#নেশাক্ত_ভালোবাসা
#Season_2
#লেখিকাঃ Tamanna Islam
#পর্বঃ ৩৯
এই মূহুর্তে থমকে গেছে সবকিছুই। কেমন যেনো নিস্তেজ সব। কেমন নিষ্প্রাণ, রাস্তার আনাচে কানাচে সবদিকেই প্রচুর মানুষ। সবার মাঝে কেমন এক গম্ভীরতার ছাপ। তখনই কয়েকটা ফরেইন পুলিশের গাড়ি রেড এলার্ট বাজিয়ে আসে। সব জায়গায় কেমন এক হৈচৈ পরে গেছে। পুলিশ অফিসার মুখের কাছে মুঠোফোন এনে দ্রুত এম্বুলেন্স কে ফোন করে। আর এইদিকের রাস্তা পুরো বন্ধ করে দিতে বলে। চারিপাশে শুধু পুলিশের এলার্ট বাজানোর শব্দ। আব্রাহামের গার্ড"রা সব মানুষ কে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। যে জায়গায় এক্সিডেন্ট হয়েছে অর্থাৎ এক্সিডেন্ট স্পোট সেখানে বাউন্ডারি দিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ এর ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। আর এই সবকিছুর ঠিক মাঝে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে আব্রাহাম। তার কান দিয়ে যেনো কোন কথাই যাচ্ছে না, কারো কোন কথাই শুনছে না সে। নিজের আশেপাশের সবকিছুই কেমন সাদা-কালো দেখাচ্ছে তার কাছে। সবকিছুই তার দৃষ্টির বাইরে চলে গেছে শুধু আইরাতের গাড়ির এক্সিডেন্ট আর বাইরে বের হয়ে থাকা তার রক্তমাখা হাত টা বাদে। অগোচরেই আব্রাহামের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরে এক ফোটা নোনাজল। বুকটা যেনো ভেঙে মূহুর্তেই চুরমার হয়ে গেলো। আব্রাহাম কাপা কাপা পায়ে কয়েক কদম এগিয়ে যায় কিন্ত পারে না। পা যেনো আর চলে না। তখনই একটা বিশাল আকারের গাড়ি এসে এক্সিডেন্ট করা গাড়ির পেছনে দাঁড়ায়। উল্টে যাওয়া গাড়ি উঠিয়ে আস্তে করে ঘুড়িয়ে দেয়। এতে গাড়ি সোজা হয়ে যায় এবং উইন্ড দিয়ে আইরাতের মুখ টা স্পষ্ট দেখা যায়। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে তার, কপালের বেশ অংশ কেটে গেছে, গলার পাশে ফর্সা দিকটায় খানিক কাচ ঢুকে আছে, সেখান থেকে বেয়ে বেয়ে রক্ত ঝড়ছে। নাক-ঠোঁটের কাছে রক্ত। হাতের অনেক জায়গায় ক্ষত। রক্তে দুহাত লাল আর তাতে আইরাত চোখ বন্ধ করে নিস্তেজ হয়ে ড্রাইভিং সীটে বসে আছে। এতোই জোরে ধাল্লা লেগেছে যে সীট বেল্ট টা ছিড়েই গিয়েছে। আইরাত ড্রাইভিং করছিলো। কিন্তু সাইড মিররে সে দেখে যে একটা কালো গাড়ি তাকে ফলো করছে অনেকক্ষন যাবত। আইরাত যেদিকে গাড়ি মুভ করছে সেই গাড়ি টাও ঠিক সেইদিকেই যাচ্ছে। আইরাত তা দেখে খানিক কপাল কুচকায়। অতঃপর গাড়ি ইউ টার্ন নিয়ে অন্য এক খোলা রোডে নিয়ে চলে যায়। তখনই সেই গাড়িটা তাদের স্পীড বাড়িয়ে দিয়ে আইরাতের গাড়ি কে পেছন থেকে দেয় এক ধক্কা মেরে। ব্রেকের ওপর থেকে নিজের কন্ট্রোল সরে গেলে পরমূহুর্তেই সামনে দানব আকৃতির একটা ট্রাক আসে। ভর পেয়ে আইরাত স্টেয়ারিং এর ওপর থেকে দুহাত উঠিয়ে দিয়ে নিজের সামনে ধরে। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয় না। খারপ ভাবে তার এক্সিডেন্ট হয়। আর দরুন গাড়ি আধো ভাঙা হয়ে যায় আর উল্টে পরে যায়। অনেক ক্র্যাশ খেয়েছে। দূর থেকেই আইরাত কে গাড়ির ভেতরে দেখা যাচ্ছে রক্তাক্ত অবস্থায়। আর আইরাত কে এমন অবস্থায় দেখে আব্রাহাম এক পাগল উন্মাদ হয়ে গেলো। নিজেকে আর নিজের মাঝে খুঁজে পাচ্ছে না সে। আইরাতের এত্তো বড়ো একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে তা যেনো মেনেই নিতে পারছে না আব্রাহাম। বলতে ইচ্ছে করছে যে সে যা এই মূহুর্তে দেখছে তা সম্পূর্ণই মিথ্যে। এভাবে আর থাকতে না পেরে আব্রাহাম চিল্লিয়ে ওঠে...
আব্রাহাম;; আইরায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়াত!!
বিকট এক চিৎকার দিয়ে আব্রাহাম দৌড়ে আইরাতের গাড়ির দিকে যেতে লাগে। তবে একজন গার্ড এসে আব্রাহাম কে আটকে দেয়।
গার্ড;; স্যার স্যার প্লিজ স্যার নিজেকে সামলান স্যার প্লিজ। সেখানে যাওয়া টা ঠিক হবে বলে মনে হয় না স্যার প্লিজ স্যার।
আব্রাহাম গার্ড কে দেয় এক ধাক্কা। তাকে সরিয়ে দিয়ে আব্রাহাম আবার ছুটে চলে যায়। আব্রাহামের যাওয়ার আগে একজন পুলিশ অফিসার এসে আইরাতের গাড়ির দরজা খুলে দেয়। সীট থেকে বাইরে পাশে পরে যেতে ধরলে আব্রাহাম ছুটে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে আইরাত কে খপ করে ধরে ফেলে। আইরাত পরে যায় আব্রাহামের বুকের ওপর। আব্রাহাম পুরো আষ্ঠেপৃষ্ঠে আইরাত কে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকে। মূহুর্তেই আইরাতের রক্তে আব্রাহামের পরনে থাকা সাদা শার্ট টা ভিজে গাঢ় লাল হয়ে যায়। আব্রাহামের হিতাহিত জ্ঞান নেই আজ-এখন। নিজের বাহুতে আইরাতের মাথা টা নিয়ে নেয়। হাত দিয়ে তার মুখে আছড়ে পরা চুলগুলো সরিয়ে দেয়। আইরাতের গালে ধরে ধরে চিল্লিয়ে যাচ্ছে।
আব্রাহাম;; আইরাত, আইরাত বেবিগার্ল। আইরাত জান আমার চোখ খুলো প্লিজ। আইরাত আমাকে শুনতে পারো কি তুমি আইরাত। আইরাত চোখ খুলো, আইরাত। আমার দোষ সব আমার দোষ। আমি কেনো, কেনো আমি তোমাকে বাইরে বের হতে দিলাম। আমি তো ভেবেছিলাম যে তুমি হোটেলের কোথাও-ই ঘুরবে আমি তো, আমি, আমি তো জানি না যে তুমি বাইরে আসবে। গার্ড নিয়ে সাথে কেনো এলে না। আইরাত আমি মরে যাবো আইরাত আমি সোজা মরে যাবো। আমি এক জীবন্ত লাশ হয়ে যাবো আইরাত। আইরাত আমাকে এভাবে প্লিজ মেরে ফেলো না তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না, যেতে পারো না। তুমি চলে গেলে আমার মরণ ছাড়া কোন উপায়ই থাকবে না আর আইরাত। আইরাত বেবিগার্ল চোখ খুলো প্লিজ। আইরাত জান আমার কথা বলো। আইরায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়াত।
আব্রাহামের আশেপাশে কোন খেয়ালই নেই আজ। পাগল হয়ে আইরাতের ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিজের বাহুতে নিয়ে পাগলের মতো চিল্লিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ অফিসার রা চেয়েও কিছুই বলতে পারছে না। কারণ অবস্থা টাই হাতের বাইরে। আব্রাহাম কে কেউ আজ পর্যন্ত এমন করতে দেখে নি কখনোই না। তাতে যত বড়োই কান্ড হয়ে যাক না কেনো। কেউ আজ পর্যন্ত আব্রাহাম কে এমন করতে দেখে নি। এতো স্ট্রোং একজন মানুষ কে এভাবে ভেঙে পরতে দেখে কারই না খারাপ লাগবে। কেউ কিছু বলতে চেয়েও পারছে না। গার্ড রা সবাই আফসোস নিয়ে তাকিয়ে আছে। তখনই এম্বুলেন্স আসে। দ্রুত আইরাত কে হস্পিটালাইসড করতে হবে। ওয়ার্ড বয় রা এসে যেই না আইরাত কে ধরে এম্বুলেন্সের ভেতরে নিয়ে যেতে ধরবে তখন আব্রাহাম রেগে আগুন হয়ে যায়। সে উঠে আইরাত কে পাজাকোলে তুলে নেয়। তারপর দ্রুত গিয়ে নিজের গাড়িতে তুলে নেয়। এম্বুলেন্সে আইরাত কে সে উঠতে দিবে না। আইরাত কে দ্রুত বসিয়ে সেও শার্টের হাতা গুলো আরো গুটিয়ে নিতে নিতে গাড়িতে এসে ড্রাইভিং সীটে উঠে বসে পরে। রক্তে আব্রাহামের সাদা শার্ট শেষ। আইরাত অজ্ঞান হয়ে তার পাশেই বসে আছে। ঝড়ের গতিতে আব্রাহাম গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। এম্বুলেন্সের ওপরে আব্রাহামের বিশ্বাস নেই যদি একবার ট্রাফিং জ্যামে পরে যায় তাহলে শেষ। আর জ্যামে আটকে বসে থাকবে সেই সময় টুকু এখন আইরাতের কাছে নেই। আব্রাহাম ড্রাইভ করছে আর আইরাতের দিকে তাকাচ্ছে। আইরাত কে তার এক হাত দিয়ে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে। এই মূহুর্তে আব্রাহামের প্রচুর কান্না পাচ্ছে কিন্তু কান্না করছে না। একহাত দিয়ে আইরাত কে বুকে জড়িয়ে ধরে আরেক হাত দিয়ে তীব্র গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। এক ঘন্টার রাস্তা মাত্র বিশ মিনিটে পাড়ি দিয়ে এসেছে সে। হস্পিটালের সামনে গাড়ি থামতেই আব্রাহাম আইরাত কে সীটে আস্তে করে বসিয়ে নিজে চট জলদি গাড়ি থেকে নেমে পরে। আইরাতের পাশে দরজা খুলে আবার তাকে পাজাকোলে তুলে নেয়। আব্রাহাম কে এই অবস্থায় দেখেই আশেপাশের মানুষ পুরো 'থ'। গলা ফাটিয়ে "ডক্টর" কে ডেকে ডেকে হস্পিটালের ভেতরে যাচ্ছে আব্রাহাম। ভাগ্য ভালো হস্পিটালে তখন সিনিয়র ডক্টর ছিলো৷ এভাবে কারো গলা শুনেই পুরো হস্পিটালের মানুষ জড়ো হয়ে গেছে। আর আব্রাহামের কোলে এভাবে একটা মেয়েকে রক্তমাখা অবস্থায় দেখে ডক্টর তড়িঘড়ি করে তার কাছে পৌঁছে যায়।
ডক্টর;; Abraham sir, what happened to her?
আব্রাহাম;; She had a bad accident, check her out...
ডক্টর দ্রুত একটা বেড নিয়ে এসে তাতে আইরাত কে শুইয়ে দিয়ে নিয়ে যায়। একজন নার্স এসে আব্রাহাম কে কিছু শান্তনা পূর্ন কথা বলে যায়। আইরাতের অবস্থা প্রচুর ক্রিটিকাল। রক্তক্ষরণ হয়েছে অনেক। তাকে আইসিইউ তে নিয়ে যাওয়া হয় (ইমারজেন্সি)। আব্রাহাম আইরাত কে নিয়ে ভয়ে ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে গেছে। এক হাত কোমড়ে রেখে আরেক হাতের উল্টো পাশ দিয়ে কপালের পাশে জমে থাকা ঘাম বিন্দু টুকু মুছে নেয়। আইরাত কে যে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার দরজাতে বড়ো আকারের একটা কাচের গ্লাস দেওয়া ছিলো। যা দ্বারা ভেতরের সবকিছুই দেখা যায়। আব্রাহাম কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে কাচের গ্লাস দিয়ে ভেতরে দেখতে লাগে। আইরাতের অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। নার্স আর ডক্টর রা ছুটে ছুটে কাজ করছে। তুলি দিয়ে ব্লাড গুলো পরিষ্কার করছে। আর আব্রাহাম এগুলো উইন্ড গ্লাস দিয়ে দেখছে। নিজের ভেতরে যেনো ঝড় বয়ে যাচ্ছে আব্রাহামের। আইরাত কে আব্রাহাম কি পরিমান ভালোবাসে তা ভাষায় প্রকাশ করা বড্ড বেশিই দায়। অনেক কষ্টে পাওয়া আইরাত কে তার, হারাতে চায় না। হারিয়ে গেলে হয়তো সেইদিনই নিজের মৃত্যু কে স্বজ্ঞানে বরণ করে নিতে হবে আব্রাহামের। আব্রাহাম কল্পনাতেও ভাবে নি যে একদিন আইরাত কে সে এই হালে খুঁজে পাবে। নিজেকে বড়ো একা লাগছে আজ। খুব বেশিই খারাপ লাগছে। সবকিছু দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে। এভাবে আর থাকতে না পেরে আব্রাহাম তার হাতের উল্টো পাশ দিয়ে মুখে চেপে ধরে কেদে দেয়। কথায় বলে যত কঠিন অবস্থাই হোক না কেনো ছেলে দের নাকি কাদতে নেই। কিন্তু এটা ভুলে যায় যে ছেলেরাও মানুষ, ফিলিংস তাদেরও আছে। আব্রাহামের চোখ দিয়ে অঝোড় ধারায় পানি গড়িয়ে পরছে৷ খুব করে কাদছে সে। ভয় সবদিক থেকে বাজেভাবে গ্রাস করে নিয়েছে তাকে, আইরাত কে হারানোর ভয়। আব্রাহাম বসে পরে ধপ করে। দুহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে নিচু হয়ে যায়। আব্রাহাম কাদছে ভাবতেই কেমন একটা মায়া কাজ করে। কাকতালীয় ভাবে তখন আব্রাহামের দাদি ইলা ফোন করে বসে তার কাছে। ফোন কয়েক বার বেজে কেটে যায় আপনা আপনিই । কেননা এখন কোন রকম কোন কথা বলার অবস্থায় আব্রাহাম নেই, তার তেমন মন-মানসিকতা বিদ্যমান নেই এখন। ৩য় বারের সময় ফোন বের করে সামনে আনতেই দেখে তার দাদি ইলা। আব্রাহাম যথা সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। বাসায় কাউকে ভুল করেও এইসবের বিষয়ে জানতে দেওয়া যাবে না তাহলে ওদিকে সবার নাজেহাল দশা হয়ে যাবে। ডান হাতে ফোন নিয়ে বাম হাত দিয়ে দুচোখ মুছে নেয়। স্বাভাবিক হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে ফোন রিসিভ করে কানে ধরে।
আব্রাহাম;; হ হ হ্য হ্যালো...
ইলা;; হ্যালো আব্রাহাম সোনা কেমন আছিস? আসলে কি আমি জানি যে তোরা দুই ল্যায়লা-মাজনু একই সাথে আছিস কিন্তু কি করবো বল কথা বলতে ইচ্ছে করে তো তাই ফোন দিয়ে বসলাম। আচ্ছা কেমন আছিস তোরা? কি করিস? খাওয়া-দাওয়া ঠিক ভাবে করছিস তো? শোন আইরাতের মা অনামিকা কে না আমি এনে পরেছি আমাদের বাসায়। কারণ সেও তার বাড়িতে একা আর আমিও একা। একা একা আর কি করবো তাই নিয়ে এসে পরেছি। ভালো করেছি না বল! যাই হোক আইরাত কোথায় রে? কেমন আছে ও? আচ্ছা তোর সাথেই পরে কথা বলবো আগে আইরাত কে দে তো দেখি। আমি ওকে মিস করি খুব। কথা বলবো দে দে আগে ওকে দে।
আব্রাহাম;; দ দ দাদি, দাদি আস আসলে আমি তো একটু বাইরে এসেছি তো। আমি বাসায় নেই। আমি য য যক যখন বাসায় যাবো তখন আ আই আ আইরাতের সাথে কথা বলিয়ে দিবো তোমার।
ইলা;; আব্রাহাম! সোনা কি হয়েছে তোর! গলা এমন শোনাচ্ছে কেনো? ঠিক আছিস তো তুই?
আব্রাহামের চোখ আর বাধ মানছে না এখন।
আব্রাহাম;; হ্যাঁ হ্যাঁ আমার বুড়ি আমি, আমি ঠিক আছি একদম। আর ওইতো আইরাত, আইরাত আর আমি মিলে না অ অ অনেক আইসক্রিম একসাথে খেয়ে নিয়েছিলাম তো তাই, তাই আর কি গলা এমন শোনাচ্ছে ভেঙে গিয়েছে। ঠিক আছি আমি।
ইলা;; ধুর তোরা দুটো কি যে করিস না। বড়ো হবি কবে তোরা। আইরাতের সাথে সাথে তুইও ছেলেমানুষী আর ছাড়লি না। আচ্ছা শোন ভালো থাকিস। আর আমার আইরাত কে জ্বালাতন করবি না। ওকে দেখে রাখবি। একটা আচড়ও যেনো ওর ওপরে না আসে বুঝেছিস!
আব্রাহাম;; আমার ক্ষমা করো দাদি, আমি ব্যার্থ। তোমার কথার মূল্য আমি রাখতে পারি নি।
ইলা;; আব্রাহাম!
আব্রাহাম;; ভালো থেকো আমার বুড়ি।
এই বলেই আব্রাহাম ফোন কেটে দেয়, কেদে দেয়।
ফোনের ওয়ালপেপারে আইরাতের ছবি ভাসছে। বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে তাতে ছুইয়ে দিচ্ছে। আব্রাহাম নিজের দিকে তাকায়। নিজের গায়ে আইরাতের রক্ত। চোখ বন্ধ করে বড়ো বড়ো বেশকিছু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে। তখনই আব্রাহামের মাথায় তায়াফের খেয়াল আসে আর যে লোকগুলো আইরাতের এক্সিডেন্ট করিয়েছে তাদের কথা আসে। আব্রাহামের মাঝে এখন কোন ভাব নেই। রাগ এতো টাই বেড়ে গিয়েছে যে সে রিয়েক্ট করতেই ভুলে গেছে। কিছু সময় পর আইরাতের কেবিন থেকে একজন নার্স বের হয়ে আসে আব্রাহামের কাছে চলে যায়।
নার্স;; স্যার, স্যার।
আব্রাহাম চোখ তুলে নার্সের দিকে তাকায়। তবে আব্রাহাম যে দেখে নার্সের নিজেরই ভয়ে গা হীম হয়ে আসে, শুকনো ঢোক গিলে। আব্রাহামের চোখ গাঢ় লাল। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে রাগে থরথর করে কাপছে সে। কপালের, হাতের রগগুলো কেমন ফুলে গেছে। নার্স কিছু না বলেই আবার সোজা কেবিনের ভেতরে চলে যায়। তার পরেই ডক্টর বাইরে আসে।
ডক্টর;; আব্রাহাম স্যার!
আব্রাহাম;; জ্বি।
ডক্টর;; ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড আমি কি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি!
আব্রাহাম;; হুয়াট?
ডক্টর;; মেয়েটা আপনার কে হয়?
আব্রাহাম;; আমার বউ, আমার পুরো দুনিয়া ওই মেয়ে।
আব্রাহামের কথা শুনে ডক্টর বেশ অবাকই হয়।
ডক্টর;; জ্বি ধন্যবাদ। আসলে ম্যামের অনেক রক্ত গিয়েছে। রক্ত লাগবে।
আব্রাহাম;; আমার আর আইরাতের ব্লাড গ্রুপ সেইম।
আব্রাহাম মাথা তুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে ডক্টরের দিকে তাকায়।
আব্রাহাম;; দরকার পরলে আমার বডির পুরো ব্লাড আপনি নিয়ে নিন কিন্তু যে করেই হোক যেভাবেই হোক আমার আইরাত সেইফ থাকা চাই। তাকে একদম সুস্থ চাই আমার, ডু ইউ গেট দ্যাট!
ডক্টর;; জ জ্ব জ্বি স্যার।
আব্রাহাম কে নিয়ে একটা কেবিনে চলে যায় ডক্টর। প্রায় তিন ব্যাগ রক্ত নেওয়া হয়েছে আব্রাহামের বডি থেকে। বর্তমানে আইরাত কে হস্পিটালের ড্রেস পরিয়ে দিয়ে রেখেছে। হাতে ব্লাডের কানেকশন দিয়ে রাখা হয়েছে। কপালে-গালে ব্যান্ডেজ করা। গলার দিক টায় যেখানে কাচ বিধে ছিলো সেখানে বড়ো ব্যান্ডেজ রয়েছে। ঠোঁটের পাশে বেশ টুকু কেটে গিয়েছে। আব্রাহাম এক নজর আইরাত কে দেখে দ্রুত পা ফেলে হস্পিটাল থেকে বের হয়ে পরে। সবাই কে, সবাই কে এত্তো পরিমাণে জঘন্য-বিচ্ছিরি মৃত্যু আব্রাহাম দিবে যে তাদের মরণ দেখে রাস্তার কুকুর অব্দি কাদবে। সব ধ্বংস করে দিবে। পুরো হস্পিটালের বাইরে কমপক্ষে শত গার্ড দিয়ে রেখেছে। সিনিয়র থেকে সিনিয়র ডক্টর দের ডেকেছে আব্রাহাম আইরাতের ট্রিটমেন্টের জন্য। হস্পিটালের বাইরে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসে পরে। আইরাতের রক্ত মাখা শার্ট টা আর খুলে না আব্রাহাম তার গা থেকে। তার ওপরেই হুডি টা পরে নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে যায়। মুখে কোন হাবভাব নেই তার। প্রচন্ডরকম ভাবে রেগে আছে। এমনকি তার রাগের ভয়ে কেউ তার সাথে ঠিক ভাবে কথাও বলে নি। আব্রাহাম চলে যায়, আজ পুরো কিয়ামত হয়ে যাবে।
।
।
।
।
চলবে~~