ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

১৯তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ১৯

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আবির: বিয়ে হওয়ার ঠিক নাই এখনি সব।

রোশনারা: মাইর খাবি। বিয়ে হবে না কেন? হতেই হবে।

আবির: হম হম হবে হবে। দেখা যাক (বিড়বিড় করে)

রোশনারা: কি বছিস শুনি না।

আবির: কিছু না

রোশনারা: বিড়বিড় না করে খা। আমি দেখে আসি তোর বাবা কি করছে। সে তো ব্যাস্ত কাজ নিয়ে।

_________

আরোশি রুমে ঘুমিয়ে ছিল হটাৎ ফোনের শব্দে বিরক্ত "চ্য" শব্দ করে খিটখিটে মেজাজে ফোন ধরে কানে দেয়।

-: কোথায় আপনি আপু?

আরোশি: কেন বাসায়।

-: এই জাগায় জামেলা হইসে।

আরোশি: আরে রাজনীতি মানেই জামেলা। ঠিক কর।

-: ঠিক হইতাসে না।

আরোশি: কি জামেলা?

-: সেরান উপজেলায় মিসিল ফেলসি না!

আরোশি: হম। পুরা টা বল। অর্ধেক কথা বললে উষ্ঠাবো।

-: আব আ 😅। ওই জাবেদ আলীর পোলাপাইন জামেলা করছে। আমগো পোলাপাইনরে পিটাইসে আপু।

আরোশি: কমিশনার সাফি কে জানা।

-: ফোন ধরে না ওই মহিলা।

আরোশি: কমিশনার বানাইসেকে এইটারে? আগে জামেলা শেষ হক তারপর এইটা কে সরাতে হবে। কোনো কাজের না।

-: হম। এখন কি?

আরোশি: কি চায় ওই জাবেদ আলী

-: আপনার বাসায় যাইতাসে।

আরোশি: ওই আমি কি চা নাস্তা নিয়ে বসছি? বাসায় বউ নাই?

-: আছে তো।

আরোশি: চেহ। একটা কে মারলে আরেকটা জিন্দা হয়ে যায়। রাস্তায় এত কাটা। যাইহোক আসতে দে ওইটাকে। আমি দেখতেছি। আহত পোলাপান গুলারে কি করেছিস?

-: হসপিটালে আছে।

আরোশি: বিল প্যা করেছিস?

-: না।

আরোশি: করিস না। সময় মতো প্যা হয়ে যাবে। (বাকা হেসে)

-: ঠিক আসে।

আরোশি: আসে না আছে হবে। কথা বলতে ও শিখিস নি।

আরোশি ফোন রেখে উঠে বসলো। দেখলো মাত্র আট টা বিশ বাজে। আরেকটু ঘুমাতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু কাজ আছে। ফ্রেশ হয়ে নিচে যেয়ে দেখে সবাই ব্যাস্ত। অনেক টাই সাজানো শেষ। ধরতে গেলে শেষই। আরোশি যেয়ে সোফায় বসলো। আসে পাশে সব সাদা দেখে একটা বাকা হাসলো আরোশি। হাক ছেড়ে মরিয়ম কে ডাকলো নাস্তা আজ সোফায় করবে। মরিয়ম এসে নাস্তা দিয়ে আরোশি এর পাশে নিজে ও বসলো নাস্তা করতে। মরিয়ম এর কাছে আরোশির সাথে খেতে বসা এইরকম সুযোগ হাত ছাড়া করা পাগলের কাজ। আরোশি তো তার পছন্দ আপু। আরোশি তার চেয়ে বয়সে ছোট কিন্তু সম্মান করে আরোশি আপু ডাকে। আরোশি কে সোফায় বসে নাস্তা করতে দেখে আজাদ, নানু, মামী ও পাশে বসলো।

আরোশি: নাস্তা করেছো?

Ajad: হম সবাই করেছি। কি ব্যাপার মরিয়ম দেখি আজ আরোশি রানীর সাথে খেতে বসেছো।

মরিয়ম: আসলে ভাইজান আমার আরোশি আপু অনেক পছন্দের। আজ সুযোগ পাইসি তাই বইয়া পরসি। (মুচকি হেসে)

মামী: বাহ। (হাসতে হাসতে)

আরোশি শুধু আড়চোখে একবার তাকালো মরিয়ম এর দিকে তারপর আবার খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। তখন উপর থেকে আবরার আর সারা নামছে একে উপরের হাত ধরে। তারা এসে বড় ড্রইং রুমের একটা সোফায় বসলো। আরোশি তখনও নিচের দিকে তাকিয়ে খাচ্ছে। জেসিয়া চৌধুরী ও এসে বসলো। রোশনারা তখন সবার জন্য চা নিয়ে এসে সবাই কে দিল। আস্তে আস্তে সবাই বসলো। এর অবশ্য কারণ আছে। ড্রেস ডিজাইনার এসেছে বিয়ের জন্য কে কি পড়বে একে অপরকে জামা দেখাচ্ছে। রিমা ও বসলো। জামা টাই সুদু বাকি ছিল এছাড়া অন্যান্য সব কিছু সব শেষ। সবাই জামা কাপড় দেখতে ব্যাস্ত।

আজমুল: তুমি কি যেনো বলতে চেয়েছিলে?

আরোশি: হম।

আজমুল: বলো।

আরোশি: এইবার তুমি জিতে গেলে আমি রাজনীতি থেকে হাত সরাবো।

(সবার কাজ বন্ধ। তাকিয়ে আছে আরোশির দিকে। আরোশি তাদের দৃষ্টি উপেক্ষা করে মরিয়ম কে বলে)

আরোশি: মরিয়ম নিয়ে যাও। আমার খাওয়া শেষ।

মরিয়ম: জ্বী

কুমকুম: মরিয়ম ঐগুলা রেখে এইদিকে এসে তুই ও কিছু নে।

মরিয়ম: আমি? না না খালাম্মা লাগবো না।

আরোশি: নিতে বলছে নাও। (ফোন দেখতে দেখতে)

মরিয়ম: জ্বী আরোশি আপু।

কুমকুম: বলতে দেরী রাজি হতে দেরী নেই। আমি ও তো বললাম।

মরিয়ম: আ আব আমি রেখে আসতেসি। 😅

মরিয়ম খাবার নিয়ে চলে গেলে আরোশি ফোন রেখে আয়েস করে বসলো তারপর সবার দিকে তাকিয়ে বললো।

আরোশি: কি হয়েছে তাকিয়ে আছো কেন। আমি সুন্দর আমি জানি। আমার জান তাকিয়ে আছে এইটা মানান সই। কিন্তু তোমরা নজর দিলে চোখ উঠিয়ে ফেলবো। (মুচকি হেসে)

আরোশি এর শান্ত সুরে থ্রেট শুনে তারা চোখ সরিয়ে ফেলে। কিন্তু সারা আবরার এর হাত শক্ত করে ধরে যেনো সারার সব আবরার এর উপর নির্ভরশীল। তারপর সাহস করে বলে।

সারা: তোর সাহস আছে। ক--

রিমা: চুপ।

আজমুল: চোখ কে ভালোবাসো না?

সারা: কিন্তু বড় আব্বু--

আরোশি: যে নিজে আরেক জনের হাত ধরে কথা বলার সাহস পায় তাকে আর আমি কি বলবো। কি মনে হয় আমি ভয় পাই আবরারকে? যে ওহ থাকলে তকে কিছু বলতে পারবো না! (বাকা হেসে)

আজমুল: আরোশি বলো কেন এমন চাও তুমি? রাজনীতি কেনো ছাড়বে।

আরোশি: আম--

আবরার: আমার মনে হয় আরোশি ঠিক কাজ করছে। এমনি ও ডক্টর বলেছে মাথায় প্রেসার কম নিতে।

আজমুল: হম ঠিক। কিন্তু--

Abrar: তুমি নিজের--

আরোশি: আরে আমাকে বলতে দাও আমার কথা। জান এত যে কেন ভালোবাসো আমায়। (লজ্জা পাওয়ার ডং করে)

আবরার: ফাজিল। কাল এত কিছুর পর ও ভালো হয়নি। আমি আর কিছু বলবো না। (বিড়বিড় করে)

আরোশি: একেবারে ছাড়া সম্ভব না এইটা তুমি জানো বড় আব্বু। আর আমি বিজনেস এ ফোকাস করতে চাই। রাজনীতি করবো যত টুকু বিজনেস এ প্রয়োজন।

আজমুল: একি হলো। শুধু বিজনেস এর জন্য করলে এইটা না করার মতই। এখন যেমন বড় বড় মন্ত্রী মিনিস্টার টা লাইন ধরে তোমার সাথে জাস্ট একবার দেখা করার ওরকম তখন থাকবে না এত।

আরোশি: কিযে বলো বড় আব্বু এত বছর রাজনৈতিক করো অথচ ভালো করে জানোই না। আমি হাত সরালেও আমার নাম শুনলে সারাজীবন কাঁপবে।

আজমুল: তুমি যে কি চাও আমি বুঝি না। আমার তোমাকে এই পলিটিশিয়ান এ প্রয়োজন আরোশি।

আরোশি: আমি ছাড়া ও তোমার যতেষ্ট নাম, ডাক আছে ভুলে যেও না। যতেষ্ট বুদ্দি আছে তোমার বাকি পথ একা চলার জন্য। আর আমি তো কম বেশি আছি। এই "আছি" টা মাথায় রাখো।

আজমুল: ঠিক আছে যেমন টা তুমি চাও।

আরোশি: চেয়ে আর পেলাম কই? তোমার ছেলে কে দিয়ে দাও আর কিছু চাইনা এই জীবনে। পাশে ললিতা বসিয়ে লাভ কি বলো। আমাকে বিয়ে করতে বলো আমি ললিতা হয়ে থাকবো। কিন্তু তার এই ললিতা কখনো আরোশি হতে পারবে না।

সারা: তোর মত হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

আরোশি: মর তাহলে। মরিস ও তো না শা*লী।

জেসিয়া: ওই সেরি মুখের ভাষা ঠিক কর নয়তো--

আরোশি: কি করবে? বেচারা আমার দাদা যে বিয়ের পর কষ্ট করেছে তার মৃত্যুর পর আমরা বুঝতে পারছি

জেসিয়া: থা*প্পড় চিনিস?

আরোশি: না। তুমি নিজের উপর প্রয়োগ করে দেখিয়ে দাও।

সারা: দেখেছো ছোট আম্মু তোমার মেয়ে কত বেয়া*দব।

কুমকুম: আরোশি ভুলে যাস না এইখানে তোর বড় আব্বু আছে।

আরোশি একবার তার তার বড় আব্বুর দিকে তাকালো যে এখন রবিন এর সাথে কথা বলায় ব্যাস্ত। এদের ঝগড়া দেখেও যেনো দেখেনি। আরোশি চোখ ফিরিয়ে আবার সারার দিকে তাকালো।

আরোশি: এইটা আমার মা কে বলেছে! যে নিজের মেয়ের অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পর্যন্ত যায় না।

আরোশি কথা টা বলে কিছুক্ষন চুপ থেকে হেসে বলে

আরোশি: আমি এই বাড়ির রানী তুমি রাজমাতা কিন্তু বেচারী রাজমাতা আফসোস একটাই যে ভালো মা হতে পারলো না সে আবার কিসের রাজমাতা হবে?

আরোশির মা আর দাড়ালো না চলে গেলো সেইখান থেকে। পরিস্থিতি ঠিক করার জন্য নানু বললো

-: আরে আরোশি আমি আজ তোকে একটা শাড়ি দিবো বিয়ের পরের দিন ওইটা পড়বি।

তার কথার মানে কেউ না বুজলে ও আরোশি বুজলো । উত্তরে মুচকি হাসলো শুধু। সেও উপরে নিজের রুমে চলে গেলো ছেলের বউ কে নিয়ে।

সারা: দেখেছো বড় আম্মু কিভাবে ছোট আম্মুকে সবার সামনে লজ্জা দিল।

রোশনারা: ওতো--

আরোশি: ওই তোর সমস্যা থাকলে তুই যেয়ে লজ্জা ভাঙ্গা। কানের সামনে মাছির কাজ করছিস কেন গাধা কোথাকার।

সারা: তুই গাধা আমি সিংহ রানী। যতেষ্ট সাহস আছে আমার।

আরোশি: পার্থক্য কি? দুই টাই তো জা*নো*য়ার। আসলেই তুই সিংহ আবার গাধাও। ( জোরে হেসে উঠে)

আবরার: তোর সাহস কত তুই ওকে এইসব বলিস।

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন