ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘবরণ প্রেম

৪৩তম পর্ব

লেখক: আসফিয়া রহমান

#মেঘবরণ_প্রেম

পর্ব - ৪৩ [১৮+ রোমান্স এলার্ট 🚫]

লেখা - আসফিয়া রহমান

অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌

শুভ্রর পৌরুষদীপ্ত ভারী শরীরের নিচে অনিন্দিতা যেন একটা কোমল কুসুম। খসখসে হাতের উষ্ণ স্পর্শ মেয়েটা কেমন কেঁপে কেঁপে উঠছে প্রতি মুহূর্তে।

শুভ্রর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তখন নিবদ্ধ অনিন্দিতার মসৃণ পেটের ক্ষুদ্র কেন্দ্রবিন্দুর ওপর। নিচু হয়ে সেই গভীর খাঁজে ঠান্ডা নাকের ডগা ঘষতেই অনিন্দিতা এক ঝটকায় নিজের শরীরটা দুমড়ে মুচড়ে ফেলল।

"শ-শ-শুভ্র..!"

সরু আঙুলগুলো দিয়ে শুভ্রর চুলগুলো শক্ত করে খামচে ধরল অনিন্দিতা। শরীরের রোমকূপগুলো বিদ্যুতায়িত হয়ে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। বুকটা ওঠানামা করছে হাঁপরের মতো তীব্র গতিতে।

অথচ শুভ্র একদম স্থির। সমগ্ৰ জায়গাটাজুড়ে সে চুমু খেয়ে যাচ্ছে ধীরগতিতে। ওর প্রতিটা চুম্বন ধীর, স্থির, তীব্র। প্রিয়তমার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা যেন সে ম্যাপ করে নিচ্ছে নিজের ছোঁয়ায়। অনিন্দিতার পেটের নাজুক পেশীগুলো কাঁপছে; আর ওই কাঁপুনিটাই মাদকতাময় শিহরণ জাগিয়ে তুলছে শুভ্রর আঙুলের ডগায়।

"শ-শ-শুভ্র... আর.. আ-আর না... আ-আমি পারছি না..."

অবাধ্য জিভের কারসাজি থামিয়ে গভীর বিন্দুটিতে শেষ একটা দীর্ঘ, আর্দ্র চুম্বন এঁকে দিয়ে মুখ তুলল শুভ্র। মুখ তুলতেই দেখল অনিন্দিতার চোখের মণি দুটো আবেশে ঢুলুঢুলু, ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে আছে দ্রুত নিঃশ্বাস নেওয়ার কারণে। শুভ্রর নিজের ভেতরের তৃষ্ণাটা যেন বাঁধ মানছে না আর।

ওর দৃষ্টিতে বিরাজমান সেই প্রখর তৃষ্ণা দেখে অনিন্দিতা আরও একবার যেন কুঁকড়ে গেল নিজের ভেতর। মেয়েটার সারা শরীর তখন থরথর করে কাঁপছে এক অজানা আবেশে। শুভ্রর তপ্ত নিঃশ্বাসগুলো আগুনের মতো অনুভূত হচ্ছে ওর পেটের ভিজে অংশে।

ধীরে ধীরে ওপরে উঠে এল শুভ্র। দুই হাত অনিন্দিতার শরীরের দুই পাশে রেখে মেয়েটাকে নিজের শরীরের নিচে বন্দি করে ফেলল পুরোপুরি। অনিন্দিতার এলোমেলো চুলগুলো বালিশে ছড়িয়ে আছে, যেন কোনো শিল্পীর আঁকা শ্রেষ্ঠ ক্যানভাস। শুভ্র দুহাতে ওর মুখটা আঁকড়ে ধরল, ওর বুড়ো আঙুল দুটো স্থির অনিন্দিতার কাঁপতে থাকা ঠোঁটের দু কোণে।

"পারতে হবে না..." শুভ্রর কণ্ঠস্বর এখন বড্ড বেশি খাদে নামা, যেন গভীর কোনো কুয়ো থেকে উঠে আসা প্রতিধ্বনি। "জাস্ট বি উইথ মি.. অ্যান্ড আই উইল টেক কেয়ার অফ দ্যা রেস্ট, মাই রেড চেরি!"

বলতে বলতে শুভ্র নিজের মুখটা নামিয়ে আনল অনিন্দিতার মুখের খুব কাছাকাছি। অনিন্দিতা আবেশে চোখ বুজে ফেলল। শুভ্রর নাকের ডগা যখন অনিন্দিতার নাকের সাথে ঘষা খেল, মেয়েটা অবচেতনেই খামচে ধরল শুভ্রর কাঁধের পেশিগুলো।

শুভ্র এবার ওর শরীরের ওপর থেকে সামান্য সরে এসে এক টানে মুক্ত করে দিল নিজের পরনের বাকি আবরণটুকুও। মুহূর্তের মধ্যে আর কোনো দেয়াল রইল না দুটি তপ্ত শরীরের মাঝে।

হুট করে আসা সরাসরি এই উষ্ণতায় কুঁকড়ে যেতে চাইল অনিন্দিতা। শুভ্র ওকে সেই সুযোগ দিল না। এক হাতে অনিন্দিতার কোমর টেনে নিজের সাথে একদম লেপ্টে নিল। মেয়েলি সুডৌল বক্ষদেশ তখন পিষ্ট হচ্ছে শুভ্রর প্রশস্ত পেশীবহুল বুকের সাথে। দুই হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি একাকার হয়ে গেছে মিলেমিশে।

"তাকাও আমার দিকে, মেঘফুল..." শুভ্র ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "লুক অ্যাট মাই আইজ..."

শুভ্রর আদেশের অবাধ্য হতে পারল না অনিন্দিতা। ধীরে ধীরে চোখের পাতা মেলতেই দেখল শুভ্রর চোখের সেই গাঢ় অন্ধকার, যেখানে আদিম আকাঙ্ক্ষা উথালপাথাল করছে শুধুই ওর জন্য। শুভ্র অনিন্দিতার কপালে লেপ্টে থাকা ঘামভেজা রেশমী চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিল। ওর হাতের আঙুলগুলো এখন ছোট ছোট বৃত্ত তৈরি করছে অনিন্দিতার কানের পেছনের সংবেদনশীল অংশে।

"ফুল, তুমি কি জানো, এই মুহূর্তে তোমাকে ঠিক কতটা মায়াবী লাগছে?"

অনিন্দিতার চোখের পাতা দুটো আধবোজা, যেন এক ঘোরের জগতে বিচরণ করছে মেয়েটা। কোমল ঠোঁট দুটো অস্ফুট স্বরে কী যেন বলতে চাইল, কিন্তু শব্দ বের হলো না। শুভ্র ওর কাঁপতে থাকা ঠোঁটজোড়ার খুব কাছে নিজের ওষ্ঠাধর নিয়ে এল, স্পর্শ করল না। না-ছোঁয়ার এই ব্যবধানটুকু মূহুর্তে এক অসহ্য যন্ত্রণার জন্ম দিল অনিন্দিতার ভেতর। শুভ্রর ঘাড়ের কাছে নিজের হাত দুটো আরও শক্ত করে চেপে ধরল মেয়েটা, যেন শুভ্রকে আরও নিবিড়ভাবে মিশিয়ে নিতে চায় নিজের শরীরের সাথে।

শুভ্রর একটা হাত তখন অনিন্দিতার পিঠের মসৃণ ত্বক বেয়ে নিচে নেমে ওকে সামান্য ওপরে তুলে ধরেছে। অন্য হাতটা দিয়ে পরম মমতায় আগলে ধরেছে মেয়েলি সরু কোমরের বাঁক।

"আমাকে ভালোবাসো, অনিন্দিতা?"

কানের কাছে মাদকীয় ফিসফিসে কন্ঠস্বরটা প্রতিধ্বনিত হতেই অনিন্দিতা শিউরে উঠলো। শুভ্রর অবাধ্য ঠোঁটজোড়া বিচরণ করে চলেছে ওর কানের নরম লতি থেকে গলার সংবেদনশীল অংশে। অনিন্দিতার গলার স্বর বুজে এল, শুভ্রর উদাম পিঠে নিজের নখ বসিয়ে দিয়ে ও অস্ফুটে বলল, "বা-বাসি.. খ-খুব বেশি বাসি..."

ব্যস! এই স্বীকারোক্তিটুকুই যেন বারুদ হয়ে কাজ করল শুভ্রর ধৈর্যের বাঁধে। ও আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। প্রিয়ার কাঁপতে থাকা কোমল অধরযুগল নিজের ওষ্ঠাধরে বন্দি করে নিল এক উন্মাতাল তৃষ্ণায়। এবারের চুম্বনটা আগের মতো শান্ত, মোলায়েম নয়; বরং দাবদাহের মতো তীব্র, যেন এতদিনকার পুঞ্জীভূত সমস্ত আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। অনিন্দিতা প্রথমে একটু হকচকিয়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সঁপে দিল সেই জোয়ারে।

"উম্ম..!"

শুভ্রর ওষ্ঠাধরের সেই উন্মাতাল জোয়ারে অনিন্দিতা যখন প্রায় দিশেহারা, ঠিক তখনই এক আকস্মিক, তীক্ষ্ণ যন্ত্রণার ঢেউ আছড়ে পড়ল ওর শরীর চিরে মগজে। মুহূর্তের জন্য মেয়েটার সারা শরীর ধনুকের মতো বেঁকে গেল। প্রশস্ত কাঁধে তীব্রভাবে নখ দাবিয়ে ও অবচেতনেই কামড়ে ধরল শুভ্রর নিচের ঠোঁটটা।

মুহূর্তেই স্থির হয়ে গেল শুভ্র। আলতো করে দুজোড়া ওষ্ঠাধর আলগা করে প্রিয়ার মুখটা দুহাতে আগলে ধরে ঘামভেজা ললাটে নিজের কপাল ঠেকালো। ডাগর দুচোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু মুছিয়ে দিয়ে সারা মুখে, চোখে, ঠোঁটে, চিবুকে অসংখ্য ছোট ছোট চুমু এঁকে দিতে দিতে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে চলল,

"শশশ... রিল্যাক্স, সোনা। কিচ্ছু হয়নি, জাস্ট রিল্যাক্স..."

শুভ্রর শান্ত কন্ঠস্বর আর ধীরস্থির স্পর্শে অনিন্দিতার শরীরের টানটান ভাবটা একটু একটু করে শিথিল হয়ে এল। যন্ত্রণার জায়গাটা দখল করে নিল এক অদ্ভুত, গভীর পূর্ণতার অনুভূতি।

শুভ্রর তপ্ত ওষ্ঠাধর তখন ভালোবাসার একেকটি সিলমোহর বসিয়ে চলেছে অনিন্দিতার গলার খাঁজে, কলারবোনে, কানের পেছনের সংবেদনশীল অংশে। অনিন্দিতা আবেশে চোখ বুজে প্রিয় পুরুষটার প্রতিটি স্পর্শকে মিশিয়ে নিচ্ছে নিজের রক্তে।

"শু-শুভ্র..."

অনিন্দিতার কণ্ঠস্বর কাঁপছে অদ্ভুত সুরেলা ছন্দে। শুভ্রর নেশাক্ত কণ্ঠস্বরটা বড্ড নিচু শোনালো।

"বলো, জান..."

"আম-আমি... আমি কখনও ভাবিনি আমি আবার এ-এভাবে.. এভাবে কা-কাউকে..." অনিন্দিতা কথা শেষ করতে পারল না। শুভ্রর গলার খাঁজে মুখ গুঁজে অস্ফুট স্বরে ডুকরে উঠলো মেয়েটা।

শুভ্র তৎক্ষণাৎ ওর মুখটা আগলে ধরে কম্পমান অধরে নিজের ওষ্ঠ চেপে ধরল, "শশশ্! আজ থেকে আমাদের কোনো অতীত নেই, নন্দিতা। আমাদের ছোট্ট পৃথিবীটাতে শুধু তুমি আর আমি। তৃতীয় কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই এখানে। আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমার নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি, আমার মেঘফুল!"

শুভ্রর বলিষ্ঠ শরীর আর অনিন্দিতার লতানো লতা যেন মিশে যেতে চাইল একাকার হয়ে। বাইরে রাত বাড়ছে, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে দুটি হূদপিণ্ডের ছন্দময় ধুকপুকানি। জানালার পর্দাটা বাতাসের দোলায় নড়ছে আলতো করে, যেন পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল থেকে আড়াল করে রাখতে চাইছে দুটি তৃষ্ণার্ত আত্মার এই পবিত্র মিলনকে।

৫৯.

ঘরটা অন্ধকার। কত রাত হয়েছে, কে জানে! অনিন্দিতা পিটপিট করে চোখ মেলতেই নিজেকে একা অনুভব করল। বালিশে মাথা রেখে শুয়ে আছে ও। শুভ্র ওকে জড়িয়ে ধরে নেই। মূহুর্তেই অজানা আশঙ্কায় বুকটা ধক করে উঠলো। অন্ধকারে হাত বাড়িয়ে নিজের ডান পাশটা হাতড়িয়ে যখন দেখল জায়গাটাও খালি, তখনই মাথাটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেল ওর।

শুভ্র কোথায়? ঘরে কোনো আলো নেই কেন?

"শ-শুভ্র?"

অনিন্দিতা যখন উঠে বসতে যাবে, ঠিক তখনই হঠাৎ করে ঘরের এক কোণায় থাকা ওয়াশ রুমের দরজা খুলে গেল নিঃশব্দে। আলোর বিপরীতে বলিষ্ঠ ছায়ার মুখ দৃশ্যমান নয়। এক পা, দু পা করে ঘরের ভেতর ঢুকে আসছে সে।

অস্ফুট একটা চিৎকার দিয়ে তড়িৎ উঠে বসতে গিয়ে মেরুদন্ড থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত তীব্র শিরশিরানি আর চিনচিনে ব্যথার একটা দীর্ঘ ঢেউ খেলে যেতেই কুঁকড়ে গেলো অনিন্দিতা।

"আহহ্..!"

"নন্দিতা?"

বলিষ্ঠ অবয়বটা সহসা দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসতেই অনিন্দিতা চমকে উঠলো কেমন।

"ন-নাআআআ! শ-শুভ্র! শুভ্র! বাঁচান!"

তীব্র আতঙ্কে অনিন্দিতার গলার স্বর বুজে এলো। দুহাতে চাদরটা বুকের সাথে চেপে ধরে খাটের একদম কোণায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করল ও। অসহ্য ব্যথাটা শরীর ছিঁড়ে দিচ্ছে, কিন্তু সামনের এই ভয়াবহ আতঙ্কের সামনে শারীরিক এই কষ্ট তুচ্ছ। দীর্ঘকায় অবয়বটা যখন ওর একদম কাছে চলে এলো, অনিন্দিতার মনে হলো ওর নিঃশ্বাস বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে এক্ষুণি।

"নন্দিতা! এটা আমি... আমি শুভ্র! ভয় পেও না সোনা, তাকাও.. তাকাও আমার দিকে!"

তড়িঘড়ি করে বেডসাইড ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে দিল শুভ্র। মুহূর্তেই মায়াবী সোনালী আলোয় ভরে উঠল ঘরটা। শুভ্র খাটের ওপর বসে অনিন্দিতাকে জাপটে ধরল দুহাতে। মেয়েটা তখনো কাঁপছে থরথর করে।

পরিচিত কণ্ঠস্বর আর গায়ের চেনা গন্ধটা নাকে আসতেই অনিন্দিতার কান্নার বেগ বাড়ল। পাগলের মতো শুভ্রর বুকটা খামচে ধরল ও।

"শু-শুভ্র.. শুভ্র... আপ-আপনি... কো-কোথায় ছি-ছিলেন? আম-আমি.. অ-অন্ধকার..."

শুভ্র ওকে শক্ত করে পিষে ধরল নিজের বুকের সাথে। ওর চুলে, কপালে ঘন ঘন চুমু খেয়ে শান্ত করার চেষ্টা করতে করতে বলল, "কোথাও যাইনি সোনা, এই তো আমি। ফ্রেশ হতে গিয়েছিলাম। মাত্র দশটা মিনিট... এত ভয় পেয়েছ কেন তুমি?"

কান্নার দমকে ফুলে ফুলে উঠছে মেয়েটার পিঠ। শুভ্রর প্রশস্ত বুকের উষ্ণতাও যেন শান্ত করতে পারছে না ওকে। শুভ্রকে খামচে ধরে যেন ওর বুকের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করছে মেয়েটা।

"আম-আমি.. ও-ওই লোকটা আব-আবার..."

অনিন্দিতার পিঠে অনবরত হাত বুলালো শুভ্র। মেয়েটা তখনো কাঁপছে, নিঃশ্বাসের টানে বুকটা ওঠানামা করছে দ্রুত লয়ে।

"শশশ্! আই অ্যাম হেয়ার, ইওর শুভ্র ইজ হেয়ার। আর কেউ নেই এখানে, দেখো... কেউ নেই। আই.. আ'ম স্যরি জান! আমার লাইট জ্বালিয়ে রেখে যাওয়া উচিত ছিল। আমি বুঝতে পারিনি তুমি এত তাড়াতাড়ি জেগে যাবে.. আ'ম স্যরি!"

শুভ্রর বুকটা চিরে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। ও উপলব্ধি করতে পারছে, ক্ষতটা হয়তো ওপর থেকে শুকিয়ে গেছে, কিন্তু মনের গভীরে সেই ভয়ের শিকড় এখনও কতটা তাজা।

বেশ কিছুক্ষণ পর অনিন্দিতার কান্নার গতি কমল, কিন্তু হেঁচকি থামছে না। শরীরটা তখনো ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে। শুভ্র ওর মুখটা দুই হাতের আঁজলায় তুলে ধরল। চোখের জলে অনিন্দিতার গালদুটো ভিজে একাকার, সোনালি আলোয় সেই ভেজা মুখটা বড্ড করুণ দেখাচ্ছে। শুভ্র নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে ওর চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেল।

"নন্দিতা, আমার দিকে তাকাও?" শুভ্রর কণ্ঠস্বর খুব শান্ত আর ধীরস্থির, "দেখো, দরজা ভেতর থেকে লক করা। আমি তোমার একদম কাছেই আছি। তোমার কোনো ক্ষতি হতে দেব না আমি নন্দিতা, কক্ষনো না।"

অনিন্দিতা বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। শুভ্রর চোখের গভীর চাহনি আর ওর শক্ত হাতের বাঁধন ওকে ধীরে ধীরে বাস্তবে ফিরিয়ে আনছে। ও বুঝতে পারল ও এখন নিরাপদ, ও এখন শুভ্রর ঘরে, শুভ্রর আশ্রয়ে। একটু আগের সেই অন্ধকার অবয়বটা আসলে শুভ্রই ছিল।

শুভ্র বুকে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করলো অনিন্দিতা। কিছুক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শুভ্র আলতো গলায় ডাকলো,

"নন্দিতা?"

"উম..."

অনিন্দিতার মুখের ওপর পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে ওর মুখের দিকে তাকালো শুভ্র। শান্ত মুখখানায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, চোখের পাতা দুটো বুজে এসেছে ঘুমের ভারে।

শুভ্র ঘড়ি দেখলো। এগারোটা পঁয়ত্রিশ বাজতে চললো। শুভ্র আবার অনিন্দিতার দিকে ফিরে ওর চুলগুলো গোছাতে গোছাতে আলতো গলায় ডাকল,

"নন্দিতা? ফ্রেশ হয়ে একটু খেয়ে তারপর ঘুমাও সোনা, ওঠো।"

"উঃ..."

অনিন্দিতা উত্তর দিল না, অস্ফুটে একটা শব্দ করে শুভ্রর বুকের আরেকটু গভীরে মুখ লুকাল। অনিন্দিতার গায়ে থাকা শুভ্রর শার্টের বোতামগুলো আটকানো থাকলেও শার্টটা ওর ঘাড় থেকে হেলে পড়বে পড়বে ভাব। শুভ্র ইচ্ছাকৃতভাবে সেটার হাতা টেনে ওর কাঁধের পুরোটাই উম্মুক্ত করে দিল। পেলব ত্বকে হাত বুলাতে বুলাতে চুলের ভাঁজে ঠোঁট ছোঁয়াতেই এবার একটু শিউরে উঠল মেয়েটা।

"ওঠো না, ফুল!"

অনিন্দিতা এবার কোনোরকমে চোখ মেলে কাতর দৃষ্টিতে তাকালো, "এখন না, প্লিজ! পরে, সকালে..."

ঘড়িতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে শুভ্র কিছু না বলে হঠাৎ করেই ওকে চাদরসহ পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। অনিন্দিতা চমকে উঠে ওর গলা জড়িয়ে ধরল তৎক্ষণাৎ।

"আরেএএ! কি করছেন কি! নামান আমাকে... আমি ফ্রেশ হবো না এখন! শুভ্র!"

"পাকনামি করবে না, নন্দিতা। যা বলছি চুপচাপ শোনো!"

"নাআআ! শুভ্র! নামান আমাকে! আমার তো আর আপনার মতো লোহার তৈরি শরীর নয় যে, এত রাতে শাওয়ার নিয়েও দিব্যি খালি গায়ে ঘুরে বেড়াবো। নামান আমা.. আহহ্..."

হাত-পা ছোড়াছুড়ি শুরু করা মাত্রই আচমকা তলপেটে টান লাগায় যন্ত্রণায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল অনিন্দিতা।

শুভ্র মূহূর্তে থমকে দাঁড়াল ওয়াশরুমের দরজার সামনে। কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ গভীর হলো ওর। অনিন্দিতার যন্ত্রণাকাতর মুখটা দেখে মোচড় দিয়ে উঠল ওর বুকের ভেতরটাও।

"নন্দিতা? আর ইউ ওকে?"

শুভ্রর উদ্বিগ্ন কন্ঠে অনিন্দিতা চোখ মেলে তাকালো। চিন্তিত চোখদুটোর পানে তাকিয়ে শুভ্রকে আশ্বস্ত করতে ক্ষীণভাবে মাথা নেড়ে বোঝালো ও ঠিক আছে।

---

"হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থডে ডিয়ার ওয়াইফি, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ!!"

অনিন্দিতা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল একটা বিশাল কেক হাতে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্রর দিকে। শুভ্র এগিয়ে এসে বিছানার পাশের মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে অসম্ভব সুন্দর ভ্যানিলা কেকটা রাখল বিছানার ওপর।

অনিন্দিতা নিস্পলক চোখে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। ওর ঘোর কাটছেই না। ওর মনে হলো ও কোনো স্বপ্ন দেখছে না তো? এই মানুষটা কখন করেছে এইসব আয়োজন? কখন কেক এনেছে? কীভাবে জেনেছে যে আজ ওর জন্মদিন?

ওর নিজেরই তো খেয়াল ছিল না আজ ওর জন্মদিন। গত একটা মাস ওর জীবনের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে, তাতে নিজের অস্তিত্বের কথা ভাবার অবকাশটুকুও ও পায়নি। দিন-তারিখের হিসেব রাখা তো অনেক দূরের ব্যাপার। অথচ এই মানুষটা...

কপালে লেপ্টে থাকা ভেজা চুলগুলো সরিয়ে আলতো হাতে কানের পেছনে গুঁজে দিতেই চমক ভাঙলো অনিন্দিতার।

"শু-শুভ্র... আপনি... আমার জন্মদিন?"

ওর গাল ছুঁয়ে হাসল শুভ্র। সেই মায়াবী হাসিটা, যেটা দেখলে অনিন্দিতার হূৎপিণ্ড যেন থমকে যায় এক মুহূর্তের জন্য।

"মোমবাতিগুলো কিন্তু নিভে যাচ্ছে। একটা উইশ করো আর চটপট ফুঁ দাও তো দেখি!"

একদৃষ্টে শুভ্রর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনিন্দিতার দুচোখ আবার ভিজে উঠল।

"আবার কান্না?" ভুরু কুঁচকে ওর চোখ মুছে দিল শুভ্র, "আজকের দিনে কিন্তু কোনো ধরনের কান্নাকাটি অ্যালাউড নয়, মিসেস শুভ্র। নিন, ফুঁ দিন চটপট!"

অনিন্দিতা কাঁপা কাঁপা হাতে শুভ্রর হাতের ওপর নিজের হাত রাখল। তারপর চোখ বন্ধ করে মনে মনে কিছু একটা উইশ করে ফুঁ দিয়ে মোমবাতিগুলো নেভালো। শুভ্র একটুকরো কেক তুলে ধরলো অনিন্দিতার মুখে। খানিকটা খাইয়ে দিয়ে বাকিটুকু সদ্যস্নাত কোমল অধরযুগলে লাগিয়ে দিতেই হকচকিয়ে গিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকালো অনিন্দিতা।

শুভ্র খানিকটা উঁচু হয়ে অনিন্দিতার কানের নিচ বরাবর হাত রেখে কোমল অধরযুগল হতে পরম তৃপ্তিতে বুঝে নিল নিজের পাওনাটুকু। অনিন্দিতার পুরো শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো শুভ্রর এহেন অতর্কিত কান্ডে। সদ্য স্নান সেরে আসা ভেজা শরীরটা থরথর করে কাঁপছে শুভ্রর তপ্ত ওষ্ঠের স্পর্শে।

শুভ্র ততক্ষণে কেকটা সরিয়ে রেখে বিছানায় ওর মুখোমুখি উঠে এসেছে। আর অনিন্দিতা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দুহাতে শক্ত করে খামচে ধরেছে বিছানার চাদরটা।

To be continued...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন