ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৬১তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৬১

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আবরার: তুমি বেঁধে আর রাখতে দিলে কথায়!

বলে আবরার ডিভোর্স পেপার টা টেবিলের উপর রেখে কলম হাতে নেয়। সকলে আবরার এর দিকে তাকিয়ে আছে। সারা উঠে এসে আবরার এর পাশে বসে বলে

সারা: তুমি চিন্তা করো না আমি আছি তোমার জন্য। আমি তোমায় মাজ রাস্তায় হাত ছেড়ে যাবো না ওর মত।

আবরার: আমি হাত ধরলে তো ছাড়বে আর ছেড়ে গেলেও সমস্যা নেই আমি ছেলে মানুষ তাই গাড়ি নিয়ে নয়তো হেঁটেই বাড়ি চলে আসবো সোনা।

আবরার এর কথা শুনে সারা সহ সকলেই হকচকিত যায়। কি বুঝালো আর এই ছেলে বুজলো কি! নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করছে! আবরার হটাৎ টি-টেবিলের মধ্যে জোরে ঘুষি দেয় যার ফলে টি টেবিল এর কাঁচ ভেঙ্গে একদম চুরচুর হয়ে আসে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। রোশনারা, সারা , আজমুল সাহেব কাছে ছিল। এইরকম হওয়ায় তারা তাড়াতাড়ি দূরে সরে যায়। সোফায় বসে থাকা বাকিরা দাড়িয়ে যায়। সকলে চমকে উঠে শব্দে তারচেয়ে বেশি চমকায় যখন দেখে আবরার এর হাত থেকে টপ টপ র*ক্ত পরছে। ক্ষণিকের মধ্যেই পুরো হাতের তালু র*ক্তে রাঙিয়ে গেল সাথে নিচের ফ্লোরে টপটপ পড়ে লাল হয়ে গেলো। দাদি চিল্লিয়ে উঠে

জেসিয়া: আল্লাহ এইটা কি করলা দাদুভাই?

আবরার দাদীর কথায় তোয়াক্কা না করে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে

আবরার: খুব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে আমার হাত কেটে গিয়েছে এখন আমি সাইন করবো কি করে বলো? I can't even hold the pen...

আবরার এর হাত এত বাজে ভাবে কেটেছে যে কিছু ধরার জো নেই। আর আবরার কথা টা এতই দুঃখের সাথে বললো যেন ওহ ইচ্ছে করে কিছুই করেনি। সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এখন দেখা যায় আরোশি কি পাগলামি করে তার চেয়ে বেশি করে আবরার। দেখা যাবে সাইন না করার জন্য নিজেকে গুলি করতে'ও হাত কাপবে না।

আবরার পকেট থেকে রুমাল বের করে হাতে পেচায় তা দেখে কুমকুম বেগম বলে

কুমকুম: দাড়া আমি ব্যান্ডেজ করে দেই এইভাবে ইনফেকশন হতে পারে আবার রক্ত'ও পড়ছে।

বলে যেতে গেলে আবরার রুমাল হাতে পেচাতে পেচাতে বলে

আবরার: তার কোনো প্রয়োজন নেই আমি আমার বউয়ের কাছে করে নিবো।

রুমাল পেঁচানো শেষ করে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে

আবরার: ডিভোর্স পেপার তো আমার রক্তে নষ্ট হয়ে গেলো। তুমি এক কাজ করো আমি একটা বুদ্ধি দেই তুমি এইসব না করে ছেলের বাসরের ব্যবস্থা করো তোমার ছেলে এখনও বাসর করতে পারেনি। তোমাদের জন্য আমার সন্তান রা পড়া শোনায় কত পিছিয়ে যাচ্ছে জানো? তাই যা বলেছি তা করো

বলে আর দাড়ায় না সোজা চলে যায়। সকলে এখনও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে যেন একটা ঘোরের মাঝে চলে গিয়েছে। রোশনারার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে এইটা তার সেই ছেলে যাকে সে যা বলতো সব করতে রাজি হয়ে যেতো।

॥

॥

॥

অফিসের কাজ করছিল আরোশি। কোর্ট থেকে ডাইরেক্ট অফিস এসেছে। কয়েকটা মিটিং এটেন্ট করে এখন কিছু ফাইল দেখছে। তখনই আরোশির ফোনে একটা কল আসে। কিছুক্ষন ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে তারপর কল রিসিভ করে কানে দেয় কিন্তু কোনো কথা বলে না। ওপর পাশ থেকে কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে উঠে

??: আরোশি সুন্দরী

আরোশি গলাটা শুনে'ও চুপ করে বসে রইলো। আবারও ওপর পাশ থেকে বললো

??: ভুলে গেলে নাকি সুন্দরী? সিঙ্গাপুর থেকে তোমার একমাত্র জামাইর বন্ধু বলছি। খুব দৌড় ঝাঁপ করছো তাই ভাবলাম ফোন করি।

আরোশি এইবার বাকা হাসলো। উঠে যেয়ে অফিসের একপাশে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত কাচের দেয়ালের সামনে দাঁড়ায়। পকেটে এক হাত ঢুকিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে বাকা হেসে ভারী গলায় বলে

আরোশি: long time no see

(এই conversation ভুলো না কেউ)

,,,,,

,,,,,

,,,,

,,,,

কথা শেষ করে আরোশি বড় একটা শ্বাস ফেলে। চোখে মুখে উজ্জ্বলতা, খুশি ঝকঝক করছে। বাইরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে গুনগুন করতে থাকে। নীরব, নিশ্চুপ রুমে সেই গুনগুন শব্দ ভয়ানক লাগছে যেন কোনো সাইকো। হ্যাঁ, সাইকো'ই তো। প্রতিটা সাইকোর মার্ডার করার একটা পার্সোনাল সিগনেচার স্টেপ থাকে। নিহাদ এর মত আরোশির নিজের'ও আছে।

আরোশির গুনগুনানোর মাঝেই আরেকটা ফোন আসে। রুমের মধ্যে ফোনের vibrate এর শব্দ গুমগুম করছে। আরোশি বিরক্ত হয়ে ফোনের স্ক্রিন এ তাকায়। এইটা বিজনেস রিলেটেড কল। আরোশি ফোন ধরে কথা বলতে থাকে।

>>>>>>>>>><<<<<<<<<<<

আবরার earth empire এ ডুকে রিসেবসন এর কাছে যেয়ে বলে

আবরার: মিসেস আরোশি কোথায়? ফ্রী আছে?

রিসেবসন এ দাঁড়ানো মেয়েটা চিনে যায় আবরার কে। হাসি মুখে বলে

-: জ্বী ম্যাম নিজের ক্যাবিনেই আছে। আপনি যেতে পারেন

আবরার: okay thank you

মুচকি হেসে কথা টা বলে আবরার লিফট এ উঠে যায়।

।।।।।।।।।

আবরার: আরোশি পাখি

আরোশির অফিস কেবিনে একপাশে কাচের দেয়াল সেইটা দিয়ে বাহিরের সব দেখা যায়। সেইদিকে মুখ করে দাড়িয়ে তখনও ফোনে কথা বলছিল আরোশি। পরনে কালো লেডিস ব্লেজার স্যুট। ব্লেজার জ্যাকেট এর ভিতরে কালো টপস্ পড়া। কানে সিলভার রঙের সিম্পল ডিজাইনের ইয়ারিং সাথে হাতে কালো হাতঘড়ি। ঠোঁটে নোড লিপস্টিক। ইউ কার্ট দাওয়া পিঠ পর্যন্ত চুল গুলো মাঝখানে শীতি করে ছেড়ে রেখেছে। অর্ধেক চুল সামনে এনে রাখা। হালকা এলোমেলো হওয়াতে আরো আকর্ষিত লাগছে। গলায় চিকন একটা চেইন যেইটায় ছোট একটা কালো লোকেট। আবরার খেয়াল করেছে আরোশি চেইন পড়লে সেইটা সবসময় চিকচিক করে গলায় তখন আরো আকর্ষন লাগে দেখতে।

আরোশি আবরার এর গলা শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখে আবরার এগিয়ে আসছে। আরোশি আবার ঘুরে সামনে তাকিয়ে ফোনে কথা বলতে ব্যাস্ত হয়। আবরার এসে আরোশিকে পিছন থেকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে কাধে থুতনি রেখে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে। কাটা হাত পিছনে রেখে দেয়। কিছুক্ষন পর আরোশির কথা শেষ হলে ওহ আবরার এর থেকে সরে ফোন রাখার জন্য টেবিলের দিকে যেতে যেতে বলে

আরোশি: এইখানে কি?

আবরার: কি আবার? দেখতে পাচ্ছো না টেবিল

আরোশি: আমি বলেছি আপনার এইখানে কি?

আবরার: আমার বউ এইখানে

এইবার আরোশি ফোন রেখে না তাকিয়েই বিরক্ত হয়ে বলে

আরোশি: উফফ, আপনি এইখানে কেন এইটা বলেছি।

আবরার: কেন আসতে পারি না আমার হট গোলামজাম?

বলে আরোশির কাছে আসতে থাকে। আরোশি এখনো খেয়াল করেনি। টেবিলের ফাইল গুছাতে ব্যাস্ত। আবরার এর প্রশ্ন শুনে ঐভাবেই শান্ত সুরে বলে

আরোশি: পারবেন না কেন! অবশ্যই পারেন

আবরার: হ্যাঁ সেটাই।

আবরার একদম কাছে এসে দাড়িয়েছে। আরোশি ফাইল গুছিয়ে এইবার ঘুরতে গেলে আবরার এর বুকের সাথে বাড়ি খায়। ওর কপাল আবরার এর থুতনিতে যেয়ে লাগে। দুইজনই পারফেক্ট লম্বা। কেউ কারো থেকে খাটো বা লম্বা না। এরা একসাথে দাঁড়ালে অন্যদের মতো মেয়ে খাটো আর ছেলে লম্বা কিউট লাগে না। বরং আরোশি যেহেতু সবসময় কালো পড়ে আর আবরার স্যুট পড়ে আবার দুইজনের অ্যাটিটিউড অন্যরকম তাই এদের একসাথে দাঁড়ালে মনে হয় কোনো মাফিয়া জুটি। মনে হয় একজন আরেকজনের জন্যই তৈরি।

হঠাৎ এইভাবে বারি লাগায় আরোশি কপাল ধরে আবরার এর দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে

আরোশি: পিছন পিছন ঘুরছেন কেনো!

আবরার কিছু না বলে আরোশির কপালে একটা চুমু দিল। আরোশি কিছু বলতে যাবে তখন আরেকটা দিলো, এইভাবে চারপাঁচ টা দিলো। আরোশি আর কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। আবরার থামলে এইবার আরোশি কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে নরম কণ্ঠে বলে

আরোশি: কিছু হয়েছে?

আবরার মলিন হেসে বলে

আবরার: কি আর হবে সুন্দরী?

আরোশি: আপনায় কেমন যেন দেখাচ্ছে

আবরার: চিন্তা হচ্ছে? (ব্রু কুঁচকে)

আরোশি কথা টা শুনে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে হেসে আবার আবরার এর দিকে তাকিয়ে বলে

আরোশি: চিন্তা? আমি কেন তোমার জন্য চিন্তা করবো?

"তুমি" শুনে আবরার কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ইচ্ছে করে বাচ্চাদের মত মুখ ফুলিয়ে বললো

আবরার: বউ তুমি এখন আমার দিকে একদম খেয়াল রাখছো না।

আরোশি: আমি না বলেছি চেহারা এমন করবেন না।

আবরার: কেমন?

আরোশি গম্ভীর গলায় বলে

আরোশি: এইযে এইরকম কিউট কিউট। খেয়ে ফেলা উচিত আপনায়।

আবরার কথাটা শুনে হেসে দেয় তারপর নিজের কাটা হাত দেখিয়ে বলে বলে

আবরার: দেখো আমার হাতে কি হয়েছে

আরোশি তাকিয়ে দেখে রুমাল ভিজে গিয়েছে রক্তে। অবাক হয়ে তাকায় আবরার এর মুখের দিকে যে কিনা এমন ভাবে দাড়িয়ে আছে যেনো কোনো যায় আসে না এই হাত কাটা নিয়ে। এমন মুখ বানিয়ে রেখেছে যেন এইটা অতি সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু আরোশির তো জান যায় যায় অবস্থা। ওহ অনেক ঘাবড়ে যায়। তাড়াতাড়ি আবরারকে সোফায় বসিয়ে আলীফকে ফোন দিয়ে first aid box আনায়। তারপর আবরার এর পায়ের কাছে বসে হাতে ব্যান্ডেজ করে দিতে থাকে আর জিজ্ঞেস করতে থাকে "কি করে হলো এইটা" কিন্তু আবরার কিছু না বলে চুপ করে শুধু আরোশির দিকে তাকিয়ে আছে তা দেখে আরোশি রেগে আবরারকে বলতে থাকে

আরোশি: এত careless কি করে হতে পারেন আপনি? আপনি এমন কেন? কখন থেকে একটা কথা জিজ্ঞেস করছি কি করে হলো কিন্তু কোনো উত্তর দিচ্ছেন না কেন? ব্যান্ডেজ না করে রুমাল দিয়ে কেন বেধে রেখেছেন? ব্যান্ডেজ কিনার টাকা নেই?

আবরার এইবার মুখ খুলে

আবরার: কি বলো টাকা থাকবে না কেন! ব্যান্ডেজ এর ফেক্টোরি'ও কিনতে পারবো। আমি তো শুধু বউয়ের কাছে ব্যান্ডেজ করতে এসেছি।

আরোশি কথাটা শুনে যেনো আরো রেগে যায়। ঝাঁঝালো সুরে বলে

আরোশি: যত্তোসব। সারাদিন শুধু বউ বউ। বউ কোলে নিয়ে বসে থাকেন তাহলে।

আবরার: আমি তো চাই কোলে নিতে। বউ তো কোলে নেয়ারই জিনিস। বউ মানেই আদর সোহাগ কিন্তু আমার বউ আমায় দাম'ই দেয় না। উল্টো আমাকে উত্তেজিত করে নিজে পালিয়ে যায় যেমন সেইদিন রাতে তুমি চাইলে কিন্তু অনেক কিছু হতে পারতো কিন্তু তুমি কি করলে? থাক আমি মনে করতে চাইনা। মনে করলেই কষ্টে কিডনি ব্যথা করে। হাহ্ আমার বউ আমার কষ্ট বুঝে না। (উপহাস করে)

আরোশি: ছেহ্! কি বলছেন এইসব! দিন যাচ্ছে নাকি আপনার লজ্জা যাচ্ছে? অফিসে এইসব কি বলেন?

আবরার: তো এইখানে তুমি আর আমিই তো। এমন ভাব করছো যেন তুমি খুব লজ্জাপতি। তুমি কি কি করো আমার সাথে আমি বলবো? আমি ঘুমালেও তুমি আমায় ছাড়ো না। রক্ষায় সেইদিন জেগে ছিলাম বলে নয়তো জানতাম'ই না তুমি কিভাবে আমাকে চুমু খাও। যেইটা আমার করা উচিত সেইটা তুমি করো। যাইহোক, তুমি চাইলে আমরা এইখানে'ও সেইদিন রাতের মত----

কথা শেষ করার আগেই আরোশি থামিয়ে দিয়ে তুতলিয়ে বলে

আরোশি: ক,,,কোন র-রাত! কি ক-করেছি আমি? আমি কি,,,কিছুই জানি না। ব্যান্ডেজ করা শেষ য-যান বাড়ি যান।

আবরার খেয়াল করে আরোশির গাল দুটো লাল টমেটো হয়ে গিয়েছে। এতক্ষন তো ঠিক ছিল। এসি চলছে তাই গরমে লাল হওয়ার কথা না। তাহলে কি তার বউ লজ্জা পাচ্ছে? এই মেয়ে লজ্জা'ও পায়? বাহ্, এই প্রথম আবরার বউকে লজ্জা পেতে দেখলো। লজ্জা পেলে মেয়েরা কি আরো সুন্দর হয়ে যায়? নাকি তার বউ'ই শুধু সুন্দর হয়? আচ্ছা এই লাল গালে কামড় দিলে কেমন হবে! তার বউ কি ব্যথায় কান্না করে দিবে? দিতে'ও পারে সে তো আর আস্তে কা*মড় দিবে না। একদম খেয়েই ফেলবে।

কথা গুলো ভেবে আবরার মুচকি হাসলো। খেয়ে ফেলার মতো ভয়ানক শব্দ তার মত কেও ব্যবহার করলো? ভাবা যায়! সে আসলেই নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছে। না না! বউয়ের ক্ষেত্রে নির্লজ্জ হওয়াই যায়। হম যায় যায়। তার বউ'ও তো চরম অবাধ্য তাই নাহয় সে এই অবাধ্য নারীর জন্য নির্লজ্জ স্বামী হোক। আরোশি কে আরো লজ্জা দিতে আবরার বলে

আবরার: তেজি নারী তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো?

আরোশি: লজ্জা my foot

আরোশি উঠে যেতে গেলে আবরার ওর হাত ধরে টান দিয়ে নিজের কোলে বসিয়ে দেয়।

আরোশি: আশ্চর্য। নষ্টামি করছেন কেন?

বলে আরোশি উঠতে চাইলে আবরার দুইহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে বলে

আবরার: বউ আমি কিন্তু হাতে ব্যাথা পাবো।

ব্যাস আরোশি শান্ত হয়ে যায়। চুপ করে বসে আছে কোলে যেন একটু নড়লেই আবরার এর হাতে ব্যথা পাবে না বরং ব্যথায় মরেই যাবে। আবরার আরোশিকে আরো ভালো করে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুঁজে বলে

আবরার: তা কি বলছিলে? তুমি জানো না কোন রাতের কথা বলছি? সেইদিন রাতের কথা যেইদিন আমাদের লং ড্রাইভে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তোমার জন্য যেতে পারলাম না।

আরোশি: আপনি নষ্টামি শুরু করেছিলেন

আবরার: কিন্তু শেষ তো করতে দিলে না এই দুঃখে আমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছি।

আরোশি: আরে আজব আমি কি করেছি ?

এইবার আবরার ধমকের সুরে বলে।

আবরার: আবার বলে আমি কি করেছি! তুমি জানো না কি করেছো? ডং করো? ডিটেইলস শুনতে চাও? আমার কোনো সমস্যা নেই বলতে কিন্তু তুমি শুনতে পারবে তো? মনে রেখো, করতে লজ্জা নেই কিন্তু শুনতে লজ্জা বুঝেছো?

আরোশি: লাগাম টানুন। ওইটাই আপনার জন্য ঠিক আছে উন্মাদ বানিয়ে ছেড়ে দাওয়া।

আবরার: চুপ, ঠাস ঠাস থাপড়ানো উচিত তোমায়। কি বলো স্বামীকে এইসব?

বলে গলায় চুমু খায়। আরোশি আবরার এর হাতের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলে

আরোশি: হাতের এই অবস্থা হয়েছে কিভাবে!

আবরার প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষন চুপ থেকে কথা ঘুরিয়ে বলে

আবরার: তুমি কখনো আমার সাথে রাগো না তাই আমার জানা ছিল না আমার রানীকে রাগকে'ও অনেক হট লাগে। তুমি চাইলে আমাকে রাগ দেখিয়ে শুরুতেই তোমার প্রেমে ফেলতে পারতে। আগে যদি নিজের রাগ দেখাতে তাহলে তোমার আমাকে পাওয়ার জন্য এত কিছু করতে হতো না।

আরোশি চুপ চাপ বসে আছে। ওকে কিছু বলতে না দেখে আবরার দুষ্টুমি করে গলায় দাঁত বসিয়ে কামড় দেয়। হঠাৎ এমন হওয়ায় আরোশি ব্যাথায় চিল্লিয়ে বলে উঠে

আরোশি: শা*লা হরিণের বাচ্চা

আবরার: ছি বউ, তোমার মুখ তো বহুত খারাপ। এইসব কে শিখায় তোমায়?

আরোশি: যেইভাবে কামড়া কামড়ি করছেন। You should be glad that i am not calling you dog

আবরার: চুপ অসভ্য, স্বামীকে কেউ এইসব বলে?

আরোশি: তো এমন করছেন কেন? লাগে তো আমার

আবরার: জানি তো আমি

আরোশি: তো দিচ্ছেন কেন!

আবরার: কি করবো বলো। যেইভাবে চেইন টা চিকচিক করছে ইচ্ছে করে----- (ভারী সুরে)

আবরার কথা শেষ করার আগেই আরোশি এক ধমক দিয়ে বলে

আরোশি: নির্লজ্জ বেহায়া কোথাকার এইভাবে কথা বলবেন না।

আবরার: কেন কেন? আমার বউ আমি একশো কোটি বার বলবো।

আরোশি: আমার অনেক কাজ আছে ছাড়ুন।

বলে নিজের থেকে আস্তে করে আবরার এর হাত সরিয়ে দেয়। হটাৎ আবরার গম্ভীর সুরে বলে উঠে

আবরার: সাইন করেছো কেন?

আরোশি: মানে!

আবরার: পেপারে সাইন করেছো কেন!

এইবার আরোশি বুজতে পারে আবরার ডিভোর্স এর কথা বলছে। তার মানে রোশনারা দেখিয়েছে ছেলেকে। আরোশি না বুঝার ভান করে বলে

আরোশি: কোন পেপার

বলে আরোশি উঠে নিজের অফিস চেয়ারে বসে লেপটপ অন করে। আবরার জানে তার বউ বুজতে পেরেছে সে কিসের কথা বলছে। শুধু শুধু অস্বীকার করার কি দরকার? এত পরিবর্তন? আবরার তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এই দৃষ্টি দেখলে কেউ বলবে না এই ছেলে একটু আগে দুষ্টুমি ভরা কথা বলছিল। আরোশি নিজের কাজে ব্যাস্ত হয়ে যায়। আবরার আবারো গম্ভীর গলায় ডেকে উঠে

আবরার: আরোশি

আরোশি এইবার লেপটপ থেকে চোখ উঠিয়ে আবরার এর দিকে তাকিয়ে বলে

আরোশি: আপনি এমন করছেন কেন? আপনি তো এইটাই চাইতেন। আমি আপনার হয়তো ক্ষণিকের ভালোলাগা, এইটা চলে যাবে। আপনি ভাবেন আমি কি কি খারাপ কাজ করেছি তাহলেই দেখবেন ভালোলাগা ঘৃণার রূপ নিবে।

আবরার: এইসব ভাবনা নিয়ে তুমি সাইন করেছো? আমাদের সম্পর্ক টা কি তোমার কাছে এতই সামান্য? তুমি এত কেন বদলাচ্ছো! তুমি বিশ্বাস কেন করছো না ঐসব ছবি মিথ্যে। আমার মাহিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তুমি কি সেই আরোশি যে আমার পাগল ছিল!

আরোশি: no babe,,, আমি মোটেও সেই আরোশি না। আমি শুধু জানি সেইদিন বারান্দায় মিস্টার আবরার রিয়াদ চৌধুরী আমার থেকে মুক্তি চেয়েছে আর যেইভাবে হোক আমাকে এইটা দিতে হবে। ব্যাস দিয়ে দিলাম।

আবরার: পরিস্থিতি তুমি ওরকম বানিয়ে ছিলে। তুমি সব কিছু নিজের কন্ট্রোলে রেখেছো। তুমি জানতে শুরু থেকে যে আমি তোমার বিরোদ্ধে গিয়েছিলাম। তারপর আমি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগেই তুমি কি করলে? নিজের আর reyan এর ছবি এডিট করে আমার মাথা বিগড়ে দিলে। তারপর সময় মত নিজে চুপ থেকে আমার মুখ দিয়ে মুক্তির কথা বলিয়েছো তারপর নিজের দুইরূপ দেখিয়ে আমাকে ফাসিয়েছো।

আরোশি হেসে চেয়ারে গা হেলিয়ে দেয়। এক হাত টেবিলের উপর রেখে আঙুলে কলম ঘুরাতে ঘুরাতে বলে

আরোশি: আপনি'ও তো আমায় ফাঁসাতে চেয়ে ছিলেন। পা*চার না করেও পাচারের অভিযোগে জেলে দিতে চেয়েছিলেন।

আবরার: এই ভুল টাই কি তোমার খোঁড়া কবরে জায়গা পাচ্ছে না?

আরোশি: না।

আবরার: কি না?

আরোশি: এইটা না, ওইটা অন্য টা।

এইবার আবরার অধৈর্য হয়ে যায়। যেইটা শুনতে চাচ্ছে সেইটা বলছেই না এই মেয়ে। কোন ভুল? কোনটা ধরে বসে আছে এই মেয়ে কে জানে। আবরার বড় শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলে

আবরার: তুমি এত পেচাচ্ছো কেন? ক্লিয়ার কথা বলো

আরোশি মুচকি হাসি মুখে রেখে উঠে আবরার এর সামনে দাঁড়ায়। হালকা ঝুঁকে আবরার এর বসা চেয়ারের দুপাশে নিজের দুই হাত রাখে। হঠাৎ এত কাছাকাছি আসায় আবরার হতভম্ব হয়ে যায়। নিজের মাথা পিছন দিকে নিয়ে তাকিয়ে আছে আরোশির দিকে। এইরকম একটা পরিস্থিতিতে উত্তর না দিয়ে এই মেয়ে আছে নিজের রঙে। আরোশি নিচু গলায় বলে

আরোশি: জানতে চান কেন সাইন দিয়েছি?

আবরার: হ-হম

আরোশি: আমি বলেছিলাম যতবার আপনি আমায় ভালোবাসার চেষ্টা করবেন ততবার আমি আপনায় ঘৃণার কারণ দিবো। দিয়ে দিলাম আরেকটা (চোখ টিপ দিয়ে)

আবরার অদ্ভুদ চোখে তাকিয়ে আছে আরোশির দিকে। সেই চোখের ভাষা আরোশির জানা নেই। ওহ অন্য দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সরে যেতে গেলে আবরার এক হাতে কোমর পেঁচিয়ে উঠে দাড়ায়। আরোশিকে টেনে নিজের কাছে এনে কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিস করে বলে

আবরার: হৃদয়হরণী এইভাবে কষ্ট দিও না তোমার মন্ত্রী সাহেবকে প্লীজ। তুমি ঘৃণার কারণ দিচ্ছ না বরং আমাকে শেষ করে দিচ্ছ।

আরোশির গা শিউরে উঠে কথা টা শুনে। কি যেন ছিল সেই কথার মাঝে। কেমন যেন ছিল সেই সুর। যেন অনেক আকুতি মিনতী, হতাশা, দুর্বলতা, ক্লান্তি। আরোশি আবরারকে আস্তে করে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় তারপর যেয়ে নিজের চেয়ারে বসে আবরার এর দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে চেয়ার ধোলাতে থাকে। আবরার এখনো দাড়িয়ে আছে। কাতর চোখে তাকিয়ে আছে তার অবাধ্য নারীর দিকে। আবরার জীব দিয়ে সূক্ষ্ম ঠোঁট ভিজিয়ে নরম কণ্ঠে বলে

আবরার: বলো না পাখি কি এমন করেছি যেইটা তুমি মাফ করতে পারছো না!

আবরার এর রাগে, দুঃখে মনে হচ্ছে গলায় কথা আটকে আসছে। বার বার ঢোক গিলছে। আরোশি এইবার চেয়ার নাড়ানো বন্ধ করে টেবিলের উপর দুই হাত রেখে বলে

আরোশি: আমাকে দিয়ে এখন কি করবেন বলেন! আপনার তো মাহিয়া আছেই।

আবরার: আমায় একটু বিশ্বাস করো প্লীজ।

আবরার অধৈর্য কণ্ঠে বলে। এত কাতর কন্ঠ ও যেন এইবার আরোশিকে গলাতে পারলো না। উল্টো কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হয়ে লাগলো। আরোশি রেগে টেবিলে হাত শব্দ করে থাপ্পড় দিয়ে দাড়িয়ে উচ্চ গলায় বলে

আরোশি: বিশ্বাস করিনা বলেই তো তোমাকে এতদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম "আপনি কি কিছু লকাচ্ছেন? এমন কিছু আছে যেইটা আমি জানি না তাহলে আমাকে বলেন" কিন্তু তুমি আমাকে বলোনি। আমি জানতে চাইনি? বলো!

আবরার একদম চুপ হয়ে যায়। শুধু আরোশির দিকে তাকিয়ে আছে। আরোশি রাগে গজগজ করছে। নিজেকে সামলাতে না পেরে টেবিলের এক সাইডে রাখা সব ফাইল সহ পানি ভর্তি একটা গ্লাস আর লেপটপ নিচে ফেলে দেয়। পরিস্থিতি বিগড়ে যাচ্ছে দেখে আবরার আরোশিকে শান্ত করার জন্য দৌড়ে ওর কাছে যায়। কিন্তু আরোশি আবরারকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আর চিল্লিয়ে বলে

আরোশি: বলছো না কেন? জিজ্ঞেস করিনি? বলো

আবরার: হ-হ্যাঁ

আবরার হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে নিচ দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। গলায় কথা আটকে আসছে। মনে হচ্ছে যেন গলায় কিছু চেপে ধরে আছে। আরোশি উত্তর শুনে যেনো একটু শান্ত হয়। আস্তে করে আবরার এর কাছে যেয়ে গালে হাত দিলে আবরার মাথা উঠিয়ে ওর দিকে তাকায়। দেখে আরোশির চোখে পানি টলটল করছে। পলক ফেললেই গড়িয়ে পড়বে। আবরার বড় শ্বাস নিয়ে নিজের ডান হাত বুকের বা পাশে রেখে বলে

আবরার: চোখ থেকে যেনো পানি না পরে।

আরোশি: কেন করলেন এমন? কেন কষ্ট দিচ্ছেন আমায়?

আবরার:_____

আরোশি: আপনি মাহিয়ার সাথে ওই অবস্থায় ছিলেন ছবি গুলো আমি দেখানোর পর'ও আপনি এক্সপ্লেইন করার প্রয়োজন মনে করলেন না?

আবরার: আমি--

আরোশি: আমি এই বিষয়টা মেনে নিতে পারছি না যে আমার সখের পুরুষ অন্য নারীর সাথে ছিল, অন্য নারীতে মজে ছিল। আমি আপনার ভালোবাসা চাইনি, আমি তো আপনাকে চেয়েছিলাম জান। আপনাতেই আমি সন্তুষ্ট। খুব বেশি কিছু চেয়েছি? আপনি কেন করলেন এমন? আমি না বলার পর'ও আপনি ঐখানে গিয়ে ছিলেন এই জন্যই তাইনা? ধোঁকা দিলেন আমায়? কি ভাবে মাফ করবো? আমি আপনায় সময় দিয়ে ছিলাম সব কিছু বলার কিন্তু আপনি! আগের থেকেই আপনাদের সম্পর্ক ছিল তাই না? আপনারা আগেও ঐসব করে--

আবরার রেগে আরোশিকে আর কিছু বলতে না দিয়ে তার গালে রাখা আরোশির হাত সরিয়ে ওকে অফিসের সেই কাঁচের দেয়ালের সাথে পিন করে। আবরার নিজের এক হাত আরোশির মাথার সাইডে কাচে ভর দিয়ে আরেক হাত দিয়ে শক্ত করে আরোশির দুহাত পিছন দিয়ে চেপে ধরে। সেই এক হাতের শক্তির সাথেই আরোশি পেরে উঠে না। আবরার কিছুক্ষন বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে বলে

আবরার: আমার জীবনে তুই প্রথম ও শেষ নারী যার প্রতি আমি দুর্বল, মোহিত। যার দৃষ্টি আমায় এলোমেলো করে দিতে সক্ষম। এক সময় যাকে এক নজর দেখার জন্য আমি রাত জেগে সকলের ঘুমানোর অপেক্ষা করতাম। যার সাথে সময় কাটানোর জন্য আমি সব কাজ পিছনে ঠেলে দিতাম। আমি তোর জন্য শুরু থেকেই পাগল ছিলাম হৃদয়হরণী। কিন্তু তোর মত প্রকাশ্যে পাগলামি করতে পারতাম না কারণ আমার অনেক কিছু ভেবে চিন্তে করতে হতো। তোর মত বেপরোয়া খোলা পাখি ছিলাম না। কষ্ট হতো, অনেক যন্ত্রনা হতো তবুও প্রকাশ করতে পারতাম না। নিজের ইচ্ছায় কিছু করতে গেলেও মায়ের জন্য পারতাম না। আমার পুতুল ছিলি তুই, যেই পুতুলকে নিজের বউ করে সাজানোর স্বপ্ন দেখতাম। আমার রাজ্যের রানী তুই, সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার উপায় তুই, সব অশান্তির মাঝে শান্তিতে শ্বাস নেয়ার কারণ তুই। আবার সেই তুই শান্তির ঘুম কেড়ে নিয়ে অশান্তি, অবাধ্য নারী তুই। আমি অনেক চাই তোকে আরোশি। সেই শুরু থেকে চাই। অনেক কিছু আছে যা তুই জানিস না।

আরোশি কিছুক্ষন স্তব্ধ হয়ে আবরার এর দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর আস্তে করে বলে

আরোশি: সব মিথ্যে

আবরার চোখ বন্ধ করে আরোশির সাথে নিজের কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলে

আবরার: মরে যাবো আমি হৃদয়হরণী। একদম শেষ হয়ে যাবো। এমন করোনা প্লিজ।

আরোশি: অনেক কিছু কি যেইটা আমি জানি না?

আবরার: অন্য সময় বলবো এখন শুধু আমি চাই তুমি আমায় বিশ্বাস করো। ওই ছবি গুলো মিথ্যা।

আরোশি: আপনি আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন?

আবরার এইবার মাথা উঠিয়ে আরোশির চোখের দিকে তাকিয়ে বলে

আবরার: কোন বিষয়!

আরোশি: মামার বিষয়। আমি যে মামাকে মারিনি এই বিষয়!

আবরার: কিভাবে কথার জালে আটকাতে হয় তোমার থেকে কেউ শিখুক। আমার করা কাজে আমাকেই শেষ করে দিচ্ছ!

আরোশি: আপনি আশা করেন কি করে আমি আপনায় বিশ্বাস করবো? বের হন আমার অফিস থেকে নয়তো গার্ড ডাকতে বাধ্য হবো। (কাটকাট গলায়)

আবরার আকস্মিক হয়ে তাকিয়ে আছে। কি বলবে বুজতে পারছে না। আরোশি তাকে বের করে দিচ্ছে? এই মেয়ের চোখে সে এতই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে এখন এই মেয়ে তার কথা গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন'ই মনে করে না! এখন তো তার কাছে নিজেকে শেষ করে দাওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তা দেখছে না। আবরার ঢোক গিলে বলে

আবরার: এতই যদি ভালোবাসো তাহলে তুমি কেন নিজের মতো করে সব যাচাই করলে না?

আরোশি: কারণ আমি তোমার মুখে শুনতে চেয়েছিলাম। তোমাকে বিশ্বাস করতে চেয়ে ছিলাম। তখন নিজের ইচ্ছায় যাচাই করে যদি এইসব সত্যি হতো তখন আমার কি হতো? আর যদি মিথ্যা হতো তখন তুমি আরোশির ভালবাসায় আঙ্গুল তুলতে যেইটা আমি চাইনা। যা হয়েছে ভালো হয়েছে আর যা হবে ভালই হবে। তুমি আসতে পারো

আবরার: তাহলে এখন করছো না কেন! আমি তোমার ভালবাসায় তুলবো না আঙুল (ব্যাকুল হয়ে)

আরোশি: আপনার বলতে সমস্যা হলে আমার যাচাই করতে'ও সমস্যা। হিসাব বরাবর। আপনার মত ছেলে কত কিছু করে বেড়ায়।

বলে আরোশি যেয়ে নিজের চেয়ারে বসে। আবরার কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে। "আপনার মত ছেলে" কথা টা কত খারাপ ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে এইটা আবরার এর বুজতে সমস্যা হয়না। সে'ও তো আগে এইটা বলতো আরোশিকে। আরো কত কথা শুনিয়েছে আরোশির চরিত্র নিয়ে। যেগুলো সব তার অবাধ্য নারী মাফ করে দিত। কিন্তু সে বিয়ের আগে যা বলতো কোনোটাই মন থেকে বলেনি। সে শুধু আরোশিকে নিজের থেকে দূরে রাখার জন্য বলতো। কিন্তু তার জানা ছিল না খুব গভীর কাছের কেও কথা গুলো বললে শুনতে এত খারাপ লাগে। আজ পছন্দের মানুষ না বললে হয়তো জানতোই না। বিয়ের পর যা কথা শুনাতো সব রাগের মাথায় বলতো আর এখন এইটাই তার ধ্বংস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবরার দুই হাতের তালুতে মুখ ঘষে নিজেকে সামলিয়ে নিচু সুরে বলে

আবরার: ঝড়, বর্না দুটোই পরিবেশকে এলোমেলো করে পার্থক্য শুধু তাদের ধ্বংস করার তরিকা।

(আশা করি তোমরা জানো কে "বর্না" আর কে "ঝড়")

আবরার কথা টা বলে আর এক মিনিটও দাঁড়ায় না সোজা হেঁটে চলে যায়। আরোশি কিছুক্ষণ সেই যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে টেবিল থেকে ফোন হাতে নিয়ে আলিফকে ফোন করে বলে

আরোশি: সেদিন মাহিয়ার বার্থডে পার্টিতে রাতে কি কি হয়েছিল সব ইনফর্মেশন আমার চাই। সবকিছু জেনেই আজকে আমি বাড়িতে পা রাখবো তাই যা করবে তাড়াতাড়ি করো।

।

।

।

।

রাত 10:34,,,,

আরোশি অফিস থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দেয়। সোজা বাড়িতে যাবে এখন। আরো পরে যেতো কিন্তু পরিস্থিতির শিকার। আবরার অফিস থেকে যাওয়ার পর লাপাত্তা হয়ে গিয়েছে। আরোশি খোজ নিয়ে'ও কোনো খবর পাচ্ছে না। ওহ ভয়ে আছে আবরার উল্টাপাল্টা কিছু করবে নাতো নিজের সাথে। আরোশির কানে শুধু বাজছে আবরার এর বলা "মরে যাবো আমি হৃদয়হরিণী। একদম শেষ হয়ে যাবো। এমন করোনা প্লিজ" কথাটা। এই চিন্তার মাঝে আবার হাই কমান্ড থেকে পলিটিক্স কিছু ব্যাপারে নোটিস এসেছে সেইটার জন্য কাল মিটিং। আবার চিফ প্রসিকিউটর এর সাথে দেখা করতে হবে সাথে মিনিস্টার এর সাথে লিলির কেসের ব্যাপারে কিছু কথা আছে। এই সব কিছুর মাঝে আগুনের মধ্যে পেট্রল হয়ে আবিরের কল আসে। সেই কল আরোশির মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়। মনে পড়ে যায় মাহার চুপ থাকার দৃশ্য। একটা বাজে গালি দিয়ে কয়েকবার শ্বাস ফেলে নিজেকে সামলিয়ে ফোন ধরে। নিজে কিছু বলার আগেই আবির অধৈর্য কণ্ঠে বলে

আবির: সব কিছু ঠিক ঠাক করে এসেছো তাই না? আমি জানি তুমি থাকতে কোনো চিন্তা নেই। আমি ভাবছি বিয়েতে---

আরোশি: মাহার সাথে তোমার কথা হয়নি? (গম্ভীর সুরে)

আবির: না। কেন কি হয়েছে?

আরোশি: মেয়ে শুধু সুন্দর হলে চলবে না। কলিজায় সাহস থাকতে হয়।

আবির: মানে?

আরোশি: যার পরিবারের সামনে ভালোবাসা স্বীকার করার সাহস নেই সে ভালোবাসার মানুষ কে হাসিল করে সারা দুনিয়া কে জানাবে কি করে? তোমার maha ভীতু। ওই মেয়ে না পারে মানতে, না পারে স্বীকার করতে। ঐখানের পুরো পরিস্থিতি ওর হ্যাঁ, না এর উপর ছিল কিন্তু --- যাইহোক আমি এই বিষয় কথা বলতে চাইনা। মাথা আমার এমনি গরম তাই তোমার জানতে ইচ্ছে করলে প্রেমিকার থেকে শুনে নাও।

বলে ফোন কেটে দিলো আরোশি। তখনই আলিফ ফোন করে। সেইদিন মাহিয়ার বার্থডে পার্টিতে কি কি হয়েছে সব বলে। সব শুনে আরোশি কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। তারপর আচ্ছা বলে ফোন কেটে দেয়।

কিছুক্ষন চুপ চাপ ড্রাইভিং করে আবারো ফোন নেয় হাতে। আজমুল সাহেব এর নাম্বারে কল লাগায় আরোশি। কয়েক বার রিং হওয়ার পর ফোন ধরে সে কিছু বলার আগেই আরোশি বলে

আরোশি: বড় আব্বু আমি না থাকলে'ও আবিরের বিয়ে যেনো না থামে।

আজমুল: মানে! কোথায় যাবে তুমি?

আরোশি: সামনে একটা ধামাকা হবে সেই সিগন্যাল দেখে বুঝে যাবে আমি ধরে ফেলেছি সেই অদৃশ্য মানুষটাকে

আজমুল: জানতে পেরেছো কিছু?

আরোশি: অনেক কিছু। আপাদত এইটা আমার পর্যন্তই থাকুক।

আজমুল: আমি শুধু চাই তুমি সুস্থ থাকো

আরোশি: তোমাদের জন্য একটা চমক নিয়ে বাড়ির উঠানে পা রাখবো। রাখি (বাকা হেসে)

কল কেটে আরোশি নিহাদ কে ফোন করে। প্রথম লাইন কেটে গেলে আবার কল লাগায়। রিসিভ করতেই আরোশি বলে

আরোশি: what's up bro?

নিহাদ: বাল

আরোশি খেয়াল করে নিহাদের পাশ থেকে অদ্ভুল গুঙ্গানোর আওয়াজ আসছে সাথে ছুরি স্লাইজ করার শব্দ আসছে।

আরোশি: কি করছো?

নিহাদ: লা*শ কাটি (গম্ভীর সুরে)

আরোশি: ওহ হো ভুল টাইমে ফোন করেছি তাহলে

নিহাদ: yes baby

আরোশি: whatever,,, একটা কথা জানার ছিল

নিহাদ: কি বল

আরোশি: আনান যেনো কোথায় আছে বর্তমান?

নিহাদ: কেন তোকে না বললাম

আরোশি: আবার বললে সমস্যা কি?

নিহাদ: সিঙ্গাপুর। সেইদিন না হসপিটালে বললাম

আরোশি: তাহলে আন্টি (আনানের মা) সেইদিন আমেরিকা আছে এইটা বললো কেন? তোমরা আমার মাথা এলোমেলো করছো কেন?

নিহাদ: আরে বোকা আনান এর ফ্যামিলি আমেরিকা থাকে। আনান ঐখানে যাওয়ার পর তাদের হটাৎ হঠাৎ সিঙ্গাপুর'ও আসা যাওয়া হয় ছেলের জন্য। যেহেতু আনান এর বাবাও বিজনেস করে তাই আনান এর আসা হয় আমেরিকা বিজনেস এর বিষয় তাই হয়তো আন্টি তোকে ওইটা বলেছে। হয়তো ওই সময় আনান আমেরিকা ছিল। কিন্তু এখন সিঙ্গাপুর'ই আছে।

আরোশি: ওহ্ আচ্ছা (বাকা হেসে)

নিহাদ: কেন কি হয়েছে!

আরোশি: লিলির কাছে কল এসেছিল একটা অচেনা নাম্বার থেকে আর সেইটা এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে।

নিহাদ: তুই কি আনানকে সন্দেহ করছিস?

আরোশি হেসে দেয় কথা টা শুনে। ওপর পাশ থেকে নিহাদ একদম চুপ। আরোশি কথা ঘুরিয়ে বলে

আরোশি: আমি কিছুদিনের জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছি।

নিহাদ: কারণ?

আরোশি: অপেক্ষা করো জানতে পারবে

নিহাদ: একা যাবি?

আরোশি: হম

নিহাদ: নিজের যত্ন নিস।

আরোশি: আমার অনুপস্থিতে আমার পুরো বিজনেস তোমার উপর মিস্টার নিহাদ শিকদার।

নিহাদ: i will take care of it, sweetheart..

চলবে,,,,,

[ All clear? ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন