ফন্ট সাইজ:
থিম:
ইশক বাদা তীখা

৫ম পর্ব

লেখক: আইজা রহমান

#ইশক_বাদা_তীখা — ০৪

#লেখনীতে_আইজা

{ অনুমতি ব্যতিত কপি করা নিষিদ্ধ }

সময় প্রবাহমান। পৃথিবীর কোনো শক্তিই সময়ের গতিশীলতাকে রোধ করতে পারবে না। একই জোয়ারে যেমন দুইবার সাঁতার কাটা যায় না তেমনি একই সময় দুইবার ফিরে আসে না। চোখের পলক ফেলতেই কেটে গিয়েছে ছয় ছয়টি মাস। এতদিনে কারো সাথে হয়েছে সক্ষতা আবার কারো সাথে মনোমালিন্য।

সুন্দর চৌধুরী! নামটা মিরালের বড্ডো প্রিয়। এই নামের মানুষটাও প্রিয় তার কাছে। তবে একটা কথা , জেদ জিনিসটা প্রচন্ড ভয়ংকর। যেটা নিজের অতি কাছের মানুষগুলোকেও দূরে সরিয়ে দিতে সক্ষম। মিরাল মেয়েটা প্রচুর জেদি। হয়তো তাই-ই নিজের ভালোবাসার সাথে জেদ ধরে বুকে মাটি চাপা দিয়ে অন্য একজনকে বিয়ে করছে। কারো জানা নেই ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে তবে এটা সত্য যে সুন্দর'কে কখনো মিরাল মন থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। মিরাল কি কখনো নতুন কোনো পুরুষকে মনে দিতে পারবে? কখনোই না। তবে তাকে বিয়েটা করতে হবে সুন্দর চৌধুরী'কে বুঝিয়ে দিতে হবে যে তাকে ছাড়া মিরাল সুখী। আদৌ সুখ আছে তার তাকদিরে?

গত ছয় মাসে নানান ঘটনার মাঝে একটা খুব বেশি ভালো ঘটেছে 'সওদাগর' পরিবারে। কপোত কপোতীর মাঝে বেশ সক্ষতা হয়েছে। রূঢ় পুরুষ আর রূঢ় নেই সে হয়ে উঠেছে পজেসিভ উন্মাদ প্রেমিক। অন্যদিকে ষোড়শী , সে যেন নিজের চঞ্চলতা ফিরে পেয়েছে।

_______________________________________________

আজ মিরালের বিয়ে।

ওয়াশ রুমের মিররের সামনে দাঁড়িয়ে কানের দুল পড়ছে এশাল। শরীর জড়িয়েছে রয়াল ব্লু রঙা জর্জেট শাড়ীতে। যার পাড়ে রূপালী রঙা সুন্দর কারুকাজের লেজ বসানো। মুখখানা যেন জ্বলজ্বল করছে। এখনকার শব্দে যাকে বলে 'গ্লো'। তবে কোন প্রসাধনী ব্যবহারের মাধ্যমে নয়। কথায় আছে না , মেয়ে মানুষের মনে সুখ থাকলে চেহারা এমনিতেই গ্লো করে তার ক্ষেত্রে ও তাই হয়েছে। শুধু সদ্য ফোঁটা গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁটজোড়ায় স্থান পেয়েছে একটুখানি লিপবামের ছোঁয়া। পরিপূর্ণ নারী লাগছে পদ্মলোচনা ষোড়শী'কে।

এরমধ্যেই দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে আরাইজ। তার ঠোঁট প্রসারিত। চোখে মুখে খেলা করছে একরাশ মুগ্ধতা। যেন সে কোন হুরপরী দেখছে। মেয়েটাকে এতো সুন্দর লাগছে কেন? আগেও তো শাড়ীতে দেখেছে তবে আজ অন্যরকম অনুভূতি খেলা করছে তার মনের গহীনে।

আয়নাতে চোখ পড়তেই চোখাচোখি হলো কপোত কপোতী। আজ আর চোখ সরিয়ে নিল না কপোতী বরং গভীর নয়নে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল নিজের স্বামীকে। সব সময়ের মতো আজও নিজেকে মুড়িয়েছে কালো রঙে। কালো রঙা ফরমাল প্যান্টের ভিতরে গুঁজে রেখেছে কোমরের নিচের শার্টের অংশ। হাতায় দিয়েছে কয়েকখানা ভাঁজ। আর হাতঘড়ি তো আছেই। তবে একটা জিনিস ভিন্ন ঠেকলো রমণীর নিকট। আরাইজ আজ অন্যদিনের মতো জেল দিয়ে চুলগুলো সেট করেনি বরং সেগুলো উশকো-খুশকো হয়ে কপালে লেপ্টে আছে। এটার কারণেই যেন তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলালেও ষোড়শী'র নজর কাড়তে সক্ষম আরাইজের কপালে লেপ্টে থাকা চুলগুলো। রমণীর বড্ডো ইচ্ছে হচ্ছে ওই চুল গুলো ছুঁয়ে দিতে। তবে সব ইচ্ছে পূরণ হতে নেই। তাদের মধ্যে এতোটাও সক্ষতা হয়নি যতটুকু হলে একজন অন্যজনকে অনায়াসে ছুঁয়ে দেয়া যায় , কাছাকাছি যাওয়া যায়। অক্ষিপল্লব রুদ্ধ করে দমিয়ে ফেললো নিজ মন গহীনে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছে।

আরাইজের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি খেলে গেল যেন সে কিছু বুঝেছে। হয়তো অর্ধাঙ্গিনীর মনের কথা। এক পা এক পা করে এগিয়ে এলো রমণীর নিকট। এশাল ঘুরে দাঁড়িয়ে অবলোকন করতে লাগলো স্বামীকে।

আরাইজ ঝুঁকে এলো এশালের মুখ বরাবর। মুচকি হেসে মাথা নুইয়ে দিল। ষোড়শী'র ঠোঁট জুগল আপনাআপনিই ফাঁক হয়ে গেল। এই লোক কিভাবে তার মনের কথা বুঝতে পারলো? পরক্ষনেই লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলো ফোলা ফোলা গাল জুগল। পুরুষালী কন্ঠ ভেসে এলো রমণীর কানে_

—" আপনার তুলতুলে হাতের ছোঁয়ায় আমায় ধন্য করুন মহারানী। "

রমণী লজ্জা পেলেও ইচ্ছেটাকে বেশি প্রাধান্য দিলো। কাঁপা কাঁপা হাত উঠিয়ে রাখল আরাইজের ললাটে। চোখ রুদ্ধ করে ফেললো আরাইজ। প্রথমবার এশাল তাকে নিজ ইচ্ছায় এভাবে স্পর্শ করেছে ভাবতেই সারা শরীরে ঠান্ডা শিহরণ খেলে গেল। এশাল চুল গুলোতে আঙুল গলিয়ে বুলিয়ে দিতে দিতে চট করে একটা অবাক করা কাজ করে বসলো। চুম্বন এঁকে দিলো অর্ধাঙ্গের ললাটে।

ততক্ষণাৎ মাথা তুলে তাকালো আরাইজ। ওরা দুজনেই হতভম্ব। এশাল ঘোরের মাঝে কাজটি করে ফেলেছে আরাইজ মাথা তোলার সাথে সাথে তার ঘোর ও কেটে গিয়েছে। লজ্জায় নুইয়ে পড়লো রমণী। আরাইজের বুকে ধাক্কা দিয়ে দৌড় দিতে নিলো কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না।

আরাইজের ঘড়িতে তার শাড়ির আঁচল আটকে গিয়েছে। আরাইজ ফিক করে হেসে দিল। হাসতে হাসতে বললো_

—" বউ যেতে পারলে না! "

এশাল মুখ ভার করতেই শাড়ীতে টান পড়লো। যার দরুন সে এক পা আরাইজের নিকট এগিয়ে এলো নয়তো শাড়ী খুলে যাবে। তখন আবার লজ্জা পেতে হবে। আরাইজ যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে। সে ঠোঁটে হাসি রেখেই একটু একটু করে শাড়ীর আঁচল টানতে টানতে ভ্রু নাচিয়ে বললো_

—" বউ সামথিং সামথিং। "

রমণী ঠোঁট বাঁকালো। ব্যঙ্গ কন্ঠে বলল_

—" নাথিং নাথিং। "

এশাল একদম আরাইজের নিকট চলে এসেছে। হাঁসফাঁস করছে সে। আরাইজ তার কোমর আঁকড়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। রমণীর শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। খামচে ধরলো স্বামীর শার্টের একাংশ।

—" বউ একটা পাপ্পি দেই? " দুষ্ট ভঙ্গিতে বললো আরাইজ। রমণী ছটফট করে উঠলো। সে বেশ বুঝেছে এই লোক তাকে লজ্জা দেয়ার জন্য এমন করছে।

কোমর ছেড়ে গাল আঁকড়ে ধরলো আঁজলায়। ঝুঁকে টুপ করে একটা চুমু খেলো রমণীর নাকের ডগায়। এশাল লক্ষ্য করলো তার কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে।

" জিয়ান নিচে আয়। তোর বউ কই? মুখপুড়ি এখনো দরজা আটকে কী করছে। ননদের বিয়ে অথচ মহারানীর খবর নেই। বের হতে বল ওকে। "

রেনু বেগমের কন্ঠস্বরে বিরক্ত হলো আরাইজ। তবে এশালকে ছাড়লো না। বেশিক্ষণ ধরে ও রাখতে পারলো না। ভদ্র মহিলার কথা স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে রমণী , মুখে নেমে এসেছে আঁধার। এতোক্ষণ জ্বলজ্বল করতে থাকা মুখখানা যেন থুবড়ে পড়েছে।

শান্তশিষ্ট প্রেমিক পুরুষ আরাইজের ভিতর যেন ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো। ছেড়ে দিলো এশালকে। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল দরজার নিকট। রমণী শুকনো ঢোক গিলে ছুটলো স্বামীর পিছু পিছু। তাকে আটকাতে হবে নয়তো বিয়ে বাড়ি তান্ডবে পরিণত হতে বেশিক্ষণ বাকী নেই। রেনু বেগম ওদিকে এমন ভাবে দরজা যেন ভেঙে ফেলবে।

আরাইজ গিয়ে তড়িৎ গতিতে দরজা খুলে দাঁড়ালো। মহিলা ভয় পেয়েছে হয়তো। মাথা উঁচিয়ে উপরে তাকাতেই তার চোখে ভয়ের আভাস দেখা দিল। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কিছু বলবে তার পূর্বেই আরাইজ গর্জে উঠলো_

—" আপনাকে নিষেধ করেছি না আমার বউয়ের ব্যপারে নাক গলাতে। আপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন। আপনি এখন এই বাড়ি থেকে বেড়োবেন নয়তো আমি ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করবো। কোনো সম্পর্ক মানার টাইম নেই আমার। "

মহিলা ফ্যাচফ্যাচ করে কেঁদে উঠলেন। অথচ তার চোখে আগুন স্পষ্ট। এশাল শক্ত করে আরাইজের হাত চেপে ধরলো। আরাইজ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই এশাল চোখের ইশারায় বুঝালো কিছু না বলতে। আরাইজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বুজে নিলো। তার মাথায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।

কী করবে বুঝতে না পেরে এশালকে একটানে নিজের নিকট এনে কোমর আঁকড়ে ধরলো। পরপরই ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো।

এশাল ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। এমনটা সে আসা করে নি। রেনু বেগমের চোখ গুলো যেন রাজহাঁসের ডিমকেও হার মানাবে। তিনি কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু আরাইজ তাতে জল ঢেলে দিয়ে মুখের উপর দরজা আটকে দিল।

মহিলা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। সুন্দর এদিক দিয়ে যাচ্ছিল তার মুখের অবস্থা দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললো। এগিয়ে এলো তার কাছে।

—" আন্টি কী হয়েছে? আপনার মুখের এই হাল কেন? খারাপ কিছু দেখেছেন? "

—" চুমু! "

—" এ্যাহ্। "

থতমত খেয়ে গেল সুন্দর। এই মহিলা পাগল টাগল হয়ে গেছে নাকি! কিসব উল্টা পাল্টা বকছে। সে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই মহিলা হায় হায় করে ভোঁ দৌড় দিলেন। সুন্দরের চোখ বড়বড় হয়ে গেল। এই বুড়ি এতো স্পিডে দৌড় দিল কীভাবে অশরীরী ভর করলো নাকি? অংক কষতে কষতেই তার কানে ভেসে এলো_

—" হায় আল্লাহ। লাজলজ্জা বলতে কিছু নাই। হায় হায় হায়। ওরে নাসির রে তোর পোলা বিয়ে করে লাজলজ্জা সব ভাতের সাথে মিশিয়ে গিলে নিয়েছে রে। "

এতক্ষণে সুন্দর পুরো কাহিনী মিলাতে পেড়েছে। হো হো করে হেসে উঠলো সে। রীতিমত গড়াগড়ি খাচ্ছে হেসে।

দূর থেকে এই হাসির সাক্ষী হয়ে রইলো এক রমণী। বিয়ের ভারী সাজ নিয়ে বিরক্তি বা বিয়ের খুশি কোনটাই তার মধ্যে নেই। কী সুন্দর হাসে লোকটা অথচ ইনিই তার হাসি কেড়ে নিয়েছে। তার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে_

" কেন আমায় ভালোবাসলেন না সুন্দর? কেন কী অপরাধ করেছিলাম আমি? "

টপটপ করে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল রমণীর। হাহ্ একপেক্ষিক ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়! সূর্যাস্তের মতো চমকপ্রদ সময়ে যেন বাতাসে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ক্লেশ জড়ানো করুন কিছু সুর.........

Haath se gir gayi

Hain laqeeren Kahin...

Dill main hai tu mere

Qismat mein nehi....

চলবে.........

#fyp #banla_story #foryou #uponnash

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন