic #bangla_story