#মাঝরাতের_রোদ্দুর
#পর্ব_৩৯ (ফারিন নির্ঝরের স্পেশাল বাসর পর্ব 🤭🤭)
#লেখিকা_নওরিন_কবির_তিশা
নির্ঝরের রুমের কিং সাইজ বেডটার উপর বসে আছে ফারিন।নরম আলোয় ঢাকা ঘরটা যেন এক অজানা গল্পের শুরু। বিয়ের দোপাট্টা টা কপালের উপর থেকে সরিয়ে একবার রুমটিকে ভালো করে পরখ করল সে। এতক্ষণ নিঝুম ইলমা সহ তার অন্যান্য অনেক ননদিনী তার কাছে বসে থাকায় সে ভালো করে দেখতে পারেনি রুমটিকে।
তবে এটাকে রুম বললে ভুল হবে একটা ছোটখাটো লাইব্রেরী বলা চলে।রুমে ছোট বড় মিলিয়ে আট-দশটা বুক শেলফ দেয়ালের গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে আছে আর তাতে সাজানো বিভিন্ন বই। কোনোটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাহিত্য তো কোনোটিতে একাডেমিক বই। এসব দেখে নাক সিঁটকায় ফারিন বই খাতা কেউ এত যত্নে রাখে নাকি? সে তো কলেজ থেকে এসে ব্যাগটা কোথায় ছুড়ে মারে? নিজেও জানে না।
কখনো কখনো তো এমনও হয়েছে পরীক্ষার আগের দিন রাতে সে নিজের বই খুঁজে পাইনি বলে পাশের বাসার সিনিয়র আপু ভাইয়াদের কাছ থেকে বই ধার করে এনে পড়তে হয়েছে। সে মনে মনে নির্ঝরকে তিরস্কার করতে ব্যস্ত তখনই শুনতে পায় কারো পদচারণার শব্দ।
ফারিন মুহূর্তেই বুঝে যায় এটা নির্ঝর। কিন্তু এদিকে তো সে একটা কান্ড ঘটিয়ে বসেছে। ইলমা ভাবি যে দুধের গ্লাসটা দিয়ে গেছিল তার সমস্ত দুধটুকু তো সে ক্ষুধার জ্বালায় নিজেই খেয়ে ফেলেছে।সে একবার গ্লাসের দিকে তাকালো পরক্ষণে সে নিজেই নিজেকে শাসিয়ে বলল,,
'ভয় পাচ্ছিস কেন ফারিন? তুই কি আবার উনাকে ভয় পাস নাকি? যদি এসে কিছু বলে তাহলে সরাসরি বলে দিবি যে তুই নিজেই খেয়ে ফেলেছিস এত ভয়ের কি আছে'
সে নিজেকে ধাতস্থ করল। তখনই দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করল নির্ঝর।ফারিন দ্রুত নিজের দোপাট্টা টা টেনে ঘোমটা টা প্রসারিত করল। যতই হোক আজকে তার বাসর রাত বলে কথা এতদিন এত রোমান্টিক মুভি দেখার ফল কি হবে যদি সে একটু লজ্জাই না পায়? যতই তার অপছন্দের মানুষের সাথে হোক না কেন একটু তো লজ্জা পাওয়া উচিত! সে নিজেকে আড়াল করতে ব্যস্ত তখনই নির্ঝর বলল,,
—"তুমি বিছানায় কেন?"
সবে ফারিনের মনে প্রজাপতির উড়াউড়ি শুরু হচ্ছিল আর ঠিক তখনই নির্ঝরের এমন একটা কথা যেন প্রজাপতিগুলোর ডানা ছেঁটে দিল। সে বেশ অবাক হল। তারমানে এখন কি তাকে বাংলা সিরিয়ালের নায়িকাদের মতো ফ্লোরে বা সোফায় ঘুমাতে হবে? না না সে একদমই পারবেনা! সে এক ঝটকায় নিজের দোপাট্টাটা সরিয়ে নির্ঝরের চোখে চোখ রেখে বলল,,
—"বিছানায় থাকবে না তো কোথায় থাকবো? দেখুন আপনি যদি ভাবেন আমি ন্যাকা নায়িকাদের মত ফ্লোরে বা সোফায় ঘুমাবো তাহলে সেসব চিন্তা ভাবনা বাদ দেন! আমার দ্বারা ওইসব হবে না।তবে আপনার সাথে খুব অসুবিধা হয় তাহলে আপনি ঘুমাতে পারেন ফ্লোরে আমি পারবো না!"
কথাটা বলেই সে দোপাট্টা টা আলতো হাতে সরিয়ে শুতে যেতে গেলেই নির্ঝর ধমকের সুরে বলে উঠলো,,
—"তোমার সাহস কি করে হলো আমার সাথে এভাবে কথা বলার?"
ফারিন:"আপনি কি এক্সপেক্ট করেছিলেন আপনি আমার সাথে বাজে ব্যবহার করবেন আর আমি চুপচাপ মেনে নেব?"
নির্ঝর:"কি বাজে ব্যবহার করেছি?"
ফারিন:"আমাকে বললেন কেন ফ্লোরে ঘুমাতে? আমার ওইসব ফ্লোরে ঘুমানোর অভ্যাস নেই!"
নির্ঝর:"তোমায় কখন ফ্লোরে ঘুমাতে বললাম ইডিয়েট?"
ফারিন:"দেখুন আমাকে একদম ইডিয়েট বলবেন না!"
নির্ঝর:"ইডিয়েট কে ইডিয়েট ছাড়া আর কি বা বলবো?"
ফারিন:"দেখুন রাগ ওঠাবেন না আমার!"
নির্ঝর:"আমি তোমার রাগ উঠাচ্ছি নাকি তুমি আমাকে অসম্মান করছ? তুমি কি জানো এর পানিশমেন্ট হিসেবে আমি তোমাকে সারারাত কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখব!"
ফারিন মুখ বাঁকিয়ে বলল,,
—"উমমম আইছে উনি আমারে বলবে আর আমি সারারাত কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবো তাই না?"
নির্ঝর:"দেখো ফারিন তুমি যদি এখন আমার কথা না শোনো না তাহলে কিন্তু পরের দিন পুরো কলেজের সামনে তোমাকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখবো!"
ফারিন:"তারা তার পেছনে রিজন কি দাঁড় করাবেন শুনি? যে কলেজের অসভ্য স্টুডেন্ট মিস ফারিন মোস্তফাকে বিয়ে করলেন প্রফেসর নির্ঝর চৌধুরী! আর অসভ্য মেয়েটি এখন তার কোনো কথা শোনে না এই জন্য তাকে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হলো? এটাই তো! হাউ ফানি!"
হেসে উঠলো, ফারিন। তা দেখে নির্ঝর বাঁকা হেসে বলল,,
—"একদমই না! রিজনটা এই যে কলেজ চলাকালীন সময়ে সিটি কলেজের ইয়ং প্রফেসর নির্ঝর চৌধুরীকে ফোন দিয়ে কিছু অপ্রত্যাশিত কথা বলেছিল কলেজের তরুণ শিক্ষার্থী মিস ফারিন মোস্তাফা!"
ফারিন এর চোখ এবার বড় বড় হয়ে গেল। মনে পড়ে গেল কিছুদিন আগের কলেজ ক্যাম্পাসে বসে করা তার দুষ্টুমিটির কথা।
কিছুদিন আগে.....
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় সবাই মিলে ঠিক করল আজকে ট্রুথ ডেয়ার খেলবে। যথারীতি শুরু হলো সিলভার রিংয়ের ঘূর্ণি। কিন্তু ফারিনের কপাল এতই খারাপ যে পরপর তিনবার তার দিকে সিলভার রিংটি পরলো। আর শর্ত অনুযায়ী দুইবারের বেশি কেউ ট্রুথ নিতে পারবে না। কি আর করার অগ্যতাই তাকে ডেয়ার নিতে হলো। তাকে ডেয়ার হিসেবে দেওয়া হল তার সবচেয়ে অপছন্দের লোকটির কাছে ফোন দিতে হবে তার সাথে মিষ্টি সুরে কথা বলতে হবে।
তারা সবাই যে নির্ঝরকে মিন করেছে এটা বুঝতে আর বাকি রইল না ফারিনের। প্রথমে তো সে রাজিই হচ্ছিল না কিন্তু বন্ধু তো বন্ধুই তাদের কথা শোনোনি মানে তুমি ভীতুর ডিম। আর তোমার মান সম্মানের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়বে তারা। তাই নিজেকে বাঁচাতে শেষমেষ ফারিন কল লাগালো নির্ঝরের ফোনে। প্রথমবার রিসিভ হলো না, তিন চার বার রিং হওয়ার পর ওই পাশ থেকে ভেসে আসলো গুরুগম্ভীর কণ্ঠটি,,
—"হ্যালো কে?"
ফারিন ঢোক গিলে নিজের কণ্ঠস্বর যথেষ্ট নরম করে বলল,,
—"হ্যালো নির্ঝর!"
নির্ঝর হয়তো খুব অবাক হল বিষ্ময়ভরা কণ্ঠে সে বলল,,
—"কে?"
ফারিনের পাশ থেকে ইমন, লিসা, আরা, রায়ান ফিসফিস করে বলল,,
—"লাউড দে,লাউড দে!"
ফারিন ফোনে লাউড স্পিকার অন করে বলল,,
—"আমি তোমার ডার্লিং বেবি!"
এবার রেগে ফোন কেটে দিলো নির্ঝর। মুখ চেপে হেসে উঠলো ফারিনসহ সবাই।
বর্তমান 🌺🌺
এমন দুষ্টুমি ভরা স্মৃতির জগৎ থেকে বের হয়ে আসলো ফারিন। এক ঝলক তাকালো নির্ঝরের দিকে। তার মানে সেদিন কি নির্ঝর ফারিন কে চিনে ফেলেছিল? ওএমজি! এখন কি হবে? এখন যদি নির্ঝর সত্যিই তাকে সারা কলেজের সামনে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখে! সেও বা কি বলবে দোষটা তো তারই! মনে মনে নিজের বন্ধু মহল কে হাজারটা গালাগালি দিল ফারিন।
নির্ঝর ফের বলল,,
—"তাহলে কি সিদ্ধান্ত নিলে পুরো কলেজের সামনে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা ভালো হবে নাকি এখন আমার কথা শোনাটা ভালো হবে।?"
ফারিন আমতা আমতা করে বলল,,
—"আ-আ-আপনার কথা শোনাটা!"
নির্ঝর:"তাহলে এক্ষুনি যাও স্টাডি টেবিলে গিয়ে বসো!"
ফারিন:"মানে?"
নির্ঝর:"মানে আবার কি? আর এক মাস বাদেই না তোমার হায়ার ম্যাথসের টেস্ট! আর একটা কথা গান খুলে শুনে রাখো, তুমি যদি টেস্টে আলাউ না হও তাহলে কিন্তু আমি কোনোদিন তোমাকে ফাইনালে বসতে দেবো না!"
ফারিন বিষ্ময়ে হা হয়ে গেল। সিরিয়াসলি বাসর রাতে তাকে হায়ার ম্যাথ করতে হবে! সে কোনো প্রশ্ন করার আগেই নির্ঝর বলল,,
—"কথা কানে যাচ্ছে না? বললাম তো স্টাডি টেবিলে গিয়ে বসো ওইখানে ম্যাথসের খাতা প্লাস বই সব আছে! আমি ফ্রেশ হয়ে এসেই যেন দেখি প্রথম চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গেছে তোমার!"
ফারিনের নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগতে শুরু করলো। সে তো ভেবেছিল বিয়ের পর পড়াশোনাই ছেড়ে দেবে আর সেখানে বাসর রাতে তাকে তার সবচেয়ে অপছন্দের সাবজেক্ট হায়ার ম্যাথ করতে হচ্ছে! হায় আল্লাহ!
নির্ঝর আলমারি থেকে একটা ট্রাউজার আর টি শার্ট নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। ফারিন আর কোনো উপায়ান্তু না পেয়ে স্টাডি টেবিলে গিয়ে বসে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর নির্ঝর ড্রেস চেঞ্জ করে এসে দেখল ফারিন এখনো বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছে। সে ফারিনকে ধমক দিয়ে বলল,,
—"কি করছো তুমি? ম্যাথ না করে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছো!"
ফারিন ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে বলল,,
—"স-স-সরি স্যার কিন্তু এগুলো পড়ে..!"
নির্ঝর বুঝতে পারল এসব হেবি গর্জিয়াস ড্রেসে বসতে অসুবিধা হচ্ছে ফারিনের। সে বলল,,
—"আচ্ছা যাও ড্রেস চেঞ্জ করে আসো!"
ফারিন:"স্যার কিন্তু আমার তো কোনো ড্রেস এখানে নেই?"
নির্ঝর:"কি?"
ফারিন:"হুম!"
নির্ঝর বুঝতে পারল না কি করবে। এতক্ষণে হয়তো বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেছে। উপায়ান্তর না পেয়ে নির্ঝর বলল,,
—"শার্ট পড়বে?"
ফারিন:"কিইই!"
নির্ঝর:"দেখো আমার ভনিতা করার একদমই মুড নেই! যা বলছি সরাসরি,যদি পড়ো তাহলে আলমারি থেকে আমার একটা শার্ট নিয়ে পড়ে আসতে পারো না হলে সারারাত এই ড্রেসেই বসে থাকো!"
ফারিন কি বা করবে। হেবি ড্রেসে সারারাত থাকা তার পক্ষে একদমই অসম্ভব। এমনিতেই নতুন ড্রেসে তার এলার্জি তার উপর আবার এতো গর্জিয়াস। সে নির্ঝরের আলমারি থেকে একটা সাদা শার্ট নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করল।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসলো সে। পরনে নির্ঝরের একটা সাদা শার্ট। যা তার হাঁটু থেকেও কিছুটা নিচে নেমে এসেছে। ভাগ্য ভালো যে সে শাড়ির পেটিকোটের নিচে বুদ্ধি করে নিজের একটা লেগিংস পরেছিল না হলে কি এক মহা যন্ত্রণায় পড়তে হতো তাকে। গলায় জড়ানো বিয়ের দোপাট্টাটি। বের হয়েই সে দেখতে পায় স্টাডি টেবিলে একটা চেয়ারে বসে আছে নির্ঝর চোখে সব সময়ের মতন চিকন ফ্রেমের চশমাটা হাতে একটা ইংরেজি ক্লাসিক নোভেল।
ফারিন বিরক্তিতে মুখ কুঁচকায়। তারমানে সত্যি সত্যিই তাকে এখন হায়ার ম্যাথ করতে হবে! তাকে দেখে নির্ঝর বলে,,
—"ওইখানে দাঁড়িয়ে কি করছো? এদিকে আসো আর চুপচাপ ম্যাথ করতে বসো!"
ফারিন কাচুমাচু কন্ঠে বলে,,
—"স্যার আজকে কি ম্যাথটা না করলেই নয়! না মানে আমি আপনার পানিশমেন্ট টা অন্য কোনোদিন নিতাম!"
নির্ঝর কোনো কথা না বলে ফের নজর রাখে বইয়ের পাতায়।ফারিন বুঝতে পারল তাকে কিছু বলে আর কোনো লাভ নেই।তাই সে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে গিয়ে স্টাডি টেবিলে নির্ঝরের বিপরীত পাশের চেয়ারটিতে বসে হঠাৎই তার মনে হচ্ছে এখানে যদি কোনো ইতিহাসবিদ থাকতো তাহলে নিশ্চিত সে নোট করে রাখত তাদের এই ঐতিহাসিক বাসর রাতের কাহিনী।
কারণ ইতিহাসে এমন বাসর রাত হয়তো আগে কেউ দেখেনি বা শোনেনি যেখানে নববধূর শাড়ির ঝালর নয়,চোখের জল নয়, কিংবা প্রেমময় বকবক নয় বরং বাসর রাতের নীরবতা ভেঙেছে হায়ার ম্যাথের হিসাবনিকাশ! যেখানে কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে প্রথমবার প্রেমের বদলে শেখাচ্ছে গণিতের সূত্র। ফারিন নিশ্চিত এটা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকতো!
🌼🌼🌼
সকালের স্নিগ্ধ রৌদ্র কিরণ জানলার ফাঁকা গলে মুখে এসে লাগতেই ঘুম ভাঙ্গে ফারিনের। আড় মোড়া ভেঙেই সে টের পায় সে মাথা নিচু করে শুয়ে আছে স্টাডি টেবিলের উপর। পরক্ষণেই তার কালকে রাতের কথাগুলো মনে পড়ে কিছুটা বিরক্তিতে সে সামনে তাকিয়ে দেখে চেয়ারে হেলান দিয়ে মুখের উপর বই রেখে আধা শোয়া হয়ে বসে ঘুমিয়ে আছে নির্ঝর।
তাকে দেখে মুখ ভেঙ্গচালো ফারিন। মনে মনে কিছু গালাগালি দিতেও ভুললো না। এরপর সে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ঘড়ির কাঁটা প্রায় আটটা ছুঁই ছুঁই। সে দ্রুত উঠে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো ফ্রেশ হওয়ার উদ্দেশ্যে।
কিছুক্ষণ পর 🌹🌹🌹
ঘড়ির অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলো নির্ঝরের। ঘুম থেকে উঠেই প্রতিদিনের অভ্যাস অনুসরণ করে ওয়াশরুমে পা বাড়ালো সে। তার খেয়ালই হলো না যে এখন আর সে একা নয় এই বাড়িতে এসে গেছে তার মিসেস।
ওয়াশরুমে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই ফ্লোরের উপর পড়ে থাকা পানিতে পা পড়ে নির্ঝরের।ভারসাম্য হারিয়ে সে গিয়ে পড়ে বাথটাবের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফারিনের উপর। অন্যদিকে নির্ঝরের এমন আকস্মাৎ তার ওপর পড়ে যাওয়ায় ফারিনও ভারসাম্য হারায়। দুইজনে গিয়ে পড়ে বাথটাবের পানিতে।
নির্ঝরের শরীর থেকে ভেসে আসা তীব্র পুরুষালীর গন্ধে ফারিনের শ্বাস আটকে আসে, ষচোখ কোটর থেকে বের হয়ে আসার উপক্রম তার,বাথটাবের পানিতে ভিজে একাকার অবস্থা তার। তার উপর নির্ঝর তার শরীরের উপর! এ যেন এক অন্যরকম অদ্ভুত পরিস্থিতি। একে কি বলে সংজ্ঞায়িত করবে তা ফারিনের জানা নেই।
অন্যদিকে নির্ঝর নিজের এমন কান্ডে কিছুটা লজ্জায় পড়ে যায়। পরক্ষণেই সে রেগে গিয়ে ফারিনকে বলে,,
—"পানি নিয়ে কি সারা ওয়াশরুমে খেলা করেছ?"
(নোট: সবাই আমাকে মাফ করে দিয়েন আপনাদের এতদিন অপেক্ষা করানোর পরে এইটুকু দিলাম আসলে পরে যে অংশটুকু ছিল প্রায় দশ হাজারের বেশি শব্দ আমি নোটপ্যাড থেকে সিলেক্ট করে কপি না করে পেস্ট দিয়ে ফেলেছি এজন্য সম্পূর্ণটুকু ডিলেট হয়ে গিছে🥹🥹 এজন্য এটুকুই দিলাম আপাতত এইটুকু পড়েই মানায় নিয়েন। আর বাকি অংশ ইনশাল্লাহ দুই-তিন দিনের ভেতরে আমি আবার লিখে দিয়ে দিব। ধন্যবাদ)
#মাঝরাতের_রোদ্দুর
#পর্ব_৩৯ (শেষ অংশ)
#লেখিকা_নওরিন_কবির_তিশা
ফারিন:"আপনি তো দেখছি অদ্ভুত লোক মশাই! নিজেই উষ্টা খেয়ে এসে আমার উপর পড়লেন এখন আবার আমাকেই বকছেন?"
নির্ঝর তার উপর থেকে উঠতে উঠতে বলল,,
—"ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন আমি ইচ্ছাকৃতভাবে তোমার উপর এসে পরিনি! তুমি সারা ওয়াশরুমে পানি দিয়ে খেলা করেছ ফর দিস রিজন আমি পড়ে গেছি! আর উষ্টা এগুলো কোন ধরনের ভাষা হ্যাঁ?"
নির্ঝর উঠে যাওয়ার পর ফারিনও উঠতে উঠতে বলল,,
—"এগুলোই ভাষা! আমার মাতৃভাষা বাংলা ভাষা! আর আপনার ওই ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন ফর দিস রিজন এগুলো কি হ্যাঁ? বাঙালি কত কষ্ট করে নিজের জীবন দিয়ে বাংলা ভাষা অর্জন করেছে আর আপনার মত কিছু কিছু ব্রিটিশদের চামচারা তার কদর করতে জানেনা! আপনাদের তো বাঙালি বলাই মহা অন্যায়!"
নির্ঝর:"স্টুপিড!"
নির্ঝর বের হয়ে যায়। ফারিন সেখানে দাঁড়িয়েই রাগে ফোঁসফোঁস করতে থাকে। তাকে স্টুপিড বলা। হঠাৎই বেসিনের আয়নায় সে তাকিয়ে দেখতে পায় সাদা শার্টটা ভিজে একদম শরীরের সাথে লেগে আছে তার। শরীরের প্রতি ভাঁজ স্পষ্ট।গলায় জড়ানো দোপাট্টাটাও যে খুব বেশি পুরু তা নয়। সাধারণত বিয়ের দোপাটা গুলো যেরকম হয় সেরকমই ভীষণ পাতলা। আর পানিতে ভিজে সেটার অস্তিত্বই টের পাওয়া যাচ্ছে না।
তার মানে এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে এতক্ষণ সে নির্ঝরের সাথে তর্ক করছিল।ভীষণ লজ্জায় পড়ে যায় সে। সাধে কি আর নির্ঝর তাকে স্টুপিড বলে। আচ্ছা তাহলে কি নির্ঝর... না না আর কিছুই ভাবতে পারে না সে লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে তার।কিন্তু এবার সে কি করবে সাথে করে না তো কোনো শার্ট এনেছে না তো অন্য কিছু। কি পড়বে সে?
নির্ঝর রুমে আছে কিনা সেটা দেখার জন্য দরজার ফাঁক গলে হালকা উঁকি দিতেই নির্ঝর তার একটা শার্ট ফারিনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,,
—"আপাতত এটাই পড়ে নাও। আমি নিচে গিয়ে দেখি মা বা নিঝুম কেও উঠেছে নাকি?"
ফারিন এক ঝটকায় নির্ঝরের হাতের থেকে শার্ট টা নিয়ে দ্রুত ওয়াশরুমের দরজা আটকে দেয়। নির্ঝরও বের হয়ে যায় রুম থেকে।
মিনিট দশেক পর........
রিসিভশনের লেহেঙ্গা, কিছু ভারী গহনা, মেকাপ প্রোডাক্টস, আর দুজন মেকআপ আর্টিস্ট সহ রুমে প্রবেশ করল নিঝুম, শিশির আর ইলমা সহ নিঝুমের কিছু কাজিনরা। ফারিন তখন সবে ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছিল মাথায় জড়ানো টাওয়ালটা। তাকে দেখে ইলমা দুষ্টু হেসে সামান্য কাশঁলো।
তাদেরকে দেখে ফারিন দ্রুত এগিয়ে এসে বলল,,
—"আপু তোমরা এসেছো এই দেখো না...."
ইলমা:"থাক থাক ! বুঝেছি বুঝেছি! আর বলতে হবে না! এসব কথা কেউ সবার সামনে বলে!"
ফারিন:"আরে আপু সে রকম কিছুই না আসলে!"
ইলমা:"যাহ দুষ্টু! এভাবে কেউ বলে? চুপ করো!"
ফারিন চুপ হয়ে যায়। আল্লাহই জানে ইলমা কি ভেবেছে। ফারিন যখন এসব ভাবতে ব্যস্ত তখনই ইলমা শিশিরকে দেখিয়ে বলে,,
—"এই দেখো তোমার আর একটা ননদিনী!"
শিশির ফারিনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,,
—"হ্যালো ফারিন! আমি শিশির,শিশির শাহ! একদিক থেকে তোমার ননদিনী বলতে পারো!"
ফারিন মুচকি হেসে বলে,,
—"হাই আপু! কালকে রাতে তো সবাই এসেছিল তুমি তো আসোনি?"
শিশির কিছুটা অপ্রস্তুত হয়। কালকে রাতে তো নাহিয়ান তাকে অনেক রাত করে বাসায় নিয়ে এসেছিল। এই জন্যই ফারিনের সাথে সে কালকে রাতে দেখা করতে পারেনি কিন্তু এখন কি বলবে! তবে সে কিছু বলার আগেই পাশ থেকে নির্ঝরের মামাতো বোন রাফিয়া বলল,,
—"আরে ও কালকে রাত্রে একটু ব্যস্ত ছিল এজন্যই আসতে পারেনি সেসব বাদ দাও! তুমি বলো কেমন কাটলো বাসর রাত?"
ফারিন মুখ সামান্য নিচু করে ফিসফিসিয়ে বলল,,
—"এইতো হায়ার ম্যাথ করতে করতে!"
উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে বলল,,
—"মানে!"
ফারিন অপ্রস্তুতি হাসলো। সবাই কি শুনে ফেললা নাকি? সে হাসির রেখাটা প্রসারিত করে বলল,,
—"আরে না না আপু স্যার আমাদের হায়ার ম্যাথ ক্লাস নেই তো এই জন্যই বললাম আর কি!"
রাফিয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,,
—"ওওহ তাই বলো! আমি তো ভাবলাম নির্ঝর যে মানুষ না জানি কালকে রাতেও তোমার হায়ার ম্যাথ ক্লাস নিয়েছে কিনা?"
ইলমা:"আরে না না আপু কি যে বলো না! নির্ঝর ভাই যেরকমই হোক না কেন! বাসর রাতের সঠিক ক্লাসটাই নিয়েছিল তাই না ফারিন!"
উপস্থিত সবাই হেসে উঠলো। ফারিনও মুচকি হাসলো।আর মনে মনে ভাবল এরা যদি জানতো গতকাল রাতে আসলে কি হয়েছে!
কিছুক্ষণ পর 🌺🌺🌺
নির্ঝর থমকে গেছে। সে এসেছিল ফারিনকে রুম থেকে নিয়ে রিসিপশন পর্যন্ত যাওয়ার জন্য। আসলে এটা চৌধুরী আবাসনেরই একটা রিচুয়াল। বিয়ের পরের দিন রিসিপশন হবে আর সেখানে নব দম্পতি হাতে হাত রেখে একসাথে যাবে। আর নির্ঝরদের রিসিপশনের আয়োজন করা হয়েছে বাড়ির সামনের ফ্রন্ট এরিয়ার গার্ডেনে। তাই নির্ঝর এসেছিল ফারিনকে নিতে। কিন্তু রুমে এসে থমকে গেল সে।
সোফার উপর বসে আছে ফারিন। পরনে একটা স্কাই ব্লু কালার লেহেঙ্গা, একটু বেশি গর্জিয়াস, মাথায় লেহেঙ্গার সাথে ম্যাচিং রেখে স্কাই ব্লু কালার দোপাট্টা, সামনের কার্ল করা চুলগুলো বের করা, সামান্য ব্রাইডাল মেকআপ, ঠোঁটে হালকা মেরুন কালার লিপস্টিক, গলায় একটা ডায়মন্ড নেকলেস, কানে এক ডায়মন্ডের ঝুমকো, আর কপালের উপর এসে পড়েছে ললাটিকাটি। ব্যাস এইটুকুই অন্যদের চোখে এটা খুবই সাধারণ কিন্তু নির্ঝরের চোখে তা ধরা দিচ্ছে অসাধারণ রূপে।
ঠিক যেন স্বর্গীয় অপ্সরা না জান্নাতি কোনো হুর না না এ সৌন্দর্য সংজ্ঞায়িত করার মতো কোনো শব্দ নির্ঝরের শব্দভাণ্ডারে নেই। হঠাৎই তার হৃদ গহীনে বয়ে গেল এক তীব্র ঝোড়ো হাওয়া যা আঘাত হানল তার চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট ছোট্ট হৃদপিণ্ডটাতে। সে এগিয়ে গেল ফারিনের দিকে।
অন্যদিকে ফারিন ব্যস্ত নিজের লেহেঙ্গা সামলাতে। এত গর্জিয়াস এর হেবি একটা লেহেঙ্গা পরে সে কিভাবে যে হাঁটবে তাই বুঝতে পারছে না।নির্ঝর এগিয়ে এসে হাতে এগিয়ে দিল তার দিকে। ফারিন চমকে তাকালো। তারপর সে নির্ঝরের হাতে হাত রেখে উঠে দাঁড়ালো । অতঃপর এক জোড়া কপতো-কপতি এগিয়ে চলল রিসিভশনের দিকে।
🌹🌹🌹
রিসিভশনের বর কনের আসনে বসে আছে ফারিন আর নির্ঝর। তাদের সামনের বড় স্টেজে পারফর্ম করছে একদল তরুণীরা। নির্ঝরদের রিসিপশনের আয়োজন বেশ বড় করেই করা হয়েছে। চৌধুরী আবাসনের সব আত্মীয়-স্বজন, ফ্যামিলি ফ্রেন্ড সহ নির্ঝরের কলেজের সব শিক্ষক এমনকি স্টাফদেরও নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাড়ির সামনের ফ্রন্ট এরিয়ার গার্ডেন জনসমাগম মুখর। সকলে ব্যস্ত নব দম্পতির সাথে কথা বলতে। সেখান থেকে কিছুটা দূরের এক কর্নারে দাঁড়িয়ে আছে শিশির আর নাহিয়ান। শিশির স্টেজের ডান্স পারফরম্যান্স দেখছে। শিশিরের পরনে ডিপ পিংক কালার সিল্ক শাড়ি। যদিও শাড়িটা সে নিজের ইচ্ছায় পড়েনি নওরিফা খানমই জোর করে তাকে পরিয়ে দিয়েছে। সে চেয়েছিল সারারা বা গাউন টাইপ কিছু একটা পড়বে।
কিন্তু সকালে নওরিফা খানম তাকে জোর করে শাড়ি পরিয়ে বলল,'তুই কেন শাড়ি পরবি না নুয়া? আজকের সবাই শাড়ি পরবে এমনকি নিঝুও পর্যন্ত শাড়ি পড়বে। তবে তোর কি সমস্যা?পড়তে অসুবিধা তো আমি পরিয়ে দিচ্ছি আর ট্রাস্ট মি অনেক সেফলি পরিয়ে দেবো কোথাও কোন সমস্যা হবে না হাটতেও অসুবিধা হবে না'
কি আর করার শিশিরও একপ্রকার বাধ্য হয়ে পড়লো শাড়িটা।
নাহিয়ান মুগ্ধ নয়নে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে তার দিকে। শিশির এক ঝলক সেদিকে তাকাতেই লজ্জায় চারা গাছের নাই নুয়ে পড়লো সে, চিবুকটা নামলো সামান্য, লজ্জা মিশ্রিত কন্ঠে সে বলল,,
—"কি দেখছেন?"
নাহিয়ান ঘোর লাগা কন্ঠে বলল,,
—"দেখছি যে আমার বাঁ পাজরের হাড়ের তৈরি রমণীটা এত সুন্দর!"
শিশিরের লজ্জা দ্বিগুণ হলো। এই লোকটাও না! অন্যদিকে শিশিরকে এমন লজ্জা পেতে দেখে নাহিয়ান বলল,,
—"কি হলো ম্যাম লজ্জা পেয়েছেন?"
শিশির কোনো জবাব দিল না।তার ব্যক্তিগত পুরুষটা বড়ই অদ্ভুত লজ্জা দিয়ে বলছে লজ্জা পেয়েছেন!
এদিকে......🌺🌺🌺
ইসিতাকে ধরতে গিয়ে নিঝুমের ধাক্কা লাগলো সৌজন্যের সাথে। সৌজন্য তখন সবে একটা সফট ড্রিংকসের গ্লাস হাতে নিয়েছে ওমনি নিঝুমের ধাক্কায় গ্লাসের সম্পূর্ণ সফট ড্রিংকসটুকু ছিটকে পড়ে নষ্ট হয়ে যায় তার ড্রেস। সে বিরক্তিতে নাক মুখ কুচঁকে বলল,,
—"আরে অন্ধ নাকি?"
নিঝুম:"কি বললেন?"
সৌজন্য:"অন্ধকে অন্ধ বলেছি, শুনতে পাওনি?"
নিঝুম:"কে অন্ধ হ্যাঁ?"
সৌজন্য:"যে অন্ধের মত দৌড়াতে গিয়ে আমার ড্রেসটা নষ্ট করে ফেলল সে!"
নিঝুম:"আপনি বা তাল গাছের মতো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন?যখন দেখছেনই যে এখানে লোকজন চলাচল করছে!"
সৌজন্য:"আমি তাল গাছের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম নাকি তুমি অন্ধের মত এসে আমাকে ধাক্কা দিলে!"
নিঝুম:"আপনি তার কাছের মত দাঁড়িয়ে ছিলেন!"
সৌজন্য:"বাচাল কোথাকার!"
নিঝুম:"কি বললেন?"
সৌজন্য:"বাচাল বললাম!বাচাল মানে বোঝো না টকেটিভ!"
নিঝুম:"বাচাল হতেও না যোগ্যতা লাগে, আপনার মতো তো আর নই গোমরা মুখ মিস্টার ইন্ট্রোভার্ট!"
সৌজন্য:"ওই যোগ্যতাটাই তো শুধু আছে তোমার ভেতরে!"
নিঝুম:"একদম যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না? তোমার যোগ্যতা সম্পর্কে কতটুকু জানেন আপনি হ্যাঁ?"
সৌজন্য:"বাচালদের মত সারাদিন বকবক করা, অন্ধের মতো ছোটাছুটি করা, পাগলদের মতো যুক্তি দেখানো, এগুলাই তো নাকি আরো কিছু উদ্ভট যোগ্যতা আছে তোমার?"
নিঝুম:"একদম না জেনে শুনে উল্টাপাল্টা কথা বলবেন না! আমার যোগ্যতার এক শতাংশ আপনার ভিতরে নেই!"
সৌজন্য:"ও তাই নাকি!তো বলো কি যোগ্যতা আছে তোমার শুনি?"
নিঝুম:"কি যোগ্যতা লাগবে আপনার শুনি?"
সৌজন্য স্টেজের দিকে তাকিয়ে বলল,,
—"ওদের মত ডান্স করতে পারবে?"
নিঝুম সুজনের কথা অনুযায়ী স্টেজের দিকে তাকালো। সেখানে ব্ল্যাক কালারের শাড়ি পরা দুইটি মেয়ে ratan lambiyan গানে ডান্স করছে। সে সৌজন্যের দিকে ফিরে কিছু বলার আগেই সৌজন্যে বলল,,
—"থাক থাক বুঝেছি! উড়ে গেছে তো তোমার দম? দরকার..."
তাকে কথা শেষ না করতে দিয়েই নিঝুম বলল,,
—"ওদের থেকে ভালো ডান্স পারফর্ম করে দেখাবো জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ!"
নিঝুম চলে গেল সেখান থেকে। সৌজন্য শুধু তাকিয়ে রইল তার যাওয়ার পানে।
🌹🌹🌹
শিশির:"আরে নিঝু এই শাড়ি পড়ে কি করে ডান্স করবো বল! আর সবচেয়ে বড় কথা আমি প্র্যাকটিস করেছি নাকি উইদাউট প্রাকটিস কি করে ডান্স করবো?"
নিঝুম:"না না নুয়া আপু চলোনা তুমি পারবে! চলোনা দেখো আমাকে একজন চ্যালেঞ্জ দিছে মান-সম্মানের প্রশ্ন আপু!"
শিশির:"কে দেয় তোকে উদ্ভট চ্যালেঞ্জ আর তুইই বা একসেপ্ট করিস কেন?"
নিঝুম:"না না আপু চলো!"
শিশির:"নিঝু বুঝছিস না কেন শাড়ি পরে আমি কিন্তু হাটতেও পারি না ডান্স কিভাবে করব!"
সৌজন্যের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পরেই নিঝুম এসেছে শিশিরের কাছে। কারণ সে যে ডান্সটা পারফর্ম করবে তাতে আরেকটা মেয়ের ভীষণ প্রয়োজন আর এখন ডান্সের জন্য শিশির ব্যতীত অন্য কোনো মেয়েকে ভরসা করতে পারছে না সে। তাই তো সেই সময় থেকেই শিশিরের কাছে এসে ঘ্যানঘ্যান করছে সে। শিশুদের সাথে না পেরে শেষমেষ সে নাহিয়ানের দিকে ফিরে বলল,,
—"ওওও ভাইয়া তুমি একটু বোঝাও না। আপু যাতে একটু ডান্স করে!"
নাহিয়ান:"তোর কি মনে হয়? উনি ডান্স করতে পারবে? যদি পারতো তাহলে এতবার বলা লাগত না এমনিতেই চলে যেত! তার থেকে বরং তুই ওই মেয়েটার পারফরমেন্স টা দেখ ভালোই ডান্স করছে!"
শিশির এবার কটমট করে তাকালো নাহিয়ানের দিকে। তা দেখে নাহিয়ান কিছুটা ভরকে গিয়ে বলল,,
—"আরে না না উনি তো ভীষণ ভালো ডান্স করে! শুধু..."
তাকে কথা শেষ না করতে দিয়ে শিশির বলল,,
—"আপনি কার পারফরম্যান্স ভালো বললেন?"
নাহিয়ান স্টেজের দিকে ঘুরতে ঘুরতে বলল,,
—"কেন ওই মেয়েটা..."
কথা শেষ করতে পারল না সে। স্টেজের উপর পারফর্ম করছে ইয়ালিনা। আর নাহিয়ান তাকে না দেখেই বলে দিয়েছে যে সে ভালো ডান্স করছে। এবার এসে শিশিরকে কি করে বোঝাবে? যে সে শিশিরের দিকে তাকিয়ে ছিল বলে স্টেজে কে তা দেখতে পারেনি! নিজের বোকামির জন্য নিজের উপরে রাগ হলো তার। মনে মনে সে বলল,,
—"আজ তোর কপালে দুঃখ আছে নাহিয়ান!"
তারপর সে শিশিরের দিকে বলল,,
—" আরে সে রকম কিছু না আসলে না মানে আমি..."
তাকে কথা শেষ না করতে দিয়ে শিশির নিঝুমের হাত টান দিয়ে বলল,,
—"চল নিঝু!"
ধুপ ধাপ পা ফেলে নিঝুমকে এক হাতে টানতে টানতে সেখান থেকে চলে গেল শিশির।
কিছুক্ষণ পর 🌺 🌺
নাহিয়ান রুমে যাওয়ার জন্য পিছনের দিকে ঘুরতেই চোখ স্থির হয়ে যায়।আলো ঠিক তখনই এক চমক তৈরি করে স্টেজের উপর।দু’জনেই যেন এই আলোর নরম ছোঁয়ায় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।শিশিরের পরনের শাড়ির আঁচল কোমরের কাছে বেল্ট দিয়ে বাঁধা,সোনালি পাথরের বেল্টের ঝিকিমিকিতে শাড়ির রঙ যেন আরও দীপ্তিময়।নিঝুমের সাজও একই ধাঁচে গর্জিয়াস অথচ নরম সিল্কের নাভিরেখায় আঁচল গেঁথে রাজকীয় আভিজাত্য ছড়াচ্ছে।আর ঠিক তখনই হঠাৎ বাজলো সারারা সং,,
Lahraake balkhaake
Balkhaake Lahraake
Aag laga ke
Dilon koo jala ke
Karoon main ishara
Sharara sharara
Sharara sharara
Sharara sharara
Main hoon ek sharara
এক মৃদু ধাপ ফেলে ডান্স শুরু করল দু’জনে।পায়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে যাচ্ছে গানের তালে,তাদের হঠাৎই এমন পারফরম্যান্সের অবাক হলো উপস্থিত সকলে। তবে হতবিহ্বল হয়ে গেল নাহিয়ান শিশির যে কথাটাকে এত সিরিয়াসলি নেবে সেটা বুঝতে পারিনি সে। তার অর্ধাঙ্গিনী এতটাই জেলাস যে যেখানে শাড়ি পড়ে হাঁটতেই পারেনা সেখানে শুধু নাহিয়ান একবার ইয়ালিনার কথা বলেছিল তাও না দেখে আর ইয়ালিনার পরনে ছিল শাড়ি সেই জন্য সেও শাড়ি পরেই পারফর্ম করছে হায় আল্লাহ!
এদিকে সৌজন্য আশ্চর্যান্বিতো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিঝুমের দিকে। তার চ্যালেঞ্জ যে সত্যি সত্যি নিঝুম একসেপ্ট করবে আর সবার সামনে এভাবে ডান্স করবে সে বুঝতেই পারেনি।
ডান্স শেষে স্টেজ থেকে নেমে আসলো শিশির আর নিঝুম। শিশির নেমেই সোজা চলে গেল ড্রয়িং রুমের দিকে একবারও নাহিয়ানের দিকে তাকালও না। আর নিঝুম সোজা গেল সৌজন্যের দিকে। আর সামনাসামনি দাঁড়িয়ে বাঁকা হেসে বলল,,
—"সো মিস্টার ইন্ট্রোভার্ট! দেখলেন তো আমার কম্পিটেনসি? তাই এরপর থেকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার সময় ভেবেচিন্তে দিবেন!"
কোমর থেকে বেল্ট খুলে শাড়ির আঁচল হাওয়ায় উড়িয়ে সেখান থেকে চলে গেল নিঝুম। আর সৌজন্য অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
(নোট: শেষ অংশটুকু আবার লিখে পোস্ট করলাম আসলে ঝামেলা বাধায় রাখতে আমার ভালো লাগে না এজন্য। কিন্তু আজকে একটা জিনিস রিয়েলাইজ করলাম আসলে গুরুজনরা সত্যি কথাই বলে প্রথমে যা হয় তার থেকে ভালো করা পরে আসলেও অসম্ভব এই যেমন প্রথমে যখন আমি এই অংশটুকু লিখেছিলাম আমার নিজের কাছেই এত বেশি ভালো লেগেছিল কিন্তু পরবর্তীতে যখন ডিলিট হয়ে যাওয়ার পরে আমি আবার লিখলাম তখন মনে হচ্ছে আগেরটা এর থেকে হাজার না লক্ষ গুণ সুন্দর ছিল কিন্তু কি আর করার এখন যদি না লিখতাম তাহলে প্লট টা সম্পূর্ণই আমি ভুলে যেতাম। আর সবচেয়ে বড় কথা আগেরটার কনভারসেশন অনেক বেশি ছিল এটা কনভারসেশন কমে গেছে কারণ আমি ভুলে গেছি 🙂 আসলে একলাইন লেখার পরে পরবর্তী লাইন যখন লিখি তখন আগের লাইনটাই মনে থাকে না তাহলে পুরো দশ হাজার শব্দ কিভাবে পুনরায় যে লিখলাম 🙂 যাই হোক সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)