ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

১২তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ১২

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আবরার in mind: বলে তো দিলাম বিয়ে করবো না কিন্তু পড়ে কিভাবে মাকে মানাবো। দূর। আরোশি কে কি বলে দিবো সব? না না মাকে কসম দিয়েছি। কিন্তু ওই চুন্নি গেলো কোথায়? ছ্যে এক কালো পরী খুঁজতে খুঁজতে আরেক ময়দা পরী গায়েব । এই অবাধ্য নারী তো মিথ্যা বলবে না আমায় কখনো।

হঠাৎ আবরার আবার থেমে আরোশি এর দিকে ঘুরে বলে

আবরার: আরোশি আমার মাথায় ছুঁয়ে বল সারাকে তুই গায়েব করিসনি।

আরোশি আবরার এর চোখে চোখ রেখে মাথায় হাত দিয়ে বললো

আরোশি: আমি সারাকে কিছু করিনি। আমি জানি না সারা কোথায়।

আবরার: ওকে..

দুইজন বেরিয়ে আসে রুম থেকে। ওদের আসতে দেখে আবরার এর মা বলে

রোশনারা: ঐতো আসছে আমার ছেলের ঘর ভেঙ্গে কথায় ছিলি?

আরোশি: ঘর কেনো ভাঙতে যাবো। আবরার সাহেব!

আবরার: hmm

আরোশি: আপনি কি কোনো ঘর কিনেছেন?

কুমকুম বেগম: চুপ কর বেয়াদব তুই কিছু বুঝিস না? সব তুই করেছিস

আরোশি: করেছি কি সেইটা বলো তারপর সব সব করো।

রোশনারা: সারা কোথায়?

আরোশি: পার্লার থেকে আসেনি এখনও?

জেসিয়া: ভালোয় ভালোয় বল সারা কোথায়?

আরোশি: আরে আজব আমি কি ওকে নিয়ে বসেছিলাম।

রোশনারা: হেলাহি না করে তাড়াতাড়ি বল তুই কি করেছিস সারার সাথে।

আরোশি: আসলে আজ অনেক সুন্দর করে সেজে ছিল তাই আমি নিজেই বিয়ে করে ফেলেছি।

রোশনারা: আবারো, তোকে তো আম--

এইটা বলে আরোশি কে চর মারতে গেলে আজমুল এসে ধরে ফেলে। তখনই সারার বাবার ফোন বেজে উঠে। ফোন কানে দিলে ওপর পাশের মানুষ টা ফোন স্পিকার এ দিতে বলে।

রাজেদ: হ্যালো

??: আরে আরে কি অবস্থা বিজনেস ম্যান কেমন আছেন? বিয়ে শাদী কি শেষ?

রাজেদ: কে তুমি?

??: এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন?

রাজেদ: ফালতু কথা না বলে ফোন করার কারণ বলো

??: হা হা হা সারা নামের কেউ কি আপনাদের কিছু লাগে? রাজেদ সাহেব আপনার কি কিছু লাগে সারা নামের মেয়ে টা?

রাজেদ: কি করেছ আমার মেয়েকে বলো। সারা কোথায়। কি করেছ? কি চাই! কি লাগবে?

??: আরে আরে আস্তে আস্তে এত কথা একসাথে বললে কিভাবে। তো কি বলছিলেন miss sara আপনার মেয়ে! বাহ আপনার মেয়ে তো খুব সুন্দর। আমার কিন্তু একদিন এর জন্য খুব ভালো লেগেছে । আপনি যদি এক--

আজমুল: কি চাই?

??: হা হা হা আমার! বেশি কিছু না ব্যাস আমার সাথে একটা বিজনেস ডিল করেন।

রাজেদ: কোনটা। কি ডিল?

??: দ্বীপের মাঝে রিসোের্ট বানালে কেমন হয়?

রাজেদ: কিহ! তুমি জানো এইটা করলে আমার কত লস হবে। আমার বিজনেস মার্কেট নিচে নেমে যাবে।

??: হাহাহা চিন্তা করবেন না ডিল এর জন্য আইডিয়া বদলাতে পারে। ভেবে নেই ।

রাজেদ: আমি তোমার সাথে কোনো ডিল করবো না।

??: ওহ তার মানে মেয়ের জান আপনার জন্য প্রিয় না?

রাজেদ: আ-আচ্ছা যা বলবে হবে। কে তুমি এইটা বলো।

??: আপনার জীবন এখনও আছে আস্তে আস্তে আমায় চিনবেন। পেপার পাঠাবো পড়ে সাইন করে দিবেন তারপর মেয়ে পাবেন। চিন্তা করবেন না মেয়ে আপনার সহি সালামত পাবেন আর যদি--

রাজেদ: না না প্লীজ। কখন পাঠাবে পেপার?

??: কেনো মেয়ের কথা খুব মনে পড়ছে?

রাজেদ: দেখো ওর আজ গায়ে হলুদ কাল বিয়ে বুঝতেই পারছো।

??: ওহ তো কার সাথে? হোম মিনিস্টার আজমুল আর mrs. রোশরানার বড় ছেলের সাথে।

??: ওহহহ আপনার জবাব হয় না ওই বাড়ির মেয়ের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এ গোলমাল করে ওই বংশে নিজের মেয়ে দিচ্ছেন?

রাজেদ: এ-এই ছেলে কি বলছো এইসব। আ-আমি কিছু--

??: থাক থাক আমার এত টাইম নেই কথা বলার পেপার হাতে পেলে সাইন করে দিবেন।

বলে ফোন কেটে দেয়। রাজেদ এর কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে দেখে আজমুল সাহেব ব্রু কুঁচকে বলে

আজমুল: কি বললো ও। তুমি কার বিজনেস এ কি করেছো?

রাজেদ: আ-আরে যা খুশি বলে এরা। নোংরা মানুষ সম্পর্কে ফাটল ধরানোর জন্য এইসব বলে। ভাই প্লীজ কিছু করুন। আমার মেয়ে কে এনে দিন। আমি ও লোক পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনার তো বেশি পাওয়ার কিছু করুন দয়া করে। বিয়ে টা না হলে আমার অনেক অসম্মান হবে। বুঝতেই তো পারছেন।

আরোশি: হম পারছি আমরা বুঝতে যে মেয়ের জন্য না সম্মানের জন্য এমন করছেন।

রোশনারা: তুই চুপ কর।

আরোশি: মুখ কি চুপ থাকার জন্য?

আবরার: আহহা।

জেসিয়া: আমার বিশ্বাস এই ছেড়ি কিছু করছে। ওই কসনা কেন কি করছিস আমার ভালা নাতির লগে।

আরোশি: বেশি ভালো তো তাই উড়ে গেছেগা বুড়ি। ব্যাস তুমি যাও নাই। তোমার ও তো সময় হইসে।

কুমকুম: মুখ সামলে কথা বল তোর থেকে সে বড়।

আরোশি: আমি কি বলসি ছোট?

কুমকুম বেগম: ছি তোর সাথে কথা বলাই বেকার।

আরোশি: তাহলে কামাই করো বেকার মনে হবে না।

আজমুল: আরোশি

আরোশি: জ্বী

আজমুল: সারাকে খুঁজে নিয়ে আসো। এইটা বাড়ির সম্মানের বিষয়।

আরোশি: যে ফোন দিয়েছে তার ঠিকানা, নাম, পরিচয়, কে কোথায় রেখেছে বলুন আমি নিয়ে আসছি।

রাজেদ: আরে এইসব জানলে তো আমরাই নিয়ে আসতাম।

আরোশি এইটা শুনে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে চেয়ার টেনে বসে হাতে আঙ্গুল দিয়ে আকাঝুকি করছে।

আরোশি: ইসস পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না। (বিড়বিড় করে)

রাজেদ: কি বললাম শুনোনি?

নিহাদ: তোমরা না জানলে ও জানবে কি করে?

আবরার: তোকে কিছু বলতে বলেছি? ওর সাপোর্ট কেনো নিচ্ছিস?

আরোশি in mind: এইযে ঘরে কত ভালোবাসা দেখালো এইখানে শেষ। শালা ভীতু বিলাই

নিহাদ: আরে পক্ষ নেয়ার কি আছে আমি তো বলছি যেটা সত্য।

আনান: এই আরোশি তুমি জানো সারা কোথায়?

আরোশি: না।

আনান: দেক।

আজমুল: আরোশি তাকাও আমার দিকে।

আরোশি: বলো

আজমুল: তুমি কি কিছু করেছো সারার সাথে।

আরোশি তার বড় আব্বুর চোখে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে।

আজমুল: বলো।

আরোশি: না। আমি কিছু করিনি সারার সাথে।

আজমুল: ঠিকাছে। (আরোশি এর মাথায় হাত বুলিয়ে) আমি দেখছি কি করা যায়।

আরোশি: হাইপার হইয়ো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।

আজমুল: হম।

এই বলে চলে যায়। আরোশি এর বলা "হাইপার হইয়ো না। সব ঠিক হয়ে যাবে" শুনে সে যেটা ভাবছে সেইটা হলে আর চিন্তা নেই এইসব সম্মান নিয়ে মিডিয়ার কাছে। কারণ তার ধারণা যা হচ্ছে তা কন্ট্রোলেই আছে। এখন সে বাসায় যেয়ে একটা ঘুম দিবে। কাল আবার খবরে বড় সরো ধামাকা কিছু শুনার আছে। এইখানে ঘুমানো যাবে না অনেক চিল্লাচিল্লি। গেস্টরা রাতে এইখানেই থাকবে। তারাও থাকতো কিন্তু এই জামেলার জন্য চলে যাচ্ছে।

রোশনারা: আবরার তুই আমার সাথে আয় এই মেয়ের কাছে থাকবি না।

নিহাদ: কেন ওর শরীলে কি ভাইরাস?

রোশনারা: তুমি বুজবে না। আবরার আয়।

আরোশি: যাচ্ছেন না কেনো আপনায় ডাকছে জান।

আবরার: চুপ কর অপদার্থ। মা আমি আসি তুমি যাও ছোট আম্মু কে নিয়ে। আর দাদু কে কান্না বন্ধ করতে বলো সব ঠিক হয়ে যাবে।

রোশনারা: তুই কি করবি এইখানে থেকে। সারা কেও খুঁজতে হবে

আবরার: বাবা আর সারার বাবা খুঁজছে তো।

রোশনারা: তবুও। তোর ফুপির অবস্থা খারাপ মাথায় পানি ঢালছে। আজ এইখানেই থাকতে হবে।

আবরার: উফফ।

নিহাদ: আরে যা দোস্ত। এইখানের চিন্তা করিস না আমি সুন্দরীকে নিয়ে বাড়ি ফিরবোনি। তুই আন্টি আর তোর ছোট আম্মু কে নিয়ে ফুপির কাছে যা।

আবরার: সুন্দরী কে?

নিহাদ: কে আবার আরোশি। চাঁদের মত সুন্দর দেখিস না!

আবরার: তুই ওই নজরে কেন তাকাস ওর দিকে?

আনান: তোর কি সমস্যা?

আবরার: তুই ওর সাপোর্ট কেনো নিচ্ছিস।

আনান: মন চায়।

আবরার: নিহাদ ওকে এইসব নামে ডাকবি না সাইকো কিল্লার।

নিহাদ: তোর হাসি ও সুন্দর কিন্তু তোরে দুইটা কারণে মারতে পারবো না এক তুই আমার জিগরি দোস্ত আর দুই আরোশি এর জান।

আবরার: ufff এই আরোশি আয় আমার সাথে।

আরোশি: কেনো?

আবরার: কাজ আছে।

কুমকুম: আমার কিছু কথা আছে আরোশি এর সাথে তুমি যাও।

আবরার: আমার ও আছে ছোট আম্মু।

নিহাদ: তোর ওর সাথে কিসের কথা?

আবরার: তোরে কেনো বলবো। তুই যা।

নিহাদ: না।

আবরার: মর গা বাল।

আরোশি: ahha কি বির বির করছো তোমরা।

আনান: কিছু না সুন্দরী।

আবরার: তোদের পরে দেখে নিবো

আনান: আরে কি করবো সত্য বের হয়ে যায় মুখ দিয়ে। তুই আয় আমি গাড়িতে আছি। বাড়ি যেতে হবে ফোন আসছে বাসার থেকে।

কুমকুম: আমাকে বল তুই কি কিছু করেছিস?

আরোশি: আরে মা মন্ত্রী সাহেব আমার মত এত রোমান্টিক না তাহলে না কিছু করবো।

কুমকুম: ছি। (লজ্জায় চলে যায়)

আবরার: ছি ছি কিসব বলিস। লজ্জাহীন মেয়ে।

আরোশি আবরার এর সামনে যেয়ে গালে হাত বুলিয়ে বলে

আরোশি: আপনার জন্য স্বেচ্ছায় সকল রূপ নিতে রাজী। আপনাকে ভালোবাসার জন্য প্রয়োজনে লজ্জা সরম এর মাথা খেয়ে নিলজ্জ হয়ে যাব। দরকার এ আপনার প্রতি লজ্জাহীন খাতায় নাম লিখাবো নিজের। রক্তে মিশে যাবে নিলজ্জ।

সাথে সাথে আবরার সরে যায়। গাল দুটি লাল বর্ণ ধারণ করেছে। গরমে? নাকি তার মন্ত্রী সাহেদ লজ্জা পাচ্ছে! আরে ছেলে রাও লজ্জা পায় বাহ লজ্জা পেলে কি মানুষের সুন্দর্য আরো ভিত্তি পায়? সে তাহলে লজ্জা পায় না কেনো তাহলে সেও সুন্দর হয়ে যাবে আর তার আবরার সাহেব তার লজ্জার সুন্দর্যের প্রেমে পড়বে। আরোশি এইসব ভেবে একটা মুচকি হাসি দেয়।

নিহাদ: আরে বাহ এইভাবে আমায় কেউ বললে আমি তো জান দিয়ে দিতাম খুশি খুশি।

আরোশি: ওহো তাই। আপনার স্টোরি কেমন হবে জানেন।

নিহাদ: কি?

আরোশি: A phy*co serial k!ller who k*ll people whomever have beautiful smile fall in love with a beautiful girl's smile... yeah it's good one

নিহাদ একদম আরোশি এর কাছে যেয়ে আরোশি এর সামনে আসা ছোট ছোট চুল গুলো সরিয়ে দেয়। আবরার এইটা দেখে রেগে সেইখান থেকে চলে যায়। এই মেয়ে কে যতই বলে ততই অন্যের সাথে চিপকায়। ইচ্ছে করে গাল দুটো লাল করে দিতে। অবাধ্য নারী।

নিহাদ: Ohh my babygirl let's see what happens in future.

আরোশি: Sure. সরুন আবরার এর কাছে যাবো।

নিহাদ: যাও যাও তোমার আবরার রিয়াদ চৌধুরী অপেক্ষা করছে। আরোশি তুমি অনেক চালাক চতুর একটা মেয়ে। বিয়ে তে আসলেই কিছু করো নি? কাল খবরে এইটা আসলে আঙ্কেল কিন্তু অপমান হবে। সারা কোথায় জানো না? কিছু করো নি?

আরোশি: না।

নিহাদ: ওকে বিশ্বাস করি। (Chuckle)

নিহাদ চলে যাওয়ার পর ঐখানে আর কেউ নেই। উপরের রুম থেকে এখনও দাদীর আর রোশনারার কান্না শুনা যাচ্ছে। গেটে তাকিয়ে দেখে ডক্টর ঢুকলো। নিশ্চই সারার ময়ের জন্য। আরোশি পুরো বাড়িতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে সোফায় গা হেলিয়ে বসলো তারপর চোখ বন্ধ করে একটা বাকা হাসলো।

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন