#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৩৮
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
আবরার: তুই জানিস না? কিছুই বলিসনি?
লিলি: দেক সেইদিন আরোশি এইটা সেইটা বলেছে তাই আমি ও দু-চার টা কথা বলি।
আবরার: তাই? তুই ওকে বলিসনি তুই আমাকে হাসিল করবি?
লিলি: এইটা বলেছিলাম! আরে না কে বলেছে তোকে এইসব? আরোশি? ও তোর আর আমার মাঝে ঝামেলা পাকাতে চায়।
আবরার: উল্টা ও তো হতে পারে।
লিলি: কি বুঝাতে চাস! আমি তোর আর আরোশির মাঝে ঝামেলা পাকাতে চাই? Wow শেষ মেষ এইটা দেখবো আমি এই বাড়িতে ভাবতে পারিনি।
আবরার: কি কি বলেছিস আরোশি কে সেইদিন? কি দু-চারটা কথা বলেছিস বল আমায়।
লিলি: আরে এতো কি মনে থাকে। কবেকার কথা।
আবরার: মনে নেই? Ok
লিলি ভাবে বেঁচে গিয়েছে। কিন্তু লিলি কে অবাক করে দিয়ে সেইদিন ঘটা ঘটনার ভিডিও লিলির চোখের সামনে ধরে আবরার। এইবার লিলি ঘামতে শুরু করে। কি বলবে ভাবার আগেই আবরার প্রশ্ন করে
আবরার: এইবার মনে পড়েছে ? বল এইসব কি?
লিলি আমতা আমতা করছে।
আবরার: সত্য বল লিলি নয়তো আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। (দাঁতে দাঁত চেপে)
লিলি: আ-আরে আমি তো শুধু আরোশির সাথে দুষ্টামি করে বলেছি। দেখার জন্য ও কত পসেসিভ তোর বিষয়
লিলি: তোর আমাকে বোকা মনে হয় লিলি?
লিলি: আবরার তুই জানিস না আমি কেমন?
আবরার: আমার তোকে নতুন নতুন লাগছে। এই লিলির সাথে আমার পরিচয় ছিল না।
লিলি: আবরার প্লীজ। এইখানে misunderstanding হচ্ছে তোর আর আমার মাঝে।
আবরার চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ সামলিয়ে আবার চোখ খুলে। লিলির দিকে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে বলে
আবরার: দেখ আমি তোকে কিছু বললাম না। আমি ভুলে যাবো এইসব। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। এত বছরের সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইনা আমি। আরোশি কোনো সাধারণ মেয়ে না। আমার ব্যাপারে আরোশি একজন উন্মাদ মানব। মজা করেও এইসব দ্বিতীয় বার করিস না। শেষ করে দিবে সব তারপর'ও আমাকে ছাড়বে না আরোশি। তাই এইসব আর বলবি না ওকে। এর পর যেনো এমন কিছু না হয় লিলি আমি তোকে সতর্ক করছি।
লিলি উঠে এসে আবরার এর সামনে যায়। গালে হাত রেখে বলে
লিলি: তুই আমাকে বিশ্বাস করিস? আমার আর কিছু লাগবে না।
আবরার হাত সরিয়ে দিয়ে বলে
আবরার: আগেও করতাম, এখনো করলাম আশা করি ভাঙবি না নয়তো এর শেষ ভালো হবে না তোর জন্য। আরোশি তোকে নিঃস্ব করে ছেড়ে দিবে। তুই ওকে চিনিস না।
বলে আবরার সোজা রুম থেকে বেরিয়ে যায়। লিলির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পানি পড়ে। নিচে বসে পড়ে লিলি। এই মানুষ টা ওকে বুজলো না। ওহ নিজেও তো পাগলের মত ভালবাসে এই মানুষটা কে। হয়তো আরোশির মত প্রকাশ করতে পারে না। করবে কি করে? আরোশি তো ছিনিয়ে নিয়েছে কিন্তু ওহ তো পারেনি। ওহ হচ্ছে এই গল্পের সেই নায়িকা যার ভালোবাসার পূর্ণতা এই গল্পের ভিলেন কখনোই হতে দিবে না। এই আবরার রিয়াদ চৌধুরী ওর হলে কি খুব ক্ষতি হতো? ভালোবাসার মত অনুভতি টা এত কষ্টের অনুভব না করলে জানাই ছিল না। হয়তো আরোশির মত করে ভালোবাসে না কিন্তু অনেক ভালোবাসে। আরোশির ভালোবাসার মাঝে গুন্ডাগিতি, পাগলামি, স্বার্থপরতা, উন্মাদ আর তার টা ঠান্ডার মত শীতল। আবরার রাজি হলে আবরার আর ওহ অনেক দূরে চলে যাবে। সুখে সংসার করবে। যেইখানে আরোশি নামের বর্না থাকবে না। সে রাজি করিয়ে ছাড়বে আবরার কে। আজ অন্য সম্পর্কের স্বীকৃতি পাওয়ার লোভে বর্তমান সম্পর্ক শেষ হয়ে যেত যেইটা লিলি চাইনা। সব আরোশির দোষ। ও কিছু করেছে। চোখ মুছে দাঁতে দাঁত চেপে লিলি বললো।
লিলি: আমি ছাড়বো না তোকে আরোশি। শেষ করে ফেলবো তোকে। প্রয়োজনে তোর মত হবো। মে*রে হলেও আবরারকে নিজের করে নিবো।
॥
ল্যাপটপ টা বন্ধ করে শরীল হেলিয়ে দিল চেয়ারে আরোশি! মরিয়মকে দিয়ে লাগানো ক্যামেরার মাধ্যমে এতক্ষন লিলি আর আবরার এর মাঝে হওয়া এই সব কিছু পর্যবেক্ষণ করেছে আরোশি। সময় ফুরিয়ে আসছে। একবার শুধু তার হাতে সময় আসুক। সেইদিন চাইলে আরোশি রিফার বলা মিথ্যায় প্রতিবাদ করতে পারতো। কিন্তু আরোশি পরিস্থিতি এমন দাড়া করাবে যে ওরা নিজে শিকার করবে। সেইদিন ভিডিও দেখিয়ে দিলে লিলি আর রোশনারা প্ল্যান পাল্টিয়ে আরো ভয়ানক প্ল্যান করতো আরোশি জানে। আবার তারা এইটাও জেনে যেত আরোশি তাদের উপর নজর রাখছে। এমনেই রাস্তায় অনেক কাঁটা। আরোশি ব্যাস্ত মানুষ এত ভাবে তাদের উপর নজর রাখার সময় নেই তাই শত্রুর অগোচরে ক্যামেরার মাধ্যমে সহজ পদ্দতি অবলম্বন করে। এতে তাদের নেয়া প্রতিটা পদক্ষেব জানতে সুবিধা। এতে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না। কিন্তু রাগ লাগছে লিলি কেন ওর মন্ত্রী সাহেবের গালে হাত দিল। রাগে আরোশি বিড়বিড় করে বলে
আরোশি: এই আরোশি চাইলে হাজার টা লিলির রূপ নিতে পারবে কিন্তু কেউ আরোশি হতে পারবে না। লিলি ডার্লিং তুই আমায় কি শেষ করবি তার আগে আমি তোকে পিষে ফেলবো মাটির সাথে। শা*লী বাজারী মেয়ে কোথাকার।
________________________________
At Night......
In phone,,,,
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব!
আবরার: কিছু বলবে?
আরোশি: ফোন তো দিয়েছি কিছু বলার জন্যই।
আবরার: কি বলো
আরোশি: আমি প্রেগনেন্ট (স্বাভাবিক সুরে)
আবরার: WHATTTTTT! (অবাক হয়ে চিল্লিয়ে উঠে)
আরোশি: আরে চেচাচ্ছেন কেন। কান ফেটে গেলো রে উফফফ
আবরার: মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে তোমার?
আরোশি: আপনি খুশি না এই খবর শুনে?
আবরার: আরে কিছু করলাম না আর তুমি---
আরোশি: আরে কিছু না করলেও কখনো কখনো হয়ে যায় অনেক কিছু
আবরার: ইয়ার্কি করছো?
আরোশি: নো বেবি
আবরার: তুমি কি ড্রাংক ?
আরোশি: না জান
আবরার: কোথায় তুমি এখন?
আরোশি: বাড়িতে।
আবরার: কোথায়?
আরোশি: আরে ধুর বললাম তো বাড়িতে। কানে শুনেন না। আয়হায় আপনি কানে না শুনলে আমার কি হবে। আমি যখন আদর করতে বলবো তখন দেখা যাবে আপনি বলবেন 'কি তুমি আমায় বাঁদর বললা'
আবরার: আরোশি!! (ধমক দিয়ে)
আরোশি: হায় মে মারজাবা। এইভাবে ডাকবেন না মন্ত্রী সাহেব। আপনাকে গভীর ভাবে কাছে পেতে ইচ্ছে করে।
আবরার: এইসব ডায়লগ ছেলেদের দেওয়ার কথা নির্লজ্জ মেয়ে।
আরোশি: নাও হোয়াট ক্যান আয় ডু? আমার জামাই তো আনরোমান্টিক
আবরার: বাড়িতে কোথায় তুমি?
আরোশি: টপিক চেঞ্জ করছেন! মিস করছেন নাকি আমায়?
আবরার: একই ছাদের নিচে থেকে ফোনে কথা বলার মানে কি হম?
আরোশি: প্রেমালাপ করতে ইচ্ছে হলো।
আবরার: ওহ রিয়েলি বিউটিফুল? ভালো মেয়ের মতো বলো কোথায় আছো
আরোশি: আমি আমার রুমে।
আবরার: ওই রুমে কেন গিয়েছ?
আরোশি: আমার রুম তাই।
আবরার: এই রুমে আসো।
আরোশি: কোন রুমে?
আবরার: আমার রুমে।
আরোশি: না
আবরার: নিচে ড্রইং রুমে আসো তাহলে।
আরোশি: না
আবরার: আমি আসি?
আরোশি: না।
আবরার: ছাদে চলো তাহলে। অনেক বড় চাঁদ উঠেছে আজ।
আরোশি: না
আবরার: আশ্চর্য। কি সমস্যা তোমার? দেখা করো আমার সাথে অবাধ্য নারী।
আরোশি: না
আবরার: কি না না করছো? তুমি আরো বেশি অবাধ্য হয়ে যাচ্ছ। আমার কথা শুনতে চাও না এখন।
আরোশি: চাইতো। চাই আপনি রোমান্স করেন।
আবরার: ফাজিল মেয়ে আগে আসো রুমে।
আরোশি: দূরে যেয়ে মুড়ি খান।
বলে ফোন কেটে দেয় আরোশি। আবরার সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে সোজা আরোশির রুমে যেয়ে নক করে। কয়েকবার করার পর দরজা খুলে। আবরার দেখে আরোশি একটা কালো লং সিল্কের গাউন পড়ে আছে যেইটা স্লীভলেস। তার উপর একটা কালো জর্জেট কুটি। জর্জেট হওয়ায় ফর্সা হাত দেখা যাচ্ছে। চুল ছাড়া, অর্ধেক চুল সামনে এনে রাখা। হাতে কালো গোলাপের তোড়া। এই মেয়ের মাঝে কিছু একটা আছে। কেমন যেনো অদ্ভুত একটা aura নিয়ে চলা ফেরা করে। দেখলে মনে হয় নাগালের বাইরে। যাকে শুধু দেখা যায় কিন্তু ছুঁয়া যায়না। এই মেয়ে রাতে ও এত সুন্দর? তার বউ। তার ব্যাক্তিগত সম্পদ। রাজনীতির মত অন্ধকার জগতের একটা আতঙ্ক "আরোশি" নারীটা তার। ভাবলেই শরীল শিহরণ জেগে উঠে আবরার এর। নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে প্রশ্ন করে
আবরার: তুমি রাতেও সাজুগুজু করে থাকো?
আরোশি: কই? সাজলাম কোথায়?
আবরার: এইযে সুন্দর টিপটপ হয়ে আছো। রাতের নায়িকা হবে নাকি?
আরোশি: আপনার একান্ত নিজের করে বানাতে চাইলে আমি হতে রাজি।
আবরার: আমি ওইটা mean করিনি।
আরোশি: আমি'ও ওইটা mean করিনি জান।
আবরার: না মানে--
আরোশি সোজা বারান্দায় চলে যায়। আবরার কিছুক্ষন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে তারপর দরজা বন্ধ করে নিজেও বারান্দায় যায়। আরোশির বারান্দাটা অনেক সুন্দর বরং রুম টাও। পুরো ব্ল্যাক কালার। ফার্নিচার সহ একই কালার। আবরার আর আরোশির রুম কোনোটার থেকে কোনোটা কম সুন্দর না। কিন্তু কালার বাদে বাকি সব সম্পূর্ণ ভিন্ন এই দুইজনের রুম। আরোশির বারান্দা টাও অনেক বড়। সেই বারান্দাতে দাড়ালে চাঁদ টা অনেক কাছে মনে হয়। আজ আকাশে অনেক বড় চাঁদ উঠেছে। যথেষ্ট আলো যে বারান্দার লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন নেই। সেই চাঁদের সামনে তোড়া সহ বারান্দার ধরণীতে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে আরোশি। পরনের জামা বাতাসে উড়ছে। খোলা চুল গুলো উড়ছে। চাঁদের আলোটা একদম আরোশির মুখে পড়েছে। এতে আরোশির সুন্দর্য যেনো আরো কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। কালো রঙের ড্রেস এ সবসময় অন্যরকম লাগে আরোশিকে। কেমন যেনো পাওয়ারফুল ভাইব দেয়। আর এখন তো-- এই সুন্দর্যের ব্যাক্ষা দিতে পারলো না আবরার। শুধু মাথায় একটা নাম এসেছে 'বেলাডোনা'
(বেলাডোনা: অতি সুন্দর)
আবরার এর কেমন যেনো অস্থির লাগছে। শরীল দিয়ে ঘাম ছেড়ে দিয়েছে। কথা গলায় আটকে আসছে। পুরো শরীল মনে হচ্ছে কাঁপছে। কাপা কাপা পায়ে এগিয়ে গেল আরোশির কাছে। পিছন দিয়ে জড়িয়ে ধরবে তার আগেই আরোশি ঘুরে দাড়ালো। একটু এগিয়ে এসে বললো
আরোশি: আপনি এমন কাঁপছেন কেন! শীত করছে?
আবরার দুই পাশে 'না' বোধক মাথা নাড়ালো।
আরোশি: আবার ঘেমেও গিয়েছেন। এসি চলছে তো। আরো বাড়িয়ে দিবো?
আবরার এইবার ও মাথা নাড়ালো। আরোশি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে তারপর চোখ ফিরিয়ে আবার আগের মত দাড়ায়
আবরার আরেকটু কাছে এগিয়ে যায়। আরোশির মত করে আরোশির পাশ ঘেষে দাড়ায়
আরোশি: কিছু বলবেন মন্ত্রী সাহেব?
আবরার আবার ও মাথা নাড়ায়। কিছু বলবে না। আরোশি না তাকিয়েও বুঝে।
আরোশি: তাহলে যান ঘুমান।
আবরার: তুমি আসো। (নিচু গলায়)
আরোশি:____
আবরার: আরোশি
আরোশি: হম।
আবরার: sorry
আরোশি: কেন?
আবরার: সেইদিন অফিসে লিলির জন্য আমার আর তোমার মাঝে যেই ঝামেলা হলো ঐটার জন্য। আসলে লিলি ওইটা mean করেনি যেইটা তুমি বুঝেছ। লিলি তোমাকে ওইটা দুস---
আরোশি আবরার এর কথা থামিয়ে দিয়ে হাতে থাকা তোড়া থেকে এক এক করে গোলাপের পাপড়ি ছিঁড়তে ছিঁড়তে বললো
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব আজ কয়েকটা কথা বলি মনে রাখবেন। আপনি চাইলে'ও আমায় ভালোবাসতে পারবেন না। যদি চান'ও ভালোবাসতে তবে আমি আপনায় ঘৃণার কারণ দিবো। আপনার ঘৃণা অনেক সুন্দর। আমি এইটার প্রেমে পড়ে গিয়েছি। ভালোবাসা থাকে হৃদয় জুড়ে আর ঘৃণা থাকে হৃদয়ের গভীরে। ভালোবাসা ভুলা গেলেও ঘৃণা ভুলা সম্ভব না। কিন্তু আপনি সবসময় আমার কাছে "ভালোবাসার মন্ত্রী সাহেব'ই" থাকবেন। আপনাকে আমি আরোশি ঘৃণা করতে পারবো না। আমার এই কালোর রঙ্গে রাঙানো এলোমেলো আঁধার জীবনে আপনি এক আলোর উৎস।
আবরার: _____
আরোশি: একদিন বলেছিলাম না? I am not the princess of your fairytale... I'm the monster of your nightmare,,, আমার চাওয়ার আর পাওয়ার তরিকা ভিন্ন। আমি আরোশি কখনো হারতে শিখিনি। ছোট থেকেই জিতে নেয়া টা আমার ক্ষুদা। সারা শহর এলোমেলো করে দিবো আপনার জন্য মন্ত্রী সাহেব। আমি আপনায় ছাড়বো না নিজের ইচ্ছায় যদি না আপনি পরিস্থিতি ওরকম বানান। মনে রাখবেন আমার মন থেকে মন্ত্রী সাহেব নামক মানুষটা উঠা সহজ না কিন্তু যদি একবার উঠে তবে কঠিনতম থেকেও কঠিন হবো আমি। মানুষ আমি, যেই সময়ের ক্ষণিক ধরে অপেক্ষায় আছি আপনার এক ফোঁটা ভালোবাসার সেই সময় যেনো আপনার উপর ভারী না পড়ে। তখন আপনি তৃষ্ণায় ছটপট করবেন। না না পানির তৃষ্ণা না। অন্য কিছুর। তখন শেষ টা ভয়ানক হবে মন্ত্রী সাহেব (মুচকি হেসে)
আবরার: তোমার কথা ছুরির চেয়েও ধারালো।
আরোশি: জানি
আবরার:___
আরোশি: আপনার করা সব ভুল মাফ। কিন্তু কতটুকু মাফ করবো তা আজ আমি আপনায় জানাবো। কষ্ট করে মনে রাখবেন। মনে না রাখতে পারলে আপনার জন্য কষ্ট বেশি। আমি আপনায় ভালোবাসি তবে যদি আপনার কাছে আমার এইটা ভালোবাসা না মনে হয়ে আসক্ত মনে হয় তবে আমি বলবো উইদাউট অবসেশন দেয়ার নো লাভ।
আবরার আরোশির চোখের দিকে তাকিয়ে আছে যেই চোখ লাল টকটকে হয়ে চিকচিক করছে হয়তো চোখের পানি। আবরার এর অস্থির লাগছে। ওই চোখে তাকিয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। ওই চোখের পানি ও কোনো কালেই সহ্য করতে পারতো না। কিন্তু আরোশির ঠোঁটে মিষ্টি হাসি। আরোশি একদম আবরার এর কাছে এসে গালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে
আরোশি: আপনি জানেন হজরত আলী (রা.) বলেছেন তুমি যদি কাউকে ভালোবাসো তাহলে তার জন্য তোমার মনে একটা কবর খুড়ো যেনো সেইখানে তার করা হাজারটা ভুল দাফন দিতে পারো। মন্ত্রী সাহেব এক কবরে হাজার টা ভুল দাফন দাওয়া যায় সেইখানে আমি আপনায় এতই ভালোবাসি যে আপনার জন্য হাজার টা কবর খুড়েছি তাহলে বুঝেন আপনার করা কত কোটি ভুল দাফন করা যাবে। কিন্তু দয়া করে ভুল টা এত বড় করবেন না যে আমার খুড়া কবরের মাঝে দাফন দাওয়া যাবেনা ভুলের আকৃতি বড় বলে। তখন আমি চাইলেও কিছু করতে পারবো না মন্ত্রী সাহেব।
( হাদীস বিষয় বেশি প্রকাশ করতে চাইনা। জিনিসটা একটু অন্যরকম লাগে আমার কাছে আর আরোশির বলা কথা গুলো মনে রেখো। ধরতে গেলে এই গল্পের প্রতিটা part এর প্রতিটা লাইন মনে রাখা উচিত কারণ সবই কম বেশি important)
আরোশির কথা শুনে আবরার কি বলবে বুঝতে পারছে না। গলায় কিছু আটকে আসছে। কথা গুলো খুব করে লাগছে ওর হৃদয়তে। ভয় লাগছে আরোশি কে হারানোর। চোখ জ্বলছে। বুকের বা পাশটা চিন চিন ব্যাথা করছে। আবরার দেরী করলো না। আরোশি কে টান দিয়ে কাছে এনে নিজের বুকে আরোশির মাথা টা চেপে ধরে জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেলে। শক্ত করে আলিঙ্গন করে রেখেছে যেনো ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যাবে। আরোশি শুনতে পাচ্ছে আবরার এর অতি দ্রুত চলা হার্ট বিট। মনে হচ্ছে এখনই বেরিয়ে যাবে। আরোশি মাথা টা একটু বাঁকা করে ঠোঁট ছুঁয়ালো সেইখান টায়। তারপর আবার মাথা টা বুকে রেখে নিজেও শরীলের সর্বশক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে। আবরার আরোশির চুলে নাক ঘষে বড় শ্বাস নিয়ে খুব আস্তে করে বললো
আবরার: তুমি পারবে। চাইলেই কিছু করতে পারবে।
আরোশি উত্তরে শুধু হাসলো। আবরার আবার বললো
আবরার: আমি কঠিন আরোশি চাইনা। আমার কোনো আরোশি'ই চাইনা। আমি ভালোবাসি না তোকে। আমার বউ আছে।
আবরার সিরিয়াস হয়ে বললেও আরোশি আবরার এর কথা শুনে হেসে দেয়।
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব আপনি আমার কাছেই যত বাচ্ছামো করেন তাছাড়া আপনিও যে কত কঠিন পাথর তা আমি জানি। কঠোর পুরুষ। সূর্যের ন্যায় আপনার তেজ। খেয়ে ফেলতে মন চায় আপনায়।
আবরার: চুপ নির্লজ্জ।
>>>>>>>>>>>>>><<<<<<<<<<<<<
দুদিন হয়ে গিয়েছে ওই রাতের। কাওকে কিছু না বলে আরোশি পরেরদিন সকালেই uk চলে যায় মামার ঐখানে। এই দুইদিন ফোনের উপর ফোন দিয়েছে আরোশি কে আবরার। কিন্তু কোনো লাভ হয়না। আবরার অনেক রেগে আছে আরোশির উপর। আজ ভোর পাঁচটার দিকে আরোশি বাড়ি আসে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আবরার দেখে ওর বুকে ঘুমিয়ে আছে আরোশি। প্রথমে অবাক হলেও পরে আস্তে করে সরিয়ে উঠে ফ্রেশ হতে যায়। রাগ আরো বেড়ে যায় আরোশিকে দেখে। একমাত্র সে জানে দুইদিন বউ ছাড়া সে কিভাবে ছিল।
🌿🌿
সকালে সবাই নাস্তা করছে। জেসিয়া চৌধুরী একটু আগে উপরে গেলো খাওয়া শেষ করে। আবির ও বাইরে চলে গিয়েছে। আর রিমা ভার্সিটিতে। বাকিদের খাওয়া শেষের দিকে তখন আরোশি উপর থেকে নামে। পরনে কালো সালোয়ার কামিজ। চুল পাকিস্থানি ভাবে মাজখানে শীতু করে ছেড়ে রেখেছে। চোখে গারো কাজল। কানে বড় ঝুমকো। একপাশে সেট করা উড়না। এসে চেয়ার টেনে আবরার এর পাশে বসলো। আবরার কফি খাচ্ছিলো। আরোশি আসলে আবরার তাকায়। বিড়বিড় করে বলে 'সুন্দরী নারী'। আরোশি আবরার এর উরুতে হাত রেখে আরেক হাতে ফোনে কিছু করছে। আজমুল গলা ঝেড়ে বললো
আজমুল: খাবে না?
আরোশি: না। ইচ্ছে করছে না। পড়ে খেয়ে নিবো।
আজমুল: কোথাও যাচ্ছ?
আরোশি: হম। আপাদত পৌরসভা যাচ্ছি আবার মন্ত্রী অফিস ও যাবো। কিন্তু রাতে একটা বিজনেস পার্টিতে invited আমি আর মন্ত্রী সাহেব।
চলবে,,,,,,
(আশা করি বুজতে পেরেছো আরোশি কেন চুপ ছিল আগের part এ। ভালো রেসপন্স হলে সন্ধ্যার দিকে আরেকটা part দাওয়ার চেষ্টা করবো। নামের ক্ষেত্রে বা অনেক শব্দ উলট পালট হয়ে যায় যেহেতু আমি আরো কয়েকটা গল্প লেখি তাই। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 🌼)