ফন্ট সাইজ:
থিম:
ইশক বাদা তীখা

৯ম পর্ব

লেখক: আইজা রহমান

#ইশক_বাদা_তীখা — ৭

#লেখনীতে_আইজা 
         
             { অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ }
অতিবাহিত হয়েছে দুটি মাস। আগামী কাল এশালের পরীক্ষা শুরু হবে। প্রথমেই পড়েছে বাংলা। 
বই সামনে নিয়ে ঘুমে টলছে রমণী। বই'য়ে বের করা একটা রচনা , নাম — মাদকাসক্তি। ওয়াশ রুম থেকে ভেসে আসছে পানির শব্দ। আরাইজ গোসল করছে! কিছুক্ষণ আগেই মিরাল'দের বাসা থেকে এসেছে সে। সেসব চিন্তা বাদ দিয়ে বইয়ের দিকে তাকালো রমণী। তার বড্ডো অনিহা লাগছে পড়তে। বিরক্তিকর ব্যাপার! 
" বর্তমান সময়ে মাদকে আসক্ত না হওয়া একটি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। তরুণ সমাজের জন্য মাদকাসক্তি না হওয়া একটি মরণফাঁদ! মাদকে আসক্ত হওয়ার ফলে সমাজ হচ্ছে উজ্জ্বল এবং দেশ , জাতি ও পৃথিবীর জন্য অপেক্ষা করছে এক অপরূপ পরিণতি। "
এইটুকু বলে থামলো সে। নিজের এহেন রচনা আবিষ্কারে নিজেই অবাক হলো সে। মনে মনে বাহবা দিলো নিজেকে! 
—" ওয়াও বউ কতো সুন্দর রচনা আবিষ্কার করছো তুমি! আসো তোমাকে একটা পাপ্পি দেই! আসো আসো। "
আরাইজের গমগমে কন্ঠে আঁতকে উঠলো এশাল। পিছনে ঘুরতেই আরাইজের বলিষ্ঠ দেহের সাথে ধাক্কা খেল। রমণী ঠোঁট ফুলিয়ে উপরে তাকালো। সদ্য গোসল করা উদম শরীর থেকে পানি চুঁইয়ে চুঁইয়ে পরছে। এশাল খিচে নিলো পরক্ষনেই কী যেন ভেবে চোখ তুলে তাকালো। আরাইজের চোখে চোখ রেখে বললো_
—" কোন ভাবে একটা প্রশ্ন ম্যানেজ করে দেয়া যায় না? "
—" না! "
তৎক্ষণাৎ উত্তর মিললো কাঠিন্য কন্ঠে। এশাল মুখ ভোঁতা করে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। পরক্ষনেই তার ঠোঁটে হাসির ঝিলিক দেখা দিল। 
একটা ঢোক গিলে উঠে দাঁড়ালো সে। তার তুলতুলে নরম হাত দুখানা সাপের মতো জড়িয়ে গেল আরাইজের গলায়। 
—" দেন না একটা প্রশ্ন ম্যানেজ করে! "
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল আরাইজ। এই মেয়ে এতো চঞ্চল কবে হয়ে গেল আগে তো তার সামনে কথা বলতেও তোতলাতে হতো! 
—" কী করছো তুমি? "
রমণী ঠোঁট উল্টে মুখ ফোলালো। আরাইজ ভ্রু কুঁচকে তার পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে। 
—" ভালোবাসছি.... "
খুকখুক করে কেশে উঠলো আরাইজ। তির্যক দৃষ্টি ফেললো রমণীর মুখমণ্ডলে। মেয়েটা কেমন ঘায়েল করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কী যন্ত্রনা! সে একবার পিছলে গেলে তো সব শেষ! আর রমণীর পরীক্ষা দেয়া হবে না। সে মাথা নেড়ে চিন্তা ঝেড়ে ফেললো। দুই আঙ্গুল দিয়ে রমণীর হাত ধরে গলা থেকে ছাড়িয়ে নিলো যেন কোন আবর্জনা! 
এশাল বিষয়টি লক্ষ্য করলো। পাহাড় সম অভিমান জমলো মন গহীনে! আরাইজের পায়ের উপর থেকে নেমে বসে পড়লো চেয়ারে। 
রুম জুড়ে নিস্তব্ধতা নেমেছে। এশাল বই সামনে রেখে মুখ ভার করে নখ খুঁটছে। আরাইজ আগের মতোই তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। দ্বিধায় ভুগছে! অর্ধাঙ্গিনীর রাগ ভাঙাতে যাবে না-কি যাবে না! গেলেই সমস্যা। তাই সে বড় বড় পা ফেলে কাবার্ডের দিকে এগিয়ে গেল। একটা টি-শার্ট বের করতে করতে গলা খাঁকারি দিয়ে বললো_
—" এসব চিন্তা ঝেড়ে বই পড়ায় মন দাও। "
অতঃপর রুম থেকে ধুপধাপ পা ফেলে বেড়িয়ে গেল। রমণী স্থির হয়েই বসে রইল একটু ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল ও না। 
_______________________________________________
একজন যুবক কান ধরে উঠবস করছে। তার কিছুটা দূরেই সবুজ রঙা শাড়ি পরে গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রোদের সোনালী আলোয় ফর্সা গালজুগল টমেটোর মতো হয়ে গেছে। 
—" আর কত নীলাঞ্জনা? মানুষ কি বলছে বলো তো! "
আশেপাশে তাকিয়ে বাক্যটি ছুঁড়ল যুবক। অনেক মানুষ-ই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু রমণীর তাতে ধ্যান নেই। তেঁতে উঠলো সে_
—" দেখুক! আমাকে যখন ৫০ ডিগ্রি তাপের মধ্যে আধা ঘন্টা অপেক্ষা করিয়েছো? তাও শাড়ি পরে! "
যুবকটি অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো রমণীর পানে। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো_
—" এখনো তো দাঁড়িয়েই আছো। এবারের মতো মাফ করে দাও নীল? "
এবার বোধহয় রমণীর রাগ কমলো। এগিয়ে গেল যুবকের নিকট। হাত বাড়িয়ে বললো_
—" চলে এসো..! "
যুবকটি স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে রমণীর গাল টেনে জড়িয়ে ধরলো। ফিসফিসিয়ে বললো_
—" আমার নীলাঞ্জনা! "
—" ছিঃ সবাই দেখছে। ছাড়ো! "
যুবককে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে রমণী ছুট লাগালো। যুবকটিও হেসে তার পিছনে ছুটলো। হাসির খিলখিল শব্দে ভরে উঠলো পার্কটি। আশেপাশের লোকজন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যটি দেখতে লাগল , কেউ কেউ আবার ক্যামেরাবন্দি করে নিলো মূহুর্তটি। 
★
★
—" আ..আমার ন..নীলাঞ্জনা! "
ফিসফিস ধ্বনিতে প্রকম্পিত বাক্যটি উচ্চারিত হলো। স্মৃতির পাতা ছেড়ে বেরিয়ে এলো সুন্দর। চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো একফোঁটা নোনা জল। পুনরায় উচ্চারিত হলো_
—" কেন আমায় একাকী ফেলে চলে গেলে? "
অভিমানে পাহাড় হয়েছে হৃদয়। আকাশের তারা গুলোর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়লো ছেলেটি। উত্তর মিললো না। সেও নাছোড়বান্দা ভাবেই তাকিয়ে রইল। 
_______________________________________________
রাত বারোটা। 
খট করে দরজা খুলে গেল। আগন্তুক আরাইজ দরজা খুলেই জায়গায় জমে গেল। এশাল আগের মতোই স্থির ভাবে বসে আছে। কোন নড়চড় নেই। সে দ্রুত এগিয়ে গেল রমণীর নিকট। হাতে থাকা চিপসের প্যাকেট তড়িঘড়ি টেবিলে রেখে এশালের চেয়ার ঘুড়িয়ে তার মুখোমুখি বসলো। 
তবুও চোখ তুলে তাকালো না মেয়েটা। আরাইজ একহাত রাখলো গালে। সাথে সাথেই ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে নিল নিজেকে। থতমত খেয়ে গেল আরাইজ। আবার ছুঁতে গেলে একলাফে উঠে দাঁড়ালো রমণী। দূরে সরে আঙুল উঁচিয়ে তেছড়া কন্ঠে বললো_
—" খবরদার ছুঁবেন না আমায়। কিছুক্ষণ আগে এমন করলেন যেন আমার ছোঁয়ার থেকে ঘৃণ্য কিছু পৃথিবীতে নেই। এখন আবার আমায় ছুঁতে আসছেন কেন? "
অবাক দৃষ্টিতে তাকালো আরাইজ। সে কখন এমন করলো? সে তো শুধু অঘটন থেকে অর্ধাঙ্গিনী'কে রক্ষা করতে চাচ্ছিল। 
—" তুমি ভুল বুজছো বউ! আমি..."
—" চুপ করুন। কোন ভুল বোঝাবুঝি না। " আরাইজ'কে কথার মাঝে থামিয়ে বললো এশাল। রমণী রেগে আছে! নাকের ডগা কেমন রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। শ্যামলা বর্ণের হলেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আরাইজ এগিয়ে গেল তার নিকট। অতঃপর তার সমানে পা ফেলে রমণীও পিছালো। কিন্তু আরাইজ নিজের প্রতিক্রিয়ায় অটল। শেষমেষ রমণী ধপ করে বিছানায় চিৎপটাং হয়ে পড়ে গেল। আচানক এহেন কাণ্ডে ব্যাথা পেয়েছে বৈকি। কোমরে হাত দিয়ে কঁকিয়ে উঠলো রমণী_
—" ও মাগো.."
আরাইজ যেন এই সুযোগেরই অপেক্ষা করছিল। সে মেঝেতে দাঁড়িয়েই এশালের দুদিকে দু হাতে ভর দিয়ে ঝুঁকে এলো রমণীর নিকট। এশাল মাথা কাত করে অন্যদিকে ফিরে বললো_
—" সমস্যা কি আপনার? এতো জ্বালাতন করছেন কেন? একটু শান্তি দিন আমায়! "
—" শান্তি দেবো? "
—" জ্বী! "
—" আমি শান্তি দেয়া শুরু করলে তো কালকে এক্সাম দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। এমন ও হতে পারে যে বিছানা ছেড়েই উঠতে পারলে না। "
ঠোঁটকাটা পুরুষের এহেন সরাসরি কথায় বিষ্ফরীত নয়নে তাকালো ষোড়শী। কেমন নির্লজ্জের মত ঠোঁট কামড়ে তাকিয়ে আছে! রমণী নাকমুখ কুঁচকে বলে উঠলো_
—" অসভ্য লোক। "
—" একটু আগেই তো অসভ্য পুরুষের ছোঁয়া পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলে। "
ঠোঁটকাটা পুরুষের এহেন বেখাপ্পা কথা আর সহ্য করতে পারলো না রমণী। নির্লজ্জতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এই লোক। চোখ খিচে ধাক্কা দিল বুক বরাবর। তাতেই টললো যুবক। অপ্রস্তুত ছিল কি-না! বিছানার প্রান্তে পড়লো আরাইজ।  
সুযোগ পেয়ে তড়িৎ গতিতে উঠে গেল এশাল। বুক দুরুদুরু করছে! কপালে ঘাম জমেছে। কেশরাশি বাঁধনহারা থাকায় সেগুলোর অবস্থাও নাজেহাল। নিজেকে ধাতস্থ করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। একখানা কাঠের কম্ব তুলে চালান করলো কেশরাশিতে। মনে ভাসছে একটু আগেও ঘটনা। আনমনা হয়ে ভাবছে সেসব কান্ড! 
তবে আজ যেন তাকে অনুভূতির চরম পর্যায়ে নেয়ার খেলায় মেতে উঠেছে যুবক। এশালের ভাবনায় ছেদ পড়ল আরাইজের হাতের তৈরি ফাঁসে। ড্রেসিং টেবিলের দু'পাশে দুহাত দিয়ে কেমন ঘায়েল করা দৃষ্টিতে অবলোকন করছে অর্ধাঙ্গিনী'কে। এহেন নাছোড়বান্দা কাজ কর্মে অনুভূতিকে সরিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলো। কোনমতে ঘুরে আরাইজের চোখে চোখ রেখে নাকের পাটা ফুলিয়ে তেঁতে উঠলো রমণী_
—" এবার কিন্তু বেশি হচ্ছে! "
—" হোক! "
সংক্ষিপ্ত জবাবে কেঁপে উঠলো রমণীর সমস্ত কায়া। কন্ঠে যেন কেউ মধু ঢেলেছে। শুকনো ঢোক গিলে নিলো কয়েকবার। তলপেটে কেমন যেন অনুভূত হচ্ছে। আকষ্মিক তাকে লজ্জায় কুঁকড়ে দিয়ে হরণ করে নিল রমণীর গায়ে জড়ানো ওরনা খানা। 
দলামথিত করে নয়ন রুদ্ধ করে ঘ্রাণ নিলো অর্ধাঙ্গিনীর ওরনা খানার। এশাল চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো। আরাইজের ঠোঁটে ক্ষুদ্র হাসির রেখা ফুটে উঠল। ঝুঁকে রমণীর কর্ণ গহরে ফিসফিসিয়ে গেয়ে উঠলো....
একেলা পাইয়াছি যে শ্যাম
একেলা পাইয়াছি যে শ্যাম
এই নিগূঢ় বনে......
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম.....
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম..........
চলবে........
(ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। এন্ড একটু রেসপন্স কইরেন পেজ এর রিচ ডাউন😔!)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন