ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৭০তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৭০ (last part)

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

-: মরিয়ম যা রান্না ঘর থেকে চাপাতি দিয়ে আয়।

সবাই আরোশির কথায় বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। তাদের মাথায় শুধু ঘুরছে এত পাষাণ হৃদয় হয়ে গিয়েছে? নাকি আগের থেকেই এমন ছিল আমরা বুজতে দেরি করেছি?

আজমুল সাহেব বুজতে পারে আরোশি এখন কন্ট্রোল এর বাহিরে। তবুও সে একটা শব্দ করে না কারণ তার মতে আরোশি যতই কন্ট্রোলের বাইরে যাক এই মেয়ে জানে কোনটা কিভাবে সামলাতে হয়। তার এখনও মনে আছে আগে কুমকুম বেগম কি কি করতো আর বলতো আরোশি কে যেইগুলো ভেবে তার নিজেরই রাগ লাগে। আপন মা ও এখন হয়?

আবরার এইবার উঠে এসে আরোশিকে ধরে শান্ত করার জন্য। সাইদুল সাহেব ও দাড়িয়ে গিয়েছে। টানটান উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। সকলের নজর এখন আরোশিতে। সবার ভিতর একটা ভয় কাজ করছে। আবরার আরোশি কে নিজের সাথে চেপে ধরে বলে

আবরার: শান্ত হও। চলো রুমে চলো। ঠিক আছে মাফ করতে হবে না।

আরোশি: সরুন

আবরার: আরোশি প্লীজ বুঝার চেষ্টা---

আরোশি: আমি চাচ্ছি না আপনার ক্ষতি করে পরে নিজে আফসোস করি।

আবরার আরোশি কে ছেড়ে দেয় কিন্তু সরে না। সে জানে এখন আরোশি যদি তাকে ধাক্কা দেয় পরে এই মেয়ে নিজের সেই হাত কে আঘাত করবে। ভাবনার মাঝেই হটাৎ আরোশি রক্ত লাল চোখে মরিয়ম এর দিকে তাকিয়ে চিল্লিয়ে বলে

-: যাসনি?

মরিয়ম সহ উপস্থিত সবাই কেপে উঠে। আজমুল সাহেব একটু নড়ে চড়ে বসে। মরিয়ম দৌড় দিয়ে রান্না ঘরে যায়। এই প্রথম বেচারির উপর আরোশি উচ্চ গলায় কথা বললো। আগে আগে চলে গেলে এই ধমক টা খেতে হতো না। আরোশি মাহার দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলে

আরোশি: যাও, নিজের রুমে যাও

আরোশির সুর শান্ত হলে ও সবার ভিতর যেনো একটা ঠান্ডা স্রোত বইয়ে গেলো। শরীলের পশম দাড়িয়ে যায়। মাহা একবার আবির এর দিকে তাকিয়ে রুমে চলে যায়। মরিয়ম এসে কাপা কাপা হাতে চাপাতি আরোশির হাতে দেয়। আরোশি সেইটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কুমকুম বেগম এর দিকে তাকায়। যে এখনো কান্না করছে তবে চোখে, মুখে ভয় স্পষ্ট। আবরার আরেকটু এগিয়ে দাড়ায় যেনো আরোশি কিছু না করে। আরোশি বাকা হেসে সেইটা কুমকুম বেগম এর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে

-: রোশনারা বেগম এর রাস্তায় হাঁটছেন দেখা যায়। আপনার কি মনে হয় আমি আবরার যে আমাকে এইরকম স্টুপিড লাইন বললে আমি সবার মত আপনাকে হারানোর ভয়ে মাফ করে দিবো? মাফ, ভয়, স্যাক্রিফাইস, কম্প্রোমাইজ শব্দ গুলো আমার সাথে যায়না। আমি তো মাফ করবো না তাই আপনি বরং একটু আগে যেইটা বললেন সেইটা করুন।

রিমা: আরোশি প্লীজ--

রিমা কথা শেষ করার আগেই আরোশি রিমার দিকে তাকিয়ে শান্ত সুরে বলে

আরোশি: চুপ

আরোশি আবার কুমকুম বেগম এর দিকে তাকায়। যখন দেখে সে চাপাতি নিচ্ছে না তখন আরোশি সেইটা নিচে রেখে বলে

-: নিয়ে নিয়েন

বলে উপরে যাওয়ার জন্য হাটা শুরু করে। সকলে যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো। তারা তো ভেবেই বসেছিল আজ কোনো একটা লাশ পড়বে। আরোশি উপর থেকে হটাৎ বলে

-: যদি কখনও আপনার নাতি নাতনি হয় তখন ভেবে দেখবো মাফ করবো কি না। মহিলা তো আপনি সুবিধার না। মাফ করলে দেখা যাবে তখন আরেক চাল চালবেন।

বলে চলে যায়। সবাই হতভম্ব হয়ে একে অপরের দিকে তাকায়। আরোশির কথার মানে বুজতে কষ্ট হচ্ছে সবার। নাতি নাতনি মানে আরোশির বাচ্চা? দুষ্টুমি করলো? এই মেয়ের কথা অনেক গভীর। বুঝা বড় দায়। আবরার ও উপরে যেতে যেতে বলে

-: এই বিষয় আর কথা উঠানোর দরকার নেই। শুধু শুধু তাণ্ডব ঘটবে।

সকলে আবরার এর কথার এক মত। সবাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে যার যার রুমে চলে যায়। আবরার রুমে যেয়ে দেখে আরোশি পানি খাচ্ছে। ওহ কিছু না বলে সোজা ওয়াসরুমে চলে যায়। আরোশি সেইদিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে নিজের কাজে লেগে পরে।

আবরার ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে দেখে রুমে কেউ নেই আর লাইট ও বন্ধ। বারান্দা থেকে আলো আসছে। আবরার সেইদিকে যেতে যেতে বলে

-: আরোশি ! কই তুমি? রুমের লাইট তো জ্বালানো ছিল। অন্ধকার কেন!

শেষের কথা টুকু বিড়বিড় করতে করতে বলে বারান্দায় যাওয়ার বড় থাই গ্লাস দরজার সামনে যেয়ে সেইটা খুলে হা হয়ে যায়। এই দরজার ধরণি আছে যেইটা ধরে টান দিয়ে খুলতে হয়। আবরার দেখে বারান্দার ফ্লোরে অনেক কালো লাভআকৃতির বেলুন পড়ে আছে। আর একটা ছোট গোল টেবিল রাখা আছে যেইটার উপরে ডার্ক চকলেট কেক, পাশেই একটা বড় কালো রঙের ক্যান্ডেল, সাথেই এক গুচ্ছ কাটগোলাপ। বারান্দা টা অনেক বড়। এক সাইডে সাদা সোফা রাখা, একটা বড় রাউন্ড সেপ ব্যাড সাইজের কালো দোলনা যেইটার ভিতরে চাদর, বালিশ সব সাদা। সেইটার মধ্যেই বসে আছে আরোশি। পরনে কালো শাড়ি। শাড়িতে ছোট ছোট সাদা পাথর বসানো তাই বারান্দার নিভু নিভু আলোতে চিকচিক করছে, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক ব্যাস আর কিছুই না। গলায় আবরার এর সেইদিন দাওয়া চেইন। আরোশি উঠে টেবিলের সামনে যেয়ে বলে

-: ভিতরে আসেন ঐখানে দাড়িয়ে আছেন কেন?

আবরার ভিতরে এসে আরোশির সামনে দাঁড়ায়। আরোশি আবরার এর গালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে

-: আমি করেছি তাই সব কালো। পছন্দ হয়েছে?

আবরার আরেকবার সব দিকে চোখ বুলিয়ে আরোশির দিকে তাকিয়ে বলে

-: হ্যাঁ সুন্দর কিন্তু এইগুলো করার কি দরকার ছিল। পার্টি শেষ হয়েছে এমনিই তো ক্লান্ত তুমি

আরোশি: আজ এত special একটা দিন তাই ভাবলাম আপনার সাথে আলাদা করে আমার তরফ থেকে আরেকটা পার্টি করি যেইখানে শুধু আমরা থাকবো।

আবরার: তিন টা পার্টি হয়ে গেলো। একটা আমি দিলাম কাল রাতে আরেকটা তুমি দিলে আজ সন্ধ্যায় আরেকটা এখন।

আরোশি: হম বেশি টাকা তো আমার তাই।

আরোশির কথা শুনে আবরার হাসতে থাকে। আরোশি টেবিলের দিকে তাকিয়ে বলে

-: চলুন কেক কাটি

আবরার: দেখো সব কিছু কি সুন্দর। তুমি ও সুন্দর করে সেজে আছো আর আমাকে দেখো

আরোশি: আরে আমার জানেমান আপনি তো এমনিতেই সুন্দর

আবরার আর কিছু বলে না। হেসে আরোশির সাথে কেক কেটে একে অপরকে খাইয়ে দেয়। তারপর আবরার আরোশিকে জড়িয়ে ধরে বলে

-: আমি এই কালো পরীকে অনেক ভালবাসি

আরোশি: আমি ও এই সুদর্শন পুরুষকে অনেক ভালবাসি।

আবরার: তুমি আমাকে "তুমি" করেই বলো। কিন্তু সেই তুমিতে নিষ্ঠুর আরোশি যেনো না থাকে। আমার অবাধ্য পাগল প্রেমিকা থাকা চাই।

আরোশি: আমি তো চাই "তুমি" বলতে কিন্তু "আপনি" তে অন্য রকম এক শান্তি আছে যেইটা আপনাকে ডেকে পাই। আচ্ছা আমি চেষ্টা করবো তুমি বলার।

আবরার: good

আরোশি আবরারকে আরো শক্ত করে ধরে বলে

-: আপনি আমায় ভালোবাসেন কেন?

কথাটা শুনে আবরার আরোশিকে ছেড়ে ওর দিকে তাকায় তারপর সিরিয়াস হয়ে বলে

-: মায়ের ইচ্ছা ধরলে তুমি আমার অপছন্দ তাই সেইটা বাদ দিয়ে সকল কে ফেলে দাদা থাকলে অন্য রকম হতো যেহেতু নেই তো সে জানে না ওই ভাবে দেখতে গেলে আমি তোমায় ভালবাসতেই পারি।

কথা টা শুনে আরোশি ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। তারপর মিনমিন করে বলে

-: এইটা কি বললেন। ধরার আগেই সব মাথার উপর দিয়ে গেলো। কিছুই তো বুজলাম না।

আবরার হেসে দেয় আরোশির রিয়াকশন দেখে। তারপর গালে হাত বুলিয়ে বলে

-: আমার বোকা রানী এমনি তো আপনি খুব চালাক আমার কাছে আসলেই যত বাচ্চামি। আমি যদি জিজ্ঞেস করি তুমি আমায় ভালবাসো কেন তুমি বলতে পারবে?

আরোশি: কারণ আপনাকে ভালোবাসতে বাধ্য আমি। আপনাকে ভালোবাসা ছাড়া অন্য কিছু করা যায়না।

আবরার কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আস্তে করে বলে

-: আমার এই অনুভুতি ও অনেক আগের তবে অনুভুতির নাম জানতে দেরী হয়েছে।

বলে আরোশির কপালে ঠোট ছুঁয়ে বলে। আরোশি একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে বলে

-: চলুন এই স্পেশাল দিনকে আরেকটু স্পেশাল করি।

আবরার কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে। আর কি করবে এই মেয়ে ? আরোশি হেঁটে সোফার কাছে যেয়ে তার উপর রাখা একটা ফাইল এনে আবরার এর হাতে দেয়। আবরার কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে

-: এইটা কি?

আরোশি মুচকি হেসে আবরার এর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে

আরোশি: আপনাকে বাবা ডাকার জন্য ইয়ানা আবরার চৌধুরী আসছে।

আরোশির কথা টা শুনে সাথে সাথে আবরার এর হাত থেকে ফাইল টা পরে যায়। আরোশি আবরার এর দিকে তাকিয়ে দেখে তার কোনো রিয়াকশন নেই। শুধু ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে আছে। আরোশি বুজতে পারেনা আবরার এর মাথায় কি চলছে। এই একটা সমস্যা। এই মানুষটা কে আরোশির মত একজন নারী ও বুজতে পরে না। ভাবা যায়? না, গিরগিরি একটা। খুশি নাকি খুশি না কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। স্তব্ধ হয়ে আরোশির দিকে তাকিয়ে আছে।

আরোশির মুখের হাসি চলে যায়। ঢোঁক গিলে আবরার এর গালে হাত দিয়ে বলে

আরোশি: আপনি খুশি না?

আবরার এখনো চুপ কেন দুনিয়াতেই নেই। আরোশি এইবার অস্থির হয়ে যায়। অধৈর্য কণ্ঠে বলে

-: আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে বেবি লাগবে না। আপনি যা বলবেন তাই হবে। আমার কাছে আপনার খুশি আগে। দরকার নেই কোনো বেবি। আমরা বাচ্চা ফে--

আরোশি কথা শেষ করার আগেই আবরার ওর কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের আরো কাছে টেনে দুই ওষ্ঠ এক করে নেয়। আরোশি সাথে সাথে চুপ হয়ে যায়। অনেক্ষন পর ছেড়ে কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে বড় বড় শ্বাস নিয়ে বলে

আবরার: আমার জীবনের সব চেয়ে বেস্ট গিফট এইটা। আমি এত খুশি যে কি রিয়াকশন দিবো ভুলে গিয়ে ছিলাম। আমি কখনো এত খুশি হইনি। আমার সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছে অবাধ্য নারী। মনে হচ্ছে আমি কোনো খুশির জগতে আছি। ভয় হচ্ছে যদি হারিয়ে যায়! আবার যদি কিছু হয়! আমি বেস্ট বাবা হয়ে দেখাবো। আমার বাবার মতো হবো না।

আবরার এর চোখে পানি টলটল করছে। আরোশি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আবরার ফিসফিস করে বলে

আবরার: অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমায় আমার জীবনে এসে আমার জীবনটাকে পুরো বদলিয়ে দেয়ার জন্য। আজকের এত স্পেশাল দিনে এত সুন্দর গিফট দেয়ার জন্য। আমি অনেক লাকি তোমাকে পেয়ে। আমি সেই মেয়েকে পেয়েছি যে আমার খুশির কথা ভেবে সব ত্যাগ করতে রাজি।

আরোশি নিজের চোখ মুছে আবরার এর চোখ ও মুছে দেয়। আবরার হটাৎ হাঁটু গেড়ে বসে আরোশির পেটে চুমু খেয়ে বলে

-: তাড়াতাড়ি চলে আসো মাম্মা আর পাপা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।

আরোশি: আপনাকে জ্বালানোর জন্য এখন শুধু আমি একা না আরেকজন ও থাকবে মন্ত্রী সাহেব

আবরার উঠতে উঠতে আরোশিকে বলে

-: আরো দশ টা আনবো দরকার পড়লে। আবার কোনো প্রবলেম নেই। তোমার স্বামীর অনেক এনার্জি আছে

আরোশি: ছেহ্, লাগাম ছাড়া ব্যক্তি।

॥

13 মার্চ,,,,,

পরেরদিন সকালে নিহাদ কোর্টের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। তখন হঠাৎ ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে যায়। নিহাদ বিরক্ত হয়ে হাতঘড়িতে সময় দেখে। আর ঘণ্টা খানিক পরেই শুরু হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি যেয়ে পৌছাতে হবে। নিহাদ এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখার সময় হটাৎ দেখে একটা মেয়ে একজন বয়স্ক লোককে সাহায্য করছে রাস্তা পার হওয়ার জন্য। নিহাদ এক দৃষ্টিতে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে। মেয়ে টা লোকটাকে পার করে দেয়ার পর হেসে কথা বলছে। লোকটা মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নিহাদ মেয়েটার হাসির দিকে তাকিয়ে থাকে। নিহাদ এর চোখ আটকে যায় সেই হাসিতে। হটাৎ তার মাথায় আসে আরোশির বলা কথাটা

~: "a psychopath who killed people for their beautiful smile but one day fall in love with a girl's smile. And that will be your Juliet"

নিহাদ সাথে সাথে চোখ সরিয়ে ফেলে দুইদিকে মাথা নাড়ায়। অস্থির লাগছে। নিহাদ জোরে কয়েকবার নিঃশ্বাস ফেলে সামনের থেকে পানি নিয়ে পানি খায়। এরকম কখনও হয়নি তার সাথে। সে আবারো সেইদিকে তাকিয়ে দেখে মেয়ে টা চলে যাচ্ছে। নিহাদ তাড়াতাড়ি ফোন বের করে কয়েকটা ছবি তুলে একজন কে পাঠিয়ে sms দেয়।

Sms -: এই মেয়ের সব ইনফর্মেশন চাই আমার।

Sms দিয়ে নিহাদ আবার ছবি গুলো দেখতে থাকে। বিড়বিড় করে বলে

নিহাদ: your smile is bea--

বলতে যেয়েও থেমে যায় তারপর ফোন রেখে চোখ বন্ধ করে মাথা পিছনে হেলিয়ে দেয়। তখনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ওই মেয়েটার হাসি মাখা মুখ। নিহাদ ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে আস্তে করে বলে

নিহাদ: my Juliet

।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।

কোর্ট থেকে ঘোষণা দাওয়া হয় আরোশি নির্দোষ আর মাহিয়াকে যাবতজীবন এর কারাদণ্ড দেয়া হয়। মাহিয়া কে নিয়ে যাওয়ার সময় ওহ আরোশির দিকে তাকিয়ে বলে

-: আমাকে এই পর্যন্ত আনলি কিন্তু আমার মত আরো অনেক তোর জীবনে আসবে। কয়জন কে আটকাবি? তোকে রাজনীতির দুনিয়া থেকে উদাও করে দেয়ার জন্য কেও না কেও আসবেই। যেই রাস্তায় তুই চলিস সেই রাস্তায় চলা প্রত্যেকটা মানুষের একটা শেষ আছে। শেষ টা কত ভয়ানক হয় তুই একদিন বুজবি।

মাহিয়ার তীক্ষ্ম সুরে বলা কথা গুলো শুনে সকলের নজর আরোশিতে আটকায়। অপেক্ষায় আছে এখন এই মেয়ে কি বলবে! কেমন উত্তর দিবে। তবে সবাইকে ভুল প্রমাণ করে আরোশি উত্তরে শুধু বাকা হাসে। সেই হাসির মানে এইটাই মাহিয়ার সাথে যা হবে বাকিদের সাথে তাই করবে আরোশি।

কোর্টের কাজ শেষ করে আরোশি আজমুলকে গাড়িতে উঠিয়ে রাজু ভাই আর নিহাদ এর থেকে বিদায় নিয়ে নিজের গাড়ির দরজা খুলতে যায় তার আগেই একজন খুলে দেয়। আরোশি তাকিয়ে দেখে আবরার। ওহ উঠে বসলে আবরার ও বসে। গাড়ি ছাড়তেই আরোশি নিজের হাসি চেপে বলে

-: আপনি যেমন করছেন যেন আমার সাত, আট মাস। সকাল থেকে আপনি সিঁড়ি দিয়ে নামতে দিচ্ছেন না। কোলে নিয়ে ঘুরাঘুরি করছেন। বাথরুমে পর্যন্ত আপনার কোলে করে যেতে হবে?

আবরার: চুপ

ব্যাস চুপ হয়ে গেলো। আবরার আরোশির কাধে মাথা রেখে ওর হাত নিজের হাতে নিয়ে বসে থাকে। গাড়ির সামনের সিটে আরোশির জন্য চার রকমের ফলের জুস রাখা ফ্লাক্স এ। আবরার নিয়ে এসেছে সাথে করে। আরোশি কিছুক্ষন চুপ থেকে আবার বলে

-: আমি এত খাই না। পাঁচদিনের খাবার আপনি আমায় একদিনে খাওয়াতে চান?

আবরার: আমি চাইনা তুমি শুকিয়ে যাও। Health care is important, you know! আর আমি চাইনা আমার বেবি unhealthy হোক।

আরোশি উত্তরে আর কিছুই বলেনা। আবরার সকাল থেকে এই খানে আসার আগ পর্যন্ত আরোশির পিছন পিছন খাবার নিয়ে ঘুরেছে। কখনও আপেল কখনও আঙ্গুর কখনো ডালিম কখনও কমলা আরো অনেক কিছু। বাসার কেউ জানে না তাই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল শুধু। আরোশিও কিছু বলে না আবরার কে বা বিরক্ত হয়না। ওহ যেইভাবে বলে সেইভাবেই করে। ভালোবাসার মানুষের ফুল অ্যাটেনশন পেতে কার না ভালো লাগে? আর আরোশি তো আগের থেকেই আবরার বলতে পাগল।

আবরার এমন করছে যেনো আরোশির এখন সাত, আট মাস। পারলে বিছানায় ও কোলে নিয়ে বসে থাকতো। চকলেট, কেক, চিপস, বিস্কুট, ফল, মিষ্টি, আছার, আবার আরোশির পছন্দের নানান রকমের অনেক কিছু কিনে একদিনেই ঘর ভরে ফেলেছে। যখনি সুযোগ পায় কিছু না কিছু খাওয়াতে থাকে।

বাড়িতে আসার পর আরোশিকে আবরার সোফায় বসিয়ে নিজে ও পাশে বসে। জেসিয়া তা দেখে দুষ্টামি করে বলে

-: কিগো দাদুভাই সকাল থেকে দেখতাছি বউরে মাথায় উঠায় রাখছো? বউ কি ছুইটা যাইবো নাকি?

আবরার: যেতে দিলে তো। এই মরিয়ম

ডাক শুনে মরিয়ম রান্না ঘর থেকে এসে বলে

-: জি ভাই

আবরার: পানি নিয়ে আয় তোর ভাবির জন্য

মরিয়ম আচ্ছা বলে পানি এনে আরোশিকে দেয়। আরোশি পানি খেতেই আজমুল সাহেব ওর উদ্দেশে বলে

-: তুমি কি অসুস্থ! শরীল ঠিক আছে?

আরোশি গ্লাস টেবিলে রেখে বলে

-: হ্যাঁ ঠিক আছি

আজমুল: না মানে সকাল থেকে আবরার একটু বেশি খেয়াল রাখছে তাই

আরোশি: তুমি দাদু হচ্ছো তাই

কথাটা শুনার সাথে সাথে রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে রোশনারা আর কুমকুম বেগম। মরিয়ম খুশিতে উচ্চ গলায় বলে উঠে

মরিয়ম: কীহহহহ? আরোশি আফুর আরেকটা আরোশি হইবো?

আজমুল সাহেব হেসে উঠে আরোশি আর আবরার এর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেয়। রোশনারা কাছে এসে বলে

-: আমাদের আগে বললি না কেন। ইসস এই বাড়িতে ছোট ছোট পা দিয়ে হেঁটে বেড়াবে কেউ। আমাকে দাদু দাদু বলবে। আরোশি তোর কি খেতে ইচ্ছে করে শুধু বলবি। আমি কিন্তু আমার নাতিকে সুস্থ সবল চাই।

আরোশি রোশনারার দিকে তাকিয়ে দেখে তার চোখে মুখে খুশি চকচক করছে। আরোশি উত্তরে কিছু বলে না। মানুষ পরিবর্তনশীল। এর থেকে বেশী ভাবার কিছু নেই।

সকলের চোখে মুখে খুশি আর খুশি। কত বছর পর এই বাড়িতে ছোট বাচ্চা আসবে। হঠাৎ করেই চৌধুরী বাড়ির চারপাশ ঘিরে আনন্দের ছুঁয়া। আরোশি কুমকুম বেগম এর দিকে তাকালে দেখে উনি দুর থেকে চোখ মুচ্ছেন। আরোশি চোখ সরিয়ে ফেলে। উঠে উপরে যেতে গেলে আবরার ও উঠে দাড়ায় তখনই আলিফ দৌড়ে আসে। ঘামে ভিজে একাকার হয়ে আছে বেচারা। অধৈর্য কণ্ঠে বলে

-: ম্যাম মাহিয়াকে কোর্ট থেকে গাড়িতে উঠানোর সময় মাহিয়া সেইখান থেকে পালিয়ে গিয়েছে।

।

।

।

দুইদিন পর,,,,,

এই দুইদিনে অনেক কিছুই বদলে যায়। এখন শুধু আবরার একা না বরং পুরো পরিবার আরোশিকে মাথায় উঠিয়ে রাখে। রিফা মাঝে মাঝেই রিফা শশুর বাড়ি থেকে আরোশির জন্য নতুন কিছু রান্না করে পাঠায় সেইটা আরোশির ইচ্ছে হলে খায় নয়তো বাদ। আবরার না থাকলে কুমকুম বেগম আর রোশনারা বেগম সারাদিন আরোশির আগে পিছে ঘুরে এইটা সেইটা খাওয়াতে থাকে। আরোশি ও রোশনারা বেগম কে নাকে তেল দিয়ে ঘুরায়। এদের কাজ কর্মে মাঝে মাঝেই আরোশি বিরক্ত প্রকাশ করলেও আবরার এর ক্ষেত্রে কখনোই আরোশি বিরক্ত হয়না। আবরার যা বলে তাই করে আর যেইভাবে চলতে বলে সেইভাবেই চলে। তবে আরোশি কে কাজ থেকে আবরার ও ফিরাতে পারেনি। যখন মন চায় তখনই কাজে চলে যায় এই মেয়ে। এই ক্ষেত্রে কারো কোনো কথা শুনা না।

॥

॥

॥

॥

বিকালে,,,,

বাহিরে আবহাওয়া ঠান্ডা। বৃষ্টি আসার আগে পরিবেশ যেমন থাকে সেইরকম। বাতাস বইছে তৃপ্তিকর। পুরো আকাশ কালো মেগের আড়ালে ঢাকা। ব্যাস্ত শহর। ব্যাস্ত মানুষ। ব্যাস্ত যানবাহন। কারো জন্য কারো সময় নেই এই শহরে। সবাই ছুটছে নিজের স্বার্থে। ব্যাস্ত নিজের ক্ষুদা মেটাতে। কারো ক্ষমতার ক্ষুদা আবার কারো পেটের ক্ষুধা তো আবার কারো অর্থের ক্ষুদা।আরোশি হাতের কাজ শেষ করে সামনের থেকে কফির মগ হাতে নেয়। আবরার ফোন করে বলে দিয়েছে সে ফ্যাক্টরীর সাইডে কিছু কাজে আটকে গিয়েছে সেইটা শেষ করে আরোশিকে নিতে আসবে তার আগে যেন আরোশি বাড়িতে না যায়। তাই এখন অপেক্ষায় আছে আবরার এর।

গুন গুন করতে করতে সম্পূর্ণ কফি শেষ করে আরোশি টেবিল থেকে ফোন নিয়ে কাওকে ফোন করে। ওপর পাশ থেকে ফোন রিসিভ করতেই গম্ভীর গলায় বলে

আরোশি: কি অবস্থা ?

ওপর পাশ থেকে ও এক'ই গলায় বলে

-: আমার সামনে বসে আছে।

আরোশি: এনজয়

বলে আরোশি ফোন রেখে সামনের কাচের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বড় শ্বাস ফেলে। বাকা হেসে বিড়বিড় করে বলে

~ "আমি আরোশি হারতে শিখিনি। শেষ জিত আমার'ই হবে"

॥

॥

॥

°°°°° শিকদার বাড়ি♟️°°°°°

নিস্তব্ধ রুমে টপটপ পানি পড়ার শব্দ ভয়ানক শুনা যাচ্ছে। রেডিওতে সেই রেস্টুরেন্ট এর মেয়েটিকে মারার সময় যে পুরোনো গানটি বাজছিল সেইটা বাজছে। অনেক পুরোনো হওয়ায় বারবার গানটি বেজে গিয়ে গের গের শব্দ হচ্ছে যা শরীল শিউরে উঠার জন্য যথেষ্ট। চেয়ারের উপর বসে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে দুইপায়ের উপর হাত রেখে বসে আছে একটা ছেলে। হাতে একটা ধারালো ছুরি। সেইটা স্লাইড করার কারণে বারবার অদ্ভুত শব্দ হচ্ছে। সেই শব্দে সামনে বসা মেয়েটা বারবার কেপে উঠছে।

-: আমার সামনে বসে আছে।

গম্ভীর গলায় কথা টা বলে ফোন রেখে হাতে থাকা ছুরি টা শব্দ করা বন্ধ করে মাথা উঠিয়ে তাকায় যার সামনে বসে আছে হাত, পা, মুখ বাধা অবস্থায় একজন মেয়ে। দেখে মনে হচ্ছে দুই, তিনদিন টর্চার করা হয়েছে। নিভু নিভু চোখে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটা যেন সামনে নিজের শেষ দেখতে পাচ্ছে। এইবার ছুরিটা শক্ত করে ধরে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে বলে

নিহাদ: your smile is beautiful, মাহিয়া

••••••••••THE END🦅••••••••••

( Please watch the video untill the end🪄)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন