ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৪৪তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৪৪

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আবরার: তাহলে আমার বউকে খুঁজে বের করো যাও।

Rid ভাষাহীন। কি বলবে! বউ আবরার এর তাহলে সে কিভাবে ভাবতেই----- মাথায় কিছু আসে। দেরী না করে তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করে।

Rid: sir mam কোথায়?

আবরার প্রশ্ন শুনে বিরক্ত হলো তার মুখ দেখেই তা বুঝা গেলো। মুখ দিয়ে বিরক্ত "চ্য" শব্দ উচ্চারণ করে। আরে সে জানলে কি এই গাদাটা কে বলতো তার অবাধ্য নারী কোথায়! হম, ঠিক আছে বউ টা তার কিন্তু খোঁজ তো লোক দিয়েই নিবে। চোখ খুলে rid এর দিকে তাকায়।

আবরার: আমি জানলে তোমাকে বলতাম খুঁজতে?

Rid: sorry sir .... আমি দেখছি

আবরার: তাড়াতাড়ি যাও। বউ চাই। সব মিটিং কেন্সেল করে দাও। (শান্ত সুরে)

কিছুটা অবাক হয় rid। Sir কি ছটপট করছে বউয়ের জন্য? নাকি সে ভুল ভাবছে। ভুলই হবে। কি শান্ত আছে লোকটা এখনও।

Rid: ok sir

এই বলে বেরিয়ে গেলো rid । আবরার আবার আরোশি কে ফোন দিল। বন্ধ। রাগ লাগছে না মন খারাপ লাগছে আবরার বুঝতে পারছে না। এই অবাধ্য নারী জটিল খারাপ কিন্তু তার বউ তো। শুধু বউ বলে সে এত ছটপট করছে নয়তো কখনোই ভাবতো না এই অবাধ্য নারী কে নিয়ে। এইখানে কোনো ভালোবাসা নেই। ছোট বেলা থেকেই মেয়ে টা জিদ্দি। ওর এই জিদ্দীপনা আবরারকে অস্থির করতো। গভীর কিছু একটা করে ফেলতে ইচ্ছে করতো। ইচ্ছে করতো----

আর ভাবলো না আবরার। এখনও অস্থির করে এই অবাধ্য নারী তাকে। এইযে এখন ও অদৃশ্য হয়ে করছে। এখন তো তার নিজেকে পাগল পাগল লাগে। ইচ্ছে করে বউ কে কলিজায় ঢুকিয়ে রাখতে। এই মেয়েই তো তার কলিজায় আগুন ধরিয়ে দেয় তাই ওকেও সেই আগুনেই জ্বালিয়ে দাওয়া উচিত।

আবরার এইসব ভাবছিল ঠিক তখন তার কেবিনে কেও ডুকে। আবরার তাকিয়ে দেখে লিলি। হটাৎ কেন আসলো আবরার বুঝলো না। ভালো করে খেয়াল করে দেখে চোখ মুখ শুকিয়ে আছে লিলির। একদম মলিন। আবরার কপাল কুঁচকে বলে

আবরার: কিরে তুই হটাৎ!

লিলি: কিছু কথা ছিল (চাপা কণ্ঠে)

আবরার: কিছু কি হয়েছে?

লিলি যেয়ে একদম আবরার এর সামনে দাড়ালো। আবরার'ও দাড়িয়ে গেলো। ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে লিলির দিকে। লিলি আবরার এর হাত ধরে নিজের দুই হাতের মঠোয় নিয়ে চোখে চোখ রাখে। আবরার এর বিষয়টা কেমন যেনো লাগছে। লিলির এমন কাজে সে ভড়কে যায়। কিন্তু চোখ! সে এত ও ছোট না যে এত স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠা ভাষা বুজবে না। বিরক্ত লাগে আবরার এর। যার টা বুঝতে চায় কিন্তু বুঝতে পারে না আর যার টা পারে তার টা অসহ্যকর। তার মনে হচ্ছে আজ এই চোখ অন্য কিছু বলছে যেটা অসম্ভব কিংবা কঠিন। আবরার কিছু বলতে যায় তার আগেই লিলি বলতে শুরু করে

লিলি: আমি আর সহ্য করতে পারছি না আবরার। আমার খুব কষ্ট হয়। খুব। অসহনীয় ব্যাথা অনুভব হয় বুকে। তুই কি শুনতে পাসনা আমার মনের হাহাকার, চিৎকার?

আবরার: ম-মানে ? (অবাক হয়ে)

লিলি এইবার কান্না করে দেয়। আরো শক্ত করে চেপে ধরে আবরার এর হাত। আবরার বুঝতে পারছে না কি করবে।

লিলি: তুই ছেড়ে দে আরোশি কে।

আবরার চরম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কি বলছে এই মেয়ে! সে ছাড়বে তার বউ কে! অসম্ভব। মাথা কি তার এতই খারাপ নাকি পাগল কু*কু*র কামরিয়েছে তাকে! ভালোবাসে না তার মানে এই না বউ ছাড়বে। বউ তার চাই রাতে, সকালে, দিনে, দুপুরে। সে পারলে প্রতি সেকেন্ডে বউ সামনে বসিয়ে রাখতো। কিন্তু বউ তার ব্যাস্ত মানুষ। পলিটিশিয়ান। ভালো না বউ। অনেক অবাধ্য কিন্তু তার চাই। বউ ছাড়া যাবে না। আর সে ছাড়লে'ও তার বউ তাকে ছাড়বে না সে জানে। তাই সে ও ছাড়বে না। দরকার পড়লে বউ ছাড়তে চাইলে মেরে ফেলবে তবুও অসম্ভব ছাড়া। ছাড়লে সমস্যা একটা না অনেক। বড় সমস্যা ছাড়লেই গেলো তার রাতের ঘুম হারাম হয়ে। আবরার বিড়বিড় করে বললো

আবরার: আমার তুলতুলে বালিশ কোথায় তুমি? স্বামীর কথা ভুলে গেছো?

লিলি বুঝলোনা আবরার কি বিড়বিড় করে বলছে। হাত ঝাকালে আবরার ওর দিকে তাকায়। তারপর গলা ঝেড়ে বলে

আবরার: তুই কি বলছিস এইসব। আরোশি কে আমি ছাড়বো কেন!

লিলি: তুই কি ওকে ভালবাসিস?

আবরার চুপ হয়ে গেলো। সে তো বাসে না তাহলে 'না' বলতে পারছে না কেন? গলায় আটকে আসছে কিছু। ইচ্ছে করছে না 'না' বলতে। নিজেকে সংযত করে আবারো গলা পরিষ্কার করে বলে

আবরার: ন-না

লিলি: তাহলে ছেড়ে দে।

আবরার: আরে আজব। ছাড়বো কেন? আর তোর মনে হয় আরোশি আমাকে ছাড়ার জন্য বসে আছে? অথবা আমাকে ছাড়তে দিবে তোর মনে হয়! সব ধ্বংস করে দিবে। ও বর্না। বর্নার কাজ সব এলোমেলো করা। আরোশি যদি জানে তুই এইসব বলছিস তোর জীবন এ কালবৈশাখী ঝড় উঠিয়ে দিবে।

লিলি: আবরার প্লীজ (কাতর কন্ঠে)

আবরার: লিলি দেখ আ--

লিলি: ভালোবাসি তোকে।

॥

বিকাল চারটায়,,,,

আরোশি রেস্টুরেন্ট এ ঢুকে শার্টের উপরে পড়া লং কালো কোর্ড খুলে সাইডের চেয়ারে রাখে সাথে রিফার বিয়ে উপলক্ষে নিজের জন্য করা সপিং ব্যাগ গুলো ও রাখে। বাসার কোনো খোজ খবর নেই নিজের মতো সপিং করে বেড়াচ্ছে আরোশি। নিজে বসে আরেক চেয়ারে। চোখের কালো সানগ্লাস খুলে চাড়ো পাশে একবার চোখ বুলিয়ে ফোন বের করে কাওকে কল করে। এখন একটু খোজ নেওয়াই যায়।

আরোশি: খবর কি?

-: ছটপট করছে। আপনাকে খুজার জন্য মানুষ লাগিয়েছে।

আরোশি আয়েশ করে বসে রসিকতা করে বলে

আরোশি: umm nice,,, গায়েব হয়ে যাবো?

-: m-mam আপনি আমার চেয়ে ভালো বুঝেন।

আরোশি শব্দ করে হেসে বলে

-: ok ok bye

ফোন রাখতেই আরেকটা কল আসে। আরোশি কল রিসিভ করে কানে দেয়।

আরোশি: রাজু ভাই ভালো আছো।

Raju: হম ভালো। কোথায় তুই?

আরোশি: রেস্তোরাঁ তে

Raju: কোন রেস্টুরেন্ট এ?

আরোশি: কেন কিছু হইছে?

রাজু: মিটিং আছে ভুলে গিয়েছিস?

আরোশি: association chairman পদবী?

Raju: হম। High command থেকে অর্ডার আসছে যে শুনেছিস?

আরোশি: হম। Corporate hospital তিন মাসে কমপ্লিট হবে 14 টা।

Raju: Prime Minister এর সাথে দেখা করতে হবে তোর আরোশি।

আরোশি: যাবো, একটু পর।

Raju: President আসবে কাল। নিয়োজিত করার সময় থাকবে। আমি চাই তুই ঐখানে থাক

আরোশি: আগে শুনি Government কি চায়। পেপার সাইন হোক আগে। পরের টা পড়ে দেখা যাবে। আসছো না আজ হলুদে?

Raju: হম। শুনলাম সভাপতি মোতালেব মিয়া আর তোর মাঝের ঝামেলার ব্যাপারে। কি ভাবলি?

আরোশি: কাল দেখা করি। ফ্রী আছো?

Raju: হা হা হা রাজনীতিবিদের আবার ফ্রী সময়?

আরোশি: বিয়ে করো সময় পাবা।

Raju: বুদ্ধিমান মেয়ে। কোথায় কি বলা লাগে অনেক ভালো করে জানা তোর। যাইহোক কাল দেখা কর। বিকাল দিকে।

আরোশি: আমি জানতাম। Okey bye

ফোন রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকলো আরোশি। তারপর ওয়েটারকে ডাক দিয়ে কফি অর্ডার দিল। রয়েসয়ে কফি খেলো। কিছু মনে আসতে আবার ফোন হাতে নিলো

আরোশি: হ্যালো

আনান: হম কেমন আছো?

আরোশি: ভালো। তোমার কি খবর?

আনান: কাজের অনেক প্রেসার।

আরোশি: আসবে না বিয়েতে?

আনান: অসম্ভব। অনেক কাজ। আগামী কয়েক বছরে দেশে আসতে পারবো কিনা সন্দেহ।

আরোশি: কি বলো এইসব।

আনান: হম। হা হা হা জানো আমি সেটেল হয়ে গিয়েছি এইখানে। বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এ ব্যাস্ত। আবার বাবার বিজনেস ও আছে। তুমি তো জানোই বাবা মা এইখানেই। তাই ভাবলাম ঐখানে যেয়ে কি করবো।

আরোশি: হম বুজলাম।

আনান: তারপর বলো---

এইভাবেই কিছুক্ষন কথা বলে ফোন রেখে দেয় তারা।আরোশি বিল পরিশোধ করে ব্যাগ গুলো হাতে নিয়ে উঠে চোখের সানগ্লাস লাগিয়ে বের হয়ে গেলো রেস্টুরেন্ট থেকে।

॥

আরোশি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাড়ি পৌঁছে দেখে সবাই রেডি হতে ব্যাস্ত। পুরো বাড়ি সাজানো। মেহমান দিয়ে বাড়ি গিজগিজ করছে। ফার্ম হাউজ এ হলুদ হবে তাহলে বাড়ি কেন সাজানো আরোশি বুজলো না। তখন দেখে রবিন হাতে কিছু ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছে।

আরোশি: এই রবিন!

রবিন দাড়িয়ে যায়। আরোশিকে দেখে কাছে যায়। চমৎকার একটা হাসি দিয়ে বলে

রবিন: জ্বী আপু।

আরোশি: বড় আব্বু কই?

রবিন: রুমে।

আরোশি: বিয়ে না ফার্ম হাউজ এ হওয়ার কথা ছিল?

রবিন: হ আপু কিন্তু চাচা পরে সব ব্যবস্থা বাসায় করছে। আজ সারাদিন সব কাজ শেষ করছে। আপনি তো সারাদিন বাসায় আসেন নাই। কই ছিলেন আপু?

আরোশি: ব্যাস্ত ছিলাম। আচ্ছা যাও নিজের কাজ করো।

রবিন: জ্বী।

আরোশি রুমে যেয়ে দেখে আবরার এখনো আসেনি। ব্যাগ গুলো খাটে রেখে ওয়াশরুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। সাত টা সপিং করা ব্যাগ তার থেকে তিন টা ব্যাগ নিয়ে ওয়াশরুমে যেয়ে ড্রেসিং সেকসন এ রাখে। এসে বাকি চারটার থেকে একটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়। রান্না ঘরে যেয়ে দেখে রোশনারা, কুমকুম, মরিয়ম, আরো কয়েকজন মহিলা। আরোশি চিনে না তাদের। হয়তো কাজের জন্য এনেছে। মাথা গামালো না। সোজা মরিয়মকে ব্যাগ টা দিলো। রোশনারা আর কুমকুম বেগম তাকিয়ে আছে। তারা রেডি হয়েছে আগেই। শুধু কিচেনে এসেছে কাজ দেখিয়ে দিতে আর মরিয়মকে রেডি হতে বলতে। মরিয়ম দূরে দাঁড়িয়ে তাই আরোশি কি বলছে তাদের কান পর্যন্ত যাচ্ছে না। রোশনারা বেরিয়ে নিজের রুমে গেল। কুমকুম বেগম নিজের কাজে মন দিল।

আরোশি: এইটা তোর (গম্ভীর গলায়)

মরিয়ম: আফা এইটা কিতা?

আরোশি: খুলে দেখ। আর তোর সুলাইমান জানটুস এর সাথে নিজের রুমে কথা বলবি। আমি যেনো না দেখি দুতলায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে কথা বলতে। প্রেম কর সমস্যা নেই কিন্তু তোর গুনগুন কথার শব্দে আমার স্বামীর ঘুমে সমস্যা হয়। মাথায় ঢুকেছে কথা?

মরিয়ম লজ্জা পায় কিনা আরোশির জানা নেই। মেয়ে টা সব গুলো দাঁত কেলিয়ে হাসলো। হাত কচলাতে কচলাতে বললো।

মরিয়ম: জ্বী আফা বচ্চি

আরোশি: বুঝেছি হবে।

মরিয়ম: বুজছি

আরোশি আবার রুমে চলে যায়। মরিয়ম খুশিতে গদগদ হয়ে নিজের রুমে যায়। তার পছন্দের আরোশি আফু তাকে কিছু দিয়েছে। ব্যাগ খুলে দেখে অনেক সুন্দর একটা কাঁচা হলুদ রঙের জানা। আজ এইটাই পড়বে সে ভেবে রাখলো। জোটপট রুম টা ঘুছিয়ে জামা খাটে রেখে গোসলে চলে গেল।

॥

আরোশি শাওয়ার নিয়ে রুমে আসে। নিজের আনা কালো রঙের লেহেঙ্গা পরে। চুল গুলো ভালো করে মুছে শুকিয়ে নেয় তারপর রেডি হওয়া শুরু করে। গারো কাজল দেয় চোখে সাথে কালো আইসেডু আর চিকন আইলাইনার দিয়ে অনেক সুন্দর করে চোখ সাজানো। মুখে মেকআপ, ভারী না তবে হালকাও না। মানান সই। ঠোঁটে মেরুন রঙের লিপস্টিক, নাকে সিলবার রঙের গোল নথ। ছোট থেকে আরোশি সাজগোজে পারদর্শী। নিজে নিজে খুব সুন্দর সাজতে পারে। সবসময় নিজেকে ফিটফাট রাখা পছন্দ তার। আরোশি এইবার চুল বাঁধতে থাকে। কোমর পর্যন্ত চুল সুন্দর করে পিছনে ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে ছেড়ে দেয়। পিছনের ছাড়া চুলগুলো স্টেটনার দিয়ে হালকা কোকড়ানো করে। সামনে এক পাশে কিছু চুল এনে রাখে। গলা খালি। কানে দুল আর মাথায় টিকলী পরে। ফুল হাতা তাই আর চুরি পরে না। ঠিক তখন কেও দরজা নক করে।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>><<<<<<<<<<<<<<<<

রুমে লিলি এসে দাঁড়িয়ে আছে। আরোশি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে তারপর আয়েস করে বিছানায় বসে। লিলি'ও কাছে যেয়ে বসে। লিলির পরনে ভারী কাজ করা হলুদ শাড়ি। চুল সুন্দর করে সেট করা। হাতে চুড়ি, কানে ঝুমকো, মাথায় টিকলি। গলায় চিকন চেইন। বিয়ের আগে লিলির বার্থডে তে আবরার দিয়েছিল এই চেইনটা আরোশি জানে এইটা। কিন্তু তখন ওর জানা ছিল না লিলি এই নজরে দেখে আবরারকে নয়তো দিতে দিত না এই চেইন। আরোশি দেখে লিলির চোখ লাল হয়ে ফুলে আছে। ফর্সা বলে নাকের ডগা পর্যন্ত লাল হয়ে আছে। আরোশি বুজলো কেঁদেছে।

আরোশি: কিছু বলবে? (শান্ত সুরে)

লিলি কিছু বললো না। তাকিয়ে রইলো। কি আছে এই আরোশির মাঝে যে আবরার ছাড়তে চায়না? মানলো আরোশি ছাড়বে না তাই বলে কি আবরারও কিছু করতে পারবে না? আবরার রেগে গেলে আরোশির চোখে আবরার এর জন্য ভয় দেখেছে লিলি। আবরার রাগলে আরোশি কথা বলার সাহস পায়না। আবরার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে হাত উঠালে আরোশি কান্নাও করে দেয়। অনেক বার দেখেছে লিলি। তাহলে ভয় দেখিয়ে divorce নেক। এতদিন ইচ্ছে করতো আরোশিকে মেরে ফেলতে কিন্তু এখন নিজেকে অনেক অসহায় লাগে লিলির। রোশনারা বলেছে আবরার আরোশির প্রতি দূর্বল হচ্ছে। ভয়ানক কিছু করতে হবে আরোশির সাথে কিন্তু লিলি রাজি হয়নি। সে ওরকম মেয়ে না যে নিজের স্বার্থের জন্য আরেক মেয়ের প্রতি স্বার্থপর হবে। সে আরোশির মত স্বার্থপর না। সে আবরার এর চোখে আরোশির জন্য কিছু একটা দেখেছিল আজ দুপুরে। যেইটা সে চায় না। লিলির মনে করে দুপুরে আবরার এর অফিসে ঘটা কাহিনী গুলো।

🕳️Flashback......

লিলি: ভালোবাসি তোকে।

কথা টা শুনে আবরার পিছিয়ে যায়। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলে লিলি আরো শক্ত করে ধরে। আবরার চোখ সরিয়ে ফেলে লিলির থেকে। সে ভাবেনি তার বেস্ট ফ্রেন্ড তার প্রতি ফিলিংস রাখে। তাকে ওই চোখে দেখে। সে তো বোন মানতো। তাইতো সেইদিন আরোশির বলা 'র*ক্ষি*তা' শব্দটা এত বাজে লেগেছে তার কাছে। আরোশির কথা মাথায় আসতেই আবরার এর মাথায় এইটা'ও আসে আরোশি বলেছিল লিলি তাকে চায়। সে বিশ্বাস করেনি। কিন্তু আজ--

লিলি: আবরার অনেক বেশি ভালোবাসি তোকে। সেই কলেজ লাইফ থেকে। আগে বলতে পারিনি ফ্রেন্ডশিপ নষ্ট হবে বলে কিন্তু---

আবরার: এখন নষ্ট হবে না? (শান্ত সুরে)

লিলি: প্লীজ। আমি সব মেনে নিয়েছিলাম। আমি জানতাম তোকে পাবো না। তুই আমাকে ওই নজরে দেখিস না। কিন্তু তোর প্রতি দিন দিন ফিলিংস বাড়তেই থাকে। মেয়েদের স্বপ্নের রাজকুমার তুই। আমি কি করে হাসিল করবো এই রাজকুমার কে! তাই নিজেকে আটকানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু অনুভুতি। ওইটা কি আটকানো সম্ভব? যখন জানলাম তোর আর সারার বিয়ে ঠিক আগের থেকেই তখন আমার কষ্ট হয়েছিল কিন্তু তুই ভালোবেসে ওর সাথে খুশি থাকলে আমিও খুশি তাই বিদেশ চলে যাই। এপর্যন্ত সব ঠিক কিন্তু তোর বিয়ের দিন আরোশি শেষে এসে এমন ভাবে বাজী পাল্টিয়ে ছিল যে আমার মাথায় সবার আগে আসছে তুই আরোশি কে ভালবাসিস না তবুও তোকে ওহ পেয়ে গেলো তাহলে আমি কেন পাবো না? ওকে তুই ঘৃণা করিস সেই হিসেবে ঘৃণায় ভালোবাসা আসে না। কিন্তু আমায় তো আর করিস না ঘৃণা তাহলে আমি তোকে পেলে আমার প্রতি তোর অনুভুতি জাগবেই। ভালোবাসা আসবেই। তুই আমার হয়ে যা। আরোশির লাইফ টা অনেক এলোমেলো। ওহ পুরোটাই এলোমেলো। ওর সাথে তুই সুখী হবি না। তুই তো বলতি তোর রাজনৈতিক পছন্দ না। এইটা খারাপ। তোর বাবা এই পেশায় আছে তাই বাবার সময় আর ভালোবাসা পাসনি তুই। তাই এই পেশা পছন্দ না তোর। তাহলে আরোশিকে ছাড়তেই পারিস। তুই চাইলেই সম্ভব। আমি তোকে রাস্তা বের করে দিবো। প্লীজ তুই---

আবরার নিজেকে ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে বলে

-: ব্যাস। আর বলিস না। ছাড় আমার হাত

লিলি: আবর--

আবরার এইবার ধমক দিয়ে বলে

-: চুপ একদম চুপ। অনেক বলেছিস। আমি ভাবতেও পারছি না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আমাকে এই চোখে দেখে। আমি তো তোকে আর রিফাকে এক চোখেই দেখতাম। তুই কেন আমাদের সুন্দর সম্পর্কে এইটা টেনে আনলি? আমরা তো এমনেই ভালো ছিলাম

লিলি এইবার জোর গলায় বলে

লিলি: ছিলাম না। আমি ভালো ছিলাম না। আমি শেষ হয়ে যাই আরোশির সাথে তোকে দেখলে। আমার সহ্য হয় না। মেরে ফেলতে ইচ্ছে করে।

আবরার: কাকে? (শান্ত সুরে)

লিলি: আরোশিকে

কথাটা শেষ করতে দেরি আবরার এর লিলির গলা চেপে ধরতে সময় নেয়নি। গলা চেপে ধরে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে ফেলেছে। লিলি অবাক হবে নাকি নিজেকে ছাড়াবে বুঝতে পরছে না। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আবরারকে নিজের জম দেখছে লিলি। মনে হচ্ছে আজ শেষ দিন তার। সে আবরার এর এই রূপ কখনো দেখেনি। আবরার সব সময় শান্ত আর গম্ভীর থাকে। লিলি ছটপট করতে শুরু করে। আবরার এখনও শক্ত করে ধরে রেখেছে লিলির গলা। রাগে গজগজ করছে। তার বিয়ে করা বউকে মারতে চায়? সাহস কত। মে*রেই ফেলবে আজ এই মেয়ে কে সে।

আবরার দাঁতে দাঁত চেপে বলে

-: না*** বা** তোর সাহস কত তুই আমার বউ কে মারতে চাস? আমি সব শেষ করে দিবো আরোশির গায়ে একটা আচ আসলে। ওর উপর আমার অধিকার। আমি মারবো, আমি আদর করবো। কিন্তু যদি অন্য কেউ--- না না ভুলে ও না। আমাকে ওই পর্যন্ত নিসনা লিলি। আমি ভুলে যাবো একটা সময় তুই আমার ফ্রেন্ড ছিলি। এইসব ভাবনা মাথা থেকে ফেল।

লিলি তখনো ছটপট করছে আবরার এর হাতের মাঝে। আবরার খেয়াল করে লিলির মুখ লাল টকটকে হয়ে গিয়েছে আর কিছুক্ষন ধরে রাখলেই শেষ। আবরার ছেড়ে দেয়। লিলি ছাড়া পেয়ে গলা কা*টা মুরগীর মত ছটপট করে শ্বাস নিয়ার চেষ্টা করছে। আবরার এর টেবিলের উপরে পানির গ্লাস তুলে গটগট করে পুরোটা শেষ করে। তারপর টলটল চোখে আবরার এর দিকে তাকায়। যে নিজে'ও বুকে হাত গুজে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। লিলি কে সাভাবিক হতে দেখে আবরার কাছে যেয়ে লিলির এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে খুব নরম কণ্ঠে বলে

আবরার: my dear আজ যা বলেছো এইখানেই শেষ। ভুলেও এই চিন্তা ভাবনা আগানোর বা পূর্ণ করার চেষ্টা করবে না। তুমি যেইটা চাচ্ছ ওইটা পূর্ণরূপ পেলে সমাজ তোমায় আমার র*ক্ষি*তা'ই বলবে। বলবে বেস্ট ফ্রেন্ড এর ব্যাড পার্টনার ছিল কিন্তু ছেলেটা বিয়ে করে অন্য কাউকে তাই এখন ছেলেটা কে হাসিল করার জন্য ছেলের কানে কথা গুজে। যেইটা প্রভাব ছেলেটার সংসারে পরে তাই ছেলেটা তার স্ত্রী কে অত্যাচার করে ছেড়ে দিয়েছে। আর সেই র*ক্ষি*তা ছেলেটা কে হাসিল করেছে। এইখানে পুরো দোষ টা তোমার উপর যাবে। যেইটা আরোশি ব্যবস্থা করবে। ওর ব্রেইন সম্পর্কে তোমার ধারণা নেই। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সবচেয়ে নিকৃষ্ট অপরাধী ব্যাক্তিকেও আরোশি ভদ্র-সভ্য বলে প্রমাণ করে দিতে পারবে। আমাকে তো পাবি'ই না কিন্তু নিজের সম্মান হারাবি। আমার বউ অনেক ভয়ানক একজন রহস্যময় নারী। আমাকে পেয়ে সমাজের চোখে আমার র*ক্ষি*তা হতে চাও? তুমি চাইলে'ও আমি চাই না। আমার বউ আছে। আমি happy তার সাথে তাই আগে যেইভাবে চলতো সেই ভাবেই হবে। আমার বিয়েতে এসেছিলে এইবার রিফার বিয়ে খেয়ে বিদায় হবে। নয়তো পরিবেশ আমি নিজে গরম করবো।

শান্ত সুরে কথা গুলো বলে চমৎকার একটা হাসি দিয়ে নিজের চেয়ারে বসে আবরার। লিলি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। থ্রেট দিলো আবরার তাকে? এইটা কোন আবরার? এই রূপ সে আগে দেখেনি। যেই আবরার মেয়েদের সম্মান করতো সেই আবরার আজ ঘৃণাকিত একটা মেয়ের জন্য তাকে গালি দিলো। সেও টাকে ওই কুচ্ছিত শব্দটা বললো। নির্লজ্জের মত কিসব বললো। ছিহ, লিলি দৌড়ে কেবিন থেকে বের হয়ে গেল। সে আর এই মানুষটার কাছে এসে কেঁদে বুক ভাসাবে না। কিন্তু মন টা শান্ত করতে পারছে না লিলি। আচ্ছা মানুষটা যার জন্য এইসব করলো তার কাছে যেয়ে একবার মানুষটা কে ভিক্কা চাইলে সে কি ওর উপর দয়া করবে? দেখা যাক। লিলি কান্না করতে করতে গাড়ী নিয়ে বাড়ি চলে গেলো।

Flashback end....

আরোশি: লিলি darling ভাবনার দুনিয়া থেকে বের হয়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।

লিলির এর হুশ ফিরে আরোশির কথায়। নড়ে চড়ে বসে।

আরোশি: কি হয়েছে? (গম্ভীর সুরে)

লিলি: আজ একটা জিনিস চাইবো তোমার থেকে।

চলবে,,,,,

(সব কিছু গুছিয়ে দিতে দিতে দেরি হয়েছে)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন