#মেঘবরণ_প্রেম
পর্ব - ০৭
লেখা - আসফিয়া রহমান
অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌
অনিন্দিতারা নতুন বাসায় উঠেছে গতকালই। সারাদিন ধরে মালপত্র তোলা, ফার্নিচার সেট করা, জায়গামতো জিনিসপত্র ঠেলাঠেলি করে রাখা— সব মিলিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল সবাই। তাই আর অন্যান্য গোছগাছ হয়ে ওঠেনি। আজ সারাটা দিন তিনজনে মিলে পুরো বাসাটা গুছিয়ে উঠতে উঠতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সূর্য ডুবি ডুবি করছে। জানালার ফাঁক দিয়ে দিনের শেষ কিরণ ঢুকছে ঘরে।
দিনভর মায়ের সাথে কাজ করে শরীরটা ভীষণ ক্লান্ত অনিন্দিতার, কিন্তু মনটা অস্থির হয়ে আছে অদ্ভুতভাবে। নতুন বাসার পুরোটা দেখা হলেও, ছাদ আর সিঁড়ির দিকটা এখনো দেখা হয়নি ওর।
অর্ক তখন নিজের ঘর বাক্স খুলে বই সাজাচ্ছে। অনিন্দিতা দরজায় এসে দাঁড়ালো, "এই অর্ক, আমাদের ছাদে উঠা যায় না রে?"
ও মাথা না তুলেই উত্তর দিল, “যায় বোধহয়, পেছনের দিকে তো সিঁড়ি আছে দেখেছি।”
“চল না একটু দেখি?”
অর্ক মাথা তুলে তাকিয়ে বলল, “এই সন্ধ্যাবেলায়?"
"হ্যাঁ, ভালো লাগছে না। ছাদে যেতে ইচ্ছা করছে..."
"আমি যাব না। তুমি যাও! বইগুলো গোছাতে হবে আমার, কাল সকাল থেকে কলেজ আছে।"
অর্কের উত্তর শুনে অনিন্দিতা ম্লান মুখে ঘুরে দাঁড়াল। বাইরে থেকে ভেসে আসছে পাখিদের কিচিরমিচির ডাক। ছাদে যাওয়ার জন্য মনটা আনচান করছে ভীষণ। রাবেয়া বেগমকে বলে অনিন্দিতা সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো।
করিডোরের ভেতরটা কমলা আলোয় ঝলমল করছে, দেয়ালে টাঙানো কয়েকটা আর্টফ্রেম আর টবভর্তি গাছের সারি পুরো জায়গাটাকে বেশ শান্ত, গোছানো একটা আবহ দিচ্ছে। সিঁড়ি বেয়ে উঠে সোজা ছাদের খোলা দরজাটার সামনে থামল অনিন্দিতা। সাথে সাথেই এক মুঠো দমকা হাওয়া কোথা থেকে যেন হুড়মুড় করে এসে ছুঁয়ে দিল ওকে।
খোলা চুলগুলো উড়ে এসে গাল ছুঁয়ে গেল, গলায় ঝোলানো ওড়নাটা ফুলে উঠল নিজের মতো করে। অনিন্দিতা বুকভরে শ্বাস টেনে ভেতরে পা বাড়ালো। আকাশে তখন গোধূলির রঙ, সূর্যের শেষ আলো মিশে আছে ধোঁয়াটে নীলের সঙ্গে। ছাদের প্রান্তে সারি সারি টব, ছোট ছোট ফুল ফুটেছে তাতে।
ও ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল ছাদের একপাশে, যেখানে রেলিং পেরিয়ে নিচে দৃশ্যমান হয়েছে পিচঢালা রাস্তা। রিকশার টুং টাং শব্দের সাথে আকাশজুড়ে পাখিদের নীড়ে ফেরার দৃশ্য দেখতে দেখতে অনিন্দিতার চোখে পড়ল পাশের বাসার ছাদে একটা বিড়াল লাফ দিয়ে নেমে গেল পাশের ছাদে। এই শান্ত, উষ্ণ, গোধূলির মৃদু মায়ায় যেন শহরটাও আজ হঠাৎ একটু বেশিই আপন মনে হলো অনিন্দিতার কাছে।
"সন্ধ্যেবেলা এভাবে খোলা চুলে ছাদে দাঁড়িয়ে থেকে ভূত মহাশয়কে নিজের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন নাকি?"
অনিন্দিতা ভয়াবহ চমকে উঠল। এতটাই চমকে উঠল যে মুহূর্তের ভেতরেই আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে রেলিংয়ের ওপারে হেলে পড়ল শরীরটা। বুকের ভেতরে থাকা হৃদপিন্ডটা এক মুহুর্তের জন্য থেমে গিয়ে সেকেন্ডের ব্যবধানে আবার ধক করে উঠল অজানা আশঙ্কায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাহুতে হ্যাঁচকা টান পড়ল মেয়েটার, পরমুহূর্তেই পলকা শরীরটা বন্দি হলো এক শক্তপোক্ত উষ্ণ বাহুডোরে। ভর হারানো শরীরটা তখনও যেন ভারসাম্য ফিরে পায়নি। মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারেনি কী ঘটেছে। থরথরিয়ে কাঁপছে মেয়েটার শরীর। সে নিজের প্রশস্ত বুকটায় মেয়েটাকে আরেকটু চেপে ধরে মাথায় হাত রাখল।
"শান্ত হও, মেয়ে। তুমি ঠিক আছো..."
অনিন্দিতার অবাধ্য হৃদস্পন্দন অনুভব করতে পারছে মানুষটা। মেয়েটা এত ভয় পেয়ে যাবে বুঝতে পারেনি সে। অনিন্দিতা ধীর গতিতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মানুষটার মুখপানে চাইল। তাতেই যেন এবার আরেক দফা চমকে উঠলো দুজনেই। এবারও চমকে উঠে দুকদম পিছিয়ে গেল অনিন্দিতা।
"আপনি?"
মানুষটার অবিলম্বে আবারও ওর বাহু ধরে ফেলল, "আরে, আরে! পেছাচ্ছেন কেন! আবারও পরে যাবেন তো..."
নিজেকে সামলে হাতটা ছাড়িয়ে নিল অনিন্দিতা। তারপর এদিক ওদিক তাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেরালো সামনে দাঁড়ানো পুরুষটার ওপরে, "আপনি এখানে কী করছেন?"
মানুষটাও অনিন্দিতার মতো করে এদিক ওদিক তাকালো। তারপর দৃষ্টি মেলালো মেয়েটার প্রশ্নবোধক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে।
"কেন? অন্য কাউকে আশা করেছিলেন কী?"
"কি আশ্চর্য শুভ্র! এত হেয়ালি করে কথা বলছেন কেন?"
বলতে বলতে অনিন্দিতার যেন আচমকা খেয়াল হলো কিছু একটা। দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে যেয়েও দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগল মেয়েটা। এটা কিভাবে সম্ভব!
'শুভ্রনীড়'-এর 'শুভ্র'ই কি তবে...
হঠাৎ করেই যেন সমস্তটা পরিষ্কার হয়ে গেল ওর সামনে।
ওর চোখ ধীরে ধীরে ফেরত এল শুভ্রর মুখে। মৃদু কাঁপা গলায় বলল, “‘শুভ্রনীড়’-এর ‘শুভ্র’টা তাহলে... শুধু সাধারণ সাদা রঙ বোঝায়নি?”
শুভ্রর চোখে তখন সূর্যাস্তের কমলা আভা ঝলমল করছে। ঠোঁটের কোণে অতি ক্ষীণ এক হাসি খেলে গেল মানুষটার। সেদিকে তাকিয়ে আগেরবারের মতো একইভাবে এক মুহুর্তের জন্য হৃদস্পন্দন থেমে গেল মেয়েটার।
“হয়তো না..."
অনিন্দিতা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। সূর্য ডুবে গেছে। সারাদিন পুরো শহর চষে বেড়ানো পাখির দল, সন্ধ্যে হতে না হতেই তাদের ঘরে ফেরার বড্ড তাড়া। দুজনের মাথার উপর দিয়ে তখন দলবদ্ধ হয়ে উড়ে যাচ্ছে চড়ুই কিংবা শালিকের দল। দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসছে আজানের শেষ সুরটা।
মানুষটার দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনিন্দিতার হঠাৎ করেই মনে পড়ল সেদিন ইরার বলা কথাটা। সাথে সাথেই এতক্ষণের সুখ সুখ-অনুভূতিটা বদলে গেল বিতৃষ্ণায়। দৃষ্টি ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকালো ও।
"চুলগুলো বাঁধুন। নাহলে এবার কিন্তু সত্যি সত্যিই ভূত মশাই আপনার ঘাড়ে চেপে বসবেন..."
অনিন্দিতা চমকে তাকাল শুভ্রর দিকে। ওর ঠোঁটের কোণের মৃদু হাসিটা এখনো বিদ্যমান। সেদিকে এক পলক তাকিয়েই চোখ সরিয়ে নিল মেয়েটা। মৃদুমন্দ বাতাসে ওর চুল উড়ে এসে শুভ্রর কাঁধ ছুঁয়ে যাচ্ছিল ক্রমাগত।
"আপনি ওই ভূতটার খুব পরিচিত বোধহয়?”
মৃদু বিরক্তি মিশে গেল অনিন্দিতার গলায়।
শুভ্র হাসল, "পরিচিত তো বটেই... ভূতটাকে রোজ দেখি তো আমি! এরকম খোলা চুলে কাউকে দেখলে বেচারা খুবই আকৃষ্ট হয়, বুঝলেন..."
অনিন্দিতা চোখ ছোট ছোট করে একবার তাকালো শুভ্রর দিকে, কিছু বলল না। চুপচাপ অবাধ্য চুলগুলোকে পেঁচিয়ে হাত খোঁপা করে নিল। গোধূলির আলো তখন ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে দূর আকাশে। পাখিদের শেষ সারিটা উড়ে চলেছে পশ্চিম আকাশের দিকে, বাতাসে হালকা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব।
“দিনের এই সময়টাতে শহরটা সবচেয়ে সুন্দর লাগে।”
অনিন্দিতা অবাক হয়ে তাকাল শুভ্রর দিকে, “আপনি প্রতিদিন ছাদে ওঠেন এই দৃশ্য দেখতে?”
"সময় পেলেই। এই সাঁঝবেলা-টা আমার বিশেষ পছন্দের..." শুভ্রর গলাটা অদ্ভুত নরম হয়ে এলো, যেন নিজের ভেতরেই কোথাও হারিয়ে গেছে ও।
অনিন্দিতা কিছুক্ষণ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সূর্যাস্তের শেষ আলোটা শুভ্রর চোখদুটোতে অদ্ভুত এক শান্ত দীপ্তি মেলেছে।
“বেশিরভাগ মানুষ তো দিন অথবা রাত ভালোবাসে,” অনিন্দিতা আস্তে করে প্রশ্ন করল, “আপনি সাঁঝ ভালোবাসেন কেন?”
শুভ্র এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। দূরের আকাশে রঙ বদলাতে থাকা মেঘের দিকে তাকিয়ে যেন কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে আপনমনে। তারপর মৃদু স্বরে বলল, “এই অল্প আলোয় পৃথিবীকে সবচেয়ে সত্যি লাগে, অনিন্দিতা। না দিনের মতো ব্যস্ত, না রাতের মতো নির্জন... ব্যস্ততা আর নির্জনতার ঠিক মাঝামাঝি কোথাও…"
ওর কথা শুনে অনিন্দিতা অবচেতনে চোখ ফেরাল গোধূলি-আকাশের দিকে। নরম বাতাসে এলোমেলো খোঁপাটা আলগা হয়ে গেল, একগোছা চুল উড়ে এসে ছুঁয়ে গেল মেয়েলি চিবুক, ছুঁয়ে গেল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার কাঁধ।
অনিন্দিতা হাত তুলে খোঁপাটা ঠিক করতে গিয়ে এক পলক শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থেমে গেল। ছেড়ে দিল অবাধ্য চুলগুলোকে। শুভ্র তখনও একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। আর অনিন্দিতা তাকিয়ে রইল আকাশের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা মানুষটার দিকে— নীরব, নিঃশব্দে।
“জানেন অনিন্দিতা, এই সময়টাতে কেমন করে আলো আর অন্ধকার দুজন দুজনকে আঁকড়ে ধরে তীব্রভাবে?"
অনিন্দিতা চুপচাপ শুনল ওর কথা। শুভ্র ফিরে তাকালো সেইসময়। এতক্ষণের মুগ্ধ দৃষ্টি ছাপিয়ে হঠাৎই মানুষটার দৃষ্টিতে প্রকাশ পেল আসক্তি। অচেনা, অদ্ভুত এক আসক্তি। তীব্র বিমুগ্ধ সে দৃষ্টিটাকে ঠিক কী নামে আখ্যায়িত করা যায় অনিন্দিতার জানা নেই। মানুষটার চোখের ভেতর জমে থাকা হাজারো অনুচ্চারিত বাক্য কোনো রকম আগামবার্তা ছাড়াই এক মুহূর্তে ধ্বনিত হলো নীরবে।
অনিন্দিতা মানুষটার সেই মন্ত্রমুগ্ধের ন্যয় তীব্র দৃষ্টিটা সামলাতে পারল না, তড়িৎগতিতে ফিরিয়ে নিল চোরা দৃষ্টি।
"সেদিন জ্বরের ঘোরে আপনি আমায় একটা প্রশ্ন করেছিলেন, অনিন্দিতা, 'শুভ্র, তুমি চলে যাবে না তো?' মনে আছে আপনার?"
মানুষটার প্রগাঢ় কন্ঠস্বর ফিসফিসিয়ে কর্ণকুহরে বারি খেলেও ভুল করেও ফিরে তাকালো না মেয়েটা। দৃষ্টি লুকিয়ে উদ্যত হলো প্রস্থান ঘটাবার প্রয়াসে। কিন্তু.. কিন্তু.. কিন্তু...! বিশ্বাসঘাতক পা-জোড়া নিজ উদ্যোগেই থেমে গেল সামনে দাঁড়ানো আশ্চর্য পুরষটার আশ্চর্য আবদারে।
"সেদিন আমার কাছে প্রশ্নটার উত্তর ছিল না অনিন্দিতা; কিন্তু আজ আছে। উত্তরটা না শুনেই চলে যাবেন?"
মেয়েটাকে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে ঠোঁট এলিয়ে হাসলো শুভ্র নামের সুদর্শন পুরুষটা। তারপর আগের মতই প্রগাঢ় কন্ঠে ব্যক্ত করল নিজের সদ্য জন্মানো তীব্র থেকেও তীব্রতর অনুভূতিটুকু।
"অনিন্দিতা, আমি আপনার জীবনে স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চাই। আমি থেকে যেতে চাই, আপনার কোমল হৃদয়ের খুব গোপন একটা ছোট্ট কুঠুরিতে। স্থায়ীভাবে বাসা বাঁধতে চাই আপনার ওই ভীষণ জেদি মন-মস্তিস্কে। আমি আপনাকে খুব বিশ্রীভাবে ভালোবেসে ফেলেছি, মেঘফুল... আপনার কোমল হৃদয়ের খুব গোপন একটা ছোট্ট কুঠুরিতে আমাকে এই অল্প একটু জায়গা দেবেন, নন্দিতা?"
অনিন্দিতার হতবিহ্বল নয়নজোড়া স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আবছা অন্ধকারে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্র নামের আশ্চর্য পুরুষটার পানে। এত সহজে এরকম একটা কঠিন আবদার করে ফেলা বোধহয় শুধুমাত্র এই মানুষটার দ্বারাই সম্ভব। অনেক হাতড়িয়েও অনিন্দিতা যখন এই মুহূর্তে দেবার মতো কোনো যুক্তিসঙ্গত কোনো উত্তর খুঁজে পেল না, খানিক দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা তখন দুকদম এগিয়ে এসে দাঁড়ালো একদম সম্মুখে।
"অনিন্দিতা, আপনি রাগ করলেন?"
অনিন্দিতা নত মুখে মাথা নাড়লো দুপাশে। বোঝালো ও রাগ করেনি। তৎক্ষণাৎ মানুষটার স্বস্তির নিঃশ্বাস ভেসে এলো অনিন্দিতার কানে। দ্বিধান্বিত চোখ তুলে অনিন্দিতা দৃষ্টি মেলালো মানুষটার আবদার মাখা নেত্রযুগলে। উত্তরের আশায় কেমন ব্যাকুল দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সে। ইরার কথাগুলো মনে করে অনিন্দিতার দ্বিধা বাড়লো। ওর বুঝে এলো না, প্রেমিকা থাকা সত্ত্বেও এই মানুষটা কেন এরকম একটা কঠিন আবদার করছে ওর কাছে।
অনিন্দিতা চোখ নামিয়ে নিল। ওই চোখে বেশিক্ষণ চেয়ে থাকার সাধ্য নেই ওর। হৃদপিণ্ডটা ধুকপুক করছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। নিজের মন যদি এভাবে মস্তিষ্কের সাথে অনবরত বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে কোন দিকে যাবে ও? কিছু বলার আগে ভেতরে ভেতরে কথাগুলোকে গুছিয়ে নিতে চাইল ও। কিন্তু যতটা গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে, ততটাই যেন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে সবকিছু।
“শুভ্র, আপনি জানেন আপনি কী বলছেন?”
অনিন্দিতার গলার স্বরটা খুবই নিচু, কিন্তু তাতে কাঁপন স্পষ্ট।
শুভ্র মৃদু হেসে মাথা কাত করল, “জানি, অনিন্দিতা। আর এই প্রথমবারের মতো আমার মনে হচ্ছে— আমি জেনে বুঝে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চাইছি..."
অনিন্দিতা নিঃশব্দে পিছিয়ে গেল এক পা।
“আপনার একটা সম্পর্ক আছে, শুভ্র। আপনি কি জানেন, আমি সেটা জানি...?”
To be continued...