ফন্ট সাইজ:
থিম:
ইশক বাদা তীখা

৩য় পর্ব

লেখক: আইজা রহমান

#ইশক_বাদা_তীখা

#লেখনীতে_আইজা

পর্ব ০৩ [ ১ম অংশ ]

[ ~ অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ ~ ]

এশাল সিটে ঢলে পড়ল । এতক্ষণে আরাইজ সজ্ঞানে ফিরলো । এশালকে এভাবে লুটিয়ে পড়তে দেখে সে হতবাক হয়ে গেল । তার রাগ উদ্বিগ্নতায় পরিণত হলো ! ততক্ষণাৎ উদ্ভ্রান্তের ন্যায় এশালের দিকে ঝুঁকে পড়ল সে । এশালের গাল চাপড়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বললো ,

—“ Moonpie ? এই এশাল ! কী হয়েছে তোমার ? ”

ওপাশ থেকে উত্তর এলো না । আরাইজের হাত-পা কাঁপছে ! এই বাচ্চা মেয়েটা অল্প সময়ের মধ্যেই তার আপন হয়ে গেছে ! এই মেয়েটা তাকে চুম্বকের মতো টানে । সে কেন মেয়েটার জন্য এতো পাগল হচ্ছে সে নিজেও বুঝতে পারে না ।

অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো লাভ হলো না । আরাইজের ভয় বাড়ছে , তার মনে হচ্ছে এই বাচ্চা মেয়েটার সাথে তার সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে । সে এসির মধ্যেও দরদর করে ঘামছে । জেল দিয়ে সেট করা চুল গুলো এলোমেলো হয়ে কপালে লেপ্টে গেছে রূঢ় পুরুষটির ।

আরাইজ এশালকে ধাক্কা দিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো ,

—“ এই বান্দি ? তোকে উঠতে বলছি না আমি ? আমার কথা না শুনলে তোকে বাড়ি থেকে বের করে দিবো , ভুলে গেছিস সেই কথা ? ওঠ নারে moonpie ! এই এশাল , বউ ? ”

ষোড়শী কন্যার দুশ্চিন্তায় খেই হারিয়েছে আরাইজ । অজ্ঞান হয়ে গেলে যে মুখে পানি ছিটাতে হয় সেটুকুও মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে ম্যাচিউর পুরুষের ।

—“ এই তোকে উঠতে বলছি আমি ! চোখ খোল ! এই এশাল ? Moonpie ? ”

এশালকে উঠতে না দেখে আরাইজ দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিলো । কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালের সামনে চলে এলো ।

সে তড়িঘড়ি করে এশালকে পাঁজাকোলা করে হসপিটালের ভিতরে ছুটে গেল । ইমার্জেন্সির সামনে এসে চিৎকার করে বলতে লাগলো ,

—“ কেউ আছেন ? স্ট্রেচার নিয়ে আসুন! ডক্টর! ”

​তার চড়া গলার চিৎকারে হসপিটালের স্টাফরা ছুটে এলো। আরাইজ নিজেই এশালকে কোলপাঁজা করে তুলে স্ট্রেচারে শুইয়ে দিল। এশালকে যখন ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ঢুকিয়ে পর্দা টেনে দেওয়া হলো, আরাইজ বাইরে করিডোরে পায়চারি করতে লাগল।

তার পুরো শার্টে এশালের গায়ের মেয়েলি সুবাস লেগে আছে যেন , আর নিজের হাতের রক্তে শার্টের হাতা লাল হয়ে গেছে । আরাইজ দুহাতে মাথা চেপে দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল‌ । নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে তার । কেন সে মেয়েটার ওপর ওভাবে হাত তুলতে গেল ? কেন নিজের রাগটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না ?

​কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বের হয়ে আসতেই আরাইজ বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল,

—“ ডক্টর, ও ঠিক আছে তো? ”

​মধ্যবয়সী ডাক্তার চশমাটা ঠিক করে আরাইজের রক্তাক্ত হাতের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,

—“ ভয়ের কিছু নেই। পেশেন্টের ব্লাড ফোবিয়া আছে, হঠাৎ রক্ত দেখে প্যানিক করে সেন্সলেস হয়ে গেছে। ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে। কিন্তু ওনার হাতে এত জোরে চাপ কে দিয়েছে? পুরো লাল হয়ে দাগ বসে গেছে! ডোন্ট মাইন্ড মিস্টার, আপনার রাগ একটু বেশি মনে হচ্ছে। বাচ্চা মেয়ে, ওনাকে একটু সাবধানে রাখবেন। ”

​অন্য সময় হলে হয়তো ডক্টরের ফালতু জ্ঞান শুনে হসপিটাল মাথায় তুলতো কিন্তু আজ সে কিছু বললো পর্যন্ত না । ডক্টরকে জোর পূর্বক হাসি উপহার দিয়ে মাথা নেড়ে কেবিনের দিকে পা বাড়াল ।

কিন্তু ডক্টর তাকে থামিয়ে বললো ,

—“ আপনার হাত থেকে এখনো রক্ত ঝরছে । আপনার ব্যান্ডেজ করে নেয়া উচিত । নয়তো আপনি কেবিনে থাকা অবস্থায় ওনার জ্ঞান ফিরলে আবার প্যানিক করতে পারে । ”

আরাইজ কিছু না বলে ব্যান্ডেজ করার জন্য এগিয়ে গেল । যদিও তার ইচ্ছা ছিল এশালকে এক পলক দেখা । কিন্তু মেয়েটা যদি আবার ভয় পেয়ে যায় ! তাই সে ব্যান্ডেজ করে নিলো ।

​কেবিনে ঢুকে আরাইজ দেখে এশালের হাতে স্যালাইন চলছে । ষোড়শী কন্যার মায়াবী মুখখানা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে । আরাইজ আলতো পায়ে গিয়ে বেডের পাশে চেয়ার টেনে বসল । এশালের যে হাতটায় সে জোরে চেপে ধরেছিল , সেই লাল হয়ে যাওয়া জায়গাটা একদম স্পষ্ট হয়ে আছে । মেয়েটার মুখ শ্যামলা হলেও হাত পা একদম কাঁচাসোনা বরণী বলা চলে ! আরাইজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে এশালের হাতটা ধরে হালকা ঠোঁট ছোঁয়াল । মনে মনে বলল,

—“ এমন বাচ্চামি কেন করো ? তুমি এমন না করলে তো আর কষ্ট পেতে হয় না । ”

একটু ঝুঁকে পদ্মালোচনা কন্যার বুঝে থাকা অক্ষি জুগলে আলতো পরশ দিয়ে শ্রুতিতে এক গোপন স্বীকারোক্তি ঝড়ে দিলো ,

—“ I'm sorry moonpie ! পারলে ক্ষমা করে দিও এই রাক্ষসটাকে । ”

​ঠিক তখনই এশালের চোখের পাতা দুটো কেঁপে উঠল । একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে চোখ মেলল সে । হসপিটালের সাদা ছাদ আর ওষুধের গন্ধ পেয়ে সে একটু ভড়কে গেল । হাসপাতালে কী করছে সে ? সে তো আরাইজের সাথে গাড়িতে ছিল ।

ঘাড় ঘোরাতেই দেখলো পাশে আরাইজ বসে আছে । আরাইজের সেই পারফেক্ট লুক উধাও, চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, আর হাতের ক্ষতটা একটা সাদা ব্যান্ডেজে ঢাকা ।

​আরাইজকে দেখেই এশালের তখনকার স্মৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো । ভয়ে একটু পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই আরাইজ আলতো করে তার ভালো হাতটা ধরে ফেলল । অত্যন্ত নরম কন্ঠে গলায় বলল ,

—“ ভয় পেও না Moonpie ! আই'ম সরি । আমি বুঝতে পারিনি তোমার ব্লাডফোবিয়া আছে । কেন রাগাও আমাকে ? তুমি তো জানো আমি রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না । ”

এশাল অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো বজ্রকঠিন পুরুষের দিকে । তার নবযৌবনা মন বুঝে উঠতে পারে না যে আসলে এই পুরুষটি বজ্রকঠিন নাকি পেঁজাতুলো ! নিজে থেকে আঘাত করে আবার নিজে থেকেই আহত সিংহের ন্যায় ছটফট করে ।

লোকটার চোখে এখন রাগী পুরুষের চাবুক নয়, বরং এক অদ্ভুত মায়া টলমল করছে।

এশাল এই লোককে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না । যখন খারাপ ভাববে যায় তখন মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে , শান্তশিষ্ট হয়ে যায় । আবার , যখন ভালো ভেবে বিভিন্ন বায়না ধরে তখন আবার রূঢ় পুরুষে পরিণত হয় ।

​সে উঠে বসতে চাইলে স্যালাইনের সুঁইতে টান লাগে । ব্যথায় তার চোখ ভরে ওঠে । টুপ করে একফোঁটা গড়িয়েছে ও হয়তো ।

তাকে এইটুকু কারণে কাঁদতে দেখে আরাইজের মেজাজ আবার বিগড়ে গেলো । এতো নরম হলে চলে ? দুনিয়াতে এমন মানুষের কোনো দাম নেই ।

এশাল চোখ ভর্তি জল নিয়ে তার দিকে তাকালো । হরিণনয়নার সজল চোখের দিকে তাকিয়ে রূঢ় পুরুষ তার ক্রোধ নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা চালালো ।

চোখ বন্ধ করে রাগটা গিলে নিয়ে এশালকে পুনরায় শুইয়ে দিলো । কপালের অবাধ্য চুল গুলো সরিয়ে দিতে দিতে বললো ,

—“ স্ট্রং হয় এশাল । এতো নরম হলে চলে না । সবসময় অকারণে চোখের পানি ফেলতে নেই । ”

এতক্ষণ নরম কন্ঠে বললেও এবার দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলে উঠল ,

—“ তুমি শুধু আমার জন্য কাঁদবে । আমাকে নিয়ে ভাববে । Got it moonpie ? ”

To be continued......

( অনেকদিন পরে গল্প দিলাম আশা করি রেসপন্স করবেন । আর ছোট পর্ব দেয়ার জন্য দুঃখিত । আগামী কাল বড় পর্ব দিবো ইনশাল্লাহ । )

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন