ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৫৪তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৫৪

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আরোশি: যার জন্য বসিয়েছো সে কোথায়?

আজমুল: এই রবিন ফোন দে আবিরকে

Robin: জ্বী চাচা ফোন দিছি কইসে আইতাছে

আজমুল: আচ্ছা

আবরার: বউ (ভারী গলায়)

আরোশি চমকে আবরার এর দিকে তাকায়। আসে পাশে তাকিয়ে দেখে কেও শুনলো কিনা। না কেও শুনেনি সবাই যার যার কথায় ব্যাস্ত। সামনে টেলিবেশন চলছে। আজমুল রবিনের সাথে কথা বলছে। বাকিরা চা খেতে ব্যস্ত। আরোশি দাঁতে দাঁত চেপে বলে

আরোশি: কি সমস্যা?

আবরার: thank you

আরোশি: for what? (গম্ভীর সুর বলে)

আবরার: for the water and the care.

আবরার এর কথা শুনে আরোশি সানগ্লাস টা খুলে তাচ্ছিল্য হেসে বলে

আরোশি: এখন care গুলো খেয়াল করে লাভ নেই আবরার

আবরার আরোশির মুখে নিজের নাম শুনে মাথা উঠিয়ে তাকায়। এই প্রথম নাম ধরে ডাকলো তাকে। সব কিছুই তো প্রথম প্রথমই হচ্ছে ইদানিং। অবাক হবে নাকি অন্য কিছু বুজতে পারছে না। বুকের বা পাশটা ইদানিং সেই বিয়ের আগে যেমন যন্ত্রনা দিত সেইভাবে যন্ত্রনা দিচ্ছে। না না, তার চেয়ে বেশি দিচ্ছে। কারণ টাও একই নারী। তার অবাধ্য নারী। এত পরিবর্তন? আবরার আর কিছু ভাবলো না। যেই মেয়ে কখনো ভুলেও তার নাম ধরে ডাকেনি সেই মেয়ে তাকে নাম ধরে ডাকছে এতেই বঝা যায় এই মেয়ের মনে সে কোথায় যেয়ে ঠেকেছে। আবরার আস্তে করে বলে

আবরার: sorry

আরোশি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে।

আরোশি: কোনটার জন্য?

আবরার আরোশির হাত নিজের হাতে ধরে বলে

আবরার: সব কিছুর জন্য

আরোশি: যেইদিন সব ঠিক হবে তোমার sorry তে সেইদিন sorry টা আমি নিবো

আবরার: তুমি চাইলেই ঠিক হবে

আরোশি: এইজন্যই তো আমি চাবো না সোনা (বাকা হেসে)

বলে আরোশি হাত সরিয়ে ফেলে। আবরার আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আরোশি মুখ গুড়িয়ে সামনে তাকালে দেখে সদর দরজা দিয়ে আবির ঢুকছে। এইবার ওহ একটু নড়ে চড়ে বসে। কথা দিয়েছিল আবিরকে। আবির শুরু করবে আর ওহ শেষ দিবে। আবরার আরো লেগে বসে আরোশির সাথে এতে আরোশি বিরক্ত নিয়ে একবার তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে সামনে তাকায়।

আজমুল: কোথায় ছিলে এতক্ষন? কখন থেকে অপেক্ষা করছি

আবির: একটু কাজ ছিল

আজমুল: বলো কি বলবে।

আবির একবার সবার উপর চোখ বুলিয়ে সোফায় যেয়ে বসলো। আরোশির দিকে তাকিয়ে দেখে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। একটু ভরসা পেয়ে বলতে শুরু করে

আবির: আমি বিয়ে করতে চাই

সবাই অবাক হয়ে তাকায়। কয়দিন আগেই তো রিফার বিয়ে শেষ হলো তারপর আবার কত গুলো ঝামেলা হলো এত তাড়াতাড়ি আবার আবির? জেসিয়া বলে উঠে

জেসিয়া: মাইয়া কি পছন্দ নাকি খুজবার কও?

আজমুল: আহহা মা তুমি সায় দিচ্ছ কেন ওর কথায়?

জেসিয়া: আরে আজব পোলা কি বাইত্বে বসায় রাখবি! বিয়ে শাদী করায় বউ আনার লাগবো না? একটার লগে তো ঘরের মাইয়া'ই করাইছোস। এহন আরেকটা রেও ঘরে করানোর ধান্দা করিস না।

রোশনারা: কি বলেন আম্মা ঘরে কেন করাবো। আমার আবির আর রিমা একজন আরেকজন কে ভাই বোন নজরে দেখে। আরোশির মতো নাকি? আমার ছেলের মাথা খারাপ করে বিয়ে করছে। এখন মায়ের থেকে দূরে রাখার জন্য আঁচলে বাধার চেষ্টা করছে ছে*ছরা মেয়ে।

মায়ের কথা শুনে আবরার ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন তারপর গম্ভীর গলায় বললো

আবরার: এইসব ফালতু কথা বলো কেন মা? আঁচলে বাধার কি আছে? বউয়ের সাথে না থাকলে নাতি নাতনি পাবা কিভাবে? নাকি চাওনা? বউ আমার এমনি এখন কাছে আসে না। তোমরা আরো উসকে দিচ্ছ কেন?

রোশনারা আর একটা কথা বলতে পারলেন না। বেশ বুজতে পারছে তার ছেলের মতিগটি। অনুভুতি আরো শক্ত হওয়ার আগেই ডিভোর্স পেপার বেবস্থা করতে হবে। আবরার এর কথায় আরোশি হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। ওহ অপেক্ষায় ছিল আবির এর বিষয় টার জন্য কিন্তু আগে যদি জানতো এই লোক এইসব বলবে ভুলেও থাকতো না এইখানে।

আজমুল সাহেব রেগে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে। আর যে একটু আগে শান্ত পরিবেশে অশান্ত কথা বলে সবাইকে নাড়িয়ে রাখলো সে নির্বাক চোখ বুজে মাথা হেলিয়ে আছে সোফায়। না না, বউয়ের থেকে সরেনি। এখনো চিপকে আছে। আবরার এর দাদি নীরবতা ভেঙ্গে আবির এর উদ্দেশ্যে বলে

জেসিয়া: তুমি চুপ কইরা রইসো কার আসায়?

আজমুল: মেয়ে কে?

আবির একবার আরোশির দিকে তাকায়। আবরারও এইবার চোখ খুলে সোজা হয়ে বসে। মাথা ব্যাথায় ফেটে যাচ্ছে, চোখ খুলে রাখাও কষ্টকর। ইদানিং কাজ খুব বেড়েছে। হটাৎ এত পেশার মাথায় পড়ায় হিমশিম খাচ্ছে সে। কেও একজন কোম্পানির পিছনে লেগেছে। সব দিক কন্ট্রোল করতে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে তাকে। আবার আরোশির এই ব্যবহার। মনে শান্তি না থাকলে কোনো কিছুই ভালো লাগে না তাই কাজে সে আরো মনোযোগ দিতে পারছে না। আজ অফিসে ইমপরটেন্ট মিটিং ছিল কিন্তু বাবার ফোন পেয়ে মিটিং পোস্টপন করে তাড়াতাড়ি বাসায় এসেছে। আবির এর মুখে বিয়ের কথা শুনেই বুঝেছে প্রেমের লাফরা। সে থাকতো না এইখানে। উপরে চলে যেতো শুধু মাত্র বউ এর জন্য বসে আছে। যেইভাবে রেডি হয়ে বসে আছে তার বউ। সে বুঝেছে এইখান থেকে রুমে না যেয়ে ডাইরেক্ট কোথাও যাবে। বউকে কখন না কখন পাবে তাই বসে আছে বউয়ের কাছে। কিন্তু এই মেয়ে সব বুঝে শুধু তাকে বুঝে না। ছেহ্! অবাধ্য নারী।

আবির: মাহা

আজমুল: কোন maha? (ব্রু কুঁচকে)

আবির এইবার নড়ে চড়ে বসে বলে

আবির: আমার বন্ধুর বোন।

আবরার: আরে তোর কি একটা বন্ধু? কোনটার কথা বলিস?

আবির: D. reyan এর বোন

পুরো ড্রয়িং রুম জুড়ে পিন পিন নীরবতা। শুধু টিভির শব্দ হচ্ছে। সবাই চুপ করে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছেন। রোশনারা টিভি অফ করে দেয় এতে আরো নীরব হয়ে যায় পরিবেশ। আবরার একবার বাবার দিকে তাকিয়ে দেখে তার বাবা এখনও কনফিউস। আবরার বুঝে যায় কার কথা বলছে আবির। বাবা মনে হয়না বিয়ে করিয়ে ওই বাড়ির মেয়ে আনবে। আবরার চুপ করে আবার শরীল হেলিয়ে আরোশির দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ যে কিনা চুপ করে বন্ধ টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। আবরার হালকা হেসে আস্তে করে বলে

আবরার: তুমি জানতে সব তাইনা?

আরোশি কিছু বলে না। আগের মতই আছে যেন কিছুই শুনেনি। আবরার আরো লেগে বসে। আরোশি এইবার দাঁতে দাঁত চেপে আবরার এর দিকে তাকিয়ে বলে

আরোশি: কোলে এসে বসেন

আবরার: ছি বউ কি বলো এইসব? সবার সামনে কিভাবে?

আবরার: এখন সবার কথা মনে পড়েছে? আপনি কিসব বলছেন আপনি বুজতে পারছেন? তখন সবার সামনে কি সব বললেন?

আবরার: বুঝতে হলে আসো উপরে যাই। মুখে বললে সবাই শুনবে তখন তুমি আরো লজ্জা পাবা এর চেয়ে ভালো উপরে চলো প্র্যাক্টিকাল ভাবে দেখাবো।

আরোশি: অসভ্য হচ্ছেন দিনবেদিন

আবরার: উফফ আমার রসমালাই তোমার মুখ থেকে স্ল্যাং শুনার মজাই আলাদা।

আরোশি: আবরার (চোখ গরম করে)

আবরার কিছু বলার আগেই জেসিয়া চৌধুরী বলে

জেসিয়া: ওই তোরা বিড়বিড় বন্ধ কর। মাইয়া কার? বাপের নাম কও আবির

আবির: জাবেদ আলী

আজমুল: কোন জাবেদ আলী?

আবরার বিরক্ত নিয়ে তাকায় বাবার দিকে। তার তো আরো আগে চিনার কথা। নিজের শত্রুকে ভুলে কে? রাজনীতি করে অথচ শত্রুর নাম মনে রাখতে পারে না।

আবির: রাষ্ট্রীয় সভার নেতা জাবেদ আলী

নাম টা শুনেই আজমুল সাহেব চিল্লিয়ে উঠে

আজমুল: কিহহহহ !!?

আবির মাথা নিচু করে ফেলে। সেইটা দেখে আরোশির রাগ লাগে। আশ্চর্য, ভালোবেসে যে পুরুষ বাবার সামনে মাথা তুলতে পারে না, বলতে যেয়ে হিমশিম খায় সে আবার ভালোবাসে কি ভাবে? যত্তসব।

আজমুল এর উচ্চ সুরে রোশনারা সহ কুমকুম বেগমও কেপে উঠে। পরিবেশ আবার চুপ। আজমুল রাগে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে। দুইপাশে হাত ভর দিয়ে বসে আছে সে। শরীল কেপে কেপে উঠছে রাগে। শেষ মেষ ছেলে শত্রুর মেয়েকে পছন্দ করলো? এই দিন দেখা বাকি ছিল তার?

রোশনারা: শত্রুর মেয়েকে পছন্দ করেছো?

আবির: মা প্লীজ--

আজমুল: কি প্লীজ? শেষ পর্যন্ত এই দিন দেখালে তুমি আমায়! মানুষ শত্রু থেকে দূরে থাকতে চায় সেইখানে আমরা শত্রু বাসায় আনবো? (রেগে বলে)

জেসিয়া: মাইয়ার এত অভাব যে ওর মাইয়ারে বিয়া করবার চাও?

আজমুল: জাবেদ আলীর মেয়ে আনবো যাতে আমাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়?

কুমকুম: ভাই মেয়ে তো ভালোও হতে পারে। না মানে---

আজমুল: দুধে ধোয়া তুলসী পাতা হলেও আনবো না।

আবরার: কি সব নাম দিচ্ছ?

আজমুল: এত কিছু বুঝি না। আমি রাজি না কোনো ভাবেই। এইটা কখনো সম্ভব না আবির চৌধুরী। ভুলে যেও না তাদের সাথে আমাদের কি সম্পর্ক।

আবির এইবার আহত নজরে বাবার দিকে তাকায়। কি করবে সে? বাবা যদি নিজের কথা থেকে না নড়ে? মরে যাবে সে ওই মেয়ে ছাড়া। আবির অসহায় চোখে একবার আরোশির দিকে তাকায়। আরোশি বিরক্ত নিয়ে তাকিয়ে আছে আবির এর দিকে। আবির কারণ জানে না। জানতে চায়ও না শুধু চায় আরোশি কিছু বলুক। ওই মুখ থেকে কথা বের হওয়া মানেই সব সিদ্ধান্ত পাল্টে যাওয়া। এর মাঝেই আজমুল সাহেব আবার বলে

আজমুল: ভুলে যাও ওই মেয়েকে।

আবির বেচারা যেন এইবার কেঁদে দিবে। বার বার আরোশিকে ইশারা করছে কিছু বলার জন্য। আরোশি এইবার শ্বাস ফেলে বলে

আরোশি: বড় আব্বু বিয়ে দিয়ে দাও।

আজমুল সহ সবাই আরোশির দিকে তাকায়। আবির এইবার একটু সাহস পায়। আবরার নির্বাক চোখ বন্ধ করে মাথায় হাত দিয়ে চেপে ধরে বসে আছে যেনো সে জানতো এমন কিছুই হবে। একটু বেশিই ব্যথা শুরু করেছে এখন মাথায়। ইচ্ছে করছে উপরে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়তে কিন্তু এই অবাধ্য নারীর জন্য আটকে গিয়েছে। আরোশি একবার আবরার এর দিকে তাকায়। বুজতে পারে আবরার এর যে মাথা ব্যথা করছে। মুখ কেমন লাল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আরোশি কিছু বলে না।

আজমুল: মাথা খারাপ তোমার?

আরোশি: মাথা খারাপের কি আছে। বিয়ের বয়স হয়েছে বিয়ে দিবেনা?

আজমুল: তাই বলে শত্রুর মেয়ের সাথে?

আরোশি কিছু বলতে যাবে তার আগেই ফোন বাজে। পার্টি অফিস থেকে ফোন আসছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সন্ধ্যা ছয়টা ছুঁই ছুঁই। বিরক্তি প্রকাশ করে বলে

আরোশি: শত্রুর মেয়েকে কি শত্রু হতে হবে? বিয়ে হবে মানে হবে। তোমরা কাল মেয়ের বাড়ি যাবে প্রস্তাব নিয়ে।

বলেই আরোশি উঠে দাড়ায়। আরোশি উঠাতে আবরার এর বিরক্ত লাগে। হেলান দিয়ে ছিল কিন্তু এই মেয়ে উঠায় ব্যাগাত ঘটে। আবরারও সোজা হয়ে বসে আরোশির দিকে তাকায়।

আরোশি কথা টা বলেই চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় তখনই আজমুল সাহেব বলে

আজমুল: আমি কখনও যাবনা ওই বাড়ি

থেমে যায় আরোশি। পিছনে ফিরে বলে

আরোশি: বড় আব্বু বাচ্চামো করো না।

আজমুল: কিসের বাচ্চামো? তুমি ভুলে গিয়েছ জাবেদ আলী কে?

আরোশি: ভুলবো কেন? জাবেদ আলী তোমার হবু বিয়াই

আজমুল: মজা করবে না একদম

আরোশির ফোনে আবারো ফোন আসে। এইবার আরোশি ফোন ধরেই একটা ঝাড়ি দেয়

আরোশি: অপদার্থ কোথাকার পদার্থ বিহীন মাথা খাচ্ছ কেন! (ঝাড়ি মেরে)

-: এ্যহ্?

আরোশি: ফোন কেন করছো? বলেছি তো আসবো। (রেগে)

-: না মানে আপু আপনি কই? আহেন না কেন? এইহানে সভাপতি মোতালেব মিয়া ঝামেলা করতাছে।

আরোশি: গর্ধব ওই ব্যাটা। যার মাথা চলে আরেক জনের ধারা। বিল্লাল কই?

-: এই জায়গায়'ই আছে

আরোশি: ওর কাছে ফোন দাও।

বিল্লাল: হ্যালো আপু

আরোশি: বিল্লালের বাচ্চা অকর্ম কোথাকার তোকে কি বলছি আমি? (চিল্লিয়ে)

বিল্লাল: আপু আমি চেষ্টা করছি কিন্তু সব দোষ ওই সভাপতির। আপনি খালি আদেশ করেন উল্টা লটকামু

আরোশি: তোরে আমি উল্টা লটকাবো এসে দাড়া তুই।

বিল্লাল: আ-আপু আমি দেখতেছি আ,,, আপনি চিন্তা কইরেন না। (ভীতু সুরে)

আরোশি: মফিজ মানে জানিস?

আরোশি কথা টা বলে আবরার এর দিকে তাকিয়ে দেখে ওর দিকেই অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে। ফর্সা মুখ একদম লাল টকটকে। মাথা ব্যাথা নিয়ে বসে থাকতে কে বলেছে এই লোক কে? উপরে চলে গেলেইতো পারে। আজব। আরোশি নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে আবির এর সামনে যেয়ে দাড়ায়। আবির মাথা উঠিয়ে ওর দিকে তাকায়। সবাই তাকিয়ে আরোশির কান্ড দেখছে। ফোনের ওপর পাশ থেকে বলে

-: কি আপু?

আরোশি: মফিজ মানে বলদ, ম*গা, বুদ্ধিহীন, বোকা। যেমন তুই একটা মফিসের বা* চ্চা।

এখন কথা হচ্ছে আরোশি গালি গুলো দিলো কাকে? আবির নাকি বিল্লাল কে? লেগেছে দুইজন এরই। একেই বলে এক তীরে দুই শিকার। আবির হতভম্ব হয়ে বলে

আবির: গালি দিচ্ছ কেন!

ফোনের ঐপাশ থেকেও একই কথা বলে। আরোশি কড়া চোখে তাকিয়ে আছে আবির এর দিকে। রাগ লাগছে নিজেরও। শেষ মেষ শত্রুর মেয়ে? আবার আরেক ভাবে দেখতে গেলে আবির এমন একজন কে পছন্দ করে যার ভাই আবার তাকে ভালবাসে। এখন কি বিশ্রী বেপার হবে এইটা। নিজের বোনের জালকে ভালোবাসে। আরোশির ভাবনার মাঝেই আজমুল সাহেব আবিরকে বলে

আজমুল: শত্রুর মেয়ে আনলে শশুর আব্বার থেকে আরো হাজারটা গালি শুনতে হবে। ভুলে যেও না সেও একজন পলিটিশিয়ান আর পলিটিশিয়ানরা এমনই হয়। হাহ্, নজর দিয়েছে তো দিয়েছে তাও আবার শত্রুর মেয়ের দিকে। গোলামের পুত (রেগে)

আবরার: তারমানে তুমি গোলাম? ও তো তোমারই পুত

আজমুল: চুপ করো। তুমি আরেক অপদার্থ আর নির্লজ্জ। অসভ্য ছেলে আমার ভুল ধরো? (রেগে)

-: হ্যালো আপু কিছু বলেন।

আরোশি: ফোন রাখ বিল্লাল (গম্ভীর সুরে)

আরোশি ফোন রেখে আজমুল এর দিকে তাকিয়ে বলে

আরোশি: উত্তেজিত হচ্ছ কেন? তোমার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। আর আবির তোমার কি ওই মেয়ে লাগবেই?

আবির: হম

আরোশি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে আবির এর দিকে তারপর আবার বলে

আরোশি: ঠিক আছে এনে দিব। কিন্তু চোখে যেন কখনো পানি না আসে ওই মেয়ের, নয়তো আমি নিজে তোমার শরীল থেকে গর্দান আলাদা করবো। কখনো কষ্ট দাওয়া যাবে না। রানী বানিয়ে রাখতে হবে।

আবির: যেইভাবে বলবে সব করবো ব্যাস আমার করে দাও প্লীজ।

আরোশি এইবার আজমুল কে বলে

আরোশি: কাল যাবা মেয়ের হাত চাইতে সাথে আবিরকে নিয়ে যাবে। আংটি পরিয়ে বিয়ের ডেট পাকা করে আসবে।

আজমুল: কখনো না। শুধু শুধু আরো অপমান হবো। তুমি কেন বুঝেও অবুঝ হচ্ছ আরোশি?

আরোশি: বড় আব্বু ছেলেকে খুশি দেখতে চাওনা? একজন তো আমার সাথে বাঁধনে আবদ্ধ বলে কষ্টে, ঘৃণায় শেষ হচ্ছে at least আবিরকে খুশি করে দাও।

আজমুল চুপ করে আবরার এর দিকে তাকায়। যে কিনা আরোশির কথাটা শুনেই উঠে উপরে চলে গেলো। আজমুল আর কিছু বলে না। আরোশি তার উত্তর পেয়ে গিয়েছে। আবির এর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে

আরোশি: জীবনে নতুন চেপ্টার খুলবে প্রস্তুতি নাও।

বলে চলে যেতে গিয়ে আবার ঘুরে তাকিয়ে আজমুল সাহেব কে বলে

আরোশি: ছেলের হবু শশুর বাড়ি যাচ্ছো তাই না খেয়ে ফিরে এসো না কিন্তু।

তারপর আর দাড়ায় না। সোজা চলে যায়।

___________-------__________

আবরার ঘরে সুয়ে ছিল। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে যে সুয়েছে আর উঠেনি। ঘড়িতে বাজে 8:51। ভেবেছিল আবার অফিস যাবে কিন্তু শরীল সায় দেয়নি সাথে মন টাও। সিলিং এর দিকে তাকিয়ে জীবনের হিসাব মিলাতে ব্যাস্ত। কি করা যায়, কি করলে আরোশি সন্তুষ্ট হবে কিছুই মাথায় ঢুকছে না। এর মাঝেই জেসিয়া রুমে আসে। দাদিকে আসতে দেখে আবরার উঠে হেলান দিয়ে বসে। জেসিয়া কিছুক্ষন আবরার এর মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে সেইটা দেখে আবরার হালকা হেসে বলে

আবরার: কিছু বলবে?

জেসিয়া: কি ওইসে গো তোমার দাদুভাই?

আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে

আবরার: অসুখ দাদি ভয়ানক এক অসুখ

জেসিয়া: আয় হায় ডাক্তার দেখাও না কেন?

আবরার: ডক্টর কিছু করতে পারবে না দাদি

জেসিয়া: এমন কোনো অসুখ আছে নাকি যেইটা ডাক্তার সারাইতে পারতো না।

আবরার: আছে তো। মনের অসুখ দাদি। এর ওষুধ একজনই দিতে পারবে। দাদি জানো আমার মন টা না অনেক অবাধ্য। আমার ছোট থেকে অবাধ্য জিনিষ পছন্দ ছিল না। কিন্তু এখন আমার সব অবাধ্য। আচ্ছা! কি করা উচিৎ এই মন কে বলো তো? খুব জ্বালায় আমাকে এই মন টা। এত কিসের আবদার ওর? আমার অনেক কষ্ট হয় দাদি অনেক।

জেসিয়া দেখে আবরার এর চোখে পানি টলটল করছে। তার অনেক খারাপ লাগে বিষয় টা। কত বছর পর এই চোখে পানি দেখছে সে। বুজ হওয়ার পর থেকে আজ প্রথম আবরার এর চোখে পানি। আবরার এই অংশের প্রথম নাতি তাই খুব আদরের। জেসিয়া আবরার এর গালে হাত বুলিয়ে বলে

জেসিয়া: সব ওই মেয়ের দোষ আমি জানি। তুমি এখনো সারাকে পছন্দ করো তাইনা? তুমি আরোশিকে ছেড়ে দাও আমি ব্যবস্থা করবো বিয়ের--

আবরার: মরে যাবো দাদি। একদম শেষ হয়ে যাবো। মা কি কম যে এখন তুমিও এইসব বলছো? বিয়ে করেছি আমি দাদি। এইটা কোন ছেলে খেলা না। কেন বলছো এইসব!

জেসিয়া: তারমানে তুমি আরোশিকে ভালবাসো?

আবরার:_____

জেসিয়া: বলো।

এইবার আবরার দাদীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে বলতে শুরু করে

আবরার: না আমি ভালোবাসি না। আমার পছন্দও না ওকে। কিন্তু ওহ আমার অভ্যাস দাদি। বুঝার চেষ্টা করো আমি ছাড়তে পারবো না। প্রথমে এমন ছিল যে আরোশি না চাইলে আমি ওকে ছাড়তে পারবো না। ধর্মীয় ভাবে হোক আর আইনী ভাবে হোক। কিন্তু এখন আরোশি চাইলেও আমি ছাড়তে পারবো না দাদি নয়তো আমি শেষ হয়ে যাবো। তোমরা প্লীজ ওর সাথে এমন করো না। আরোশি তোমাকে যা বলে সব দুষ্টুমি করে বলে। দেখো না যখনই কিছু বলে হেসে হেসে বলে কিন্তু তোমরা যে বলো এতে ওহ কষ্ট পায়। তারপর ও প্রকাশ করে না। জানোই তো আরোশি ইন্ট্রোভার্ট ছোট থেকেই। বিশ্বাস করো আমাকে ওহ কিছু বলে না। সব নিজের মাঝে রেখে দেয়। ওহ একটু আশায় থাকে ওই কষ্ট গুলো যেনো আমি ভালোবেসে ভুলিয়ে দেই। কিন্তু দিন শেষে আমার থেকেও কষ্ট পায়। আরোশিও তো এই বাড়ির রক্ত বলো। আর মা কে একটু বুঝাও দাদি। আমি মাকে অনেক ভালবাসি। তুমি তো জানো আমি মা কে কত মানি। সব কথা শুনি তাই বলে মা যদি এইভাবে ওর আর আমার মাঝে ঝামেলা করে তাহলে আমি কিভাবে নিজেকে সামলাবো? কাকে বিশ্বাস করবো বলো। যতবার মা কে বিশ্বাস করেছি ততবার আমি ঠকেছি। আরোশি কে কষ্ট দিয়েছি। এখন ওই মেয়েটা আমার সাথেও কথা বলে না ঠিক মত। কেমন দূর দূর করে। আমার সব এলোমেলো লাগে, কিছু ভালো লাগে না। দম বন্ধ হয়ে আসে। খেতে ভালো লাগে না, ঘুমাতে ভালো লাগে না, চারপাশ মনে হয় অশান্তিতে ঘেরা। বুকের বা পাশে খুব ব্যথা করে। আমি সহ্য করতে পারি না। আমি শান্তি চাই।

জেসিয়া বেশ বুজতে পারছে আবরার এর চোখ থেকে যে পানি পড়ছে। কি সুন্দর নিজের মনের মাঝে চেপে রাখা কথা গুলো বললো। কখনো এমন এলোমেলো, অশান্ত আবরার দেখেনি সে। বরং এই বাড়ির কেও দেখেনি। আজ তার দেখার সুজুগ হলো। জেসিয়া আবরার এর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে

জেসিয়া: ঠিক আছে আমি রোশনারা রে বলমু আর আমিও এহন থেকে তোমার বউরে কিছু কমু না। কেও কিছু কইলে বইকা দিবো ঠিক আছে! কিন্তু দাদুভাই আমি তোমার চোখে ওর লিগা ভালোবাসা দেখতে পাইতাছি। প্রকাশ কইরা ফেলো নয়তো দেরি হয়ে যাইবো।

আবরার চুপ হয়ে যায়। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে "আসলেই কি ভালোবাসে?" পরক্ষনেই মাথা নেড়ে বলে "না না অসম্ভব"

জেসিয়া: থাক মাথায় আর প্রেসার দিবার লাগবো না। রেস্ট করো আমি যাই।

জেসিয়া চলে যায়। যাওয়ার সময় আরেকবার পিছনে তাকিয়ে দেখে আবরার মাথা চেপে ধরে বসে আছে।জেসিয়া শ্বাস ফেলে চলে যায়। সে ভেবে পাচ্ছে না আবরার যদি জানে রোশনারা ছেলের জন্য কি রেডি করছে। তখন কি করবে? আবরার এর মুখ থেকে আজ যা শুনলো সেই ভাবে দেখতে গেলে এমনও হতে পারে রোশনারা মেনুপুলেট করে কসম কাটাবে তখন আবরার বাধ্য হয়ে সই করবে। তারপর আবরার নিজেকে শেষ করেও দিতে পারে। আবার ভাবে আরোশি যাই হয়ে যাক আবরার কে ছাড়বে না। আরোশির উপর ভরসা রেখে দেয় জেসিয়া চৌধুরী।

নাতির কিছু হলে সে সহ্য করতে পারবে না। তার শুধু আরোশির উপর রাগ ছিল এই নিয়ে যে ওহ সারা আর আবরার এর মাঝে এসেছে। কিন্তু এখন বিয়ে হয়ে গিয়েছে তাই কিছু করার নেই বলে সে কিছু বলে না। মেনে নিয়েছে সব। তবুও যা একটু সুজুগ পেলে আরোশি কে কথা শুনায় তা আবরার এর জন্য। তার ধারণা ছিল আবরার হয়তো আরোশিকে ভালোবাসে না, পছন্দ করে না। এই বিষয় টা তাকে রাগাতো কিন্তু আজ সে বুঝে গিয়েছে। আবরার এর চোখের পানি তাকে জানিয়ে দিয়েছে সে ভুল ছিল। তার ধারণা ভুল ছিল।

আবরার বসে ছিল তখনই মরিয়ম আসে।

মরিয়ম: ভাইজান ধরেন

আবরার মাথা উঠিয়ে দেখে মরিয়ম এককাপ চা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আবরার সোজা হয়ে বসে।

মরিয়ম: আয় হায় আফনের চোখ মুখ এমন কেন? শুখাইয়া ছোট হয়ে গেছে। আপনার কি শরীল খারাপ ভাই? নাকের ডগা সহ গাল লাল হয়ে আছে। কান ও তো লাল

আবরার: এমনি। আমি তো বলিনি চা আনতে। আনলি কেন! আমি চা খাইনা জানিস না!

মরিয়ম: ভাইজান আরোশি অফু কইসে আপনেরে মশলা চা দিতে। কইয়া দিসে কেমনে কেমনে বানাইতে হইবো।

আবরার প্রথমে অবাক হলেও পরে কাপ টা হাতে নেয়।

মরিয়ম: আর কিছু লাগবো?

আবরার: না। যা তুই

মরিয়ম: আচ্ছা

বলে চলে যায়। আবরার কিছুক্ষন কাপের দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর মুচকি হেসে বলে

আবরার: আরে আমার পাগলি। মাথা ব্যাথা তো তোমার চিন্তায় হয়েছে।

বলে একটা চুমুক দেয়। সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে। মজা কিন্তু ঝাঁজ অনেক। তখনই আবরার এর ফোনে কল আসে। আবরার দেখে আরোশি ফোন করেছে

আবরার: হম বউ বলো

আরোশি: আপনার গলা এমন শুনাচ্ছে কেন?

আবরার: কই না তো। ঠিক আছে (গলা ঝেড়ে)

আরোশি: খেয়েছেন? (গম্ভীর সুরে)

আবরার: এত শব্দ কেন আশেপাশে?

আরোশি: পার্টি অফিস থেকে বের হয়েছি মাত্র তাই।

আবরার: এখনও ঐখানে?

আরোশি: চা টা সব টুকো শেষ করবেন

আবরার: অনেক ঝাঁজ আরোশি

আরোশি: মশলা চা এমনই হয়

আবরার: আচ্ছা খাবো।

আরোশি: রাখি

আবরার: বউ বউ শুনো

আরোশি:____

আবরার: বউ

আরোশি: এইভাবে ডাকবেন না (গম্ভীর সুরে)

আবরার: কেন?

আরোশি: আমি ব্যাস্ত এখন রাখি

আবরার: কখন আসবে তুমি?

আরোশি: কোথায়?

আবরার: বাসায়

আরোশি: এইখান থেকে রাজু ভাইয়ের বাসায় যাবো তারপর আসবো।

আবরার: আচ্ছা সাবধানে যেও।

আরোশি কিছু না বলেই ফোন কেটে দেয়। আবরার কিছুক্ষন মুখ কালো করে তাকিয়ে থাকে ফোনের দিকে। তারপর বিড়বিড় করে বলে

আবরার: আমার ব্যাক্তিত্বই পাল্টে গিয়েছে তোমার জন্য। গম্ভীর মানুষকে কি বানিয়ে দিয়েছ তুমি।

তারপর পুরোটা চা শেষ করে। মাথা ব্যাথা ও কমে গিয়েছে। না না, শুধু কমে না বরং একদম চলে গিয়েছে। কাপ টা রেখে খাটের থেকে নামে আবরার। ল্যাপটপ নিয়ে এসে আবার বসে। কাজ শুরু করার আগে শুধু বলে

আবরার: my magician wife

চলবে,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন