ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাঝরাতের রোদ্দুর

৪র্থ পর্ব

লেখক: নওরিন কবির তিশা

#মাঝরাতের_রোদ্দুর

#পর্ব ৪

#নওরিন কবির তিশা

রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার মতন ঘুমাতে চলে গেছে।

কালকে এই বাড়িতে অনেক লোকজন আসবে।

পরশুদিন একটা ছোট্ট গেট-টুগেদার…

সাধারণত পারিবারিকভাবেই হবে, কারণ নাহিয়ান অনেক ছোটবেলায় পড়াশোনার তাগিদে বিদেশ চলে গিয়েছিল।

এরপর সে সিআইডি টিমে যোগ দেয় এবং তার কাজ অত্যন্ত নিখুঁত ও দক্ষ হওয়ার কারণে বড় বড় কেস সলভ করতে পাড়ায় মাত্র দুই বছরের ভেতরেই প্রমোশন পেয়ে যায়।

যার ফলে সে দেশে আসার সুযোগ পায়নি।

এরই মধ্যে পরিবারের অনেকের সঙ্গেই সম্পর্ক অনেকটা ছিন্ন হয়ে গেছে।

তাই এবার গেট-টুগেদারের মাধ্যমে সবার সঙ্গে তার দেখা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাহিয়ানের বাবা-মা।

নাহিয়ানের বাবা, ইমতিয়াজ চৌধুরী, একজন বিশাল ব্যবসায়ী।তিনি "চৌধুরী গ্রুপস অফ ইন্ডাস্ট্রিজ"-এর সিইও। তার পর এই দায়িত্ব আসার কথা ছিল নাহিয়ানের ওপর… কিন্তু সে সিআইডির বড় পোস্টে চলে যাওয়ায় ব্যবসায় কোনো আগ্রহ নেই।

গেট-টুগেদারে শিশিরের বাবা-মারও আসার কথা ছিল…

কিন্তু শিশিরের বাবা, সিকদার শাহ, ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট মিটিংয়ের জন্য কালকেই বিদেশে যাচ্ছেন।

আর শিশিরের মা, রোদেলা জামান, স্বামীর সঙ্গে ব্যবসার শুরু থেকেই সহযোগিতা করছেন… তাই তাকেও যেতে হবে।

এজন্য তারা কালকের গেট-টুগেদারে থাকতে পারবেন না।

তাদের অনুপস্থিতিতে শিশিরও কিছুদিন তার আন্টির বাসায় থাকবে।

তবে এটা শিশিরের কাছে নতুন কিছু নয়…

শিশিরের বাবা-মা যখনই কোনো ক্লায়েন্ট মিটিং বা ব্যবসায়িক কাজে অন্য কোথাও যান, তখন তাকে নাহিয়ান মঞ্জিলে রেখে যান।

নওরিফা খানম এবং ইমতিয়াজ চৌধুরী শিশিরের বাবা-মার ফ্যামিলি ফ্রেন্ড…

ঢাকা শহরের একমাত্র বিশ্বস্ত জায়গা নাহিয়ান মঞ্জিল, তাই এখানে শিশিরকে রেখে গেলে তারা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকেন।

তবে ইমতিয়াজ চৌধুরী ও নওরিফা খানম কেউই ঢাকার বাসিন্দা নন।

তাদের বাড়ি খুলনায়…

ব্যবসায়িক কারণে তারা এখানে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন এবং পরে এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেছেন।

তবে ইমতিয়াজ চৌধুরীর বাকি দুই ভাই, ইমরান চৌধুরী ও ইয়াকুব চৌধুরী, খুলনায় থাকেন।

তারা কালকে এখানে আসবেন। ইমরান চৌধুরীর দুই ছেলে-মেয়ে, নির্ঝর ও নিঝুম—তাদের সাথে শিশিরের বেশ ভালো সম্পর্ক।কিন্তু ইয়াকুব সাহেবের মেয়ে, ইয়ালিনা—ছোটবেলা থেকেই শিশিরকে সহ্য করতে পারে না!কেন? শিশির আজও তা বুঝতে পারেনি…

রাত গভীর…...

চারপাশ নিস্তব্ধ…...

ঘরের সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন…....

কিন্তু শিশিরের চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই।

সে ঘুমানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু মনের মধ্যে হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এক পর্যায়ে সে উঠে ছাদের কার্নিশে এসে দাঁড়াল…

ঠাণ্ডা বাতাস তার চুলে আলতো স্পর্শ করছিল…

হঠাৎই…

নীরবতা ভেঙে তার কানে ভেসে এলো একটি গানের সুর।

🔹 তাইতো প্রেমের গান লিখেছি,

🔹 আর তাতে তোর নাম লিখেছি,

🔹 মাঝরাতে বদনাম হয়েছে মন!

গানের গলাটা অদ্ভুত রকমের পরিচিত…

শব্দের উৎসের দিকে এগিয়ে গেল শিশির…

কাছে যেতেই গান আরও স্পষ্ট হলো…

🔹 যেই না চোখের ইচ্ছে হলো,

🔹 তোর পাড়াতে থাকতে গেল,

🔹 ডাকনামে তোর ডাক গেলো মন!

কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে…

তারপর যা দেখল, তাতে তার ঠোঁট কিঞ্চিৎ হা হয়ে গেল!

এক মুহূর্ত চুপচাপ তাকিয়ে থেকে সে মনে মনে বলল—

"এই বেডা আবার কার প্রেমে পড়ল?! আল্লাহই জানে, কোন মেয়ের কপাল পুড়ল…"

চলবে???

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন