#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৪২
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
আরোশি: আমার পেশায় থ্রেট দিতে মুখ ব্যাথা করে। তাই ডাইরেক্ট একশন। "মাফ" শব্দ আমার ডিকশনারিতে নেই।
আবরার: এই ফালতু ডিকশনারি কোথার থেকে কিনেছো? চক বাজার থেকে?
আরোশি কথা টা শুনে হেসে দেয়। আবরার এর কপালে চুমু খেয়ে বলে
আরোশি: শত্রুকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে নেই নয়তো তারা পরবর্তীতে বুঝিয়ে দেয় তাদের ছেড়ে দাওয়া জীবনের কত বড় ভুল।
আবরার: তোমার সাথে কথায় পারা মুশকিল। তুমি মাফ চাইলে না কেন?
আরোশি: কেন চাবো!
আবরার: মামার বিষয়।
আরোশি: বললাম তো আমি মারিনি। সে আমাকে মেসেজ করে জানিয়েছে শত্রুর কাছে যাচ্ছিলো। তাই আমি'ও যাই কিন্তু দেরী হয়ে যায়।
আবরার: আচ্ছা মানলাম তুমি মারোনি। বাসার মানুষ ভুল বুঝে আছে যার জন্য তোমার হাজারটা কটু কথা শুনতে হয়। সেই ভুল ভাঙ্গতে পারবে না কারণ মামা আর নেই অন্তপক্ষে সব ঠিক করার জন্য হলেও মাফ তো চাইতে পারো? তোমাকে তারা মাফ করে দিবে। তাদের ভালোবাসো তাহলে প্রকাশ্যে বাসলে প্রবলেম কি?
আরোশি: মাফ চাওয়া মানে আমি ঐ কাজ টা করেছি তারপর রিগ্রেট ফিল হওয়ায় মাফ চাচ্ছি। আমি তো করিনি এমন কিছু তাহলে এইসব কথা আসছে কেন? আর যদি কথা আসে পরিবার তবে বিষয় টা এমন না যে আমি মামাকে মেরেছি এইটা জানাজানি হওয়ার পর তারা আমাকে ঘৃণা করা শুরু করেছে বরং তারা শুরু থেকেই আমায় অপছন্দ করতো so এইখানে ভালো সাজার দরকার নেই আমার।
আবরার: নতুন করে সব শুরু করি চলো।
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব কোনো ক্রিকেট ম্যাচ যখন বৃষ্টির কারণে ড্র করা হয় সেইটা আর নতুন করে শুরু হয়না। পরের ম্যাচ খেলা হয়। আমার জীবনটাও গেইম কিন্তু আমি ড্র করতে রাজি না। জিততে শিখেছি, জিতবোই। হ্যা কোনো গেইম'ই তো আর অনন্তকাল চলে না। ফাইনাল তো আছেই। আমার লাইফ গেইম এর'ও ফাইনাল টাইম চলে এসেছে। এখন শুধু অপেক্ষা। আর বেশিদিন জ্বালাবো না কথা দিলাম।
আবরার আর কিছুই বলতে পারে না। কিছু বলার থাকেই না। কি বলবে সে এই মেয়েকে যে নিজেই এত বুদ্ধিমান। কিছু একটা আরোশির মাথায় চলছে তা আবরার বুঝতে পারে তবে কি চলছে এইটা তার জানা নেই। এখনো আরোশির কোলে মাথা দিতে আছে আবরার। অনেকক্ষণ পর আরোশি নিজেই বলে।
আরোশি: আর কতক্ষন থাকবেন এইভাবে?
আবরার: কেন তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে?
আরোশি: না। কিন্তু আপনার কষ্ট হচ্ছে।
আবরার: সবাইকে কষ্ট দাওয়া আরোশি অন্যের কষ্টের কথা ভাবে ? ওয়াও
আরোশি: এত অভিমান? আপনি কোনো অন্য না। আমার নিজের।
আবরার: oh really ?
তখন আরোশির একটা ফোন আসে। কে ফোন করেছে দেখার পর ফোন কেটে দেয় আরোশি।
আবরার আরোশিকে নিয়ে উঠে দাড়ায় তারপর নিজে যেয়ে অফিস চেয়ারে বসে আর আরোশিকে নিজের কোলে বসায়। এক সাইড থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুজে চোখ বন্ধ করে থাকে। তার ভারী নিঃশ্বাস আরোশির গলায় আছড়ে পড়ছে। আরোশির থেকে একটা মিষ্টি সুবাস পাচ্ছে যেইটা তাকে আরো পাগল করে দিচ্ছে।। আরোশি চুপ করে বসে আছে। অনেকক্ষণ ধরে আরোশির ফোন বাজছে আর প্রতিবারই আরোশি কেটে দিচ্ছে। আবরারও বিষয়টা খেয়াল করছে কিন্তু কিছু বলে না। ঠিক তখন দরজায় কেউ নক করে। শেষ আরেকবার জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে গভীর ভাবে আরোশির গলায় অধর ছুঁয়ে ছেড়ে দেয় আবরার। আরোশি ছাড়া পেয়ে উঠে সামনের চেয়ারে বসলো। আবরার নিজের সার্ট ঠিকঠাক করে বলে
আবরার: come in
দরজা খুলে মাহিয়া ভিতরে ঢুকে। দেখে আরোশি'ও আছে আর ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। আবরারও তাকিয়ে আছে। মাহিয়া যেয়ে আরোশির সামনের চেয়ারে বসে।
আবরার: কিছু বলবে?
মাহিয়া: কেন এমনি আসতে পারি না?
আবরার: না। এমনি এমনি কেন আসবে? অযথা আমি ফ্রি থাকি না। আমার অন্যান্য কাজ আছে। কোন কাজের বিষয় আসলে বলতে পারো কি কাজ।
আসলে আবরার বিরক্ত ছিল। পার্টিতেও এই মেয়েটা খুব ডিস্টার্ব করেছে আর এখন বউয়ের সাথে সময় কাটাবে তাও না। এসে গাপ্পুর মেরে বসে পড়লো। কত সুন্দর রোমান্টিক ভাবে বউকে আদর করছিল। সময় দিলে আদর আরো অনেক আগাত। কিন্তু না। একেক জন তো ঠেকা নিয়ে রেখেছে ডিস্টার্ব করার। বিরক্তে ভ্রু কুঁচকে ফেলে আবরার। একবার আরোশির দিকে তাকায় যে কিনা তাদেরকে দেখছে আর বারবার কারো ফোন কেটে দিচ্ছে। এতেও আবরার বিরক্ত হয়। কার এত সাহস তার বউ বারবার ফোন কেটে দেওয়ার পরেও ফোন দিচ্ছে? আর এই অবাধ্য নারী'ও কোন না কোন ছেলের ফোনটা না ধরে বারবার কেটে দিচ্ছে যাতে ফোনের শব্দে আরও সে ডিস্টার্ব হয়। কার ফোন হতে পারে এই চিন্তায় স্বামী যেন শোঁকে চলে যায় সেই কারণেই এই অবাধ্য নারী ফোনটা তুলছে না। যত্তসব, এখন আফসোস লাগছে বউকে কোলের থেকে উঠানোটাই ভুল ছিল। কোলে নিয়ে বসে থাকাই দরকার ছিল। ছেহ! অন্যপক্ষে ইচ্ছে মত মন ভরে না পারলেও সামান্য আদর তো করতে পারতো। সামান্য'ই অনেক।
আবরার: বললে না কোন কাজে এসেছো?
মাহিয়া: তারমানে এইখানে কোনো না কোনো কাজে আসতে হবে? (আরোশির দিকে একবার তাকিয়ে)
আবরার: হম
মাহিয়া: তাহলে মিস আরোশি এসেছে কোন কাজে?
কথা টা শুনে আরোশি জোরে জোরে হাসতে থাকে। আবরার উত্তর দিবে কি সে তো বিরক্ত এমন প্রশ্ন শুনে। তার বউ আসবে না তো কি কলগার্ল আসবে? ফালতু।
মাহিয়া ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আরোশির দিকে। সে তো কোনো joke শুনায়নি তাহলে এত হাসার কি আছে! আজব। একটু পর আরোশি হাসি বন্ধ করে উঠে দাড়ায় আবারো ফোন বেজে উঠে। আরোশি ফোন কেটে আবরার এর কাছে যায়। তারপর আবারো আবরার এর কোলে বসে গালে একটা চু*মু খেয়ে মাহিয়ার দিকে তাকায় যে কিনা রেগে তাকিয়ে আছে। মাহিয়ার লাল চোখ দেখে আরোশি বাকা হাসে।
আরোশি: প্রথমতো এইটা মিস না মিসেস হবে। আর তোমার প্রশ্নের উত্তর কোনটা দিবো! এইটা দিবো যে আমি তার বউ এইজন্য এইখানে নাকি বলবো আমি আরোশি চৌধুরী যেইখানে খুশি যাবো তোমার কি নাকি এইটা দিবো যে আমি'ও তার একটা প্রজেক্ট এ বিজনেস পার্টনার ছিলাম তাই অফিস এ আসতেই পারি নাকি তোমার মত ব্রেইনলেস কাওকে কোনো উত্তরই দিবো না? কি করা যায় বলোতো সোনা? হা হা হা
মাহিয়া রাগে ফেটে যাচ্ছে। ইচ্ছে করছে আরোশিকে মে*রে ফেলতে। হাতে পি*স্তল থাকলে হয়তো সত্যি মেরে ফেলতো। কিন্তু না, সে ভাবলো আরোশিকে সহজ মৃ*ত্যু দিবে না। ওর জীবন এলোমেলো করবে তারপর সব কেরে নিবে, ওর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিবে তারপর মা*রবে। না না, মারবে না। পরিস্থিতি এমন করবে যে আরোশি নিজেই নিজেকে শেষ করে দিবে। মাহিয়া বাকা হাসলো এইসব ভেবে।
মাহিয়া: আবরার আর ছয়দিন পর আমার birthday। বড় করে পার্টি থ্র করেছে papa। আমি চাই তুমি আসো ঐখানে। আশা করি আমাকে নিরাশ করবে না প্লীজ।
আবরার কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে
আবরার: ওকে আসবো। (সংকোচবোধ করে)
মাহিয়া এইবার উঠে দাড়ায়। হেসে বলে
মাহিয়া: ok then bye.
মাহিয়া যেতেই আরোশি বলে
আরোশি: শা*লি কি শুধু আপনায় ইনভাইট করলো? (ব্রু কুঁচকে)
আবরার: এইসব কেমন ভাষা?
আরোশি: বাংলা ভাষা
আবরার মাথা নেড়ে বলে
আবরার: তুমি যেতে চাও?
আরোশি: না (কাটকাট গলায়)
আবরার আরোশির জেলাসি দেখে বাকা হেসে বলে
আবরার: সত্যি?
বলে আবারো আরোশির গলায় মুখ গুজে। আরোশি ব্রু কুঁচকে বলে
আরোশি: আমার গলায় কি কিছু হয়েছে?
আবরার: না তো।
আরোশি: ঘারে?
আবরার: না। কেন?
আরোশি: আপনি সুযোগ পেলেই এইসব জাগা---
আবরার: চুপ চুপ এইসব বলে না। নির্লজ্জ কথা (ফিসফিস করে)
কথা গুলো কানের কাছে ফিসফিস করে বলে আবরার যা শুনে আরোশির শরীল কেপে উঠে। এতে আবরার মুচকি হেসে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। পারলে হয়তো কলিজার ভিতর ঢুকিয়ে ফেলতো নয়তো খে*য়ে ফেলতো।
আরোশি: বললে নির্লজ্জ আর করলে সভ্য!
আবরার: বলতে হয়না এইসব। শুধু করতে হয় বউ।
আরোশি: ওহো তাই নাকি! বউ মানেন? (মাথা ঘুরিয়ে আবরার গালে একটা চু*মু খায়)
{জামাই বউ দুইটাই নির্লজ্জ}
আবরার: বিয়ে তো আর ছেলে খেলা না। মানবো না কেন? ভালোবাসি না এইটা মাথায় রাখবি। কিন্তু বউ তো তাই কিছু করার নেই। অবাধ্য নারী।
আরোশি কথাটা শুনে খিলখিল করে হেসে দেয়। আবরার আরোশিকে এইভাবে হাসতে দেখে নিজেও হেসে দেয়।
আবরার: এইভাবে হেসো না সুন্দরী। বুকে লাগে।
আরোশি: ফ্লাট করছেন?
আবরার: আরে না।
আরোশি: সব সময় এমন থাকতে পারেন না? আজ এত ভালোবাসা উতলিয়ে পড়ছে? বাহ।
আবরার: sorry accept করেছো?
আরোশি শ্বাস ফেলে বলে
আরোশি: দেখি ছাড়ুন। আপনি কি খেয়ে ছিলেন দুপুরে কিছু? ( কোলের থেকে উঠতে নেয়)
আবরার: কিছু জিজ্ঞেস করেছি আরোশি রানী (আরো শক্ত করে ধরে)
আরোশি: আপনি কি আমায় ভালোবাসেন?
আবরার: না
বলে আরোশির গালে চুমু দেয়। আরোশি আবরার এর গাল ধরে বলে
আরোশি: কি হৃদয়হীন আপনি। মুখের উপর বউকে না করেন আবার চু*মু ও খাচ্ছেন মন্ত্রী সাহেব। হাহ!
আবরার: কেন চুমু খাওয়া নিষেধ!
আরোশি: ভালো না বাসলে আলবাদ নিষেধ
আবরার: আমি মানি না এই নিষেধাজ্ঞা। বিয়ে করার আগে মনে ছিল না আমি আপনায় ভালোবাসি না?
আরোশি: হাহ্
আবরার: কি হাহ্?
আরোশি: আমি ভালোবাসি এইটা যথেষ্ট। আপনার টা দিয়ে কি করবো?
আবরার: তাহলে এইযে আপনি যে আমায় ভালোবাসেন এইটা জেনে আমি আপনায় ভালবাসিনা তবুও বিয়ে করলেন সাথে আশিক আশিকি ফ্রি আসলো সেই সুবাদে মায়ের কর্মকাণ্ডে সারাকে না পেয়ে পলিটিশিয়ান বউ পেয়ে সব মিলিয়ে আমি চু*মু দিতেই পারি।
আরোশি: এ্যা !?
আরোশি প্রথম দিক দিয়ে লজিক বুজলেও শেষের দিক দিয়ে আবরার কি লজিক দিল আরোশির মাথায় উপর দিয়ে গেলো। কিছুই বুজলো না। চু*মুর জন্য কি কি বললো এই ছেলে? কিসের ভিতর কি ঢুকালো! আবারো ফোন এলো আরোশির ফোনে। ফোন টা হাতে নিতেই আবরার দেখলো 'abir' নাম উঠে আছে। ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল আবরার। তারমানে এতক্ষন এই গাধাই তাকে ডিস্টার্ব করছিল সাথে তার বউকে'ও। ফাজিল কোথাকার। আর কোনো কাজ নেই ফোনের উপর ফোন দিচ্ছে? সে ভেবে রাখলো বাসায় যেয়ে এইটাকে অফিসে বসানোর ব্যাবস্থা করবে। এমনি'ও পড়াশোনা শেষ আজাইরা গুরে বেড়ায় তাই এই অবস্থা। অন্যের সুখ সহ্য হয় না। আবির কেন ফোন দিল আরোশিকে? আবার ভাবলো দিতেই পারে কাজ আছে হয়তো কোনো। আবরার আরোশির দিকে তাকিয়ে দেখে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। আবার জড়িয়ে ধরলো আরোশিকে এতে শুনতে পেলো আরোশি ফোনের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বললো 'গর্দভকোথাকার'। সে বুঝে গেলো আবির কে বলেছে।
আবরার: সরি একসেপ্ট করেছো?
আরোশি: আপনি যেহেতু ভালোবাসেন না সেই হিসেবে আমার বিষয় খেয়াল রাখা অযথা। তো আমি কি সরি একসেপ্ট করলাম না করলাম না এইটা'ও খেয়াল রাখা অযথা। অপমান সবার সামনে করেছেন ভুলে যাবেন না।
আবরার: এই অপরাত টা কি তোমার খোরা কবরের আকারের চেয়ে বড়?
আরোশি এইবার আবরার এর দিকে তাকিয়ে বলে
আরোশি: ঠিক আছে মাফ করলাম। আপনি আমার জান। এই সামান্য ভুলের জন্য মাফ না করলে আমার ভালবাসা সস্তা। আমি চাইনা আমার জন্য আপনি কষ্ট পান। জানি আমি কিছু করলে কষ্ট পাবেন না কারণ আমার বিষয় আপনি ডোন্ট কেয়ার তবুও যান মাফ করলাম
আবরার: তুমি সব বুঝো শুধু আমার আর তোমার বিষয়ে আমাকে বুঝো না।
আরোশি: বিশ্বাস করেন মন্ত্রী সাহেব আমি আসলেই বুঝি না। আমি চেষ্টা করি কিন্তু আপনি গিরগিটির মত রং বদলান। বোঝা বড় দায়। এতই কঠিন যে আমার মত চালাক চতুর একজন পলিটিশিয়ান মেয়ে যে কিনা কত ব্রেইনি মানুষদের টক্কর দিয়ে পিছনে ফেলে এসেছে সে আপনায় বুঝতে পারে না। আফসোস।
আবরার আর কিছু বলে না। টপিক চেঞ্জ করে অন্য কথায় যায়। সে নিজে'ও মাঝে মাঝে আরোশি কে বুঝে না। মাঝে মাঝে? সে তো কখনোই বুঝার চেষ্টা করে না। এই মেয়েও তাকে বুঝে। অনেক ভালো করে বুঝে তবে মনের খবরের দিক দিয়ে লাপাত্তা এই মেয়ে।
আবরার: আচ্ছা তুমি কি আমার কোনো কাজে বিরক্ত হওনা?
আরোশি: আপনাতে বিরক্ত আমি আরোশি কখনো হবো না। আর যদি বদলে যাই তবে ভয়ানক পরিবর্তন ঘটবে আমার। ওই আরোশি বিরক্ত সহ আরো কিছু হবে কিনা আমি জানি না।
আবরার: ইদানিং তুমি শুধু এইসব বলো কেন?
আরোশি: জানি না। মনে হচ্ছে সামনে কিছু হবে। মন্ত্রী সাহেব আপনি আমার থেকে কিছু লুকাবেন না। ঠিক আছে? সব বলবেন। কোনো প্রবলেম হলে বা আপনার যদি মনে হয় আমাদের সম্পর্কে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির প্রবেশ ঘটেছে যেইটা আমি জানি না প্লীজ আমায় বলবেন। আমি জানলেও বলবেন। আমরা এক সাথে ঠিক করবো। লুকাবেন না।
আবরার কিছু বলে না। শুধু তাকিয়ে আছে আরোশির দিকে। আসলেই কি কিছু হবে তাদের মাঝে? নতুন কোনো গাপ্লা হবে? সে বিয়ে করেছে বর্নাকে যে সব ধ্বংস করে দেয়, তছনছ করে দেয়। যে তার নাম দিয়েছে বর্ষণ। "বর্নারবর্ষণ"। নতুন কেউ কি নামে আসবে? ঝড়? যে আরেক তরিকায় সব ধ্বংস করে।
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব আমার যেতে হবে কাজ আছে।
আবরার কিছু না বলে আরো শক্ত করে ধরে কাঁধে মাথা রাখে। আরোশি আবরার এর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে
আরোশি: যেতে দিবেন না?
আবরার: পড়ে যাও
আরোশি: আজ আপনি কেমন যেনো behave করছেন। ভালোবাসেন?
আবরার: না
আরোশি: পছন্দ করেন?
আবরার: বললাম তো না।
আরোশি: তাহলে রাখতে চান কেন?
আবরার: আমার বউ, আমার ইচ্ছা।
আরোশি: ওহ রিয়েলি জান? তার মানে বউ মানেন। বাড়ি কখন যাবেন?
আবরার: কাজ শেষ হলে।
আরোশি: রাত হবে?
আবরার: একটু তো হবেই।
আরোশি: বেশি রাত করবেন না।
আবরার: অধিকার খাটাচ্ছো?
আরোশি: কেন! অধিকার খাটানোর অধিকার দেননি?
আবরার কথা ঘুরিয়ে বলে
আবরার: এখনই যাবে?
আরোশি: কথা পাল্টাচ্ছেন?
আবরার: হয়তো।
আবরার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরোশিকে ছেড়ে দেয়। আরোশি উঠে নিজের পরনের ব্লেজার ঠিক করে। আবরার তাকিয়ে রইল। আরোশি দুইহাতে আবরার এর দুই গাল ধরে মুখের দিকে ঝুঁকে কপালে চু*মু খেল। আবরার গভীর দৃষ্টিতে তাকালো আরোশির দিকে। চোখ সরায় না। সরাবে কেন! তার বউ সে যেইভাবে খুশি দেখবে। প্রয়োজনে খে*য়ে ফেলবে। কথা গুলো ভেবে আবরার মুচকি হাসে। যেইটা আরোশির চোখ এড়িয়ে যায়।
আরোশি: আসি। কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন।
আবরার: ঠিক আছে।
আরোশি ক্যাবিন থেকে বের হয়ে আবিরকে ফোন করে। রিং হওয়ার আগেই যেনো ফোন ধরে ফেললো এমন লাগলো আরোশির কাছে। আরোশি ধমকের সুরে বলে
আরোশি: গর্ধব কোথাকার মাথায় গেলু নেই? ফোন বারবার কেটে দিচ্ছি তারপর'ও ফোন দিচ্ছ। তুমি কি উলা?
আবির: না
আরোশি: জামাইর সাথে সময় কাটানোর সুযোগ দাও না তোমরা। এই জীবন রেখে কি করবো?
আবির: নির্লজ্জ। আমি কি কর---
আরোশি: ব্যাস। মাথা মোটা কোথাকার। কেন ফোন করেছো?
আবির: কিহ! কিসব বলছো। কি ভাষা। আর তুমি জানো না কেন আমি তোমায় কল করেছি?
আরোশি: আমি জানলে তো হত'ই। কি সমস্যা?
আবির: বাড়িতে কথা বলবে কখন?
আরোশি: কোন বিষয়?
আবির: আমার বিষয়
আরোশি: তোমার বিষয় আমি কেন বলবো?
আবির: আহহা আরোশি
আরোশি: surname চৌধুরী আরোশি not আহহা আরোশি
আবির: প্লীজ বুঝার চেষ্টা করো। তুমি তো জানো সব।
আরোশি: যদি না জানতাম?
আবির: এত তেরা কেন তুমি? না জানলে আমি জানিয়ে দিতাম। প্লীজ প্লীজ আরোশি
আরোশি: আমি কেন বলবো? প্রবলেম তোমার so তোমারই বলা উচিত।
আবির: প্লীজ (অসহায় সুরে)
আরোশি: আরে ধুর (ধমক দিয়ে)
আবির: প্লীজ প্লীজ
আরোশি: shut up bi**ch,,,, okay but আগে রিফার বিয়ে টা শেষ হোক।
আবির: আহহা ওইটা তো বাবা বাদ দিয়েছে।
আরোশি: না। আগে বিয়ে হবে ওর তারপর তোমার ঝামেলা ধরবো।
আবির: ঠিক আছে কিন্তু শুরু আর শেষ কিভাবে!
আরোশি একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে
আরোশি: শুরু তুমি করবে শেষ আমি করবো।
আবির: ok সুন্দরী
আরোশি: aishh লজ্জা করো ভাবিকে এইসব বলছো (গম্ভীর সুরে)
আবির হেসে উঠে বলে
আবির: ভাবির আগে তুমি আমার কাজিন তারপর crush তারপর ভাবি।
॥
রাত 9: 34 বাজে। সকলে ড্রইং রুমে বসে আছে। মরিয়ম এসে কফি দিলো সবাইকে তারপর যেয়ে আরোশির বসা সোফার পাশে দাঁড়ালো। আজমুল বলেছে কিছু কথা বলবে তাই সবার বসা। তার বলার অপেক্ষায় আছে সবাই। কি এমন বলবে? শেষ আবরার এর দাদি এসে বসলো। এইবার নীরবতা ভেঙ্গে আজমুল বললো।
আজমুল: আমি রিফার বিয়ে ঠিক করেছি
আরোশি: আগের থেকেই তো ঠিক। (কফি খেতে খেতে)
আজমুল: এইবার তারিক ফাইনাল। কোনো গন্ডগোল হবে না। কালকের পরের দিন বিয়ে, কাল হলুদ।
রোশনারা: কিন্তু---
জেসিয়া: ওই চুপ করো। আজমুল ওর মাইয়ার খারাপ চাইবো নাকি?
আরোশি: জীবনের প্রথম ভালো কথা বললা বুড়ি।
জেসিয়া: তোরে আমি এহন কিছু কই যে তুই কস?
আরোশি: বলবা কোন মুখে? কম তো জ্বালাও নাই আমারে।
আবরার: ভাষা ঠিক করো আরোশি
আরোশি: এইটা আবার কি?
কুমকুম: মূর্খ এইজন্য জানিস না।
আরোশি: কখনো কি দেখেছো গাধার পেট থেকে শিয়াল বের হতে?
আরোশি বুঝালো কুমকুম বেগম মূর্খ সেই হিসেবে তার পেট থেকে হওয়া আরোশি ও মূর্খ। সাইদুল মেয়ের কথা শুনে ধমক দিয়ে বলে
সাইদুল: লজ্জা করে না সবার সামনে মা কে অপমান করতে? ভুলে যেও না তুমি অনেক ভুল করেছো। আর কত!
আরোশি: কি ভুল করেছি? (কফি চুমুক দিয়ে)
রোশনারা: জানিস না? নিজের মামাকে মে*রেছিস এইখান থেকে ভুল গুনা শুরু কর।
আরোশি: ড্রামা করা বন্ধ করো প্রিয়। তুমি কিছু করোনি?
রোশনারা: কি করেছি।
আরোশি বাকা হেসে বলে
আরোশি: জানবে। খুব জলদি জানবে শাশুড়ি মা।
আজমুল: চুপ করো তোমরা। যেই বিষয় কথা বলছিলাম এইবার যেনো কোনো গন্ডগোল না হয় বিয়েতে। নয়তো আমার চেয়ে খারাপ কেও হবে না।
রোশনারা: আবরার (ইশারা করে)
জেসিয়া: তোর মাইয়ার ভাব দেখলেই বুজা যায় পোলা ওর পছন্দ। কথা বারাইসনা।
রিফা একটু লজ্জা পায় কথা টা শুনে। এত গুলা মানুষের সামনে বলে দিলো দাদি। বুঝেছে ঠিক আছে বলার কি দরকার? বড় ভাইরা, বাবা, চাচারা কি ভাবছে।
রোশনারা আবারো চোখ দিয়ে আবরার কে ইশারা করে কিছু বলার। আবরার কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে
আবরার: বাবা একবার রিফাকে জিজ্ঞাস করো সবার সামনে।
আজমুল: ঠিক আছে। রিফা বিয়েতে তোমার কোনো আপত্তি আছে?
চলবে,,,,,,,
(আমি কি গল্পের মধ্যে বেশি ঐসব প্রকাশ করি? ভয় লাগে কখন যেনো অন্যরা ভুল বুঝে রিপোর্ট মেরে দেয়। শালীনতা বজায় রাখার চেষ্টা করি। তবে গল্পটা আরো সুন্দর আর সাজাতে হলে একটু আকটু মিলাতে হয়। তোমাদের মতামত চাই)