চরম ভয় আর অস্বস্তির ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে আছে মীরা, মনে হচ্ছে এক দৌড়ে সবকিছু ফেলে পালিয়ে যায়। মেহেরকে হাজারবার জিজ্ঞেস করার পরেও সে একবারের জন্যও বলেনি কোথায় যাচ্ছে তারা। এদিকে মীরার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ভয় কাজ করছে—যেটা সে ভাবছে, মেহের যেন ঠিক সেটাই না করে বসে! কিন্তু এটা তো কোনোভাবেই সম্ভব না… তাই না?
স্কুল ছুটির পর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে মীরা। বারবার চারপাশে তাকাচ্ছে—মেহের মেয়েটা আবার কোথায় হারিয়ে গেল কে জানে! কিছুক্ষণ পর অবশেষে মেহের এসে হাজির।
“—বেবি, চলো… আমরা যাই তাহলে।”
মীরা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“—তুই আমাকে প্লিজ বলবি, কোথায় যাচ্ছি আমরা? আর কেনই বা যাচ্ছি? কে আসবে?”
মেহের একদম স্বাভাবিক গলায় বলল,
“—ঈশান আসবে। আমি তোকে ঈশানের কাছে নিয়ে যাচ্ছি, দেখা করে কথা বলার জন্য।”
মেহেরের কথাটা যেন বজ্রপাতের মতো আঘাত করল মীরার ওপর। ঠিক যেটা সে ভয় পাচ্ছিল, সেটাই! এই মেয়ে এসব কীভাবে করতে পারল? এশানকে যে মীরা মনে মনে ভালোবাসে—এই কথাটাই তো সে বিশ্বাস করে মেহেরকে বলেছিল…
এখন এখান থেকে পালাতেই হবে।
মীরা তাড়াতাড়ি হাত তুলে একটা রিকশা ডাকতে গেল, কিন্তু মেহের তার হাত চেপে ধরল। জোর করেই তাকে নিয়ে যেতে লাগল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা এসে দাঁড়াল একটা রেস্টুরেন্টের সামনে।
মীরা অবাক হয়ে মেহেরের দিকে তাকাতেই, মেহের হেসে বলল—
“—তোকে বিয়ে দিতে এনেছি এখানে। চুপচাপ ভেতরে চল, কোনো নাটক করিস না আমার পাখি। আজ যদি তুই দেখা না করে এক পা-ও নড়িস, তাহলে আমাদের ফ্রেন্ডশিপ এখানেই শেষ।”
মেহেরের কথায় থমকে গেল মীরা। কিছু বলার সুযোগই পেল না। জোর করেই তাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল মেহের…যায়।
চলমান...
#নীলাঞ্জনা নূর
#তোমাতেই শেষ