ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘবরণ প্রেম

৪০তম পর্ব

লেখক: আসফিয়া রহমান

#মেঘবরণ_প্রেম

পর্ব - ৪০ [১৮+ রোমান্স এলার্ট ⛔]

লেখা - আসফিয়া রহমান

অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌

"আপনি কি কখনো ক্লান্ত হন না?" অনিন্দিতার আঙুলগুলো শুভ্রর কানের লতি ছুঁয়ে ঘাড়ের কাছে স্থির হলো, "এই যে আমার প্রতিটা ভাঙাচোরা মুহূর্ত সামলানো, আমার ভয়, আমার কান্না... আপনার কি কখনো মনে হয় না অনিন্দিতা বড় বেশি অগোছালো? বড্ড বেশি ভারী?"

"ভারী? অ্যাই মেয়ে! এই এতটুকুন একটা বউ আমার, তাকে তুমি কোন সাহসে ভারী বলছো, হুঁ?" শুভ্র মাথা নোয়ালো। অনিন্দিতার বুকের মাঝখানে নাক ঘষতে ঘষতে কেমন অন্যরকম গলায় বলল, "আমার রেড চেরিকে কোলে তোলার জন্য আমার একটা হাতই যথেষ্ট-- দেখোনি তুমি? দেখবে? দেখাবো?"

অনিন্দিতা কেমন কেঁপে উঠলো। চওড়া কাঁধের ওপর রাখা হাত দুটো অবশ হয়ে এলো ওর। বুকের মাঝখানে নাক ঘষতে ঘষতে এবার এলোমেলো চুমুর বর্ষণ নামালো শুভ্র,

"আর অগোছালো? আমার জীবনটাই তো ছিল ছন্নছাড়া একটা ধূসর ক্যানভাস। সেখানে তুমি এসেছ বলেই না রঙের ছোঁয়া পড়েছে! তুমি যদি সবটুকু গুছিয়ে পরিপাটি হয়ে থাকতে, তবে আমি তোমায় আগলে রাখার এই পরম সুখটুকু কোথায় পেতাম, বলো?"

হৃদপিন্ড তোলপাড় করা নতুন এই অনুভূতিটার সাথে অনিন্দিতার পরিচয় নেই। শুভ্রর প্রতিটি নিঃশ্বাসের শব্দ ওর হৃদপিণ্ডের স্পন্দন বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। অদ্ভুত অনুভূতিতে হাঁসফাঁস করে শুভ্রর ঘন চুলগুলো শক্ত করে খামচে ধরলো মেয়েটা।

"শু-শু-শুভ্র..."

শুভ্রর মুখটা ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠে এল। অনিন্দিতার গলার নরম অংশে নাক ঘষতে ঘষতে ও ফিসফিসিয়ে বলল, "অগোছালো অনিন্দিতা আমার ভীষণ প্রিয়, ফুল। এই অগোছালো চুল, রক্তিম অধরযুগল আর..."

"শু-ভ্র..! আ-দিল ভাই নি-নিচে ডাকছে আপনাকে.. ছা-ছাড়ুন!"

চুল খামচে ধরে শুভ্রর মাথাটা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল অনিন্দিতা। অথচ শুভ্রর কোনো হেলদোল নেই। মসৃণ গ্ৰীবাদেশে নাক ডুবিয়ে ও একটা গভীর শ্বাস টানল ও।

"ডাকুক! ডক্টর হিসেবে ওর কাজ ও করেছে, এখন হাজব্যান্ড হিসেবে আমার কাজ আমাকে করতে দাও..."

শুভ্রর অস্ফুট কণ্ঠস্বর কানে গরম বাতাসের মতো ঝাপটা দিতেই শিউরে উঠলো অনিন্দিতার সর্বাঙ্গ। শুভ্রকে ছাড়াতে এবার যেন মরিয়া হয়ে উঠলো মেয়েটা। শুভ্রর অবাধ্য ঠোঁটজোড়া গ্রীবাদেশের যে পাশে চুমুতে চুমুতে সিক্ত করে তুলছে সে পাশে ঘাড়টা হেলিয়ে শুভ্রকে থামিয়ে দিতে চাইল ও।

এতেই যেন নাখোশ হলো শুভ্র! গলার খাঁজের ঠিক নিচে কলারবোনের হাড়টার ওপর আলতো করে কামড় বসাতেই অনিন্দিতা ছটফটিয়ে উঠলো।

"আহ্! শু-শুভ্র... ব্য-ব্যথা লাগছে তো..."

শুভ্র এবার মুখ তুলে চাইল। অনিন্দিতার আদুরে মুখটা আবেশে-লজ্জায় টকটকে লাল। কপালে জমেছে কয়েক বিন্দু ঘাম। নিঃশ্বাসের প্রয়োজনে কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে থাকা রক্তিম ঠোঁট দুটো কাঁপছে তিরতির করে। শুভ্র তিরতির করে কাঁপতে থাকা নরম অধরযুগলের ওপর তর্জনী বুলাতে বুলাতে বাঁকা হাসলো।

"ইশ্! ব্যথা দিয়েছি বুঝি? কই দেখি..!"

বলতে বলতে শুভ্রর তর্জনী সরে সেখানে জায়গা করে নিল ওর নিজের ঠোঁট। অনিন্দিতা কেঁপে উঠলো তৎক্ষণাৎ।

"শু-শুভ্র!"

থমকে গিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইল শুভ্র, "কী হলো? তুমিই তো বললে ব্যথা দিয়েছি! সো লেট মি অ্যাপোলোজাইস, না?"

সহসা তীব্র লজ্জায় হাঁসফাঁস করে উঠলো মেয়েটা, "ন-না! অ্যাপোলোজাইস ক-করতে হবে না.. আদিল ভাই নি-নিচে অপেক্ষা করছে.. এ-এখন যান পি-প্লিজ! ক-কী ভাববেন উনি!"

শুভ্রর ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা বাঁকা হাসিটা চওড়া হলো। অনিন্দিতার লজ্জারাঙা মুখের ওপর ঝুঁকে এসে কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে একজোড়া তপ্ত নিশ্বাস বিনিময় করতে করতে ফিসফিসিয়ে বলল,

"আদিল কী ভাববে সেটা আদিলের মাথা ব্যথা, আমি কেন ভাবতে যাব!" শুভ্র নিজের মুখটা আরও নামিয়ে আনল, অনিন্দিতার নাক আর ওর নাক ঘষা খাচ্ছে এখন। "তাছাড়া আমি তো আদিলের দেওয়া প্রেসক্রিপশনই ফলো করছি। এতে তো ওর খুশি হওয়ার কথা!"

অনিন্দিতা অবাক হয়ে তাকাল, "প্রেসক্রিপশন? কিসের প্রেসক্রিপশন?"

শুভ্রর একটা হাত তখন অনিন্দিতার পিঠের নিচে দিয়ে ওকে নিজের একদম কাছে টেনে নিয়েছে। ওষ্ঠাধরের দূরত্ব পুরোপুরি ঘুচিয়ে ঠোঁটে প্রায় ঠোঁট ঠেকিয়ে শুভ্র ফিসফিসিয়ে বলল,

"ডক্টর সাহেব বলেছেন, আপনি এখন বড্ড ক্লান্ত। এই ক্লান্তি দূর করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘সুগার’ দরকার শরীরে। যেনতেন সুগার না দিয়ে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে দামী সুগার প্রোভাইড করতে চাচ্ছি আপনার দুর্বল শরীরে। সো, স্পেশাল এই ডোজটা মিস করা কি ঠিক হবে, বলুন মিসেস শুভ্র?"

শুভ্র চোখ টিপল। অনিন্দিতার চোখদুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেছে। লজ্জায় ও আর তাকাতে পারছে না শুভ্রর চোখের দিকে। চোখ বন্ধ করে শুভ্রর মুখটা দুই হাতে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল ও।

"সরুন এখান থেকে! নির্লজ্জ কোথাকার! আমার এসব অসভ্য ডোজ-টোজ চাইনা..."

"নির্লজ্জ?" শুভ্র চোখ দুটো সরু করে কপট বিস্ময়ের ভান করল, "আমি নির্লজ্জ? কে যেন কাল রাতে নিজের থেকে আমার ঠোঁটে কামড়ে দিয়েছিল? আপনি কি তাকে চেনেন, মিসেস শুভ্র?"

অনিন্দিতার কান-মাথা ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল। মনে হলো খাটের তলায় সেঁধিয়ে যেতে পারলে বোধহয় বাঁচা যেত এই নির্লজ্জ মানুষটার হাত থেকে! কাল রাতের সেই বেসামাল মুহূর্তটার কথা ও বেমালুম ভুলে যেতে চাইছিল, অথচ এই মানুষটা ঠিক ওটাকেই অস্ত্র বানিয়ে ওকে জব্দ করছে!

অনিন্দিতা দুই হাতে নিজের মুখ ঢেকে একপাশ ফেরার ব্যর্থ চেষ্টা করল, "আম-আমি কিছু জানি না! স-সরুন এবার প্লিজ!"

অনিন্দিতার কোমরে থাকা শুভ্রর হাতের বাঁধন দৃঢ় হলো। নিচু গলায় হাসির শব্দে যেন ভারী হয়ে উঠল ঘরের বাতাস। অনিন্দিতার মুখ থেকে জোর করে হাত দুটো সরিয়ে দিয়ে আলতো করে কবজি দুটো বিছানার সাথে চেপে ধরল ও। অনিন্দিতার চোখের মণি দুটো কাঁপছে, গাল দুটো টকটকে চেরি ফলের মতো রাঙা। ব্যান্ডেজ করা হাতটার দিকে একবার নজর বুলিয়ে শুভ্র সরু নাকে নাক ঘষে নিচু স্বরে বলল,

"জানেন না? ভুলে গেছেন বুঝি? তবে চলুন, মেমোরিটা একটু রিফ্রেশ করিয়ে দিই, হুঁ?"

বলতে বলতেই শুভ্র প্রকম্পিত ওষ্ঠাধরে ছোট্ট একটা চুমু খেল। অনিন্দিতা তখন চোখ বুজে ফেলেছে। ঠোঁটজোড়া এবার থরথরিয়ে কাঁপতে শুরু করেছে মেয়েটার।

শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হাসলো। বৃদ্ধাঙ্গুলের সাহায্যে প্রিয়তমার কোমল অধরের তীব্র কম্পনটুকু অনুভব করতে করতে ঠোঁটের কোণে ঠোঁট ছোঁয়ালো। এতেই যেন অস্থির হয়ে উঠলো লাজুক মেয়েটা। কম্পিত অধরযুগল আপনাআপনি সামান্য আলগা হলো কাঙ্খিত স্পর্শের আশায়।

শুভ্র আর দেরি করল না। প্রিয়ার নিঃশব্দ আমন্ত্রণটুকু গ্রহণ করে নিতেই চারপাশের পৃথিবীটা যেন থমকে দাঁড়ালো কেমন। লাগামহীন এক শিহরণ বইয়ে দিল অনিন্দিতার সারা শরীরে। নিমেষেই যেন মেয়েটা তলিয়ে গেল অতলান্ত এক গভীর সুখের সাগরে।

বেশ কিছুক্ষণ পর শুভ্র যখন মুখ তুলল, অনিন্দিতার চোখদুটো তখনো বোজা। ভারী শ্বাসপ্রশ্বাসে বুকটা ওঠানামা করছে দ্রুতগতিতে। শুভ্র ওর চেপে ধরা হাত দুটো ছেড়ে দিয়ে কপালে লেপ্টে থাকা ঘামভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিতে দিতে গভীর মমতা নিয়ে তাকাল স্ত্রীর পবিত্র মুখ পানে।

"এখনো কী বুকের ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, ফুল?"

অনিন্দিতা উত্তর না দিয়ে শুভ্রর মাথাটা টেনে এনে আগের ন্যয় রাখল নিজের বুকের ওপর। শুভ্র মুখ বাড়িয়ে মসৃণ গ্ৰীবাদেশে একটা আর্দ্র চুমু খেয়ে বুকের মাঝবরাবর নাক ঘষতে ঘষতে অস্ফুট স্বরে বলল, "আপনার হৃদস্পন্দনগুলো কিন্তু এখনো শান্ত হয়নি, রেড চেরি। বড্ড বেশি জোরে জোরে কথা বলছে। কী বলছে জানেন?"

অনিন্দিতা একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে শুভ্রর মাথার চুলগুলো টেনে ধরলো, "ক-কী বলছে?"

শুভ্রর একটা হাত অনিন্দিতার শরীরের বাঁক অনুসরণ করে উঠে এল উপরে। কামিজের ওপর দিয়েই নিজের বলিষ্ঠ তালুর নিচে কোমল আর ভরাট উষ্ণতাটুকু অনুভব করতেই শুভ্রর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল। আলতো করে চাপ প্রয়োগ করে শুভ্র কেমন জড়ানো গলায় বলল, "বলছে, এতটুকু আদরে মন ভরেনি, আরো বেশি আদর চাই...""

সহসা পিলে চমকে উঠলো অনিন্দিতার। অস্ফুট একটা শব্দ করে শরীরটা বেঁকে গেল আপনাআপনি।

"আ-শ-শু-শুভ্র!"

শুভ্রর হাতের আঙুলগুলো বড্ড অবাধ্য। সংবেদনশীল চূড়ার শক্ত হয়ে ওঠা অংশে আঙুলের ছোঁয়া লাগতেই ছটফটিয়ে উঠলো অনিন্দিতা। বৃদ্ধাঙ্গুল আর তর্জনীর নিপুণ কারসাজিতে শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরা দিয়ে যেন একঝাঁক বিদ্যুৎ বয়ে যাচ্ছে ওর।

"আঃ.. ন-ন-না.. শু-শু-ভ্র পি-প্লিজ..."

শুভ্রর মাথার ঘন চুলগুলো ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম! শুভ্র কোনোরকমে মাথাটা সামান্য ঝুঁকিয়ে কামিজের ওপর দিয়েই শক্ত সংবেদনশীল বিন্দুটিতে ছোট করে একবার ঠোঁট ছুঁইয়ে সরে এলো।

অনিন্দিতার শরীর মুচড়ে উঠলো এই অপ্রত্যাশিত ছোঁয়ায়। শুভ্র ততক্ষণে ওর ওপর থেকে সরে গিয়ে পাশের বালিশে মাথা রেখে মিটিমিটি হাসছে।

"কী হয়েছে, রেড চেরি? স্পেশাল ডোজ কি ওভারডোজ হয়ে গেল নাকি?"

অনিন্দিতার সারা শরীর তখনও সেই অদ্ভুত শিহরণের রেশে কাঁপছে। গায়ের চাদরটা এক টানে মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলল ও।

"আ-আপনি একটা আস্ত অ-অসভ্য! একদম কথা ব-বলবেন না আমার সাথে!"

শুভ্র হাহা করে হাসতে হাসতে বিছানা থেকে নামলো। দরজার কাছাকাছি গিয়ে পেছন ফিরতেই দেখল চাদরের তল থেকে ডাগর চোখদুটো বের করে এদিকেই তাকিয়ে আছে অনিন্দিতা। শুভ্র হুট করে এগিয়ে এসে ঝুঁকে এলো ওর ওপর। অনিন্দিতা ভয় পেয়ে সাথে সাথে চোখ বন্ধ করতেই শুভ্র ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,

"এখন আমি যাচ্ছি ঠিকই, তবে জেনেশুনে আমাকে মাঝপথে আটকে দিয়ে আপনি যে অপরাধটা করলেন, সেটার হিসেব তোলা থাকল। সঠিক সময়মতো কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব। তখন কী কী অযুহাত দেবেন সেটা এখন থেকেই রেডি করে রাখুন, মিসেস শুভ্র। ইউ ডোন্ট হ্যাভ ঠু মাচ টাইম, মাই বিলাভড ওয়াইফি!"

বলেই শুভ্র আর দাঁড়ালো না। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই অনিন্দিতা হাঁফ ছেড়ে একটা লম্বা নিঃশ্বাস টানল। হাত দিয়ে গাল স্পর্শ করতেই চমকে উঠল মেয়েটা-- ইশ! লাজরাঙা উত্তাপে যেন পুড়ে যাচ্ছে গাল দুটো।

পাশ ফিরে শুভ্রর বালিশটা বুকের সাথে চেপে ধরল ও। কিছুক্ষণ আগেও যে বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল, সেখানে এখন বিরাজ করছে এক অদ্ভুত শিরশিরানি। হৃদপিন্ডটা এখনো স্পন্দিত হয়ে চলেছে পাগলের মতো। বালিশে মুখ গুঁজে নিজের হৃদস্পন্দনের তাল শুনছিল অনিন্দিতা। ও অনুভব করল, গত কয়েকদিনের সেই দমবন্ধ করা অস্থিরতাটা নেই। শুভ্র ঠিকই বলেছে, জঞ্জালগুলো সাফ হয়ে গেছে। নিজের অজান্তেই ও হাত দিয়ে স্পর্শ করল কলারবোনের সেই জায়গাটা, যেখানে শুভ্রর কামড়ের মৃদু চিনচিনে ব্যথাটা এখন পরিণত হয়েছে এক মিষ্টি শিহরণে।

৫৫.

--- অনু এখন কেমন আছে ভাইয়া? এখনো কি আগের মতো প্যানিক অ্যাটাক হয়?

শুভ্র একটা দীর্ঘশ্বাস সন্তর্পণে নিজের প্রশস্ত বুকে গোপন করে স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তর দিল,

--- না.. এখন আগের থেকে বেটার, আলহামদুলিল্লাহ! তুই এতো আপসেট হচ্ছিল কেন বনু? খুব তাড়াতাড়ি আমরা ঢাকায় ফিরব, দেখবি অনিন্দিতা আবার আগের মতো প্রাণখুলে হাসবে তোদের সাথে।

--- অভিক খুব আফসোস করে ভাইয়া। আমাদের বিয়েতে এসেই তো অনু...

--- শশশ্.. ইরা! ওসব পুরোনো কথা ভুলে যা। যত তাড়াতাড়ি ভুলবি আমাদের সবার জন্য ভালো। তোরা এক কাজ কর না... দুদিন ছুটি নিয়ে রাজশাহী চলে আয়। অনিন্দিতাকে একটা ছোটোখাটো সারপ্রাইজ দে!

ইরা দু মুহূর্ত ভাবল,

--- আজকে কত তারিখ, ভাইয়া?

--- ১১ তারিখ, কেন?

--- ১৩ তারিখ তো অনুর জন্মদিন! ইশ্! খেয়ালই ছিল না। আমি বরং অভিককে বলে দেখি ও ছুটি ম্যানেজ করতে পারে কিনা। জন্মদিনে ওকে সারপ্রাইজ দেব, কী বলো?

--- নন্দিতার জন্মদিন! কই আমাকে আগে বলিসনি তো!

--- খেয়াল ছিল না, বললাম না! আচ্ছা শোনো, তুমি কিন্তু অনুর জন্য জবরদস্ত একটা সারপ্রাইজ প্ল্যান করবে। সেই প্ল্যানের একটা ছোট্ট অংশে অভিক-আমি-প্রীতি থাকব। বাকিটা তোমাদের। বুঝেছো?

--- হয়েছে, বুঝেছি! এত পাকনামি করতে হবে না। আর শোন, আমি রাবেয়া আন্টির সাথে কথা বলে দেখছি অর্ক আসতে পারবে না। ওকেও সাথে নিয়ে আয়। অনিন্দিতা সেদিনই ওর কথা বলছিল।

--- আচ্ছা, তুমি তাহলে আন্টির সাথে কথা বলো।

--- হুঁ...

টুকটাক দুয়েকটা কথা বলে ফোন রাখতেই ইরা দেখল অভিক ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছে। একটু আগেই হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরেছে অভিক। তোয়ালে গলায় ঝুলিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে এলো ও।

"কে কল দিয়েছিল?"

"ভাইয়া..."

"শুভ্র ভাই?"

"হুঁ!"

তোয়ালেটা ইরার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিছানায় বসল অভিক। ইরা মৃদু হেসে ওর চুল মুছে দিতে শুরু করলে অভিক বলল,

"শুভ্র ভাই আর তুমি যে খালাতো ভাই-বোন এটা কিন্তু শুনলে কেউ বিশ্বাসই করবে না, জানো?"

ইরা হাসলো, "আসলে ভাইয়া আর আমার দুজনেরই কোনো ভাই-বোন না থাকায় ছোটবেলা থেকেই আমরা একসাথেই বড় হয়েছি। নিজের ভাই-বোনের মতো। আম্মু আর খালামণিও কখনো আমাদের দুজনকে আলাদা করে দেখে না। এইজন্যই আমরা কাজিন হওয়া সত্ত্বেও এত বেশি ক্লোজ।"

"হুম.. শুভ্র ভাইও কিন্তু তোমাকে আপন বোনের মতোই ট্রিট করে।"

"হ্যাঁ! ছোটবেলা থেকেই ভাইয়া আমার প্রতি অতিরিক্ত কেয়ারিং।"

"হুঁ.. বুঝলাম! তো কী কথা হচ্ছিল ভাইয়ের সাথে? আমাকে বলা যাবে? নাকি সিক্রেট?"

বলতে বলতে অভিক মাথা থেকে ইরার হাতটা সরিয়ে দিয়ে ধপ করে ওর কোলে শুয়ে পড়ল। ইরা চমকে উঠলো খানিক।

"অভি..!"

"খুব টায়ার্ড লাগছে, পাখি। চুলগুলো একটু টেনে দাও তো।"

"বালিশে শোও প্লিজ! তারপর টেনে দিচ্ছি।"

"উঁহু.." ইরার নরম পেটে মুখ গুঁজল অভিক, "এভাবেই দাও!"

গরম নিঃশ্বাসের তোড়ে ইরা কেঁপে উঠে অভিকের চুলগুলো টেনে ধরলো।

"অ-অভি.. পি-প্লিজ!"

"নো প্লিজ! আমি এখন উঠবো না! তারপর বলো.. শুভ্র ভাই কী বলছিল? অনিন্দিতা ভাবি কেমন আছেন এখন?"

ইরা চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিঃশ্বাস টেনে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। অভিকের চুলের ভাঁজে আঙুল চালাতে চালাতে মৃদু গলায় বলল, "ভালো আছে। আগের থেকে বেটার।"

তারপর একটু থেমে আবদারের সুরে ডাকলো, "অভি, শুনছো?"

অভিকও ইরার মতো টেনে টেনে জবাব দিল, "জ্বি, ম্যাডাম! বলুন, শুনছি আমি!"

ইরা সামান্য ইতস্তত করল প্রশ্নটা করতে।

"বলছি যে, তোমার হসপিটাল থেকে দুদিন ছুটি দেবে?"

অভিক মাথা তুলে ইরার মুখের দিকে তাকালো, "কেন? ছুটি দিয়ে কী করবে? এক সপ্তাহ আগেই তো রাঙামাটি থেকে ঘুরে এলাম!"

ইরা একটু চুপ করে রইল, তারপর অভিকের কপালে আলতো করে আঙুল বুলাতে বুলাতে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "আসলে অভি.. সামনের ১৩ তারিখ অনু মানে অনিন্দিতার জন্মদিন। আমি চাইছিলাম রাজশাহী গিয়ে ওকে সারপ্রাইজ দেব। ভাইয়াই প্রথমে আমাদের যেতে বলল দুদিনের জন্য। পরে আমি ভাবলাম সামনে যেহেতু ওর জন্মদিন আছেই, ওই দিনই নাহয় যাই... ছুটি ম্যানেজ করা কি খুব কঠিন হবে?"

অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে ইরার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর একটা লম্বা শ্বাস ফেলে ওর কোলে মুখ গুঁজলো। ইরা যেন হতাশ হলো খানিক। ও বুঝতে পারছে না, অভিক রাজি হবে কিনা। অভিকের ব্যস্ত শিডিউল ওর অজানা নয়। কিন্তু অনিন্দিতাকে জরিয়ে ধরার জন্য ওর মনটা যে সেই কবে থেকে ছটফট করছে! যতই হোক, ওর বিয়েতে এসেই তো অনিন্দিতা আজকের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি। মেয়েটার ওপর দিয়ে কত ঝড়ঝাপটা গেল, অথচ নিজে সেই পরিস্থিতির কারণ হওয়া সত্ত্বেও ইরা এক মুহুর্তের জন্যও ওর পাশে থাকতে পারেনি। অজান্তেই ওর চোখদুটো ছলছল করে উঠলো কেমন।

আচমকা ফোঁপানোর শব্দ হতেই অভিক চমকে উঠে মুখ তুললো। ধড়মড়িয়ে উঠে বসে ইরার দুই কাঁধে হাত রাখল ও।

"পাখি! আরে আরে, কাঁদছো কেন তুমি!" অভিক দিশেহারা হয়ে আঙুল দিয়ে ইরার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া নোনা জল মোছাতে মোছাতে ব্যস্ত গলায় বলল, "আমি কি একবারও বলেছি যে আমরা যাব না?"

ইরা নাক টেনে ধরা গলায় বলল, "তুমি তো কিছু বলছ না! আমি জানি তোমার ব্যস্ততা.. কিন্তু অনিন্দিতার কথা ভাবলে যে আমার নিজেকে অপরাধী লাগে, অভি। ও তো আমার বিয়েতে এসেই..."

"শশশ্..." অভিক ইরার ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরল, "আবার সেই এক কথা? তোমাকে বলেছি না, যা হয়েছে তাতে তোমার কোনো হাত ছিল না। যার হাত ছিল সে গরাদের পেছনে শাস্তি পাচ্ছে। আমার আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও কিন্তু আমি ছাড় দিই নি, ইরা।"

অভিক ওর কপালে একটা চুমু খেয়ে ওকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল, "অনিন্দিতা ভাবি সুস্থ হয়ে উঠছে, তোমার ভাইয়া কীভাবে ওকে আগলে রেখেছে, দেখেছো? অনিন্দিতা ভাবি কিন্তু এখন তোমার বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু, ও এখন আমাদের পরিবারের অংশ। ওর জন্মদিনটা আমাদের সবার জন্যই একটা নতুন শুরুর সুযোগ। আমি স্যারের সাথে কথা বলে ছুটি ম্যানেজ করছি। আমরা যাব, প্রীতি আর অর্ককেও সাথে নেব। ঠিক আছে? এখন মিষ্টি করে একটা হাসি দাও দেখি?"

ইরা ঝাপসা চোখেই হাসল। অভিককে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, "ইউ আর দ্যা বেস্ট হাসব্যান্ড, অভি!"

"বেস্ট হাসব্যান্ড, হুঁ?" অভিক দুষ্টুমি করে ইরার থুতনিটা একটু উঁচিয়ে ধরল, "এই যে তোমার বেস্ট হাসব্যান্ড এই স্যাক্রিফাইস করছে, বদলে তার কী পাওনা হবে শুনি?"

অভিকের চোখের পরিচিত নেশাতুর চাহনিটা দেখে ইরা চোখ নামিয়ে নিল তড়িঘড়ি, "কী পাওনা হবে? আচ্ছা.. সেদিন তুমি মালাই চা খেতে চেয়েছিলে, না? ওটা বানিয়ে দেব কাল!"

অভিক বাঁকা হাসলো। ইরার কোমরে হাত বেষ্টন করে ওকে নিজের আরও কাছে টেনে নিতে নিতে বলল, "মালাই চা? সেটা পরে দেখা যাবে ক্ষণ। আমার এখনই কিছু-মিছু চাই! এখানে..." অভিক নিজের ঠোঁট ইশারা করলো, "এখানে একটা 'সুইট রিটার্ন' দিলে কেমন হয়?"

বলতে বলতে অভিক ইরার ঠোঁটজুড়ে বৃদ্ধাঙ্গুল বুলাতে শুরু করল। ইরার নিঃশ্বাস যেন আটকে আসবে এক্ষুনি! তড়িঘড়ি করে চোখ বন্ধ করে ফেলল মেয়েটা। অভিকের এই হুটহাট রোমান্টিক হয়ে যাওয়াটা এখনো সামলে উঠতে পারে না ও।

অভিক খুব ধীরে ঝুঁকে এল ইরার মুখের ওপর। ওর ঠোঁটের খুব কাছ দিয়ে মুখটা নিয়ে গিয়ে কানের লতির কাছে ফিসফিস করে বলল, "কী হলো পাখি? রিটার্ন গিফট দিতে এত সময় লাগছে কেন? তোমার বেস্ট হাসব্যান্ড কিন্তু বড্ড ইমপেশেন্ট হয়ে পড়ছে!"

ইরা লজ্জা পেয়ে অভিকের বুকে মৃদু ধাক্কা দিল, "অ-অভি.. দ-দরজা খোলা..."

অভিক নড়লো না। ইরার লাল হয়ে আসা কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিসিয়ে বললো, "দরজা লাগানোই আছে। তুমি শুধু চোখ খোলো আর আমার দিকে তাকাও..."

ইরা ভয়ে ভয়ে চোখ মেলতেই মিলন ঘটল অভিকের মাদকতাময় দৃষ্টির সাথে। ও চাইলেও চোখ সরাতে পারল না। ইরার চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে অভিক ধীরে ধীরে মুখটা নামিয়ে আনল, ইরা চোখ বন্ধ করে ওর শার্টের কলারটা খামচে ধরল। অভিক আর সময় দিল না। অত্যন্ত মোলায়েম স্পর্শে ধীরে ধীরে নিজের ওষ্ঠাধর ডুবিয়ে দিল ইরার কাঁপতে থাকা ওষ্ঠে।

To be continued...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন