#নেশাক্ত_ভালোবাসা
#Season_2
#লেখিকাঃ Tamanna Islam
#পর্বঃ ১৪
আইরাত এভাবে না বলে কয়েই রাত-বিরাতে উধাও। মেয়ের চিন্তায় চিন্তায় অনামিকা এখন তার মাথায় আইস ব্যাগ রেখে দিয়েছে। দিয়া তার পাশে বসে এটা ওটা বলে বুঝাচ্ছে। সাবিলা মুখ টা বিষ বানিয়ে রেখে দিয়েছে। তৌফিক আর নিলয় বারবার পুলিশে কল দিচ্ছে। আইরাতের যারা যারা পরিচিত বা যারা আইরাতকে চিনে তাদের সবার কাছে ফোন করে জিজ্ঞেস করছে। তবে কোত্থাও আইরাত নেই। নিলয় ফোন কান থেকে নামিয়ে বসে পরে।
অনামিকা;; কিরে কোন খোঁজ পেলি কি?
নিলয়;; না মামি। সবাইকেই জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু কেউ কিছুই জানে না।
অনামিকা;; কোথায় গেলো মেয়েটা। আইরাত কখনোই এমন করে না। যেখানেই যাক না কেনো আমাকে বলে যায়।
সাবিলা;; মেয়ে তলে তলে কিছু করে রেখেছে কিনা গিয়ে দেখো।
নিলয়;; আহা মা চুপ করবে তুমি।
সাবিলা;; কতো করে বললাম নিলয়ের সাথে বিয়ে টা দিয়ে দাও।
নিলয়;; বিয়ের সময় হলে তখন করা যাবে এখন আইরাতকে কীভাবে খুঁজে বের করা যায় তাই ভাবো।
তৌফিক;; এভাবে বসে থাকলে আর হবে না। পুলিশের কাছে যেতেই হবে।
তখনই অবনি আসে। এসেই দেখে সবার মুখে বারো টা বেজে আছে।
অবনি;; কি হলো? আইরাতকে খুঁজে পেলে?
তৌফিক;; না রে। ওর ফোনটাও বাসায়। কেউ কিছুই জানে না।
অবনি;; দেখ ২৪ ঘন্টা অব্দি অপেক্ষা করা সম্ভব না। যাই করবি প্লিজ তাড়াতাড়ি কর।
তৌফিক;; চল পুলিশ স্টেশনে যাবো।
অবনি;; দিয়া, তুই আন্টির কাছেই বোস। আন্টি চিন্তা করবেন না আইরাত এসে পরবে দ্রুতই।
এই বলেই অবনি, তৌফিক আর নিলয় পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে পরে।
।
।
আব্রাহাম-আইরাত এখনো গাড়িতেই। আইরাত কমপক্ষে ৭-৮ বার জিজ্ঞেস করেছে যে আমরা কোথায় যাচ্ছি কিন্তু আব্রাহাম তার কথার প্যাচে কেটে দিয়েছে। গাড়ির উইন্ড দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তাকিয়ে আসছিলো আইরাত। এই জায়গা গুলো সে একদম চিনে না। না জানে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আব্রাহাম তাকে। তারও প্রায় ঘন্টা খানেক পর গাড়ি থেমে যায়। একজন গার্ড এসে আইরাতের পাশের দরজা খুলে দেয়। আইরাত নেমে পরে আশে পাশে দেখতে লাগে। এটা কি কোন পার্টি নাকি টুরিস্ট স্পট সে বুঝে না। সামনে তাকিয়ে দেখে বেশ জাকজমক পূর্ণ একটা হাউজ। বেশ সুউচ্চ। তার সামনেই কার্পেট বিছানো তা পেরিয়েই ভেতরে যেতে হবে। আইরাত এগুলোই দেখছিলো তখনই আব্রাহাম পাশে তার এসে দাঁড়ায়।
আব্রাহাম;; এসো।
এই বলেই আব্রাহাম আইরাতের হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যেতে লাগে। সবাই দু'সাইডে দাঁড়িয়ে আছে আর তার মাঝখান দিয়ে আব্রাহাম & আইরাত আসছে। ভেতরে চলে যেতেই আরেক দফা চমক খায় আইরাত। বাইরের থেকে ভেতরে একদমই আলাদা। বেশ বড়ো সড়ো হাউজ। ওপরে কতো গুলো ঝাড়বাতি রয়েছে। আশে পাশে অনেক মানুষের আনাগোনা। সবকিছু তে কেমন এক শৌখিনতার ছোঁয়া। বেশ অনেক গুলো মানুষ আসে তারা আব্রাহামের সাথে কুশল বিনিময় করতে লাগে। তারপর আব্রাহাম গিয়ে একটা আলিশান টেবিলে বসে পরে। নিজের পাশে আইরাত কেও বসিয়ে দেয়। আশেপাশে ডিসের অভাব নেই। তার ঠিক মাঝখানে দুটো মোমবাতির স্যাম্প রাখা আছে। আইরাত শুধু সব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।
আইরাত;; এ এটা কোন জা জায়গা?
আব্রাহাম;; ইট"স এ পার্টি বেইব।
আইরাত;; কিন্তু আমরা এখানে কেনো?
আব্রাহাম;; বিকজ উই আর স্পেশালি ইনভাইটেড।
আইরাত;; হুমম
একজন ওয়েটার এসে তাদের সামনে খাবার রেখে দেয়। তবে সেইসব কিছু বাদ দিয়ে আব্রাহাম চকোলেট আইসক্রিম আনতে বলে। আইরাত খেয়াল করে দেখে যে এখানে নানা বয়সের মানুষই রয়েছে। আর মেয়েদের কথা না হয় বাদই রইলো। সব কটা ওয়েস্টার্ন ড্রেসাপ। কোথাও কাপল রা বসে আড্ডা দিচ্ছে আবার কেউ যথেষ্ট বিনয়নের সাথেই বসে আছে। হঠাৎ এভাবে থাকতে থাকতে আইরাত জিজ্ঞেস করে বসে...
আইরাত;; আচ্ছা আমি কবে বাসায় যাবো?
আব্রাহাম;; যাবে না।
আইরাত;; কি?
আব্রাহাম;; কেনো আমার সাথে আছো ভালো লাগে না! চুপ করে বসে থাকো নয়তো তুমি জানো যে আমি কি কি করতে পারি।
আইরাতের এখন আব্রাহামের এমন চটাং চটাং কথা শুনে রাগ লাগছে। হঠাৎ সামনে থাকা ডিসের পাশ থেকে আইরাত তার হাতে একটা ছুরি উঠিয়ে নেয়। ভেবেছে এটা দিয়েই কিছু করবে। কিন্তু কিছু বলা বা করার আগেই আব্রাহাম তার ফোনের স্ক্রীনের দিকে নজর রেখে বলে ওঠে....
আব্রাহাম;; যেভাবে চাকু টা হাতে নিয়েছো ঠিক সেভাবেই সুন্দর করে আগের জায়গায় রেখে দাও।
আইরাত কিছুটা ঢিল দিয়েই চাকুটা আবার রেখে দেয়। কি যে করবে। তার কিছু সময় পর একজন লোক আসে। সুট বুট পরা তবে দেখতে কিছুটা অদ্ভুত রকমের। এসে আব্রাহামের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই বসে পরে। লোকটি আব্রাহামের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আব্রাহাম তার রিভলবার বের করে টেবিলের ওপর রেখে দেয়। রিভলবার দেখা মাত্রই সেই লোকটি উঠে চলে যায়। সব যেনো আইরাতের মাথার ওপর দিয়ে গেলো। পরক্ষনেই ওয়েটার এসে আইসক্রিম দিয়ে যায়।
আব্রাহাম;; বেবিগার্ল আইসক্রিম নাও।
আইরাত;; আচ্ছা আপনি কি নরমাল ভাবে কথা বলতে পারেন না!
আব্রাহাম;; হুয়াট?
আইরাত;; মানে আপনি যে এখন ওই লোকটার সাথে কথা বলবেন না তা তো মুখেও বলা যেতো তাই না। এভাবে গান বের করার কি আছে।
আব্রাহাম;; তা তোমার বুঝে আসবে না।
আব্রাহাম আইরাতের চেয়ার টা ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে এনে পরে। আইসক্রিম সামনে নিয়ে বসে আছে আইরাত। তখনই হঠাৎ আব্রাহাম বলে ওঠে...
আব্রাহাম;; বেবিগার্ল আমি আইসক্রিম খাবো।
আইরাত;; আব....হ্যাঁ তো খান না।
আব্রাহাম এবার কোন কথা না বলে আইরাতের গলার পাশে হাত দিয়ে তার চুলগুলো সরিয়ে আরেক পাশে দিয়ে দেয়। তারপর আইসক্রিমের গ্লাস থেকে বেশ খানিক আইসক্রিম নিয়ে সোজা আইরাতের গলার উপরের অংশে লাগিয়ে দেয়। আইরাত তো অবাক হয়ে তাকায়। কিছু বলা বা বুঝে ওঠার আগেই আব্রাহাম সোজা আইসক্রিম লাগানো জায়গা টুকুতে অর্থাৎ আইরাতের গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। আইরাতের মুখে তালা লেগে যায় অটোমেটিক। কয়েক মিনিট পর আব্রাহাম নিজেই উঠে আসে। আইরাত খেয়াল করে তার ন্যাক-এ আইসক্রিম টুকু নেই। বুঝলো আব্রাহাম খেয়ে ফেলেছে।
আইরাত;; এটা, এ এটা কি ছিলো?
আব্রাহাম;; কি আবার আমি আইসক্রিম খেলাম।
আইরাত;; এভাবে কে আইসক্রিম খায়?
আব্রাহাম;; আমি খাই।
আইরাত তার আশে পাশে তাকিয়ে দেখে যে যার মতো ব্যাস্ত। কেউ দেখে নি, তা দেখে আইতাত একটু দম ছাড়ে। লাজ-লজ্জা কিচ্ছুই নেই এর। কীভাবে আইসক্রিম নিয়ে, ধুর ছাই। আইরাত এগুলোই মনে মনে বলছিলো। চকোলেট আইসক্রিম তাই তার প্রতি লোভ সামলাতে না পেরে আইরাত কিছুটা খেয়েই নেয়। তারপর চলে যায় আরো বেশ খানিক সময়। একটা সময় বিকেল, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে। আইরাত বুঝলো এখানে আব্রাহাম ভিপি আর তাকে সবাই আব্রাহামের গার্লফ্রেন্ড ভেবে রেখেছে। এটা ভাবতেই যেনো আইরাতের বিরক্তি লাগছে। আইরাত টেবিলে একাই বসে ছিলো আর আব্রাহাম হাতে একটা ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে কিছুটা দূরে কিছু মানুষের সাথে কথা বলছিলো। থেকে থেকে আইরাতের দিকে তাকাচ্ছে। তখনই একজন গার্ড আসে, এসে আব্রাহামের পাশে কিছুটা ফিসফিসিয়ে বলে আবার দ্রুত চলে যায়। আব্রাহাম "Excuse me" বলে লোকগুলোর কাছ থেকে এসে পরে। আইরাতের কাছে গিয়ে তার পেছন দিক থেকে ঝুকে পরে। আইরাতের কানের পাশে গিয়ে বলে...
আব্রাহাম;; জানপাখি তুমি এখানে বসো ওকে, আমি একটু আসছি।
আইরাত আব্রাহামের দিকে তাকায় আর আব্রাহাম আইরাতের মাথার পাশে একটা চুমু দিয়ে এসে পরে। আব্রাহামের যাওয়ার প্রায় বেশ সময় পার হয়ে যায় তবুও সে আসে না। তা দেখে আইরাত আশে পাশে তাকাতাকি করতে লাগে। তার চোখে আব্রাহাম তো না তবে কিছু পুলিশ অফিসার কে পরে। এরা হয়তো এখানেই থাকে সবসময় সেইফটির জন্য। আইরাতের মাথায় একটা বুদ্ধি আসে,, সে উঠে পরে। বাইরে চলে আসে। বাইরে আসতেই দেখে একটা বিশাল করিডর। সেখানে ভেতরের তুলনায় মানুষ খুব কম। আইরাতের পরনের জামা টা বেশ লং। তাই সে দুপাশে হাত দিয়ে কিছুটা উঁচু করে ধরে তারপর চলছে। আইরাত খুব দ্রুত ভাবে চলছে কারণ যদি আব্রাহাম দেখে ফেলে তাকে তাহলে আরেক বিপদ। বলতে গেলে আইরাত এক প্রকার ছুটছে। কিছুদূর যেতেই আইরাতের চোখে পরে যে দুজন অফিসার করিডরের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। আইরাতের মনে যেনো কিছুটা আলোর আশা ফুটে।
আইরাত;; Excuse me Officer's..!
অফিসার;; Yes ma"am..
আইরাত আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই গার্ড গুলো সামনে তাকিয়ে 'হ্যালো স্যার' বলেই সোজা চলে যায়। আইরাত কিছু না বুঝে পেছনের দিকে তাকায় দেখে আব্রাহাম দাঁড়িয়ে আছে আর তার হাতে একটা এলকোহলের বোতল। একদম গরম কড়াইয়ে পানির ছিটা দিলে যেমন ছাত করে ওঠে। এই মূহুর্তে আব্রাহাম কে দেখেও আইরাতের বুক ঠিক তেমন ভাবেই ছাত করে ওঠে। আব্রাহাম এক চুমুক এলকোহল মুখে দিয়ে বোতল টা পাশেই ছুড়ে ফেলে দেয়, ভেঙে যায় তা। আইরাতের দিকে এক পা এক পা করে এগোতে লাগে। আইরাতের তো আগেই কাদো কাদো দশা হয়ে গেছে।
আব্রাহাম;; পালাতে চাইছো? আমার কাছ থেকে? (একদম নরম সুরে)
আইরাত;; _________________________
আব্রাহাম;; বলো (জোরে ধমক দিয়ে)
আব্রাহামের জোরে ধমক দেওয়াতে আইরাত চমকে যায়।
আব্রাহাম;; লাভ নেই জান। এখানে যে এত্তো গুলো মানুষ দেখছো না এরা সবাই আমার কথায় চলছে। সবই আমার আয়ত্তে। সে কোন পুলিশ অফিসার-ই হোক না কেনো। সো এখান থেকে যাওয়ার বা আমার থেকে পালানোর কোন স্কোপই নেই। যতোই ট্রাই করো না কেনো তা ব্যার্থ। তো এইসব আজাইরা প্ল্যান বাদ দিয়ে চুপচাপ আমার সাথে চলো।
আইরাত আর একটা কথাও বলে না কেননা সে জানে এখন কিছু বললে তার কপালে শনি লাগিয়ে দিবে এই ছেলে। আব্রাহাম সেখান থেকে এসে পরে। অতঃপর রাতে তারা সেই পার্টি থেকে বের হয়ে এসে পরে।
।
।
তৌফিক;; অফিসার একটা মিসিং ক্যাস ফাইল করতে হবে।
অফিসার;; জ্বি সব ডিটেইলস বলুন।
আবনি;; মেয়ের নাম আইরাত। ভার্সিটি পরে যদিও আগে রিপোর্টিং এ কাজ করতো। তাকে আজ সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।
নিলয়;; সকালে যখন আইরাতের মা অর্থাৎ আমার মামি রুমে যায় তখন একটা ল্যাটার পায় আর জানালার কাচ ভাঙা পায়।
নিলয় ল্যাটার টা অফিসারের দিকে এগিয়ে দেয়। অফিসার পুরো ল্যাটার টা পরে হেসে দেয়। কিন্তু অফিসারের এই হাসিতে তৌফিক-অবনি-নিলয় সবারই মেজাজ চটে যাচ্ছে।
অফিসার;; জ্বি দেখুন আপনারা অযথা এখানে এসেছেন। এই চিঠি টা দেখেই তো বুঝা যায় যে মেয়ে তার প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে।
অবনি;; জ্বি না। আইরাতকে হারে হারে চিনি। ও এইসবে নেই। ও প্রেম করার মতো মেয়ে না আর ও রিলেশন করবে আমরা কেউ জানবো না এমনটা হতেই পারে না। এটা কিডন্যাপিং ক্যাস আর যে কিডন্যাপ করেছে সেই হয়তো এটা লিখেছে।
অফিসার;; আপনারা এতো সিওর কীভাবে হলেন?
নিলয়;; এটা তো বুঝা যায়। রাত-বিরাতে এভাবে একটা মেয়ে উধাও। প্লিজ খুঁজুন ওকে।
অফিসার;; আপনারা কে হন উনার?
তৌফিক;; আমি আর অবনি আইরাতের ফ্রেন্ড।
নিলয়;; আর আমি ওর কাজিন হই।
অফিসার;; মেয়ে মিসিং একদিন হয়েছে?
নিলয়;; না, আর আমরা সব জায়গায় খুঁজেছি সব ট্রাই-ই করেছে কিন্তু পাই নি। অবশেষে উপায় না পেয়ে এখানে এসেছি।
অবনি;; এবার আইরাত কে খোঁজার দায়িত্ব আপনাদের বুঝেছেন। (কিছুটা রেগে)
অফিসার;; এখানে সাইন করে দিন। আমরা আমাদের যথা সম্ভব চেষ্টা করবো উনাকে খোঁজার।
তৌফিক ফাইলে সাইন করে দেয়। তারপর চলে আসে। বাসায় এসে অনামিকা কে অনেক বোঝায়। অনামিকা তো প্রায় কেদেই দিয়েছেন মেয়ের চিন্তায়। অবনি দিয়া সবাই মিলে অনেক বুঝায়, সেদিন রাতে অবনি-সাবিলা আর নিলয় অনামিকার সাথেই রাতে থেকে যায়।
অন্যদিকে আব্রাহাম আইরাতকে নিয়ে সেখান থেকে এসে পরেছে। গাড়িতে আইরাত একদম মন মরা হয়ে বসে ছিলো। আব্রাহামের গেস্ট হাউজে চলে যায়। দেখতে দেখতেই বেশ রাত হয়ে যায়। আইরাত আব্রাহাম কে কিছু না বলেই রুমে চলে গিয়েছে। বেশ অনেকক্ষন সময় হলো বের হবার নাম নেই। আব্রাহাম আইরাতের রুমে যায় গিয়ে দেখে আইরাত জানালার কাছে হাত-পা গুজে দিয়ে বসে আছে। দরজা খোলার শব্দ পেয়ে মাথা ঘুড়িয়ে দেখে আব্রাহাম এসেছে।
আব্রাহাম;; তুমি এখনো ফ্রেশ হও নি। কাবার্ডে কাপড় আছে চেঞ্জ করে এসো আর হ্যাঁ শুনো আমি কিছু কাজে বাইরে যাচ্ছি। ফিরতে একটু দেরি হতে পারে। ততক্ষণ এখানেই থাকবে তুমি। সবদিকেই আমার গার্ড রয়েছে।
আব্রাহাম আইরাতের সামনে বসে পরে। আইরাতের বাহু ধরে নিজের দিকে টান দেয়। আইরাত তার কাছে এসে পরে,, আব্রাহাম আইরাতের চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে...
আব্রাহাম;; আমি যাচ্ছি তবে তুমি এখান থেকে যাবে না। ভূলেও এখান থেকে পালানোর চেষ্টা করো না ওকে।
হঠাৎ আব্রাহামের চোখ যায় আইরাতের ঠোঁটজোড়ার দিকে। ক্রমশ সে আইরাতের ঠোঁটের দিকে এগোতে লাগে। আইরাত তা বুঝতে পারে ঠিকই তবে নড়তে পারছে না কেননা আব্রাহাম তার হাত দিয়ে আইরাতের মুখ টা ধরে রেখেছে। আব্রাহাম এগোতে এগোতে বেশ কাছে এসে পরে আইরাতের। যেই না ঠোঁটের কাছে আসবে তখনই আইরাত ঝট করে ঘাড় ঘুড়িয়ে ফেলে। তা দেখে আব্রাহাম মুচকি হাসে। আইরাতের গালে জোরে চুমু দিয়ে দেয়।
আব্রাহাম;; আমি আসি।
এই বলেই আব্রাহাম রুম থেকে বাইরে বের হতে যাবে তবে আবার দরজাতে থেমে যায়।
আব্রাহাম;; জানপাখি!
আইরাত তার দিকে তাকায়।
আব্রাহাম;; ভূল করেও এখান থেকে পালাতে যেও না কিন্তু।
আব্রাহাম চলে আসে। আর আইরাত বিছানার ওপর বসে পরে। ভালো লাগছে না কিছুতেই। একজন মেয়ে স্টাফ এসে আইরাতের রুমে চ্যাক করে যায় যে তার কিছু লাগবে কিনা। আইরাত মানা করে দেয়। উঠে গিয়ে বড়ো থাই গ্লাস টা সরিয়ে দেয়। এখান থেকে রাতের বেলা বাইরের দৃশ্যটা অদ্ভুত রকমের সুন্দর দেখতে। সুউচ্চ দালানকোঠা গুলো দেখা যাচ্ছে। তাতে হরেক রকমের লাইট গুলো দূর থেকে মুক্তোর ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। বেশ আওয়াজ পেয়ে ওপরের রুম থেকে আইরাত নিচে তাকায়। দেখে আব্রাহাম তার প্যান্টের পেছনে রিভলবার নিয়ে সিড়ি বেয়ে বাইরে বের হচ্ছে। গার্ড রা মেইন গেট খুলে দিলে গাড়িতে ওঠে সে গেস্ট হাউজ থেকে বের হয়ে পরে।
আইরাত;; আল্লাহ জানেন আবার কার জীবন নিতে যাচ্ছে এই ছেলে।
আইরাত ভেতরে এসে পরে। তারপর প্রায় দেড় ঘন্টা মতো সময় চলে যায়। তবে রুমে বসে বসে তো আর ভালো লাগছে না। যাই হোক এখান থেকে যেতে হবে, দূরে যেতে হবে এই জায়গা থেকে নয়তো দম বন্ধ হয়ে এখানেই মরে যাবে সে। আইরাত খুব কষ্টে কিছু সাহস জুগিয়ে নেয়। তারপর রুমের দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে পরে। রুমের বাইরে বের হয়েই নিজের চারিদিকে ভালো ভাবে লক্ষ্য করে নেয়। খুব লুকিয়ে-চুরিয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখতে হবে। কোন স্টাফ বা কোন গার্ডের নজরে যদি একবার পরে যায় তাহলে সব ভেস্তে যাবে। আইরাত খুব সাবধানে গেস্ট হাউজের হলরুমে এসে পরে। আরো কয়েক কদম সামনে এগোতেই দুজন গার্ড কে আসতে দেখে দ্রুত একটা দেওয়ালের পেছনে লুকিয়ে পরে। গার্ড গুলো চলে গেলে আইরাত আবার বাইরে বের হয়। কোন রকমে হলরুম টা পেরিয়ে যেই না বাইরে আসতে নিবে তখনই গার্ড দের মুখে শুনতে পায় যে আব্রাহামের এসে পরার সময় হয়ে গেছে। এটা শুনেই তো আইরাতের ধুকপুকানি শুরু হয়ে গেছে। ব্যাপার টা কিছুটা এমন যে একটা রাজপ্রাসাদে একজন মেয়ে কে আটকিয়ে রেখেছে এক রাগি ভূত। আব্রাহাম ভূত। দেখলেই বা ধরে ফেললেই ঘাড় মটকে দিবে। এই গেস্ট হাউজে আইরাত দুদিন এসেছে। একদিম আব্রাহাম ডেকেছিলো আর এখন আব্রাহাম সোজা তুলে নিয়ে এসেছে। কখনোই এই পুরো গেস্ট হাউজ টা ঘুড়ে দেখা হয়নি তার। আর বাইরে থেকেই দেখে বুঝা যায় যে এটা অনেক বড়ো সড়ো একটা প্লেস।
আইরাত;; যা করার সব আব্রাহাম আসার আগেই করতে হবে। কারণ ও একবার এসে পরলে আমার আর জীবনে এখান থেকে বের হওয়া হবে না। দ্রুত বের হতে হবে। কিন্তু বাইরে যাওয়ার মেইন গেইট কোনটা। যে গেইয় টা দিয়ে আব্রাহাম বাইরে গিয়েছে তা দিয়ে এখন আমার বাইরে যাওয়া অসম্ভব প্রায়। কারণ কমপক্ষে দশ জন গার্ড সেখানে পাহারায় আছে। আর আব্রাহামের পারমিশন ছাড়া আমার বাইরে যাওয়া তো দূর কোন গার্ড আমার সাথে কথাও বলবে না। কি যে করি আমি!
আইরাত একরাশ দুঃখ আর রাগ নিয়ে সামনে এগোচ্ছে৷ হাঁটতে হাঁটতে কিছুটা দূরে এসে পরে। আইরাত বুঝতে পারছে না যে আসলে কোন দিকে যাবে। এ যেনো এক ভুলভুলাইয়া। একদিক যেতে আরেক দিক চলে যায়। এখন আইরাত যেখানে আছে সেখানে ল্যাম্পপোস্টের মতো ২-৩ টা বড়ো বাতি আছে। তবে বেশ অন্ধকারও বটে। মাঝখান দিয়ে যাওয়ার রাস্তা আর দুপাশে বড়ো বড়ো গাছ।গাছগুলো কে ছাটাই-বাটাই করে সুন্দর আকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আইরাত;; আর কতো হাঁটবো আমি। বাপরে বাপ এতো বড়ো বাড়ি কার হয়! এই যে হাঁটছি। কখন বাইরের রাস্তা পাবো আমি, কখন বাইরে যাবো। বেশ সময় হয়ে গেছে। আব্রাহাম আবার এসে পরে নি তো। আমাকে যেতে হবে।
আনমনেই এগুলো বলে আইরাত আবার পা বাড়ায় সামনে। এভাবে যেতে যেতে এক সময় হুট করেই চারিপাশে অন্ধকার নেমে আসে। ধুপ করে সবদিকে কালো হয়ে যায়। আইরাত শুকনো ঢোক গিলে। কারণ অন্ধকার তার সহ্য হয় না। পরমূহুর্তেই আবার একপাশে কিছু সাদা বাতি জ্বলে ওঠে আরেক পাশে থাকা আর্টিফিশিয়াল মশালে আগুন জ্বলে ওঠে। তাতে আলো-আধারে বেশ মুগ্ধকর লাগছে। তবে আইরাত কেনো যেনো থেমে পরে। গা কেমন ছমছম করে ওঠে। মনে হচ্ছে আইরাত কে কেউ ফলো করছে, কেউ তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে। কেমন এক ভয় কাজ করছে। আইরাত আর দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে ফট করে নিজের পেছনে ঘুড়ে তাকায়। তাকাতেই কারো বুকের সাথে ধাক্কা খায়। দেখে স্বয়ং আব্রাহাম দাঁড়িয়ে আছে। সোজা কথা ভয়ে আইরাতের শরীরের শিরদাঁড়া সব দাঁড়িয়ে পরেছে। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। যেনো এই মূহুর্তে আইরাতের সব উপস্থিত বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। আব্রাহাম ভাবলেশহীন ভাবে এক ভ্রু উঁচু করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে৷
আব্রাহাম;; Are you lost Babygirl...!
আইরাত কিছু বলবে তার আগেই আব্রাহাম আইরাতের কোমড়ে ধরে এক টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে। তার ঘাড়ের এক সাইডে নিজের আঙুল দিয়ে প্রেস করে সাথেসাথে আইরাত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আব্রাহামের বুকেই পরে থাকে। আব্রাহাম আইরাতকে নিজের কাধে তুলে আবার ভেতরের দিকে হাঁটা দেয়।
।
।
।
।
চলবে~~