ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমারই হাত ধরে রবের পথে

২০তম পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

তোমার ই হাত ধরে রবের পথে

লেখক: নাহিদ মাতাব্বর

পর্ব: ২০

অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরের সকালটা মাহিরা আর আয়াতের কাছে কেমন যেন অচেনা লাগছিল। কলেজের সবকিছু আগের মতোই—একই করিডোর, একই ক্লাসরুম, একই ব্যস্ততা। শুধু একটা জিনিস নেই—মুসআব আর তার বন্ধুরা।

ক্লাসে ঢুকেই মাহিরার চোখ চলে গেল মুসআবের বেঞ্চের দিকে।

খালি।

পাশের বেঞ্চটাও খালি।

হামজার জায়গাটাও খালি।

মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে বলল,

— “আয়াত, ওরা এখনো আসেনি?”

আয়াত ব্যাগটা বেঞ্চে রেখে বলল,

— “মনে হয় না।”

— “কিন্তু অনুষ্ঠান তো শেষ।”

— “হয়তো কোনো কাজে গেছে।”

মাহিরা আর কিছু বলল না।

ক্লাস শুরু হয়ে গেল। শিক্ষক পড়াচ্ছেন, সবাই মন দিয়ে শুনছে। কিন্তু মাহিরার চোখ বারবার সেই খালি বেঞ্চের দিকে চলে যাচ্ছে।

একসময় আয়াত নিচু গলায় বলল,

— “তুই আজ অনেকবার ওইদিকে তাকাচ্ছিস।”

মাহিরা একটু বিরক্ত হয়ে বলল,

— “চুপ কর তো।”

আয়াত মৃদু হেসে আর কিছু বলল না।

ক্লাস শেষ হওয়ার পর মাহিরা বলল,

— “চল, ওদের কারও কাছে খোঁজ নিই।”

দুজন মিলে মুসআবের এক বন্ধুর কাছে গেল।

মাহিরা জিজ্ঞেস করল,

— “মুসআব কোথায়?”

ছেলেটা বলল,

— “ওরা তো তিন দিনের জন্য দাওয়াতের কাজে গেছে।”

মাহিরা অবাক হয়ে বলল,

— “তিন দিনের জন্য?”

— “জি।”

আয়াত জিজ্ঞেস করল,

— “কখন গেছে?”

— “আজ ভোরে।”

মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— “আমাদের কাউকে বলল না?”

ছেলেটা হেসে বলল,

— “মুসআব ভাই তো এসব নিয়ে বেশি কথা বলেন না। যাওয়ার আগে শুধু কয়েকজন বন্ধুকে জানিয়েছে।”

মাহিরা মাথা নাড়ল।

— “আচ্ছা।”

দুজন সেখান থেকে চলে এল।

করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে আয়াত বলল,

— “তুই মন খারাপ করেছিস?”

মাহিরা সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— “না।”

— “নিশ্চিত?”

— “হ্যাঁ।”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাহিরা নিজেই বলল,

— “শুধু অদ্ভুত লাগছে। কাল পর্যন্ত এখানে ছিল, আর আজ নেই।”

আয়াত বলল,

— “তিন দিন পর তো আবার আসবে।”

মাহিরা মাথা নাড়ল।

— “হুম।”

তারপর আর কোনো কথা বলল না।

---

অন্যদিকে মুসআব ও তার বন্ধুরা তখন নিজেদের সফরের কাজে ব্যস্ত।

সকালে নামাজের পর সবাই কিছুক্ষণ দ্বীনের কথা আলোচনা করল। এরপর তারা মানুষের সঙ্গে দেখা করতে বের হলো।

হামজা একসময় মুসআবকে বলল,

— “ভাই, কলেজের কথা মনে পড়ছে?”

মুসআব মৃদু হেসে বলল,

— “পড়াশোনার কথা মনে পড়ছে। ফিরে গিয়ে অনেক কাজ করতে হবে।”

হামজা বলল,

— “তুই সত্যিই অন্যরকম।”

মুসআব বলল,

— “কেন?”

— “আমরা এখানে এসে কত কথা বলছি, আর তোর মাথায় শুধু দায়িত্ব।”

মুসআব হেসে বলল,

— “দায়িত্ব আগে।”

এরপর সবাই আবার কাজে বেরিয়ে গেল।

তিন দিনের এই সফরে মুসআব নিজের সময়টা কাজে ব্যস্ত রাখল। কারও সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আলাপ নয়, অযথা সময় নষ্ট নয়। নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবা, দ্বীনের কথা শেখা আর অন্যদের ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়াই ছিল তার মূল ব্যস্ততা।

---

কলেজে meanwhile দ্বিতীয় দিনও কেটে গেল।

মাহিরা ক্লাসে ঢুকে আবার মুসআবের বেঞ্চটার দিকে তাকাল।

আজও খালি।

সে নিজের মনেই বলল,

“আর দুই দিন।”

তারপর নিজেই অবাক হলো।

সে কেন হিসাব করছে?

আয়াত পাশে বসে বলল,

— “কী ভাবছিস?”

— “কিছু না।”

— “তুই আবার শুরু করলি।”

মাহিরা হেসে বলল,

— “চুপ।”

আয়াতও হেসে ফেলল।

কিন্তু আয়াতের নিজের মনেও একটা অদ্ভুত শূন্যতা ছিল।

মুসআবকে না দেখলে সে বুঝতে পারছিল, মানুষটাকে সে কতটা অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

তবু সে নিজের অনুভূতিকে নাম দিল না।

শুধু মনে মনে বলল,

“আল্লাহ, ও যেখানে আছে, ভালো রাখুন।”

আর দূরে, নিজের সফরে থাকা মুসআব জানতই না—তার অনুপস্থিতিতে দুজন মানুষ নীরবে তার জন্য দোয়া করছে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন