ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘবরণ প্রেম

২৪তম পর্ব

লেখক: আসফিয়া রহমান

#মেঘবরণ_প্রেম

পর্ব - ২৪ [১৮+ বা প্রাপ্তমনস্ক এলার্ট 🚫]

লেখা - আসফিয়া রহমান

অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌

[অতিরিক্ত রোমান্স পছন্দ না করলে এই পর্বটি এড়িয়ে

যান ❌]

অনিন্দিতা কোনোমতে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে টালমাটাল পায়ে মঞ্চে গিয়ে বসল। ইরার পাশে বসতেই ইরা চোখ টিপে ফিসফিস করে বলল, "কী ব্যাপার ম্যাডাম! আপনার হারানো মানিক খুঁজে পেয়েছেন? বেচারা সেই কখন থেকে মুখ ফুলিয়ে বসে ছিল আপনার অপেক্ষায়!"

অনিন্দিতা লজ্জায় রাঙা হয়ে ইরার পানে চোখ রাঙালো, "চুপ করবি তুই! তোর মতো তোর ভাইও আস্ত একটা পাগল।"

ইরা হাসতে হাসতে বলল, "পাগল তো হবেই! সাত দিন পর তোর এই রূপ দেখলে তো সুস্থ মানুষেরও মাথা নষ্ট হওয়ার কথা। সেখানে আমার ভাইয়ের দোষ কী!"

অনিন্দিতা কিছু বলল না, শুধু চোখ ফিরিয়ে নিল। হলভর্তি মানুষের মাঝে থেকেও ওর চোখদুটো ঘুরেফিরে বারবার চলে যাচ্ছে সেই এক কোণায়, যেখানে শুভ্র এখন বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত আড্ডায়।

ইরাকে হলুদ লাগানোর পালা। বড়রা একে একে হলুদ লাগানোর পর যখন ছোটদের পালা এলো সোনালী বেগম শুভ্রকে ডাক দিলেন স্টেজে আসার জন্য। শুভ্র বন্ধুদেরকে রেখে এদিকে এগিয়ে এলো।

শুভ্র যখন মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসছে, অনিন্দিতা তখন আষ্টেপৃষ্ঠে জমে আছে এক অদ্ভুত আড়ষ্টতায়। শুভ্রর প্রতিটা পদক্ষেপ যেন আছড়ে পড়ছে ওর হৃৎপিণ্ডের ওপর। শুভ্র যখন ভিড় ঠেলে মঞ্চে উঠে দাঁড়াল, ওর পরনের পাঞ্জাবির গোটানো হাতাটা আলতো করে ছুঁয়ে গেল অনিন্দিতার অনাবৃত বাহু। সেই সামান্য স্পর্শেই অনিন্দিতা অনুভব করল ওর শরীরের ভেতর দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল-- এই তো কিছুক্ষণ আগের সেই তীব্র অনুভূতির স্মৃতি!

সোনালী বেগম হাসিমুখে বললেন, "শুভ্র, তুমি আর অনিন্দিতা দুজন একসাথে ইরাকে হলুদ ছোঁয়াও।"

শুভ্রর ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বাঁকা হাসিটা খেলে গেল আবারও। আড়চোখে অনিন্দিতার দিকে তাকাল ও। মেয়েটা লজ্জায় আর আড়ষ্টতায় শাড়ির আঁচল জড়াচ্ছে চিকন আঙুলের ডগায়। শুভ্র খুব ভদ্রভাবে অনিন্দিতার দিকে চেয়ে বলল, "এসো অনিন্দিতা, শুভকাজে আর দেরি কেন?"

অনিন্দিতা অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাঁপা হাতে হলুদের বাটিটা ধরল। শুভ্র সুযোগ বুঝে বাটি ধরার অছিলায় অনিন্দিতার আঙুলগুলোর ওপর নিজের শক্ত হাতের তালু চেপে ধরল। সবার সামনে এই নীরব দখলদারিত্বে শিউরে উঠল অনিন্দিতা। ও দাঁতে দাঁত চেপে শুভ্রর দিকে তাকাতেই দেখল, শুভ্র খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ইরার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন কিছুই করেনি।

শুভ্র অনিন্দিতার আঙুলগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইরার দুই গালে হলুদ মাখিয়ে দিল। তারপর ভদ্র ছেলের মতো অনিন্দিতার হাতটা ছেড়ে দিয়ে নেমে গেল স্টেজ ছেড়ে। শুভ্রকে চলে যেতে দেখে হাঁফ ছাড়ল অনিন্দিতা। ও নিজেও স্টেজ থেকে নেমে গিয়ে অন্যদেরকে সুযোগ করে দিল।

-----

স্টেজ থেকে নেমে উদ্দেশ্যহীন হেঁটে বেড়াচ্ছে অনিন্দিতা। হঠাৎ করে হাতে হ্যাচকা টান পরল ওর। অনিন্দিতা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখল ও এখন কমিউনিটি সেন্টারের পেছনের সেই অন্ধকার করিডোরে, যেখানে ডেকোরেশনের বাড়তি কাপড়ের আড়ালে একটা নির্জন কোণ তৈরি হয়েছে। ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র-- ওর চোখদুটো যেন জ্যান্ত আগ্নেয়গিরি, আর ঠোঁটজুড়ে সেই মরণাতুর হাসি।

অনিন্দিতা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "শুভ্র... আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? এভাবে কেউ টান মারে! উফ্, কি ভয়টাই না পেয়েছি!"

শুভ্র উত্তর দিল না। ও অনিন্দিতার দুটো হাত ধরে মাথার ওপর দেয়ালে চেপে ধরল। ওর বলিষ্ঠ শরীরের চাপে অনিন্দিতা দেয়াল আর শুভ্রর মাঝখানে পিষ্ট হতে লাগল। শুভ্রর উষ্ণ নিঃশ্বাস এখন সরাসরি অনিন্দিতার গলায় আছড়ে পড়ছে। অনিন্দিতা চমকে উঠে আশেপাশে তাকালো। কেউ নেই এদিকটায়।

অনিন্দিতা এবার কিছুটা শান্ত হওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু শুভ্রর শরীরের তপ্ত আঁচ আর ওর চোখের ওই নেশাতুর দৃষ্টি অনিন্দিতাকে স্থির হতে দিচ্ছিল না। শুভ্র একহাতে ওর কবজি দুটো আরও শক্ত করে চেপে ধরে ওর মুখের খুব কাছে ঝুঁকে এল। অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে ফেলল তৎক্ষণাৎ।

শুভ্র নিজের আরেক হাত অনিন্দিতার বাসন্তী শাড়ি ভেদ করে ধীর গতিতে গলিয়ে দিল উন্মুক্ত মেয়েলি বাঁকানো কোমরে। সহসা কোমর জুড়ে ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূত হতেই অনিন্দিতা কেঁপে উঠে ফট করে চোখ মেলল।

"ক-কী করছেন শু-শুভ্র..?"

"বউকে একটু হলুদ লাগালাম..!"

অনিন্দিতা চোখ বড় বড় করে তাকালো,

"হ-হলুদ ম-মানে?!"

"আমাদের হলুদের তো আরো এক সপ্তাহ বাকি। তর সইছিল না, তাই আজই লাগিয়ে ফেললাম!"

অনিন্দিতার শ্বাসপ্রশ্বাস তখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ও কোনোমতে মাথা নিচু করে নিজের কোমরের দিকে তাকানোর চেষ্টা করল, কিন্তু শুভ্রর বলিষ্ঠ শরীর ওকে দেয়ালের সাথে এমনভাবে চেপে ধরেছে যে নড়ার ক্ষমতাটুকুও নেই। ও শুধু অনুভব করছে, শুভ্রর তপ্ত আঙুলগুলো ওর শাড়ির নিচে নাভির ঠিক পাশ দিয়ে ভিজে হলুদের এক ঠান্ডা প্রলেপ লেপে দিচ্ছে।

"শ-শুভ্র... পি-প্লিজ... কেউ দে-দেখে ফেলবে! আপনি কি সত্যি সত্যিই পাগল হলেন?" অনিন্দিতা মোচড়ামুচড়ি করতে করতে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো শুভ্রর দিকে।

শুভ্র ওর চিবুকটা এক আঙুলে উঁচু করে ধরল। ওর চোখে তখন সেই চিরচেনা বেপরোয়া দৃষ্টি। ও খুব গাঢ় স্বরে বলল, "পাগল তো সাত দিন আগেই হয়েছি, মেঘফুল। ওই যে স্টেজে সবার সামনে সেদিন এই আংটিটা পড়ালে, তারপর থেকেই।"

শুভ্রর আঙুলগুলো থামল না, হলুদের সেই আর্দ্রতাটুকু অনিন্দিতার কোমরের বাঁক ধরে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে গেল। অনিন্দিতার সারা শরীরে এক তীব্র শিরশিরানি বয়ে গেল। ও অনুভব করল, শুভ্রর হাতের স্পর্শ এখন আর কেবল হলুদ মাখানোয় সীমাবদ্ধ নেই; আঙুলগুলো ওর মসৃণ ত্বকের ওপর এঁকে চলেছে এক আদিম নকশা।

অনিন্দিতা ওর অবাধ্য হাতটা আটকাতে চাইল, কিন্তু ওর দুহাত বন্ধ শুভ্রর এক হাতের বাঁধনে। দুই হাত মাথার ওপর দেয়ালের সাথে শুভ্র এমনভাবে পিন করে ধরেছে, যে অনিন্দিতা মোচড়া-মুচড়িটুকুও করতে পারছে না ভালোভাবে। শুভ্রর হাতের আঙুলগুলো এখন শাড়ির নিচে অনিন্দিতার কোমরের বাঁক ছাপিয়ে আরও নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে। হলুদের সেই পিচ্ছিল প্রলেপটা অনিন্দিতার কোমরের মসৃণ চামড়ায় তৈরি করছে এক চরম অস্বস্তি আর উন্মাদনা।

"শুভ্র...! কেউ এসে পড়বে... প্লি-প্লিজ ছাড়ুন আমাকে! শু-শুভ্র!" অনিন্দিতার কণ্ঠস্বর কান্নার মতো শোনাল। ওর পিঠটা দেয়ালের ঠান্ডা প্লাস্টারে ঘষা খাচ্ছে, আর সামনে শুভ্রর তপ্ত শরীরের পাহাড়প্রমাণ চাপ।

শুভ্র ওর কথায় ভ্রূক্ষেপ করল না। ও নিজের আঙুল দিয়ে হলুদের সেই নকশাটা এবার অনিন্দিতার নাভির চারদিকে খুব ধীরলয়ে আঁকতে শুরু করল। প্রতিটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে অনিন্দিতার শরীরটা এক অবাধ্য শিহরণে ধনুকের মতো বেঁকে উঠছিল।

"আঃ শু-শুভ্র! আপনি এমন ক-করছেন ক-কেন! আম-আম-আ-মি..." শেষের দিকে এসে কথা জড়িয়ে গেল মেয়েটার। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে, চোখের মণি দুটো স্থির হতে পারছে না যেন। শুভ্র প্রথমে এটাকে কেবল দুষ্টুমি আর রোমান্স হিসেবেই নিয়েছিল, কিন্তু অনিন্দিতার হাতের ওপর নিজের হাতের বাঁধন আর ওর শরীরের এমন অস্বাভাবিক কাঁপুনি দেখে ও থমকে গেল হঠাৎই।

শুভ্র অনুভব করল, অনিন্দিতার হৃৎপিণ্ডটা ওর বুকের পাঁজরে হাতুড়ির মতো পিটছে। মেয়েটা কেবল লজ্জা পাচ্ছে না, ও আক্ষরিক অর্থেই এই প্রথম কোনো পুরুষের এত কাছাকাছি আসা এবং এমন বেপরোয়া ছোঁয়া নিতে গিয়ে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

শুভ্র দ্রুত ওর দুহাত ছেড়ে দিল। ওর কোমরে রাখা হাতটাও সরিয়ে নিল তৎক্ষণাৎ। অনিন্দিতা শক্তি হারিয়ে দেয়াল ঘেঁষে মেঝের দিকে পড়ে যেতে নিলেই শুভ্র ওকে ধরে ফেলল পাঁজাকোলা করে।

"নন্দিতা? আরে! আমি তো... তাকাও আমার দিকে! অনিন্দিতা?" শুভ্রর কণ্ঠে গভীর উদ্বেগ। কী হলো মেয়েটার?

অনিন্দিতা শুভ্রর পাঞ্জাবিটা খামচে ধরে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে ওর। ও কোনোমতে অস্ফুট স্বরে বলল, "আ-আ-মি... আ-মার খুব দ-ম বন্ধ লাগছে... শু-ভ্র... আ-মি... বা-সায় যা-বো... প্লি-প্লিজ..."

শুভ্রর বুকে অপরাধবোধ দানা বাঁধল। ও বুঝতে পারেনি ওর 'নরমাল রোমান্স' অনিন্দিতার জন্য অনেকটা 'শক'-এর মতো হয়ে যাবে। সাত দিন পর মেয়েটাকে কাছে পেয়ে শুভ্র একটু বেশিই অধিকার ফলাতে চেয়েছিল, কিন্তু অনিন্দিতার এই নরম মন আর শরীর যে এমন হুটহাট আক্রমণে এখনো প্রস্তুত নয়, সেটা খেয়াল করেনি ও।

শুভ্র আলতো করে ওর গাল দুটো নিজের হাতের তালুতে আগলে ধরলো, "মেঘফুল, তাকাও। আই অ্যাম সরি। আমি তো জাস্ট একটু মজা করছিলাম। দেখো, আমি হাত সরিয়ে নিয়েছি। শান্ত হও।"

অনিন্দিতা তখনো কাঁপছে। শুভ্র ওকে নিজের বুকের সাথে জাপটে ধরল শক্ত করে।

"ঠিক আছে, আমরা আর এক মুহূর্তও এখানে থাকব না। চলো বাসায় যাবো.." শুভ্র ওর কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেয়ে বলল, "কাউকে কিচ্ছু বলতে হবে না, আমি ইরাকে টেক্স করে দিচ্ছি যে তোমার শরীর খারাপ লাগছে বলে আমরা চলে গেছি।"

শুভ্রর বুকের সেই চওড়া আশ্রয়ে মুখ গুঁজে বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে অনিন্দিতা অনুভব করল ওর এলোমেলো হয়ে যাওয়া জগৎটা ধীরে ধীরে থিতু হচ্ছে। শুভ্রর হৃদপিণ্ডের ওই নিয়মিত ধুকপুকানির ছন্দময় শব্দটা ওর কানের কাছে বাজছে এক অদ্ভুত সুরের মতো।

শুভ্র খুব সন্তর্পণে ওর পাঁজাকোলে তুলে করিডোর দিয়ে পেছনের গেটের দিকে হাঁটা দিল। পার্কিং লটে শুভ্রর কালো রঙের এসইউভি-টা অন্ধকারের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে আভিজাত্য নিয়ে। গাড়ির কাছাকাছি গিয়ে শুভ্র ওকে একহাতে আগলে অপরহাতে গাড়ির দরজা খুলে সাবধানে প্যাসেঞ্জার সিটে বসিয়ে দিল মেয়েটাকে।

মেয়েটার লতানো দেহ এলিয়ে পড়লো গাড়ির সিটে। শরীরটা এখনো কাঁপছে মৃদু মৃদু। শুভ্র গাড়ির দরজাটা আটকে দিয়ে ঘুরে এসে ড্রাইভিং সিটে এসে বসল। তারপর ঝুঁকে এলো অনিন্দিতার খুব কাছে। মেয়েটা আড়ষ্ট হয়ে চোখ বুজল তৎক্ষণাৎ।

শুভ্র হাত বাড়িয়ে সিটবেল্টটা লাগিয়ে দিয়ে অনিন্দিতার ললাটে একটা দীর্ঘ চুমু খেয়ে অগোছালো চুলগুলো গুছিয়ে গুঁজে দিল কানের পেছনে। পরপর মেয়েটার বন্ধ চোখের পাতায় উষ্ণ ঠোঁট ছুঁইয়ে সরে এলো। শুভ্র সরে যেতেই অনিন্দিতা ধীরলয়ে চোখ মেলল। দেখল শুভ্র খুব নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই-- ওর সেই আগ্নেয়গিরির মতো চোখে এখন কেবল শান্ত সমুদ্রের নীল আভা।

শুভ্র এসি-র তাপমাত্রাটা একটু বাড়িয়ে দিল যাতে অনিন্দিতা অস্থিরতা দ্রুত কমে যায়। তারপর গাড়ির সেন্ট বক্স থেকে একটা ছোট পারফিউমের বোতল বের করে হালকা স্প্রে করে দিল বাতাসে। চন্দন আর লেবুর একটা স্নিগ্ধ ঘ্রাণে গাড়ির ভেতরটা শান্ত হয়ে উঠল মুহূর্তেই।

শুভ্র খুব নিচু স্বরে জানতে চাইল, "মেঘফুল, একটু ভালো লাগছে এখন?"

অনিন্দিতা ক্ষীণভাবে উপর নিচ মাথা নাড়ল। শুভ্র ওর স্টিয়ারিং-এ রাখা হাতটা সরিয়ে এনে অনিন্দিতার গালটা খুব সন্তর্পণে ছুঁলো। অনিন্দিতা সেই স্পর্শে চমকে না উঠে বরং একটুখানি আরাম পেয়ে গালটা এলিয়ে দিল শুভ্রর হাতের তালুতে।

"আ'ম সরি, ডার্লিং! আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি তুমি এতটা নার্ভাস হয়ে পড়বে। আসলে একদিকে কয়েকদিন পর দেখা, তারওপর আবার তোমাকে প্রথমবারের মতো শাড়িতে দেখে আমার মাথা ঠিক ছিল না। আমি কি খুব বেশি অসভ্যতা করে ফেলেছি?"

অনিন্দিতা চোখ তুলে শুভ্রর দিকে তাকাল। ওর চোখের কাজল কিছুটা লেপ্টে থাকলেও সেই ঘোর মাখা চোখদুটোই শুভ্রকে আরও বেশি করে টানছে। ও ম্লান হেসে বলল, "না... আসলে আমি অভ্যস্ত নই তো। আপনি যখন ওইভাবে... ওইভাবে হলুদ লাগাচ্ছিলেন আর ওরকম শক্ত করে ধরেছিলেন... আমার মনে হচ্ছিল আমি বোধহয় আর নিশ্বাস নিতে পারব না।"

শুভ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর হাতটা নিজের ঠোঁটের কাছে টেনে নিয়ে হাতের তালুর নরম অংশে নিজের ঠোঁট চেপে ধরে রাখল বেশ কিছুক্ষণ, যেন ওই চুমুর মাধ্যমেই নিজের সবটুকু অপরাধবোধ মুছে দিতে চাইছে ও।

শুভ্র ওর হাতের আঙুলগুলো নিজের আঙুলের ফাঁকে গেঁথে নিয়ে খুব ধীরগতিতে গাড়িটা মেইন রোডে তুলল। রাতের নিস্তব্ধ ঢাকা শহর এখন ওদের সামনে ছড়িয়ে আছে এক বিস্তীর্ণ ক্যানভাসের মতো। রাস্তার ধারের সোডিয়াম আলোগুলো পর্যায়ক্রমে অনিন্দিতার মুখে এসে পড়ছে, আর প্রতিবার সেই আলোয় শুভ্র দেখছে ওর 'মেঘফুলের' বিধ্বস্ত-স্বর্গীয় সৌন্দর্য।

শুভ্র এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে অন্য হাতটা দিয়ে অনিন্দিতার মাথাটা খুব সাবধানে নিজের কাঁধের ওপর টেনে নিল। অনিন্দিতা প্রতিবাদ করল না, বরং এক পরম তৃপ্তিতে শুভ্রর শক্ত কাঁধে নিজের ভার ছেড়ে দিল।

"জানো নন্দিতা," শুভ্রর কণ্ঠস্বর এখন রাতের বাতাসের মতো স্নিগ্ধ, "আমার এই উগ্রতা, এই জোর খাটানো-- এগুলো সব তোমার ওই ডাগর চোখের মায়ায় আটকে যাওয়ার ফল। তোমাকে দেখলে আমার মাথা কাজ করে না। কেবল মনে হয়, তোমাকে পৃথিবীর সবটুকু আড়াল দিয়ে নিজের করে রাখি। ওই হলুদ লাগানোটা আসলে তোমাকে ভয় দেখানোর জন্য ছিল না, ওটা ছিল আমার 'স্বত্বাধিকার' দাবি করার একটা বাহানা।"

অনিন্দিতা মৃদু হাসল। ওর মনে জমে থাকা ভয়ের মেঘগুলো মোমের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে শুভ্রর এই সহজ স্বীকারোক্তিতে। ও শুভ্রর পাঞ্জাবির হাতাটা নিজের আঙুলে পেঁচিয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, "আপনার এই 'স্বত্বাধিকার' দাবি করার ধরণটা বড্ড বিচিত্র, শুভ্র। আমার পুরো শরীর এখনো অবশ হয়ে আছে।"

শুভ্র হেসে ফেলল। তারপর হঠাৎ করে গাড়িটা রাস্তার একপাশে একটা অন্ধকার ছায়ায় থামিয়ে দিল। অনিন্দিতা চমকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই শুভ্র আবার ঝুঁকে এল ওর দিকে।

শুভ্রর আকস্মিক ঝুঁকে আসায় অনিন্দিতা সিটের সাথে লেপ্টে গেল একদম। ওর মনে হলো গাড়ির ভেতরের অক্সিজেন বুঝি ফুরিয়ে আসছে আবারও। বুকের ভেতরটা আবার গুড়গুড় করে উঠল ওর। ভাবল শুভ্র বুঝি আবার সেই আদিম উন্মাদনায় ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু না, শুভ্রর এবারের ঝুঁকে আসাটা ছিল একদম ভিন্ন। ও খুব সাবধানে অনিন্দিতার দুই গালে হাত রেখে ওর মুখটা নিজের দিকে ফেরাল। গাড়ির ড্যাশবোর্ডের হালকা নীল আলোয় শুভ্রর চোখে তখন কেবল অগাধ ভালোবাসা আর এক অদ্ভুত প্রশান্তি।

শুভ্র ওর নাকের ডগায় নিজের নাকটা আলতো করে ঘষল-- একদম আদুরে ভঙ্গিতে। সহসা একটা বিদ্যুৎ খেলে গেল অনিন্দিতার মেরুদণ্ড বেয়ে। শুভ্র খুব নিচু স্বরে বলল, "শরীর অবশ হয়ে আছে? তবে সেই অবশতা কাটানোর একটা ম্যাজিক ড্রাগ আমার কাছে আছে, দেব?"

অনিন্দিতা কিছু বলার আগেই শুভ্র ওর ঠোঁটের একদম কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে এল। কিন্তু এবার আর সেই আগের মতো রুক্ষতা নেই। শুভ্র খুব মন্থর গতিতে, অতি মোলায়েমভাবে নিজের অধর ডুবিয়ে দিল অনিন্দিতার প্রকম্পিত ঠোঁটে। অনিন্দিতা অনুভব করল শুভ্রর এই গভীর ছোঁয়ার সাথে সাথে ওর শরীরের সব ক্লান্তি আর জড়তা যেন উড়ে যাচ্ছে বাষ্প হয়ে।

অনিন্দিতা নিজের অজান্তেই শুভ্রর সিল্কি চুলগুলো খামচে ধরল, তবে এবার আর টাল সামলাতে নয়, বরং শুভ্রকে আরও নিবিড়ভাবে পাওয়ার আকুলতায়।

To be continued...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন