ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৩৬তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৩৬

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আরোশি: চোখে পানি টলটল করে লাভ নেই। আমি হার্টলেস। দয়া মায়া কাজ করে না barbie girl

লিলি: কি মনে করেছিস আবরারকে কেন বিয়ে করেছিস আমি কিছু জানি না? তোর মত মেয়েরা চায় এমন ভালো ছেলেকে নিজের জামা খু*লে ফাঁসাতে। রাজনীতিতে এই পর্যন্ত এসেছিস তো এইসব করেই। আবরার ফাসেনি বলে তোর ego তে লেগেছে তাই তুই ষড়যন্ত্র করে বিয়ে করেছিস। বে*** তুই।

এইসব কথা শুনেও আরোশি খুব স্বাভাবিক ভাবেই বসে আছে। হটাৎ লিলি কান চেপে ধরলো। ভয়ে হাত, পা কাপছে। আরোশি গু*লি করেছে ঠিক লিলির দুই পায়ের মাজ খানে খালি অংশে। বু*লেট যেয়ে পিছনের দেয়ালে লাগে। ঠিক তখনই আবরার রুমে এসে লিলির এই অবস্থা দেখে লিলিকে ধরে। আবরারকে দেখে লিলি ও সুযোগ পায়। জড়িয়ে ধরে কান্না করা শুরু করে।

লিলির দুই কাদে হাত রেখে আবরার অবতরণ জিজ্ঞাস করছে "কি হয়েছে"। আরোশি বসে তাদের তামাশা দেখছে। মনে চাচ্ছে দুইটাকে উড়িয়ে দিতে কিন্তু সে পারবে না। একপাশে ভালোবাসা যার শরীলে ফুলের টোকা ও সহ্য করবে না আরোশি। আর আরেক পাশে ভালোবাসার বেস্ট ফ্রেন্ড উরফে আরেক ললনা যাকে মারা মানে ভালোবাসার চোখে আরো খারাপ হওয়া। তাই কন্ট্রোল কন্ট্রোল। এইসব ভেবে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরোশি নিজেকে শান্ত রাখে। এইখানে আরেকটা মেলোড্রামা হবে সে জানে। নিশ্চই এখন আবরার এর সামনে এই লিলি ইনোসেন্ট সাজবে। পি*স্তল চাইলে লুকাতে পারতো আরোশি। কিন্তু সে কেন লুকাবে? ওর যতেষ্ট সাহস আছে। ভয়ে মানুষ লুকায়। সে তো আর ভীতু না।

আবরার: কি হয়েছে? বল আমায়?

লিলি: আরোশি আমায় মারতে চেয়েছে।

আবরার: কিহ!!! ওহ এইটা করতে যাবে কেন? ওর খেতে দেয়ে কাজ নেই?

আরোশি ও আবরার এর কথার সাথে তাল মিলিয়ে বলে

আরোশি: আমার খেয়ে দেয়ে অনেক কাজ। সব চেয়ে বড় কাজ জামাইর আদর খাওয়া। বুঝেছ barbie girl?

লিলি: তুই কি আমায় বিশ্বাস করিস না আবরার? আমার কাছে প্রমাণ ও আছে।

আবরার: কি প্রমাণ?

আরোশি: কি আর প্রমাণ হবে? ওর মাথার গো*বর'ই ওর প্রমাণ।

আবরার: আরোশি !!

লিলি: ঐযে দেয়ালে তাকা। বু*লেট ছুঁড়েছে আমার উপর যেইটা দেয়ালে লেগেছে। তারপর ও বিশ্বাস না হলে ওর কাছে যা ব্যাড এ পি*স্তল আছে।

আবরার সত্যি আরোশির কাছে যায়। লিলি বাকা হাসে তা দেখে আরোশি ও বাকা হাসে। লিলি বুজলনা কেন। আবরার কাছে যেতেই পেয়ে যায় পি*স্তল। আবরার রেগে আরোশির দিকে তাকায়। এতে আরোশি cute একটা স্মাইল করে।

আবরার: মা*রতে কেন চেয়েছ লিলি কে? আমার সাথে ক্লোজ তাই? আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তাই?

আরোশি: আচ্ছা মন্ত্রী সাহেব আপনি বলেন আমি কি এতই কাঁচা খেলোয়াড় যে আমার নিশানা ভুল হবে? মা*রতে চাইলে আরোশি চোখ বন্ধ করে নিশানা চালাতে ও জানে।

আবরার খুব ভালো করে জানে এইটা।

আবরার: তাহলে উল্টা পাল্টা নিশানা চালিয়েছ কেন ওর উপর?

আরোশি: ও এই রুমে আসলো কেন?

লিলি: অসুস্থ একটা মানুষ কে দেখতে আসবো না? তোমার মত নাকি যে নিজের মায়ের অসুস্থতে দেখতে আসেনি।

আবরার বিরক্ত হয়ে বলে

আবরার: লিলি না জেনে কথা বলবি না।

লিলি: না জানার কি আছে? তুই ওর পক্ষ নিচ্ছিস কেন?

আবরার: বউ লাগে তাই (বিড়বিড় করে)

লিলি: কি বিড়বিড় করছিস।

আরোশি: এইটাই বিড়বিড় করছে যে তুমি পাবনা থেকে ছুটলে কবে? মন্ত্রী সাহেব আমার মনে হয় গেইটে হয়তো দারোয়ান ছিল না তখন।

আবরার: বেশি বলছো তুমি।

আরোশি: তাই?

আবরার: হ্যা তাই। ফাজিল

আরোশি: i love you

আবরার ভ্যাবাচ্যাক খেয়ে যায় হটাৎ আরোশি এইটা বলাতে। প্ররক্ষণেই মনে পড়ে বউ তার নির্লজ্জ। কে সামনে আছে দেখে না বরং মুখে যা আসে তাই বলে। আবরারকে চুপ করে আরোশির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে লিলি বলে

লিলি: আবরার তুই এখন কোনো বিচার করবি না আমি জানি। আরোশি অসুস্থ বলে মাফ করে দিবি। আমি চলে যাবো। তোর সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে দিবো। তোর আর আমার এত সুন্দর সম্পর্ক কে ও বাজে কথা বলেছিল সেইদিন আর আজ আমায় মারতে চেয়েছিল। (মন খারাপ করার অভিনয় করে)

আরোশি: আমিন। যা ভাগ এইখান থেকে শা*লী।

আবরার: আহহা আরোশি। কি শুরু করেছো? তুমি না অসুস্থ? কিসের আমিন? তুমি আমার সাথে যাদের সম্পর্ক ভালো তাদের কে আমার থেকে সরিয়ে দিতে চাও। নিজেকে বাকি 10 টা থার্ড ক্লাস মেয়ের মত প্রমাণ করো না। দিন দিন বেড়েই যাচ্ছ। এর শেষ ভালো হবে না।

আরোশি: শেষ তো এমন হবে যে আপনি কল্পনা ও করতে পারবেন না। (বাকা হেসে)

আবরার আরোশির কথা শুনে কাছে যেয়ে গাল চেপে বলে

আবরার: আমি ও দেখে ছাড়বো সোনা। শেষ টা কি হয়। কিছু বললাম না অসুস্থ তাই। কিন্তু সময় আম--

আরোশি: আঃ আঃ সময় তো আমার আসবে। এখন আপনার সময় চলছে। করেন করেন যা ইচ্ছে। (বাকা হেসে)

॥

সাতদিন হয়ে যায় আরোশি বাড়ি ফিরেছে। কাজে যাওয়া ও শুরু করে দেয়। তিন দিন পর মেয়র নির্বাচন শুরু হবে। নানান এলাকায় মিছিল ছেড়ে দিয়েছে আরোশি। স্লোগান এর দায়িত্ব বিল্লাল কে দিয়েছে। আর নিজে তো বাড়িতে আসার ও সময় পায়না ঠিক মত। আবরার ও অনেক ব্যাস্ত। সেইদিন আমির আসহাব এর সাথে বিজনেস ডিল করে ফেসে গিয়েছে। আবরার নিজেও বুঝতে পারছে লস হবে। তখন'ও জানতো কিন্তু রাগের মাথায় একসেপ্ট করে নেয়। তাই নতুন প্রজেক্ট এর উপর কাজ চলছে। এইটাতে সাফল্য হলে ওই প্রজেক্ট এর লস কিছুই না। তার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে আবরারকে। কখনো কখনো বাড়ি ও ফিরে না। রাত দিন অফিসে পার করে দেয়। বউ কে সময় দিবে তাও পারছে না। আর এক মাহিয়া তো আছেই। শুধু তার আগে পিছে ঘুরে বেড়ায়। বিরক্ত,

সেইদিন হসপিটালে ওই ঘটনার পর আরোশি কে বাড়িতে নিয়ে আসার সময় ওকে গাড়িতে বসিয়ে লিলিকে সাইডে নিয়ে এসে আবরার বলে

আবরার: আমার বউ অসুস্থ। এক তো ছোট আম্মুকে র*ক্ত দিয়েছে, গু*লি করেছে নিজেকে, আবার ব্রেইন স্ট্রোক। আমি চাইনা তোর হয়ে আমার চেঁচামেচির ফলে ওর মাথায় চাপ পরুক। বউ আমার একটাই। দুইটা হইলে কথা ছিল। অনেক সখের বউ। এমনিও 24 ঘন্টা বউয়ের মুখে নির্লজ্জ কথা শুনিনি বলে দুনিয়া নিরামিষ লেগেছে। তোর কথা পরে বিচার করবো। বাড়ি চল। আর ঝামেলা করবি না।

সেইদিন লিলি আবরার এর মুখ থেকে এইসব শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিল। এত পাগল আরোশির জন্য! আস্তে আস্তে আবরারও নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছে আরোশির সাথে থেকে। খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা করতে হবে। আবরার ডক্টরের থেকে জেনেছে আরোশি র*ক্ত দিয়েছে। প্রথমে জেনে উনুতপ্ত হয় আবার পরক্ষণে ভাবে সেইদিন বললে কি সে মে*রে ফেলত! আজব মেয়ে। না বলেও তো সেই মরতে মরতে বাঁচলো। কি যে দরকার ছিল তার হার্ট বিট বন্ধ করে নিজেকে গু*লি মারার। আবরার চাইলে লিলিকে বলা কথা গুলো আরোশির সামনে বলতে পারতো তবে সাহেবের ধারণা তার বউ এনমি নাচুনি বুড়ি তার উপর ঢোলের বারি সে দিতে চায়না। তখন দেখা যাবে আরোশি তাকে অ্যাটেনশন দেয়না। তার থেকে পাত্তা পেয়ে তখন বউ আর পাত্তা দিবেনা।

সেইদিন লিলি আর আরোশি কে বাড়িতে দিয়ে বের হয়ে যায় আবরার। যাওয়ার আগে লিলি কয়েকবার জোর করে বলে ওকে একটা হোটেল এ রেখে আসতে এইখানে থাকতে চায়না আরোশির জন্য। কিন্তু আবরার সাহেব তো আর লিলির জন্য আর বউ কে বের করে দিবে না নয়তো গেলো তার তুলতুলে কোলবালিশ। আবার লিলি ও তার বেস্ট ফ্রেন্ড। এসেছে আরো বছর পর। তার বাড়ি থাকতে হোটেলে থাকবে কেন! তাই লিলিকে বুঝিয়ে সুজিয়ে রেখে কাজে চলে যায় আবরার। আরোশি ঔষধ খাওয়ার কারণে আগে আগেই ঘুমিয়ে যায় তাই সেইদিন আবরার কখন এসেছে বা এসেছিলো কিনা জানা নেই। সকালে উঠে দেখে আরোশি আবরার কে পায়নি পাশে। আস্তে আস্তে আরোশি একটু সুস্থ হতেই কাজ শুরু করে দেয়। এই সাতদিনে পাঁচদিন ধরে কাজে লেগেছে আরোশি। অনেক ব্যাস্ত, দম ফেলার সময় নেই এমন অবস্থা। এত ব্যস্ততার মাঝেও চৌধুরী empire এ যেয়ে আবরারকে দেখে আসে। সময় বেশি দিতে না পারলেও দশ কি পাঁচ মিনিটের মত থাকে। এই সময় টুকু তে একবার হলে ও i love you বলবেই। আবরার এর মাঝে মাঝে মনে হয় সেইদিন হসপিটাল এ বলার পর থেকে আরোশি পাগল হয়ে গিয়েছে। তার অফিসে আসে হয়তো i love you বলতেই। আরোশির উপরও অনেক কাজের চাপ তবুও আবরার কে সাহায্য করতে চায় কিন্তু ওর ব্যস্ততা দেখে আবরার না করে দেয়। আরোশি কাজের জন্য জামাইকে জ্বালাতে পারছে না। সে তো সময় বের করে অনেক কষ্টে কিন্তু তার স্বামী তো তাও করে না যেন আরোশির চেয়ে বেশি ব্যাস্ত। হাহ্, সে ও একদিন ব্যাস্ত না হয়ে'ও ব্যাস্ত হবে তখন লাটিম এর মত পিছে ঘুরাবে এই আবরার রিয়াদ চৌধুরী কে।

কথা গুলো ভেবে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরোশি রেডি হতে লাগলো। আজ বাড়ি ফিরতে হবে তাড়াতাড়ি। আজমুল সাহেব জানিয়ে দিয়েছে। আরোশি নিচে নেমে দেখে সবাই নাস্তা করছে। ওকে আসতে দেখে আবরার টেবিলের যেয়ে বসলো। আরোশি বুঝেনা আবরার কেন অপেক্ষা করে ওর জন্য। একদিন তো না করেছে তারপর ও? ইদানিং আবরার নাস্তার টাইমে বাড়িতে থাকলে আরোশির যতই দেরী হোক সে বসেই থাকবে। কেন জিজ্ঞেস করলে এইটা সেইটা বলে, পরিপূর্ণ উত্তর পায়না আরোশি। আরোশি ও যেয়ে বসলো। একবার সবার মুখের দিকে তাকালো। খাওয়ায় ব্যাস্ত সবাই। কুমকুম বেগম এর আরো রেস্ট এর প্রয়োজন যায় সে নিজের রুমে। সাথে আছে রায়দা। রোশনারা মরিয়ম কে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে। আবির বাদে সকলে আছে। আরোশির মেজাজ গরম হয়ে গেল। এই ছেলেটার কাজ কর্ম শেষে কোন পরিস্থিতি দার করাবে কে জানে। আবির যা করছে তার জন্য আরোশি না'ও করতে পারছে না। ছেহ, জামেলা যেন তার প্রেমে পরে গিয়েছে। আরোশি বিরক্ত হয়ে ব্রেড এ বাটার লাগিয়ে আবরার এর প্লেটে দিল। আবরার জুস খেতে খেতে আড়চোখে একবার ওর দিকে তাকালে দেখে বউ তার কোনো বিষয় নিয়ে খুব বিরক্ত যা কপালের ক্রুত বাজ পড়াতে প্রমাণ হচ্ছে। আবরার ঢোক গিলে চোখ বন্ধ করে ফেলে। দুই পাশে না বোধক মাথা নাড়িয়ে ভাবে বিরক্ত অবস্থাতেও এত হট লাগে কাওকে? উফফ কালো রঙ এ যেন কালোপরী। হম হম খারাপ পরী হচ্ছে কালো পরী। কালো পরী হচ্ছে খারাপ প---

লিলি: মাথা ব্যাথা করছে আবরার? ওষুধ দিবো? টিপে দিবো?

আরোশি: ওর মাথা ব্যাথা না করলে'ও তোমার গলা ব্যাথা করছে তাই পকপক কথা বের হচ্ছে। গলা টিপে দেই?

আরোশির শান্ত সুরে থ্রেট শুনে রোশনারার কাশি উঠে যায়। আবরার পানি এগিয়ে দেয়। সে পানি খেয়ে চুপ হলে আবরার বলে।

আবরার: না মাথা ব্যাথা না। হটাৎ চোখের সামনে আগুন সুন্দরী দেখেছি তাই মাথা ধরে গিয়েছে।

আবরার এর এমন কথা শুনে সারা লজ্জায় লাল হয়ে যায়। তার মতে আবরার তাকে বলেছে এইটা। শুধু সে একা না আরেক দিকে লিলি darling ও লাল সবুজ হয়ে গিয়েছে লজ্জায়। আরোশি আবরার এর মুখ থেকে এমন কথা শুনে প্রথম এ লিলি আর সারার দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে ফেললো। তারপর গম্ভীর চোখে আবরার এর দিকে তাকিয়ে টেবিলের নিচে আবরার এর উরু তে হাত রাখলো। আবরার খাওয়া বন্ধ করে চোখ বড় বড় করে তাকালো আরোশির দিকে। আরোশি বাকা হেসে হাত আরেকটু উপরে তুলে। আরেকটু উপরে তুলতে গেলে আবরার ধরে ফেলে এতে আরোশি কাছে যেয়ে বিড়বিড় করে বলে

আরোশি: তাই নাকি মন্ত্রী সাহেব! তা কে আপনার চোখে আগুন সুন্দরী? রূপসী নাকি darling নাকি ললিতা?

আবরার: এইগুলা কে?

আরোশি: হবে কেও একজন।

আবরার ও আরোশির কানের কাছে যেয়ে ফিসফিস করে বলে

আবরার: তাহলে আমার চোখেও আগুন সুন্দরী হবে কেও একজন।

কেউ খেয়াল না করলে ও রোশনারা খেয়াল করে। চোয়াল শক্ত করে তাকায় আরোশির দিকে। আবরার নির্বিকার খেয়ে চলেছে। আরোশির হাত যে আছে উরু তে তার কোনো খেয়াল নেই। আরোশি আর থাকলো না। খাওয়া শেষ করে উঠে রুমে আসলো। কাজে যেতে হবে। আরোশি কে উঠতে দেখে আবরার ও তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেলো।

॥

আবরার এসে দেখে আরোশি ওয়াশরুম থেকে বের হলো। রেডি আগেই ছিল শুধু ব্যাগ আর goggles নিতে গিয়েছিল। পরনে কালো জিন্সের প্যান্ট আর কালো ফুলহাতা টপস। আবরার কাছে যেয়ে দাড়ায়। আরোশি তাকিয়ে হটাৎ করে একটা চুমু খায় আবরার এর ঠোঁটে। তারপর পাস কেটে যেতে লাগলে আবরার আরোশির কোমর টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে ধরে। আরেক হাতে আরোশির হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে নিচে রেখে ওর ঘারে মুখ গুজে কামড়ের দাগ গুলোতে চুমু খায়। এখনো সেই দাগ গুলো আছে। আবরার ব্যাগ রেখে সেই হাত দিয়ে আরোশির হাতের আঙ্গুল থেকে আস্তে আস্তে স্লাইড করতে করতে উপরে উঠছে। আরোশি শ্বাস ফেলে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে কিন্তু ফলস্বরূপ শূন্য। আবরার আরো শক্ত করে ধরলো। আবরার এর হাতের বিচরণ গভীর হতে থাকে। আরোশি এইবার চুপ হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। শরীল যেন নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। আবরার নেসালো সুরে ফিসফিস করে বলে

আবরার: যেতে হবে না আজ কাজে।

আরোশি: beg if you want me to stay, darling

আবরার: ইচ্ছে করে এইসব করছো তুমি। আমাকে পাগল করে ছেড়ে দিবে।

আরোশি: আমি কি এতই বোকা যে আপনায় ছাড়বো? আমাকে পাগল কামরায়নি বরং আবরার রিয়াদ কামরিয়েছে! (মজার ছলে বলে)

আবরার: স্টুপিড আরোশি। ( husky voice)

আরোশি আবরার এই সুর শুনে অস্থির হয়ে যায়। হার্ট যেন বের হয়ে যাবে এত বিট করছে। আবরার লাগামহীন ভাবে আরোশি কে নিজের অশান্ত ছোয়ায় মুড়িয়ে নিতে ব্যাস্ত। আরোশি আবরার এর বাহুর উপরে সাদা শার্ট খামছে ধরে।

কিছুক্ষন পর,,,

হটাৎ ফোনের আওয়াজে আবরার আরোশির বক্ষ থেকে মুখ তুলে। হুশ ফিরলে পরিস্থিতি দেখে থমকে যায় আবরার। আরোশির দিকে তাকিয়ে "shit shit" বলে ওয়াশরুম এ দৌড় দেয়। আরোশি কিছুক্ষন চুপ করে শুয়ে রইলো। তারপর উঠে নিচে পরে থাকা নিজের জামা পড়ে নিল। চুল ঠিকঠাক করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। গভীর কিছু না হলেও অনেক দূর পর্যন্ত গড়ায় পরিস্থিতি। বেশি কিছু হওয়ার আগেই ফোন এসেছিল। একটু পর আবরার'ও বের হয়ে অফিসে চলে যায়।

( বেশি প্রকাশ ভাবে লিখতে চাইনা এইসব। শালীনতা বজায় রাখার চেষ্টা করবো। আশা করি এইভাবে লিখলেই তোমরা বুঝে যাবে পরিস্থিতি কত দূর পর্যন্ত গড়ায়। By the way বা*সর হয়নি এখনো 🙂)

॥

আবরার সন্ধায় বাসায় ফিরে দেখে সবাই ড্রইং রুমে বসে আছে। বাবা বলে দিয়েছে আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে তাই চলে আসা। আবরার যেয়ে খালি সোফায় শরীল হেলিয়ে দিয়ে বসলো। লিলি নিচে নেমে নিজেও আরেক পাশে বসলো। সারারা আজ সকালেই চলে গিয়েছে। আবরার একবার তাকিয়ে আবার বাবার দিকে তাকালো।

আবরার: কিছু হয়েছে?

আজমুল: রিফার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলবো।

রোশনারা: ওকে একবার জিজ্ঞেস করা উচিত না? বিয়ে করবে কি না?

আবরার: কেন? জিজ্ঞেস করোনি?

আজমুল: হম করেছি আমি নিজে। রিফা রাজি। Saif অনেক ভালো ছেলে। আমার মনে হয়না এতে আপত্তি থাকা দরকার। এখনকার যুগে ওর মত ছেলে পাওয়া মুশকিল। অনেক ভদ্র আর ম্যাচিউর টাইপ ছেলে saif

রোশনারা: তোমাকে ভয় পায় তাই রাজি হয়েছে রিফা। আবরার তুই আমার সাথে একটু আয়তো।

আবরার: কোথায়? (ব্রু কুঁচকে)

রোশনারা: মা আসতে বলেছি।

আবরার ক্লান্তি শ্বাস ফেলে উঠে মায়ের সাথে গেলো। একটা রুমে নিয়ে রোশনারা বললো

রোশনারা: তুই বিয়ে টা ভেঙ্গে দে।

আবরার: কি বলো এইসব। বাবা যা করছে ওর ভালোর জন্য করছে।

রোশনারা: ও আমাদের আদরের। এখনো পড়াশোনা শেষ করেনি। তোদের একটা মাত্র বোন। ও যেটাতে খুশি সেইটা করা তোদের উচিত।

আবরার: মা তুমি বুঝো? তুমি কি বলো এইসব! সেইদিন রেস্টুরেন্টে কথা বার্তা বলে বুঝেছি Saif অনেক ভালো ছেলে। আর পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করলে আমরা বলবো বিয়ের পর ও ওকে পড়াশোনা করাতে। তারা না করবে না। এখন রিফার খুশি কিসে এইটা তুমি ও জন্য আমি ও জানি। ওই নে*শা খোড়ের সাথে খুশি থাকবে?

রোশনারা: আরে এখন ওকে কি আর ওই ছেলের সাথে বিয়ে দিবো নাকি! আর ও বলেছে ওই ছেলের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখবে না।

আবরার: ও বললো আর হয়ে গেলো? ওই ছেলে এত সহজে এর পিছন ছাড়বে? রিফা ছোট। ওকে ওই ছেলে যা বুঝাবে ওর কাছে সেইটাই সঠিক মনে হবে। Saif ওর জন্য পারফেক্ট। সেইদিন রেস্টুরেন্ট এ দেখলাম saif আর রিফা কে ভালই লাগছিল একসাথে ওদের। আবার রিফার মতিগতি দেখে মনে হলো saif কে ওর পছন্দ।

রোশনারা: আরে ও ভালো খারাপ এর কি বুঝে!

আবরার: না ছেলে অনেক ভালো। কথা হয়েছে আমার

রোশনারা: ওই ছেলে কখনোই ভালো হতে পারে না যেই ছেলেকে আরোশি ঠিক করেছে।

আবরার: কে বলছে আরোশি ঠিক করেছে। ও তো এই বিষয় কিছুই জানতো না। আর ও এই বিষয় কিছু বলে নেই। তুমি ভুল জানো। বাবা ঠিক করেছে saif কে।

রোশনারা: আরোশি তোর বাবার কাছে এনেছে এই প্রস্তাব । তোর বাবা ও পটে গিয়েছে। Saif ডক্টর। আরোশি জোর করেছে রিফাকে। থ্রেট দিয়ে বলেছে এই বিয়ে করতে।

আবরার: যদি এইটা করেও থাকে তাহলে খারাপ কি? At least saif একজন সাফল্য ব্যক্তি।

রোশনারা: তুই বুজতে পারছিস না কেন? আরোশির নিজের স্বার্থ আছে বলেই এইসব করছে। স্বার্থপর মেয়ে ও। যেকোনো কিছু করতে পারে।

আবরার: আচ্ছা কে বললো তোমায় এইসব?

রোশনারা: তুই আমার কথা বিশ্বাস করিস না? আরোশি ঠিক করেছে এই saif কে রিফার জন্য। (অসহায়ের মত করে)

আবরার: কিন্তু বাবা তো---

রোশনারা: তুই আমার কথা শুনবি না? একবার জিজ্ঞেস কর রিফা কে। ওহ বুঝেছি বউ পেয়ে এখন মায়ের কথার দাম নেই। বুঝি সবই। আমার ছেলে আর আমার নেই। নিজের বোনের প্রতি ভালোবাসা নেই। এত কষ্টে বড় করলাম এইদিন দেখার জন্য। আমার কথা বিশ্বাস করেনা আমার ছেলে। হায় হায় কি করলো ওই মুখপুরি এসে এই মা ছেলের মাঝে। আল্লাহ তুমি আমায় উঠিয়ে নিলে না কেন এই দিন দেখার আগে।

এইবার রোশনারা কান্না করে দেয়। ব্যাস কাজ হয়ে গেলো। আবরার গোলে গেলো। মায়ের কান্না দেখে আর কিছু বলতে পারলো না। কথা গুলো শুনে খারাপ লাগলো। ছোট বেলায় বাবার থেকে আশা ছিল যে বাবা সময় দিবে তাকে, খেলবে তার সাথে, ঘুরতে নিবে, একসাথে tv দেকবে, স্কুল এ নিয়ে যাবে, ফ্রেন্ড এর মত সম্পর্ক থাকবে, আরো কত কি কিন্তু তার বাবার কখনো তার জন্য সময় হয়নি হাতে। মা তার সব ইচ্ছে পূরণ করতো। মায়ের সাথে এত ভালো সম্পর্ক হয় যে মা কিছু বললে আবরার কিছু না ভেবেই বিশ্বাস করতো। এখনও করে। মা যা বলে তাই করে। সব শেষে মায়ের কথাতেই আটকায় আবরার। তার কাছে মায়ের ভুল ও ঠিক কারণ মায়েরা সন্তানের খারাপ চায়না। বাবা সারাদিন রাজনীতি নিয়ে থাকতো। তাই ছোট থেকে রাজনীতিকে অপছন্দ আবরার এর। আর এখন বউও তার পলিটিশিয়ান, এইজ গ্যাপ, আবার খু*নি, কোনো সম্পর্ক মানে না, নিজের মামা কে মে*রেছে, আরো কত কি, আবার এই মেয়েটাকে এমনিও তার পছন্দ না। বুঝ হওয়ার পর থেকে ওই মেয়ে টা কাছে আসলেই তার কেমন যেনো লাগে হার্ট-বিট করতে করতে হার্ট এ্যাটাক হবে এমন লাগে। কোনো একটা ভুল করতে ইচ্ছে করে। এই অনুভুতি সে ঘৃণা করে তাই মেয়ে টাকেও ঘৃণা করে। একদম পছন্দ না মেয়েটাকে। শুধু বউ বলে আদর করে ভালবাস--

ভাবনায় কথা টা সম্পূর্ণ হতে দিল না আবরার। তার আগেই দুই পাশে 'না' বোধক মাথা নাড়ে। না না, ভালোবাসা না। ছেহ! কি অবাধ্য জীবন, অবাধ্য চাওয়া পাওয়া, অবাধ্য মন, অবাধ্য চোখ, সব অবাধ্য। সে অবাধ্য নামক সব কিছু ঘৃণা করে।

আবরার: হাহ্। অবাধ্য নারী। (মুখ বাঁকিয়ে)

রোশনারা: কি বিড়বিড় করছিস! আমার কথা বুঝতে পেরেছিস?

আবরার: হম হম। আমি জিজ্ঞেস করবো রিফাকে। চলো আগে বাবার কাছে যাই।

রোশনারা বিশ্ব জয় হেসে আগে আগে চলে যায় পিছন পিছন আবরার আসে। আরোশিও মাত্র এসে বসেছে। যখন শুনেছে আবরার আর রোশনারা কথা বলতে গিয়েছে। এই ফাঁকে আরোশি টাইম নষ্ট না করে শাওয়ার নিয়ে আসে। আবরার তাকিয়ে দেখে আরোশি এসে বসেছে সোফায়। শাওয়ার নিয়ে এসেছে বুঝাই যাচ্ছে। কালো ওভার সাইজ টি-শার্ট আর ঢোলা প্যান্ট, চুল খোলা। চুল বেশি বড় না হলেও কোমরের একটু উপর পর্যন্ত স্টাইল করে ইউ কাট দাওয়া। এত সুন্দর বউ তার। খুব যত্নে সামনে রাখতে হবে। আবরার এর মনে পড়লো আজ সকালের ঘটনা। এইবার ছেড়েছে কিন্তু পরের বার একদম খে*য়ে ফেলবে। আবরার যেয়ে আরোশির পাশে বসলো। আরোশি আবরারকে বসতে দেখে আবরার এর হাত আকড়ে ধরে বসলো। লিলির রাগ হলো সেইটা দেখে।

আরোশি: বলো কি বলবে।

আজমুল: saif এর ফ্যামিলির সাথে কথা হয়েছে। বিয়ের ডেট ফেলতে চাই। এই মাসের মাঝেই মেয়র নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই ফেলতে চাই

আবরার: ছেলের ব্যাপারে সব--

আরোশি: ছেলে ভালো আমি শুনেছি। বিয়ে দিলে ভালো থাকবে।

চলবে,,,

( মজার কথা বলি। মনে করো কোনো গল্পে নায়ক পা*দলে ও সেই একই কাজ আমার গল্পে করলে সেইটা দেখে মানুষ বলবে "কি ব্যাপার আপনি অমুক গল্পের পা*দকে কপি করেছেন কেন? এইটা শুধু সেই গল্পই করতে পারবে" । আমি fb তে গল্প লেখা শুরু না করলে জানতাম'ই না লেখিকা/লেখক দের এত কিছু face করতে হয়। হাসি ও পায় আবার কষ্ট ও লাগে। চাচা এদের মাথায় গো*বর কেন! আর আমার লাইক কমেন্ট কোথায়?🥹 )

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন