ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

১০ম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (১০)

#জেরিন_আক্তার

রুদ্র এক কোণে দাড়িয়ে কিছুক্ষন ভেবে ঠিক করলো ও জীবনকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে বেরোবে। সারাদিনে আর ওকে নিয়ে বাড়িতেই ফিরবে না, ফিরবে রাতে। তাহলে জীবনের সাথে অধরার দেখাও হবে না, আর ওর কোনো চিন্তাও থাকবে না। যেই ভাবা সেই কাজ, ও রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলো। এরপরে আদ্র ও জীবনকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। বাড়ির কাউকে ঠিক বুঝতে দিলো না ওর উদ্দেশ্য। আসলে অধরার থেকে জীবনকে দূরে রাখাই ওর প্ল্যান।

ওরা তিনজন বেরিয়ে যাওয়ার পরে বাড়িটা নীরব হয়ে গেলো। অধরা রুম থেকে বেরিয়ে হাঁটা দিলো সোহার রুমের দিকে। সোহা শুয়ে মোবাইল স্ক্রল করছিলো। মনটাও ভালো নেই। তবুও মনখুলে বলছেও না কি হয়েছে। অধরাও জেদ ধরে আছে ওর মুখ থেকেই আদ্রর কথা শুনবে।

অধরা সোহার কাছে এসে বলল,

“তোকে ভূতে ধরলো নাকি? রুম থেকে বের হচ্ছিস না। কথা বলছিস না, কি হয়েছে বলতো?”

সোহা উঠে বসে ফোনটা রেখে মলিন হেসে বলল,

“আপু আমার আবার কি হবে, এমনেই শুয়ে ছিলাম। কিছু বলবে?”

“হুমম বলতেই এসেছি। স্যার ফোন দিয়ে বলল কালকে সকালে থেকে কোচিং করাবে।”

“ওহ। রুদ্র ভাইয়ের কাছে তাহলে পড়বে না?”

“কোচিংয়ের পাশাপাশি কিছু না বুঝতে পারলে রুদ্র ভাইয়ের কাছে যাবো।”

“ওহ আচ্ছা বুঝতে পেরেছি আপু।”

অধরা সোহার রুম থেকে পুনরায় নিজের রুমে ফিরে ফোন নিয়ে বসলো। সকালে একটা শাড়ি দেখেছিলো, সেটা অর্ডার করতে একটা পেইজে নক করলো। শাড়ির ডিটেইলস আর দাম শুনে অর্ডারটা করে ফেললো। ঠিকানা আর ফোন নাম্বার দিলো। অধরা নিজের ফোন নাম্বার না দিয়ে ওর বাবার ফোন নাম্বারটা দিয়ে রাখলো।

রুদ্রদের ফিরতে সন্ধ্যা হলো। তিনজনেই বেশ টায়ার্ড। যে যার যার মতো রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিচে এলো। রুকাইয়া আর অনিমা খাবার বেড়ে দিলেন। ওরা খাবার খেয়ে সোফায় এসে বসলো। অধরা রুদ্রর কথামতো জীবনের সামনে আসেনি। রুমেই রয়েছে।

জীবন ভেবেছিলো রুদ্র হয়তো অন্যরকম হবে কিন্তু ওর সাথে মিশে কথা বলতে বলতে ফ্রেন্ডের মতোই হয়ে গিয়েছে। আর আদ্রর সাথে তো ওর মাঝে মাঝে কথা হয়। জীবন কথা বলতে বলতে অনিমাকে জিজ্ঞাসা করলো,

“খালামনি, অধরা কই গো?”

“রুমে পড়ছে মনে হয়।”

“ওহ। সারাদিনে তো ওকে দেখতেই পেলাম না, আর কথাও হলো না।”

কথাটা শেষ হতেই রুদ্র উঠে দাড়ালো। আদ্র বলল,

“ভাইয়া চলে যাচ্ছো?”

“হুমম। তোরা কথা বল।”

রুদ্র সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে এলো। অধরার রুমের সামনে। এসে ডাকলো,

“অধরা! রুমে আছিস?”

অধরা দরজার সামনে এসে দাড়ালো।

“হ্যা ভাইয়া বলুন।”

“পড়বি না আজকে?”

“এখন?”

“তাহলে কখন? সোহার থেকে শুনলাম কালকে সকালে তো কোচিংয়েই যাবি। তাহলে রাতেই তো তোদের পড়তে হবে।”

অধরা মুখটা গুটিয়ে নিয়ে বলল,

“আজ নাই পড়লাম ভাইয়া?”

“উহু, পড়তেই হবে।”

“ভাইয়া প্লিজ!”

“প্লিজ বলেও লাভ হবে না। সোহাকে নিয়ে পাঁচ মিনিটে আমার রুমে আয়।”

“ভাইয়া!”

“যা পড়তে হবে না, শুধু বই নিয়ে আয়, বসে থাকবি।”

“ঠিক আছে, আসছি সোহাকে নিয়ে।”

রুদ্র রুমে যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলল, “না পড়লি বসে থাকলেই হবে। তোকে জীবনের সাথে কথা বলতে দিবো না মানে দিবোই না।”

রুদ্র রুমে ফোনটা নিয়ে ব্যালকনিতে চলে এলো। আজকে যে করেই হোক অধরাকে নিজের কাছে বসাবেই। সোহাকে আজকে পাশে বসতে দিবে না। অধরা সোহাকে নিয়ে এলো। দুজনেই শুধু হাতে নিয়ে এসেছে আইসিটি বই। রুদ্র ইচ্ছে করে নিজের পাশের চেয়ারটায় পা মেলে আয়েসি ভঙ্গিতে বসেছিলো। সোহা নিজের মতো বসে পড়লো। অধরা রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল,

“পা সরান বসবো।”

রুদ্র পা সরিয়ে না বোঝার ভান করে বলল,

“ওহ, খেয়ালই ছিলো না। বস বস!”

অধরা গুমোট বেধে বসলো। ও কি আর বুঝতে পারেনি ইচ্ছে করে পা টা রেখেছিলো। সবই বুঝতে পেরেছে। রুদ্র অধরার থেকে এবার সোহার দিকে তাকালো। সোহাকে এই দুদিনে বেশ চুপচাপ থাকতে দেখে ওরও ভালো লাগছে না। কি হলো হুট্ করে ওরও অজানা।

অধরা আর সোহা বই বের করে কিছু কিছু টপিক বের করে পড়তে শুরু করলো। যেটায় বুঝতে সমস্যা রুদ্রকে বলল। রুদ্রও বুঝিয়ে দিলো। পড়ার মাঝে অধরা রুদ্রকে বলল,

“ভাইয়া আপনার ব্যালকনিটা না কেমন ফাকা ফাকা লাগে।”

রুদ্র ভ্রু কুঁচকে নিয়ে বলল,

“এ আবার কেমন কথা!”

“হুমম, ফাকা ফাকাই লাগে।”

“তো কি আনলে ভরা ভরা লাগবে তোর কাছে শুনি একবার?”

“এখানে তো ফুলের গাছ আছে কিন্তু আরও থাকলে ভরা ভরা লাগবে। আর আপনার এই বুকসেলফ তো কত্ত সুন্দর। সাথে আশেপাশে ফুল গাছ লাগালে আরও সুন্দর লাগবে।”

রুদ্র ভ্রু উঠিয়ে বলল,

“বেশি বেশি ফুল গাছ নাহয় লাগালাম। তবে ফুলের গাছের যত্ন কে নিবে?”

অধরা অবলীলায় বলল,

“আমি এসে দেখে যাবো।”

“দেখে যাবি কয়দিন? একদিন, দুইদিন এরপরে বিরক্ত হয়ে আর আসবিই না। পরে আবার আমার এতো সুন্দর ব্যালকনিটা জঙ্গল হয়ে যাবে। যা আমি কোনোমূল্যেই হতে দিবো না।”

“তাহলে আনবেন না ফুলের গাছ?”

“না আনবো না।”

অধরা গাল ফুলিয়ে বসে রইলো। রুদ্র নিরেট কণ্ঠে বলল,

“তোর ফুল পছন্দ খুব?”

উত্তরে অধরা বলল,

“জানি না।”

রুদ্র কপাল কুঁচকে বলল,

“তোর ফুল পছন্দ নয়?”

“হুমম।”

“কি হুমম? কি ফুল পছন্দ?”

“বললে কি এনে দিবেন?”

“বলেই দেখনা!”

অধরা রুদ্রর চোখের দিকে তাকালো। রুদ্র ইশারা করে বোঝালো কি পছন্দ? অধরা গভীর শ্বাস ছেড়ে বলল,

“বেলীফুল আমার সবচেয়ে পছন্দের ফুল।”

রাত ১০ টা বেজে ২৭ মিনিট—

অধরা শুয়ে পড়েছে। প্রায় ঘুমিয়েও গিয়েছে ঠিক তখন সোহার ডাকে ওর কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেলো। সোহা আজকেও ওর সাথে ঘুমাবে বলে এসেছে। অধরা শোয়া থেকে উঠে বসলো। মিনিট দুই নিরেট বেধে বসে থেকে বিছানায় থেকে নামলো। ওর আবার একটা সমস্যা আছে বলতে, আচমকা যখন কেউ ওকে ঘুমের মাঝে ডাকে তাহলে ও কাঁচা ঘুম থেকে উঠে ২-৩ মিনিটের মতো সময় নেয় মাটিতে পা রাখতে। ছোটবেলা থেকেই ওর একটা বদঅভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ও এই মুহূর্তে সোহার ডাকে দরজা খুলল। আদ্র এইদিকেই আসছিলো অধরার সাথে কথা বলতে। অধরাই ওর বেস্টফ্রেন্ড হয়ে গিয়েছে। কোনো সিরিয়াস কথা শেয়ার করা ছাড়া থাকতেই পারে না। ও অধরার রুমের সামনে এসে দেখলো সোহা ওই রুমে ঢুকছে। আদ্র এগিয়ে গিয়ে সামনে দাড়িয়ে বলল,

“ঘুমাসনি তোরা?”

সোহা আদ্রর দিকে একবার তাকিয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। অধরা সেদিকে তাকিয়ে আদ্রকে ইশারা করলো বাহিরে যেতে। আদ্র চলে গেলো, এরপরে অধরা নিজেই পেছন পেছন চলে এলো।

“এই অধরা সোহার কি হয়েছে রে? শয়তানটায় কথা বলছে না, ঝগড়া করছে না। কেমন একটা আলাদা আলাদা হয়ে থাকছে। বলছি ডোজটা কি বেশি দিয়ে ফেলেছিস নাকি?”

“না তারপর আর কিচ্ছু বলিনি ওকে। আর না ও কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করেছে। তবে ও তোমার জন্য মনে মনে খুব কষ্ট পাচ্ছে।”

“পাক। ও যেমন বলবে না, তেমন আমিও বলবো না। আর থাকতে থাক এভাবে, এখনই সম্পর্কটা না আগানোই ভালো।”

“কেনো ভাইয়া?”

“আরে গাধা বুঝিস না, ভাইয়া বিয়ে করেনি। ভাইয়া বিয়ে করুক, তার কয়টা বাচ্চা-কাচ্চা হোক। এরপরে সোহার কথা বলবো। তারপর ওকে বিয়ে করবো।”

এই শুনে অধরা অবাক কণ্ঠে বলল,

“তোমার চিন্তা-ভাবনা খুব ভালো। এগিয়ে যাও।”

“এগিয়ে যাবো, কিন্তু পেছনে থেকে তোকে ধাক্কা দিতে হবে।”

অধরা শয়তানি করে বলল,

“সিঁড়ির উপরে গিয়ে দাড়াও, আমি পেছনে থেকে ধাক্কা দেই।”

“আরে ভাই মজা না, সিরিয়াস হো বইন।”

“কি করতে হবে বলো!”

“সোহাকে একটু হাসিখুশি থাকতে বলবি তাহলেই হবে।”

“এর বিনিময়ে আমি কি পাবো?”

“কি চাস তু্ই?”

“আপাতত কিছু চাইনা সবই আছে। সময় মতো চেয়ে নিবো।”

আদ্র হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“ওকে। তাহলে ডিল ডান?”

অধরা হাতে হাত মিলিয়ে বলল,

“ওকে ডান।”

“তাহলে এখন যা কাজে লেগে পড়। কি করবি ভেবে রুমে যা। আমি রুমে গেলাম।”

“আচ্ছা যাও।”

আদ্র চলে গেলো। অধরা সিঁড়ির রেলিংয়ে দুইহাত ভর করে নিচের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো, কি করে সোহাকে স্বাভাবিক করবে।

এদিকে আদ্র রুদ্রর রুমে এসে ঢুকলো। রুদ্র শুয়ে পড়বে তার আগে ইফতির সাথে কথা বলছিলো। আদ্রকে দেখে ফোন কেটে বসা থেকে উঠে দাড়ালো। আদ্র বলল,

“ভাইয়া সরি নক করে ঢুকলাম না।”

“সমস্যা নেই। কিছু বলবি?”

“হুম। অধরা।”

রুদ্র কপালে ভাজ ফেললো,

“অধরা কি? কি হয়েছে অধরার?”

আদ্র নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠল,

“ভাইয়া অধরা রুমের বাহিরে দাড়িয়ে আছে। জিজ্ঞাসা করলাম এখানে কেনো? তেমন কিছু বলল না তবে তোমার কথা একবার জিজ্ঞাসা করলো। তাই ভাবলাম হয়তো তোমাকে কিছু বলবে। তার জন্য তোমার কাছে এলাম।”

রুদ্র একটু খানি খুশিই হলো। যাই হোক অধরা একটু আগ্রহ দেখিয়েছে কথা বলতে আর কি চাই।

আদ্র চলে গেলো। তখনও অধরা সেখানেই দাড়িয়ে ছিলো। ও অধরাকে কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে গেলো। এদিকে রুদ্রও খুশি মনে রুম থেকে বের হলো। অধরাকে সামনে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসে পেছনে থেকে ডাক দিলো—

“কিরে ঘুমাসনি?”

অধরা আকস্মিক রুদ্রর ডাক পেয়ে একটুখানি ছিটকে পেছন ফিরলো। রুদ্রকে দেখে বলল,

“হ্যা, ঘুমাবো।”

রুদ্র দুহাত পেছনে নিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,

“কিছু বলবি?”

অধরা মাথা নাড়িয়ে বলল,

“উহু।”

রুদ্র আবারও বলল,

“কিছু বলতে চাইলে বলতে পারিস।”

“কিছু বলার নেই ভাইয়া।”

রুদ্র ফট করে বলল,

“তাহলে ডাকলি কেনো? দাড়া তোর বাবার কাছে গিয়ে বলছি।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন