ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৫৮তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৫৮

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

??: আমার মনে হয় এখনই সময় ওদের জীবনে কাওকে ঢুকানো।

সামনে দাড়ানো ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে কথা টা বললো। সামনে দাড়ানো লোকটিও তার কথায় সায় দিলো।

.............

......................

...........................

আজ চারদিন হয়েছে বাড়িতে এসেছে আবরার। এখন পুরোপুরি সুস্থ শুধু মন টাই অসুস্থ। তার কারণ সব সময়ের মতো আরোশি। এখনও বাড়ির সীমানায় পা রাখেনি ওই মেয়ে। ওহ কোথায় আছে কেও জানেনা। আজমুল সাহেবকে জিজ্ঞেস করে কিন্তু সে বলে দিয়েছে "বউ তোমার হারিয়েছে তাই তুমি নিজেই খুঁজে নাও" কথাটা শুনে আবরার এর বিরক্ত লাগে। বাবা হয়েও ছেলের কষ্ট দেখছে না! বউ ছেড়ে থাকার কষ্ট টা বুঝানোর জন্য মাঝে মাঝে আবরার এর রোশনারা বেগম কে কিডন্যাপ করতে ইচ্ছে করে। আবরার খোজ লাগিয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।

হারিয়ে গেলে পাওয়া যায় কিন্তু লুকিয়ে থাকলে কি করে পাবে! আবরার আরো বিরক্ত নিজের মা-চাচীর উপর। ওই সারা পারে না তো তার কোলে উঠে বসে থাকে সারাদিন অথচ তারা দেখেও কিছু বলে না। সারাদিনে আবরার এর হাজার টা ধমক খেয়েও নির্লজ্জের মত আবার আসে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চর মেরে দাঁত ফেলে দিতে। সেবা করার নামে টর্চার করে ওই মেয়ে। বিয়ের আগেও সহ্য করেছে এখনও করতে হচ্ছে। এইটার দোষও ওই অবাধ্য নারীর। তার মতে ওই অবাধ্য নারী আজ তার কাছে থাকলে সে বউয়ের আদর খেয়ে আরো আগে সুস্থ হয়ে যেতো। আবার এই সারা ফারা তার কাছে আসার সুযোগ আর সাহস কোনো টাই পেতো না। সুযোগ করে দিয়েছে ওই অবাধ্য নারী। ফাজিল।

রোশনারা: আসবো?

আবরার আলমারির সামনে দাড়িয়ে কিছু একটা করছিল আর ওই কথা গুলো ভাবছিল তখন কারো গলা শুনে তাকিয়ে দেখে রোশনারা বেগম। আবরার আলমারি বন্ধ করে যেয়ে খাটে বসে বলে

আবরার: মা তোমার আবার permission নিতে হবে কেন! আসো

রোশনারা ভিতরে ঢুকে তাচ্ছিল্য করে বলে

রোশনারা: নিতে তো হবেই, এখন তো এইটা শুধু আমার ছেলের একার রুম না।

আবরার: মানে? (ব্রু কুঁচকে)

রোশনারা: এখন তো এইখানে অলক্ষ্মী ও থাকে তাই।

আবরার রোশনারার দিকেই তাকিয়ে ছিল। কথা টা শুনে চোখ সরিয়ে গম্ভীর সুরে বলে

আবরার: তোমার কি উচিৎ ছেলের বউকে এইটা বলা? তোমার শাশুড়ি তোমায় এইটা বলেছে কখনো?

রোশনারা: আমরা তো ওরকম কাজ করিনি কখনো যে বলবে

আবরার: ওহ কি করেছে?

রোশনারা: জানিস না?

আবরার: না তো। বর্তমান আমি শুধু আমার বউকে চিনি। সেই বউ আগে কি করেছে না করেছে আমি জানি না।

রোশনারা: তোর এইটা বলাতে ওর অতীত বদলাবে না বা মুছে যাবে না।

আবরার: তুমি কি এইগুলা বলতেই এসেছো?

বলে নিজের মায়ের দিকে তাকায় আবরার। রোশনারা সতর্ক করে বলে

রোশনারা: আরোশির থেকে দূরে থাক

আবরার: তাহলে বিয়ে দিয়ে ছিলে কেন? আমি তো সারাকেই বিয়ে করতাম এখন বিয়ে দিয়ে বউয়ের কাছে যেতে না করছো। কাছে না গেলে বংশ বৃদ্ধি পাবে কিভাবে?

কথাটা শুনে রোশনারা মুখ ছিটকে বলে

রোশনারা: নির্লজ্জের মত কথা বলবি না। তুই ওই মেয়ের সাথে থাকতে থাকতে এমন হয়ে গিয়েছিস। ছিঃ এইটা দেখাই বাকি ছিল শেষে। তুই এত বদলে গিয়েছিস!

আবরার: এইটা দেখা কেন বাকি থাকবে? আরো অনেক কিছু দেখা বাকি। চৌদ্দ, পনেরো টা বাচ্চার মুখে দাদু ডাক শুনা বাকি। এইসব না বলে বাড়ির বউ কোথায় গিয়েছে তার খোঁজ লাগাও।

রোশনারা: কোথায় আর যাবে! নিহাদ এর কাছে গিয়েছে।

আবরার কথা টা শুনে কিছুক্ষন মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর দুইপাশে হাত ভর দিয়ে মাথা নিচু করে নিচ দিকে তাকিয়ে বলে

আবরার: মানে?

রোশনারা: ওই মেয়ে আর----

আবরার: মা ওর নাম আরোশি। আমার বউ মিসেস আবরার রিয়াদ চৌধুরী। ওই মেয়ে, ওই মেয়ে করো না তো ভালো লাগে না। (বিরক্ত হয়ে)

রোশনারা: কি খাইয়েছে তোকে? তোর দাদুর সামনেও এখন আরোশির কথা কিছু বলা যায়না, বললেই রাগারাগি করে। এখন হটাৎ তার আরোশির উপর দরদ উথলে পড়ছে। আবার তুই'ও। এই জাদু করেছে নাকি তোদের?

আবরার: দাদুর টা জানি না কিন্তু আমাকে রূপের জাদু করেছে। এত সুন্দর বউ আছে আমার ভাবলেই কারো মুখে কটু কথা শুনতে ইচ্ছে করে না বুজলে!

রোশনারা: এরচেয়ে'ও রূপবতী এনে দিবো তোকে।

আবরার: লাগবে না আমার আছে। আমি একটাতেই সন্তুষ্ট। কি বলছিলে সেইটা বলো

রোশনারা: সেইদিন যখন তুই হসপিটালে ভর্তি ছিলি তখন নিহাদ আসে দেখা করার জন্য। তখন আরোশি নিচে ছিল। আমি হসপিটাল এর বারান্দা দিয়ে দেখেছি আরোশি আর নিহাদ অনেক ঘনিষ্ঠ ভাবে ছিল আবার একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ছিল।

রোশনারা কথা গুলো বলে চুপ রইলেন। আবরার এর হাব ভাব বুঝে উঠতে পারছে না উনি। আবরার মাথা নিচু করে বসে আছে চুপচাপ। একটু পর মাথা উঠিয়ে বলে

আবরার: ভালো হয়েছে।

রোশনারা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ছেলের দিকে। ভালো হয়েছে মানে কি! এইটা কোনো ভালো হওয়ার মতো কিছু? রোশনারা আবরার এর মাথায় হাত রেখে বললো

রোশনারা: এইবার আমি sure ওই মেয়ে,,,,,, না মানে ওই আরোশি তোকে কিছু করেছে নয়তো এমন একটা কথা শুনে তুই বলছিস ভালো হয়েছে? তোর বউ স্বামী থাকতে আরেক পুরুষের সংস্পর্শে যায় আর তুই---

আবরার: মা প্লীজ এমন কিছুই না। তুমি শুধু শুধু আমাদের মাঝে ঝামেলা করো না। আমি জানি নিহাদ কেমন

রোশনারা: কিন্তু আরোশি কেমন এইটা তো জানিস না। নিহাদ পুরুষ মানুষ। ওকে উসকে দিলে----

আবরার: আমার ক্ষুদা পেয়েছে কিছু এনে দাও।

রোশনারা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। আর কিছু বললেন না সোজা চলে গেলেন। সে বুঝেছে এইসব বলে কাজ হবে না। এখন যা করার ওই ডিভোর্স পেপার'ই করবে।

মা যেতেই আবরার বিছানায় গা হেলিয়ে দেয়। এখন যদি মাকে ওইটা না বলতো তাহলে সে আরো অনেক কথা বলতো যা আবরার এর শুনতে ইচ্ছে করছে না। কাল এমনিও অফিস যাবে ভাবছে। Rid এর ফোন এসেছিল। প্রচুর কাজ পরে আছে। হটাৎ আবরার এর ফোনে একটা ম্যাসেজ আসে। আবরার ফোন নিয়ে দেখে সেই অচেনা নাম্বার থেকে এসেছে। চেক করে দেখে নিহাদ আর আরোশির ছবি এসেছে। তার মা যে বলে গেলো হসপিটালের বাহিরের কথা সেই ছবি গুলোই এসেছে। আবরার কিছুক্ষন পিক গুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে ফোন টা রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো। চোখ বন্ধ করতেই এক ফোঁটা জল চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। আবরার চোখের উপর এক হাত দিয়ে চুপচাপ সুয়ে রইলো।

।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।

{} ••শিকদার ভবন•• {}

আরোশি: এতদিন ধরে টর্চার এর পর'ও মুখের কলি ফুটে না কেন?

নিহাদ: আরে আজব তো! মুরগি খাঁচার ভিতর ঝিমাচ্ছে এর মানে এই না যে মুরগি মরে গিয়েছে। একটু মানিয়ে নেয়ার সময় দে।

আরোশি: ধুর সময় নেই। ওহ কোন প্রেসিডেন্ট এর পা চাটা যে ওকে আমার সময় দিতে হবে। সমন্ধির পুত মুখ খুল। এইসব কিছুর পিছনে কে বল। শালা তোরে তো নারিকেলের মত ছিলা উচিত

আরোশি কথা টা চিল্লিয়ে বলে সামনে বেঁধে রাখা সভাপতি মোতালেব মিয়ার গলায় ছু*রি ধরে। লোকটার তরুণ অবস্থা। মুখ থেকে লালার মত র*ক্ত পড়ছে। কপালে কিছু দিয়ে বাড়ি মারার ফলে কেটে সেইখান থেকেও র*ক্ত পড়ছে। পরনের সাদা পাঞ্জাবি ময়লা দিয়ে ভরা। পাঞ্জাবির কলার ছিঁড়ে গিয়েছে। লোক টা কথা বলার মত অবস্থা রাখেনি। তবুও এই অবস্থায়ও আরোশিকে এলোমেলো দেখে মুখ বাঁকিয়ে হাসে। এইটা দেখে আরোশি পারে না তো মে*রে ফেলতে। আজ নয়, দশ দিন ধরে এইটার পিছনে পরে আছে। আরোশি বুঝেছে এইভাবে কাজ হবে না অন্য কিছু করতে হবে। ওহ একটা চেয়ার টেনে মোতালেব মিয়ার সামনে পায়ের উপর পা তুলে বসলেন। নিহাদ পাশেই দাড়িয়ে আছে দুইহাত পিছনে দিয়ে। আরোশি কিছুক্ষন চুপ করে মোতালেব মিয়াকে দেখলো তারপর নিহাদের উদ্দেশে বলে

আরোশি: ডক্টরের ব্যবস্থা করো (গম্ভীর সুরে)

নিহাদ: এই বাঙ্গীর বাচ্চার জন্য এখন ডক্টর আনবো আমার ম্যানশন এ ? (বিরক্ত হয়ে)

আরোশি কথাটা শুনে নিহাদের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলে

আরোশি: এমন ভাব করছো যেনো তোমার কাজে কখনো ডক্টর আসেনি এই ম্যানশন এ?

নিহাদ আর কিছু না বলে ডক্টর কে ফোন দিতে সাইডে যায়। আরোশি আবার মোতালেব মিয়ার দিকে তাকায়। একটু পর তাচ্ছিল্য হেসে বলে

আরোশি: তুই বলবি না তাইনা? জানিস তোকে পুলিশ কর্মকর্তা খুঁজছে। একটা সভাপতি গায়েব হয়ে গিয়েছে তাই খোজ করা সাভাবিক তবে খোজ করতে করতে কাল তোর বাড়ি থেকে কি যেন উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহহ কি যেন বললো খবরে।

বলে আরোশি মনে করার ভান করে। কিছুক্ষন পর বাকা হেসে বলে

আরোশি: আসলে এখন মনে পড়ছে না আমার।

মোতালেব মিয়া বুজতে পারে আরোশি কিছু করেছে। এইবার তার মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে। অনেক কষ্টে এই রাজনীতিতে নিজের নাম বসিয়েছে। সভাপতির পদ ছাড়তে মোটেও প্রস্তুত না সে। তার চোখ তো আরো উপরের চেয়ারে। সে মোটেও তার হাটুর বয়সী মেয়ের জন্য নিজের পদ হারাতে প্রস্তুত না। মোতালেব মিয়া কাপা কাপা ঠোটে বলার চেষ্টা করে বলে

মোতালেব: ক,,,,কি করেছিস ত-তুই?

আরোশি: আরে আরে কথা বলতে হবে না নয়তো কষ্ট হবে। শুন তারপর কি হয়েছে। একটা ফ্রম পেয়েছে। বুঝতেই পারছিস কিসের ফ্রম। সেই ফ্রম টা পেয়ে পার্টি অফিস বুঝেছে তুই কত বড় মাপের চোর। কিভাবে পার্টির টাকা মেরে খেয়েছিস। তুমি তো চান্দু রাজনীতিতে সব খেয়ে দিচ্ছ। আমরা কি মুড়ি ভাজার জন্য রাজনৈতিক করছি! হাহ্? এত সোজা? এত চালাকি তোর মত গোবরের ব্রেইন এর সাথে যায়না।তারা সব জেনেছে কার কার সাথে তোর হাত মিলানো। কার কি ক্ষতি করেছিস। তাই তোকে সময় দিয়েছে কালকের মধ্যে যদি নিজের দেখা না দিস তবে High command থেকে অর্ডার আসবে তোকে পদত্যাগ করার জন্য সাথে যাবতজীবন এর জেল ফ্রী। সংসদ সদস্য তোকে ছাড়বে? একদম না। এখন আমি যদি না ছেড়ে তোকে এইখানে পচিয়ে মারি তাও তুই মরবি আর যদি ছেড়ে দেই তবে সারা জীবন জেলে মরবি।

মোতালেব মিয়া কথা গুলো শুনে নিজের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। সে জানে এই সব কিছু আরোশি করেছে। কিছু বলার আগেই আরোশি হেসে আবার বলে

আরোশি: না না তোকে choice করতে বলছি না। Choice তো করবো আমি। (বাকা হেসে)

মোতালেব মিয়া নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সে ভাবেনি আরোশির বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তিটার সাথে হাত মিলানোর পর তার পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দিবে এই মেয়ে। সে তো চায়নি আরোশির মত কারো সাথে পাঙ্গা নিতে। সে এত বছর ধরে রাজনীতি করছে, সে দেখেছে এই মেয়ে কত চালাক। রাজনীতিতে পা রাখতেই রাতারাতি পাল্টে যায় সব।কয়েক বছরেই তার চেয়ে উপরের চেয়ারে নিজের নাম বসিয়েছে এই মেয়ে। সে তার ৬০ বছরের রাজনীতি জীবনে ও এত ভালো শিখেনি এই পলিটিক্স খেলা। সে যখন ওই ব্যক্তির প্ল্যান শুনেছিল তখন মনে হয়েছে আরোশিকে টক্কর দিতে পারবে। তাই তো সে হাত মিলিয়েছে। কে জানতো এই হাত মিলানো তাকে এই পর্যায় এনে দাড়া করাবে। সে কিছু বলার আগেই নিহাদ এসে বলে

নিহাদ: ডক্টর একটু পর'ই চলে আসবে।

আরোশি মাথা নাড়িয়ে আবারো মোতালেব মিয়াকে বলে

আরোশি: শুনলাম তোর নাকি একটা নাতনি আছে। নাম mimi,,, একটা মাত্র নাতি তাইনা? মাত্র ক্লাস ওয়ান এ পড়ে। আহারে ওই ছোট একটা মানুষের কিছু হলে কি হবে?

মোতালেব: ন-না না প্লীজ ওর ক,,,,কিছু করো না। তু,,,,তুমি যা বলবে ত-তাই করবো।

নিহাদ এইবার আরোশির দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বলে

নিহাদ: এই কথাটা আরো আগে জিজ্ঞাস করলে এত কিছু করতে হতো না।

আরোশি কথাটা শুনে বিরক্ত হয়ে বলে

আরোশি: চুপ করো।

বলে আবারো মোতালেব মিয়াকে বলে

আরোশি: বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু একটা প্রশ্ন করবো আর তুই উত্তর দিবি ব্যাস। তোর নাতনি একদম সুস্থ থাকবে সাথে তোর পলিটিশিয়ান ক্যারিয়ার এর অক্কা দক্কা লাগবে না।

মোতালেব: ক,,কি প্রশ্ন?

আরোশি: নাম বল। কে যার সাথে তুই হাত মিলিয়েছিস আমার বিরুদ্ধে?

..........

..........

..........

সন্ধ্যার দিকে,,,,,

রোশনারা রাতের রান্না করছিলেন সাথে কুমকুম বেগমও ছিল। মরিয়ম সন্ধ্যার নাস্তা বানাচ্ছিল। তখন কলিং বেল বাজলে মরিয়ম যেয়ে দরজা খুলে দেয়। দেখে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। ইন করা সার্ট তার উপর কালো কোট পড়া। মরিয়ম ব্রু নাড়িয়ে বলে

মরিয়ম: কাকে চাই?

-: জ্বী এইটা কি চৌধুরী ভিলা?

মরিয়ম: কেন বাহিরে লাগানো বোর্ড এ লেখা দেখেন নাই?

-: মা মানে---

ঠিক তখনই রোশনারা বেগম রান্না ঘর থেকে আসতে আসতে বলে

রোশনারা: কে এসেছে রে? ওহ মিস্টার সোহেল আসুন আসুন। কিরে ভিতরে বসতে দিসনি!

মরিয়ম সরে গেলে লোকটা এসে সোফায় বসে। কুমকুম বেগম এসে দেখে একটা লোক এসেছে তাই সে আবার ফিরে যেয়ে নাস্তার ব্যবস্থা করে। মরিয়ম এক কোনায় যেয়ে দাড়ায়। রোশনারা লোকটার সাথে কথা বলছে। তখনই বাসায় সাইদুল সাহেব আসে সাথে রিমা ও ছিল। কোথাও গিয়েছিল মাত্র ফিরলো, দরজায় আসতেই দেখা হয়েছে বাবার সাথে। রিমা সোজা নিজের রুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। সাইদুল সাহেব এসে সোফায় বসে। কুমকুম বেগম এক গ্লাস পানি এনে স্বামীর হাতে দেয়। সাইদুল সাহেব পানি খেয়ে লোকটার দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। কুমকুম মরিয়ম কে বলে

কুমকুম: নাস্তা নিয়ে আয় আমি রেডি করে রেখে এসেছি।

রোশনারা: সব রেডি সোহেল সাহেব?

-: জ্বী mam

রোশনারা: পেপার দিন

মিস্টার সোহেল একটা পেপার বের করে রোশনারা বেগম এর হাতে দেয় তা দেখে সাইদুল সাহেব বলে

রোশনারা: ভাবি কোনো সমস্যা? কি এইটা?

রোশনারা: একটু পরেই জানতে পারবেন। Mr. সোহেল আপনি এখন আসতে পারেন। আমি সময় মত কাগজ সাইন করিয়ে পাঠিয়ে দিবো

-: জ্বী ঠিক আছে

বলে লোকটা চলে গেলো। সকলেই কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে আছে। বসার ঘরে এখন শুধু রোশনারা, কুমকুম, সাইদুল, মরিয়ম আছে। আবির বাড়িতে নেই। জেসিয়া বেগম নিজের রুমে, নিচে আসেনি এখনও। আবরার ও নিজের রুমে। রোশনারা পেপারে একবার চোখ বুলিয়ে মরিয়ম কে বলে

রোশনারা: মরিয়ম যা আবরার কে ডেকে আন।

মরিয়ম: ঠিক আছে

মরিয়ম চলে যায় আবরার কে ডাকতে। তখন উপর থেকে সারা নামে সাথে তার মা রায়দা বেগম। দুইজন এসে সোফায় বসে। রায়দা আসে পাশে তাকিয়ে বলে

রায়দা: কিছু কি হয়েছে বড় ভাবি?

রোশনারা: হয়নি তবে হবে।

।।।।।।।।।।।।।

মরিয়ম আবরার এর রুমে যেয়ে দেখে আবরার রুমে নেই তাই ডাকতে লাগে তখন বারান্দা থেকে কন্ঠ আসে

আবরার: আমি এইখানে। কি হয়েছে কিছু বলবি?

মরিয়ম বারান্দায় যেয়ে দেখে আবরার দাড়িয়ে আছে। হাতে কফির মগ।

মরিয়ম: হম .... ভাই নিচে চলেন ডাকে আপনায়

আবরার: কে? (ব্রু কুঁচকে)

মরিয়ম: বড় খালাম্মা

আবরার: আরোশি আসছে?

মরিয়ম: না আসে নাই।

আবরার: আচ্ছা তুই যা আমি আসছি

আবরার নিচে এসে দেখে দাদি আর আবির, রিমা বাদে সকলে আছে। আবরার যেয়ে রোশনারার সামনে বসে। রোশনারা ছেলেরর দিকে একটা পেপার এগিয়ে দিলে আবরার সেইটা হাতে নেয়। কিন্তু যখন দেখে এইটা কিসের পেপার তখন মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরে। রাগে শরীল জ্বলে উঠে। কার জন্য এই ডিভোর্স পেপার? ওকে দাওয়ার মানে কি? আবরার নিজেকে সামনিলে মায়ের দিকে না তাকিয়ে শান্ত সুরে বলে

আবরার: এইসব কি?

রোশনারা: কেন তুই দেখতে পাচ্ছিস না?

আবরার: কার জন্য ডিভোর্স পেপার? তুমি কি বাবা কে ডিভোর্স দিচ্ছ? এই বয়সে এইসব করা ঠিক না। কয়দিন পর দাদি হবে। কই ছেলের বাসর এর ব্যবস্থা করবে তা না করে এইসব করছো?

রোশনারা কথা গুলো শুনে রেগে ধমক এর সুরে বলে

রোশনারা: আবরার শুধু শুধু কথা এলোমেলো করবি না

আবরার: আর তুমি যে আমার জীবন এলোমেলো করে দিতে চাইছো? সেইটা কি?

এইসনারা: এইটা তোর ধারণা। মা কখনো তোর খারাপ চায়না। নিশ্চই ওই মেয়ে--

আবরার: আরোশি আমার বউয়ের নাম। বলেছি একবার ওই মেয়ে এই মেয়ে করবে না (গম্ভীর সুরে)

রোশনারা: ঠিক আছে করলাম না। আরোশি তোর মাথায় এইসব ঢুকিয়েছে? মা কি কখনও তোর খারাপ চাইবে তুই বল? আমি চাই তুই ভালো থাক। আমার কথা শুন আর সাইন করে দে।

আবরার: আমি! (অবাক হয়ে)

উপস্থিতি সকলে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে ডিভোর্স এর কথা শুনে। আর আবরার তো হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে রোশনারার দিকে। তার মা তাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছে। এত মানে মাকে, এত সম্মান করে, এতো ভালোবাসে অথচ এই মানুষ টা কখনোই বুজলো না আবরার কে। সে আগে ভাবতো মা'ই একজন যার কাছে সে প্রকাশ না করলেও তাকে বুঝে কিন্তু না, আজ সে বুঝে গিয়েছে সে ভুল ছিল এতদিন। তার মা তার ভালো চায় এই ভেবেই সে আরোশির প্রতি নিজের নামহীন অনুভুতি কে প্রাধান্য না দিয়ে সারাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিল মায়ের কথায়। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে তার মা কখনো তার কথাই ভাবেনা। বরং নিজের যা ইচ্ছে তাই করে। সারার সাথে বিয়ে দিবে বলে আরোশির সাথে দিয়েছে এখন আবার তার ইচ্ছে হয়েছে আরোশির থেকে ছেলেকে আলাদা করতে পরে আবার ইচ্ছে হবে ছেলেকে আবার বিয়ে দিতে। তাকে তার মা পুতুল ভাবে না মানুষ কে জানে। পুরো এলোমেলো করে দিচ্ছে তার জীবনটা কে। সে কোথায় যাবে? বাবা হিসেবে কখনো ছেলেকে বুঝেনি আর এখন মা'ও।

আবরার এর ভাবনার মাঝেই সাইদুল সাহেব বলে উঠে

সাইদুল: ভাবি রাগের মাথায় এত বড় একটা পদক্ষেপ নেয়া উচিত না।

রোশনারা: রাগের মাথায় কেন করতে যাবো? আমি ভেবে চিন্তেই করছি। আর আরোশি ভালোবাসে না বরং আমার ছেলে ওর জেদ, মোহ তাই তো দেখেন না এখন আর আগের মতো ইমপোর্টেন্স দেয়না আমার ছেলে কে। এখন আর ভালো লাগে না আমার ছেলেকে। এতদিন হয়ে গেলো এখনো বাড়িতে আসেনি। কার সাথে আছে কে জানে। হস্পিটালে'ও আর যায়নি স্বামীকে দেখতে। এমন মেয়ে আমার ছেলের জীবনে দরকার নেই।

সাইদুল: ওদের মাঝে হয়তো কোনো জামেলা--

কুমকুম: ঐরকম কিছুই না। ভাবি যা করছে ভালোর জন্যই করছে। কোনো মা চায়না আরোশির মত মেয়ের সাথে তার সন্তানের জীবন জড়িয়ে থাকুক

সাইদুল: তুমিও তো একজন মা। তুমি কিভাবে নিজের মেয়ের----

কুমকুম: আমি ওর মত মেয়ের মা না।

এইস্নারা: কি হলো সাইন দিচ্ছিস না কেন? মায়ের কথা শুনবি না? মা তো তোর ভালো চাই বাবা। কথা দিলাম এরপর তুই তোর মত জীবনযাপন পড়বি। আমি তোকে আরো ভালো মেয়ে এনে দিব। তুই ওকে নিয়ে বিদেশ চলে যাবি। আরোশির ছায়া'ও পড়তে দিবো না আমার ছেলের উপর।

আবরার মাথা উঠিয়ে তাকিয়ে দেখে রোশনারার চোখে পানি চিকচিক করছে। আবরার খুব ভালো করে বুজতে পারছে তার মা তাকে নিজের ইমোশনাল কথায় ফাঁসাতে চাচ্ছে। আরোশি আর তার বাবা ঠিকই বলতো তার মা তাকে সব সময় manipulate করার চেষ্টা করে। তার মাইন্ড নিয়ে খেলে কিন্তু সে বুঝে না। আজ কিভাবে বুজলো তাও তার জানা নেই। হয়তো আজ কথা এসেছে আরোশি আর তার বিচ্ছেদের তাই সে এইটা মেনে নিতে পারছে না। সেই হিসেবে নিজের মায়ের বলা প্রতিটা কথা তার মাথায় অন্য রূপ নিচ্ছে সাথে এই বিষয়টাকে সাপোর্ট করা প্রতিটা মানুষকে আবরার এর কাছে নিজের রাস্তার কাটা লাগছে যেমন কুমকুম বেগম কে। আবরার তাচ্ছিল্য হেসে এতক্ষনে মুখ খুলে নিজের মায়ের উদ্দেশ্যে বলে

আবরার: বিয়ে কেন দিয়েছিলে যে এখন ডিভোর্স দিতে বলছো?

রোশনারা: তুই খুব ভালো করে জানিস তখন পরিস্থিতি কি ছিল। আরোশি কিডন্যাপ করেছিল তোকে বিয়ে করার--

আবরার: আমি এত কিছু জানি না। তুমি আমাকে বলেছো বিয়ে করতে আমি করেছি ব্যাস। (গম্ভীর গলায়)

রোশনারা: এখন আমি বলছি ছাড়তে তুই ছাড়।

আবরার মায়ের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে শান্ত সুরে বলে

আবরার: ছেলের লা*শ দেখতে চাও?

আবরার এর মুখে কথায় যেন উপস্থিত সকলের মাঝে একটা দমকা হাওয়া ভয়ে যায়। একদম শান্ত হয়ে যায় পরিবেশ টা। কারো মুখে টু শব্দ ও নেই। সকলে তাকিয়ে আছে আবরার এর দিকে। রোশনারা কিছু বলতে যাবে তার আগেই কারো গলার সুর শুনা যায়। সকলে সদর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে আরোশি আর আজমুল সাহেব কথা বলতে বলতে ভিতরে ডুকছে সাথে রবিন। কিন্তু সকলকে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তিনজনই থেমে যান। আরোশি আবরার এর দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে হাতে থাকা ফাইল টা রবিন এর হাতে দেয়। ছেলেটা ফাইল টা নিয়ে চলে যায়। আজমুল যেয়ে সোফায় শরীল হেলিয়ে মরিয়ম কে পানি আনতে বলে। আরোশি একটু এগিয়ে এসে দাঁড়ায়। তখনও একই ভাবে আবরার এর দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন লাগছে আবরার কে। আবরারও মুখে স্পষ্ট তীক্ষ্ম গম্ভীরতা বজায় রেখে তাকিয়ে আছে বউয়ের দিকে। কতদিন পর দেখলো তার অবাধ্য নারীর মুখ। ইচ্ছে করছে আরোশিকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যেতে যেইখানে তাদের কেও আলাদা করতে পারবে না । আর সেখানে আরোশিকে বেঁধে রাখবে যেন আর কখনো আবরার এর থেকে দূরে যেতে না পারে। সে কিভাবে এতদিন কাটিয়েছে সে জানে। আরোশি আবরার এর থেকে চোখ সরিয়ে শান্ত সুরে সকল কে উদ্দেশ্য করে বলে।

আরোশি: কি হয়েছে? (শান্ত সুরে)

সাইদুল: মা তুমি যাও ফ্রেশ হও। কিছু হয়নি

আরোশি একবার আজমুল এর দিকে তাকালো যে নিজেও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে। মুখ গুড়িয়ে

সাইদুল সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বলে

আরোশি: আপনি আমাকে মা বলেন কেন?

সাইদুল সাহেব কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে যায়। কথার ভাজে মেয়ের অভিমান বেশ বুজতে পারছে। নরম কণ্ঠে বলে

সাইদুল: তুমি তো আমার মা তাই।

আরোশি কথা টা শুনে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে

আরোশি: মানুষ বরাবর'ই পরিবর্তনশীল। আজ এক রূপ তো কাল আরেক রূপ। কে জানে কাল আঙ্গুল তুলে বলবে "তুই আমাদের জীবন নরক বানিয়ে দিয়েছিস"

আরোশির কথায় স্পষ্ট বুঝালো সামনে এমনও সময় আসতে পারে আরোশি তাদের জীবন নরক বানিয়ে দিবে আর তারাও বাধ্য হয়ে এই কথা টাই বলবে। আবারো পিনপিন নীরবতা পালন করে ড্রয়িং রুম। সাইদুল সাহেব মাথা নিচু করে বসে রইলো। এই মেয়ের কথা এত ধারালো। হাসতে হাসতে সামনের মানুষটার চোখে পানি নিয়ে আসতে পারবে।

মরিয়ম এসে আরোশি আর আজমুল সাহেবকে পানি দেয়। আরোশি ব্রু কুঁচকে মরিয়ম এর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে গ্লাস হাতে নিয়ে সোফায় বসতে বসতে বলে

আরোশি: পানি আনতে যেয়ে কি পানি হয়ে গিয়েছিলি?

মরিয়ম: না আফু

আরোশি: আপু হবে (পানি খেতে খেতে)

মরিয়ম আর কিছু না বলে এক কোনায় যেয়ে দাড়ায়। আবরার এখনও রোশনারার এর সামনে বসে আছে। হাতে একটা কাগজ। আরোশি পানি খাচ্ছে আর সেইটার দিকে তাকিয়ে আছে। আজমুল সাহেব গ্লাস রেখে বলে

আজমুল: কিছু কি হয়েছে!

রোশনারা এতক্ষনে মুখ খুলে

রোশনারা: হম অনেক কিছু। আরোশি আমি----

আরোশি: আরে রে রে! ছেহ্, তোমার এই মুখে আমার নাম ডেকো না প্লীজ। আমার ভালো লাগে না। থু থু ওয়াক

রোশনারা কথাটা শুনে রেগে তাকায় আবরার এর দিকে। আবরার চোখ সরিয়ে বলে

আবরার: আমার সামনে শুধু।

আবরার এর কথা কেও না বুজলেও রোশনারা বুঝে। আবরার এর দিকে সে রেগে তাকিয়েছে কারণ আবরার'ই বলেছে তার বউকে নাম ধরে ডাকতে এখন আবার নাম ধরে ডাকাতে আরোশি নিজেই নিষেধ করছে। তাকে কি পাগল পেয়েছে? একজন বলবে নান ধরে ডাকতে আরেকজন নিষেধ করবে। তাই ছেলের দিকে ঐভাবে তাকায় কিন্তু আবরার "আমার সামনে শুধু" বলে এইটাই বুঝালো আরোশির সামনে আরোশিকে যেই ভাবেই ডাকুক তার সামনে তার বউকে যেন নাম ধরেই ডাকে। যত্তসব! রোশনারা আবারো বলে

রোশনারা: তুই মায়ের কথা শুনবি না? মাকে কষ্ট দিবি? তোকে এইদিন দেখার জন্য বড় করেছি?

রোশনারা: তাহলে মেরে কেন ফেললে না? তাহলেই তো আর এত জামেলা আমার সহ্য করতে হতো না আর না তোমাকে আমার জন্য কষ্ট পেতে হতো।

আবরার আর দাড়ায় না। কাগজটা মায়ের হাতে দিয়ে সোজা উপরে চলে যায়। আবরার এর কথায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কতটা কষ্ট লুকিয়ে আছে কথা গুলোর মাঝে। কিন্তু কি কারণে আরোশির মাথায় ঢুকলো না। কি এমন হয়েছে? ওর অনুপস্থিতে কি কিছু ঘটে গিয়েছে যেইটা ওহ জানে না? হটাৎ এইভাবে কেন কথা বলছে? তাও আবার মায়ের সাথে। প্রাণপ্রিয় মায়ের সরিয়ে আবরার বলবে এইভাবে কথা? অবিশ্বাস্য ঘটনা। মাথায় হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু আরোশি কিছু বললো না। চুপ করে বসে আছে। আবরার কে আজ অন্যরকম লাগছে। কেমন যেন এলোমেলো। রোশনারা ছেলের পিছু ডাকে কিন্তু আবরার সোজা নিজের রুমে চলে যায়। এইবার রোশনারা আরোশির সামনে দাড়িয়ে বলে

রোশনারা: আমার ছেলেকে দয়া করে মুক্তি দে। তোর কারণে আমার ছেলে এমন হয়ে গিয়েছে।

আজমুল: কি বলছো এইসব? আর কিসের মুক্তি (অবাক হয়ে)

রোশনারা: এই মেয়েকে বলো আমার ছেলেকে মুক্তি দিতে।

আজমুল: নতুন কাহিনী শুরু করেছো?

আরোশি: আমি তোমার ছেলেকে অনেক আগেই মুক্তি দিয়েছি।

রোশনারা: এইটার কি প্রমাণ আছে তোর কাছে?

আরোশি: আমি একজন মেয়ে। আবরার ছাড়লে আমি ছাড়া পাবো নয়তো কখনো সম্ভব না। আইনি ভাবে হোক আর ধর্মীয় ভাবে হোক আমি না চাইলে যেমন তোমার ছেলে মুক্তি পাবে না একই ভাবে তোমার ছেলেরও ইচ্ছা পোষণ থাকতে হবে আমাকে ছাড়ার।

রোশনারা হাতে থাকা ডিভোের্স পেপার এগিয়ে দিয়ে বলে

রোশনারা: নে সাইন কর। তুই করলেই আমার ছেলে একাই করবে।

চলবে,,,,,,

(কি মনে হয় আরোশি সাইন করবে? আস্তে করে গল্প পরে চলে যাও কেন? যে যে ঠিক মত রেসপন্স না করে চলে যায় তারা সবাই কাউয়া কাদের এর সঙ্গী 🫵)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন