#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৬৭
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
আবরার কিছুক্ষন চুপ থেকে আবার বলে
-: কিন্তু একটা সময়, দিন যত যাচ্ছিল তোমাকে হারানোর ভয় আমার তত বাড়তে থাকে। শেষে না পেরে মায়ের কাছে যাই আর বলি আমি সারাকে না আরোশি কে বিয়ে করবো। কিন্তু তখন তোমাকে নিয়ে মা আজেবাজে কথা বলে। আর সরাসরি না করে দেয়।
আমার খুব রাগ লাগে। ইচ্ছে করেছে সব শেষ করে তোমাকে কোথাও নিয়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু তুমি তখন ছোট। স্কুলে পড়ো মাত্র। সব রাগ তোমার উপর যায় আমার। তোমার জন্যই আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। হারানোর ভয় লাগে। না দেখলে পাগল লাগল লাগে। তুমি কি এমন করেছিলে! তাই রেগে সেইদিন তোমাকে ধাক্কা দেই। পরে আবার নিজেই তোমার হাতে মলম লাগিয়ে দেই। নিজের থেকে দূরে রাখার জন্য তোমাকে প্রতি নিয়ত অপমান করতে থাকি। যেইদিন তুমি এসে ভার্সিটিতে নিজের মনের কথা বললে সেইদিন তোমাকে অপমান আর চর মেরেছি শুধু নিজের থেকে দুর করতে। পরে যতবার মনে করেছি ততবার আমার ভিতর জ্বলে যাচ্ছিল। নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে হয়েছে। জানো আমি মায়ের পায়ে ধরে তোমাকে ভিক্ষা চেয়েছিলাম তবুও মা মানেনি। আমি তারপর সব ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছি। তুমি ও দেখতাম পরিবর্তন হয়ে গেলে। স্কুল থেকে এসেই বাবার সাথে চলে যেতে আমার কাছে আসতে না। আগের মত মিশতে না সেদিনের পর থেকে। বছরখানেক পর জানলাম তুমি রাজনীতি করতে চাও বাবার সাথে। আর এইটা তোমার স্বপ্ন। আমার এইটা একদম পছন্দ হয়নি কারণ বাবার কথা তো তোমায় বলেছিলাম'ই। রাজনীতি আমার শত্রু। মা ও তোমার বিষয় আরো অনেক কথা ঢালতে লাগলো আমার কানে। আমাকে বলে তোমাকে আমি বিয়ে করলে পরে আফসোস করবো কারণ তুমি ভালো মেয়ে না। আমি সেইদিন ও তোমার জন্য লড়াই করি। তর্ক করে মাকে বলি আমার তোমাকেই চাই। তুমি ওরকম মেয়ে না যেমনটা মা ভাবে। কিন্তু যেইদিন ফুপা এসে জানালো তুমি নিজের মামাকে মেরে ফেলেছো রাজনীতির জন্য সেইদিন আমার পুরো পৃথিবীটা যেনো মাথার উপর ঘুরছিল। বারবার ভাবছিলাম তুমি কি সেই মেয়ে যাকে আমি মনপ্রাণ দিয়েছিলাম? যার জন্য আমি মায়ের সাথে লড়াই করছিলাম? সেইদিন মা আমাকে বলে "বলেছিলাম না আরোশি ভালো মেয়ে না" সেইদিন আমার মাথা নিচু হয়ে যায়। তোমার প্রতি আমার ঘৃণা আরো বাড়ে। সেই ঘৃণা আমার অনুভুতি গুলো ঢেকে দেয়। সবাই জানে আমি মায়ের কথা ফেলি না। কিন্তু আমি লড়াই করেছি তোমার জন্য আরোশি। তবে আমি তোমাকে হাসিল করতে না পারলেও তুমি সবার বিরুদ্ধে গিয়ে বরং আমার বিরুদ্ধে গিয়ে'ও আমায় হাসিল করেছো। আর দেখো আজ তুমি নির্দোষ আর সকলে ভুল।
সব শান্ত। দুইজনের একজন'ও কথা বলছে না। আবরার কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে
আবরার: আমার অনুভুতি'ও ছিল কিন্তু সেইটা তোমার মত প্রকাশ পায়নি। আমাকে আজও কেউ বুঝেনি আর না বুঝেছে আমার চাওয়া পাওয়া। আরোশি আমার জীবনে আসার জন্য তোমাকে হাজার বার ধন্যবাদ দিলেও কম।
আরোশি খুব মনোযোগ দিয়ে আবরার এর প্রতিটা কথা শুনলো। আরোশির মতে এইখানে আবরার এর কোনো দোষ নেই। আবরার'ও ওকে ভালোবেসেছে শুধু অনুভুতি টা কিসের তা বুজতে পারেনি। ওর করা প্রতিটা কাজ আবরার কে আরো দূরে ঠেলে দিয়েছে। কষ্ট শুধু আরোশি একা পায়নি আবরার ও পেয়েছে। কে বা চায় তার সখের মানুষটা খারাপ হোক! হাজারো অপবাদের মুখোমুখি হোক! আবরার ও লড়াই করেছে ওকে নিজের করে পাওয়ার জন্য। আরোশিকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে সে নিজেই চটপট করেছে। প্রণয়ের আগুনে পুড়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। রাগের মাঝে আমরা কত ভুল সিদ্ধান্ত নেই আর ঘৃণার মাঝে আমরা কত ভালো মানুষ কে'ও ভুল বুঝি। আরোশি জানে রোশনারা খুব সাংঘাতিক ভাবে ব্রেইন ওয়াশ করতে পারে আর আবরার কে তো প্রতি নিয়ত করতো। যারা এইটার সমন্ধে জানে তারা জানে এইটা কত সাংঘাতিক।
আবরার: কিন্তু আমি আজ'ও জানি না মায়ের তোমার উপর এত কেন অপছন্দতা।
আরোশি শ্বাস ফেলে এইবার বলে
আরোশি: কিছু মানুষ আছে যাদের অন্যকে অপছন্দ করতে কোনো কারণ লাগে না। তারা শুরু থেকেই কিছু মানুষকে কারণ ছাড়াই অপছন্দ করে।
আবরার: হ্যাঁ হয়তো মা ও ঐরকম।
আরোশি: বেচারি। ব্রেইন ওয়াশ করা ব্যাক্তি জেলে এখন ড্রেইন ওয়াশ করছে।
আবরার হেসে দেয় আরোশির কথায়। কফি শেষ করে গ্লাস রেখে আরোশির কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে। আরোশি চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে
-: ঘুম হয়নি?
আবরার: হয়েছে কিন্তু এইরকম সুযোগ হাত ছাড়া করতে নেই। বউয়ের পায়ে মাথা রেখে শুয়ার মজাই আলাদা।
আরোশি মাথা নিচু করে আবরার এর কপালে ঠোট ছুঁয়ায়। আবরার চোখ বন্ধ করে রাখে। আরোশি সরতেই চোখ খুলে বলে
-: এইবার আমি একটা প্রশ্ন করি!
আরোশি: জ্বী অবশ্যই
আবরার: সবসময় কালো পড়ো কেন? অন্য রঙেও তো নিজেকে রাঙাতে পারো।
কথা টা শুনে আরোশি বাকা হেসে বলে
আরোশি: কালো রঙ সাংঘাতিক একটি রঙ। মাথায় হলে চুল, পোশাক হলে আকর্ষণীয়, কাজল হলে মোহনীয়, তিল হলে সুন্দর্য, কপালে লাগলে টিপ, জামায় লাগলে ময়লা, গায়ে লাগলে কুৎসিত, আর চরিত্রে লাগলে কলঙ্ক। এই রঙ বাকি রঙের মত রঙ বদলায় না, মন্ত্রী সাহেব বরং পুরো মানুষটাকে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
আবরার: হম বুজতে পেরেছি আমার বুদ্ধিমতি।
আরোশি: কত নামে যে আপনি আমায় ডাকেন। হিসেব নেই
আবরার: তবে সব নাম "অবাধ্য নারী" এর কাছে হার মানায়।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
??: আরোশি বেঁচে আছে কিভাবে? (রেগে)
??: বাঁচার তো কোনো কথা না। আমার মাথা ও কাজ করছে না। এক্সিডেন্ট তো অনেক ভালো ভাবে করিয়ে ছিলাম।
??: ওইটা আরোশির গাড়ি ছিল নাকি অন্য কারো?
??: আমি 100% সিওর ওইটা আরোশির গাড়ি ছিল। আর চৌধুরী বাড়ির সবাই নিজের চোখে লাশ ও দেখেছে।
??: তাহলে এইটা কে? কি হচ্ছে! এইটা কি আরোশি না? (অধৈর্য কণ্ঠে)
??: এর মাঝে কোনো না কোনো ঝামেলা আছে যেইটা আমাদের চোখে লাগছে না। আমি নিজে ওর এক্সিডেন্ট করিয়েছি সাথে চৌধুরী বাড়ির সবাই আরোশির বডি দেখেছে। আমার মনে হয় এইটা আরোশি না।
??: এই মেয়ে অনেক চালাক। কোনো না কোনো একটা বিষয় আছে যেইটা আমাদের চোখে পড়ছে না। আমি শুধু ওকে জেলে দেখতে চাই। আমার মাথা কাজ করছে না। আমি ওর পুরো পরিবার এলোমেলো করে দিয়েছিলাম আর এখন ওহ নিজেকে দিয়েই আমায় এলোমেলো করছে।
??: আচ্ছা মাথা ঠান্ডা করো। পার্টিতে দেখা যাক কি হয়।
(সারার বাবা তো মরে'ই গিয়েছে তাহলে এইটা কে বলো? আর আরেক জন কি আসলেই আনান? You know anything can happen 🤷)
॥
॥
॥
রাত 12:05,,,,
সকলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে যার যার রুমে চলে গিয়েছে। আবরার আর আরোশি'ও নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়ে। আবরার আরোশিকে জড়িয়ে ধরে বলে
আবরার: বউ
আরোশি: yes my love !!....
আবরার হালকা হেসে গলার সুর নিচু করে বলে
আবরার: চলো রাতটাকে মধুর করি
আরোশি: মধু নিয়ে ছাদে বসে থাকেন মধুর রাত হবে।
আবরার: আমার মধু তো তুমি'ই। এমন ব্যক্তিগত মধু থাকতে অন্য মধুতে আমি মুখ দেইনা।
আরোশি: ছেহ্, কি লাগামহীন কথাবার্তা।
আবরার কিছু বলার আগেই তার ফোনে একটা sms আসে। ফোন হাতে নিয়ে দেখে সেই অচেনা নাম্বার থেকে এসেছে
Sms-: আরোশির থেকে দূরে না থাকলে পাখি আবার উড়িয়ে দিবো।
আবরার sms টা কিছুক্ষন দেখে তারপর বিড়বিড় করে বলে
-: তাহলে পাখিকে'ই দেখিয়ে দেই
বলে আবরার আরোশির হাতে ফোন টা ধরিয়ে দিয়ে আবারো জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে। আরোশি এক এক করে শুরুর থেকে সব sms পড়ে তারপর ফোন বন্ধ করে পাশে রেখে দেয়। অনেকক্ষণ ওদের মাঝে নীরবতা স্থায়ী থাকে হটাৎ আরোশি অনুভব করে গলার কাছে ভেজা লাগছে। ওহ তাড়াতাড়ি আবরারকে শক্ত করে ধরে বলে
আরোশি: আরে জান কাদছেন কেন? আচ্ছা ঠিক আছে চলুন মধুর রাত করি।
আবরার: আরোশি আমি তখন লিলির সুই*সাইড আর মাহিয়ার ঐসব কাজকর্মের কারণে অনেক ডিস্টার্ব ছিলাম। আমার শরীলে ড্রাগস দাওয়া হয়েছিল তাই সেইরাত না বুঝে অনেক কথা বলি তোমায়। পরে মাহিয়ার বিষয় টা আমি তোমাকে বললে ভেবে ছিলাম তুমি আমায় ভুল বুজবে কারণ তুমি আমাকে অনেক বার বলেছিলে মাহিয়ার বার্থডে তে না যেতে। পরে আবার এইসব sms আসা শুরু করলো। লিলি কে তুমি না বরং এই sms এর ব্যাক্তি মেরেছে। তুমি তো sms এ দেখলেই এখন। আমি তোমাকে বললে ওই ভিডিও গুলো ছেড়ে দিবে তখন পুরো চৌধুরী বাড়ির সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে। এইসব ভার নিতে না পেরে বাবা স্টোক ও করতে পারে আবার রিমা আর রিফা নিজেকে শেষ করে দিতে পারে। আমার ছোট একটা ভুলে সবার জীবন তছনছ হয়ে যাক আমি চাইনি তাই বলিনি। কিন্তু আমি বুজতে পারিনি আমার চুপ থাকা তোমার উপর প্রভাব পড়বে। বিশ্বাস করো আমি সাহস টা পাচ্ছিলাম না তোমাকে বলার। এখন যেমন আমি জানি তোমাকে বললেই এর সমাধান তুমি বের করতে পারবে। আজ আমি দেখেছি আমার আরোশি কত বুদ্ধিমান। কিন্তু তখন আমি তোমার উপর প্রেসার দিতে চাইনি। আমি এইটা ও চাইনি তোমার খোরা কবরের আকারের চেয়ে বড় ভুল হোক যে তোমার সেইটা মাটিচাপা দিতে কঠিন লাগুক। আমার জায়গায় একটু নিজেকে রেখে দেখো। আমি ভুল ছিলাম না। তবুও প্লীজ মাফ করে দাও বউ। আমি আর কোনো ভুল করবো না।
আরোশি আবরার এর কপালে চুমু খেয়ে বলে
আরোশি: করে দিলাম মাফ। আমি তো শুধু আপনার মুখ থেকে শুনতে চেয়ে ছিলাম। আগে যদি বলে দিতেন তাহলে এত শাস্তি পেতে হতো না। এখন চোখের পানি ফেলা বন্ধ করেন। ছেলেদের কাদতে নেই আর আমার সাহেব কে তো আরো কাদতে নেই।
আবরার হেসে চোখ মুছে আরোশির গালে ঠোট ছুঁয়ে বলে
আবরার: তুমি আমাকে এমন বানিয়ে দিয়েছো। শক্ত, গম্ভীর আবরার এখন বউয়ের সামনে কাদছে। ছেহ্ মার্কা নৌকার জীবন। যাইহোক, মাফ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে অবাধ্য নারী।
আরোশি: ওয়েলকাম আমার মন্ত্রী সাহেব।
আরো কিছুক্ষন নীরবতার পর আবরার বলে
-: বউ শুনো
আরোশি: জ্বী
আবরার: আমি তোমায় ভালোবাসি
আরোশির থেকে আর কোনো সাড়া শব্দ আসে না।
আবরার মাথা উঠিয়ে তাকিয়ে দেখে আরোশি একদম স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। আবরার আরোশির রিয়াকশন দেখে হেসে দেয় তারপর গালে চুমু খেয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে আবার বলে
~"ভালোবাসি"
সাথে সাথে আরোশি চোখ বন্ধ করে দেয় আর চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। আবরার নিচু হয়ে সেইভাবেই আরোশির চোখে চুমু খায় তারপর কপালে চুমু খেয়ে বলে
আবরার: চলো তোমাকে আজ ভালোবাসি বলতে বলতে ভালবাসবো। ভালোবাসি বলতে বলতে ভালোবাসার রাজ্যে নিয়ে যাবো। যেইখানে শুধু তুমি আর আমি। আবরার রিয়াদ চৌধুরী আর তার বউ আরোশি রিয়াদ চৌধুরী।
বলে আরোশি কে র কিছু বলতে না দিয়ে ওষ্ঠের সাথে ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয়। আবারো দুজন চাতক পাখির মিল হয়। আকাশের চাঁদের আলোয় একজন পুরুষ তার নারীকে ভালবাসায় রাঙাতে ব্যাস্ত। আরেকজন অসহ্যকর সুখে নিজেকে মুড়িয়ে নিতে ব্যাস্ত। দুজনের নিশ্বাসের শব্দ আর একে অপরের উত্তাপ বলে দিচ্ছে একজন আরেকজন কে ছাড়া অসম্পূর্ণ।
।।।
।।।
।।।
।।।
পরেরদিন সকলে নাস্তা করতে বসেছে সবাই। আজমুল সাহেব ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই ডাইরেক্ট টিভির সামনে বসেছে। সেইখানেই তার নাস্তা দিয়েছে। কাল আরোশি এসেছে মানেই আজকের খবর হবে জমজমাট। নাস্তা খাচ্ছে আর ভলিউম বাড়িয়ে নিউজ শুনছে। টিভিতে বলছে আজ সকাল ভরে তদন্ত বাহিনী কর্মকর্তারা পনেরো টা ডেড বডি পেয়েছে পনেরো টা আলাদা আলাদা জায়গা থেকে। কাড়া করেছে কেউ জানে না আর জানলেও কারো টু শব্দ করার সাহস নেই এইটা জানা কথা। নিউজ টা শুনে সকলে আরোশির দিকে তাকায় যে নিশ্চিন্তে নাস্তা করছে যেন কিছুই হয়নি। সকলের মনের প্রশ্ন আবরার রুটি নিতে নিতে করে ফেলে
আবরার: এত মারো যে কেস হয়না তোমার উপর?
আরোশি: আমি মেরেছি প্রমাণ কি?
ব্যাস সব চুপ। সবাই বুঝে যায় নিশ্চুপ লাশ পড়ে রাতের আধারে। ক্ষমতা থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব না। ভয়ানক অপরাধ করে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয় এরা। এইটাই রাজনীতি। নাস্তা শেষ করে আরোশি নিজের কাজে বেরিয়ে পরে।
⭐
এইভাবেই তিনদিন চলে যায়। সব ঠিক মত চললেও একটা নতুন নিয়ম হয়। আরোশি পাঁচশো গার্ড দিয়ে পুরো চৌধুরী বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে। বাড়ির থেকে ওর পারমিসন ছাড়া বের হওয়া নিষেধ। যে ইচ্ছে ডুকতে পারবে কিন্তু বেরোতে গেলে আরোশির অনুমতি লাগবে। পার্টির আগ পর্যন্ত এই নিয়ম চলবে। কেউ আর কোনো প্রশ্ন করে না। সবাই অপেক্ষায় আছে পার্টির।
পার্টির আগের দিন রাতে সবাই ডিনার করে যার যার রুমে চলে যায়। আরোশি রুমে যেতেই দেখে রুম অনেক ঠান্ডা। তখনই নাকে হাসনাহেনা ফুলের গ্রান বারি খায়। চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস নিতে গেলেই অন্য আরেক ফুলের সুবাস পাচ্ছে। ওহ বুজতে পারে নানান রকমের ফুল আছে এইখানে তাই এমন হচ্ছে। চোখ মেলে দেখে অন্ধকার রুমে কালারিং ক্যান্ডেল জ্বালিয়ে রাখা জাগায় জাগায়। সেই ক্যান্ডেল এর পাশেই নানান ধরনের ফুল রাখা। একেক মোমবাতির পাশে একেক ধরনের ফুল। আরোশি অবাক হয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে আরেকটু সামনে যায় তখনি দরজা বন্ধ করার শব্দ আসে। ওহ পিছনে তাকানোর আগেই কেউ পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর সামনে একটা গাঢ় রঙের কাটগোলাপ ধরে। আরোশি জানে এই ব্যক্তিটা কে। এই ভাবে ধরার অধিকার একজনের'ই আছে। আরোশি মুচকি হেসে কাটগোলাপ টা নিয়ে চোখ বন্ধ করে নাকের কাছে ধরে। তখন'ই কানে ফিসফিস করে শুনে
~"Happy One Year marriage anniversary my wifey"
আরোশি সাথে সাথে চোখ খুলে তাকালো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে 12:03 বাজে। ওহ আবরার এর দিকে ঘুরে তাকায়। আবরার এর পরনে কালো জিন্স প্যান্ট আর সাদা শার্ট। হাতা ফোল্ড করে উপরে উঠিয়ে রেখেছে সাথে বুকের কাছের দুটি বোতাম খোলা। এই ছেলের অজান্তেই তার জন্য আরোশি একদিন নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে। রূপের বাহার নিয়ে এসেছে। রাতের বেলা এইরকম ঝড় উঠানোর কোনো মানেই হয়না। এইজন্যই তো সব মেয়ে এই পুরুষের পিছনে পরে থাকে। যত্তসব বস্তি তামাশা। আরোশি শ্বাস ফেলে অবাক হয়ে বললো
আরোশি: আপনার মনে আছে?
আবরার একই ভাবে আরোশির কোমরে হাত রেখে বললো
আবরার: তুমি কি ভেবেছো শুধু তোমারই মনে থাকবে!
আরোশির চোখে পানি টলটল করছে। চওড়া হেসে আবরারকে জড়িয়ে ধরে বলে
আরোশি: thank you so much এত কিছু করার জন্য। আমার জীবনে আসার জন্য। আমাকে সহ্য করার জন্য। আমাকে ভালবাসার জন্য। আরেকটা thank you আমাকে বিয়ে করার জন্য মন্ত্রী সাহেব
আবরার: এইগুলো তো আমার বলা উচিত ছিল।
বলে আবরার হেসে দেয়। আরোশি সেই হাসির দিকে তাকিয়ে থাকে। একটা ছেলের হাসি ও এত সুন্দর হয়? না না! বরং দেখার নজর সুন্দর হলে সেই মানুষটার সব কিছুই অসম্ভব সুন্দর লাগে। আরোশিকে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আবরার হাসি থামিয়ে বলে
আবরার: কি দেখো এইভাবে?
আরোশি: আপনি আমার কাছে বিশ্বের সব চাইতে সুদর্শন পুরুষ।
আবরার: তাই! কি এমন যে দেখো তুমি আমার মাঝে আল্লাহ জানে।
আরোশি: আমার চোখে আপনি কতটা সুন্দর সেইটা দেখার জন্য যদি আমি আপনাকে চোখ খুলে দিতাম তবে বুজতেন। আমার নজর দিয়ে যদি নিজেকে দেখতেন তবে বুঝতেন আপনি কতটা সুদর্শন।
আবরার আর কিছু বলে না শুধু আরোশির দিকে তাকিয়ে থাকে। আরোশি ও চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে। হটাৎ আবরার ওকে ছেড়ে ওয়াশরুম এ যেয়ে হাতে দুইটা সপিং ব্যাগ আনে। একটা ছোট আরেকটা বড়। বড়টা আরোশির হাতে দিয়ে বলে
আবরার: আমি অপেক্ষা করছি এই ব্যাগে যা যা আছে পড়ে রেডি হয়ে আসো
আরোশি: কি এইটা! (ব্রু কুচকে)
আবরার: যাও তো বউ। পড়তে পড়তে বুঝে যাবা কি।
আরোশি আর কিছু না বলে ব্যাগ নিয়ে ওয়াশরুম এ চলে যায়। অনেকক্ষণ পর বেরিয়ে আসে। A আবরার একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। কিছুক্ষন পর ওয়াশরুম এর দরজা খোলার আওয়াজে সাথে সাথে তাকায়। আরোশির পরনে ডার্ক রেড কালার জর্জেটের শাড়ি। শাড়ীতে কোনো কাজ নেই, এক রঙের শাড়ি। শাড়িটা চিকন ফিতার ব্লাউজ এর সাথে পড়েছে তাই পুরো ফর্সা হাত দৃশ্যমান। শাড়িটা এমন ভাবে পড়া যে কোমর আর পিট দেখা যাচ্ছে। আচল উঠিয়ে এক সাইডে রাখা। জর্জেট শাড়ির ভাঁজে ফর্সা গা দেখা যাচ্ছে। চুল ছাড়া অবস্থায় একসাইডে আনা। চোখে গাঢ় কাজল। নাকে একটা সিলভার রঙের গোল নথ পড়া। ঠোঁটে ডার্ক রেড লিপস্টিক লাগিয়েছে। আরোশির প্রতিটা কদমে দুই হাতে কাচের লাল চুড়ি আর পায়ের নূপুরের ঝনঝন শব্দ আবরার এর কানে বারি খাচ্ছে। নিজের রঙে আজ সে তার অবাধ্য নারী কে রাঙিয়েছে। আবরার জীব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে তুতলিয়ে বললো
আবরার: মে,,মেরে ফেলতে চাও?
চলবে,,,,,
(কিছু সমস্যার কারণে আমার বাসায় নেট নেই আজ কয়েকদিন ধরে তাই গল্প দিতে পারিনি। আজ MB কিনেছি শুধু গল্পটা দাওয়ার জন্য। এখন কয়েকদিন গল্প দিতে আমার লেট হতে পারে তার জন্য আগেই আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি দুঃখিত)