ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

১ম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

জোর করে চাচাতো বোনের সাথে বিয়ে দেওয়ায় রুদ্র রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিলো। আর আজ ৮ বছর পরে বাবার কথা রাখতে বাড়ি ফিরে এলো। যার ধ্যানে-জ্ঞানে কোনো ইচ্ছেই ছিলো না ফিরে আসার। রুদ্র আজ ফিরে এসেছে, শুধু এটা বোঝাতে যে ছোটবেলার সেই বিয়েটা মানে না আর না মানবে। জেদ ধরে সেই চাচাতো বোন অধরাকেও দেখেনি এতোগুলো বছর। তবে যখন অধরার মুখোমুখি হলো তখন নিজেই মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো। তবে কি জেদ ধরে ভুল করে ফেলেছিলো।

* * * *

বিয়ের আসরে হঠাৎ শোনা গেলো বউ নাকি পালিয়েছে। পুরো বিয়ে বাড়িটা ভারী হয়ে উঠল। আরিফ নেওয়াজ মেয়ের পালানোর কথা শুনে চিন্তিত হয়ে বসে পড়লেন। এদিকে বিয়ের পাত্রী,, অধরা নেওয়াজ। বিয়েটা জোর করেই দিতে চেয়েছিলো। তার বাবা নিজের বাড়ি রেখে অধরার খালার বাড়িতে এনে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। অধরা সে বিয়ে থেকে পালিয়ে গিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে এলো। সবাই অধরাকে দেখে হতবাক। অধরার বড় চাচি রুকাইয়া, তিনি অধরাকে ধরে জিজ্ঞাসা করলেন,

“তোর এই অবস্থা কেনো? আর এমন বিয়ের সাজ সেজেছিস কেনো? তু্ই কি বিয়ে থেকে পালিয়ে এসেছিস?”

অধরা হাপাতে হাপাতে বড় চাচা আরমান নেওয়াজ, তার পাশে গিয়ে বসল। তিনি হাত ইশারা করে সবাইকে চুপ থাকতে বললেন। অতঃপর তিনি অধরার মাথায় হাত রেখে মোলায়েম কণ্ঠে বললেন,

“অধরা কি হয়েছে?”

অধরা বলল,

“আব্বু আর আম্মু খালামনির বাড়িতে নিয়ে জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলো। সেখানে থেকে পালিয়ে এসেছি।”

আরমান নেওয়াজ কপালে ভাজ ফেলে বললেন,

“কই আমরা তো জানিনা।”

অধরা বলল,

“আব্বু কাউকে জানায়নি। তার বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিলো। আর কেনো পালিয়েছি জানো! ওই ছেলে বিয়ে করে সামনের সপ্তাহে তার সাথে করে বিদেশে নিয়ে যাবে। যদি সেখানে চলে যাই তাহলে তোমাদের তো দেখতে পাবো না। তাই পালিয়ে এসেছি।”

পাশে থেকে আরমান নেওয়াজ তার ছোট ছেলে

আদ্রকে বললেন,

“তোমার মেঝো আব্বুকে ফোন দিয়ে বলো অধরা বাড়িতে ফিরে এসেছে। আর ওদের ফিরে আসতে বলো এখনই।”

আদ্র ফোনটা বের করে কয়েক কদম দূরে চলে যেতেই আরমান নেওয়াজ অধরাকে বললেন,

“যাও ফ্রেশ হয়ে নাও! আমি আছি, ওসব নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।”

অধরা মাথা নাড়িয়ে উঠে সিঁড়ির দিকে চলে গেলো। রুমে এসে দরজা লাগিয়ে খুশিতে নাচছে। ভাগ্গিস পালিয়ে এসেছিলো। নাহলে এতক্ষনে গভীর জলে ডুবে যেতো। এমন সময় রুমের দরজা ধাক্কালো অধরার ছোট চাচার মেয়ে সোহা। অধরার থেকে তিন বছরের ছোট। দুজনই বেস্টফ্রেন্ডের মতো। ভালো-মন্দ সবকিছু শেয়ার করে।

এর আধঘন্টা পরেই অধরার বাবা আরিফ নেওয়াজ তার স্ত্রী অনিমা বাড়িতে এলেন। ওদের অপেক্ষায়ই ছিলেন আরমান নেওয়াজ। তিনি তাদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“অধরাকে বিয়ে দেওয়া কি তোর খুব জরুরি?”

আরিফ নেওয়াজ এগিয়ে এসে খানিকটা নিচু গলায় বললেন,

“জরুরি নয়। তবে মেয়ে মানুষ বিয়ে তো দিতেই হবে।”

“তাই বলে আমাকে না জানিয়ে? আমি কি মরে গিয়েছি?”

“ভাইজান, ভুল হলে মাফ করবে। আমার কাছে আর পথ ছিলো না। ভালো ছেলে পেয়েছিলাম তাই বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।”

আরমান নেওয়াজ উঠে দাড়িয়ে বললেন,

“তু্ই অধরাকে কয়বার বিয়ে দিতে চাইছিস? ওর তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর এমন তো নয় যে আমরা ওকে কোনো কিছু নিয়ে অস্বীকার করছি।”

আরিফ নেওয়াজ কিছুটা নিচু আবার কিছুটা জোর গলায় বললেন,

“অস্বীকারের প্রশ্ন নেই। তবে তোমরা যেটাকে বিয়ে বলছো আমিও প্রথমে ভেবেছিলাম। কিন্তু তোমার ছেলে কই? আমার এতো সাহস হয়নি যে তোমার কথার উপর কথা বলবো। তবে এইটুকু বলতে পারি, ওদের ছোটবেলার সেই বিয়েটাকে সিরিয়াস ভেবে আমি আমার মেয়ের জীবনটা থামিয়ে দিতে পারি না। তোমার ছেলের বাড়িতে আসার কোনো নাম-গন্ধ নেই। আর ওর ভরসায় অধরাকে বসিয়ে রাখা বেকার।”

কথাটা আরমান নেওয়াজের কানে পৌঁছাতেই তার চোখ দুটো রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো। তপ্ত শ্বাস ফেলে বললেন,

“এক সপ্তাহের মধ্যে আমার ছেলেকে আমি ফিরিয়ে আনছি। যদি না আনতে পারি আমি আরমান নেওয়াজ এই নেওয়াজ বাড়িতেই থাকবো না। আর তখন অধরাকে যেখানে পারিস সেখানে বিয়ে দিস।”

আরিফ নেওয়াজ এর উত্তরে বললেন,

“ছেলেমেয়েদের বিষয় নিয়ে তুমি বাড়ি ছেড়ে যাবে কেনো?”

আরমান নেওয়াজ তপ্ত শ্বাস ছেড়ে গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলেন। বিকেল পর্যন্ত রুমেই রইলেন। এখন ছেলেকে ফোন দিবেন। এই টাইমে রুদ্র ফ্রি হয়। তিনি কল দেওয়ার কিছুক্ষন পরেই রুদ্র কলটা রিসিভ করলো। বলল,

“হ্যালো, বাবা ভালো আছো?”

“হুমম। তুমি?”

“ভালো। মা কেমন আছে?”

“ভালো। কি করছো এখন? কাজ করছো নাকি?”

“না।”

“তোমাকে একটা কথা বলতে চাই!”

“হ্যা বাবা বলো!”

“বাড়ি ফিরে আসবে না?”

রুদ্র সোজা উত্তর,

“না।”

“কেনো?”

রুদ্র বিরক্তি নিয়েই বলল,

“বাড়িতে ফিরে গেলেই তো তোমার ভাতিজিকে বিয়ে করতে বলবে। আমি বিয়ে করতে পারবো না ওকে।”

আরমান নেওয়াজ গলার কণ্ঠ ভারী করে বললেন,

“বিয়ে না করার কারণ কি? ও দেখতে খারাপ, নাকি ও সাধারণ মানুষের মতো নয়?”

“বাবা প্রশ্নটা ভালো-খারাপ এরকম কিছু নয়। আমারও তো একটা স্বাধীনতা আছে। আমি কেনো ওকে বিয়ে করবো?”

“তোমার কাছে এতো কথা শুনতে চাইছি না। তুমি বিয়ে করবে কি না?”

রুদ্র তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল,

“না।”

আরমান নেওয়াজ রেগে গিয়েও থেমে গেলেন। রাগ করা যাবে না এই মুহূর্তে, বুঝিয়ে আনতে হবে। এরপরে গভীর শ্বাস ছেড়ে শুধালেন,

“রুদ্র, তুমি অধরাকে বিয়ে করতে চাইছো না, বেশ তাই হবে। আমি মানবো। তবে তুমি বাড়ি ফিরে এসো, এসে জাস্ট একটা মাস থাকো, সবার সাথে মিশো। একটা মাস এরপরে যদি তোমার বিয়ে করতে ইচ্ছে না হয় তাহলে আমি কোনো জোর করবো না। আর আজ একজন বাবা হিসেবে ছেলের কাছে একটা মাস সময় চাইছি।”

রুদ্র মিনিট দুইয়েক চুপ করে রইলো। ভাবলো, এতো করে যখন বাবা বলছে না করলে ভালো হবে না। আর একটা মাসই তো, ঘুরবে-ফিরবে সময় চলে যাবে। এরপরে বলবে বিয়ে করবে না। কোনো ঝামেলাই হবে না।

আরমান নেওয়াজ অনেক আশাবাদী হয়ে রইলেন। রুদ্র স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

“ঠিক আছে। আমি আসবো। তবে একটা মাসই কিন্তু।”

রুদ্রর সম্মতি পেয়ে আরমান নেওয়াজ নরম হয়ে বললেন,

“ঠিক আছে। একটা মাসই। একটু তাড়াতাড়ি আসলে ভালো হয়। শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না আমার। দেখো যদি টিকিটটা দুই-একের মধ্যে এরেঞ্জ করে আসতে পারো কি না।”

রুদ্র আর না ভেবে বলল,

“দুই দিনের মধ্যে আসছি।”

“ঠিক আছে। আর শোনো, তোমার আর আমার এই চুক্তি যেনো কেউ না জানে!”

“ঠিক আছে কেউ জানবে না।

** দুইদিন পরে **

নেওয়াজ বাড়ির সদর দরজায় এসে দাঁড়াতেই রুদ্রর মা রুকাইয়া অশ্রুকাতর হয়ে ছেলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। ছেলেটা আজ অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। মাকে পেয়ে রুদ্রর কণ্ঠ ভার হয়ে উঠল। নিজের জেদের জন্য মায়ের থেকেও দূরে ছিলো। অবশেষে মাকে ধরে বলল,

“কেমন আছো মা?”

“অনেক ভালো। তু্ই কেমন আছিস বাবা?”

“ভালো।”

আস্তে আস্তে রুদ্র সবার সাথেই কথা বলল। কিন্তু সেই যে অনাকাক্ষিত অধরার মুখটা দেখতে পেলো না। আর না আশা করলো। এমন সময় সবার নজর কেড়ে বাড়িতে ঢুকলো অধরা। কলেজে বিকেলের শিফ্টে পরীক্ষা ছিলো। সন্ধ্যাও হয়ে এসেছে প্রায়। অধরা রুদ্রকে দেখে একটু রেগেই তার বাবার পাশে দাড়ালো। তাকালো না পর্যন্ত। পাশ থেকে রুদ্রর মা রুকাইয়া বললেন, ও তোর চাচাতো বোন অধরা।

রুদ্র অধরার দিকে প্রথমবার তাকাতেই কিছুক্ষনের জন্য থমকে গেলো। অধরার নাম ও অধরাকে দেখে রুদ্র ঠাই কিছুক্ষণ দাড়িয়ে রইলো। চোখ ফেরানোও মুশকিল মনে হচ্ছে ওর। আর তার উপরেই জেদ ধরেছিলো।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন